SEBA Class 9 Geography Chapter 1 প্রাকৃতিক ভূগোলঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু

SEBA Class 9 Geography Chapter 1 প্রাকৃতিক ভূগোলঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 Geography Chapter 1 প্রাকৃতিক ভূগোলঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু Solutions and select need one. SEBA Class 9 Geography Chapter 1 প্রাকৃতিক ভূগোলঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু Notes Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 Elective Geography Question Answer.

SEBA Class 9 Geography Chapter 1 প্রাকৃতিক ভূগোলঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 9 Geography Textbook Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 Geography Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 1

Textual Question Answer

১। আবহাওয়া ও জলবায়ু বলতে কী বোঝায়? আবহাওয়া ও জলবায়ুর মধ্যে পার্থক্যগুলো কী কী?

উত্তরঃ আবহাওয়া: কোনো একটি নির্দিষ্ট স্থানে কম সময়ের জন্য (যেমন—কয়েক ঘণ্টা, সারাদিন, বা কয়েক দিন বা কয়েক সপ্তাহ) পরিলক্ষিত হওয়া বায়ুমণ্ডলের সামগ্রিক অবস্থাকে (উত্তাপ, চাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি) সেই স্থানের আবহাওয়া বলা হয়।

জলবায়ু: কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের প্রতিদিন, প্রতি ঋতু এবং প্রতি বছরের বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর (উত্তাপ, চাপ, আর্দ্রতা ইত্যাদি) দীর্ঘ সময়ের (কমপক্ষে ৩০ বছরের) গড় অবস্থাকে বলা হয় সেই অঞ্চলের জলবায়ু।

                        আবহাওয়া                   জলবায়ু 
এটি বায়ুমণ্ডলের একটি ক্ষণস্থায়ী বা অল্প সময়ের (কয়েক ঘণ্টা থেকে কয়েক সপ্তাহ) অবস্থা।এটি বায়ুমণ্ডলের দীর্ঘ সময়ের (কমপক্ষে ৩০ বছরের) গড় অবস্থা।
আবহাওয়া কোনো একটি নির্দিষ্ট ছোট স্থানের বা এলাকার হতে পারে।জলবায়ু একটি বিশাল বড় অঞ্চল জুড়ে বিস্তৃত থাকে।
আবহাওয়া অত্যন্ত পরিবর্তনশীল এবং এটি অল্প সময়ের মধ্যেই দ্রুত বদলে যেতে পারে (যেমন সকালে রোদ, দুপুরে বৃষ্টি)।জলবায়ু সহজে পরিবর্তিত হয় না; এটি দীর্ঘকাল ধরে প্রায় একই রকম থাকে।
এটি বায়ুমণ্ডলের উপাদানগুলোর তাৎক্ষণিক বা প্রতিদিনের অবস্থা প্রকাশ করে।এটি আবহাওয়ার উপাদানগুলোর বহু বছরের গড় মানের ওপর ভিত্তি করে নির্ণয় করা হয়।

২। আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলো উল্লেখ কর।

উত্তরঃ আবহাওয়া ও জলবায়ুর প্রধান ৫টি উপাদান হলো: 

১। উত্তাপ।

২। বায়ুর চাপ।

৩। আর্দ্রতা।

৪। বাতাস বা বায়ুপ্রবাহ।

৫। অধঃক্ষেপ।

৩। আবহাওয়া ও জলবায়ুর ডাপাদানগুলোকে বিস্তারিতভাবে লিখ।

উত্তরঃ আবহাওয়া ও জলবায়ুর উপাদানগুলোর বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

(i) উত্তাপ: বায়ুমণ্ডলের উত্তাপের প্রধান উৎস হলো সূর্য। ভূপৃষ্ঠের সব জায়গায় সূর্যের কিরণ সমানভাবে পড়ে না,যার ফলে তাপের তারতম্য ঘটে। বায়ুর উত্তাপ দুই দিকে পরিবর্তিত হয়।

উলম্ব দিক: ট্রোপোস্ফিয়ার স্তরে ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতি ১ কিলোমিটার উচ্চতা বৃদ্ধিতে বায়ুর উত্তাপ গড়ে ৬° সেলসিয়াস হারে কমতে থাকে। উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর উত্তাপ হ্রাস পাওয়ার এই হারকে ত্রুটি হার বলে।

অনুভূমিক দিক: অনুভূমিকভাবেও বায়ুর উত্তাপের তারতম্য ঘটে। দুপুরে সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ে বলে দূরত্ব কম অতিক্রম করে এবং তাপের তীব্রতা বেশি হয়, যার ফলে দুপুরবেলা বায়ুমণ্ডল অতি উত্তপ্ত থাকে। 

