Class 9 History Important Chapter 3 শিল্প বিপ্লব

SEBA Class 9 History Important Chapter 3 শিল্প বিপ্লব Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Important Chapter 3 শিল্প বিপ্লব Solutions and select need one. Class 9 History Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Additional Question Answer.

Class 9 History Important Chapter 3 শিল্প বিপ্লব

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 3

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ‘শিল্প বিপ্লব’ শব্দবন্ধটি প্রথম কে জনপ্রিয় বা প্রচলিত করেছিলেন?

উত্তরঃ বিখ্যাত ইতিহাসবিদ আর্নল্ড টয়েনবি ‘শিল্প বিপ্লব’ নামটির প্রচলন করেছিলেন।

২। “অভাবই আবিষ্কারের মূল”—এটি কোন ঐতিহাসিক ঘটনার প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে সত্য?

উত্তরঃ এটি শিল্প বিপ্লবের বৈজ্ঞানিক ও যান্ত্রিক আবিষ্কারগুলির প্রেক্ষাপটে বিশেষভাবে সত্য।

৩। কৃষিকাজে উন্নত ‘ড্রিল’ বা বীজ বপন যন্ত্রটি কে এবং কবে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ ১৭০০ খ্রিস্টাব্দে জেথ্রু টুল নামক কৃষিবিজ্ঞানী ড্রিল যন্ত্রটি আবিষ্কার করেছিলেন।

৪। ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে বস্ত্রশিল্পে বিপ্লব আনা ‘ফ্লাইং শাটল’ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তরঃ জন কে নামক ব্রিটিশ আবিষ্কারক ফ্লাইং শাটল আবিষ্কার করেছিলেন।

৫। সুতো কাটার জন্য বিখ্যাত ‘স্পিনিং জেনি’ কে এবং কবে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে জেমস হারগ্রিভস স্পিনিং জেনি আবিষ্কার করেছিলেন।

৬। ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে রিচার্ড আর্করাইট কোন সুতো কাটার যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ রিচার্ড আর্করাইট ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে ‘ওয়াটার ফ্রেম’ নামক সুতো কাটার যন্ত্র আবিষ্কার করেছিলেন।

৭। তুলা থেকে সহজে বীজ ছাড়ানোর জন্য বিখ্যাত ‘তুলা জিন’ কে আবিষ্কার করেন?

উত্তরঃ ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার শিক্ষক এলি হুইটনি ‘জিন’ নামক যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন।

৮। খনিতে শ্রমিকদের নিরাপত্তার জন্য ‘নিরাপদ প্রদীপ’ কে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ বিজ্ঞানী স্যার হামফ্রে ডেভি খনিশ্রমিকদের জন্য নিরাপদ প্রদীপ আবিষ্কার করেছিলেন।

৯। আধুনিক বাষ্পচালিত ইঞ্জিন কে এবং কবে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিন আবিষ্কার করেছিলেন।

১০। পিচ বা আলকাতরা দিয়ে মজবুত পাকা রাস্তা তৈরির আধুনিক পদ্ধতি কে আবিষ্কার করেন?

উত্তরঃ স্কটল্যান্ডের অধিবাসী জন ম্যাকঅ্যাডাম এই রাস্তা তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।

১১। রেল পরিবহনের পথপ্রদর্শক জর্জ স্টিফেনসনের তৈরি বিখ্যাত বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনটির নাম কী ছিল?

উত্তরঃ ১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে জর্জ স্টিফেনসনের তৈরি বিখ্যাত বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনটির নাম ছিল ‘রকেট’।

১২। ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে টেলিফোন যন্ত্রটি কে আবিষ্কার ও প্রদর্শন করেছিলেন?

উত্তরঃ আমেরিকার অধিবাসী গ্রাহাম বেল ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দে টেলিফোন যন্ত্রটি প্রদর্শন করেছিলেন।

১৩। উদ্ভিদের প্রধান খাদ্য হিসেবে পটাশ, নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের ব্যবহার কে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ জার্মান রসায়নবিদ জুস্তাস ভন লীবীগ ১৮৪০ খ্রিস্টাব্দে এটি আবিষ্কার করেন।

১৪। সমাজতন্ত্রবাদের প্রসারে রচিত অত্যন্ত বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দাস ক্যাপিটাল’ কার রচনা?

উত্তরঃ ‘দাস ক্যাপিটাল’ গ্রন্থটি সমাজতন্ত্রী চিন্তাবিদ কার্ল মার্ক্স এর রচনা।

১৫। পিচব্লেন্ড নামক খনিজ থেকে রেডিয়াম কে আবিষ্কার করেছিলেন?

