Class 9 History Chapter 6 উত্তর-পূর্ব ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান ১৫৮

Class 9 History Chapter 6 উত্তর-পূর্ব ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান ১৫৮ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Chapter 6 উত্তর-পূর্ব ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান ১৫৮ Solutions and select need one. Class 9 History Textbook Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Textual Question Answer.

Class 9 History Chapter 6 উত্তর-পূর্ব ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান ১৫৮

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 9 History Chapter 6 উত্তর-পূর্ব ভারতের সামাজিক ও রাজনৈতিক উত্থান ১৫৮ Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Textual Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 6

প্রশ্নাবলী

(১) সংক্ষেপে উত্তর দাও।

(ক) টিকেন্দ্রজিতের কবে জন্ম হয়েছিল?

উত্তরঃ মণিপুরের মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহের পুত্র বীর টিকেন্দ্রজিতের জন্ম হয়েছিল ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে।

(খ) বাবা টিকেন্দ্রজিৎকে ভালোবেসে কী নামে ডাকতেন?

উত্তরঃ বাঘ শিকারের প্রতি টিকেন্দ্রজিতের তীব্র আকর্ষণ দেখে তাঁর পিতা মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহ তাঁকে ভালোবেসে ‘কইরেং’ নামে ডাকতেন।

(গ) মাতৃভাষা মণিপুরি ছাড়া টিকেন্দ্রজিৎ আর কী কী ভাষা জানতেন?

উত্তরঃ মাতৃভাষা মণিপুরি ছাড়াও টিকেন্দ্রজিৎ বাংলা, হিন্দি এবং ইংরেজি ভাষা জানতেন।

(ঘ) চন্দ্রকীর্তি সিংহের মৃত্যু কবে হয়েছিল?

উত্তরঃ মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহের মৃত্যু হয়েছিল ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে।

(ঙ) চন্দ্রকীর্তির পরে কে মণিপুরের রাজা হয়েছিল?

উত্তরঃ মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র যুবরাজ সুরচন্দ্র সিংহ মণিপুরের সিংহাসনে আরোহণ করেন।

(চ) সুরচন্দ্র রাজা হওয়ার সময় টিকেন্দ্রজিতকে কী পদবীতে আসীন করা হয়েছিল?

উত্তরঃ সুরচন্দ্র রাজা হওয়ার সময় টিকেন্দ্রজিৎকে ‘সেনাপতি’ পদে আসীন করা হয়েছিল।

(ছ) সুরচন্দ্র রাজা হওয়ার সময় কাকে মণিপুরের যুবরাজ করা হয়েছিল?

উত্তরঃ সুরচন্দ্র রাজা হওয়ার সময় তাঁর মেজ ভাই কুলচন্দ্র সিংহকে মণিপুরের যুবরাজ করা হয়েছিল।

(জ) টিকেন্দ্রজিৎ সেনাপতি হয়ে কার বিদ্রোহ দমন করে খ্যাত হয়েছিলেন?

উত্তরঃ সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ মণিপুরের সীমান্তে মাথা চাড়া দিয়ে ওঠা বীর ও দুর্ধর্ষ কুকি উপজাতিদের বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করে ব্যাপক খ্যাতি ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেছিলেন।

(ঝ) মণিপুরে নিযুক্ত ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট কে ছিলেন?

উত্তরঃ মণিপুরে নিযুক্ত ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট ছিলেন মিঃ গ্রিমউড।

(ঞ) সুরচন্দ্র গৃহকোন্দল সামলাতে কার শরণাপন্ন হয়েছিলেন?

উত্তরঃ রাজপরিবারের অভ্যন্তরীণ তীব্র গৃহকোন্দল সামলাতে না পেরে দুর্বলচিত্ত মহারাজা সুরচন্দ্র ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট মিঃ গ্রিমউডের শরণাপন্ন হয়েছিলেন।

(ট) সুরচন্দ্র তীর্থভ্রমণের উদ্দেশ্যে কোথায় গিয়েছিলেন?

উত্তরঃ সুরচন্দ্র ভাই কুলচন্দ্রকে মণিপুরের শাসনভার বুঝিয়ে দিয়ে তীর্থভ্রমণের উদ্দেশ্যে বৃন্দাবনে গিয়েছিলেন।

(ঠ) জে. ডব্লিউ কুইণ্টনের ফৌজে কতজন সৈন্য ছিল?

উত্তরঃ অসমের তৎকালীন চিফ কমিশনার বা মুখ্য কমিশনার জে. ডব্লিউ কুইন্টনের ফৌজে ছয়শো জন সৈন্য ছিল।

(ড) দরবারে কাকে না-দেখে কুইণ্টন রেগে উঠেছিলেন? এবং কেন?

