SEBA Class 9 Geography Chapter 4 জনবসতি Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 Geography Chapter 4 জনবসতি Solutions and select need one. SEBA Class 9 Geography Chapter 4 জনবসতি Notes Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 Elective Geography Question Answer.
SEBA Class 9 Geography Chapter 4 জনবসতি
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 9 Geography Textbook Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 Geography Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
জনবসতি
Chapter: 4
| Textual Question Answer |
১। ‘জন-বসতি’ বলতে কী বোঝায়? এর সৃষ্টি ও বিকাশ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা কর।
উত্তরঃ জন-বসতি: মানুষের জীবন নির্বাহের জন্য নির্ধারিত হওয়া বসবাসযোগ্য স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থানকে জনবসতি বলা হয়। খাদ্যের পর মানুষের নিজেকে বিভিন্ন প্রাকৃতিক শক্তি ও বন্য জীবজন্তু থেকে সুরক্ষা প্রদান ছাড়াও সামাজিক জীবনযাপনের সুবিধার্থে বাসস্থানের প্রয়োজন পড়ে।
জনবসতির সৃষ্টি ও বিকাশ মানব সভ্যতার ইতিহাসে জনবসতির সৃষ্টি ও বিকাশ প্রধানত পরিবেশগত সুবিধা এবং মানুষের জীবন ধারণের প্রয়োজনের ওপর ভিত্তি করে ঘটেছে:
(i) স্থান নির্বাচন ও প্রাকৃতিক অনুকূলতা: বসতি স্থাপনের ক্ষেত্রে মানুষ সর্বদা জল ও মাটির সহজলভ্যতাকে প্রাধান্য দেয়। সাধারণত বন্যার সম্ভাবনা নেই এমন উঁচু জমি, খাদ্যবস্তুর প্রাচুর্য, অনুকূল জলবায়ু এবং গৃহ নির্মাণের উপযোগী প্রাকৃতিক সামগ্রী সমৃদ্ধ সুরক্ষিত স্থানগুলোকেই বসতি স্থাপনের জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।
(ii) বিকাশের চালিকাশক্তি: যেসব স্থানে প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদ, বনজ সম্পদ, কৃষিজ সম্পদ এবং উন্নত যাতায়াত ব্যবস্থার সুযোগ থাকে, সেখানে জনবসতি অত্যন্ত দ্রুত গতিতে বিকাশ লাভ করে।
(iii) সামাজিক ও ধর্মীয় প্রভাব: মানুষের প্রচলিত সামাজিক ও ধর্মীয় রীতি-নীতিও বসতি গঠনে প্রভাব ফেলে। যেমন—সুরক্ষার জন্য এবং সামাজিক বা ধর্মীয় আচার পালনের উদ্দেশ্যে মন্দির, মসজিদ, নামঘর বা গির্জাকে কেন্দ্র করে ঘন বসতি গড়ে ওঠে।
(iv) গ্রাম থেকে নগরে রূপান্তর: শুরুতে পৃথিবীর সব বসতিই মূলত গ্রাম হিসেবে গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে অনুকূল ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে কোনো কোনো কৃষিভিত্তিক গ্রাম ব্যবসা-বাণিজ্যের কেন্দ্রে পরিণত হয়ে ধীরে ধীরে নগরে রূপান্তরিত হয়।
