SEBA Class 9 Geography Chapter 3 জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিতরণ

SEBA Class 9 Geography Chapter 3 জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিতরণ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 Geography Chapter 3 জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিতরণ Solutions and select need one. SEBA Class 9 Geography Chapter 3 জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিতরণ Notes Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 Elective Geography Question Answer.

SEBA Class 9 Geography Chapter 3 জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিতরণ

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 9 Geography Textbook Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 Geography Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 3

Textual Question Answer

১। পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা সম্পর্কে যা জান লিখ। কেন এবং কোন সময়সীমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার যথেষ্ট বেশি ছিল?

উত্তরঃ পৃথিবীতে জনসংখ্যা বৃদ্ধির ধারা: মানব ইতিহাসের শুরুতে পৃথিবীর জনসংখ্যা অত্যন্ত ধীরগতিতে বৃদ্ধি পেত।

(i) খ্রিস্টাব্দের শুরুতে পৃথিবীর আনুমানিক জনসংখ্যা ছিল মাত্র ২০০ নিযুত (অর্থাৎ ২০ কোটি)। ঊনবিংশ শতাব্দীতে দীর্ঘ মানব ইতিহাসের পর পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রথমবারের মতো ১ মহানিয়ুত অর্থাৎ ১০০০ নিযুত (১০০ কোটি) অতিক্রম করে।

(ii) এর পরবর্তী মাত্র ২০০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা প্রায় ৭ গুণ বৃদ্ধি পেয়ে প্রায় ৭০০০ নিযুত (৭০০ কোটি) অতিক্রম করে।

(iii) জাতিসংঘের ঘোষণা অনুসারে, ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবর তারিখে পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭০০ কোটি পূর্ণ করেছে।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার কোন সময়সীমায় সবচেয়ে বেশি ছিল এবং কেন:

সময়সীমা: বিংশ শতাব্দীর মধ্যভাগ থেকে, বিশেষ করে ১৯৫০ থেকে ২০০০ সালের মধ্যবর্তী সময়সীমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার সবচেয়ে বেশি ছিল।

(i) এই সময়সীমায় কেবল ৫০ বছরে পৃথিবীর জনসংখ্যা ২৫০ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০০ কোটিতে পৌঁছায়।

(ii) তুলনা করলে দেখা যায়, ১৮০০-১৯৫০ সালের মধ্যকার ১৫০ বছরে যেখানে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছিল ১৫০ কোটি, সেখানে ১৯৫০-২০০০ সালের মধ্যকার মাত্র ৫০ বছরে জনসংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে ৩৫০ কোটি। এই অভূতপূর্ব দ্রুত বৃদ্ধিকেই পৃথিবীর জনবিস্ফোরণ বলা হয়।

২। পৃথিবীর বর্তমান আনুমানিক জনসংখ্যা কত? জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্থানিক তারতম্যের প্রধান কারণগুলো উল্লেখ কর।

উত্তরঃ পৃথিবীর বর্তমান আনুমানিক জনসংখ্যা: পাঠ্যপুস্তক অনুযায়ী ২০১১ সালের ৩১ অক্টোবরের হিসাব অনুসারে পৃথিবীর জনসংখ্যা ৭০০ কোটি (৭০০০ নিযুত) অতিক্রম করেছে। ২০১০ সালের আনুমানিক হিসাব অনুযায়ী এটি ছিল ৬,৯৭৩ নিযুত (প্রায় ৬৯৭ কোটি)।

জনসংখ্যা বৃদ্ধির স্থানিক বা আঞ্চলিক তারতম্যের প্রধান কারণসমূহ:

(i) পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পার্থক্য: স্থানিক তারতম্যের প্রধানতম কারণ হলো অঞ্চলভেদে আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের স্তরের পার্থক্য।

উন্নত অঞ্চলের চিত্র: ইউরোপ বা উত্তর আমেরিকার মতো উন্নত দেশগুলোতে উচ্চ শিক্ষার হার বেশি, জীবনযাত্রার মান অত্যন্ত উন্নত এবং মহিলারা কর্মক্ষেত্রে অনেক বেশি নিয়োজিত। সেখানে মানুষ ছোট পরিবারের গুরুত্ব বোঝে এবং ক্যারিয়ার সচেতনতার কারণে দেরিতে বিয়ে ও কম সন্তান গ্রহণ করে। 

