Class 9 History Chapter 3 শিল্প বিপ্লব Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Chapter 3 শিল্প বিপ্লব Solutions and select need one. Class 9 History Textbook Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Textual Question Answer.
Class 9 History Chapter 3 শিল্প বিপ্লব
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Textual Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
শিল্প বিপ্লব
Chapter: 3
| প্রশ্নাবলী |
১। রচনাত্মক প্রশ্ন।
(ক) শিল্প বিপ্লব বলতে কী বোঝ? এই বিপ্লব হওয়ার কারণ কী?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লব বলতে কায়িক শ্রমের পরিবর্তে যন্ত্রের সহযোগে উৎপাদন প্রক্রিয়ায় ব্যাপক পরিবর্তনের দ্বারা মানবজাতির সামগ্রিক জীবনে ঘটে যাওয়া আমূল পরিবর্তনকে বোঝানোর জন্য বিখ্যাত ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি প্রথম ‘শিল্প বিপ্লব’ নামটির প্রচলন করেন। অপর এক ঐতিহাসিক হেস এর মতে, শিল্প বিপ্লব কথাটি শুধুমাত্র কয়েকটি যন্ত্রপাতির আবিষ্কারের কালটিকে না বুঝিয়ে কৃষি ও বাণিজ্যের পরিবর্তে কল-কারখানা ও যন্ত্রপাতির ব্যাপক প্রচলনের সময়কালকে নির্দেশ করে।
শিল্প বিপ্লব হওয়ার কারণসমূহ:
(i) ক্রমবর্ধমান চাহিদা ও অভাববোধ: অষ্টাদশ শতকে মানুষের অভাব ও চাহিদা বৃদ্ধি পাওয়ায় গৃহভিত্তিক কুটির শিল্পের পরিবর্তে যন্ত্রের সাহায্যে বৃহৎ উৎপাদনের প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়।
(ii) কৃষি বিপ্লব ও শ্রমিকের যোগান: কৃষিক্ষেত্রে উন্নত বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির প্রয়োগের ফলে প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকেরা জমি হারিয়ে ভূমিহীন হয়ে পড়ে। এই কর্মহীন উদ্বৃত্ত কৃষকেরা সস্তা শ্রমিক হিসেবে কারখানায় কাজ করতে শহরে ভিড় জমায়।
(iii) ভৌগোলিক আবিষ্কার ও উপনিবেশ: ১৫ শতকের শেষভাগ থেকে শুরু হওয়া বিভিন্ন ভৌগোলিক আবিষ্কারের ফলে ইউরোপীয় দেশগুলি এশিয়া, আফ্রিকা ও আমেরিকায় উপনিবেশ গড়ে তোলে।
(খ) অন্যস্থানে না হয়ে প্রথমে ব্রিটেনে কেন শিল্প বিপ্লব হলো?
উত্তরঃ অষ্টাদশ শতকের মাঝামাঝি সময়ে ইউরোপের অন্যান্য দেশে না হয়ে প্রথম ব্রিটেন বা ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লব ঘটার পেছনে একাধিক অনুকূল কারণ ছিল:
(i) ভৌগোলিক অবস্থান ও নৌ-শক্তি: জলবেষ্টিত দ্বীপদেশ হওয়ায় ইংরেজরা নৌ-বিদ্যায় অত্যন্ত পারদর্শী ছিল। এর ফলে তারা সহজেই বহির্জগত থেকে বাণিজ্যের মাধ্যমে অর্থ ও জ্ঞান অর্জন করতে পেরেছিল।
(ii) মূলধন বা পুঁজির যোগান: ইংল্যান্ডের ব্যবসায়ীরা বিশ্ববাণিজ্য থেকে যে বিপুল মুনাফা অর্জন করেছিলেন, তা তারা নতুন নতুন পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও শিল্প স্থাপনের কাজে অনায়াসে বিনিয়োগ করার সুযোগ পেয়েছিলেন।
(iii) কৃষিজাত শ্রমিক বা সুলভ শ্রমিক: ইংল্যান্ডে কৃষি সংস্কারের ফলে প্রান্তিক কৃষকেরা জমি বিক্রি করে ভূমিহীন হয়ে পড়ে। এই বিপুল পরিমাণ ভূমিহীন মানুষ অতি সহজে ও সস্তায় কারখানার শ্রমিক হিসেবে নিজেদের নিয়োজিত করে।