উত্তরঃ ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়ারি কুরি এবং তাঁর পত্নী মেরি কুরি যৌথভাবে রেডিয়াম আবিষ্কার করেছিলেন।

দীঘলীয়া প্রশ্ন উত্তর।

১। ইংল্যান্ডে কেন প্রথম শিল্প বিপ্লবের সূচনা হয়েছিল? এর প্রধান কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তরঃ ইংল্যান্ডে প্রথম শিল্প বিপ্লব শুরু হওয়ার পেছনে বেশ কিছু অনুকূল সামাজিক, অর্থনৈতিক ও ভৌগোলিক কারণ ছিল: 

(ক) ভৌগোলিক অবস্থান ও নৌ-শক্তি: ইংল্যান্ড ছিল একটি চতুর্দিকে সমুদ্রবেষ্টিত দ্বীপরাষ্ট্র। এর ফলে ইংরেজরা নৌ-বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিল এবং সমুদ্রপথে বহির্বিশ্বের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্য চালিয়ে প্রচুর সম্পদ ও জ্ঞান অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল। 

(খ) কৃষিক্ষেত্রে বৈপ্লবিক পরিবর্তন ও সস্তা শ্রমিক: নতুন বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ শুরু হওয়ায় প্রান্তীয় ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা ভূমিহীন হয়ে পড়ে। এই বিশাল জনসংখ্যা জীবিকার সন্ধানে গ্রাম ছেড়ে শহরে পাড়ি জমায় এবং কল-কারখানার জন্য সস্তা শ্রমিকের একটি বড় উৎস হয়ে দাঁড়ায়। 

(গ) খনিজ সম্পদের প্রাচুর্য: ইংল্যান্ডে অত্যন্ত প্রয়োজনীয় খনিজ পদার্থ কয়লা এবং লোহার খনিগুলি কাছাকাছি অবস্থিত ছিল। ফলে লোহা গলানো এবং যান্ত্রিক কারখানার জন্য প্রয়োজনীয় জ্বালানির সুবিধা তারা সহজেই পেয়েছিল। 

(ঘ) উপনিবেশ ও কাঁচামাল লাভ: আমেরিকার উপনিবেশসমূহ এবং ভারতের মতো বিশাল দেশ থেকে অত্যন্ত কম মূল্যে কাঁচামাল সংগ্রহ করা এবং সেখানে উৎপাদিত সুতি বস্ত্র বিক্রির জন্য ইংল্যান্ডের একটি বিস্তৃত আন্তর্জাতিক বাজার তৈরি হয়েছিল।

২। বস্ত্রশিল্পের যান্ত্রিকীকরণ ও বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি কীভাবে শিল্প বিপ্লবকে তরান্বিত করেছিল? বিভিন্ন আবিষ্কারের উল্লেখসহ আলোচনা করো।

উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের সূচনা সর্বপ্রথম এবং সবচেয়ে জোরালোভাবে পরিলক্ষিত হয়েছিল বস্ত্র উৎপাদনের ক্ষেত্রে। প্রাচীনকাল থেকে সুতা কাটা এবং কাপড় তৈরির কাজটি বাড়িতে কুটির শিল্প হিসেবে অত্যন্ত ধীরগতিতে করা হতো, যার ফলে উৎপাদনের পরিমাণ ছিল অত্যন্ত কম। কিন্তু অষ্টাদশ শতাব্দীতে একের পর এক বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার ও যান্ত্রিকীকরণ এই কুটির শিল্পকে একটি বৃহৎ ও আধুনিক কারখানাভিত্তিক শিল্পে রূপান্তরিত করে শিল্প বিপ্লবের গতিকে বহুগুণ ত্বরান্বিত করেছিল।

বস্ত্রশিল্পে যান্ত্রিকীকরণের বিভিন্ন পর্যায় ও যুগান্তকারী আবিষ্কারসমূহের অবদান বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) জন কে-র ফ্লাইং শাটল: ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের জন কে ‘ফ্লাইং শাটল’ বা ‘উড়ন্ত মাকু’ নামক এক প্রকার তাঁতযন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই আবিষ্কারের ফলে তন্তুবায়দের বস্ত্র বুননের গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং অত্যন্ত কম সময়ে আগের তুলনায় অনেক বেশি ও চওড়া কাপড় উৎপাদন করা সম্ভব হয়ে ওঠে।

(ii) জেমস হারগ্রিভসের স্পিনিং জেনি: ফ্লাইং শাটলের আবিষ্কারের ফলে কাপড় বোনার গতি বাড়লেও সুতা কাটার গতি আগের মতোই ধীর ছিল, যার কারণে তাঁতিদের সুতার তীব্র ঘাটতি দেখা দেয় [৬৪]। এই সুতার চাহিদা মেটাতে ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে জেমস হারগ্রিভস ‘স্পিনিং জেনি’ নামক সুতা কাটার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। 

