Class 9 History Important Chapter 2 ফরাসি বিপ্লব

SEBA Class 9 History Important Chapter 2 ফরাসি বিপ্লব Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 History Important Chapter 2 ফরাসি বিপ্লব Solutions and select need one. Class 9 History Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 History Additional Question Answer.

Class 9 History Important Chapter 2 ফরাসি বিপ্লব

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. SEBA Class 9 History Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 History Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 2

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ফরাসি বিপ্লব কত সালে এবং কোথায় সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৭৮৯ সালে ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে অবস্থিত ফ্রান্সে ফরাসি বিপ্লব সংঘটিত হয়েছিল।

২। ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সে কোন রাজবংশের রাজত্ব ছিল?

উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের প্রাক্কালে ফ্রান্সে বুরবন রাজবংশের রাজত্ব ছিল।

৩। “আমিই রাষ্ট্র” — এই বিখ্যাত উক্তিটি কোন ফরাসি সম্রাটের ছিল?

উত্তরঃ এই বিখ্যাত উক্তিটি ফরাসি সম্রাট চতুর্দশ লুইয়ের ছিল।

৪। ফরাসি সমাজকে কয়টি সম্প্রদায়ে বা স্তরে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং সেগুলিকে কী বলা হতো?

উত্তরঃ ফরাসি সমাজকে তিনটি সম্প্রদায়ে বা স্তরে বিভক্ত করা হয়েছিল এবং প্রত্যেকটিকে ‘এস্টেট’ বলা হতো।

৫। ফরাসি বিপ্লবের পূর্বে যাজকদের দ্বারা সাধারণ মানুষের থেকে আদায় করা ধর্মীয় করটির নাম কী ছিল?

উত্তরঃ যাজকদের দ্বারা সংগৃহীত সেই ধর্মীয় করটির নাম ছিল ‘টাইথ’।

৬। ফরাসি সমাজে প্রচলিত ভূমিকর এবং লবণ করকে কী নামে অভিহিত করা হতো?

উত্তরঃ ফরাসি সমাজে প্রচলিত ভূমিকরকে ‘টেইল’ এবং লবণ করকে ‘গেবেল’ বলা হতো।

৭। ‘লেটরস ডি কেসে’ কী ছিল?

উত্তরঃ ‘লেটরস ডি কেসে’ ছিল এক ধরণের রাজকীয় গ্রেফতারি পরোয়ানা, যার মাধ্যমে যেকোনো ব্যক্তিকে বিনা বিচারে নির্দিষ্টকালের জন্য কারাগারে বন্দি করে রাখা যেত।

৮। ‘দ্য স্পিরিট অব দ্য লজ’ নামক বিখ্যাত গ্রন্থটি কে রচনা করেছিলেন?

উত্তরঃ এই বিখ্যাত গ্রন্থটি ফরাসি দার্শনিক মন্টেস্কু রচনা করেছিলেন।

৯। “মানুষ স্বাধীন হয়েই জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু শৃঙ্খলের বন্ধন থেকে মুক্ত নয়” — এই বাণীটি কার ছিল?

উত্তরঃ এই বিখ্যাত বাণীটি ফরাসি দার্শনিক জঁ জাক রুশোর ছিল।

১০। আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করা কোন ফরাসি নায়ক একটি স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন?

উত্তরঃ আমেরিকার স্বাধীনতা সংগ্রামে অংশগ্রহণ করা ফরাসি নায়ক লাফায়েত একটি নিজস্ব স্বেচ্ছাসেবক বাহিনী নিয়ে যুদ্ধ করেছিলেন।

১১। ক্যাইয়ার বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ ক্যাইয়ার হলো ফরাসি জনগণের বিভিন্ন অভাব-অভিযোগের লিখিত প্রতিবেদন, যা প্রতিনিধিরা রাজার আদেশে নিজ নিজ নির্বাচনী কেন্দ্র থেকে নিয়ে এসেছিলেন।

১২। টেনিস কোর্টের শপথ কত তারিখে এবং কোন বছরে গৃহীত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০শে জুন তারিখে টেনিস কোর্টের শপথ গৃহীত হয়েছিল।

১৩। বাস্তিল দুর্গের পতন কত তারিখে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ১৪ই জুলাই তারিখে বাস্তিল দুর্গের পতন সংঘটিত হয়েছিল।

১৪। নেপোলিয়ন বোনাপার্ট কোন দ্বীপে এবং কবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন?

উত্তরঃ নেপোলিয়ন বোনাপার্ট ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দের ১৫ই আগস্ট ভূমধ্যসাগরের কর্সিকা নামক একটি ছোট্ট দ্বীপে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।

১৫। কোন বিখ্যাত যুদ্ধের মাধ্যমে এবং কত সালে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল?