(iv) কাঁচামাল ও বিস্তৃত বাজার: আমেরিকার স্বাধীনতা ও ভারতের মতো বিশাল উপনিবেশে ইংল্যান্ডের বাণিজ্যিক আধিপত্য থাকায় তারা সেখান থেকে পর্যাপ্ত কাঁচামাল সংগ্রহ করতে পারত এবং উৎপাদিত কাপড় বিক্রির জন্য বিশাল বাজার পেয়েছিল।
(গ) কৃষির ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব কেমন ছিল?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের ফলে কৃষিক্ষেত্রে এক যুগান্তকারী পরিবর্তন বা ‘কৃষি বিপ্লব’ সাধিত হয়েছিল:
(i) নতুন যন্ত্রের ব্যবহার: কৃষিকাজে মানুষের শ্রম কমাতে বিজ্ঞানী জেথ্রু টুলের ‘ড্রিল’ নামক বীজ বপন যন্ত্রের আবিষ্কার কৃষিকে আধুনিক করে তোলে। এছাড়া আমেরিকার সাইরাস এইচ মেকরমিক যান্ত্রিক শস্য-ছেদক ও মাড়াই যন্ত্র আবিষ্কার করেন।
(ii) শস্য আবর্তন পদ্ধতি: ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে লর্ড টাউনশেন্ড তাঁর ফার্মে পরীক্ষা করে প্রমাণ করেন যে, উর্বরতা রক্ষার জন্য জমি পতিত ফেলে রাখার প্রয়োজন নেই; বরং ফসল অদল-বদল করে বছরে চারবার চাষ করলে জমির উর্বরতা বাড়ে এবং পশু খাদ্যও সুলভ হয়।
(iv) পশু প্রজনন: পশুপালনের ক্ষেত্রে রবার্ট বেকওয়েল এবং চার্লস কলিং ‘মঠহর্ন’ নামক এক উন্নত ও অধিক মাংস-দুধ উৎপাদনকারী গো-প্রজনন ঘটাতে সক্ষম হন।
(v) রাসায়নিক সার ও জল নিষ্কাশন: ১৮৪০ সালে জার্মান রসায়নবিদ জুস্টাস ভন লীবিগ উদ্ভিদের পুষ্টির জন্য পটাশ, নাইট্রোজেন ও ফসফরাসের ব্যবহার আবিষ্কার করেন, যা জমির উর্বরতা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।
(ঘ) পরিবহণের ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের অবদান কী?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের প্রসারে পরিবহণ ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অবদান ছিল অনন্য ও বৈপ্লবিক:
(i) পাকা রাস্তা নির্মাণ: স্কটল্যান্ডের জন ম্যাকাডেম ছোট-বড় পাথর কুচি ও আলকাতরা পিচের সমন্বয়ে মজবুত রাস্তা তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর ফলে ঘোড়ার গাড়ি ঘণ্টায় ২৩ কিমি বেগে যাতায়াত করতে শুরু করে।
(ii) বাষ্পচালিত জলযান: আমেরিকার রবার্ট ফুলটন ১৮০৭ সালে ‘ক্ল্যারমন্ট’ নামক প্রথম বাষ্পচালিত নৌকা সফলভাবে চালনা করেন। ১৮৩৮ সালে বাষ্পীয় জাহাজ ‘সিরিয়াস’ ১৮ দিনে আটলান্টিক মহাসাগর পার হয়।
(iii) বাষ্পীয় রেল ইঞ্জিন: জর্জ স্টিফেনসন বাষ্পচালিত রেল ইঞ্জিনের সফল রূপকার ছিলেন। ১৮২৯ সালে তাঁর নির্মিত বিখ্যাত ‘রকেট’ রেল ইঞ্জিনটি ঘণ্টায় ২৩ কিমি বেগে ছুটে চলেছিল। এর ফলে বিশ্বজুড়ে দ্রুত রেলপথের বিস্তার ঘটে।
(iv) মোটরগাড়ি ও রবার টায়ার: উনবিংশ শতকের আশির দশকে পেট্রোল চালিত ইঞ্জিনের সাহায্যে মোটরগাড়ির উদ্ভাবন ঘটে। চার্লস গুড ইয়ার ১৮৩৯ সালে রবার ভলকানাইজ করার পদ্ধতি আবিষ্কার করলে চাকার জন্য শক্ত ও আরামদায়ক টায়ার তৈরি শুরু হয়।
(ঙ) বস্ত্র শিল্পের ক্রমবিকাশের একটি চিত্র তুলে ধরো?
