Class 9 History Chapter 5 ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Chapter 5 ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ Solutions and select need one. Class 9 History Textbook Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Textual Question Answer.
Class 9 History Chapter 5 ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Textual Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহ
Chapter: 5
| প্রশ্নাবলী |
১। অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও।
(ক) ভারতে ইংরাজ কোম্পানীর শাসন কোন সাল থেকে কোন সাল পর্যন্ত ব্যাপ্ত ছিল?
উত্তরঃ ভারতে ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৮৫৮ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত ব্যাপ্ত ছিল।
(খ) ভাস্কো-ডা-গামা ভারতে প্রথম কোন বন্দরে উপস্থিত হয়েছিলেন?
উত্তরঃ পর্তুগীজ নাবিক ভাস্কো-ডা-গামা ১৪৯৮ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে ভারতের মালাবার উপকূলের কালিকট বন্দরে প্রথম উপস্থিত হয়েছিলেন।
(গ) পলাশী যুদ্ধের সময় বঙ্গের নবাব কে ছিলেন?
উত্তরঃ পলাশী যুদ্ধের সময় বঙ্গদেশের নবাব ছিলেন সিরাজ-উদ-দৌলা।
(ঘ) ভারতে ব্যবসা-বাণিজ্য করতে আসা ইংরাজ কোম্পানীটি কার থেকে সনদ লাভ করেছিলেন?
উত্তরঃ ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিটি ইংল্যান্ডের তৎকালীন রাণী এলিজাবেথের কাছ থেকে ১৬০০ খ্রিস্টাব্দে বাণিজ্যিক সনদ লাভ করেছিলেন।
(ঙ) ১৮৫৭ সালে ভারতের গভর্ণর জেনারেল কে ছিলেন?
উত্তরঃ ১৮৫৭ সালে ভারতের গভর্নর জেনারেল ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
(চ) ১৮৫৭ সালে বিদ্রোহীরা কাকে হিন্দুস্তানের সম্রাট বলে ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তরঃ ১৮৫৭ সালের ১১ই মে মীরটের বিদ্রোহী সিপাহিরা দিল্লির লালকেল্লায় পৌঁছে শেষ মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় বাহাদুর শাহ-কে ‘হিন্দুস্তানের সম্রাট’ বলে ঘোষণা করেছিলেন।
(ছ) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের প্রথম শহীদ কে ছিলেন?
উত্তরঃ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের প্রথম শহীদ ছিলেন ব্যারাকপুরের ৩৪ নং পদাতিক বাহিনীর সিপাহি মঙ্গল পাণ্ডে।
(জ) ভারতের প্রথম ভাইসরয় কে ছিলেন?
উত্তরঃ ভারতের প্রথম ভাইসরয় ছিলেন লর্ড ক্যানিং।
(ঝ) সম্রাট বাহাদুর শাহর কোথায় মৃত্যু হয়েছিল?
উত্তরঃ সম্রাট বাহাদুর শাহকে মায়ানমারের রেঙ্গুনে নির্বাসিত করা হয় এবং সেখানেই ১৮৬২ খ্রিস্টাব্দে তাঁর মৃত্যু হয়েছিল।
(ঞ) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহকে কে প্রথম স্বাধীনতার যুদ্ধ বলে অভিহিত করেছিলেন?
উত্তরঃ প্রখ্যাত বিপ্লবী ও চিন্তাবিদ বিনায়ক দামোদর সাভারকর ১৯০৯ খ্রিস্টাব্দে প্রকাশিত তাঁর একটি পুথিতে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহকে প্রথম ‘স্বাধীনতার যুদ্ধ’ বলে অভিহিত করেছিলেন।
(ট) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহে অসমের হয়ে কে নেতৃত্ব দান করেছিলেন?
উত্তরঃ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহে অসমের পক্ষে প্রধান নেতৃত্ব দান করেছিলেন অসমের জাতীয় নায়ক মণিরাম দেওয়ান।
(ঠ) মণিরাম দেওয়ানের সঙ্গে আর কাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল?