(ii) বায়ুর চাপ: বায়ুমণ্ডলের চাপ বলতে প্রতি একক ক্ষেত্রফলে বায়ুর প্রয়োগ করা বলকে বোঝায়। সমুদ্রপৃষ্ঠে বায়ুর স্বাভাবিক চাপ ২৯.৯২ ইঞ্চি বা ৭৬০ মিলিমিটার পারদ স্তম্ভের সমান ধরা হয়। 

(iii) আর্দ্রতা: বায়ুতে মিশে থাকা জলীয়বাষ্পের পরিমাণকে বায়ুর আর্দ্রতা বলে। উষ্ণ বায়ুর জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা বেশি এবং শীতল বায়ুর ধারণ ক্ষমতা কম থাকে। 

আর্দ্রতা দুইভাবে প্রকাশ করা যায়:

চরম আর্দ্রতা: প্রতি ঘনমিটার আয়তনের বায়ুতে থাকা জলীয়বাষ্পের প্রকৃত ওজনকে চরম আর্দ্রতা বলে।

আপেক্ষিক আর্দ্রতা: কোনো নির্দিষ্ট উত্তাপ ও আয়তনের বায়ুতে থাকা জলীয়বাষ্পের ভরের সঙ্গে ওই একই উত্তাপে ওই বায়ুটুকুকে সম্পৃক্ত করতে প্রয়োজনীয় জলীয়বাষ্পের ভরের অনুপাতকে আপেক্ষিক আর্দ্রতা বলে।

(iv) বাতাস: বায়ুমণ্ডলে উত্তাপের তারতম্যের কারণে বায়ুর চাপের হ্রাস-বৃদ্ধি ঘটে। বায়ু সব সময় উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়; এই গতিশীল বায়ুকেই বাতাস বা বায়ুপ্রবাহ বলে।

(v) অধঃক্ষেপ: বায়ুমণ্ডলের জলীয়বাষ্প ঘনীভূত হয়ে যখন মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে নিরেট বা তরল আকারে ভূপৃষ্ঠে নেমে আসে, তখন তাকে অধঃক্ষেপ বলে। উত্তাপের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকার অধঃক্ষেপ ঘটে, যেমন—শিশির, হিম, ঘন কুয়াশা, হালকা কুয়াশা তুষারকণাবৃষ্টি তুষারপাত, বৃষ্টি, গুঁড়ো বৃষ্টি ইত্যাদি।

8। উত্তাপ, চাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে থাকা সম্পর্কগুলো বুঝিয়ে লিখ।

উত্তরঃ উত্তাপ, চাপ ও আর্দ্রতার মধ্যে থাকা সম্পর্কগুলো আলোচনা করা হলো:

(i) উত্তাপ ও বায়ুর চাপের সম্পর্ক: বায়ুর উত্তাপ এবং বায়ুর চাপের মধ্যে ব্যস্তানুপাতিক বা বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে।

ব্যাখ্যা: বায়ু উত্তপ্ত হলে তা প্রসারিত ও হালকা হয়ে যায় এবং ওপরের দিকে উঠে যায়। এর ফলে ওই স্থানে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় এবং সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। বিপরীতভাবে, বায়ু শীতল হলে তা সংকুচিত ও ভারী হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে, ফলে সেখানে ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়। যেমন—উষ্ণ বিষুবীয় অঞ্চলে নিম্নচাপ এবং শীতল মেরু অঞ্চলে উচ্চচাপ বিরাজ করে।

(ii) উত্তাপ ও আর্দ্রতার সম্পর্ক: বায়ুর উত্তাপ এবং তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতার মধ্যে সমানুপাতিক বা প্রত্যক্ষ সম্পর্ক রয়েছে।

ব্যাখ্যা: উষ্ণ বায়ু প্রসারিত হওয়ার কারণে তার জলীয়বাষ্প ধারণ করার ক্ষমতা বা আর্দ্রতা গ্রহণ করার ক্ষমতা অনেক বেশি থাকে। পক্ষান্তরে, ঠান্ডা বা শীতল বায়ু সংকুচিত হওয়ার কারণে তার জলীয়বাষ্প ধারণ ক্ষমতা অনেক কম হয়।

(iii) আর্দ্রতা ও বায়ুর চাপের সম্পর্ক: বায়ুতে জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বা আর্দ্রতা বাড়লে বায়ুর চাপ কমে যায়।