উত্তরঃ

বস্ত্র শিল্পের ক্রমবিকাশের বিস্তারিত বিবরণ:
(i) ফ্লাইং সাটল বা উড়ন্ত মাকু (১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দ):
আবিষ্কারক: জন কে।
ভূমিকা: এটি আবিষ্কারের ফলে তাঁতিদের কাপড় বোনার গতি বহুগুণ বৃদ্ধি পায় এবং অত্যন্ত কম সময়ে ও কম পরিশ্রমে অনেক বেশি চওড়া কাপড় বোনা সম্ভব হয়।
(ii) স্পিনিং জেনি:
আবিষ্কারক: জেমস হারগ্রিভস।
ভূমিকা: কাপড় বোনার গতি বেড়ে যাওয়ায় প্রচুর সুতার চাহিদা তৈরি হয়। এই চাহিদা মেটাতে জেনি আবিষ্কার করা হয়, যা চরকার চেয়ে অনেক দ্রুত সুতা কাটতে পারত।
(iii) ওয়াটার ফ্রেম (১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দ):
আবিষ্কারক: রিচার্ড আরকরাইট।
ভূমিকা: এটি ছিল জলশক্তি দ্বারা চালিত একটি শক্তিশালী সুতা কাটার যন্ত্র। এই যন্ত্র আবিষ্কারের পর সুতা কাটার কাজে মানুষের কায়িক শ্রম আরও কমে যায়।
(iv) মিউল (১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দ):
আবিষ্কারক: স্যামুয়েল ক্রাম্পটন।
ভূমিকা: এটি পূর্বের স্পিনিং জেনি এবং ওয়াটার ফ্রেমের গুণাবলিকে একত্রিত করে তৈরি করা হয়। এর ফলে অত্যন্ত সূক্ষ্ম, নরম এবং শক্ত সুতা তৈরি করা সম্ভব হয় যা বস্ত্রের গুণগত মান বাড়িয়ে দেয়।
(চ) খনিজ শিল্প বিকাশের বিবরণ দাও?
উত্তরঃ খনিজ শিল্প বিকাশের বিবরণ:
(i) জ্বালানির পরিবর্তন (কাঠের বদলে কয়লা): আগে আকরিক লোহা গলাতে কাঠ পুড়িয়ে কয়লা করা হতো। কিন্তু বনাঞ্চল কমে যাওয়ায় পাথুরে কয়লাকে প্রক্রিয়াজাত করে কোক কয়লায় রূপান্তর করার পদ্ধতি আবিষ্কৃত হয়।
(ii) লোহা গলানোর চুল্লি: জন স্মিটন উন্নত লোহা গলানোর চুল্লি আবিষ্কার করেন, যা আকরিক লোহা থেকে ব্যবহারিক কাঁচা লোহা গলানো সহজ করে তোলে।
(iii) লোহার বিশুদ্ধতা ও ইস্পাত (১৭৮৬): হেনরি কর্ট এমন এক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন যার মাধ্যমে গলিত লোহার অপদ্রব্য দূর করে উন্নত মানের ইস্পাত বা ঢালাই লোহা উৎপাদন করা যায়।
(iv) নিরাপদ প্রদীপ: কয়লা খনির বিষাক্ত গ্যাসে বিস্ফোরণ এড়াতে এবং শ্রমিকদের জীবন বাঁচাতে স্যার হামফ্রে ডেভি ‘নিরাপদ প্রদীপ’ আবিষ্কার করেন।
(ছ) শিল্প বিপ্লবের ফলাফল আলোচনা করো?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের ফলাফল:
(i) উৎপাদনের বৈপ্লবিক রূপান্তর: সনাতন কুটির শিল্পের জায়গায় বৃহৎ কারখানা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে। উন্নত যন্ত্রপাতির কারণে কম সময়ে ও কম খরচে অজস্র গুণ বেশি পণ্য উৎপাদিত হতে শুরু করে।
