Class 9 History Chapter 4 রুশ বিপ্লব

Class 9 History Chapter 4 রুশ বিপ্লব Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Chapter 4 রুশ বিপ্লব Solutions and select need one. Class 9 History Textbook Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Textual Question Answer.

Class 9 History Chapter 4 রুশ বিপ্লব

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Textual Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 4

প্রশ্নাবলী

১। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন। 

(ক) ‘মুক্তিদাতা জার’ কে?

উত্তরঃ রাশিয়ার জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার-কে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলা হয়।

(খ) ‘রক্তাক্ত রবিবার’ কোন তারিখে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯০৫ সালের ২২ জানুয়ারি এই ঐতিহাসিক ও বেদনাদায়ক ঘটনাটি সংঘটিত হয়েছিল।

(গ) প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার জার কে ছিলেন?

উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় রাশিয়ার জার ছিলেন রোমানভ বংশের শেষ সম্রাট জার দ্বিতীয় নিকোলাস।

(ঘ) সর্বশেষ রাশিয়ার জার কোন যাজকের আজ্ঞাধীন ছিলেন?

উত্তরঃ সর্বশেষ রুশ জার দ্বিতীয় নিকোলাস কুখ্যাত রাজ-পুরোহিত বা যাজক রাসপুটিন এর আজ্ঞাধীন ছিলেন।

(ঙ) কার রাজত্বকালকে ‘অগাস্তিয়ান যুগ’ বলা হয়?

উত্তরঃ রাশিয়ার জার প্রথম নিকোলাস এর রাজত্বকালকে ‘রাশিয়ার অগাস্তিয়ান যুগ’ বলা হয়।

(চ) বলশেভিক দলের জন্ম কোন সালে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ বলশেভিক দলের জন্ম ১৯০৩ সালেসংঘটিত হয়েছিল। 

(ছ) ‘দাস ক্যাপিটাল’ কার রচনা?

উত্তরঃ বিশ্বখ্যাত সমাজতান্ত্রিক গ্রন্থ ‘দাস ক্যাপিটাল’ বিখ্যাত দার্শনিক কার্ল মার্ক্স -এর রচনা।

(জ) রুশ-জাপান যুদ্ধ কোন সালে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ রুশ-জাপান যুদ্ধ ১৯০৪ – ১৯০৫ সালে সংঘটিত হয়েছিল। 

(ঝ) ‘ডুমা’ কি?

উত্তরঃ ডুমা’ হলো রাশিয়ার জাতীয় আইনসভা বা সংসদ। ১৯০৫ সালের বিপ্লবের পর তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে জার দ্বিতীয় নিকোলাস এটি গঠন করতে বাধ্য হয়েছিলেন।

(ঞ) রাশিয়ায় ‘অস্থায়ী সরকারে’র নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে জারের পতনের পর গঠিত অস্থায়ী বা অন্তর্বর্তী সরকারের প্রথম নেতৃত্ব বা প্রধানমন্ত্রীত্ব দিয়েছিলেন প্রিন্স জর্জ লভ এবং পরবর্তীতে এই সরকারের নেতৃত্ব দেন মেনশেভিক নেতা আলেকজান্ডার কেরেনস্কি।

(ট) রাশিয়ার অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য লেনিন কোন নীতি গ্রহণ করেছিলেন?

উত্তরঃ চরম অর্থনৈতিক বিপর্যয় থেকে রাশিয়াকে রক্ষা করতে লেনিন ১৯২১ সালে গোঁড়া সাম্যবাদী নীতি শিথিল করে ‘নতুন অর্থনৈতিক নীতি’ বা ‘নেপ’ গ্রহণ করেছিলেন।

২। টীকা লেখো। 

(ক) মুক্তির অধ্যাদেশ, ১৮৬৯

উত্তরঃ ঐতিহাসিক পটভূমি ও ঘোষণা: ১৮৫৩-৫৬ সালের ক্রিমিয়ার যুদ্ধে রাশিয়ার শোচনীয় পরাজয়ের পর তৎকালীন জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার বুঝতে পারেন যে রাশিয়ার সামগ্রিক অনগ্রসরতার পেছনে মধ্যযুগীয় অন্যায্য ‘ভূমিদাস প্রথা’ দায়ী। ফলস্বরূপ, তিনি ১৮৬১ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি তাঁর ঐতিহাসিক ‘মুক্ত-আজ্ঞা’ বা মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করেন। 

মূল বৈশিষ্ট্য: 

(i) এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে রাশিয়ার প্রায় ২ কোটি ২০ লক্ষ ভূমিদাস বা সার্ফকে দীর্ঘদিনের দাসত্বের শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করে স্বাধীন নাগরিকের মর্যাদা দেওয়া হয়। 