উন্নয়নশীল ও অনুন্নত অঞ্চলের চিত্র: এশিয়া ও আফ্রিকার মতো উন্নয়নশীল অঞ্চলগুলোতে শিক্ষার হার এবং সামাজিক সচেতনতা ধীরগতিতে বৃদ্ধি পাওয়ায় সেখানে এখনো বড় পরিবারের প্রবণতা বেশি। 

(ii) চিকিৎসা বিজ্ঞানের উন্নতির অসম প্রভাব: বিংশ শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে বিশ্বজুড়ে চিকিৎসা বিজ্ঞানের অভাবনীয় উন্নতি ঘটে। আধুনিক জীবনদায়ী ওষুধ, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং মহামারীর টিকা আবিষ্কারের ফলে বিশ্বজুড়ে মৃত্যুহার ব্যাপকভাবে হ্রাস পায়।

উন্নত দেশগুলো তাদের উন্নত জীবনযাত্রার মাধ্যমে জন্মহার ও মৃত্যুহার—উভয়কেই নিয়ন্ত্রণে এনে একটি ভারসাম্য তৈরি করতে পেরেছে।

(iii) খাদ্য যোগানের নিশ্চয়তার তারতম্য: আধুনিক কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার সব অঞ্চলে সমান নয়। যেসব অঞ্চলে সবুজ বিপ্লব বা উন্নত কৃষি পদ্ধতির মাধ্যমে খাদ্যের উৎপাদন ও সরবরাহ নিশ্চিত হয়েছে, সেসব অঞ্চলের মানুষের পুষ্টির মান বেড়েছে এবং অকাল মৃত্যুর হাত থেকে মানুষ রক্ষা পেয়েছে।

উন্নত অঞ্চলে খাদ্যের নিশ্চয়তা থাকার পরও জীবনধারণের উচ্চ ব্যয়ের কারণে মানুষ সন্তান কম নেয়। অন্যদিকে, দরিদ্র বা কৃষিপ্রধান অবিকশিত অঞ্চলে যেখানে আধুনিক খাদ্যের নিরাপত্তা কম বা অনিশ্চিত, সেখানে এখনো পশুপালন বা পারিবারিক শ্রমের প্রয়োজনে অধিক সন্তান জন্ম দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে।

(iv) ঐতিহাসিক রূপান্তরের পর্যায়গত বৈষম্য: ঐতিহাসিকভাবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশের রূপান্তরের সময়কাল ভিন্ন। ১৭৫০ থেকে ১৯৫০ সাল পর্যন্ত সময়সীমায় শিল্প বিপ্লবের প্রভাবে উন্নত দেশসমূহের জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার (০.৮%) উন্নয়নশীল দেশসমূহ (০.৫%) থেকে বেশি ছিল।

কিন্তু ১৯৫০-১৯৭০ সালের পর থেকে এই চিত্র সম্পূর্ণ উল্টে যায়। উন্নত দেশগুলো তাদের রূপান্তরের শেষ ধাপে এসে স্থিতিশীলতায় পৌঁছেছে, কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলো এখনো রূপান্তরের মাঝের ধাপে থাকায় সেখানে ‘জনবিস্ফোরণ’ ঘটছে।

৩। পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির আঞ্চলিক তারতম্যের একটি চিত্র তুলে ধর।

উত্তরঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধির আঞ্চলিক তারতম্য: পরিবর্তিত আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের পার্থক্যের উপর নির্ভর করে পৃথিবীর উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের যথেষ্ট পার্থক্য দেখা যাচ্ছিল। উল্লেখযোগ্য যে ১৭৫০-১৯৫০ সাল পর্যন্ত এই সময়সীমায় উন্নত দেশসমূহের জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার (০.৮ শতাংশ) উন্নয়নশীল দেশসমূহ থেকে (০.৫ শতাংশ) যথেষ্ট বেশি ছিল। কিন্তু অতি বিস্ময়জনকভাবে ১৯৫০-১৯৭০ সাল পর্যন্ত সময়সীমায় এই জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উন্নত এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহের মধ্যে সম্পূর্ণ উল্টো হয়েছে। এই সময়সীমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার উন্নত দেশসমূহে ১.১ শতাংশ এবং উন্নয়নশীল দেশসমূহে ২.২ শতাংশ হয়েছিল। জনসংখ্যা বৃদ্ধির হারের এই পার্থক্য মহাদেশ পর্যায়েও পরিলক্ষিত হয়েছে। 