ব্যাখ্যা: জলীয়বাষ্প সাধারণ শুষ্ক বায়ুর চেয়ে হালক। তাই বায়ুতে যখন জলীয়বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পায়, তখন সামগ্রিকভাবে বায়ু হালকা হয়ে যায় এবং বায়ুর চাপ কমে গিয়ে সেখানে নিম্নচাপ সৃষ্টি হতে পারে। অন্যদিকে শুষ্ক বায়ুতে জলীয়বাষ্প কম থাকায় তা ভারী হয় এবং চাপ বেশি থাকে।

৫। বায়ুমণ্ডলের চাপের তারতম্য কীভাবে হয় বুঝিয়ে লিখ।

উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠে বায়ুমণ্ডলের চাপ সব জায়গায় এবং সব সময়ে সমান থাকে না, এটি প্রতিনিয়ত পরিবর্তিত হয়। 

বায়ুমণ্ডলের চাপের এই তারতম্য প্রধানত দুটি প্রধান প্রাকৃতিক কারণে ঘটে থাকে:

(ক) বায়ুর উষ্ণতা: বায়ুর উত্তাপ এবং বায়ুর চাপের মধ্যে বিপরীত সম্পর্ক বিদ্যমান। বায়ু উত্তপ্ত হলে তা প্রসারিত ও হালকা হয়ে যায় এবং ওপরের দিকে উঠে যায়। এর ফলে বায়ুর ঘনত্ব কমে যায় এবং সেখানে নিম্নচাপের সৃষ্টি হয়। অপরদিকে, বায়ু শীতল হলে তা সংকুচিত ও ভারী হয়ে নিচের দিকে নেমে আসে, ফলে বায়ুর ঘনত্ব বৃদ্ধি পেয়ে সেখানে উচ্চচাপের সৃষ্টি হয়।

যেমন: সারাবছর প্রচণ্ড গরম থাকার কারণে বিষুবীয় অঞ্চলে বায়ুর চাপ কম বা নিম্নচাপ থাকে এবং অতি শীতল মেরু অঞ্চলে বায়ুর চাপ বেশি বা উচ্চচাপ থাকে।

(খ) পৃথিবীপৃষ্ঠের উচ্চতা: বায়ুমণ্ডলের গভীরতা এবং ঘনত্ব সব উচ্চতায় একরকম থাকে না। ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি নিচের স্তরের বায়ুর ওপর ওপরের বায়ুস্তর প্রবল চাপ দেয় বলে নিচের বায়ু বেশি সংকুচিত ও ঘন হয়ে থাকে, যার ফলে বায়ুর চাপ বেশি হয়। 

৬। বাতাস কী?

উত্তরঃ সূর্যকিরণের অসম বণ্টনের কারণে বায়ুমণ্ডলে উত্তাপের তারতম্য ঘটে, যার ফলে বায়ুর চাপের তারতম্য বা হ্রাসের সৃষ্টি হয়। এই চাপের ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য বায়ু সর্বদা উচ্চচাপ অঞ্চল থেকে চারদিকের নিম্নচাপ অঞ্চলের দিকে অনুভূমিকভাবে প্রবাহিত হয়। বায়ুমণ্ডলের এই অনুভূমিকভাবে গতিশীল বা প্রবাহিত বায়ুকেই বাতাস বা বায়ুপ্রবাহ বলা হয়।

৭। অধঃক্ষেপ বলতে কী বোঝায়? অধঃক্ষেপ কত প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ অধঃক্ষেপ ভূপৃষ্ঠের জলভাগ থেকে বাষ্পীভূত হওয়া জলীয়বাষ্প বায়ুমণ্ডলে মিশে গিয়ে পরে শীতল ও ঘনীভূত হয়। এই ঘনীভূত জলকণাগুলো যখন আকারে বড় হয়ে মাধ্যাকর্ষণ শক্তির টানে তরল বা নিরেট আকারে ভূপৃষ্ঠে ঝরে পড়ে, তখন তাকে অধঃক্ষেপ বলে। 

অধঃক্ষেপের প্রকারভেদ: বায়ুর উত্তাপের কম-বেশির ওপর ভিত্তি করে বিভিন্ন প্রকারের অধঃক্ষেপ সৃষ্টি হয়। 

প্রধান অধঃক্ষেপগুলো হলো: 

(i) বৃষ্টি। 

(ii) তুষারপাত। 

(iii) তুষারকণাবৃষ্টি। 

(iv) শিশির। 

(v) হিম। 

(vi) ঘন কুয়াশা ও হালকা কুয়াশা।

৮। আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণ করে যে কারকসমূহ সেগুলোর উল্লেখ কর।