(ii) সরকারি ঋণের সাহায্যে ভূস্বামীদের থেকে জমি কিনে তা ভূমিহীন কৃষকদের মধ্যে বিতরণ করা হয়।

(iii) সীমাবদ্ধতা ও কৃষকদের অসন্তোষ কৃষকদের সরাসরি জমির মালিকানা না দিয়ে ‘মির’ নামক গ্রাম পঞ্চায়েতের অধীনস্থ করা হয়। জমির মূল্য পরিশোধ করার জন্য কৃষকদের ওপর ৪৯ বছরের কিস্তি চাপানো হয় এবং এই ঋণ শোধ না হওয়া পর্যন্ত তারা ‘মির’-এর বন্ধনে আবদ্ধ থাকতে বাধ্য ছিল। 

(খ) ‘রক্তাক্ত রবিবার। 

উত্তরঃ রক্তাক্ত রবিবার:

(i) ঘটনার তারিখ ও স্থান: ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের রুশ বিপ্লবের সূচনালগ্নে ১৯০৫ সালের ২২ জানুয়ারি (রবিবার) তৎকালীন রাশিয়ার রাজধানী সেন্ট পিটার্সবার্গে এই মর্মন্তুদ ঘটনাটি ঘটে।

(ii) পটভূমি ও ঘটনা: রাশিয়ার চরম অর্থনৈতিক সংকট, খাদ্যাভাব এবং রাজনৈতিক অধিকার হরণের প্রতিবাদে ফাদার গেপন নামক এক ধর্মযাজকের নেতৃত্বে হাজার হাজার সাধারণ শ্রমিক ও নাগরিক এক শান্তিপূর্ণ শোভাযাত্রা বের করেন। তাঁরা জারের শীতকালীন প্রাসাদের দিকে গিয়ে নিজেদের দাবিদাওয়া সম্বলিত একটি স্মারকলিপি পেশ করতে চেয়েছিলেন।

(iii) হত্যাকাণ্ড ও ফলাফল: এই শান্তিপূর্ণ ও নিরস্ত্র জনতার ওপর জারের পুলিশ ও সেনাবাহিনী অতর্কিতে নির্বিচারে গুলি বর্ষণ করে। এর ফলে শত শত নিরীহ শ্রমিক প্রাণ হারান এবং বহু মানুষ গুরুতর আহত হন।

(গ) মুক্তিদাতা জার। 

উত্তরঃ রাশিয়ার রোমানভ বংশের উদারপন্থী সম্রাট জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার -কে ইতিহাসে ‘মুক্তিদাতা জার’ বলে অভিহিত করা হয়।

উপাধি পাওয়ার কারণ: রাশিয়ায় যুগের পর যুগ ধরে চলে আসা মধ্যযুগীয় অমানবিক ‘ভূমিদাস প্রথা’ বিলুপ্ত করার একক কৃতিত্ব ছিল তাঁর। রাশিয়ার মোট জনসংখ্যার এক বৃহৎ অংশ ছিল শোষিত ও অত্যাচারিত ভূমিদাস (সার্ফ), যাদের নিজস্ব কোনো সম্পত্তি বা বিয়ে করার স্বাধীনতা পর্যন্ত ছিল না। জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার ১৮৬১ সালে ‘মুক্তির অধ্যাদেশ’ জারির মাধ্যমে এই কোটি কোটি ভূমিদাসকে আইনিভাবে স্বাধীন ঘোষণা করেন এবং জমি প্রদান করেন।

(ঘ) বলশেভিক এবং মেনশেভিক দলের মতদ্বৈধতার কারণ। 

উত্তরঃ এদের মধ্যে মূল মতদ্বৈধতার কারণগুলি ছিল নিম্নরূপ: 

(i) বিপ্লবের আদর্শগত পথ: বলশেভিকদের প্রধান নেতা ভি. আই. লেনিন বিশ্বাস করতেন যে রাশিয়ায় সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য জারের স্বৈরাচারী শাসনকে সশস্ত্র বলপ্রয়োগ ও বিপ্লবের মাধ্যমে হটিয়ে ক্ষমতা দখল করতে হবে। অপরদিকে, মার্টভের নেতৃত্বাধীন মেনশেভিকরা নিয়মতান্ত্রিক ও গণতান্ত্রিক সংস্কারের পথে পরিবর্তন আনার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। 

