SEBA Class 9 History Important Chapter 5 ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Important Chapter 5 ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ Solutions and select need one. Class 9 History Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Additional Question Answer.
Class 9 History Important Chapter 5 ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ
Chapter: 5
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ভারতে জলপথ আবিষ্কারকারী প্রথম পশ্চিমা দেশীয় পথিকৃৎ কে ছিলেন এবং তিনি কবে ভারতে আসেন?
উত্তরঃ পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-দা-গামা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে ভারতের মালাবার উপকূলের কালিকট বন্দরে উপস্থিত হয়ে ভারতে আসার জলপথ আবিষ্কার করেছিলেন।
২। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি কোন্ রানীর কাছ থেকে এবং কবে ভারতে বাণিজ্য করার জন্য রাজকীয় সনদ লাভ করেছিল?
উত্তরঃ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি তৎকালীন ইংল্যান্ডের রানী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে একটি বাণিজ্যিক সনদ লাভ করে ভারতে বাণিজ্য করতে এসেছিল।
৩। ‘অধীনতামূলক মিত্রতা’ নীতি কে প্রবর্তন করেছিলেন?
উত্তরঃ লর্ড ওয়েলেসলি অধীনতামূলক মিত্রতা নামে এক ব্যবস্থার সাহায্যে দেশীয় রাজাদের কাছ থেকে আনুগত্য আদায় করেছিলেন।
৪। কোন্ মোগল সম্রাটের নাম প্রথমবার কোম্পানির মুদ্রা থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল এবং এটি কত সালে ঘটেছিল?
উত্তরঃ ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে কোম্পানির মুদ্রা থেকে মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহের নাম বাদ দেওয়া হয়েছিল।
৫। স্বত্ব বিলোপ নীতি-র প্রয়োগ ঘটিয়ে লর্ড ডালহৌসি সর্বপ্রথম কোন রাজ্যটি গ্রাস করেছিলেন?
উত্তরঃ ১৮৪৮ সনে লর্ড ডালহৌসি স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সর্বপ্রথম ‘সাতারা’ রাজ্যটি নিজের রাজ্যের মধ্যে শামিল করেছিলেন।
৬। লর্ড ডালহৌসি স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রয়োগ করে গ্রাস করেছিলেন এমন কয়েকটি দেশীয় রাজ্যের নাম লেখো।
উত্তরঃ লর্ড ডালহৌসি স্বত্ব বিলোপ নীতি প্রয়োগ করে সাতারা, নাগপুর, সম্বলপুর, ঝান্সী, জয়পুর, ভগত, উদয়পুর এবং করোলি রাজ্য দখল করেছিলেন।
৭। কোন্ অজুহাতে এবং কবে অযোধ্যা রাজ্যটি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৮৫৬ সনে ‘কুশাসনের’ দোহাই দিয়ে অযোধ্যা রাজ্যটি ব্রিটিশ রাজের সঙ্গে শামিল করা হয়েছিল এবং অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলী শাহকে একটি পেনশন দিয়ে বিদায় করা হয়েছিল।
৮। লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক কোন কোন ভারতীয় সামাজিক কুপ্রথা আইন প্রয়োগ করে উঠিয়ে দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ লর্ড উইলিয়াম বেন্টিঙ্ক সতীদাহ প্রথা, শিশু বধ বা শিশুবলি এবং নরবলি ইত্যাদি অমানবিক সামাজিক প্রথাগুলি আইনগতভাবে উঠিয়ে দিয়েছিলেন।
৯। হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন কোন্ বছর এবং কোন্ গভর্নর জেনারেলের আমলে বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৮৫৬ সনে নতুন গভর্নর জেনারেল লর্ড ক্যানিং-এর আমলে হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন বিধিবদ্ধ করা হয়েছিল।
১০। ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহের তৎকালীন বা প্রত্যক্ষ কারণটি কী ছিল?
উত্তরঃ তৎকালীন কারণ ছিল এনফিল্ড রাইফেল এবং তার কার্তুজ বা গুলি, যার বাদ দেওয়া অংশটিতে গরু আর শূকরের চর্বি লাগানো থাকে বলে তীব্র গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল।
১১। ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের প্রথম শহীদ কাকে গণ্য করা হয় এবং তাঁর ফাঁসি কবে হয়েছিল?
