Class 9 History Important Chapter 4 রুশ বিপ্লব

SEBA Class 9 History Important Chapter 4 রুশ বিপ্লব Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Important Chapter 4 রুশ বিপ্লব Solutions and select need one. Class 9 History Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Additional Question Answer.

Class 9 History Important Chapter 4 রুশ বিপ্লব

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 4

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ‘প্রলেতারিয়েত’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ ‘প্রলেতারিয়েত’ বলতে মূলত শ্রমজীবী বা শ্রমিক শ্রেণীকে বোঝায়, যাদের শাসনতন্ত্র প্রবর্তন রুশ বিপ্লবের অন্যতম প্রধান বিস্ময়কর ও অভিনব ধারণা ছিল।

২। রাশিয়ায় জারতন্ত্রের বিকাশ কখন ঘটেছিল?

উত্তরঃ খ্রিস্টীয় নবম শতাব্দীতে রাশিয়ায় জারতন্ত্রের বিকাশ ঘটেছিল।

৩। রাশিয়াতে রোমানভ বংশের প্রতিষ্ঠা কবে হয়েছিল?

উত্তরঃ সপ্তদশ শতাব্দীতে রাশিয়ায় রোমানভ রাজবংশের প্রতিষ্ঠা হয়েছিল এবং এই বংশের প্রতিষ্ঠাতা কাল থেকে রাশিয়ার ক্রমশ উন্নতি হতে থাকে।

৪। রাশিয়ার কোন সম্রাটকে ‘মহান পিটার’ বলা হয়?

উত্তরঃ রাশিয়ার প্রখ্যাত ও দূরদর্শী নৃপতি পিটারকে তাঁর বলিষ্ঠ নেতৃত্ব ও রাশিয়াকে আধুনিকীকরণের অবদানের জন্য ‘মহান পিটার’ বলা হয়।

৫। রুশ সাম্রাজ্যের কুখ্যাত গোপন পুলিশ বা গুপ্তচর বিভাগকে কী বলা হতো?

উত্তরঃ রুশ সাম্রাজ্যের দমনকারী পুলিশ বাহিনীর গোপন বা গুপ্তচর বিভাগকে ‘থার্ড সেকশন’ বলা হতো।

৬। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে তুরস্কের সাথে রাশিয়া কোন চুক্তি স্বাক্ষর করেছিল?

উত্তরঃ ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে জার প্রথম নিকোলাস তুরস্কের সাথে বিখ্যাত ‘উন্‌কাইয়ার স্কেলেসি’ চুক্তি স্বাক্ষর করেছিলেন।

৭। রাশিয়ার আদি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসীরা কোন জাতিভুক্ত ছিল?

উত্তরঃ রাশিয়ার আদি ও সংখ্যাগরিষ্ঠ অধিবাসীরা মূলত ‘স্লাভ’ জাতিভুক্ত লোক ছিল।

৮। ‘সার্ফ’ শব্দের অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘সার্ফ’ শব্দের অর্থ হলো ‘ভূমিদাস’, যারা রাশিয়ার জমিদার ও অভিজাতদের জমিতে ফসল ফলানোর পাশাপাশি বিনা পারিশ্রমিকে বাধ্যতামূলক শ্রম দিতে বাধ্য হতো।

৯। কে এবং কবে রাশিয়ায় ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটিয়েছিলেন?

উত্তরঃ ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার তাঁর বিখ্যাত ‘মুক্তির আজ্ঞা’ ঘোষণার মাধ্যমে রাশিয়া থেকে চিরতরে ভূমিদাস প্রথার অবসান ঘটিয়েছিলেন।

১০। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে কী নামে অভিহিত করা হতো?

উত্তরঃ কোটি কোটি ভূমিদাসকে দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্তি দেওয়ার জন্য জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে শ্রদ্ধার সাথে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলে অভিহিত করা হতো।

১১। রাশিয়ার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সভাকে কী বলা হতো?

উত্তরঃ জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার প্রবর্তিত রাশিয়ার স্থানীয় স্বায়ত্তশাসন সভাকে ‘জেমসভো’ বলা হতো।

১২। কার নেতৃত্বে রাশিয়ায় প্রথম শিল্প বিপ্লব বা শিল্পায়নের সূচনা হয়েছিল?

