Class 10 Social Science Chapter 2 মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম Notes to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Class 10 Social Science Chapter 2 মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম and select needs one.
Class 10 Social Science Chapter 2 মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Also, you can read SCERT book online in these sections Class 10 Social Science Chapter 2 মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. Class 10 Social Science Chapter 2 মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম These solutions are part of SCERT All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Social Science Chapter 2 মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম for All Subject, You can practice these here..
মহাত্মা গান্ধি ও ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রাম
Chapter – 2
প্রথম খণ্ড – ইতিহাস
অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর
● অতি সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
প্রশ্ন ১। মহাত্মা গান্ধির জন্ম কবে হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৮৬৯ সালের ২ রা অক্টোবর ।
প্রশ্ন ২। সত্যাগ্রহের কৌশল গান্ধি কোন দেশে সর্বপ্রথম প্রয়োগ করেছিলেন ?
উত্তরঃ দক্ষিণ আমেরিকায় ।
প্রশ্ন ৩। রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কেন ‘ নাইট ’ উপাধি ত্যাগ করেছিলেন ?
উত্তরঃ জালিয়ান ওয়ালাবাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ।
প্রশ্ন ৪। কার কার নেতৃত্বে ভারতে খিলাফৎ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ?
উত্তরঃ মৌলানা সৌকত আলি ও মহম্মদ আলির নেতৃত্বে ।
প্রশ্ন ৫। চৌরিচৌরার ঘটনা কখন সংঘটিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯২২ সালের ৫ ই ফ্রেব্রুয়ারী ।
প্রশ্ন ৬। কেমন পরিস্থিতিতে লালা লাজপত রায়ের মৃত্যু হয়েছিল ?
উত্তরঃ সাইমন বিরোধী মিছিলে পুলিশের লাঠির আঘাতে ।
প্রশ্ন ৭। কখন এবং কোন অধিবেশনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস ভারতবাসীদের মূল দাবি হিসাবে পূর্ণ স্বরাজের দাবি উত্থাপন করেছিল ?
উত্তরঃ ১৯২৯ সালের লাহোর অধিবেশনে ।
প্রশ্ন ৮। গান্ধিজি সবরমতী আশ্রম থেকে দাণ্ডির সাগর পার অবধি লবণ আইন ভঙ্গ করতে গিয়েছিলেন । সবরমতী আশ্রম এবং দাণ্ডির মধ্যে দূরত্ব কতদূর ?
উত্তরঃ ৩৮৫ কিঃ মিঃ ।
প্রশ্ন ৯। সীমান্ত গান্ধি নামে পরিচিত কে ?
উত্তরঃ খান আবদুল গফর খান ।
প্রশ্ন ১০। লণ্ডনে অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় গোলটেবিল বৈঠকে কে কংগ্রেসকে এককভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছিলেন ?
উত্তরঃ গান্ধিজি ।
প্রশ্ন ১১। ১৯৩২ সালে সাম্প্রদায়িক বাটোয়ারা ঘোষণাকারী ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রীর নাম কী ?
উত্তরঃ রামসে ম্যাকডনাল্ড ।
প্রশ্ন ১২। কোন আন্দোলনের সময় গান্ধিজি “ করব কিংবা মরব ” শ্লোগান দিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ ভারত ত্যাগ আন্দোলনের সময় ।
প্রশ্ন ১৩। আজাদ হিন্দ ফৌজের প্রতিষ্ঠাতা কে ?
উত্তরঃ কেপ্টেন মোহন সিং ।
প্রশ্ন ১৪। “ আমাকে রক্ত দাও , আমি তোমাদের স্বাধীনতা দিব ” এই বিখ্যাত বাণীটি কোন ভারতীয় নেতার ?
উত্তরঃ নেতাজী সুভাষচন্দ্র বসুর ।
প্রশ্ন ১৫। ভারত এবং পাকিস্তানের মধ্যেকার সীমারেখাকে কী নামে জানা যায় ?