(iii) রিচার্ড আর্করাইটের ওয়াটার ফ্রেম: ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে রিচার্ড আর্করাইট ‘ওয়াটার ফ্রেম’ নামক সুতা কাটার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এই যন্ত্রটি চালাতে মানুষের শক্তির বদলে জলের শক্তি (জলবিদ্যুৎ বা জলপ্রবাহের শক্তি) ব্যবহার করা হতো। ওয়াটার ফ্রেমের সাহায্যে তৈরি সুতাগুলি ছিল অত্যন্ত মজবুত ও উন্নত মানের।

(iv) স্যামুয়েল ক্রম্পটনের মিউল: ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যামুয়েল ক্রম্পটন পূর্ববর্তী দুটি যন্ত্র অর্থাৎ ‘স্পিনিং জেনি’ এবং ‘ওয়াটার ফ্রেম’-এর গুণাবলীর সংমিশ্রণ ঘটিয়ে ‘মিউল’ নামক অত্যন্ত শক্তিশালী সুতা কাটার যন্ত্র আবিষ্কার করেন। এটি সুতা উৎপাদনের ক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব বিপ্লব ঘটায়।

৩। যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার আধুনিকীকরণ কীভাবে শিল্প বিপ্লবের প্রসারে সহায়ক ভূমিকা পালন করেছিল?

উত্তরঃ পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার এই আধুনিকীকরণের বিভিন্ন দিক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) সড়ক ব্যবস্থার বৈপ্লবিক আধুনিকীকরণ: অষ্টাদশ শতকের শেষভাগ পর্যন্ত স্থলপথের যাতায়াত ও ভারী পণ্য পরিবহন অত্যন্ত কঠিন ছিল। এই সমস্যার সমাধানে স্কটল্যান্ডের অধিবাসী জন ম্যাকঅ্যাডাম একটি অভিনব বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। তিনি বিভিন্ন স্তরে ক্রমান্বয়ে বড় থেকে ছোট আকারের পাথর ব্যবহার করে এবং তার ওপর আলকাতরা প্রয়োগ করে মজবুত ও মসৃণ পাকা রাস্তা নির্মাণের পদ্ধতি উদ্ভাবন করেন।

(ii) জলপথ ও বাষ্পচালিত জলযানের অগ্রগতি: বস্তু সামগ্রী পরিবহনের জন্য জলপথ ছিল সবচেয়ে সহজ ও সাশ্রয়ী মাধ্যম, কারণ এই পথে কম খরচে অনেক বেশি পরিমাণ জিনিস আনা-নেওয়া করা যেত।

১৮০৭ খ্রিস্টাব্দে আমেরিকার রবার্ট ফুলটন হাডসন নদীতে ‘ক্লারমন্ট’ নামে প্রথম সফল বাষ্পীয় নৌকা চালিয়ে জলপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে এক নতুন যুগ তৈরি করেন, যা নিউ ইয়র্ক থেকে আলুনি পর্যন্ত ২৪০ কিলোমিটার জলপথ মাত্র ২৩ ঘণ্টায় অতিক্রম করতে পেরেছিল।

(iii) রেলপথ ও বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিনের আবিষ্কার: সড়ক বা জলপথের চেয়েও স্থলপথে দ্রুত ও কম খরচে ভারী সামগ্রী এবং যাত্রী পরিবহনে রেলপথের সম্প্রসারণ ছিল সবচেয়ে যুগান্তকারী ঘটনা। গ্রেট ব্রিটেনের জর্জ স্টিফেনসন বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিন আবিষ্কারের পথপ্রদর্শক ছিলেন।

১৮২৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর নির্মিত বিখ্যাত বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিন ‘রকেট’ ঘণ্টায় ২৩ কিলোমিটার বেগে ৪৮ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে রেল যোগাযোগের সূচনা ঘটায়।

৪। শিল্প বিপ্লবের ফলে সমাজজীবনে যে ব্যাপক সামাজিক ও অর্থনৈতিক পরিবর্তনের সৃষ্টি হয়েছিল তা সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব মানুষের দীর্ঘদিনের জীবনযাত্রার প্রণালীতে এক অভূতপূর্ব পরিবর্তন এনেছিল: 

(ক) যৌথ পরিবারের বিলোপ: পূর্বে কৃষিভিত্তিক সমাজে যৌথ পরিবার প্রথা চালু ছিল। কিন্তু কল-কারখানা ভিত্তিক কাজের জন্য মানুষের দূরবর্তী শহরে চলে যাওয়ায় যৌথ পরিবার প্রথা ভেঙে একক পরিবার গঠিত হতে শুরু করে। 