উত্তরঃ দরবারে সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎকে না দেখে কুইন্টন তেলেবেগুনে জ্বলে উঠেছিলেন।

কেন রেগেছিলেন: কুইন্টন অত্যন্ত গোপনে পরিকল্পনা করেছিলেন যে, দরবারে আসামাত্রই টিকেন্দ্রজিৎকে কৌশলে বন্দী করা হবে এবং কুলচন্দ্রকে রাজা ঘোষণা করা হবে। কিন্তু টিকেন্দ্রজিৎ অসুস্থতার অজুহাতে দরবারে অনুপস্থিত থাকায় কুইন্টনের সেই গোপন ষড়যন্ত্র বা পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়ে যায় এবং তিনি প্রচণ্ড রেগে যান।

(ঢ) বিদ্রোহীরা কার নির্দেশে কুইণ্টনের শিরশ্ছেদ করেছিল?

উত্তরঃ টিকেন্দ্রজিতের পরম বিশ্বস্ত ও তাঁর ‘ডানহাত’ হিসেবে পরিচিত জেনারেল ঠেঙালের নির্দেশে বিদ্রোহীরা মুখ্য কমিশনার কুইন্টনসহ বন্দী ইংরেজদের সর্বসমক্ষে শিরশ্ছেদ করেছিল।

(ণ) ব্রিটিশ আধিকারিকদের কাটা মুন্ডুগুলো বিদ্রোহীরা কোথায় রেখেছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশ আধিকারিকদের কাটা মুণ্ডুগুলো উত্তেজিত বিদ্রোহীরা রাজপ্রাসাদের প্রধান প্রবেশদ্বারের কাছে মাটিতে পুঁতে রেখেছিল।

(ত) ব্রিটিশ নিবাসের বাসিন্দারা কীভাবে জীবন রক্ষা করেছিল?

উত্তরঃ উত্তেজিত মণিপুরি জনতার দ্বারা ব্রিটিশ নিবাস আক্রান্ত হলে, সেখানকার বাসিন্দারা প্রাণভয়ে রাতের আঁধারে চুপিচুপি পালিয়ে গিয়ে নিজেদের জীবন রক্ষা করেছিল।

(থ) বিদ্রোহীরা ব্রিটিশ নিবাসটার কী করেছিল?

উত্তরঃ বাসিন্দারা পালিয়ে যাওয়ার পর বিদ্রোহীরা ফাঁকা পড়ে থাকা খালি ব্রিটিশ নিবাসটি আগুনে পুড়িয়ে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দিয়েছিল।

(দ) ব্রিটিশ ভারত সরকার মণিপুরি বিদ্রোহ দমন করতে কার নেতৃত্বে সামরিক অভিযান পাঠিয়েছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশ ভারত সরকার মণিপুরি বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করতে জেনারেল কোলেটরের নেতৃত্বে এক বিশাল সামরিক অভিযান পাঠিয়েছিল।

(ধ) ব্রিটিশ সামরিক অভিযানের বিরুদ্ধে কারা প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশদের বিশাল আধুনিক সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একমাত্র খঞ্জমের পাবনা ব্রজবাসী (বা পাওনা ব্রজবাসী) এবং তাঁর বীর সেনাদল অসীম সাহসিকতার সাথে দেশ রক্ষায় প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

(ন) ব্রিটিশ বাহিনী কবে মণিপুর দখল করেছিল?

উত্তরঃ ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দের ২৭শে এপ্রিল ব্রিটিশ বাহিনী কোনো বড় প্রতিরোধ ছাড়াই মণিপুরের রাজধানী ইম্ফল দখল করে নেয়।

(প) ব্রিটিশ সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে মণিপুরি রাজপরিবারের কে যুদ্ধ-প্রস্তুতির সপক্ষে যুক্তি দেখিয়েছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশ আক্রমণের মুখোমুখি দাঁড়িয়ে সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ ও মহারাজা কুলচন্দ্র সরাসরি যুদ্ধ এড়িয়ে যাওয়ার পক্ষে থাকলেও, রাজপরিবারের সাহসী বৃদ্ধ বীর জেনারেল ঠেঙাল এবং কয়েকজন অত্যুৎসাহী যুবরাজ আত্মরক্ষার স্বার্থে যুদ্ধ-প্রস্তুতি ও প্রতিরোধের সপক্ষে জোরালো যুক্তি দেখিয়েছিলেন।

(ফ) ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ কুলচন্দ্র ও টিকেন্দ্রজিতের মাথার দাম কতো নির্ধারিত করেছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষ মহারাজ কুলচন্দ্রের মাথার মূল্য ৫,০০০ টাকা এবং সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতের মাথার মূল্যও ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা নির্ধারণ করেছিল।

(ব) ঠেঙাল কে ছিল?

উত্তরঃ ঠেঙাল ছিলেন মণিপুরের একজন প্রবীণ দেশপ্রেমিক বীর, সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতের পরম বিশ্বস্ত সহযোগী বা ‘ডানহাত’ এবং মণিপুরি সেনাবাহিনীর অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি ও জেনারেল।

(ভ) বিশেষ আদালতের মুখ্য উদ্দেশ্য কী ছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশদের দ্বারা গঠিত বিশেষ আদালতের মুখ্য উদ্দেশ্য কোনো ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা করা ছিল না বরং ব্রিটিশদের ওপর হওয়া আক্রমণের প্রতিশোধ নেওয়া এবং উত্তর-পূর্ব ভারতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদের একচ্ছত্র আধিপত্য ও শৌর্য পুনঃপ্রতিষ্ঠা করাই ছিল এর মূল লক্ষ্য।

(ম) বিশেষ আদালতে অভিযুক্তদের আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ দিয়েছিল কি?