(ii) দলীয় সংগঠন ও সদস্যপদ: বলশেভিকরা পার্টিকে একটি কঠোর অনুশাসনে আবদ্ধ, পেশাদার বিপ্লবীদের দল হিসেবে গড়ে তুলতে চেয়েছিল। কিন্তু মেনশেভিকরা যেকোনো সাধারণ সমর্থকের জন্য দলের দরজা খোলা রাখার পক্ষপাতী ছিল। 

(iii) অস্থায়ী সরকারের প্রতি দৃষ্টিভঙ্গি: ১৯১৭ সালের ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের পর গঠিত বুর্জোয়া ও অস্থায়ী সরকারকে মেনশেভিকরা সমর্থন জানিয়েছিল। কিন্তু বলশেভিকরা এই অস্থায়ী সরকারকে তীব্র আক্রমণ করে সমস্ত ক্ষমতা শ্রমিকদের প্রতিনিধি বা ‘সোভিয়েত’-এর হাতে নেওয়ার দাবি জানায়।

(ঙ) কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো।

উত্তরঃ কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো:

(i) প্রকাশ ও রচয়িতা: ১৮৪৮ খ্রিস্টাব্দে বেলজিয়ামের রাজধানী ব্রাসেলসে বসে বৈজ্ঞানিক সমাজবাদের প্রবক্তা কার্ল মার্ক্স এবং তাঁর আজীবন বন্ধু ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস যৌথভাবে ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ বা সাম্যবাদী ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন।

মূল বক্তব্য ও দর্শন: 

(i) এটিই ছিল আধুনিক বিজ্ঞানসম্মত সমাজবাদের প্রথম ঐতিহাসিক দলিল ও তাত্ত্বিক ব্যাখ্যা। 

(ii) এই ইশতেহারের মূল কথাই ছিল “আজ পর্যন্ত মানব সমাজের ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস”। 

(iii) সমাজে শোষক ও শোষিত শ্রেণীর দ্বন্দ্বই ইতিহাসের গতি নির্ধারণ করে। 

(iv) এতে শ্রমিক শ্রেণী বা সর্বহারাদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে বিপ্লবের মাধ্যমে পুঁজিবাদী ব্যবস্থার অবসান ঘটিয়ে একটি শোষণহীন, রাষ্ট্রহীন ও শ্রেণীহীন সাম্যবাদী সমাজ প্রতিষ্ঠার ডাক দেওয়া হয়।

(চ) ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি। 

উত্তরঃ ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি: 

প্রেক্ষাপট ও তারিখ: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের নভেম্বর মাসে রাশিয়ায় বলশেভিক সরকার গঠিত হওয়ার পর, যুদ্ধের ঘোর বিরোধী লেনিন তাঁর পূর্ব প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে রাশিয়ার নাম প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেন। 

এই উদ্দেশ্যে ১৯১৮ খ্রিস্টাব্দের ৩ মার্চ বলশেভিক রাশিয়া জার্মানির সঙ্গে এক সন্ধি চুক্তি স্বাক্ষর করে, যা ‘ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি’ নামে পরিচিত।

চুক্তির অপমানজনক শর্তাবলী: 

এই চুক্তির ফলে রাশিয়াকে অত্যন্ত কঠোর ও অসম্মানজনক শর্ত মেনে নিতে হয়েছিল: 

রাশিয়াকে তার সাম্রাজ্যের অন্তর্গত পোল্যান্ড, কুরল্যান্ড ও লিথুয়ানিয়ার ওপর অধিকার ছেড়ে দিতে হয়। ইউক্রেন, ফিনল্যান্ড ও জর্জিয়াকে স্বাধীনতা দিতে বাধ্য করা হয় এবং বোশরাভিয়া কেন্দ্রীয় শক্তির হাতে চলে যায়।

(ছ) ক্যারেনস্কি সরকারের ব্যর্থতার কারণ। 

উত্তরঃ ক্যারেনস্কি সরকারের ব্যর্থতার প্রধান কারণগুলি ছিল: 

(i) যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার হঠকারী সিদ্ধান্ত: দেশের সাধারণ মানুষ ও সৈন্যরা যুদ্ধের অবসান চেয়েছিল। কিন্তু কেরেনস্কি মিত্রশক্তির চাপে বিশ্বযুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন এবং জার্মানি দমনে এক ব্যর্থ সামরিক অভিযান পরিচালনা করেন, যা রুশ সেনাদের সম্পূর্ণ বিদ্রোহী করে তোলে। 

(ii) ভূমি ও খাদ্যের দাবি পূরণে ব্যর্থতা: অস্থায়ী সরকার দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনতে, দুর্ভিক্ষপীড়িত মানুষের খাদ্যের যোগান দিতে এবং কৃষকদের ভূমিহীনতা দূর করতে কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নেয়নি। 