উত্তরঃ মণিরাম দেওয়ানের সঙ্গে তাঁর প্রধান সহযোগী পিয়লী বরুয়াকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।
(ড) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহে অসমে কাকে রাজা হিসাবে বসানোর সিদ্ধান্ত করা হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহ সফল হলে অসমে আহোম রাজবংশের রাজকুমার কন্দর্পেশ্বর সিংহ কে রাজা হিসেবে সিংহাসনে বসানোর সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছিল।
২। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখ।
(ক) বক্সার যুদ্ধ।
উত্তরঃ বক্সার যুদ্ধ:
(i) পটভূমি ও সময়কাল: ১৭৫৭ খ্রিস্টাব্দের পলাশীর যুদ্ধে জয়ের পর ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি ভারতের বুকে এক অপ্রতিরোধ্য শক্তিতে পরিণত হতে থাকে। এই আধিপত্যের বিরুদ্ধে ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দের অক্টোবর মাসে বিহার সীমান্তের বক্সার নামক স্থানে এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয়।
(ii) যুদ্ধে অংশগ্রহণকারী পক্ষসমূহ: এই যুদ্ধে ভারতের তিনটি প্রধান শক্তি— বঙ্গের নবাব মীরকাশিম, অযোধ্যার নবাব সুজা-উদ-দৌলা এবং মোঘল সম্রাট দ্বিতীয় শাহ আলম সম্মিলিত জোট গঠন করে যৌথভাবে ব্রিটিশ বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ে অবতীর্ণ হন।
(iii) ফলাফল ও গুরুত্ব: সম্মিলিত ভারতীয় জোট এই যুদ্ধে ব্রিটিশ বাহিনীর কাছে শোচনীয়ভাবে পরাজিত বা অসফল হয়। যুদ্ধের পর ইংরেজ কোম্পানি মোঘল সম্রাটের কাছ থেকে বাংলা, বিহার ও ওড়িশার দেওয়ানি লাভ করে। এর ফলে ভারতের মাটিতে ব্রিটিশ কোম্পানির রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক শাসনের ভিত্তি অত্যন্ত সুদৃঢ় হয়ে ওঠে।
(খ) ডালহৌসীর রাজ্য বিস্তার নীতি।
উত্তরঃ ডালহৌসীর রাজ্য বিস্তার নীতি:
(i) মূল উদ্দেশ্য ও প্রবক্তা: গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬) ছিলেন একজন উগ্র সাম্রাজ্যবাদী শাসক। ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের সীমানা বহুগুণ বাড়িয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি জবরদস্তিমূলক নীতি গ্রহণ করেছিলেন।
(ii) স্বত্ববিলোপ নীতি: তাঁর রাজ্য বিস্তার নীতির প্রধান হাতিয়ার ছিল ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’। এই নীতি অনুযায়ী, ব্রিটিশদের অধীনস্থ কোনো দেশীয় রাজ্যের রাজা যদি অপুত্রক অবস্থায় মারা যেতেন, তবে
(iii) তাঁর রাজ্য: সরাসরি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত হতো। ডালহৌসী দেশীয় রাজাদের সনাতন দত্তক পুত্র গ্রহণের অধিকারকে অস্বীকার করেন।