(ii) নতুন অর্থনৈতিক ব্যবস্থার জন্ম: গ্রামীণ ও কৃষিভিত্তিক স্বয়ংসম্পূর্ণ অর্থনীতি ধ্বংস হয়ে যায় এবং তার জায়গায় শিল্প ও পুঁজিবাদী অর্থনীতি গড়ে ওঠে। সমাজ পুঁজিবাদী বা মালিক শ্রেণী এবং সর্বহারা শ্রমিক শ্রেণীতে বিভক্ত হয়ে পড়ে।
(iii) নগর ও বস্তি জীবনের সৃষ্টি: কল-কারখানাকে কেন্দ্র করে ম্যাঞ্চেস্টার, গ্লাসগো, লিডস প্রভৃতি বড় বড় শিল্প শহরের জন্ম হয়। কাজের খোঁজে কাতারে কাতারে মানুষ গ্রামীণ ভিটেমাটি ছেড়ে শহরে এসে নোংরা, অস্বাস্থ্যকর বস্তিতে গাদাগাদি করে থাকতে শুরু করে।
(iv) পারিবারিক ও সামাজিক বিপর্যয়: কাজের সন্ধানে মানুষ দূরে সরে যাওয়ায় চিরাচরিত বৃহৎ যৌথ পরিবার ব্যবস্থা ভেঙে একক পরিবার গড়ে ওঠে। কারখানার মালিকেরা বেশি লাভের উদ্দেশ্যে পুরুষদের পাশাপাশি অত্যন্ত কম মজুরিতে নারী ও শিশুদের ঝুঁকিপূর্ণ কাজে নিয়োগ করত।
(জ) রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লব কীভাবে প্রভাব বিস্তার করেছিল?
উত্তরঃ রাজনৈতিক ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের প্রভাব বিস্তার:
(i) পুঁজিপতিদের আধিপত্য: শিল্প বিপ্লবের ফলে ধনিক বণিক ও পুঁজিপতি শ্রেণী অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে। তারা রাজনৈতিক দল গঠন করে দেশের শাসন ক্ষমতা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং সরকারের নীতিসমূহ নিজেদের ব্যবসায়িক স্বার্থ অনুযায়ী নির্ধারণ করতে শুরু করে।
(ii) ট্রেড ইউনিয়ন বা শ্রমিক সংঘের আত্মপ্রকাশ: কল-কারখানায় চরম শোষিত শ্রমিকেরা নিজেদের জীবনমান রক্ষার্থে সংঘবদ্ধ হতে শুরু করে। ১৮২৫ সালে ইংল্যান্ডে আইনি স্বীকৃতির পর শ্রমিকরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজনৈতিক দল ও ট্রেড ইউনিয়ন গঠন করে এবং নিজেদের দাবি আদায়ের জন্য ধর্মঘটকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে।
(iii) চার্টিস্ট আন্দোলন ও ভোটাধিকার লাভ: শ্রমিক নেতারা বুঝতে পারেন যে আইনসভায় প্রতিনিধিত্ব ও রাজনৈতিক অধিকার ছাড়া তাদের অবস্থার পরিবর্তন সম্ভব নয়। তাই তারা ব্রিটেনে ‘চার্টিস্ট আন্দোলন’ শুরু করেন এবং শেষ পর্যন্ত ১৮৬৭ সালের ‘সংস্কার আইন’ দ্বারা শ্রমিকেরা ভোটাধিকার লাভ করে।
(iv) সমাজবাদের জন্ম ও বলশেভিক বিপ্লব: কার্ল মার্ক্সের সমাজতান্ত্রিক ভাবাদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে শ্রমিক প্রতিনিধিরা বিভিন্ন দেশে সমাজবাদী রাজনৈতিক দল গঠন করে। এর চরম রূপ দেখা যায় ১৯১৭ খ্রিস্টাব্দে রাশিয়ার বলশেভিক বিপ্লবে, যার মাধ্যমে বিশ্বে প্রথম শ্রমিক বা সর্বহারা শ্রেণীর সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়।
(ঝ) সমবায় প্রথার উদ্ভ ও কার্যকারিতা সম্পর্কে লেখো?