উত্তরঃ বারাকপুরের ৩৪ নং পদাতিক বাহিনীর সিপাহী মঙ্গল পাণ্ডেকে ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের প্রথম শহীদ গণ্য করা হয় এবং ১৮৫৭ সনের ২৯শে মার্চ তাঁকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
১২। কানপুর এবং অযোধ্যায় ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের প্রধান নেতৃত্ব কারা দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ কানপুরে বিদ্রোহের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন নানা সাহেব এবং তাঁর বিশ্বস্ত সহচর তাঁতিয়া টোপী আর অযোধ্যায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন বেগম হযরত মহল।
১৩। অসমে ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের প্রধান নায়ক কে ছিলেন এবং তাঁর ফাঁসি কবে হয়েছিল?
উত্তরঃ অসমে বিদ্রোহের প্রধান নায়ক ছিলেন মণিরাম দেওয়ান এবং ১৮৫৮ সনের ২৬শে ফেব্রুয়ারি জোরহাটে তাঁকে ও তাঁর সহযোগী পিয়ালী বরুয়াকে ফাঁসি দেওয়া হয়।
১৪। ১৮৫৭ সনের মহাবিদ্রোহের অবসান ঘটিয়ে কোন্ আইনের মাধ্যমে ভারতে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটে?
উত্তরঃ ১৮৫৮ সনের ২রা আগস্ট গৃহীত ‘ভারত সরকার আইন’- এর মাধ্যমে কোম্পানি শাসনের অবসান ঘটিয়ে ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজের অধীনে আনা হয়।
১৫। ভারতের প্রথম ভাইসরয় বা রাজপ্রতিনিধি কে হয়েছিলেন?
উত্তরঃ লর্ড ক্যানিং ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
দীঘলীয়া প্রশ্ন উত্তর।
১। ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কারণসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহের রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক কারণসমূহ বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
(ক) রাজনৈতিক কারণ:
(i) স্বত্ব বিলোপ নীতি ও ডালহৌসির রাজ্যগ্রাস: লর্ড ডালহৌসির উগ্র সাম্রাজ্যবাদী রাজ্যগ্রাস নীতি ও ‘স্বত্ব বিলোপ নীতি’ প্রয়োগ ভারতীয় রাজাদের মধ্যে চরম অসন্তোষের জন্ম দেয়। এই নীতি অনুযায়ী কোনো দেশীয় রাজা অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে দত্তক পুত্র গ্রহণ নিষিদ্ধ করে সেই রাজ্য সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হতো। এই নীতি প্রয়োগ করে ডালহৌসি সাতারা, নাগপুর, সম্বলপুর ও ঝান্সী রাজ্য দখল করেন।
(ii) উপাধি ও পেনশন বিলোপ: ডালহৌসি রাজকীয় পদমর্যাদা ও পেনশন কাড়ার নীতিও গ্রহণ করেন। মারাঠা পেশোয়া দ্বিতীয় বাজীরাওয়ের মৃত্যুর পর তাঁর দত্তক পুত্র নানা সাহেবকে দেওয়া পেনশন বন্ধ করে দেওয়া হয়।
(iii) কুশাসনের দোহাইয়ে অযোধ্যা গ্রাস: অযোধ্যার নবাব ওয়াজিদ আলী শাহ ব্রিটিশদের অত্যন্ত অনুগত থাকা সত্ত্বেও ‘কুশাসনের’ অজুহাতে ১৮৫৬ সনে অযোধ্যা রাজ্যটি দখল করে নেওয়া হয়, যা অযোধ্যার জনগণ ও সৈনিকদের দারুণভাবে ক্ষুব্ধ করেছিল।
(খ) অর্থনৈতিক কারণ:
(i) কুটির শিল্পের ধ্বংস ও বেকারত্ব: ব্রিটিশদের আমদানিকৃত সস্তা বিদেশী সামগ্রীর সাথে প্রতিযোগিতায় হেরে ভারতীয় ঐতিহ্যবাহী কুটির শিল্পগুলি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায় এবং শত শত কারিগর ও শিল্পী কর্মহীন হয়ে পড়ে।
(ii) শোষণমূলক ভূমি রাজস্ব নীতি: লর্ড কর্নওয়ালিসের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং কঠোর খাজনা আদায়ের নিয়ম গ্রামীণ কৃষক সমাজকে সর্বস্বান্ত ও উচ্ছন্ন করে দিয়েছিল।
(iii) বিনানিষ্কর জমি বাজেয়াপ্তকরণ: বিদ্রোহের ঠিক আগে লর্ড ডালহৌসি দাক্ষিণাত্যে বিনা ক্ষতিপূরণে প্রায় ২০,০০০ পরিবারের নিষ্কর ভূমি বা জমি বাজেয়াপ্ত করেছিলেন।
(iv) অযোধ্যার সৈন্যদের আর্থিক বিপর্যয়: অযোধ্যা রাজ্যটি দখল করার পর অযোধ্যার নবাবের অধীনে থাকা প্রায় ৪০,০০০ এরও অধিক সৈন্যের বিশাল বাহিনীকে ভেঙে দেওয়া হয়, যার ফলে তারা সম্পূর্ণ কর্মহীন ও উপার্জনহীন হয়ে পড়ে।
২। ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহের তৎকালীন বা প্রত্যক্ষ কারণ এবং বিভিন্ন স্থানে এই বিদ্রোহের সূচনা ও বিস্তৃতির বিবরণ দাও।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ ভারতীয় ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বারুদে অগ্নিসংযোগ করেছিলএকটি সামরিক সংস্কার।
এই প্রত্যক্ষ কারণ ও বিদ্রোহের বিস্তৃতি আলোচনা করা হলো:
(ক) তৎকালীন বা প্রত্যক্ষ কারণ: ১৮৫৬ সনের শেষের দিকে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সিপাহীদের ব্যবহারের জন্য এক নতুন রাইফেল বা ‘এনফিল্ড রাইফেল’- এর প্রবর্তন করে।
(i) এই রাইফেলের কার্তুজ বা গুলি ব্যবহার করার আগে দাঁত দিয়ে কেটে রাইফেলে ভরতে হতো। সে সময় বাতাসে দ্রুত এই খবর ছড়িয়ে পড়ে যে, কার্তুজের চর্বিযুক্ত অংশটি গরু ও শূকরের চর্বি দিয়ে তৈরি।
(ii) হিন্দুদের কাছে গরু অত্যন্ত পবিত্র এবং মুসলমানদের কাছে শূকর নিষিদ্ধ বা অখাদ্য হওয়ায় উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহীরা মনে করে যে ব্রিটিশ সরকার চক্রান্ত করে তাদের ধর্ম নষ্ট করার জন্য এই কার্তুজ প্রবর্তন করেছে। এই ধর্মীয় ভাবাবেগে আঘাত লাগায় সিপাহীদের ক্ষোভ বিদ্রোহে রূপ নেয়।
(খ) বিদ্রোহের সূচনা (বারাকপুর ও মিরাট):
(i) বারাকপুরের ঘটনা: কার্তুজ সংক্রান্ত উত্তেজনার জেরে বারাকপুরের ৩৪ নং পদাতিক বাহিনীর সিপাহী মঙ্গল পাণ্ডে ২৯শে মার্চ তারিখে প্রথম ব্রিটিশ সামরিক কর্মকর্তাদের ওপর গুলিবর্ষণ করে বিদ্রোহের সূচনা করেন। পরবর্তীতে মঙ্গল পাণ্ডেকে বন্দি করে ফাঁসি দেওয়া হয়, যিনি ছিলেন এই বিদ্রোহের প্রথম শহীদ।
(ii) মিরাটের বিদ্রোহ: ৯ই মে মিরাটের ৮৫ জন সিপাহী কার্তুজ নিতে অস্বীকার করলে তাদের শিকল পরিয়ে কারাদণ্ড দেওয়া হয়। এর প্রতিক্রিয়াতেই ১০ই মে রাতে মিরাটের সিপাহীরা সশস্ত্র বিদ্রোহ ঘোষণা করে কারাগার ভেঙে বন্ধুদের মুক্ত করে এবং ইউরোপীয়দের হত্যা করে বিদ্রোহের আগুন জ্বালিয়ে দেয়।