(iv) গ্রাসকৃত রাজ্যসমূহ: এই নীতি প্রয়োগ করে তিনি একে একে সাতারা (১৮৪৮), নাগপুর, সম্বলপুর, ঝাঁসি, জেতপুর, ভগত, উদয়পুর এবং করোলি রাজ্য দখল করেন।
(গ) এনফিল্ড রাইফেল।
উত্তরঃ এনফিল্ড রাইফেল:
(i) ঐতিহাসিক গুরুত্ব: এনফিল্ড রাইফেল ছিল ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের অন্যতম প্রধান তৎকালীন কারণ। ১৮৫৬ সালের শেষের দিকে ব্রিটিশ সরকার ভারতীয় সিপাহিদের ব্যবহারের জন্য এই নতুন রাইফেলটি প্রবর্তন করে।
(ii) উত্তেজনার কারণ: এই রাইফেলে ব্যবহৃত কার্টিজ বা টোটাটি বন্দুকে ভরার আগে তার অগ্রভাগ দাঁতে কামড়ে কাটতে হতো। সেই সময়ে সিপাহিদের মধ্যে দ্রুত একটি গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, ওই কার্টিজের চর্বিযুক্ত অংশে গরু এবং শূকরের চর্বি মেশানো রয়েছে।
(iii) ধর্মীয় আঘাত ও বিদ্রোহ: হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের কাছে গরু পবিত্র এবং মুসলমানদের কাছে শূকর নিষিদ্ধ হওয়ায় উভয় সম্প্রদায়ের সিপাহিদের মনে ধারণা জন্মে যে, ইংরেজ সরকার কৌশলে তাঁদের ধর্ম নষ্ট করার চক্রান্ত করছে।
(ঘ) রাণী লক্ষীবাঈ।
উত্তরঃ রাণী লক্ষীবাঈ:
(i) পরিচয় ও বিদ্রোহের কারণ: মধ্য ভারতের বিদ্রোহের প্রধান নেত্রী ছিলেন ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ, যিনি ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাওয়ের বিধবা পত্নী ছিলেন। লর্ড ডালহৌসী স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে ঝাঁসির রাজার দত্তক পুত্রের সিংহাসনের অধিকার অস্বীকার করেন এবং ঝাঁসি রাজ্যটি দখল করে নিলে রাণী লক্ষ্মীবাঈ ব্রিটিশদের ঘোর বিরোধী হয়ে ওঠেন।
(ii) বীরত্বপূর্ণ সংগ্রাম: ১৮৫৮ সালের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সেনাপতি স্যার হিউ রোজ ঝাঁসি দুর্গ অবরোধ করলে রাণী লক্ষ্মীবাঈ অনন্য সাহসের সঙ্গে যুদ্ধ করেন এবং পরে দুর্গ ত্যাগ করে কাল্পিতে চলে যান। সেখান থেকে তিনি ঝাঁসির বিদ্রোহী সেনা, নানা সাহেবের সহচর তাঁতিয়া টোপী এবং অন্যান্য নেতাদের সহায়তায় সিন্ধিয়ার গোয়ালিয়র দুর্গটি দখল করে পুনরায় ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলেন।
(iii) মৃত্যু ও সম্মান: ১৮৫৮ সালের ১৭ই জুন ফুলবাগের নিকটবর্তী এক লড়াইয়ে পুরুষ সৈন্যের পোশাক পরিহিত অবস্থায় বীরত্বের সঙ্গে লড়াই করে ঝাঁসির রাণী মৃত্যুবরণ করেন। তাঁর অসীম বীরত্বে মুগ্ধ হয়ে প্রতিপক্ষ দলের ব্রিটিশ সেনাপতি স্যার হিউ রোজ তাঁকে “বিদ্রোহীদের সর্বশ্রেষ্ঠ আর সর্বাধিক সাহসী সমর নেত্রী” বলে গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেছিলেন।
(ঙ) কোঁওর সিং।
উত্তরঃ কোঁওর সিং:
(i) পরিচয়: বিহারে ১৮৫৭ সালের বিদ্রোহের অবিসংবাদিত নেতা ছিলেন জগদীশপুরের প্রাক্তন প্রবীণ জমিদার কোঁওর সিং।