উত্তরঃ সমবায় প্রথার উদ্ভব: শ্রমিকেরা কেবল ট্রেড ইউনিয়ন করেই ক্ষান্ত থাকেনি, তারা নিজেদের নিত্যদিনের অর্থনৈতিক শোষণ থেকে বাঁচতে সমবায় বা কো-অপারেটিভ প্রথার জন্ম দেয়। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রচডেল নামক স্থানে একদল তাঁতি মাত্র ১৪০ পাউন্ড মূলধন সংগ্রহ করে একটি সমবায় বিপণি বা ব্যবসা শুরু করেন।
সমবায় প্রথার কার্যকারিতা:
(i) কম মূল্যে খাঁটি পণ্য সরবরাহ: সমবায় সমিতির মাধ্যমে পাইকারি দরে সরাসরি উৎপাদকের কাছ থেকে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী কেনা হতো। এর ফলে সমবায়ের সদস্যরা বাজারের চেয়ে অনেক সস্তায় জিনিসপত্র পেতেন।
(ii) মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান: সমবায় ব্যবস্থার ফলে দালাল বা মধ্যস্বত্বভোগী ফড়িয়াদের পকেট ভরার সুযোগ বন্ধ হয়ে যায় এবং ক্রেতারা সরাসরি লাভবান হন।
(iii) লভ্যাংশ বণ্টন: সমবায় ব্যবসা থেকে যে লাভ হতো, তা সদস্যদের শেয়ার বা অবদানের আনুপাতিক হারে সবার মধ্যে বণ্টন করে দেওয়া হতো। (রচডেল সমবায় প্রথম বছরেই ১৬০ পাউন্ড লাভ করেছিল)।
(iv) বিশ্বব্যাপী প্রসার: এই সফল অর্থনৈতিক মডেলটি দ্রুত পশ্চিম ইউরোপ, স্ক্যান্ডিনেভিয়া এবং আমেরিকায় ছড়িয়ে পড়ে। এমনকি ক্ষুদ্র দুগ্ধ খামারিরাও সমবায়ের মাধ্যমে মাখন ও ডিম বিদেশে রপ্তানি করতে সক্ষম হয়েছিল।
(ঞ) শিক্ষা ও চিকিৎসার ক্ষেত্রে শিল্প বিপ্লবের অবদান কী?
উত্তরঃ শিক্ষার ক্ষেত্রে অবদান:
(i) গণশিক্ষা ও অবৈতনিক আইন: উন্নত শিল্প গড়ে তোলার জন্য দক্ষ ও শিক্ষিত শ্রমিকের প্রয়োজন অনুভূত হওয়ায় ইউরোপ ও জাপানে অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা আইন প্রণয়ন করা হয়।
(ii) পাবলিক লাইব্রেরি স্থাপন: উনবিংশ শতকের শেষের দিকে আমেরিকায় সাধারণ মানুষের স্বশিক্ষার জন্য বহু স্থানে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ‘পাবলিক লাইব্রেরি’ গড়ে তোলা হয়।
(iii) নৈশ বিদ্যালয়: ডেনমার্কে কর্মজীবী ও বয়স্ক ব্যক্তিদের শিক্ষার সুযোগ করে দিতে ‘নৈশ পাঠশালা’ বা নাইট স্কুল চালু করা হয়।
চিকিৎসা বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে অবদান:
(i) অ্যানেস্থেশিয়া বা চেতনানাশক আবিষ্কার: উনবিংশ শতকের শুরুতে চেতনাহীন ওষুধের আবিষ্কার শল্য চিকিৎসাকে ব্যথাহীন করে তোলে। ক্রফোর্ড ডব্লিউ লং (১৮৪২) এবং টি জি মর্টন (১৮৪৬) সফলভাবে এর প্রয়োগ করেন।
(ii) জীবাণুনাশক ও প্রতিষেধক আবিষ্কার: জোসেফ লিস্টার ক্ষতস্থানে পচন রোধ করতে অ্যান্টিসেপটিক পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। ফরাসি বিজ্ঞানী লুই পাস্তুর জলাতঙ্ক ও অ্যানথ্রাক্স রোগের প্রতিষেধক বা টিকা আবিষ্কার করেন এবং দুধকে জীবাণুমুক্ত করার ‘পাস্তুরাইজেশন’ পদ্ধতি আনেন।