(গ) বিদ্রোহের দ্রুত বিস্তৃতি:
(i) দিল্লী দখল: মিরাটের বিদ্রোহীরা ১১ই মে যমুনা নদী পার হয়ে দিল্লী পৌঁছায় এবং দিল্লী সম্পূর্ণ ব্রিটিশ মুক্ত করে বৃদ্ধ মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহকে ‘হিন্দুস্তানের সম্রাট’ ঘোষণা করে তাঁর অধীনে বিদ্রোহের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠা করে।
(ii) অন্যান্য অঞ্চলে বিস্তার: দিল্লী পতনের পর দ্রুত ভারতের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে বিদ্রোহ ছড়িয়ে পড়ে: কানপুর নানা সাহেবের নেতৃত্বে সিপাহীরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে কানপুর অধিকার করে।
(iii) অযোধ্যা: বেগম হযরত মহলের নেতৃত্বে লখনৌ সহ সমগ্র অযোধ্যা অঞ্চলে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে তীব্র লড়াই শুরু হয়।
৩। অসমে ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের প্রস্তুতি, মণিরাম দেওয়ান ও পিয়ালী বরুয়ার ভূমিকা এবং এই বিদ্রোহ দমনের বিবরণ দাও।
উত্তরঃ ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত অসমেও ১৮৫৭ সনের মহাবিদ্রোহের ঢেউ আছড়ে পড়েছিল, যার প্রধান নায়ক ছিলেন দেশপ্রেমিক মণিরাম দেওয়ান।
(i) মণিরাম দেওয়ান ও পিয়ালী বরুয়ার ভূমিকা:
মণিরাম দেওয়ানের কলকাতায় আগমন: মণিরাম দেওয়ান প্রথমে ইংরেজদের অধীনে তহশিলদার ও চা বাগানের দেওয়ান পদে নিযুক্ত ছিলেন। পরবর্তীতে স্বাধীন ব্যবসা শুরু করলেও ইংরেজদের কুদৃষ্টির কারণে তিনি ক্ষতিগ্রস্ত হন। অসমের পূর্বাবস্থা বা আহোম রাজত্ব ফিরিয়ে আনার উদ্দেশ্যে তিনি জেমস্ মফট মিলসের কাছে আবেদন জানান কিন্তু সাড়া না পেয়ে কলকাতায় গভর্নর জেনারেলের সাথে সাক্ষাৎ করতে যান।
কলকাতা থেকে ষড়যন্ত্র ও যোগাযোগ: কলকাতায় অবস্থানকালেই মণিরাম ভারতের সিপাহী বিদ্রোহের খবর পান। তিনি এই সুযোগে অসমের আহোম রাজবংশের কন্দর্পেশ্বর সিংহকে পুনরায় সিংহাসনে বসিয়ে অসমকে স্বাধীন করার সুবর্ণ সুযোগ দেখতে পান। তিনি কলকাতা থেকে গোপনে কন্দর্পেশ্বর সিংহ এবং অসমের বিশ্বস্ত ব্যক্তিদের কাছে চিঠি পাঠিয়ে বিদ্রোহের জন্য প্রস্তুত হতে বলেন।
অসমে বিদ্রোহের প্রস্তুতি ও দমনের বিবরণ দেওয়া হলো:
(i) আহোম শাসনের অবসান: ১৮২৬ খ্রিস্টাব্দের ২৬শে ফেব্রুয়ারি স্বাক্ষরিত ইয়াণ্ডাবু সন্ধির মাধ্যমে অসমের শাসনভার ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির হাতে চলে যায়। অসমের সাধারণ মানুষ ভেবেছিল ইংরেজরা মান বা ব্রহ্মদেশের সৈন্যদের তাড়িয়ে আহোম রাজাদের হাতে শাসনভার ফিরিয়ে দিয়ে চলে যাবে। কিন্তু বাস্তবে ইংরেজরা নিজেদের শাসন বিস্তার করতে থাকায় অসমের মানুষের মনে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়।
(ii) আদি বিদ্রোহসমূহ: ইংরেজদের বিতাড়নের উদ্দেশ্যে ১৮২৮ সনে আহোম রাজবংশের গোমধুর কোঁওরের নেতৃত্বে প্রথম বিদ্রোহের সূচনা হয়। এরপর ১৮২৯ এবং ১৮৩০ সনেও দুটি বিদ্রোহ সংঘটিত হলেও সেগুলি বিফল হয়।