উত্তরঃ জার তৃতীয় আলেকজান্ডারের আমলের বাণিজ্য সচিব সার্জিয়াস ডি উইটি -র নেতৃত্বে রাশিয়ায় প্রথম শিল্পায়নের শুভ সূচনা হয়েছিল।

১৩। রাশিয়ায় প্রথম ‘সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি’ কবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে কার্ল মার্ক্স-এর সাম্যবাদী আদর্শের অনুসারীদের নিয়ে রাশিয়ায় প্রথম ‘সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টি’ গঠিত হয়েছিল।

১৪। রুশ বিপ্লবের ইতিহাসে ‘রক্তাক্ত রবিবার’ ঘটনাটি কবে ঘটেছিল?

উত্তরঃ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ২২শে জানুয়ারি তারিখে পেট্রোগ্রাডে ‘রক্তাক্ত রবিবার’ নামক ঐতিহাসিক ও নির্মম হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল।

১৫। রাশিয়ার জাতীয় সংসদ বা আইনসভাকে কী বলা হতো?

উত্তরঃ রাশিয়ার জাতীয় সংসদ বা আইনসভাকে ‘ডুমা’ বলা হতো।

দীঘলীয়া প্রশ্ন উত্তর।

১। ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবের প্রধান রাজনৈতিক কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবের প্রধান রাজনৈতিক কারণগুলি আলোচনা করা হলো: 

(ক) স্বৈরাচারী জার শাসন: রাশিয়াতে রোমানভ বংশের জার বা সম্রাটরা ছিলেন চরম স্বৈরাচারী ও একনায়কতান্ত্রিক। তাঁরা বিশ্বাস করতেন যে রাজপদ ঈশ্বরপ্রদত্ত এবং তাঁরা কেবলমাত্র ঈশ্বরের কাছেই জবাবদিহি করতে বাধ্য, জনগণের কাছে নয়। 

(খ) দুর্বল ও অকর্মণ্য নেতৃত্ব: বিপ্লবের প্রাক্কালে রাশিয়ার জার দ্বিতীয় নিকোলাস ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল চরিত্রের ব্যক্তিত্বহীন শাসক। তিনি তাঁর স্ত্রী সম্রাজ্ঞী আলেকজান্দ্রার হাতের পুতুল ছিলেন এবং সম্রাজ্ঞী নিজে কুখ্যাত, চরিত্রহীন সাধু রশপুটিন-এর আজ্ঞাবহ ছিলেন।

(গ) দুর্নীতিগ্রস্ত আমলাতন্ত্র: রাশিয়ার প্রশাসনিক ও বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ দুর্নীতিপরায়ণ হয়ে পড়েছিল। সরকারি চাকরি পাওয়া বা সঠিক বিচার পাওয়ার জন্য রাজকর্মচারী ও মন্ত্রীদের উপঢৌকন বা ঘুষ প্রদান করা বাধ্যতামূলক ছিল, যা সাধারণ মানুষের জীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছিল। 

(ঘ) সামরিক বাহিনীর দুর্বলতা ও পরাজয়: ১৯০৪-০৫ সালের রুশ-জাপান যুদ্ধে ক্ষুদ্র এশীয় শক্তি জাপানের কাছে রাশিয়ার লজ্জাজনক পরাজয় এবং পরবর্তীতে প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি জারের সামরিক অযোগ্যতাকে পুরোপুরি নগ্ন করে দেয়, যা জনগণের ক্ষোভকে বিপ্লবের অগ্নিশিখায় রূপান্তর করে।

২। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সংস্কার কার্যাবলী এবং তাঁর ‘মুক্তির আজ্ঞা’-র গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ সংস্কার কার্যাবলী এবং তাঁর বিখ্যাত ‘মুক্তির আজ্ঞা’-র গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সংস্কার কার্যাবলী: ক্রিমিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয় দেশের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও অনুন্নত শাসন ব্যবস্থাকে স্পষ্ট করে তুলেছিল। 

এই প্রেক্ষাপটে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়াকে ইউরোপের অন্যান্য উন্নত দেশের সমপর্যায়ে নিয়ে যেতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ব্যাপক সংস্কারের উদ্যোগ নেন:

বিচার বিভাগীয় সংস্কার: জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার রাশিয়ার প্রাচীন ও ত্রুটিপূর্ণ বিচার ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ করেন। তিনি বিচার বিভাগকে স্বাতন্ত্র্য বা শাসন বিভাগের নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ স্বাধীনতা প্রদান করেন। 