(iii) ডানপন্থী ও বামপন্থীদের মাঝে সমন্বয়হীনতা: কেরেনস্কি ডানপন্থীদের পাশে রেখে বলশেভিকদের দমন করতে চেয়েছিলেন।

(জ) নতুন অর্থনৈতিক নীতি। 

উত্তরঃ কৃষকেরা উদ্বৃত্ত ফসল সরকারকে দিতে অস্বীকার করে চাষ কমিয়ে দেয়, ফলে দেশে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ ও উৎপাদন বিপর্যয় শুরু হয়। এই অরাজক পরিস্থিতি সামাল দিতে লেনিন সাময়িকভাবে সমাজতান্ত্রিক কট্টরতা শিথিল করে ১৯২১ সালে এক বাস্তবসম্মত মিশ্র অর্থনীতি বা ‘নেপ’ ঘোষণা করেন।

মূল অর্থনৈতিক সংস্কারসমূহ: 

(i) কৃষকদের কাছ থেকে জবরদস্তিমূলক শস্য কেড়ে নেওয়ার বদলে নির্দিষ্ট হারে খাজনা বা কর ধার্য করা হয়। 

(ii) কর দেওয়ার পর উদ্বৃত্ত শস্য কৃষকেরা নিজেদের ইচ্ছামতো খোলা বাজারে বিক্রি করার অধিকার পায়। 

(iii) ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র শিল্প ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলিকে বেসরকারিকরণ করা হয় এবং ব্যক্তিগত বাণিজ্যের অনুমতি দেওয়া হয়।

(ঝ) নভেম্বর মাসে সংঘটিত বিপ্লবকে ‘অক্টোবর বিপ্লব’ বলার কারণ। 

উত্তরঃ নভেম্বর মাসে সংঘটিত বিপ্লবকে ‘অক্টোবর বিপ্লব’ বলার মূল কারণ: ১৯১৭ সালের যে ঐতিহাসিক বলশেভিক বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় অস্থায়ী সরকারের পতন ঘটিয়ে লেনিনের নেতৃত্বাধীন বলশেভিকরা ক্ষমতা দখল করেছিল, সেই ঘটনাটি গ্রেগরিয়ান বা পাশ্চাত্যের আধুনিক ক্যালেন্ডার অনুযায়ী ঘটেছিল ১৯১৭ সালের ৬ নভেম্বর বা ৭ নভেম্বর। কিন্তু রাশিয়ায় তখনো প্রাক-বিপ্লব আমলের গ্রিক অর্থোডক্স গির্জার জুলিয়ান ক্যালেন্ডার প্রচলিত ছিল।

(ঞ) ‘শ্রমিকের একনায়কত্ব’ কী?

উত্তরঃ মার্ক্সীয় তাত্ত্বিক রূপ: সমাজবিজ্ঞানী কার্ল মার্ক্সের তত্ত্ব অনুযায়ী, পুঁজিবাদী সমাজ ভাঙার বৈপ্লবিক প্রক্রিয়ায় মধ্যবর্তী ধাপে শোষিত শ্রমিক বা সর্বহারা শ্রেণী বুর্জোয়াদের হাত থেকে রাষ্ট্রক্ষমতা কেড়ে নিয়ে নিজেদের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ও আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করবে। এই রাষ্ট্রকাঠামো যেখানে সর্বহারা শ্রমিকদের স্বার্থই দেশের চূড়ান্ত আইন হিসেবে গণ্য হবে, তাকেই ‘শ্রমিকের একনায়কত্ব’ বলা হয়।

সোভিয়েত রাশিয়ার বাস্তব রূপ: ১৯১৮ সালে রাশিয়ায় বলশেভিকরা ক্ষমতা কুক্ষিগত করার পর এই তত্ত্বের এক নতুন রূপান্তর ঘটে। ১৯১৮ সালের পার্টি কংগ্রেসে বলশেভিক দল নাম বদলে ‘কমিউনিস্ট পার্টি’ ধারণ করে এবং পার্টির সিদ্ধান্তই দেশের একমাত্র আইনে পরিণত হয়।

৩। রচনাধর্মী প্রশ্ন। 

(ক) রুশ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তরঃ রুশ বিপ্লবের পূর্বে রাশিয়ার সামাজিক এবং রাজনৈতিক অবস্থার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

রাজনৈতিক অবস্থা:

(i) স্বৈরাচারী রাজতন্ত্র: রাশিয়ায় রোমানভ বংশের জার বা সম্রাটরা চরম স্বৈরাচারী শাসন চালাতেন। জাররা নিজেদের ‘ঈশ্বরপ্রদত্ত ক্ষমতার’ অধিকারী মনে করতেন এবং তাঁদের নির্দেশই ছিল দেশের আইন।