(iii) পুরন্দর সিংহকে গদিচ্যুতকরণ: গণ অসন্তোষ শান্ত করতে ব্রিটিশরা ১৮৩৩ সনে বার্ষিক ৫০,০০০ টাকা দেওয়ার শর্তে পুরন্দর সিংহকে উজনি অসমের রাজা ঘোষণা করে। কিন্তু পরবর্তীতে সময়মতো কর দিতে না পারার অজুহাতে ১৮৩৮ সনে তাঁকে গদিচ্যুত করে সমগ্র উজনি অসম ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত করা হয়, যা অসমবাসীকে চরম ক্ষুব্ধ করে তোলে।
৪। ১৮৫৭ সনের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলি বিশদভাবে আলোচনা করো।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের মহাবিদ্রোহের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলি বিশদভাবে আলোচনা করা হলো:
(ক) বিদ্রোহের সীমাবদ্ধ ভৌগোলিক পরিধি: ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহ সমগ্র ভারতে সমানভাবে বিস্তার লাভ করতে পারেনি। মূলত বিহারের পশ্চিম অংশ থেকে শুরু করে পাঞ্জাবের পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত এই বিদ্রোহের মূল কেন্দ্র সীমাবদ্ধ ছিল।
দক্ষিণ ভারত (যেমন মাদ্রাজ), মহারাষ্ট্র এবং পাঞ্জাবের সিংহভাগ অঞ্চল এই বিদ্রোহের সময় শান্ত ছিল। ফলে ব্রিটিশরা এই শান্ত অঞ্চলগুলি থেকে সহজে সৈন্য এনে বিদ্রোহ দমন করতে পেরেছিল।
(খ) সুযোগ্য সর্বভারতীয় নেতৃত্বের অভাব: যদিও ঝান্সীর রানী লক্ষ্মীবাঈ, নানা সাহেব, কোঁওর সিং প্রমুখ নেতারা নিজ নিজ ক্ষেত্রে অসাধারণ বীরত্ব ও রণকৌশল দেখিয়েছিলেন, কিন্তু সমগ্র বিদ্রোহকে পরিচালনা করার মতো একজন দক্ষ ও বিচক্ষণ সর্বভারতীয় সেনাপতির তীব্র অভাব ছিল।
মোগল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ ছিলেন অত্যন্ত বৃদ্ধ ও দুর্বল ব্যক্তিত্বের অধিকারী, যিনি বিদ্রোহীদের দৃঢ়ভাবে নেতৃত্ব দিতে সম্পূর্ণ অসমর্থ ছিলেন।
(গ) দেশীয় রাজাদের বিশ্বাসঘাতকতা ও ব্রিটিশদের আনুগত্য: ভারতের অধিকাংশ বড় ও ক্ষমতাশালী দেশীয় রাজারা এই মহাবিদ্রোহে শামিল না হয়ে উল্টো ব্রিটিশদের সক্রিয়ভাবে সাহায্য করেছিলেন।
হায়দ্রাবাদের মন্ত্রী সলারজং, গোয়ালিয়রের মন্ত্রী দিনকর রাও এবং কাশ্মীরের রাজা গুলাব সিং ব্রিটিশদের পক্ষ অবলম্বন করেছিলেন। এছাড়া শিখ ও গোর্খা বাহিনী ব্রিটিশদের পাশে দাঁড়িয়ে বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
(ঘ) উন্নত যুদ্ধাস্ত্র ও বৈজ্ঞানিক যোগাযোগের সুবিধা: ভারতীয় সিপাহীদের তুলনায় ইংরেজদের কাছে অত্যন্ত উন্নত মানের আধুনিক যুদ্ধাস্ত্র ও রণকৌশল ছিল। সবচেয়ে বড় সুবিধাটি ছিল ডাক-তার এবং নবনির্মিত রেলপথ ব্যবস্থা। এর সাহায্যে ব্রিটিশরা খুব দ্রুত খবরাখবর আদান-প্রদান করতে পারছিল এবং প্রয়োজন অনুযায়ী এক স্থান থেকে অন্য স্থানে অতি দ্রুত সৈন্য ও রসদ পাঠাতে সক্ষম হয়েছিল, যা বিদ্রোহীরা করতে পারেনি।