উত্তরঃ ১৮১৫ খ্রিস্টাব্দের ওয়াটার্লু যুদ্ধের মাধ্যমে নেপোলিয়নের চূড়ান্ত পরাজয় ঘটেছিল।

দীঘলীয়া প্রশ্ন উত্তর।

১। ফরাসি বিপ্লবের প্রধান সামাজিক কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করো।

উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের প্রধান সামাজিক কারণগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) প্রথম সম্প্রদায়: ফরাসি সমাজের প্রথম স্তরে ছিলেন রোমান ক্যাথলিক ধর্মযাজকের। তৎকালীন ফ্রান্সের প্রায় আড়াই কোটি জনসংখ্যার মধ্যে যাজকদের সংখ্যা ছিল মাত্র ১,৩০,০০০ জনের কাছাকাছি।

তাঁরা ছিলেন পরম সুবিধাভোগী শ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত। রাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ ভূসম্পত্তি তাঁদের করায়ত্তে ছিল এবং তাঁরা সমস্ত প্রকার রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতেন।

(ii) দ্বিতীয় সম্প্রদায়: বংশগৌরবের অধিকারী অভিজাত শ্রেণীর লোকেরা ছিলেন ফরাসি সমাজের দ্বিতীয় স্তরে। তৎকালীন ফ্রান্সে এঁদের সংখ্যা ছিল প্রায় ১,৫০,০০০ জন। 

যাজকদের মতোই তাঁরাও ছিলেন রাষ্ট্রের প্রধান সুবিধাভোগী শ্রেণী। রাষ্ট্রের সমস্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক ও সামরিক উচ্চ পদগুলি কেবল তাঁদের জন্যই সংরক্ষিত থাকত।

(iii) তৃতীয় সম্প্রদায়: যাজক ও অভিজাত ব্যতীত ফ্রান্সের অবশিষ্ট প্রায় ৯৭% মানুষ এই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত ছিলেন। কৃষক, বুর্জোয়া শ্রমিক, বুদ্ধিজীবী এবং সাধারণ শ্রমজীবী মানুষ নিয়ে এই বৃহৎ বঞ্চিত শ্রেণীটি গঠিত হয়েছিল।

কৃষক সমাজ: তৃতীয় সম্প্রদায়ের মধ্যে কৃষকেরাই ছিলেন সবচেয়ে সংখ্যাগরিষ্ঠ। কৃষকদের নিজস্ব জমি ছিল অত্যন্ত সীমিত এবং তাঁরা সামন্ততান্ত্রিক প্রাচীন পদ্ধতিতে চাষবাস করতেন। প্রতিকূল আবহাওয়ার দরুণ ফসল নষ্ট হলে তাঁরা চরম অনাহারে দিন কাটাতেন।

বুর্জোয়া বা মধ্যবিত্ত শ্রেণী: তৃতীয় সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্ত শিক্ষিত, বিত্তশালী ও বুদ্ধিজীবী অংশটি ছিল ‘বুর্জোয়া’ নামে পরিচিত। তাঁরা শিক্ষিত ও অর্থনৈতিকভাবে সফল হওয়া সত্ত্বেও কেবল বংশগৌরব না থাকার কারণে সমাজে হেয় প্রতিপন্ন হতেন। উচ্চ বংশজাত যাজক ও অভিজাতরা তাঁদের অবজ্ঞার চোখে দেখতেন। 

২। ফরাসি বিপ্লব সংগঠিত করার ক্ষেত্রে দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবে প্রধান দার্শনিক ও বুদ্ধিজীবীদের ভূমিকা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) মন্টেস্কু ১৬৮৯-১৭৫৫: মন্টেস্কু ছিলেন মূলত একজন প্রখ্যাত আইনজ্ঞ। ব্যঙ্গাত্মক রচনা ‘পারশিয়ান লেটার্স’-এর মাধ্যমে প্রথম দিকে চারিদিকে তাঁর পরিচিতি ছড়িয়ে পড়ে। তাঁর সুবিখ্যাত গ্রন্থটি হলো ‘দ্য স্পিরিট অব দ্য লজ’। এই গ্রন্থে তিনি ফরাসি রাজতন্ত্রের তীব্র সমালোচনা করেন এবং ইংল্যান্ডের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের ভূয়সী প্রশংসা করে ফ্রান্সের জন্য অনুরূপ শাসন ব্যবস্থার দাবি জানান।