(ii) অযোগ্য শাসন ও রাজদরবারে দুর্নীতির বিস্তার: শেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাস ছিলেন অত্যন্ত দুর্বল প্রকৃতির। তিনি ও রানি মেরি আঁতোয়ানেতের মতো রানি আলেকজান্দ্রা কুখ্যাত রাজ-পুরোহিত রাসপুটিনের আজ্ঞাধীন হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে শাসনব্যবস্থা সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছিল।

(iii) ব্যক্তিস্বাধীনতাহীন সমাজ ও পুলিশি অত্যাচার: রুশ জনগণের কোনো রাজনৈতিক অধিকার বা ব্যক্তিস্বাধীনতা ছিল না। ‘থার্ড সেকশন’ নামক কুখ্যাত গুপ্তচর পুলিশ বাহিনীর মাধ্যমে যেকোনো সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার, নির্বাসন বা হত্যা করা হতো।

সামাজিক অবস্থা:

(i) চরম সামাজিক বৈষম্য: রুশ সমাজ মূলত দুটি প্রধান শ্রেণীতে বিভক্ত ছিল— এক পক্ষে ছিল মুষ্টিমেয় সুবিধাভোগী অভিজাত ও যাজক শ্রেণী এবং অন্য পক্ষে ছিল শোষিত কৃষক ও শ্রমিক সম্প্রদায়।

(ii) ভূমিদাসদের দুর্দশা: রাশিয়ার জনসংখ্যার এক বিরাট অংশ ছিল ভূমিদাস বা সার্ফ। ১৮৬১ সালে জার দ্বিতীয় আলেকজান্ডার মুক্তির অধ্যাদেশ জারি করে আক্ষরিক অর্থে তাঁদের মুক্ত করলেওকৃষকদের দুঃখ ঘোচেনি। ঋণের কিস্তি শোধ করতে গিয়ে এবং অনুর্বর জমি পাওয়ায় কৃষকেরা চরম দারিদ্র্যের মধ্যে বাস করত।

(iii) শ্রমিকদের শোচনীয় জীবন: রাশিয়ায় শিল্পায়নের ফলে এক নতুন শ্রমিক শ্রেণীর জন্ম হয়। তারা অত্যন্ত কম মজুরিতে, অস্বাস্থ্যকর বস্তিতে গাদাগাদি করে দৈনিক ১৪-১৫ ঘণ্টা কাজ করতে বাধ্য হতো,যা তাদের মনে জারের বিরুদ্ধে ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল।

(খ) ১৯০৫ সাল থেকে বলশেভিক বিপ্লব পর্যন্ত রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অবস্থার বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ ১৯০৫ সাল থেকে বলশেভিক বিপ্লব পর্যন্ত রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অবস্থার বর্ণনা করা হলো:

(i) ১৯০৫ সালের বিপ্লব ও রক্তাক্ত রবিবার: ১৯০৪-০৫ সালের রুশ-জাপান যুদ্ধে রাশিয়ার পরাজয়ের পর রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ অসন্তোষ ফেটে পড়ে। ১৯০৫ সালের ২২ জানুয়ারি সেন্ট পিটার্সবার্গে ফাদার গেপনের নেতৃত্বে শান্তিপূর্ণ শ্রমিকদের ওপর জারের বাহিনী গুলি চালালে ‘রক্তাক্ত রবিবার’-এর ঘটনা ঘটে। 

(ii) অক্টোবর ম্যানিফেস্টো ও ডুমার প্রতিষ্ঠা: গণআন্দোলনের মুখে পড়ে জার দ্বিতীয় নিকোলাস ১৯০৫ সালের ৩০ অক্টোবর এক ঘোষণা-র মাধ্যমে রাশিয়ার প্রথম জাতীয় সংসদ বা ‘ডুমা’ গঠন ও জনগণকে ভোটাধিকার দিতে বাধ্য হন।

(iii) প্রথম বিশ্বযুদ্ধে রাশিয়ার অংশগ্রহণ ও বিপর্যয়: ১৯১৪ সালে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ শুরু হলে জার দ্বিতীয় নিকোলাস রাশিয়াকে এই যুদ্ধে জড়িয়ে ফেলেন। কিন্তু প্রয়োজনীয় যুদ্ধাস্ত্র ও খাদ্যের অভাবে প্রথম বছরেই প্রায় ১০ লক্ষ রুশ সৈন্য নিহত হয় এবং রাশিয়ার অর্থনীতি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে যায়।