(খ) অস্বাস্থ্যকর বস্তি জীবনের সৃষ্টি: কারখানার আশেপাশে শ্রমজীবী মানুষদের থাকার জন্য দ্রুত বহু ছোট ছোট অস্বাস্থ্যকর বস্তি গড়ে ওঠে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও সঠিক পরিকল্পনার অভাবে রাস্তাঘাট নোংরা থাকে এবং কলেরা বা যক্ষ্মার মতো নানা রোগের প্রকোপ বৃদ্ধি পায়। 

(গ) নতুন দুই শ্রেণীর জন্ম ও সামাজিক বৈষম্য: সমাজে মূলত দুটি প্রধান শ্রেণীর উত্থান ঘটে— এক, কল-কারখানার মালিক ‘পুঁজিপতি’ শ্রেণী, এবং দুই, শোষিত ‘শ্রমিক’ শ্রেণী। পুঁজিপতিরা প্রচুর মুনাফা অর্জন করে বিলাসী জীবন কাটালেও শ্রমিকদের দীর্ঘ ১২-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে হতো এবং মজুরি ছিল অত্যন্ত নগণ্য। 

(ঘ) মধ্যবিত্ত শ্রেণীর উত্থান: শিল্প-বাণিজ্যের প্রসারের ফলে সমাজে শিক্ষক, চাকুরিজীবী, চিকিৎসক এবং ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি শক্তিশালী মধ্যবিত্ত শ্রেণীর জন্ম হয়, যারা পরবর্তীতে রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও প্রভাব বিস্তার করে।

৫। শিল্প বিপ্লবের প্রতিক্রিয়ায় ‘সমাজবাদ’ ও ‘সমবায় প্রথা’ কীভাবে উদ্ভূত ও প্রসারিত হয়েছিল?

উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব কেবল উৎপাদন ব্যবস্থার জগতেই পরিবর্তন আনেনি, বরং সমাজে তীব্র অর্থনৈতিক বৈষম্য ও শোষণের এক নতুন যুগের সূচনা করেছিল। এর ফলে একদিকে যেমন পুঁজিপতি শ্রেণির উত্থান ঘটে, অন্যদিকে সাধারণ শ্রমিকদের জীবন সীমাহীন দুঃখ-দুর্দশায় নিমজ্জিত হয়। এই পুঁজিপতিদের চরম শোষণ ও শ্রমিক শ্রেণির অবর্ণনীয় দুর্দশার প্রতিক্রিয়া হিসেবেই উনিশ শতকে শ্রমিকদের আত্মরক্ষা ও অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য ‘সমবায় প্রথা’ এবং ‘সমাজবাদ’-এর উদ্ভব ও প্রসার ঘটেছিল।

এদের উদ্ভব ও প্রসার সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(ক) সমবায় প্রথার সূচনা: শ্রমিকদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে ১৮৪৪ সালে ইংল্যান্ডের রকডেলে সমবায় ব্যবস্থার যাত্রা শুরু হয়। কারখানার মালিক রবার্ট ওয়েন লানার্ক নামক স্থানে যৌথ মালিকানায় একটি আদর্শ সমবায়ী সমাজ গঠনের চেষ্টা করেন। 

(খ) ইউটোপিয়ান সমাজতন্ত্র: ফ্রান্সে চার্লস ফুরিয়ার, সেন্ট সাইমন এবং লুই ব্লু প্রমুখ চিন্তাবিদেরা সম্পদের সুষম বণ্টন এবং দরিদ্রদের জন্য কারখানা খোলার পক্ষে সোচ্চার হন। 

(গ) বৈজ্ঞানিক সমাজতন্ত্র বা মার্কসবাদ: ১৮৪৮ সালে কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডেরিক এঞ্জেলস ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ নামক পুস্তিকা প্রকাশ করে বলেন যে শ্রমিকদের শোষণের হাত থেকে মুক্ত করতে পুঁজিপতিদের অবসান ঘটাতে হবে। ১৮৬৭ সালে মার্ক্সের ‘দাস ক্যাপিটাল’ গ্রন্থে পুঁজিবাদের তীব্র সমালোচনা ও শ্রমিকদের সংগঠিত হওয়ার কথা বলা হয়। 

(ঘ) আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন ও বিপ্লব: ১৮৬৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রমিক সংগঠন গড়ে ওঠে, যা বিশ্বব্যাপী সমাজবাদী ধারণার বিস্তার ঘটায় এবং শেষ পর্যন্ত ১৯১৭ সালে রাশিয়ার বুকে বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে প্রথম সমাজতান্ত্রিক সরকার গঠিত হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top