(ii) ভলতেয়ার ১৬৯৪-১৭৭৮: ভলতেয়ার (প্রকৃত নাম: ফ্রাঁসোয়াস মেরি আরোয়ে) একাধারে ছিলেন কবি, নাট্যকার, ঐতিহাসিক এবং সাংবাদিক । তৎকালীন ইউরোপে তাঁর প্রভাব ছিল সুদূরপ্রসারী এবং বিভিন্ন দেশের রাজা-রানিরা তাঁর সাথে বন্ধুত্ব স্থাপন করে গৌরববোধ করতেন। তিনি তাঁর ক্ষুরধার লেখনী ও ব্যঙ্গের সাহায্যে তৎকালীন দুর্নীতিগ্রস্ত চার্চ ব্যবস্থা এবং যাজকদের ভণ্ডামির ওপর তীব্র আঘাত হানেন। চার্চের অন্ধবিশ্বাস ও অসহিষ্ণুতার বিরুদ্ধে তাঁর প্রতিবাদ ফরাসি সমাজকে গভীরভাবে নাড়িয়ে দিয়েছিল।

(iii) জঁ জাক রুশো ১৭১২-১৭৭৮: ফরাসি বিপ্লবীদের ওপর দার্শনিকদের মধ্যে সবচেয়ে গভীর ও প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়েছিল জঁ জাক রুশোর। তাঁর সর্বশ্রেষ্ঠ রাজনৈতিক গ্রন্থ হলো

‘সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট’ বা সামাজিক চুক্তি। এই গ্রন্থের প্রারম্ভেই তাঁর সেই অমোঘ বাণী ঘোষিত হয়েছে— “মানুষ স্বাধীন হয়েই জন্মগ্রহণ করে, কিন্তু শৃঙ্খলের বন্ধন থেকে মুক্ত নয়”।

(iv) অন্যান্য বুদ্ধিজীবী ও বিশ্বকোষ প্রণেতাগণ: মন্টেস্কু, ভলতেয়ার ও রুশো ছাড়াও এই সময় ফরাসি সমাজে যুক্তিবাদী চিন্তার বিস্তারে দিদেরা অ্যালেনবার্ট  হেলভেতিয়াস এবং ব্যারন হলবাক প্রমুখ বুদ্ধিজীবী গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেন।

দিদেরা এবং অ্যালেনবার্টের যৌথ সম্পাদনায় ১৭ খণ্ডে প্রকাশিত ‘বিশ্বকোষ’ তৎকালীন ফ্রান্সের ধর্মান্ধতা, রাজকীয় স্বেচ্ছাচারিতা এবং সামাজিক অন্ধবিশ্বাসের বিরুদ্ধে যুক্তির আলো ছড়িয়ে দেয়। 

৩। টেনিস কোর্টের শপথ বলতে কী বোঝো? ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এর গুরুত্ব আলোচনা করো।

উত্তরঃ টেনিস কোর্টের শপথ বলতে১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০শে জুন ফরাসি বিপ্লবের সূচনালগ্নে সংঘটিত ‘টেনিস কোর্টের শপথ’ ছিল একটি অত্যন্ত যুগান্তকারী ও বৈপ্লবিক ঘটনা। এটি ফরাসি রাজতন্ত্রের একচ্ছত্র ক্ষমতার ভিত্তিকে কাঁপিয়ে দিয়ে জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠার পথ সুগম করেছিল।

টেনিস কোর্টের শপথের প্রেক্ষাপট, মূল ঘটনা এবং ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) টেনিস কোর্টের শপথের প্রেক্ষাপট:

স্টেটস জেনারেলের আহ্বান: ফ্রান্সের তীব্র আর্থিক সংকট দূর করার জন্য রাজা ষোড়শ লুই ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের মে মাসে দীর্ঘ ১৭৫ বছর পর প্রতিনিধি সভা ‘স্টেটস জেনারেল’- এর অধিবেশন আহ্বান করেন।

অধিবেশন সংক্রান্ত জটিলতা: অধিবেশন শুরু হলেও সভার কার্যসূচি কী হবে এবং তিনটি সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা কীভাবে একসাথে বসে আলোচনা করবেন কিংবা তাঁদের ভোট দেওয়ার প্রক্রিয়া কেমন হবে—সে বিষয়ে রাজা কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত বা নিয়ম জানাতে অসমর্থ হন।

(ii) শপথ গ্রহণের বিবরণ:

সভাগৃহে প্রবেশে বাধা: জাতীয় সভা ঘোষণার ঠিক তিনদিন পর, অর্থাৎ ১৭৮৯ খ্রিস্টাব্দের ২০শে জুন সকালে তৃতীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা যখন ভার্সাইয়ের নির্দিষ্ট সভাগৃহে আলোচনার জন্য একত্রিত হতে যান, তখন তাঁরা দেখেন যে সভাগৃহের প্রবেশদ্বার বন্ধ রয়েছে এবং সেখানে রাজকীয় সৈন্যরা পাহারা দিচ্ছে।

টেনিস কোর্টে জমায়েত: রাজার এই স্বৈরাচারী ও অবজ্ঞাপূর্ণ আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে প্রতিনিধিরা পিছু হটেননি। বিপ্লবী নেতা মিরবু এবং আবু সায়েস- এর নেতৃত্বে তাঁরা সভাগৃহের পার্শ্ববর্তী একটি টেনিস খেলার মাঠে সমবেত হন।

(iii) ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে এর গুরুত্ব:

জনগণের সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা: এই শপথের মাধ্যমে প্রথমবারের মতো প্রমাণিত হয় যে ফ্রান্সের চূড়ান্ত বা সার্বভৌম ক্ষমতার অধিকারী আসলে দেশের সাধারণ জনগণ, বংশানুক্রমিক রাজা নন।

রাজার ‘ঐশ্বরিক অধিকার’ তত্ত্বের অবসান: ফরাসি বুরবন রাজারা বিশ্বাস করতেন যে তাঁরা ঈশ্বরের প্রেরিত দূত এবং কেবল ঈশ্বরের কাছেই দায়ী। কিন্তু টেনিস কোর্টের শপথ ঘোষণা করে যে রাজা কোনো ঈশ্বরপ্রদত্ত অধিকারে দেশ শাসন করেন না, বরং তিনি প্রজাদের সম্মতি নিয়েই শাসনকাজ পরিচালনা করতে বাধ্য।

৪। বাস্তিল দুর্গের পতন কীভাবে ঘটেছিল এবং ফরাসি বিপ্লবে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ বাস্তিল দুর্গের পতনের প্রেক্ষাপট, ঘটনার বিবরণ এবং ফরাসি বিপ্লবে এর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) বাস্তিল দুর্গের পতনের প্রেক্ষাপট: রাজার অসন্তোষ ও সৈন্য সমাবেশ: তৃতীয় সম্প্রদায়ের কার্যকলাপে রাজা ষোড়শ লুই অসন্তুষ্ট হলেও সাময়িকভাবে পরিস্থিতি মেনে নিতে বাধ্য হয়েছিলেন এবং যাজক ও অভিজাত শ্রেণীর প্রতিনিধিদের সঙ্গে তাঁদের একসাথে বসার অনুমতি দেন। 

(ii) জাতীয় সভার অনুরোধ ও নেকারের পদচ্যুতি: রাজার এই রহস্যময় সৈন্য সমাবেশের বিরুদ্ধে জাতীয় সভা তীব্র আপত্তি জানায় এবং সৈন্যবাহিনী অপসারণ করার জন্য রাজাকে অনুরোধ করে। কিন্তু রাজা এই অনুরোধে কোনো গুরুত্ব না দিয়ে উল্টো জনপ্রিয় ও প্রভাবশালী অর্থমন্ত্রী নেকারকে পদচ্যুত করেন। 

(iii) গুজব ও গণ-উত্তেজনা: অর্থমন্ত্রী নেকারের পদচ্যুতির খবর ছড়াতেই প্যারিসের সাধারণ মানুষের মনে তীব্র ক্ষোভ ও ভয়ের সঞ্চার হয়। সে সময় চারিদিকে গুজব ছড়িয়ে পড়ে যে, জাতীয় সভাকে বলপূর্বক দমন করতে প্যারিসে রাজকীয় সৈন্যবাহিনী প্রেরণ করা হবে।

ফরাসি বিপ্লবে বাস্তিল পতনের গুরুত্ব:

(i) স্বৈরাচারী রাজকীয় অত্যাচারের অবসান: যেহেতু বাস্তিল দুর্গটি বুরবন রাজাদের একচ্ছত্র স্বৈরাচারিতার প্রতীক ছিল, তাই এর পতনের মধ্য দিয়ে ফরাসি জনগণের ওপর দীর্ঘদিনের রাজকীয় অত্যাচারের প্রতীকী অবসান ঘটে।

(ii) জাতীয় সভার স্বীকৃতি ও জনমানসে প্রেরণা: বাস্তিল পতনের মাধ্যমে প্রমাণিত হয় যে দেশের সাধারণ মানুষের শক্তির সামনে স্বৈরাচারী রাজশক্তিও নতিস্বীকার করতে বাধ্য। প্যারিসের জনগণের এই অসামান্য সাহসী কার্যকে জাতীয় সভা অত্যন্ত প্রশংসার চোখে দেখে এবং একে স্বীকৃতি দেয়।