স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসন ও জেমসভো গঠন: কেন্দ্রে কুক্ষিগত বা কেন্দ্রীভূত শাসন ব্যবস্থার পরিবর্তে তিনি স্থানীয় স্বায়ত্ত্বশাসনের ওপর জোর দেন। এই উদ্দেশ্যে তিনি জেলা ও প্রদেশ স্তরে ‘জেমসভো’ নামক নির্বাচিত প্রতিনিধি সভা স্থাপন করেন। 

(ii) মুক্তির আজ্ঞা’-র প্রেক্ষাপট ও ঘোষণা: জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারের সবচেয়ে ঐতিহাসিক ও যুগান্তকারী সংস্কারটি ছিল রাশিয়া থেকে মধ্যযুগীয় দাসপ্রথার বা ‘সার্ফ’ প্রথার উচ্ছেদ সাধন।

প্রেক্ষাপট: রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার এক বিশাল অংশ ছিল কৃষক এবং তাদের একটি বৃহৎ অংশ ছিল ভূমিদাস বা ‘সার্ফ’। এই ভূমিদাসদের নিজস্ব কোনো জমি বা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা ছিল না তারা সামন্তপ্রভু বা জমিদারদের ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে গণ্য হতো এবং তাদের ওপর অকথ্য নির্যাতন চালানো হতো। 

ঘোষণা: এই উপলব্ধি থেকে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ খ্রিস্টাব্দে তাঁর বিখ্যাত ‘মুক্তির আজ্ঞা’ ঘোষণা করেন।

(iii) ‘মুক্তির আজ্ঞা’-র গুরুত্ব ও সীমাবদ্ধতা: ‘মুক্তির আজ্ঞা’ রাশিয়ার ইতিহাসে একটি বৈপ্লবিক পদক্ষেপ হলেও এর বাস্তবায়ন ও ফলাফল ছিল অত্যন্ত বিতর্কিত ও মিশ্র।

ইতিবাচক গুরুত্ব:

দাসত্ব থেকে মুক্তি: এই ঘোষণার মাধ্যমে কোটি কোটি মানুষ দাসত্বের অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়ে স্বাধীনভাবে জীবনযাপনের অধিকার লাভ করে। এই মহান মানবিক কাজের জন্য রাশিয়ার জনগণ জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডারকে অত্যন্ত শ্রদ্ধার সাথে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলে অভিহিত করেন।

৩। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের রাশিয়ার বিপ্লব এবং ‘রক্তাক্ত রবিবার’ ঘটনাটির বিবরণ দাও।

উত্তরঃ ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের রাশিয়ার বিপ্লব এবং ‘রক্তাক্ত রবিবার’ ঘটনাটির

বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

বিপ্লবের পটভূমি:

(i) চরম অত্যাচার ও রুশ-জাপান যুদ্ধ (১৯০৪): জার দ্বিতীয় নিকোলাসের রাজত্বকালে প্রজাসাধারণের ওপর সরকারি নির্যাতন ও দমনপীড়নের মাত্রা চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ঠিক এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ১৯০৪ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার সাথে জাপানের যুদ্ধ শুরু হয়। 

(ii) জনবিক্ষোভের সূচনা ও মন্ত্রীর হত্যা: জাপানের কাছে পরাজয়ের গ্লানি এবং দেশের সামগ্রিক সংকটের জেরে জনগণের ক্ষোভ ফেটে পড়ে। যুদ্ধ চলাকালীনই রাশিয়ার অত্যাচারী স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী প্লেহভিকে ক্ষুব্ধ জনতা হত্যা করে।

(iii) প্রিন্স মিরাস্কির উদার নীতি ও ১১ দফা দাবি: প্লেহভির মৃত্যুর পর নতুন প্রধানমন্ত্রী হন কিছুটা উদার মনোভাবাপন্ন প্রিন্স মিরাস্কি। তিনি রাজনৈতিক দলগুলিকে তাঁদের অভিযোগ ও দাবিগুলি সরকারের কাছে উপস্থাপিত করার প্রস্তাব দেন। 

‘রক্তাক্ত রবিবার’-এর বিবরণ:

(i) ধর্মঘটের সূচনা: দাবি আদায়ের উদ্দেশ্যে ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই জানুয়ারি রাশিয়া জুড়ে ব্যাপক শ্রমিক ধর্মঘট শুরু হয়।

(ii) শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রার আয়োজন: এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ২২শে জানুয়ারি (রবিবার) ফাদার গেপন নামক একজন বিশিষ্ট ধর্মযাজকের নেতৃত্বে হাজার হাজার ধর্মঘটকারী শ্রমিক ও তাঁদের পরিবারের সদস্যেরা পেট্রোগ্রাডে জারের শীতকালীন প্রাসাদের অভিমুখে একটি শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা বের করেন। 

(iii) নৃশংস হত্যাকাণ্ড: শোভাযাত্রায় অংশ নেওয়া শ্রমিকেরা সম্পূর্ণ নিরস্ত্র ও শান্তিকামী ছিলেন। কিন্তু জারের নিষ্ঠুর সৈন্যরা এই নিরপরাধ জনতার ওপর অতর্কিতে এলোপাথাড়ি

গুলিবর্ষণ করে, যার ফলে বহু নিরপরাধ শ্রমিক হতাহত হন। রাশিয়ার ইতিহাসের এই বর্বরোচিত ও করুণ ঘটনাটি ‘রক্তাক্ত রবিবার’ নামে সুপরিচিত।

৪। রুশ বিপ্লবে বলশেভিক ও মেনশেভিক দলের লেনিনের ভূমিকা মূল্যায়ন করো।

উত্তরঃ রুশ বিপ্লবে ভ্লাদিমির লেনিনের ভূমিকা মূল্যায়ন ভ্লাদিমির লেনিন (১৮৭০-১৯২৪) ছিলেন বলশেভিক বিপ্লবের প্রধান স্থপতি এবং আধুনিক রাশিয়ার স্রষ্টা। রাশিয়ার কাজান প্রদেশে জন্মগ্রহণকারী লেনিন ছাত্রাবস্থা থেকেই মার্ক্সীয় আদর্শের প্রতি গভীরভাবে আকৃষ্ট হন এবং দীর্ঘ নির্বাসিত জীবনে থেকেও রাশিয়ার বৈপ্লবিক আন্দোলন পরিচালনা করেন। 

রুশ বিপ্লবে তাঁর অসামান্য অবদান কয়েকটি পর্যায়ে আলোচনা করা হলো:

(ক) এপ্রিল থিসিস ও জনমত গঠন: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে (ফেব্রুয়ারি বিপ্লব) স্বৈরাচারী জারতন্ত্রের পতনের পর রাশিয়ায় কেরেনস্কির নেতৃত্বে একটি অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়। দীর্ঘ নির্বাসন শেষে ১৯১৭ সালের এপ্রিলে জার্মানির সহায়তায় লেনিন ছদ্মবেশে রাশিয়ায় প্রত্যাবর্তন করেন। তিনি রাশিয়ায় ফিরেই তাঁর বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’ ঘোষণা করেন। 

(খ) অক্টোবর বা বলশেভিক বিপ্লবের সফল নেতৃত্ব: কেরেনস্কি সরকারের ব্যর্থতা ও প্রথম বিশ্বযুদ্ধে লিপ্ত থাকার অনমনীয় সিদ্ধান্তের সুযোগ নিয়ে লেনিন তাঁর সহযোগী ট্রটস্কিকে সাথে নিয়ে এক চূড়ান্ত সশস্ত্র অভ্যুত্থানের পরিকল্পনা করেন। 

(গ) যুদ্ধাবসান ও ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি (১৯১৮): দেশের অভ্যন্তরীণ বিপ্লবকে রক্ষা করার জন্য লেনিন অত্যন্ত সাহসী ও বাস্তবমুখী সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির সাথে অত্যন্ত কঠিন শর্ত থাকা সত্ত্বেও ‘ব্রেস্ট-লিটভস্ক’ চুক্তি স্বাক্ষর করে রাশিয়াকে প্রথম বিশ্বযুদ্ধের ধ্বংসলীলা থেকে মুক্ত করেন।

(ঘ) সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র গঠন ও ‘যুদ্ধকালীন সাম্যবাদ’: ক্ষমতা দখলের পর লেনিন মার্ক্সীয় আদর্শের আক্ষরিক প্রয়োগে ব্রতী হন। তিনি সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয়করণ করেন, ব্যাংক, খনি, পরিবহন ও বৃহৎ কল-কারখানা সরকারি নিয়ন্ত্রণে আনেন এবং জমি কৃষকদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে দেন।