৫। ১৮৫৭ সনের মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল এবং এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের মহাবিদ্রোহের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ ফলাফল এবং এর সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব আলোচনা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
(ক) প্রত্যক্ষ ফলাফল:
(i) ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ও ভারত সরকার আইন: ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের পর ব্রিটিশ পার্লামেন্ট উপলব্ধি করে যে কোম্পানির হাতে ভারতের মতো বিশাল দেশের শাসনভার আর নিরাপদ নয়। ফলে ১৮৫৮ সনের ২রা আগস্ট ‘ভারত সরকার আইন’ পাস করে ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসনের অবসান ঘটানো হয় এবং ভারতের শাসনভার সরাসরি ব্রিটিশ রাজ বা মহারানীর অধীনে আনা হয়।
(ii) ভারত সচিব ও ভাইসরয় পদের সৃষ্টি: ভারতের শাসনকার্যে সহায়তা করতে ব্রিটিশ মন্ত্রীসভার সদস্যকে নিয়ে ‘ভারত সচিব’ এবং ১৫ সদস্যের একটি উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হয়। গভর্নর জেনারেলের পদবী পরিবর্তন করে ‘ভাইসরয়’ বা রাজপ্রতিনিধি করা হয় এবং লর্ড ক্যানিং ভারতের প্রথম ভাইসরয় হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন।
(iii) মহারানীর ঘোষণাপত্র: ১৮৫৮ সনের ১লা নভেম্বর ভাইসরয় লর্ড ক্যানিং এলাহাবাদে এক দরবার ডেকে মহারানী ভিক্টোরিয়ার ঐতিহাসিক ঘোষণাপত্রটি পাঠ করেন। এই ঘোষণাপত্রে আশ্বাস দেওয়া হয় যে— ব্রিটিশ সরকার আর নতুন করে কোনো দেশীয় রাজ্য গ্রাস করবে না, ভারতীয়দের ধর্মীয় স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপ করা হবে না।
(খ) পরোক্ষ ফলাফল ও সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব:
(i) সামরিক বাহিনীর পুনর্গঠন: বিদ্রোহের পুনরাবৃত্তি এড়াতে সিপাহী বাহিনীকে ঢেলে সাজানো হয়। গোলন্দাজ বাহিনীকে সম্পূর্ণরূপে ইউরোপীয়দের অধীনে আনা হয় এবং দেশীয় সিপাহীদের তুলনায় ইউরোপীয় সৈন্যদের অনুপাত ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি করা হয়।
(ii) ভারতীয় জাতীয়তাবাদের উন্মেষ: এই বিদ্রোহ ভারতীয়দের মনে এক গভীর জাতীয় চেতনার জন্ম দেয়। ১৮৫৭ সনের বীর ও বীরাঙ্গনাদের আত্মহুতি থেকে অনুপ্রেরণা পেয়ে ভারতীয়রা স্বাধিকার আন্দোলনে ব্রতী হয়। সুরেন্দ্রনাথ বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে ‘ইন্ডিয়ান অ্যাসোসিয়েশন’ এবং পরবর্তীতে ‘ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস’ গঠনের পেছনে এই বিদ্রোহের পরোক্ষ প্রভাব অনস্বীকার্য ছিল।
(iii) সাম্প্রদায়িকতার বীজ বপন ও ‘বিভাজন-শাসন’ নীতি: ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায়ের অভূতপূর্ব ঐক্য দেখে ব্রিটিশ শাসকরা অত্যন্ত শঙ্কিত হয়ে পড়েছিল। তাই এই শক্তিকে দুর্বল করতে বিশ শতকের শুরু থেকেই তারা ‘বিভাজন ও শাসন’ নীতি গ্রহণ করে ভারতীয় রাজনীতিতে সাম্প্রদায়িকতার বিষাক্ত বীজ বপন করে, যার চূড়ান্ত পরিণতি ছিল ১৯৪৭ সালের দেশভাগ।