(iii) রঞ্জন রশ্মি (X-Ray): উইলহেম রয়েন্টজেন এক্স-রে আবিষ্কার করেন, যা শরীরের ভেতরের হাড়ের ফাটল বা রোগ সনাক্ত করা অতি সহজ করে তোলে।
২। সংক্ষিপ্ত প্রশ্ন।
(ক) শিল্প বিপ্লবের শুরুতে সূতা কাটার ক্ষেত্রে কী কী আবিষ্কার হয়েছিল? সেগুলোতে কার কার অবদান ছিল?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের শুরুতে সুতা কাটার ক্ষেত্রে নিম্নলিখিত যন্ত্রগুলি আবিষ্কৃত হয়েছিল:
(i) স্পিনিং জেনি: ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে জেমস হারগ্রিভস এটি আবিষ্কার করেন, যা সুতা কাটার গতি বৃদ্ধি করে।
(ii) ওয়াটার ফ্রেম: ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে রিচার্ড আরকরাইট জলশক্তিচালিত এই সুতা কাটার যন্ত্রটি তৈরি করেন।
(iii) মিউল: ১৭৭৯ খ্রিস্টাব্দে স্যামুয়েল ক্রম্পটন পূর্বের যন্ত্রগুলির ত্রুটি দূর করে অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও শক্ত সুতা কাটার জন্য এই যন্ত্রটি আবিষ্কার করেন।
(খ) কাপড় বোনার ক্ষেত্রে কার কী অবদান ছিল?
উত্তরঃ কাপড় বোনার ক্ষেত্রে প্রধান দুটি বৈপ্লবিক অবদান ছিল:
(i) জন কে: ১৭৩৩ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘ফ্লাইং সাটল’ বা ‘উড়ন্ত মাকু’ আবিষ্কার করেন। এর ফলে অতি কম সময়ে অনেক বেশি চওড়া কাপড় বোনা সম্ভব হয়।
(ii) এডমাণ্ড কার্টরাইট: ১৭৮৫ খ্রিস্টাব্দে তিনি বাষ্প বা জলশক্তিচালিত তাঁত বা ‘পাওয়ার লুম’ আবিষ্কার করেন, যা কাপড় বোনার কাজে মানুষের কায়িক শ্রমের অবসান ঘটায়।
(গ) শিল্প বিপ্লবে জেমস ওয়াটের অবদান কী ছিল?
উত্তরঃ ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে জেমস ওয়াট বাষ্পচালিত ইঞ্জিন বা স্টিম ইঞ্জিন আবিষ্কার করেন। তিনি থমাস নিউকমেন-এর আবিষ্কৃত পাম্পকে আরও উন্নত ও ব্যবহারোপযোগী করে তোলেন। এই বাষ্পীয় শক্তির আবিষ্কারের ফলে কয়লা খনি থেকে জল বের করা সহজ হয়ে যায় এবং কয়লা খনির কাছাকাছি নদীর জলশক্তির ওপর নির্ভর না করে যেকোনো স্থানে বৃহৎ টেক্সটাইল বা বস্ত্র কারখানা স্থাপন করা সম্ভব হয়।
(ঘ) রাস্তা ও খাল নির্মাণে শিল্প বিপ্লবের অবদান কী?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের ফলে ভারী মালামাল কম খরচে পরিবহণের জন্য জলপথে ব্যাপকভাবে খাল কাটা শুরু হয়, বিশেষ করে অষ্টাদশ শতকের শেষদিকে ফরাসি দেশ, গ্রেট ব্রিটেন এবং আমেরিকা খাল কেটে নদী ও হ্রদগুলির মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। সড়কপথের ক্ষেত্রে, স্কটল্যান্ডের জন ম্যাকাডেম পাথরকুচি ও আলকাতরা দিয়ে মজবুত পিচ রাস্তা তৈরির পদ্ধতি আবিষ্কার করেন। এর ফলে ভারী মালবাহী গাড়ি ও ঘোড়ার গাড়ি দ্রুতগতিতে যাতায়াত করতে শুরু করে।
(ঙ) সমবায় প্রথা কী?