উত্তরঃ না, এই প্রহসনমূলক বিশেষ আদালতে অভিযুক্তদের নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করার বা আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো সুযোগ দেওয়া হয়নি।

(য) টিকেন্দ্রজিতের পক্ষে আদালতে কে ওকালতি করেছিলেন?

উত্তরঃ টিকেন্দ্রজিতের পক্ষে কলকাতার বিখ্যাত বাঙালি ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ বিশেষ আদালতে অত্যন্ত জোরালো আইনি ওকালতি ও সওয়াল করেছিলেন।

(র) আদালত টিকেন্দ্রজিৎ ও ঠেঙালকে কী শাস্তি দিয়েছিল?

উত্তরঃ বিশেষ আদালত সমস্ত আইনি যুক্তি খারিজ করে টিকেন্দ্রজিৎ ও জেনারেল ঠেঙাল উভয়কেই দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির আদেশ দিয়েছিল।

(ল) টিকেন্দ্রজিৎকে কোথায় ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৮৯১ সালের ১৩ই আগস্ট ইম্ফলের বিখ্যাত পোলোফিল্ডের ময়দানে দিনের আলোয়, ক্রন্দনরত হাজার হাজার মণিপুরি নর-নারীর সামনে বীর টিকেন্দ্রজিৎকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছিল।

২। শুদ্ধ উত্তরটি বেছে নাও।

১। মণিপুরি গণ অভ্যুত্থানের মহানায়ক ছিলেন।

(ক) মহারাজ চন্দ্রকীর্তি।

(খ) মহারাজা কুলচন্দ্র সিংহ।

(গ) জেনারেল ঠেঙাল।

(ঘ) সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ।

উত্তরঃ (ঘ) সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ।

২। ‘কইরেং’ কাকে বোঝায়?

(ক) হাতি শিকারি।

(খ) হরিণ শিকারি।

(গ) বাঘ শিকারি।

(ঘ) গন্ডার শিকারি।

উত্তরঃ (গ) বাঘ শিকারি।

৩। টিকেন্দ্রজিতের জন্ম হয়েছিল।

(ক) ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে।

(খ) ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে।

(গ) ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে।

(ঘ) ১৯৫৯ খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরঃ (খ) ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে।

৪। কে কুকিদের বিদ্রোহ দমন করেছিলেন।

(ক) সুরচন্দ্র সিংহ।

(খ) আংগু সেনা।

(গ) সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ।

(ঘ) জেনারেল ঠেঙাল।

উত্তরঃ (গ) সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ।

৫। মণিপুরে নিযুক্ত ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট কে ছিলেন।

(ক) গ্রিমউড।

(খ) কুইণ্টন।

(গ) ক্যাপ্টেন ব্রেকেনবারি।

(ঘ) ক্যাপ্টেন লুগার্ড।

উত্তরঃ (ক) গ্রিমউড।

৬। মণিপুরি বিদ্রোহ দমনে নেতৃত্ব দিয়েছিল।

(ক) জেনারেল কোলেট।

(খ) কুইন্টন।

(গ) সিমসন।

(ঘ) কাসিনব।

উত্তরঃ (ক) জেনারেল কোলেট।

৭। মিঃ কুইণ্টন মণিপুর যাত্রা করেছিলেন।

(ক) ৭ মার্চ ১৯৮১ খ্রিস্টাব্দে।

(খ) ৭ মার্চ ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে।

(গ) ৭ মার্চ ১৮৯২ খ্রিস্টাব্দে।

(ঘ) ৭ মার্চ ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে।

উত্তরঃ (খ) ৭ মার্চ ১৮৯১ খ্রিস্টাব্দে।

৮। ‘অতি শীঘ্র মণিপুরে একটি প্রকাণ্ড বাঘকে ফাঁদে ফেলা হবে’- এই খবরটিতে ‘বাঘ’ কাকে বলা হয়েছে?

(ক) আংগু সেনা।

(খ) মহারাজা কুলচন্দ্র।

(গ) টিকেন্দ্রজিৎ।

(ঘ) জেনারেল ঠেঙাল।

উত্তরঃ (গ) টিকেন্দ্রজিৎ।

(৯) ব্রিটিশরা টিকেন্দ্রজিতের মাথার দাম নির্ধারিত করেছিলেন-

(ক) ৫০০ টাকা।

(খ) ৫,০০০ টাকা।

(গ) ৫০,০০০ টাকা।

(ঘ) ৫,০০,০০০ টাকা।

উত্তরঃ (খ) ৫,০০০ টাকা।

১০। বিশেষ আদালত মণিপুরি গণবিদ্রোহের প্রধান অপরাধী হিসাবে কাকে দোষী সাব্যস্ত করেছিল?