উত্তরঃ রেডক্লিপ রেখা ।
দীর্ঘ উত্তর লেখো
প্রশ্ন ১। সত্যাগ্রহ বলতে কী বোঝ ? যে তিনটি স্থানীয় বিবাদের ক্ষেত্রে গান্ধি সত্যাগ্রহকে প্রথম প্রয়োগ করেছিলেন সেই তিনটির বিষয়ে সংক্ষিপ্ত লেখো ।
উত্তরঃ সত্যাগ্রহ :- ‘ সত্যাগ্রহ ’ একটি সন্ধিযুক্ত শব্দ । এটি ‘ সত্য ’ এবং ‘ আগ্রহ ’ এই দুটি শব্দ থেকে সৃষ্টি হয়েছে । সত্যাগ্রহের অর্থ হল “ সত্যের প্রতি আগ্রহ ” অর্থাৎ সত্যান্বেষী হয়ে কাজ করা । গান্ধিজির মতে , সত্যাগ্রহ শুধুমাত্র একপক্ষীয় প্রতিরোধ নয় । এর তাৎপর্য হল — জনগণ গভীর ও একনিষ্ঠভাবে রাজনৈতিক কার্যকলাপে আত্মনিয়োগ করা । অহিংসা হল সত্যাগ্রহের ভিত্তি । গান্ধিজি সত্যাগ্রহের ধারণাটি গ্রহণ করতে লিও টলস্টয় ও থরোর রচনার দ্বারা বিশেষভাবে প্রভাবিত হয়েছিলেন ।
স্থানীয় বিবাদের ক্ষেত্রে সত্যাগ্রহ প্রয়োগ :- গান্ধিজি সর্বপ্রথম তিনটি স্থানীয় বিবাদের ক্ষেত্রে সত্যাগ্রহ প্রয়োগ করেছিলেন । এগুলি হল—
( ক ) ১৯১৭-১৮ সনে উত্তর বিহারের চম্পারণ ।
( খ ) গুজরাটের খেড়া ।
( গ ) আহমেদাবাদে সংঘটিত বিবাদ ।
( ক ) চম্পারণ :- ১৯১৭-১৮ সনে গান্ধিজি উত্তর বিহারের চম্পারণে ভূস্বামীগণের বি বিপক্ষে সাধারণ কৃষকদের নেতৃত্ব প্রদান করেছিলেন । গান্ধিজি এতে অহিংস সত্যাগ্রহ নীতি প্রয়োগ করেন । এটি চম্পারণ সত্যাগ্রহ নামে খ্যাত ।
( খ ) গুজরাট :- গুজরাটে খেড়া অঞ্চলে কৃষকদের ক্ষেত নষ্ট হওয়ার পরও সরকার অধিক মাত্রায় কর আরোপ করেন । গান্ধিজি এর বিরুদ্ধে অহিংস সত্যাগ্রহ আন্দোলন করেন । কৃষকদের স্বার্থরক্ষার্থে তিনি সোচ্চার হন ।
( গ ) আহমেদাবাদ :- গুজরাটের কৃষকদের স্বরাজ ও স্ব – শাসন লাভের শর্তে গান্ধিজি সৈন্যবাহিনীতে যোগদান করতে উৎসাহিত করেছিলেন । প্রথম বিশ্বযুদ্ধোত্তর কালে আহমেদাবাদের উদ্যোগপতিদের লোকসানের ফলে বহু উদ্যোগ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শ্রমিকগণ কর্মহীন হয়ে পড়ে । এছাড হয়ে পড়ে । এছাড়াও দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি ও দরিদ্রতা সাধারণ মানুষকে জর্জরিত করে । এর ফলে গান্ধিজির মোহভঙ্গ হয় । তিনি অহিংস সত্যাগ্রহের পথ অবলম্বন করে কৃষক , উদ্যোগপতি ও সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ান ।
প্রশ্ন ২। ভারতে খিলাফৎ আন্দোলন কেন আরম্ভ হয়েছিল ?