উত্তরঃ কারখানার মালিক বা মধ্যস্বত্বভোগীদের চরম অর্থনৈতিক শোষণ থেকে বাঁচতে শ্রমিকেরা নিজেদের মধ্যে ছোট ছোট পুঁজি সংগ্রহ করে পাইকারি হারে সস্তায় জিনিসপত্র কেনা এবং নিজেদের মধ্যে বিক্রয় করার যে যৌথ পদ্ধতি গড়ে তোলে, তাকে সমবায় প্রথা বলা হয়। ১৮৪৪ খ্রিস্টাব্দে ইংল্যান্ডের রচডেল নামক স্থানে একদল তাঁতি প্রথম এই সমবায় প্রথার সফল প্রবর্তন করেন।
(চ) শ্রমিক সংগঠনের প্রয়োজনীয়তা কী?
উত্তরঃ শিল্প বিপ্লবের ফলে শ্রমিকেরা চরম অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে দৈনিক ১২ থেকে ১৫ ঘণ্টা নামমাত্র মজুরিতে কাজ করতে বাধ্য হতো এবং যেকোনো সময়ে ছাঁটাইয়ের ঝুঁকিতে থাকত। কারখানার মালিক বা পুঁজিপতিদের এই শোষণ ও অত্যাচারের হাত থেকে নিজেদের রক্ষা করা, কাজের সময় দৈনিক ৮ ঘণ্টা নির্ধারণের দাবি জানানো, মজুরি বৃদ্ধি এবং কাজের নিরাপত্তা ও ভোটাধিকার আদায়ের জন্য শ্রমিকদের ঐক্যবদ্ধ হয়ে শ্রমিক সংগঠন বা ট্রেড ইউনিয়ন গড়ে তোলার তীব্র প্রয়োজনীয়তা ছিল।
(ছ) ‘রঞ্জন রশ্মি’র আবিষ্কারক কে? কী কাজে তা ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ আবিষ্কারক: জার্মান বিজ্ঞানী উইলহেম রয়েন্টজেন ‘রঞ্জন রশ্মি’ বা এক্স-রে আবিষ্কার করেন।
ব্যবহার: চিকিৎসকেরা এই রঞ্জন রশ্মির সাহায্যে মানবদেহের ভেতরের হাড়ের ফাটল এবং বিভিন্ন অভ্যন্তরীণ রোগের বিষয়ে নিখুঁত তথ্য জানতে পারেন।
(জ) জেঘুটুলের উপযোগিতা কী?
উত্তরঃ জেঘুটুলের উপযোগিতা: বিজ্ঞানী জেথ্রু টুল কৃষিকাজে বীজ বপনের জন্য ‘ড্রিল’ নামক একটি উন্নত যন্ত্র উদ্ভাবন করেন। এর উপযোগিতা হলো— এটি জমিতে নির্দিষ্ট দূরত্ব বজায় রেখে সুন্দরভাবে নালা কেটে বীজ বপন করতে পারত, যার ফলে বীজ নষ্ট হওয়া বন্ধ হয় এবং শস্যের উৎপাদন বহুগুণ বৃদ্ধি পায়।
(ঝ) আধুনিক রাস্তা বানানোর নির্মাণ কৌশল কী? আবিষ্কারক কে?
উত্তরঃ নির্মাণ কৌশল: এই পদ্ধতিতে ক্রমান্বয়ে বড় থেকে ছোট আকারের পাথরকুচি স্তরে স্তরে বিছিয়ে দেওয়া হতো এবং তার ওপর তরল আলকাতরা বা পিচ প্রয়োগ করে রাস্তাটিকে মসৃণ ও জলনিরোধক বা মজবুত পাকা রাস্তায় রূপান্তর করা হতো (যা ‘ম্যাকাডাম পদ্ধতি’ নামে পরিচিত)।
আবিষ্কারক: স্কটল্যান্ডের অধিবাসী জন ম্যাকাডেম।
(ঞ) টাউনসেণ্ডের অবদান কী?