(ক) আংগু সেনা।

(খ) জেনারেল ঠেঙাল।

(গ) টিকেন্দ্রজিৎ।

(ঘ) কুলচন্দ্র।

উত্তরঃ (গ) টিকেন্দ্রজিৎ।

৩। নীচের প্রশ্নসমূহের উত্তর লেখো।

১। টিকেন্দ্রজিতের যৌবনকালের বিষয়ে সংক্ষেপে লেখ।

উত্তরঃ যৌবনকালে টিকেন্দ্রজিৎ একজন অত্যন্ত দুর্ধর্ষ ও সাহসী বাঘ শিকারি হিসেবে পরিচিত ছিলেন। কথিত আছে, তিনি একাকী একটি তরবারি হাতে নিয়ে বাঘ বশ করতে পারতেন। বাঘ শিকারের প্রতি তাঁর এই তীব্র আকর্ষণ দেখে তাঁর পিতা মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহ তাঁকে আদর করে ‘কইরেং’ (যার অর্থ বাঘ শিকারি) বলে ডাকতেন। শারীরিকভাবে শক্তিশালী ও প্রখর বুদ্ধিমত্তার অধিকারী টিকেন্দ্রজিৎ নিজের মাতৃভাষা মণিপুরি ছাড়াও বাংলা, হিন্দি ও ইংরেজি ভাষা জানতেন এবং বাংলা ও হিন্দি অনর্গল বলতে পারতেন।

২। মণিপুর রাজপরিবারের গৃহকোন্দলের কারণ কী?

উত্তরঃ ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহের মৃত্যুর পর তাঁর জ্যেষ্ঠ পুত্র সুরচন্দ্র সিংহ মণিপুরের সিংহাসনে বসেন এবং কুলচন্দ্রকে যুবরাজ ও টিকেন্দ্রজিৎকে সেনাপতি করা হয়। কিন্তু রাজপরিবারের ভাইদের মধ্যে শীঘ্রই মণিপুরের সিংহাসনের উত্তরাধিকার নিয়ে তীব্র বিবাদ শুরু হয়ে যায়। সীমান্তের দুর্ধর্ষ কুকি উপজাতিদের বিদ্রোহ দমন করে সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করায় এই ক্ষমতার দ্বন্দ্ব আরও তীব্র আকার ধারণ করে এবং রাজপরিবারটি দুটি পরস্পরবিরোধী শক্ত শিবিরের কোন্দলে জড়িয়ে পড়ে।

৩। গ্রিমউড ও টিকেন্দ্রজিতের মধ্যে সম্পর্ক কেমন ছিল?

উত্তরঃ মণিপুরে নিযুক্ত ব্রিটিশ পলিটিক্যাল মিঃ গ্রিমউড এবং টিকেন্দ্রজিতের মধ্যে অত্যন্ত মধুর ও ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিগত সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। টিকেন্দ্রজিৎ গ্রিমউডকে পোলো ফিল্ডে পোলো খেলায় সঙ্গ দিতেন এবং গ্রিমউডও মনে মনে টিকেন্দ্রজিতের বীরত্ব, দৈহিক শক্তি ও বিপুল জনপ্রিয়তা লাভ করার ক্ষমতাকে অত্যন্ত সমীহ করতেন।

৪। সুরচন্দ্র কলকাতা উপস্থিত হয়ে ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের কাছে কী প্রার্থনা করেছিলেন?

উত্তরঃ পারিবারিক গৃহকোন্দলে বিপর্যস্ত হয়ে সিংহাসন ত্যাগ করার পর সুরচন্দ্র কলকাতায় উপস্থিত হয়ে ব্রিটিশ সরকারের কাছে পুনরায় মণিপুরের হারানো সিংহাসন ফিরে পাওয়ার বা পুনরুদ্ধার করার জন্য আকুল প্রার্থনা করেছিলেন।

৫। সুরচন্দ্রের অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে ব্রিটিশ ভারত সরকার কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশ ভারত সরকার সুরচন্দ্রকে পুনরায় সিংহাসনে বসাতে সম্পূর্ণ অনিচ্ছুক ছিল না; কিন্তু পলিটিক্যাল এজেন্ট গ্রিমউড ও আসামের মুখ্য কমিশনার কুইন্টনের বিরোধিতার কারণে তারা সুরচন্দ্রকে রাজা করার সিদ্ধান্ত বাতিল করে। এর পরিবর্তে তারা শর্তসাপেক্ষে কুলচন্দ্রকে মণিপুরের রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় এবং রাজপ্রাসাদের বিদ্রোহের মূল হোতা বা নায়ক সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎকে মণিপুর রাজ্য থেকে চিরতরে নির্বাসিত করার অত্যন্ত গোপন পরিকল্পনা গ্রহণ করে।

৬। ব্রিটিশ ভারত সরকারের প্রস্তাবে গ্রিমউড কেন রাজি হয়নি?