(iv) ১৯১৭ সালের মার্চ বিপ্লব ও জারের পতন: যুদ্ধের ভয়াবহতা ও খাদ্যাভাবের কারণে ১৯১৭ সালের মার্চ মাসে পেট্রোগ্রাডে বিশাল গণবিক্ষোভ শুরু হয়। ১২ মার্চ রাশিয়ার সৈন্যবাহিনীও আন্দোলনকারী শ্রমিকদের পাশে এসে দাঁড়ায়।

(গ) ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লবের কারণগুলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ১৯১৭ সালের রুশ বিপ্লব ছিল রাশিয়ার দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এই বিপ্লবের প্রধান কারণগুলি ব্যাখ্যা করা হলো:

(i) স্বৈরাচারী জারতন্ত্র ও রাসপুটিনের প্রভাব: রোমানভ বংশের জাররা ছিলেন চরম স্বৈরাচারী। সর্বশেষ জার দ্বিতীয় নিকোলাস শাসনকার্যে সম্পূর্ণ অযোগ্য ছিলেন এবং দেশের শাসনব্যবস্থা তাঁর রানি ও ভণ্ড যাজক রাসপুটিনের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতো, যা জনগণের মনে তীব্র ঘৃণার জন্ম দেয়।

(ii) ভূমি ব্যবস্থার অসন্তোষ: ১৮৬১ সালের মুক্তির অধ্যাদেশের পরেও কৃষকদের জমি সমস্যা মেটেনি। চাষযোগ্য জমির সিংহভাগ ছিল অভিজাত ও গির্জার অধীনে। কৃষকদের চড়া খাজনা ও কর দিতে হতো, যার ফলে তারা জমিদারের জমি কেড়ে নেওয়ার জন্য উন্মুখ হয়েছিল।

(iii) শ্রমিকদের শোষণ ও সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শ: রাশিয়ার শিল্প বিপ্লবের পর শ্রমিকদের সংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। তারা কারখানায় অত্যন্ত অমানবিক পরিবেশে কম মজুরিতে কাজ করত। কার্ল মার্ক্সের সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিকেরা জারের স্বৈরাচারী ও পুঁজিবাদী শাসন উপড়ে ফেলতে ঐক্যবদ্ধ হয়।

(iv) বিপ্লবী সাহিত্যিকদের ভূমিকা: তলস্তয়, তুর্গেনিভ, দস্তয়ভস্কি এবং গোগোলের মতো বিশ্বখ্যাত লেখকদের সাহিত্য রুশ সমাজের অন্যায়, অত্যাচার ও দারিদ্র্যের বাস্তব চিত্র তুলে ধরে সাধারণ মানুষকে বিপ্লবমুখী করে তুলেছিল।

(ঘ) বিপ্লবের শুরুতে গঠিত অস্থায়ী সরকারের কার্যকাল বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।

উত্তরঃ বিপ্লবের শুরুতে গঠিত অস্থায়ী সরকারের কার্যকাল বিষয়ে বিবরণ দেওয়া হলো:

(i) গঠন ও নেতৃত্ব: এই অস্থায়ী সরকারের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন উদারপন্থী জমিদার প্রিন্স জর্জ লভ। পরবর্তীতে আগস্ট মাসে মেনশেভিক দলের তরুণ নেতা আলেকজান্ডার কেরেনস্কি সরকারের প্রধানমন্ত্রী বা প্রধান নেতা হন।

(ii) গৃহীত সংস্কারসমূহ: অস্থায়ী সরকার ক্ষমতায় এসেই রাশিয়ায় প্রাপ্তবয়স্কদের ভোটাধিকারের ভিত্তিতে সংবিধান সভা গঠনের প্রতিশ্রুতি দেয়। এছাড়া তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং বন্দীদের মুক্তি দেওয়ার মতো বেশ কিছু উদারপন্থী সংস্কার সাধন করে।

(iii) ব্যর্থতার কারণ ও পতন: এই সরকারের কার্যকাল ছিল মাত্র ৮ মাস (মার্চ থেকে নভেম্বর ১৯১৭)। নিম্নোক্ত কারণে এই সরকার ব্যর্থ হয়ে পতন বরণ করে।

(iv) যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার ভুল সিদ্ধান্ত: দেশের সাধারণ মানুষ ও সৈন্যরা অবিলম্বে প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে মুক্তি চেয়েছিল। কিন্তু মিত্রশক্তির চাপে কেরেনস্কি সরকার যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, যা সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।

(v) ভূমি ও খাদ্য সমস্যা সমাধানে অনীহা: সরকার দেশের তীব্র খাদ্য সংকট মেটাতে এবং কৃষকদের ভূমিহীনতা দূর করার কোনো মৌলিক সংস্কার করতে পারেনি।