(ii) বিদ্রোহে ভূমিকা: বিহারের দানাপুরের সিপাহিরা বিদ্রোহ ঘোষণা করে তাঁর নেতৃত্বে সমবেত হয়। যদিও তাঁর কোনো বিশেষ সামরিক অভিজ্ঞতা ছিল না, তবুও তিনি নিজের অসাধারণ যুদ্ধকৌশল ও রণপ্রতিভার পরিচয় দিয়ে ব্রিটিশ বাহিনীকে ব্যতিব্যস্ত করে তোলেন।
(iii) সামরিক সাফল্য ও প্রয়াণ: তিনি ক্যাপ্টেন জনবারের অধীনে প্রেরিত একটি শক্তিশালী ব্রিটিশ বাহিনীকে যুদ্ধে পরাজিত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। পরবর্তীতে ব্রিটিশ জেনারেল ভিনসেন্ট আয়ারের কাছে পরাজিত হয়ে তিনি বিহার ত্যাগ করতে বাধ্য হন।
(চ) অসমে ১৮৫৭সনের বিদ্রোহের প্রস্তুতি।
উত্তরঃ অসমে ১৮৫৭সনের বিদ্রোহের প্রস্তুতি:
(i) নেতৃত্ব ও পরিকল্পনা: ভারতের উত্তর-পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত অসমেও ১৮৫৭ সালের মহাবিদ্রোহের আগুন পৌঁছেছিল। এই বিদ্রোহের মূল হোতা ও পরিকল্পনাকারী ছিলেন অসমের জাতীয় নেতা ও বুদ্ধিমান ব্যক্তিত্ব মণিরাম দেওয়ান। সেই সময় তিনি কলকাতায় অবস্থান করলেও চিঠিপত্রের মাধ্যমে অসমের আহোম রাজকুমার কন্দর্পেশ্বর সিংহ এবং অন্যান্য বিশ্বস্ত সহযোগীদের ব্রিটিশ বিতাড়নের পরিকল্পনা পাঠান।
(ii) প্রস্তুতি ও ষড়যন্ত্র: মণিরাম দেওয়ানের পরামর্শে অসমে পিয়লী বরুয়া, মধূরাম কোচ, দুতিরাম বরুয়া প্রমুখ সহযোগীরা গোপনে বিদ্রোহের প্রস্তুতি নেন। তাঁরা ১৮৫৭ সনের দুর্গাপূজার মহাষ্টমীর দিন (অক্টোবর মাসে) বিদ্রোহ শুরু করার দিন ঠিক করেছিলেন।
(৩) রচনাধর্মী প্রশ্ন।
(ক) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহকে স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা যায় কিনা, সে বিষয়ে তোমার নিজের মতামত ব্যক্ত করো।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহকে স্বাধীনতা যুদ্ধ বলা যায় কিনা, সে বিষয়ে আমার নিজস্ব মূল্যায়ন তুলে ধরা হলো:
স্বাধীনতা যুদ্ধ’ না বলার পক্ষে যুক্তি (সীমাবদ্ধতাসমূহ):
(i) আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা: এই বিদ্রোহ সমগ্র ভারতে ছড়িয়ে পড়েনি। এর প্রধান প্রভাব ছিল বিহারের পশ্চিম অংশ থেকে পাঞ্জাবের পূর্ব সীমান্ত পর্যন্ত। দক্ষিণ ভারত, মাদ্রাজ, বোম্বে এবং রাজস্থানের বিশাল অংশ সম্পূর্ণ শান্ত ছিল।
(ii) সর্বভারতীয় একতার অভাব: ভারতের বহু দেশীয় রাজ্য ও সম্প্রদায় এই বিদ্রোহে অংশ নেয়নি, বরং সক্রিয়ভাবে ব্রিটিশদের সাহায্য করেছিল। উদাহরণস্বরূপ— কাশ্মীরের রাজা গুলাব সিং, গোয়ালিয়রের মন্ত্রী দিনকর রাও এবং হায়দরাবাদের মন্ত্রী সলরজং ব্রিটিশদের পাশে দাঁড়িয়েছিলেন।