২। ‘বসতি ভূগোল’ কাকে বলে? এর মূল বিষয়বস্তু সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।
উত্তরঃ বসতি ভূগোল: ভূগোলের যে শাখায় মানুষের বসতি, বসতির বিস্তার এবং এর সাথে জড়িত বিভিন্ন প্রাকৃতিক, সাংস্কৃতিক ও আর্থ-সামাজিক কারকসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক নিয়ে অধ্যয়ন ও আলোচনা করা হয়, তাকে বসতি ভূগোল বলে।
প্রখ্যাত ভূগোলবিদ হার্টশোর্ণের উদ্ভাবন করা পদ্ধতি অনুযায়ী বসতি ভূগোলের মূল বিষয়বস্তুকে প্রধানত দুটি দৃষ্টিভঙ্গি থেকে আলোচনা করা হয়:
(i) উপাদানভিত্তিক অধ্যয়ন: এর আওতায় বসতির অবস্থান অবস্থিতি ঘরবাড়ির আকৃতি, আকার-আয়তন এবং মানুষের অর্থনৈতিক ক্রিয়াকলাপের মতো বাহ্যিক উপাদানগুলো গুরুত্ব সহকারে আলোচনা করা হয়।
(ii) অঞ্চলভিত্তিক অধ্যয়ন: এর অধীনে কোনো নির্দিষ্ট ভৌগোলিক অঞ্চলে বসতির জন্ম ও বিকাশ, এর বিস্তার, ভৌগোলিক বিতরণ, প্রতিরূপ বা প্রকারভেদ, বৈশিষ্ট্য এবং স্থানিক পার্থক্যসমূহ বিশদভাবে বিশ্লেষণ করা হয়।
(iii) অধ্যয়নের পরিধি: বসতি ভূগোলের অধ্যয়নের বিস্তৃতি একটি অতি সাধারণ ঝুপড়ি বা কুঁড়েঘর থেকে শুরু করে আধুনিক যুগের আকাশচুম্বী অট্টালিকা ও মহানগর পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রাকৃতিক পরিবেশের সাথে মানুষের নিবিড় সম্পর্ক তুলে ধরার পাশাপাশি মানুষের প্রচলিত ধর্মীয় ও সামাজিক রীতিনীতির রূপরেখাও প্রতিফিলিত করে।
৩। উদাহরণসহ ‘জন-বসতি’র শ্রেণি বিভাজন তুলে ধর।
উত্তরঃ উদাহরণসহ ‘জন-বসতি’র শ্রেণি বিভাজন:
নমুনা, গঠন এবং মানুষের বৃত্তির ওপর ভিত্তি করে জনবসতিকে প্রধানত দুটি দৃষ্টিকোণ থেকে ভাগ করা যায়:
(১) মানুষের জীবিকা বা বৃত্তির ওপর ভিত্তি করে শ্রেণিবিভাগ:
গ্রাম্য বসতি: যে বসতির মানুষের প্রধান উপজীবিকা হলো কৃষিকার্য, পশুপালন, মাছ ধরা, কাঠ কাটা এবং খনিজ সম্পদ আহরণ ইত্যাদি প্রাথমিক কাজ।
পৌর বসতি: যে বসতির মানুষের প্রধান জীবিকা হলো অকৃষিজাত কাজ যেমন—শিল্পোদ্যোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও প্রশাসন ইত্যাদি।
(২) নমুনা বা আকার অনুসারে শ্রেণিবিভাগ:
বিরল বসতি: যে বসতিতে বাড়িঘরগুলো একে অপরের থেকে বেশ দূরে দূরে বা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে। সাধারণত প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পন্ন অঞ্চলে এটি দেখা যায়।
কেন্দ্রীভূত বসতি: যেখানে বাড়িঘরগুলো অত্যন্ত কাছাকাছি এবং ঘনভাবে গড়ে ওঠে। জলের উৎস, রাস্তাঘাট, নদীর গতিপথ ইত্যাদি কেন্দ্রীভূত বসতির আকার ও প্রকার নির্ধারণ করে।
কেন্দ্রীভূত বসতিকে মূলত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়:
(i) আয়তক্ষেত্রাকার বসতি: সমগ্র পৃথিবীর প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ গ্রাম্য বসতিতে বাস করে, যার বেশিরভাগের আকৃতি আয়তক্ষেত্রাকার।
(ii) রৈখিক বসতি: ঘরবাড়িগুলো যখন রাস্তা,রেলপথ বা নদীর পাড় ঘেঁষে সরলরেখায় গড়ে ওঠে।
উদাহরণ: ভারতবর্ষের মধ্য ও নিম্ন হিমালয় অঞ্চলের নদী উপত্যকা এবং গঙ্গা-যমুনা সমভূমির রাস্তাঘাটের কাছাকাছি গড়ে ওঠা বসতি।
(iii) বৃত্তাকার বসতি: হ্রদ, বিল বা বড় পুকুরের চারপাশ ঘেঁষে বৃত্তাকারে গড়ে ওঠা বসতি।
তারারূপী বসতি: সমভূমি অঞ্চলে যেখানে বহু পাকা বা কাঁচা রাস্তা এসে এক জায়গায় জড়ো হয়, সেই রাস্তাগুলোর দু-পাশে তারার বিচ্ছুরিত আলোর মতো বাড়িঘর সম্প্রসারিত হয়ে এই বসতি গড়ে ওঠে।
৪। গ্রাম্য ও পৌর বসতি বলতে কী বোঝ? এ-ধরনের বসতির মধ্যে থাকা বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যসমূহ বুঝিয়ে লিখ।
উত্তরঃ গ্রাম্য বসতি: যে অঞ্চলের মানুষের প্রধান জীবিকা কৃষিকার্য এবং কৃষির সাথে সম্পৃক্ত প্রাথমিক উৎপাদনমূলক কার্যাবলী, তাকে গ্রাম্য বসতি বলে।
পৌর বসতি: কোনো একটি গ্রামের অর্থনৈতিক ও ব্যবস্থাপনার রূপান্তরের ফলে সৃষ্ট এমন একটি বসতি অঞ্চল, যেখানে বসবাসকারী সিংহভাগ মানুষ শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও চাকরিজীবী এবং নাগরিক সুযোগ-সুবিধা অনেক বেশি থাকে, তাকে পৌর বা নগরীয় বসতি বলে।
বৈশিষ্ট্যগত পার্থক্যসমূহ:
| গ্রাম্য বসতি | পৌর বসতি |
| প্রধান জীবিকা হলো কৃষিকার্য, পশুপালন, মাছ ধরা, কাঠ কাটা, খনিতে কাজ করা ইত্যাদি। | প্রধান জীবিকা হলো শিল্পোদ্যোগ, ব্যবসা-বাণিজ্য, চাকরি ও সেবা খাত। |
| জনসংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বৃদ্ধির হার কম হয়ে থাকে। | জনসংখ্যা অনেক বেশি থাকে এবং জনসংখ্যার ঘনত্ব ও বৃদ্ধির হার অত্যন্ত বেশি। |
| এখানকার ভূমিদৃশ্য প্রধানত প্রাকৃতিক এবং বাসিন্দাদের জীবনযাত্রা প্রকৃতির ওপর বেশি নির্ভরশীল। | এখানকার ভূমিদৃশ্য সম্পূর্ণরূপে মানবসৃষ্ট এবং অত্যন্ত বৈচিত্র্যময়। |
| ভূমির মূল্য তুলনামূলক কম এবং ভূমির রূপান্তর বা সম্প্রসারণ ধীরগতির হয়। | ভূমির মূল্য অত্যধিক বেশি এবং বাসগৃহের অভিলম্বে প্রসার ও দ্রুত ভূমির ব্যবহার ঘটে। |
৫। বিরল বসতি ও কেন্দ্রীভূত বসতির মধ্যে রয়েছে যে মূল পার্থক্য সেগুলো উল্লেখ কর।
উত্তরঃ বিরল বসতি ও কেন্দ্রীভূত বসতির মধ্যে রয়েছে যে মূল পার্থক্য:
| বিরল বসতি | কেন্দ্রীভূত বসতি |
| এই বসতিতে বাড়িঘরগুলো সাধারণত একে অপরের থেকে বেশ দূরে দূরে বা আলাদা হয়ে অবস্থান করে। | এই বসতিতে বাড়িঘরগুলো অত্যন্ত কাছাকাছি, ঘন এবং গাদাগাদি করে গড়ে ওঠে। |
| পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের প্রতিকূল প্রাকৃতিক পরিস্থিতির কারণে মানুষ বাধ্য হয়ে এভাবে বিচ্ছিন্নভাবে বসতি গড়ে তোলে। | মূলত জলের উৎস, রাস্তাঘাটের প্রসার এবং নদীর গতিপথের মতো অনুকূল প্রাকৃতিক ও সাংস্কৃতিক সুবিধার জন্য গড়ে ওঠে। |
| ছড়ানো-ছিটানো প্রকৃতির হওয়ায় এদের সুনির্দিষ্ট কোনো জ্যামিতিক আকৃতি বা প্রকারভেদ থাকে না। | এটি বিন্যাসের ওপর ভিত্তি করে মূলত ৫টি ভাগে বিভক্ত। (ক) আয়তক্ষেত্রাকার। (খ) রৈখিক। (গ) বৃত্তাকার। (ঘ) তারারূপী এবং। (ঙ) ত্রিভুজাকার বসতি। |
৬। উদাহরণ ও চিত্রসহ কেন্দ্রীভূত বসতির অন্তর্গত বসতিসমূহের বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ।
উত্তরঃ উদাহরণ ও চিত্রসহ কেন্দ্রীভূত বসতির অন্তর্গত বসতিসমূহের কেন্দ্রীভূত বসতিকে মূলত ৫টি ভাগে ভাগ করা যায়:
(১) আয়তক্ষেত্রাকার বসতি: সমগ্র পৃথিবীর প্রায় ৫০ শতাংশ মানুষ গ্রাম্য বসতিতে বাস করে। সমতল ভূমিতে কৃষিকাজের সুবিধার জন্য এবং রাস্তাগুলোর সমান্তরাল বিন্যাসের কারণে এই গ্রামীণ বসতিসমূহের বেশিরভাগেরই আকৃতি মূলত আয়তক্ষেত্রাকার হয়ে থাকে।
(২) রৈখিক বসতি: এই ধরনের বসতিতে ঘরদুয়ারগুলো সাধারণত সড়কপথ, রেললাইন ইত্যাদির কাছাকাছি অথবা নদী, জলসিঞ্চন নালা ইত্যাদির পাড়ে গড়ে ওঠে। এছাড়া পাহাড়ি অঞ্চলের নদী উপত্যকা বা সাগরের উপকূলীয় অঞ্চলেও এই বসতি দেখা যায়।
উদাহরণ: ভারতবর্ষের মধ্য ও নিম্ন হিমালয় অঞ্চলের নদী উপত্যকা এবং গঙ্গা-যমুনা সমভূমির রাস্তাঘাটের কাছাকাছি প্রচুর পরিমাণে রৈখিক বসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়।
(৩) বৃত্তাকার বসতি: মানুষ যখন কোনো হ্রদ, বিল অথবা বড় পুকুরের কাছাকাছি জল ব্যবহারের সুবিধার জন্য তার চারপাশ জুড়ে গোলাকার বা বৃত্তাকারে ঘরবাড়ি তৈরি করে, তখন তাকে বৃত্তাকার বসতি বলা হয়।
(৪) তারারূপী বসতি: সাধারণত সমভূমি অঞ্চলের যেখানে কয়েকটি পাকা বা কাঁচা রাস্তা এসে একটি সাধারণ মিলনস্থলে জড়ো হয়, সেই সংযোগকেন্দ্রকে ভিত্তি করে এই বসতি গড়ে ওঠে।
(৫) ত্রিভুজাকার বসতি: যখন দুটি বড় নদী পরস্পরের সাথে মিলিত বা সঙ্গম লাভ করে, তখন সেই সঙ্গমস্থলে জলের সুবিধা এবং উর্বর পলিমাটির সহজলভ্যতাকে কেন্দ্র করে যে ত্রিভুজ আকৃতির জনবসতি গড়ে ওঠে, তাকে ত্রিভুজাকার বসতি বলে।
উদাহরণ: উত্তর ভারতের নদী গঠিত সমভূমি অঞ্চলের বিভিন্ন নদীর সঙ্গমস্থলে এই ত্রিভুজাকার বসতি গড়ে উঠতে দেখা যায়।

৭। নগরীয় বসতির সৃষ্টি ও বিকাশ সম্পর্কে সংক্ষেপে লিখ।
উত্তরঃ সভ্যতার শুরুতে পৃথিবীর সব জনবসতিই মূলত গ্রাম হিসেবে সৃষ্টি হয়েছিল।