(ঙ) বলশেভিক বিপ্লবের ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ বলশেভিক বিপ্লবের প্রধান ফলাফলগুলি আলোচনা করা হলো:

রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ ক্ষেত্রে ফলাফল:

(i) জারতন্ত্রের অবসান ও সমাজতন্ত্র প্রতিষ্ঠা: এই বিপ্লবের মাধ্যমে রাশিয়ায় শত শত বছরের স্বৈরাচারী জারতন্ত্রের চিরতরে অবসান ঘটে। বিশ্বে প্রথম শ্রমিক বা সর্বহারা শ্রেণীর শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়।

(ii) ব্যক্তিগত সম্পত্তির বিলোপ ও রাষ্ট্রীয়করণ: কার্ল মার্ক্সের তত্ত্ব অনুযায়ী বলশেভিক সরকার দেশের সমস্ত জমি, ব্যাঙ্ক, খনি, কারখানা এবং পরিবহণ ব্যবস্থা বাজেয়াপ্ত করে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তিতে পরিণত করে।

(iii) প্রথম বিশ্বযুদ্ধ থেকে বিদায়: লেনিনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী ১৯১৮ সালের ৩ মার্চ জার্মানির সাথে অত্যন্ত অপমানজনক ‘ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি’ স্বাক্ষর করে রাশিয়া বিশ্বযুদ্ধ থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করে নেয়।

(iv) ধর্মনিরপেক্ষ শিক্ষা ও সমাজ গঠন: চার্চের বিপুল সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা হয় এবং শিক্ষাকে সম্পূর্ণভাবে চার্চের নিয়ন্ত্রণমুক্ত করে ধর্মনিরপেক্ষ ও অবৈতনিক করা হয়।

আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে ফলাফল:

(i) উপনিবেশ বিরোধী আন্দোলন: রাশিয়ার এই সফল বিপ্লব এশিয়া ও আফ্রিকার পরাধীন দেশগুলির শোষিত মানুষকে পরাধীনতার শৃঙ্খল ভাঙতে এবং সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতে বিপুল অনুপ্রেরণা জুগিয়েছিল।

(ii) বিশ্ব রাজনীতির দ্বিমেরুকরণ: এই বিপ্লবের পর বিশ্ব রাজনীতি মূলত দুটি শিবিরে বিভক্ত হয়ে পড়ে— একদিকে আমেরিকার নেতৃত্বাধীন পুঁজিপতি শিবির এবং অন্যদিকে সোভিয়েত রাশিয়ার নেতৃত্বাধীন সমাজতান্ত্রিক বা সাম্যবাদী শিবির।

(চ) বলশেভিক বিপ্লবে লেনিনের ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করো।

উত্তরঃ বলশেভিক বিপ্লবে লেনিনের ভূমিকা আলোচনা করা হলো:

(i) বলশেভিক দল গঠন ১৯০৩: ১৯০৩ সালে রুশ সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক লেবার পার্টির বিভাজনের পর লেনিন একটি সুশৃঙ্খল ও পেশাদার বিপ্লবীদের নিয়ে গঠিত দল হিসেবে ‘বলশেভিক’ দলের পত্তন করেন।

(ii) এপ্রিল থিসিস ও নতুন দিকনির্দেশনা ১৯১৭: দীর্ঘ প্রবাস জীবন কাটিয়ে ১৯১৭ সালের এপ্রিল মাসে লেনিন যখন রাশিয়ায় ফেরেন, তখন তিনি তাঁর বিখ্যাত ‘এপ্রিল থিসিস’ ঘোষণা করেন। তিনি অস্থায়ী বুর্জোয়া সরকারকে সমর্থন না করে “সমস্ত ক্ষমতা সোভিয়েতের হাতে দাও” এবং “শান্তি, রুটি ও জমি” —এই তিন যুগান্তকারী স্লোগান তুলে বিপ্লবের লক্ষ্য স্থির করে দেন।

(iii) বিপ্লবের দিনক্ষণ নির্ধারণ ও সশস্ত্র অভ্যুত্থান: অস্থায়ী সরকারের দুর্বলতা আঁচ করতে পেরে লেনিনই বলশেভিকদের সশস্ত্র অভ্যুত্থানের জন্য প্রস্তুত করেন। তাঁরই নির্দেশে ট্রটস্কি লাল ফৌজ গঠন করেন এবং ১৯১৭ সালের ২৪ অক্টোবর অত্যন্ত সুপরিকল্পিত উপায়ে রাজপ্রাসাদ ও সরকারি দপ্তরগুলি দখল করে অস্থায়ী সরকারকে উৎখাত করা হয়।