(iii) আধুনিক দূরদর্শিতার অভাব: বিদ্রোহীদের সামনে ভারতের কোনো আধুনিক গণতান্ত্রিক রূপরেখা বা ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা ছিল না। তাঁরা পুনরায় মধ্যযুগীয় সামন্ততান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা এবং পুরোনো রাজন্যবর্গকে সিংহাসনে ফিরিয়ে আনার লক্ষ্যেই লড়াইয়ে নেমেছিলেন।
‘স্বাধীনতা যুদ্ধ’ বলার পক্ষে যুক্তি (জাতীয় গণ-উত্থান):
(i) সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ: এটি কেবল সিপাহিদের সামরিক বিদ্রোহ ছিল না। ড. সুরেন্দ্রনাথ সেন তাঁর ‘Eighteen Fifty Seven’ গ্রন্থে দেখিয়েছেন যে, অযোধ্যা ও বিহারের মতো অঞ্চলে এই বিদ্রোহ এক ব্যাপক ‘জাতীয় যুদ্ধ’- এর রূপ ধারণ করেছিল, যেখানে লক্ষ লক্ষ সাধারণ কৃষক, কারিগর, তালুকদার ও সাধারণ জনতা ইংরেজদের অন্যায় রাজস্ব ও শোষণের হাত থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য সিপাহিদের সাথে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়াই করেছিল।
(ii) অপূর্ব হিন্দু-মুসলিম ঐক্য: এই প্রথম ভারতের বুকে হিন্দু ও মুসলমান সম্প্রদায় নিজেদের ধর্মীয় ভেদাভেদ ভুলে যৌথভাবে সাধারণ শত্রু ব্রিটিশ শাসনের উচ্ছেদের জন্য একত্রিত হয়েছিল। সিপাহিরা মুঘল সম্রাটকে নিজেদের প্রতীকী নেতা হিসেবে মেনে নিয়ে লড়াই করেছিল।
(খ) ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহের কারণগুলি সংক্ষেপে বর্ণনা কর।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের ভারত বিদ্রোহের কারণগুলি পাঁচটি ভাগে আলোচনা করা হলো:
(i) রাজনৈতিক কারণ:
ডালহৌসীর রাজ্য গ্রাস নীতি: গভর্নর জেনারেল লর্ড ডালহৌসী (১৮৪৮-১৮৫৬) সাম্রাজ্য বিস্তারের লক্ষ্যে জবরদস্তিমূলক ‘স্বত্ববিলোপ নীতি’ প্রয়োগ করেন। এই নীতি অনুসারে অপুত্রক দেশীয় রাজাদের দত্তক পুত্র গ্রহণের অধিকার কেড়ে নিয়ে একে একে সাতারা, নাগপুর, সম্বলপুর, ঝাঁসি প্রভৃতি রাজ্য ব্রিটিশ সাম্রাজ্যভুক্ত করা হয়।
পদবী ও পেনশন বিলুপ্তি: ডালহৌসী কর্ণাটকের নবাবের রাজকীয় পদবী কেড়ে নেন এবং পেশোয়া দ্বিতীয় বাজিরাওয়ের দত্তক পুত্র নানা সাহেবের পেনশন বন্ধ করে দেন।
(ii) সামাজিক ও ধর্মীয় কারণ:
প্রথা ও সংস্কারে আঘাত: পাশ্চাত্য শিক্ষার বিস্তার, রেলপথ ও টেলিগ্রাফ স্থাপন এবং কুপ্রথা দূরীকরণের নামে সতীদাহ নিবারণ, নারীশিক্ষা এবং ১৮৫৬ সালের ‘হিন্দু বিধবা পুনর্বিবাহ আইন’-এর মতো আইন পাস করাকে রক্ষণশীল ভারতীয়রা হিন্দু ধর্ম ও সংস্কৃতির ওপর প্রত্যক্ষ আঘাত হিসেবে ধরে নেয়।
ধর্মান্তরকরণ আইন: ১৮৫০ সালে নতুন আইন প্রণয়ন করে খ্রিস্টান ধর্মে ধর্মান্তরিত ব্যক্তিদের পৈতৃক সম্পত্তি পাওয়ার অধিকার দিলে মানুষের মনে সন্দেহ আরও ঘনীভূত হয়।
(iii) অর্থনৈতিক কারণ:
কৃষক ও কারিগরদের দুর্দশা: চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত এবং চড়া হারে খাজনা আদায়ের ফলে চাষিরা নিজেদের ভূমি হারিয়ে চরম সংকটে পড়ে। অবাধ বিদেশী কাপড়ের আমদানিতে ঐতিহ্যবাহী দেশীয় কুটির শিল্প ধ্বংস হয়ে যায় এবং লক্ষ লক্ষ তাঁতি ও কারিগর কর্মহীন হয়ে পড়ে।
নিষ্কর জমি বাজেয়াপ্তকরণ: লর্ড ডালহৌসী দাক্ষিণাত্যের প্রায় ২০,০০০ পরিবারের দীর্ঘদিনের করহীন বা নিষ্কর জমি কেড়ে নেন।
(iv) সামরিক কারণ:
চরম বৈষম্য ও বেতন বৈষম্য: ব্রিটিশ সেনাবাহিনীতে ভারতীয় সিপাহিদের বেতন ছিল অত্যন্ত নগণ্য (পদাতিক সিপাহির বেতন ছিল মাত্র ৭ টাকা এবং অশ্বারোহী সিপাহির ২৭ টাকা যার মধ্যে ঘোড়া নিজের কিনতে হতো)।
পদোন্নতির অভাব ও অপমানজনক ব্যবহার: ভারতীয় সিপাহিরা যতই যোগ্য ও বিশ্বস্ত হোক না কেন, তাদের বড় কোনো পদে উন্নীত হওয়ার সুযোগ ছিল না (সিপাহি সীতারাম ৪৮ বছর কাজ করার পরও সর্বোচ্চ সুবেদার পদ পেয়েছিলেন)।
(v) তৎকালীন বা তাৎক্ষণিক কারণ: ১৮৫৬ সনের শেষের দিকে ব্রিটিশ সেনা বিভাগে প্রবর্তিত ‘এনফিল্ড রাইফেল’ এবং তার কার্টিজ বা টোটা ব্যবহারের নিয়ম এই বিদ্রোহে ঘৃতাহুতি দেয়।
(গ) সাতান্ন সনের বিদ্রোহে বেগম হজরত মহল এবং রাণী লক্ষীবাঈ কি ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, সে বিষয়ে আলোচনা কর।
উত্তরঃ সাতান্ন সনের বিদ্রোহে বেগম হজরত মহল এবং রাণী লক্ষীবাঈ কি ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, সে বিষয়ে:
(i) ঝাঁসির রাণী লক্ষ্মীবাঈ-এর ভূমিকা:
বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট: ঝাঁসির রাজা গঙ্গাধর রাও অপুত্রক অবস্থায় মারা গেলে লর্ড ডালহৌসী তাঁর দত্তক পুত্রের সিংহাসনের অধিকার অস্বীকার করেন এবং স্বত্ববিলোপ নীতি প্রয়োগ করে ঝাঁসি রাজ্যটি ইংরেজদের দখলে নেন। এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে রাণী লক্ষ্মীবাঈ গর্জে ওঠেন।
অসীম সাহসিকতায় যুদ্ধ: ১৮৫৮ সনের মার্চ মাসে ব্রিটিশ সেনাপতি স্যার হিউ রোজ ঝাঁসি দুর্গ অবরোধ করলে রাণী লক্ষ্মীবাঈ পিছু না হটে একা অনন্য বিক্রম ও বীরত্বের সাথে যুদ্ধ পরিচালনা করেন। দুর্গ রক্ষা করা অসম্ভব জেনে তিনি কতিপয় বিশ্বস্ত সহচর নিয়ে দুর্গ ত্যাগ করে কাল্পিতে চলে যান।
(ii) বেগম হযরত মহলের ভূমিকা:
বিদ্রোহের প্রেক্ষাপট: ১৮৫৬ সালে লর্ড ডালহৌসী অযোধ্যা রাজ্য দখল করার পর নবাব ওয়াজিদ আলি শাহকে কলকাতায় নির্বাসিত করেন। এই পরিস্থিতিতে অযোধ্যাকে মুক্ত করতে নবাবের সুযোগ্য প্রথমা পত্নী বেগম হযরত মহল বিদ্রোহের চরম নেতৃত্বভার নিজের কাঁধে তুলে নেন।
নবাব ঘোষণা ও শাসনভার: বেগম হযরত মহল তাঁর নাবালক পুত্র বিরজিশ কাদির -কে অযোধ্যার নবাব হিসেবে সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করেন এবং তাঁর অভিভাবিকা হিসেবে নিজেই দক্ষতার সাথে রাজকার্য ও শাসন পরিচালনা করতে থাকেন।