পৃথিবীর বর্তমান জনসংখ্যা বৃদ্ধির আঞ্চলিক তারতম্যের একটি চিত্র: 

৪। পৃথিবীর জনসংখ্যা বিতরণ সম্পর্কে যা জান লিখ। অসম বিতরণের প্রধান কারণগুলো উল্লেখ কর।

উত্তরঃ পৃথিবীর জনসংখ্যা বিতরণ: পৃথিবীর জনসংখ্যা সব জায়গায় সমানভাবে বিস্তৃত নয়, বরং অত্যন্ত অসমভাবে বিন্যস্ত। অনুকূল প্রাকৃতিক ও আর্থ-সামাজিক অবস্থার জন্য পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই উত্তর গোলার্ধে কেন্দ্রীভূত। ২০১০ সালের তথ্য অনুযায়ী, এশিয়া মহাদেশ একাই বিশ্বের ৬১% (৪২৫ কোটি) জনসংখ্যা ধারণ করে, যেখানে ওসেনিয়া মহাদেশ ধারণ করে মাত্র ০.৫% (৩.৬ কোটি)।

অসম বিতরণের প্রধান কারণসমূহ প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা যায়:

(ক) প্রাকৃতিক কারকসমূহ: 

(i) জলবায়ু: অত্যধিক ঠান্ডা, অতিরিক্ত গরম, অতিবৃষ্টি বা খরাপ্রবণ অঞ্চল মানুষের বসবাসের উপযোগী নয়। তাই মনোরম ও মৃদু জলবায়ুর অঞ্চলে মানুষ বেশি বাস করে। 

(ii) ভূ-অবয়ব বা ভূমিরূপ: পাহাড়-পর্বতের খাড়া ঢালের চেয়ে সমতল ভূমি এবং উর্বর নদী উপত্যকায় কৃষিকাজ ও যাতায়াত সহজ হওয়ায় সেখানে ঘন জনবসতি গড়ে ওঠে। 

(iii) মৃত্তিকা বা মাটি: উর্বর মাটি কৃষির জন্য অনুকূল হওয়ায় নদী অববাহিকায় জনবসতি ঘন হয়। 

(iv) শক্তি ও খনিজ সম্পদ: খনিজ সমৃদ্ধ অঞ্চলে কর্মসংস্থান ও শিল্পের সুবিধার জন্য মানুষ বেশি বাস করে।

(খ) আর্থ-সামাজিক কারকসমূহ: 

(i) যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থা: উন্নত রাস্তাঘাট ও যাতায়াত ব্যবস্থার ওপর ভিত্তি করে জনবসতি গড়ে ওঠে। 

(ii) আর্থ-সামাজিক অবস্থা: কর্মসংস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা ও উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ সুবিধা জনসংখ্যা আকর্ষণ করে।

৫। জনসংখ্যা বিতরণের ক্ষেত্রে ভূ-অবয়ব ও জলবায়ুর ভূমিকা সম্পর্কে উদাহরণসহ আলোচনা কর।

উত্তরঃ জনসংখ্যা বিতরণের ক্ষেত্রে ভূ-অবয়ব ও জলবায়ুর ভূমিকা উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(ক) ভূ-অবয়বের ভূমিকা:

কার্যকারণ: ভূ-অবয়ব বা ভূমিরূপের তারতম্যের ওপর যাতায়াত ব্যবস্থা, ঘরবাড়ি নির্মাণ এবং কৃষিকাজের উপযোগিতা নির্ভর করে। খাড়া ঢালযুক্ত ও বন্ধুর পার্বত্য অঞ্চলে রাস্তাঘাট ও রেললাইন তৈরি করা অত্যন্ত ব্যয়বহুল,যাতায়াত কঠিন এবং চাষবাসের জন্য সমতল জমির অভাব থাকে। পক্ষান্তরে, সমতল সমভূমি ও নদী উপত্যকা অঞ্চলে সহজে উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থা গড়ে তোলা যায়, পলিমাটির উর্বরতার কারণে সহজে কৃষিকাজ করা যায় এবং কলকারখানা স্থাপন করা সহজ হয়।

উদাহরণ: 