উত্তরঃ কোনো নির্দিষ্ট স্থান বা অঞ্চলের আবহাওয়া ও জলবায়ু প্রধানত ৯টি প্রাকৃতিক কারকের ওপর নির্ভর করে নির্ধারিত হয়। 

কারকগুলো নিম্নরূপ: 

(ক) অক্ষাংশ।

(খ) উচ্চতা।

(গ) সমুদ্রের সান্নিধ্য। 

(ঘ) সমুদ্রের স্রোত। 

(ঙ) পর্বত-পাহাড়ের অবস্থান। 

(চ) বায়ুপ্রবাহ। 

(ছ) ভূমির প্রকৃতি।  

(জ) জমির ঢাল। 

(ঝ) উদ্ভিদ। 

৯। আবহাওয়া ও জলবায়ুর কারকসমূহ উদাহরণসহকারে লিখ।

উত্তরঃ আবহাওয়া ও জলবায়ু নির্ধারণকারী প্রধান কারকগুলোর উদাহরণসহ বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

(ক) অক্ষাংশ: অক্ষাংশের তারতম্যে সূর্যরশ্মি কোথাও লম্বভাবে আবার কোথাও বাঁকা বা তির্যকভাবে পড়ে। সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়লে উত্তাপের তীব্রতা বাড়ে, কিন্তু হেলানো বা বাঁকা হয়ে পড়লে উত্তাপের তীব্রতা কম হয়।

উদাহরণ: বিষুবরেখা (০°) থেকে উত্তর ও দক্ষিণে অক্ষাংশ বৃদ্ধির সাথে সাথে সূর্যকিরণ ক্রমে বাঁকা হতে থাকে। 

(খ) উচ্চতা: ভূপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বায়ুর উত্তাপ ক্রমান্বয়ে কমতে থাকে (গড়ে প্রতি ১ কিমি উচ্চতায় প্রায় ৬.৫° সে. হারে)।

উদাহরণ: ভারতের এলাহাবাদ ও শিলং প্রায় একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শিলঙের উচ্চতা অনেক বেশি হওয়ায় এর জলবায়ু এলাহাবাদের চেয়ে অনেক শীতল।

(গ) সমুদ্রের সান্নিধ্য: সমুদ্রের কাছাকাছি অঞ্চলের জলবায়ু সমভাবাপন্ন হয়, কিন্তু সমুদ্র থেকে দূরে অবস্থিত স্থলভাগের জলবায়ু চরমভাবাপন্ন হয়।

উদাহরণ: গ্রীষ্মকালে স্থলভাগ দ্রুত উত্তপ্ত হলে সমুদ্র থেকে আসা শীতল বায়ু স্থলভাগকে শীতল রাখে এবং শীতকালে সমুদ্র থেকে আসা উষ্ণ বায়ু স্থলভাগকে তুলনামূলক গরম রাখে।

(ঘ) সমুদ্রের স্রোত: উপকূলীয় অঞ্চলের পাশ দিয়ে প্রবাহিত উষ্ণ বা শীতল সমুদ্রস্রোত সেখানকার জলবায়ুকে প্রভাবিত করে।

উদাহরণ: উষ্ণ সমুদ্রস্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু উষ্ণ ও আর্দ্র হয়ে বৃষ্টিপাত ঘটায়, অপরদিকে শীতল স্রোতের ওপর দিয়ে প্রবাহিত বায়ু ঠান্ডা ও শুষ্ক প্রকৃতির হয়।

(ঙ) পর্বত-পাহাড়ের অবস্থান: উঁচু পর্বতমালা বায়ুপ্রবাহের গতি রোধ করে বৃষ্টিপাত ঘটাতে সাহায্য করে অথবা ঠান্ডা বাতাসকে আটকে দেয়।

উদাহরণ: এশিয়ায় হিমালয় পর্বতের অবস্থান উত্তর দিকের তীব্র শীতল বায়ুকে বাধা দেয় বলে ভারতবর্ষ শীতের চরম প্রকোপ থেকে রক্ষা পায়।

১০। জলবায়ু কত প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ পৃথিবীর জলবায়ুকে প্রধানত ১২টি প্রকারে বিভক্ত করা হয়েছে। 

এগুলো হলো: 