(ঘ) অসমে, ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহে মণিরাম দেওয়ান কি ভূমিকা গ্রহণ করেছিলেন, তার সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তরঃ অসমে, ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহে মণিরাম দেওয়ান ভূমিকা গ্রহণ:
(i) প্রারম্ভিক জীবন ও ব্রিটিশ বিরোধিতার পটভূমি: মণিরাম প্রথম জীবনে ব্রিটিশদের খুবই বিশ্বস্ত অনুগামী ও পরামর্শদাতা ছিলেন। তিনি ব্রিটিশদের অধীনে তহশিলদার, সেরেস্তাদার এবং পরে আহোম রাজা পুরন্দর সিংহের ‘বড়ভাণ্ডার বড়ুয়া’ পদে নিয়োজিত ছিলেন। তিনি অসম চা কোম্পানির দেওয়ানের চাকরি ছেড়ে দিয়ে চিমামরা ও চেংলুঙে নিজের স্বাধীন চা বাগান তৈরি করেন।
(ii) কলকাতায় অবস্থান ও বিদ্রোহের ষড়যন্ত্র: ১৮৫৭ সালে মণিরাম দেওয়ান যখন স্বশরীরে রাজকুমার কন্দর্পেশ্বর সিংহের দাবি নিয়ে কলকাতায় গভর্নর জেনারেলের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলেন, তখনই মিরাটে সিপাহি বিদ্রোহের আগুন জ্বলে ওঠে।
(iii) গোপনে অসমের নেতাদের নির্দেশ ও প্রস্তুতি: মণিরাম কলকাতা থেকে অতি গোপনে চিঠিপত্রের মাধ্যমে অসমের রাজকুমার কন্দর্পেশ্বর সিংহ, তাঁর বিশ্বস্ত সহযোগী পিয়লী বরুয়া,মধূরাম কোচ, দুতিরাম বড়ুয়া প্রমুখের কাছে বিদ্রোহ শুরু করার নির্দেশ পাঠান।
তাঁর নির্দেশ অনুযায়ী সহযোগীরা ডিব্রুগড় ও গোলাঘাটে অবস্থিত অসম লাইট ইনফ্যান্ট্রির সিপাহিদের সাথে গোপন বৈঠক করেন।
(ঙ) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহের বিফলতার কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তরঃ বিদ্রোহের বিফলতার প্রধান কারণগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
(i) আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা ও বিস্তৃতির অভাব: এই বিদ্রোহ সারা ভারতে সমানভাবে ছড়িয়ে পড়েনি। মূলত বিহারের পশ্চিম খণ্ড থেকে শুরু করে পাঞ্জাবের পূর্ব খণ্ড এবং মধ্য ভারতের কিছু অঞ্চলে এই বিদ্রোহ তীব্র ছিল। কিন্তু মাদ্রাজ বোম্বে, মহীশূর এবং রাজস্থানের বিশাল অংশ সম্পূর্ণরূপে শান্ত ছিল।
(ii) একতা ও দেশীয় রাজাদের অসহযোগিতা: বহু ভারতীয় রাজা, ধনী জমিদার ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব নিজেদের স্বার্থে এই বিদ্রোহে বিদ্রোহীদের কোনো সাহায্য তো করেইনি, উল্টে ইংরেজদের সৈন্য ও অর্থ দিয়ে সাহায্য করেছে। কাশ্মীরের রাজা গুলাব সিং, গোয়ালিয়রের সিন্ধিয়া রাজবংশের মন্ত্রী দিনকর রাও এবং হায়দরাবাদের মন্ত্রী সলরজং-এর নাম বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