উত্তরঃ ব্রিটিশ ভারত সরকারের টিকেন্দ্রজিৎকে বন্দী ও বিতাড়ন করার প্রস্তাবে গ্রিমউড রাজি হননি, কারণ তিনি টিকেন্দ্রজিতের অসীম শক্তি ও রাজ্যের সাধারণ মানুষের কাছে তাঁর তুমুল জনপ্রিয়তাকে অত্যন্ত ভয় বা সমীহ করতেন। উপরন্তু, ব্যক্তিগত পর্যায়ে টিকেন্দ্রজিতের সাথে গ্রিমউডের একটি মধুর বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ছিল।

৭। রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি রাজদরবারে কেমন ব্যবহার ছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশদের ডাকা দরবারে রাজপরিবারের সদস্যদের প্রতি চরম অসম্মানজনক ও অপমানজনক ব্যবহার করা হয়েছিল। কুইন্টনের নির্দেশ মতো রাজা কুলচন্দ্রসহ রাজপরিবারের সকল সদস্য দরবারের সদর দরজায় উপস্থিত হলেও মুখ্য কমিশনার তাঁদের বসার অনুমতি তো দেনইনি,এমনকি ন্যূনতম সৌজন্যতা প্রকাশ না করে প্রায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টা তাঁদের রোদে দাঁড় করিয়ে রেখেছিলেন।

৮। ব্রিটিশের আহ্বান করা দরবার সম্পর্কে টিকেন্দ্রজিতের সন্দেহ থাকার কারণ কী?

উত্তরঃ কুইন্টনের ডাকা প্রথম দরবারে উপস্থিত হওয়ার প্রাক্কালে সদর দরজায় টিকেন্দ্রজিৎকে কেউ একজন অত্যন্ত গোপন খবর দেয় যে, ব্রিটিশরা দরবারে লুকিয়ে প্রচুর ভারী অস্ত্রশস্ত্র মজুত করে রেখেছে। একই সময়ে পুরো মণিপুরে একটি গোপন খবর বাতাসের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল যে— ‘অতি শীঘ্র মণিপুরে একটি প্রকাণ্ড বাঘকে ফাঁদে ফেলা হবে’। বাঘ শিকারি টিকেন্দ্রজিৎ তৎক্ষণাৎ বুঝতে পারেন যে এখানে ‘বাঘ’ বলতে তাঁকে বোঝানো হয়েছে এবং তাকে বন্দী করতে কুইন্টন এক ভয়ানক ষড়যন্ত্রের ফাঁদ পেতেছেন।

৯। টিকেন্দ্রজিৎকে গ্রেপ্তার করার ব্যাপারে কুলচন্দ্র কী জানিয়েছিল?

উত্তরঃ রাজা কুলচন্দ্র তাঁকে ব্রিটিশ কর্তৃক রাজা হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ায় ইংরেজদের ধন্যবাদ জানান, কিন্তু টিকেন্দ্রজিৎকে বন্দী করে ব্রিটিশদের হাতে তুলে দিতে সম্পূর্ণ অপারগতা প্রকাশ করেন। উপরন্তু, তিনি ব্রিটিশদের জানান যে টিকেন্দ্রজিৎ সেই মুহূর্তে প্রচণ্ড শারীরিক অসুস্থতা ও রোগে আক্রান্ত হয়ে পড়েছেন।

১০। ব্রিটিশ সৈন্য টিকেন্দ্রজিৎকে গ্রেপ্তার করতে কেন ব্যর্থ হয়েছিল?

উত্তরঃ ২৪শে মার্চ ভোরে ব্রিটিশ সেনাপতি ব্রেকনেবারি ও লুগার্ডের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সৈন্য টিকেন্দ্রজিতের বাসস্থান ঘিরে ফেলে ও অতর্কিতে আক্রমণ চালায়। কিন্তু টিকেন্দ্রজিৎ আসন্ন বিপদের পূর্বাভাস বা আঁচ পেয়ে আগেই অত্যন্ত চতুরতার সাথে বাসস্থান ছেড়ে পালিয়ে আত্মগোপন করেন, যার ফলে ব্রিটিশরা তাকে বন্দী করতে ব্যর্থ হয়।

১১। আলোচনাকালে টিকেন্দ্রজিৎ ব্রিটিশ আধিকারিকদের কোন কথার ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ পরিস্থিতি জটিল হয়ে পড়লে কুইন্টন ও গ্রিমউডসহ পাঁচজন ব্রিটিশ কর্মকর্তা যখন রাজপ্রাসাদে টিকেন্দ্রজিতের সাথে আলোচনার জন্য উপস্থিত হন, তখন দীর্ঘ আধ ঘণ্টার আলোচনায় টিকেন্দ্রজিৎ বারবার ব্রিটিশ সেনাদের অবিলম্বে সমস্ত অস্ত্র সমর্পণ করা বা অস্ত্র নামিয়ে রাখার দাবির ওপর সর্বাধিক জোর দিয়েছিলেন।

১২। বিশেষ আদালত টিকেন্দ্রজিৎকে কী অভিযোগে অভিযুক্ত করেছিল?