(ক) বিষুবীয় জলবায়ু। 

(খ) মৌসুমী জলবায়ু।   

(গ) সাভানা জলবায়ু। 

(ঘ) উষ্ণ মরু জলবায়ু। 

(ঙ) নাতিশীতোষ্ণ মরু জলবায়ু।  

(চ) ভূমধ্য সাগরীয় জলবায়ু। 

(ছ) নাতিশীতোষ্ণ আর্দ্র জলবায়ু। 

(জ) নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলের জলবায়ু। 

(ঝ) নাতিশীতোষ্ণ সাগরীয় জলবায়ু। 

(ঞ) পূর্ব উপকূলীয় আর্দ্র জলবায়ু। 

(ট) উপমেরুদেশীয় জলবায়ু। 

(ঠ) তুন্দ্রা জলবায়ু।  

১১। জলবায়ুর প্রকারগুলো চিত্রসহকারে আলোচনা করো।

উত্তরঃ জলবায়ুর প্রকারগুলো চিত্রসহকারে আলোচনা করা হলো:

(ক) বিষুবীয় জলবায়ু: বিষুবরেখা থেকে ১০° উত্তর ও দক্ষিণ অক্ষাংশের মধ্যে অবস্থিত। সারাবছর সূর্যরশ্মি লম্বভাবে পড়ায় অত্যন্ত উষ্ণ ও আর্দ্র আবহাওয়া থাকে এবং প্রতিদিন বিকেলে পরিচলন বৃষ্টিপাত হয়।

(খ) মৌসুমী জলবায়ু: ১০° থেকে ৩০° অক্ষাংশের পূর্ব উপকূলে অনুভূত হয়। গ্রীষ্মকালে আর্দ্র সমুদ্রবায়ু প্রচুর বৃষ্টিপাত ঘটায় এবং শীতকাল থাকে শুষ্ক।

(গ) সাভানা জলবায়ু: ১০° থেকে ৩০° অক্ষাংশের মধ্যভাগে অবস্থিত। গ্রীষ্মকাল উষ্ণ ও আর্দ্র এবং শীতকাল শুষ্ক।

(ঘ) উষ্ণ মরু জলবায়ু: ১০° থেকে ৩০° অক্ষাংশের পশ্চিম অংশে অর্থাৎ ক্রান্তীয় মরুভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। অত্যন্ত গরম ও শুষ্ক আবহাওয়া, বার্ষিক বৃষ্টিপাত ১০ সে.মি.-এর কম।

(ঙ) নাতিশীতোষ্ণ মরু জলবায়ু: ৩০° থেকে ৪০° অক্ষাংশের মধ্যভাগে অবস্থিত। গ্রীষ্মকালে প্রচণ্ড গরম থাকলেও শীতকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত হ্রাস পায় (০° সে.-এর নিচে) এবং বরফ পড়ে। 

(চ) ভূমধ্য সাগরীয় জলবায়ু: ৩০° থেকে ৪০° অক্ষাংশের পশ্চিম অংশে দেখা যায়। এর অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে গ্রীষ্মকাল শুষ্ক এবং শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়। 

(ছ) নাতিশীতোষ্ণ আর্দ্র জলবায়ু: ৩০° থেকে ৪০° অক্ষাংশের পূর্ব অংশে অনুভূত হয়। গ্রীষ্মকাল সাধারণ উষ্ণ ও আর্দ্র এবং শীতকাল মৃদু শীতল হয়।

(জ) নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলের জলবায়ু: ৩০° থেকে ৪০° অক্ষাংশের মধ্যভাগে অবস্থিত নাতিশীতোষ্ণ তৃণভূমি অঞ্চলে দেখা যায়। 

(ঝ) নাতিশীতোষ্ণ সাগরীয় জলবায়ু: ৪০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের পশ্চিম অংশে অবস্থিত। সমুদ্রের প্রভাবে মৃদুভাবাপন্ন এবং পশ্চিমা বায়ুর প্রভাবে সারাবছর বৃষ্টিপাত হয়।

(ঞ) পূর্ব উপকূলীয় আর্দ্র জলবায়ু: ৪০° থেকে ৬০° অক্ষাংশের পূর্ব উপকূলীয় অঞ্চলে দেখা যায়। শীতকালে তাপমাত্রা অত্যন্ত কমে যায় এবং বৃষ্টিপাত গ্রীষ্মকালে বা সারাবছর ধরে হয়। 

(ট) উপমেরুদেশীয় জলবায়ু: উত্তর গোলার্ধের ৫০° থেকে ৬৫° অক্ষাংশের উপমেরু অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে দীর্ঘ ও কঠোর শীতকাল এবং সংক্ষিপ্ত মৃদু গ্রীষ্মকাল বিরাজ করে। 

(ঠ) তুন্দ্রা জলবায়ু: ৬৫° থেকে ৯০° অক্ষাংশের মেরু অঞ্চলে অবস্থিত। বছরের প্রায় ৮-৯ মাস বরফাবৃত থাকে, তাপমাত্রা হিমাঙ্কের নিচেই থাকে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top