(iii) জাতীয় ও স্বাধীনতা দিবসের মর্যাদা: এই ঐতিহাসিক ঘটনার গুরুত্বকে স্মরণীয় করে রাখতে ফ্রান্সে ১৪ই জুলাই দিনটিকে ‘জাতীয় দিবস’ হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয়। আজও ফরাসি জাতি এই ১৪ই জুলাই দিনটিকে পরম গৌরবে তাঁদের ‘স্বাধীনতা দিবস’ রূপে পালন করে থাকে।

৫। ফ্রান্সে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ বলতে কী বোঝো? এর মূল বৈশিষ্ট্য ও অবসান কীভাবে হয়েছিল?

উত্তরঃ ফরাসি বিপ্লবের ইতিহাসে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’একটি অত্যন্ত রক্তক্ষয়ী এবং রোমাঞ্চকর অধ্যায়। ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দ থেকে ১৭৯৪ খ্রিস্টাব্দ পর্যন্ত (প্রায় এক বছরের কিছু বেশি সময়) ফ্রান্সে যে চরম দমনমূলক ও উগ্র শাসন চলেছিল, তা-ই ইতিহাসে ‘সন্ত্রাসের রাজত্ব’ নামে পরিচিত।

(i) সন্ত্রাসের রাজত্বের পটভূমি: ১৭৯২ খ্রিস্টাব্দের সেপ্টেম্বর মাসে ফ্রান্সে রাজতন্ত্রের অবসান ঘটিয়ে ‘জাতীয় কনভেনশন’ ও ফরাসি গণরাজ্য প্রতিষ্ঠিত হয়। এরপর ১৭৯৩ খ্রিস্টাব্দের ২১শে জানুয়ারি দেশদ্রোহীতার অপরাধে প্রাক্তন ফরাসি রাজা ষোড়শ লুইকে গিলোটিনে হত্যা করা হয়।

(ii) সন্ত্রাসের রাজত্বের মূল বৈশিষ্ট্যসমূহ: 

জ্যাকোবিন দলের প্রাধান্য ও নেতৃত্ব: সন্ত্রাসের রাজত্বকালে ফ্রান্সের শাসনভার উগ্রপন্থী ও চরমপন্থী জ্যাকোবিন দলের হাতে চলে যায়। এই রক্তক্ষয়ী সন্ত্রাসের প্রধান চালিকাশক্তি ও নেতৃত্ব প্রদানকারীরা ছিলেন— রবসপিয়ের মারাত এবং ডেন্টন। 

ব্যাপক প্রাণহানি ও বিশিষ্টদের মৃত্যু: সন্ত্রাসের রাজত্বকালে ফ্রান্সে এক ত্রাসের রাজত্ব ও রক্তাক্ত পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এই সংক্ষিপ্ত সময়ে ফ্রান্সে হাজার হাজার মানুষকে গিলোটিনে হত্যা করা হয় (যার মধ্যে কেবল প্যারিসেই প্রায় পাঁচ হাজার মানুষের মৃত্যু ঘটেছিল বলে অনুমান করা হয়)। 

গিলোটিনের নিষ্ঠুর ব্যবহার: এই শাসনের সবচেয়ে ভয়ানক বৈশিষ্ট্য ছিল গিলোটিনের ব্যবহার। বিপ্লবী আদালতের মাধ্যমে নামমাত্র বিচারের নামে সামান্য সন্দেহের বশে যেকোনো বিপ্লবী বিরোধী বা সাধারণ মানুষকে বন্দি করা হতো এবং গিলোটিন নামক এক বিশেষ দ্রুত শিরোচ্ছেদ করার যন্ত্রের সাহায্যে প্রকাশ্য দিবালোকে হত্যা করা হতো। 

(iii) সন্ত্রাসের রাজত্বের অবসান: রবসপিয়েরের এই অতি-চরমপন্থী ও একনায়কতান্ত্রিক শাসন ফ্রান্সের সাধারণ মানুষ এবং খোদ জ্যাকোবিন দলের অন্যান্য নরমপন্থী নেতাদেরও অতিষ্ঠ ও আতঙ্কিত করে তুলেছিল। যখন ডেন্টনের মতো জনপ্রিয় বিপ্লবীকেও রবসপিয়ের গিলোটিনে চড়িয়ে হত্যা করেন, তখন কনভেনশনের অন্যান্য সদস্যরা নিজেদের প্রাণরক্ষার্থে ঐক্যবদ্ধ হন।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top