পরবর্তীতে বিভিন্ন ভৌগোলিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক কারণে গ্রামগুলো রূপান্তরিত হয়ে নগরীয় বসতির সৃষ্টি ও বিকাশ ঘটিয়েছে:
(i) কৃষিভিত্তিক গ্রাম থেকে রূপান্তর: যেসব গ্রামীণ বসতিতে উর্বর মাটি, সমতল ভূমি, জলের সুবিধা ও যাতায়াত ব্যবস্থার কারণে কৃষিকাজ উন্নত হয়, সেখানকার মানুষের জীবনযাত্রা ও নিরাপত্তা সুসংহত হয়।
(ii) খনিজ সম্পদের প্রভাব: কোনো গ্রামীণ অঞ্চলের কাছাকাছি যদি মূল্যবান খনিজ সম্পদ বা শক্তি সম্পদের সন্ধান পাওয়া যায়, তবে সেখানে দ্রুত কলকারখানা ও খনি শিল্প গড়ে ওঠে।
(iii) যোগাযোগ ও পরিবহন ব্যবস্থার ভূমিকা: নগরীয় বসতি সৃষ্টিতে রাস্তাঘাট, রেলপথ এবং জলপথ তথা পরিবহন ব্যবস্থার উন্নয়ন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
(iv) ধর্মীয় ও সামাজিক বিকাশ: সুরক্ষার প্রয়োজনে সামাজিক সংঘবদ্ধতা এবং মন্দির, মসজিদ, নামঘর বা গির্জাকে কেন্দ্র করে মানুষের স্থায়ী বসবাস শুরু হয়। পরবর্তীতে এই সামাজিক কেন্দ্রগুলো জনসমাগম বৃদ্ধির মাধ্যমে নগরে বিকশিত হয়।
৮। উদাহরণসহ প্রাকার্যের ভিত্তিতে নগরসমূহকে বিভক্ত কর।
উত্তরঃ ভৌগোলিক অবস্থান এবং নগরগুলোতে সম্পাদিত হওয়া প্রধান প্রধান কার্যাবলী বা প্রাকার্যের ওপর ভিত্তি করে নগরসমূহকে প্রধানত দেওয়া ভাগে বিভক্ত করা যায়:
(১) বহু-কার্যভিত্তিক মহানগরী: যেসব বড় নগর একই সাথে প্রশাসনিক, বাণিজ্যিক, শিল্প এবং সাংস্কৃতিক বহুবিধ কার্যাবলী এককভাবে সম্পাদন করে থাকে।
উদাহরণ: ভারতের কলকাতা, মুম্বই ও গুয়াহাটি ইত্যাদি।
(২) সামুদ্রিক বন্দর নগরী: সমুদ্র বা প্রধান নদীপথের পাড়ে বাণিজ্য ও জাহাজ চলাচলের সুবিধাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নগরী।
উদাহরণ: ভারতের হলদিয়া, পারাদ্বীপ ইত্যাদি।
(৩) পার্বত্য স্বাস্থ্য তথা পর্যটন নগরী: মনোরম জলবায়ু এবং সুন্দর প্রাকৃতিক পরিবেশের জন্য যেসব শহর পর্যটন ও স্বাস্থ্য পুনরুদ্ধারের কেন্দ্র হিসেবে বিকশিত হয়।
উদাহরণ: মুসোরি, দার্জিলিং ইত্যাদি।
(৪) তীর্থনগরী বা ধর্মীয় নগরী: কোনো প্রাচীন বা বিখ্যাত ধর্মীয় উপাসনালয় বা ঐতিহাসিক পবিত্র স্থানকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা নগরী।
উদাহরণ: বারানসী, পুরী, ঋষিকেশ ইত্যাদি।
৯। ‘বসতি শ্রেণিক্রম’ বলতে কী বোঝ? এ সম্পর্কে উদাহরণ ও চিত্রসহ সংক্ষেপে লিখ।
উত্তরঃ বসতি শ্রেণিক্রমের বিভিন্ন স্তর: একটি সম্পূর্ণ বসতি শ্রেণিক্রমের একেবারে সর্বনিম্ন স্তরে থাকে কৃষিক্ষেত্র ভিত্তিক বাসগৃহ এবং সর্বোচ্চ বা শীর্ষস্তরে থাকে নগর সংহতি।
এই শ্রেণিক্রমকে প্রধানত দুটি পর্যায়ে দেওয়া স্তরগুলোতে সাজানো হয়:
(ক) গ্রাম্য পর্যায়:
(i) কৃষিক্ষেত্র ভিত্তিক বাসগৃহ: এটি বসতি শ্রেণিক্রমের একেবারে সর্বনিম্ন স্তর, যেখানে কৃষিজমিকে কেন্দ্র করে একক বাড়িঘর গড়ে ওঠে।
(ii) ক্ষুদ্র পল্লি: কয়েকটি সাধারণ বাড়িঘর নিয়ে গঠিত অতি ক্ষুদ্র বসতি অঞ্চল।
(iii) গ্রাম: গ্রামীণ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় ও সংগঠিত স্তর।
(খ) পৌর পর্যায়:
(iv) নগর: অকৃষিজীবী মানুষের প্রাথমিক নগরীয় বসতি স্তর।
(v) মহানগর: নগরের চেয়ে বড়, ঘন এবং বহুমাত্রিক কার্যকারিতা সম্পন্ন নগরীয় অঞ্চল।
(vi) নগরপুঞ্জ: কয়েকটি ছোট-বড় নগর ও শহর যুক্ত হয়ে গড়ে ওঠা বিশাল পৌর অঞ্চল।
(vi) নগর সংহতি: এটি বসতি শ্রেণিক্রমের একেবারে শীর্ষস্তরে বা সর্বোচ্চ স্থানে অবস্থান করে।
গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ: যুক্তরাজ্যের লন্ডন শহরই হলো বিশ্বের সর্বপ্রথম মহানগরী। ১৮১০ সালে এই নগরের জনসংখ্যা বিশ্বের মধ্যে প্রথমবার এক নিযুতের (১০ লক্ষ) সীমা অতিক্রম করেছিল।

১০। গ্রাম্য ও পৌর বসতির ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে সংক্ষেপে লিখ।
উত্তরঃ গ্রাম্য ও পৌর বসতির ভূমি ব্যবহারের বিষয়ে সংক্ষেপে:
(ক) গ্রাম্য বসতির ভূমি ব্যবহার:
কৃষি ও প্রাথমিক কাজের প্রাধান্য: গ্রাম্য বসতির অধিকাংশ ভূমি কৃষিকার্য, ক্ষেতখামার, পশুপালন ও জলাশয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
ডকসিয়াডিস-এর উপাংশ তত্ত্ব বিশিষ্ট ভূগোলবিদ সি. এ. ডকসিয়াডিসের মতে, গ্রাম্য বসতির ভূমি ব্যবহারকে ৪টি উপাংশে ভাগ করা যায়:
(i) সমাঙ্গ অংশ: এটি মূলত কৃষিকাজের জন্য ব্যবহৃত ক্ষেতখামার নিয়ে গঠিত হয়।
(ii) কেন্দ্রীয় অংশ: এটি মানুষের বসবাসের ঘরবাড়ি ও আঙিনা নিয়ে গড়ে ওঠে।
(iii) পরিসংখ্যান অংশ: গ্রামীণ কাঁচা বা পাকা রাস্তাঘাট এবং পথঘাট তৈরিতে এই ভূমি ব্যবহৃত হয়।
(খ) পৌর বসতির ভূমি ব্যবহার :
অকৃষিজ ও জটিল ব্যবহার: পৌর বা নগরীয় বসতির ভূমি অত্যন্ত নিবিড়, বহুমুখী এবং দ্রুত পরিবর্তিত হয়।
ডকসিয়াডিস-এর উপাংশ তত্ত্ব পৌর বসতির ৪টি উপাংশ হলো:
(i) সমাঙ্গ অংশ: এটি মূলত মানুষের বসবাসের জন্য আবৃত্ত আবাসিক অঞ্চল নিয়ে গঠিত হয়।
(ii) কেন্দ্রীয় অংশ: এটি শহরের মূল বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান তথা ব্যবসায়িক এলাকা হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
(iii) পরিসংখ্যান অংশ: উন্নত সড়কপথ, রেলপথ, ফ্লাইওভার এবং শহরের আধুনিক যাতায়াত ব্যবস্থার জন্য এই ভূমি ব্যবহৃত হয়।
উচ্চ মূল্য ও মানবসৃষ্ট দৃশ্যপট: নগরের ভূমির মূল্য অত্যন্ত বেশি হওয়ায় এখানে অনুভূমিক প্রসারের চেয়ে উল্লম্ব প্রসার (বহুতল ভবন) বেশি হয় এবং সম্পূর্ণ ভূমিদৃশ্য মানবসৃষ্ট ও বৈচিত্র্যময় হয়।