(iii) যোগ্য নেতৃত্বের অভাব ও সমন্বয়হীনতা: বিদ্রোহী পক্ষে রানি লক্ষ্মীবাঈ, কোঁওর সিং, তাঁতিয়া টোপী বা নানা সাহেবের মতো বীরেরা নিজ নিজ যুদ্ধক্ষেত্রে অনন্য কৃতিত্ব দেখালেও, তাঁদের সকলের মধ্যে কোনো সুসংহত ও সম্মিলিত কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব বা পরিকল্পনা ছিল না।
(iv) উন্নত অস্ত্রশস্ত্র ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অভাব: ভারতীয় বিদ্রোহীদের রণকৌশল ও যুদ্ধাস্ত্র ছিল পুরোনো ধাঁচের ও অপ্রতুল। কিন্তু ব্রিটিশদের কাছে ছিল অত্যাধুনিক উন্নত মানের পিস্তল, কামান ও বন্দুক।
(চ) ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন বলে কি মনে কর? তোমার নিজের যুক্তিসহকারে আলোচনা কর।
উত্তরঃ ১৮৫৭ সনের বিদ্রোহকে ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন বলে কি মনে কর পক্ষে ও বিপক্ষে বিস্তারিত যুক্তিসহকারে বিষয়টি আলোচনা করা হলো:
বিপক্ষে যুক্তি (কেন অনেকে একে প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন মানতে চান না):
(i) সামন্ততান্ত্রিক চরিত্র: বিদ্রোহীরা দেশের জন্য কোনো আধুনিক ধর্মনিরপেক্ষ বা গণতান্ত্রিক ভারতের রূপরেখা তৈরি করতে পারেননি। তাঁরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ ক্ষোভ
(যেমন ঝাঁসির রানী দত্তক পুত্রের অধিকার আদায়, নানা সাহেব নিজের পেনশন পুনরুদ্ধার করা) এবং পুরোনো সামন্ততান্ত্রিক শাসনকে ফিরে পাওয়ার লড়াইয়ে লিপ্ত ছিলেন।
(ii) আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা ও অনৈক্য: ভারতের এক বৃহৎ অংশ (দক্ষিণ ভারত, রাজস্থান ও পূর্ব ভারত) এই বিদ্রোহের বাইরে ছিল এবং বহু দেশীয় শাসক ও সাধারণ মানুষের একটি বড় অংশ ইংরেজদের সমর্থন জুগিয়েছিল।
স্বপক্ষে যুক্তি (কেন এটিই ভারতের প্রথম স্বাধীনতা আন্দোলন):
(i) প্রথম সর্বাত্মক ও ব্যাপক গণ-অভ্যুত্থান: ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ১০০ বছরের অপশাসনের বিরুদ্ধে এর পূর্বে বহু কৃষক বা উপজাতি আন্দোলন হয়েছিল, কিন্তু ১৮৫৭ সালের আন্দোলন ছিল প্রথম এমন এক অভূতপূর্ব ও প্রলয়ঙ্কারী বিদ্রোহ, যার গভীরতা সমগ্র ভারতে ঔপনিবেশিক শাসনের ভিত কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
(ii) অখণ্ড হিন্দু-মুসলিম ঐক্য: এটিই ছিল ভারতের ইতিহাসে প্রথম আন্দোলন যেখানে জাতি, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে হিন্দু এবং মুসলমান সিপাহীরা ও সাধারণ জনগণ কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে বিশ্বের অন্যতম পরাক্রমশালী ব্রিটিশ শক্তির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল।
(iii) পরবর্তী স্বাধীনতা সংগ্রামের মূল ভিত্তি ও প্রেরণা: এই বিদ্রোহ সফল না হলেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ছিল অত্যন্ত গভীর।