(iv) যুদ্ধ বন্ধ ও ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি ১৯১৮: ক্ষমতা দখলের পর লেনিন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের কবল থেকে রাশিয়াকে বাঁচাতে জার্মানির সঙ্গে অত্যন্ত অপমানজনক শর্ত সত্ত্বেও ‘ব্রেস্ট-লিটভস্ক চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন। এর ফলে রাশিয়া যুদ্ধের মহাবিপর্যয় থেকে রক্ষা পায়।

(ছ) কার্লমার্ক্সের জীবন এবং মতবাদ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করো।

উত্তরঃ কার্লমার্ক্সের জীবন এবং মতবাদ বিষয়ে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:

সংক্ষিপ্ত জীবনী: ১৮১৮ খ্রিস্টাব্দে জার্মানির এক মধ্যবিত্ত পরিবারে কার্ল মার্ক্স জন্মগ্রহণ করেন। তিনি বন ও বার্লিন বিশ্ববিদ্যালয়ে আইন, ইতিহাস ও দর্শন নিয়ে পড়াশোনা করেন। তাঁর বৈপ্লবিক মতবাদের জন্য প্রুশিয়ান সরকার তাঁকে দেশ থেকে নির্বাসিত করলে তিনি প্যারিস ও ব্রাসেলসে আশ্রয় নেন। সেখানে তাঁর দীর্ঘদিনের বন্ধু ও সহকর্মী ফ্রেডারিক এঙ্গেলসের সাথে যৌথভাবে ১৮৪৮ সালে ঐতিহাসিক ‘কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টো’ বা সাম্যবাদী ঘোষণাপত্র প্রকাশ করেন। জীবনের শেষভাগে তিনি লন্ডনে নির্বাসিত জীবন কাটান এবং সেখানেই তাঁর অমর গ্রন্থ ‘দাস ক্যাপিটাল’ রচনা করেন। ১৮৮৩ সালে এই মহান দার্শনিকের মৃত্যু হয়।

মার্ক্সীয় মতবাদ ও তত্ত্বের মূল সূত্রসমূহ:

(i) দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ ও ইতিহাসাশ্রয়ী বস্তুবাদ: মার্ক্সের মতে, জগতের মূল উপাদান হলো বস্তু এবং অর্থনৈতিক ব্যবস্থার পরিবর্তনের মাধ্যমেই মানব সমাজের বিবর্তন ঘটে।

(ii) ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস: কমিউনিস্ট ম্যানিফেস্টোতে মার্ক্স পরিষ্কারভাবে লিখেছেন— “আজ পর্যন্ত যত সমাজ দেখা গেছে, তাদের ইতিহাস হলো শ্রেণী সংগ্রামের ইতিহাস”। সমাজে শোষক (বুর্জোয়া) ও শোষিত শ্রেণীর চিরন্তন দ্বন্দ্বই সমাজ পরিবর্তনের প্রধান কারণ।

(iii) উদ্বৃত্ত মূল্য তত্ত্ব: মার্ক্সের মতে, উৎপাদিত পণ্যের প্রকৃত মূল্য তৈরি করে শ্রমিকের কায়িক শ্রম। কিন্তু কারখানার মালিকেরা শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরি না দিয়ে সেই উদ্বৃত্ত মূল্য বা লভ্যাংশ নিজেরা আত্মসাৎ করে বড়লোক হয়, যা শ্রমিকদের চরম শোষণের মুখে ঠেলে দেয়।

(জ) কমিউনিস্ট সংবিধানের বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ কমিউনিস্ট সংবিধানের বিস্তারিত বিবরণ: ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দের বলশেভিক বিপ্লবের ঐতিহাসিক সাফল্যের পর রাশিয়ায় সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্রকাঠামো গড়ে তোলার লক্ষ্যে একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা হয়। পাঠ্যবইয়ের তথ্য অনুযায়ী, ১৮১৮ সালে রচিত সংবিধানের দ্বারা (যা মূলত ১৯১৮ সালের ঐতিহাসিক সংবিধানের মুদ্রণত্রুটি) সোভিয়েত রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় গঠন প্রণালী প্রথম স্থির করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ১৯২২ সালে রাশিয়ার নতুন নামকরণ করে যখন ‘ইউনাইটেড স্টেট অফ সোভিয়েত সোশ্যালিস্ট রিপাবলিকস’ বা সোভিয়েত ইউনিয়ন গঠিত হয়, তখন এই সংবিধানকে সমগ্র ইউনিয়নের জন্য চূড়ান্ত রূপ দেওয়া হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top