উত্তরঃ ব্রিটিশদের দ্বারা গঠিত প্রহসনমূলক বিশেষ আদালত টিকেন্দ্রজিৎকে মূল তিনটি গুরুতর অপরাধে দোষী সাব্যস্ত করে অভিযুক্ত করেছিল: 

(i) ব্রিটিশ মহারানির (ব্রিটিশ প্রশাসন) বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করা। 

(ii) ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের হত্যার জন্য উসকানি ও হুমকি দেওয়া। 

(iii) ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা।

১৩। ব্যারিষ্টার মনমোহন ঘোষ টিকেন্দ্রজিতের পক্ষে আদালতে কী যুক্তি দেখিয়েছিলেন?

উত্তরঃ কলকাতার বিখ্যাত বাঙালি ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ টিকেন্দ্রজিতের পক্ষে আদালতে জোরালো সওয়াল করতে গিয়ে মূল আইনি যুক্তি দেখিয়েছিলেন যে— টিকেন্দ্রজিৎ কিংবা কুলচন্দ্র কেউই ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ নাগরিক বা প্রজা ছিলেন না তাই স্বাধীন দেশের বাসিন্দা হওয়ার কারণে ব্রিটিশ সরকারের গঠিত কোনো বিশেষ আদালতের তাঁদের বিচার করার আইনগত কোনো এক্তিয়ার বা অধিকার নেই।

১৪। বিশেষ আদালত কোন কোন বিদ্রোহীকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল?

উত্তরঃ বিশেষ আদালত সমস্ত আইনি যুক্তি নাকচ করে দিয়ে বীর সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ সিংহ এবং তাঁর প্রধান বিশ্বস্ত সহযোগী ও মণিপুরি সেনাবাহিনীর অন্যতম জেনারেল ঠেঙালকে ফাঁসির মাধ্যমে চূড়ান্ত মৃত্যুদণ্ড দিয়েছিল।

৪। বিস্তারিতভাবে উত্তর লেখ।

১। সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতের শৈশব ও যৌবন কালের বিষয়ে বিস্তারিতভাবে লেখো।

উত্তরঃ সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতের শৈশবকাল: মণিপুরের মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহের পুত্র বীর টিকেন্দ্রজিতের জন্ম হয়েছিল ১৮৫৯ খ্রিস্টাব্দে। ছোটবেলা থেকেই তিনি সাধারণ শিশুদের মতো শান্ত ছিলেন না বরং খেলাধুলো ছাড়াও তাঁর অশ্বারোহণ এবং অস্ত্রচালনার প্রতি অত্যন্ত তীব্র আকর্ষণ ও আগ্রহ ছিল। তিনি শৈশবেই রাজকীয় অস্ত্রচালনা ও রণকৌশল অত্যন্ত সফলভাবে রপ্ত করেছিলেন।

যৌবনকাল ও বীরত্বগাথা: যৌবনে পদার্পণ করার পর টিকেন্দ্রজিৎ একজন অত্যন্ত সাহসী ও দুর্ধর্ষ বাঘ শিকারি হিসেবে মণিপুরে খ্যাতি লাভ করেন। তাঁর সাহস ও বীরত্ব সম্পর্কে একটি অলৌকিক লোককথা প্রচলিত ছিল যে— তিনি একাকী শুধুমাত্র একটি সাধারণ তলোয়ার হাতে নিয়ে যেকোনো হিংস্র বুনো বাঘকে বশ করতে পারতেন। বাঘ শিকারের প্রতি তাঁর এই অবিশ্বাস্য সাহস ও আকর্ষণ দেখে তাঁর পিতা মহারাজা চন্দ্রকীর্তি সিংহ তাঁকে অত্যন্ত ভালোবেসে ‘কইরেং’ নামে ডাকতেন।

২। মণিপুরি রাজপরিবারের গৃহকোন্দলে মহারাজা সুরচন্দ্রের ভূমিকা কী ছিল?

উত্তরঃ মণিপুরি রাজপরিবারের গৃহকোন্দলে মহারাজা সুরচন্দ্রের ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

(i) শাসন পরিচালনায় অযোগ্যতা ও দুর্বলতা: সুরচন্দ্র রাজা হলেও রাজপরিবারের ভাইদের ওপর বা শাসনব্যবস্থার ওপর তাঁর কোনো শক্ত নিয়ন্ত্রণ ছিল না। সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ কুকি বিদ্রোহ দমন করে রাজ্যে তুমুল জনপ্রিয় ও শক্তিশালী হয়ে ওঠায় সুরচন্দ্র নিজেকে সবসময় নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেন।