(i) দুর্গম বন্ধুর ভূ-প্রকৃতির কারণে পৃথিবীর বিখ্যাত পার্বত্য অঞ্চল যেমন, এশিয়ার হিমালয়, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় জনবসতি অত্যন্ত পাতলা বা প্রায় জনশূন্য।

(ii) অপরদিকে, ভারতের গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্র সমভূমি এবং চীনের ইয়াংসি নদীর উর্বর সমতল উপত্যকা অঞ্চলে অনুকূল ভূ-অবয়বের কারণে বিশ্বের সবচেয়ে ঘন জনবসতি গড়ে উঠেছে।

(খ) জলবায়ুর ভূমিকা:

কার্যকারণ: জলবায়ু সরাসরি মানুষের স্বাচ্ছন্দ্যময় জীবনযাপন এবং কৃষিকাজকে নিয়ন্ত্রণ করে। কোনো অঞ্চলের তাপমাত্রা, বৃষ্টিপাতের পরিমাণ এবং কৃষিকার্যের সময়সীমা সম্পূর্ণরূপে জলবায়ুর ওপর নির্ভর করে। উষ্ণতা ও বৃষ্টির ক্ষেত্রে চরমভাবাপন্ন অবস্থা মানব বসতি ও চাষবাসের অনুকূল নয়। এর বিপরীতে সমভাবাপন্ন বা মনোরম জলবায়ু মানুষের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি করে এবং জনবসতি আকর্ষণ করে।

উদাহরণ: 

(i) চরম শীতল আবহাওয়ার জন্য উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের তুন্দ্রা অঞ্চল এবং গ্রিনল্যান্ডে মানুষের বসবাস অত্যন্ত কঠিন।

(ii) অতিরিক্ত গরম ও শুষ্কতার কারণে আফ্রিকার সাহারা ও কালাহারি মরুভূমি এবং এশিয়ার গোবি ও থর মরুভূমি জনবসতিহীন বা অত্যন্ত লঘু জনবসতিপূর্ণ।

৬। পৃথিবীর প্রধান ঘন বসতিপূর্ণ অঞ্চলসমূহের নাম উল্লেখ করে সেগুলোর ভৌগোলিক বৈশিষ্টসমূহ সংক্ষেপে বর্ণনা কর।

উত্তরঃ পৃথিবীর প্রধান ৪টি ঘন বসতিপূর্ণ অঞ্চলের নাম ও সেগুলোর ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য দেওয়া হলো:

(i) দক্ষিণ ও পূর্ব এশিয়া:

অঞ্চলসমূহ: ভারত, বাংলাদেশ, চীন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও পাকিস্তান।

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলে সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইয়াংসি এবং হোয়াংহো নদীর মতো বিখ্যাত পলিমাটি সমৃদ্ধ অত্যন্ত উর্বর নদী অববাহিকা ও সমভূমি রয়েছে। এখানকার মৌসুমী জলবায়ু কৃষিকাজের জন্য অত্যন্ত অনুকূল এবং পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হয়। পানীয় জল ও সেচের জন্য পর্যাপ্ত সুপেয় জলের সহজলভ্যতা এবং নদীভিত্তিক প্রাচীন যাতায়াত ব্যবস্থা এই অঞ্চলের প্রধান বৈশিষ্ট্য।

(ii) পশ্চিম ও মধ্য ইউরোপ:

অঞ্চলসমূহ: যুক্তরাজ্য, জার্মানি, ফ্রান্স, বেলজিয়াম ও ইতালি।

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কয়লা, আকরিক লোহা এবং অন্যান্য খনিজ সম্পদ থাকায় দ্রুত শিল্পায়ন ও নগরায়ন ঘটেছে। এখানকার সমতল ভূপ্রকৃতি এবং মনোরম ও মৃদু জলবায়ু মানুষের কাজ করার ক্ষমতা দীর্ঘস্থায়ী রাখে। এখানে সড়ক, রেল ও উন্নত নদীপথের অত্যন্ত ঘন জাল বিস্তৃত রয়েছে, যা ব্যবসা-বাণিজ্যে সাহায্য করে।

(iii) উত্তর আমেরিকার উত্তর-পূর্বাঞ্চল:

অঞ্চলসমূহ: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর-পূর্বাঞ্চল এবং কানাডার সীমান্ত সংলগ্ন গ্রেট লেকস অববাহিকা।

ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য: এটি বিশ্বের অন্যতম প্রধান শিল্প ও বাণিজ্যিক অঞ্চল। খনিজ সম্পদ -এর সহজলভ্যতা, জলবিদ্যুৎ উৎপাদনের সুবিধা, আটলান্টিক মহাসড়কের মাধ্যমে ইউরোপের সাথে উন্নত সমুদ্র বাণিজ্য এবং অত্যন্ত উন্নত নাগরিক সুযোগ-সুবিধা ও প্রযুক্তিগত বিকাশ এই অঞ্চলের ঘন বসতি সৃষ্টির মূল কারণ।

৭। পৃথিবীর প্রধান অতি লঘু জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ কী কী? সেইসব স্থানে জনবসতি লঘু হওয়ার কারণগুলো কী কী?

উত্তরঃ প্রকৃতির বৈরী ভাব এবং জীবনধারণের চরম প্রতিকূলতার কারণে পৃথিবীর বিস্তীর্ণ অঞ্চল জুড়ে অত্যন্ত পাতলা বা লঘু জনবসতি দেখা যায়। 

প্রধান অতি লঘু জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলসমূহ এবং সেখানে বসতি লঘু হওয়ার কারণসমূহ উল্লেখ করা হলো:

(i) অতি শীতল মেরু ও তুন্দ্রা অঞ্চল:

অঞ্চলসমূহ: উত্তর আমেরিকা ও ইউরোপের উত্তরভাগের তুন্দ্রা অঞ্চল, গ্রিনল্যান্ড এবং অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ।

লঘু হওয়ার কারণ: বছরের অধিকাংশ সময় (প্রায় ৮-৯ মাস) ভূমি বরফের নিচে ঢাকা থাকে। চরম ও কঠোর শীতকাল এবং হিমাঙ্কের নিচে থাকা তাপমাত্রা এখানে সাধারণ চাষবাস সম্পূর্ণ অসম্ভব করে তোলে।

(ii) উষ্ণ ও শুষ্ক মরুভূমি অঞ্চল:

অঞ্চলসমূহ: আফ্রিকার সাহারা ও কালাহারি মরুভূমি, এশিয়ার গোবি ও থর মরুভূমি এবং অস্ট্রেলিয়ার বিশাল মরু অঞ্চল।

লঘু হওয়ার কারণ: বাতাসে জলীয়বাষ্পের তীব্র অভাব এবং অতি সামান্য বৃষ্টিপাত। পানির চরম সংকট, অতিরিক্ত দৈনিক তাপমাত্রা এবং অনুর্বর বালিময় মাটির কারণে এই অঞ্চলগুলো চাষবাস ও বসবাসের অযোগ্য।

(iii) নিরক্ষীয় অতিবৃষ্টি বনাঞ্চল:

অঞ্চলসমূহ: দক্ষিণ আমেরিকার আমাজন অববাহিকা এবং আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকার দুর্গম বনাঞ্চল।

লঘু হওয়ার কারণ: প্রতিদিনের অতিরিক্ত বৃষ্টিপাত এবং চরম স্যাঁতসেঁতে ও অস্বাস্থ্যকর গরম আবহাওয়া। বনাঞ্চল অত্যন্ত ঘন, সূর্যালোক মাটিতে পৌঁছায় না এবং বিভিন্ন বিষাক্ত জীবজন্তু ও মশাবাহিত সংক্রামক রোগের প্রাদুর্ভাব এখানে জীবনকে ঝুঁকিপূর্ণ করে তোলে।

(iv) দুর্গম উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল:

অঞ্চলসমূহ: এশিয়ার হিমালয়, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালা।

লঘু হওয়ার কারণ: তীব্র খাড়া ঢাল ও বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে ঘরবাড়ি ও রাস্তাঘাট তৈরি করা প্রায় অসম্ভব। এছাড়া উচ্চতা বাড়ার সাথে সাথে অক্সিজেনের অভাব, তীব্র ঠান্ডা এবং চাষবাসের উপযোগ্য সমতল জমির অভাবের কারণে এখানে জনসংখ্যা অত্যন্ত কম থাকে।