৫। রুশ বিপ্লবের সুদূরপ্রসারী সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ রুশ বিপ্লবের প্রধান সামাজিক ও অর্থনৈতিক ফলাফলগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

অর্থনৈতিক ফলাফল:

(i) ব্যক্তিগত সম্পত্তির অবসান ও রাষ্ট্রীয়করণ: কার্ল মার্ক্সের সাম্যবাদী আদর্শ অনুসরণ করে লেনিনের নেতৃত্বে বলশেভিক সরকার রাশিয়ার সমস্ত ব্যক্তিগত সম্পত্তির মালিকানা বাতিল করে তা সম্পূর্ণভাবে রাষ্ট্রের অধীনে নিয়ে আসে। এর জন্য সম্পত্তির মালিকদের কোনো প্রকার ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়নি। 

(ii) ভূমি সংস্কার ও জমি বণ্টন: বিপ্লবের পর সমস্ত জমি রাষ্ট্রের অধীনে নিয়ে আসা হয় এবং তা কৃষকদের মধ্যে সমানভাবে বণ্টন করে দেওয়া হয়। এর ফলে পূর্বতন শোষণকারী ভূস্বামী ও জমিদারদের অস্তিত্ব সম্পূর্ণ বিলুপ্ত করা হয়।

(iii) ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধকরণ ও সমবায় গঠন: পুঁজিবাদী শোষণের অবসান ঘটাতে রাশিয়ায় ব্যক্তিগত ব্যবসা-বাণিজ্য নিষিদ্ধ করা হয়। শ্রমিকদের স্বার্থে শ্রমিক সংগঠন এবং গ্রাহকদের স্বার্থরক্ষার জন্য ‘গ্রাহক সমবায় সমিতি’ গঠন করা হয়।

(iv) নতুন অর্থনৈতিক নীতি: আক্ষরিক অর্থে কঠোর মার্ক্সবাদী নীতি প্রয়োগ করতে গিয়ে প্রথমে সরকার চরম খাদ্য সংকট ও উৎপাদন হ্রাসের সম্মুখীন হয়। এই পরিস্থিতিতে লেনিন ১৯২১ সালে তাঁর তাত্ত্বিক ধারণা কিছুটা পরিবর্তন করে ‘নতুন অর্থনৈতিক নীতি’ বা ‘নেপ’ গ্রহণ করেন। 

সামাজিক ফলাফল:

(i) শ্রেণীহীন সাম্যবাদী সমাজ গঠন: ভূস্বামী, জমিদার, পুঁজিপতি বা কারখানার মালিকদের অস্তিত্ব চিরতরে বিলুপ্ত হওয়ার ফলে রাশিয়ায় প্রাচীন যুগের শ্রেণী-বিভাজনের অবসান ঘটে এবং সকলে সমশ্রেণীতে পরিণত হন। সমাজে শ্রমকে পরম মর্যাদা দিয়ে একটি ‘সাম্যবাদী সমাজ’ গড়ে তোলা হয়,যার মূল ভিত্তি ছিল শ্রম। 

(ii) ধর্মনিরপেক্ষ ও রাষ্ট্রীয় শিক্ষা ব্যবস্থা: বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পূর্ণরূপে চার্চ বা গির্জার নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু বলশেভিক সরকার কার্ল মার্ক্সের ধর্মীয় তত্ত্ব অনুসরণ করে চার্চের প্রভাব থেকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে মুক্ত করে সম্পূর্ণ সরকারীকরণ করে।

(iii) শ্রমিকদের কল্যাণ ও আবাসন সুবিধা: সর্বহারা বা প্রলেতারিয়েতের স্বার্থকে প্রাধান্য দিয়ে শ্রমিকদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত বাসস্থান বা আবাসন নির্মাণের রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব গ্রহণ করা হয়।

(iv) বাধ্যতামূলক সামরিক শিক্ষা: সাম্যবাদী রাষ্ট্রের নিরাপত্তা সুদৃঢ় করতে এবং বিপ্লব-বিরোধী বহিঃশত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে রুশ নাগরিকদের জন্য সামরিক শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top