(ii) ব্রিটিশদের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা: নিজের ক্ষমতার দুর্বলতা ঢাকতে সুরচন্দ্র নিজেই ব্রিটিশ পলিটিক্যাল এজেন্ট মিঃ গ্রিমউডের শরণাপন্ন হন এবং মণিপুরের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে ব্রিটিশদের হস্তক্ষেপ করার পথ প্রশস্ত করে দেন। যদিও চতুর গ্রিমউড নিজের স্বার্থহানির আশঙ্কায় প্রথমে এই বিবাদে সরাসরি জড়িত হতে অস্বীকার করেছিলেন।

(iii) স্বেচ্ছায় সিংহাসন ত্যাগ ও বৃন্দাবন যাত্রা: পারিবারিক কোন্দল সামলাতে না পেরে সুরচন্দ্র ভীরুর মতো সিংহাসন ছেড়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। তিনি ভাই কুলচন্দ্রকে মণিপুরের শাসনভার বুঝিয়ে দিয়ে বৃন্দাবনে তীর্থভ্রমণের উদ্দেশ্যে রওনা দেওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। গ্রিমউড এবং টিকেন্দ্রজিৎ তাঁর এই যাত্রার যাবতীয় ব্যবস্থা ও প্রস্থান নিশ্চিত করেন।

(iv) কলকাতায় গিয়ে সিদ্ধান্ত বদল ও ব্রিটিশদের উসকানি: বৃন্দাবনে যাওয়ার নাম করে সুরচন্দ্র মাঝপথে পথ পরিবর্তন করে সোজা কলকাতায় হাজির হন। কলকাতায় উপস্থিত হয়েই তিনি ব্রিটিশ সরকারের কাছে আবেদন জানান যে, তাঁর মণিপুরের সিংহাসন যেন পুনরুদ্ধার করে দেওয়া হয়।

৩। জেনারেল কোলেটরের নেতৃত্বে ব্রিটিশ প্রতি-আক্রমণের বিষয়ে যা জান লিখ।

উত্তরঃ জেনারেল কোলেটরের নেতৃত্বে ব্রিটিশ প্রতি-আক্রমণের বিষয়ে আলোচনা করা হলো:

(i) সুসজ্জিত বাহিনীর আক্রমণ: হত্যাকাণ্ডের প্রায় এক মাস পর, ব্রিটিশ ভারত সরকার জেনারেল কোলেটরের নেতৃত্বে এক বিশাল ও সুসজ্জিত সেনাবাহিনী মণিপুরে পাঠায়। প্রায় আট হাজার সৈন্যের এই বিশাল বাহিনী আধুনিক কামান ও বন্দুকে সজ্জিত হয়ে চারদিক থেকে মণিপুরকে ঘিরে ফেলে।

(ii) রাজ্যে ত্রাস ও সাধারণ মানুষের পলায়ন: বিশাল ব্রিটিশ ফৌজের মণিপুর অভিমুখে আসার খবর পাওয়া মাত্রই সমগ্র রাজ্যে এক তীব্র আতঙ্ক ও সন্ত্রাসের সৃষ্টি হয়। উত্তেজিত ও সাধারণ গ্রামবাসী নিজেদের জীবন বাঁচাতে ঘরবাড়ি ও সহায়-সম্বল ফেলে দলে দলে পাহাড়ের গভীর বনে-জঙ্গলে গিয়ে আশ্রয় নেয়।

(iii) মণিপুরের ছন্নছাড়া অবস্থা ও প্রতিরোধ: গৃহকোন্দলে জীর্ণ রাজপ্রাসাদের অভ্যন্তরে ব্রিটিশ বাহিনীকে সুসংগঠিতভাবে বাধা দেওয়ার মতো কোনো সার্বিক যুদ্ধ-প্রস্তুতি বা শক্তিশালী নেতৃত্ব গড়ে ওঠেনি। যদিও বীর জেনারেল ঠেঙাল এবং কয়েকজন অত্যুৎসাহী রাজকুমার আত্মরক্ষার জন্য সম্মুখ লড়াইয়ের পক্ষে যুক্তি দিয়েছিলেন।

(iv) খঞ্জমের যুদ্ধ ও পাবনা ব্রজবাসীর বীরত্ব: এই চরম অরাজকতার মধ্যেও দেশের মাতৃভূমি রক্ষা করতে একমাত্র খঞ্জমের পাবনা ব্রজবাসী এবং তাঁর অনুগত বীর মণিপুরি সেনাদল অসীম সাহসিকতা ও দেশপ্রেম নিয়ে কোলেটরের দানবীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে আমৃত্যু প্রতিরোধ গড়ে তুলেছিলেন।

৪। মণিপুরি গণ-বিদ্রোহে টিকেন্দ্রজিতের ভূমিকার বিষয়ে লিখ।

উত্তরঃ এই বিদ্রোহে তাঁর অনন্য ভূমিকা বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(i) ব্রিটিশ হস্তক্ষেপের বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিরোধ: টিকেন্দ্রজিৎ প্রথম থেকেই মণিপুরের অভ্যন্তরীণ শাসনকার্যে ব্রিটিশদের নাক গলানো বা হস্তক্ষেপ করার কঠোর বিরোধী ছিলেন। আসামের মুখ্য কমিশনার কুইন্টন যখন মণিপুরে এসে রাজা কুলচন্দ্রসহ রাজপরিবারের সদস্যদের দরবারের সদর দরজায় দীর্ঘ দুই ঘণ্টা রোদে দাঁড় করিয়ে রেখে চরম অপমান করেছিলেন, তখন টিকেন্দ্রজিৎ এই ব্রিটিশ ঔদ্ধত্য নীরবে মেনে নেননি।