৮। ‘জন প্রব্রজন’ বলতে কী বোঝ? জন প্রব্রজন’ কত প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ কোনো দেশ বা জনগোষ্ঠীর মানুষ যখন তাদের বসবাসের স্থান ত্যাগ করে অন্য কোনো স্থানে গিয়ে দীর্ঘকালীনভাবে বসবাস করতে শুরু করে, তখন সেই স্থান পরিবর্তনের প্রক্রিয়াকে জন প্রব্রজন বলা হয়। অর্থাৎ, মানুষের এক স্থান থেকে অন্য স্থানে স্থায়ী বা দীর্ঘমেয়াদি বসবাসের উদ্দেশ্যে স্থানান্তরই হল জন প্রব্রজন।

জন প্রব্রজন প্রধানত দুই প্রকার—

১। অভ্যন্তরীণ জন প্রব্রজন: যখন কোনো দেশের সীমানার মধ্যেই মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে গিয়ে বসবাস করে, তখন তাকে অভ্যন্তরীণ জন প্রব্রজন বলে। 

২। আন্তর্জাতিক জন প্রব্রজন: যখন কোনো ব্যক্তি নিজের দেশ ত্যাগ করে অন্য একটি দেশে গিয়ে বসবাস করতে শুরু করে, তখন তাকে আন্তর্জাতিক জন প্রব্রজন বলে। 

৯। ‘জন প্রব্রজন’ কেন হয় সংক্ষেপে লিখ।

উত্তরঃ প্রব্রজন মূলত একটি অত্যন্ত জটিল প্রক্রিয়া, যা ভৌগোলিক অবস্থান ও পরিস্থিতি ভেদে বিভিন্ন কারণে ঘটে থাকে। 

প্রধানত নিচের কারণগুলোর জন্য মানুষ প্রব্রজন করে:

(i) অর্থনৈতিক কারণ: জীবিকার অন্বেষণ, ভালো চাকরি বা কর্মসংস্থানের সুযোগ এবং উন্নত আয়ের আশায় মানুষ এক স্থান থেকে অন্য স্থানে (বিশেষ করে গ্রাম থেকে শহরে বা অনুন্নত দেশ থেকে উন্নত দেশে) স্থানান্তরিত হয়। 

(ii) সামাজিক কারণ: সামাজিক সুযোগ-সুবিধা যেমন—উন্নত শিক্ষা, আধুনিক চিকিৎসা এবং নাগরিক জীবনযাত্রার টানে মানুষ গ্রামাঞ্চল থেকে শহরের দিকে প্রব্রজন করে। এছাড়াও সামাজিক কারকের অন্তর্গত বৈবাহিক কারণেও প্রচুর পরিমাণে প্রব্রজন ঘটে, যেখানে নারীদের প্রব্রজনের অনুপাত সবচেয়ে বেশি থাকে। 

(iii) রাজনৈতিক ও ঐতিহাসিক কারণ: যুদ্ধবিগ্রহ, দাঙ্গা, রাজনৈতিক নিপীড়ন, কোনো শক্তিশালী দেশের আগ্রাসন অথবা রাষ্ট্র বা সীমানা বিভাজনের কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে শরণার্থী বা বাস্তুচ্যুত হিসেবে প্রব্রজন করে।

১০। ‘জন প্রব্রজন’- এর আকর্ষী ও বিকর্ষী কারকসমূহ উল্লেখ কর।

উত্তরঃ জন প্রব্রজন’-এর আকর্ষী ও বিকর্ষী কারকসমূহ:

জন প্রব্রজন’-এর প্রধান আকর্ষী কারকসমূহ:

(i) উন্নত কর্মসংস্থান, ভালো চাকরি এবং অধিক আয়ের সুবিধা।

(ii) ভালো শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থা এবং উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ।

(iii) রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা, ব্যক্তিগত নিরাপত্তা এবং শান্তিময় সামাজিক পরিবেশ।

অনুকূল প্রাকৃতিক ও মনোরম জলবায়ু।

প্রধান বিকর্ষী কারকসমূহ:

(i) স্থানীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থানের তীব্র অভাব বা বেকারত্ব।

(ii) প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও পরিবেশগত বিপর্যয় (যেমন—নদীভাঙন, খরা, বন্যা ইত্যাদি)।

(iii) রাজনৈতিক অস্থিরতা, যুদ্ধবিগ্রহ, দাঙ্গা-হাঙ্গামা এবং সামাজিক অনিরাপত্তা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top