উত্তরঃ টাউনসেণ্ডের অবদান: ১৭৩০ খ্রিস্টাব্দে লর্ড টাউনশেন্ড তাঁর নিজের ফার্মে পরীক্ষা চালিয়ে প্রমাণ করেন যে, মাটির উর্বরতা বজায় রাখার জন্য জমি পতিত ফেলে রাখার প্রয়োজন নেই। জমির উর্বরতা ধরে রাখতে তিনি ফসল অদল-বদল করে বা ‘শস্য আবর্তন পদ্ধতি’ তে বছরে চারবার চাষ করার কৌশল দেখান, যার ফলে মাটির উর্বরতা বৃদ্ধির পাশাপাশি গবাদি পশুর জন্য শীতকালীন খাদ্যের অভাবও দূর হয়।
৩। অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর।
(ক) কৃষিক্ষেত্রে প্রথম আবিষ্কারটি কী?
উত্তরঃ কৃষিক্ষেত্রে প্রথম আবিষ্কারটি ছিল বিজ্ঞানী জেথ্রু টুলের উদ্ভাবিত বীজ বপন যন্ত্র ‘ড্রিল’।
(খ) ‘রেডিয়াম’-এর আবিষ্কারক কে?
উত্তরঃ ১৮৯৮ খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কৃত রেডিয়ামের আবিষ্কারক হলেন ফরাসি বিজ্ঞানী পিয়ারি কুরি এবং তাঁর পত্নী মেরি কুরি।
(গ) ‘নিরাপদ প্রদীপ’ কার আবিষ্কার?
উত্তরঃ খনি গর্ভে নিরাপদ কাজের জন্য ‘নিরাপদ প্রদীপ’ আবিষ্কার করেছিলেন স্যার হামফ্রে ডেভি।
(ঘ) ‘শিল্প বিপ্লব’ আখ্যাটি কার দেওয়া?
উত্তরঃ কায়িক শ্রমের বদলে যন্ত্রনির্ভর উৎপাদন ব্যবস্থার আমূল পরিবর্তনকে বোঝাতে বিখ্যাত ঐতিহাসিক আর্নল্ড টয়েনবি প্রথম ‘শিল্প বিপ্লব’ নামটির প্রচলন বা আখ্যা দিয়েছিলেন।
(ঙ) ‘দাস কেপিটেল’ কার রচনা?
উত্তরঃ বিখ্যাত গ্রন্থ ‘দাস ক্যাপিটাল’ কার্ল মার্ক্স এবং ফ্রেডেরিক এঙ্গেলস- এর যৌথ রচনা।
(চ) রিচার্ড আর্করাইট কে?
উত্তরঃ রিচার্ড আর্করাইট ছিলেন একজন ইংরেজ উদ্ভাবক ও শিল্পপতি, যিনি ১৭৬৮ খ্রিস্টাব্দে জলশক্তিচালিত সুতা কাটার যন্ত্র ‘ওয়াটার ফ্রেম’ আবিষ্কার করেছিলেন।
(ছ) চার্লস গুড ইয়ার কী আবিষ্কার করেন?
উত্তরঃ ১৮৩৯ খ্রিস্টাব্দে চার্লস গুড ইয়ার রবারকে গন্ধকের সঙ্গে মিশিয়ে শক্ত ও কঠিনতর করার প্রক্রিয়া বা রবার ভলকানাইজেশন পদ্ধতি আবিষ্কার করেন।
(জ) স্পিনিং জেনি কার আবিষ্কার?
উত্তরঃ ১৭৬৪ খ্রিস্টাব্দে আবিষ্কৃত সুতা কাটার যন্ত্র ‘স্পিনিং জেনি’ জেমস হারগ্রিভস- এর আবিষ্কার।
(ঝ) ‘ওয়াটার ফ্রেম’-এর আবিষ্কারক কে?
উত্তরঃ ওয়াটার ফ্রেম’ এর আবিষ্কারক হলেন রিচার্ড আর্করাইট।