(ii) কুইন্টনের বন্দী করার চক্রান্ত নস্যাৎ: কুইন্টন অত্যন্ত গোপনে পরিকল্পনা করেছিলেন যে, দরবারে আসামাত্রই টিকেন্দ্রজিৎকে চক্রান্ত করে বন্দী করে নির্বাসনে পাঠানো হবে। কিন্তু অত্যন্ত চতুর ও প্রখর বুদ্ধিসম্পন্ন টিকেন্দ্রজিৎ ব্রিটিশদের এই ফাঁদের কথা আগেই জানতে পারেন এবং শারীরিক অসুস্থতার বাহানা দেখিয়ে দরবারে যাননি।

(iii) আক্রমণের প্রত্যুত্তর ও গণজাগরণ: ২৪শে মার্চ ভোরে যখন ব্রিটিশ সেনাপতি ব্রেকনেবারি ও লুগার্ডের নেতৃত্বে একদল সশস্ত্র সৈন্য টিকেন্দ্রজিতের বাসভবন অতর্কিতে ঘেরাও করে আক্রমণ চালায়, তখন টিকেন্দ্রজিৎ অত্যন্ত চতুরতার সাথে সেখান থেকে সরে যান। 

(iv) আলোচনায় দৃঢ়তা প্রদর্শন: উপায়হীন হয়ে কুইন্টন যখন একপাক্ষিক যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করে আলোচনার প্রস্তাব পাঠান, তখন টিকেন্দ্রজিৎ সেই আলোচনায় বসেন। প্রায় আধ ঘণ্টা ধরে চলা এই গুরুত্বপূর্ণ আলোচনায় টিকেন্দ্রজিৎ স্পষ্ট ও বীরত্বপূর্ণ ভাষায় ব্রিটিশ আধিকারিকদের অবিলম্বে সমস্ত অস্ত্র সমর্পণ করার চরম নির্দেশ দেন, যা ব্রিটিশদের অহংকারে চরম আঘাত করেছিল।

৫। বিশেষ আদালতের বিচারের বিষয়ে যা জান লেখ। এই বিচার ন্যায়সঙ্গত ছিল কিনা গুছিয়ে লেখো।

উত্তরঃ বিশেষ আদালতের বিচারের বিষয়ে আলোচনা করা হলো:

(i) অভিযোগ ও বিচারের বিবরণ: এই বিশেষ আদালতে সেনাপতি টিকেন্দ্রজিৎ,জেনারেল ঠেঙাল, মহারাজা কুলচন্দ্র এবং যুবরাজ আংগু সেনাকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। সেনাপতি টিকেন্দ্রজিতের ওপর মূলত তিনটি গুরুতর ও সাজানো অপরাধের দায় চাপানো হয়েছিল, যথা— 

১। ব্রিটিশ মহারানির  বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা করা। 

২। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের হত্যার জন্য প্ররোচনা, উসকানি ও হুমকি দেওয়া। 

৩। ব্রিটিশ কর্মকর্তাদের নির্মম হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করা।

(ii) বিচারের প্রহসন: প্রকৃতপক্ষে এটি কোনো নিরপেক্ষ বিচার ছিল না, এটি ছিল স্রেফ বিচারের নামে এক চরম নাটক। এই আদালতে অভিযুক্ত দেশপ্রেমিকদের আত্মপক্ষ সমর্থনের কোনো ন্যূনতম সুযোগ পর্যন্ত দেওয়া হয়নি।

(iv) ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষের আইনি লড়াই: কলকাতার বিখ্যাত বাঙালি ব্যারিস্টার মনমোহন ঘোষ টিকেন্দ্রজিতের পক্ষে আদালতে দাঁড়িয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী ও যুগান্তকারী আইনি যুক্তি পেশ করেছিলেন। তিনি বলেন যে— টিকেন্দ্রজিৎ কিংবা কুলচন্দ্র কেউই ব্রিটিশ শাসিত ভারতীয় সাম্রাজ্যের প্রত্যক্ষ প্রজা বা নাগরিক ছিলেন না। 

(v) চূড়ান্ত রায়: বিশেষ আদালত সমস্ত আইনি যুক্তি ও নৈতিকতা অগ্রাহ্য করে টিকেন্দ্রজিৎ ও জেনারেল ঠেঙালকে দোষী সাব্যস্ত করে ফাঁসির নির্দেশ দেয়। এছাড়া মহারাজা কুলচন্দ্র এবং যুবরাজ আংগু সেনাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডিত করা হয়। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top