উত্তরঃ রাওলাট সত্যাগ্রহ ব্যর্থ হলেও তা দুভাবে ভারতের জাতীয় আন্দোলনকে সমৃদ্ধ করে ।
( ১ ) রাওলাট – সত্যাগ্রহ গান্ধির জনপ্রিয়তা ও সাংগঠনিক শক্তির গভীরতা প্রমাণ করে । এবং
( ২ ) জাতি – ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সাধারণ মানুষকে একমঞ্চে এনে , একলক্ষ্যে আন্দোলিত করার সম্ভাবনা সৃষ্টি হয় । খিলাফৎ আন্দোলনকে সামনে রেখে গান্ধিজি হিন্দু ও মুসলমান জনতাকে একই মঞ্চে এনে অসহযোগ আন্দোলন গড়ে তুলতে সচেষ্ট হন ।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধে তুরস্ক ইংল্যাণ্ডের বিপক্ষে যুদ্ধে যোগ দিয়েছিল। সেজন্য যুদ্ধে বিজয়ী হয়ে মিত্রপক্ষ তুরস্ক সাম্রাজ্যকে ভেঙে দেয় । তুর্কি সুলতান ‘ খলিফা ’ হিসেবে সমগ্র ইসলাম সমাজে সর্বোচ্চ ধর্মগুরুর মর্যাদা পেতেন । ফলে তুরস্ক সাম্রাজ্যের প্রতি অবমাননা বিশ্বের মুসলমান সম্প্রদায়কে ব্যথিত ও ক্ষুব্ধ করে । এর প্রতিবাদে শুরু হয় খিলাফৎ আন্দোলন । ভারতের মুসলমান সমাজও সেই আন্দোলনের অংশীদার হন । মৌলানা আজাদ , হাকিম আজমল খাঁ এবং হসরৎ মোহানির নেতৃত্বে একটি ‘ খিলাফৎ কমিটি গঠিত হয় । গান্ধিজি খিলাফৎ আন্দোলনকে হিন্দু – মুসলমান ঐক্যের সুবর্ণ সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করেন ।
গান্ধিজি মনে করেন যে , হিন্দু মুসলমান ঐক্যের এমন সুযোগ আগামী একশো বছরেও আর আসবে না । তিনি স্পষ্ট ভাষায় খিলাফৎ আন্দোলনকে সমর্থন জানান । ‘ ইয়ং – ইণ্ডিয়া ‘ পত্রিকায় তিনি লেখেন , “ মুসলমানকে যদি আমার ভাই বলে মনে করি , তাহলে তার বিপদ হলে এবং ন্যায় তার দিকে থাকলে , তাকে প্রাণপণে সাহায্য করাই আমার কর্তব্য । ” খিলাফৎ কমিটি গান্ধিজির বক্তব্যে অভিভূত হয় । সৌকত আলি , মহম্মদ আলি , মৌলানা আবুল কালাম আজাদ , আজমল খাঁ প্রমুখ মুসলিম নেতৃবৃন্দ গান্ধিজির প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মুসলমান নেতাদের যৌথ উদ্যোগে ১৯১৯ খ্রিস্টাব্দে ‘ নিখিল ভারত খিলাফৎ সম্মেলন ‘ গঠিত হয় । নভেম্বর মাসে খিলাফৎ সম্মেলনের অধিবেশনে তাঁরা গান্ধিজিকে সভাপতি নির্বাচিত করেন । এই সম্মেলনেই স্থির হয় যে , সরকার খিলাফৎ সমস্যার দ্রুত মীমাংসা না করলে সরকারের প্রতি ‘ অসহযোগ ’ নীতি অনুসরণ করা হবে । জুডিথ ব্রাউন – এর মতে , খিলাফৎ সম্মেলনেই গান্ধিজি প্রথম ‘ অসহযোগ ’ নীতির কথা চিন্তা করেন ।
৩। ১৯২০-২২ সালে গান্ধিজি কেন অসহযোগ আন্দোলন আরম্ভ করেছিলেন ? এর কার্যসূচি কী ছিল ? গান্ধিজি কেন এই আন্দোলন বন্ধ করে দিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ ১৯১৯ সালের ভারত শাসন আইন ভারতীয়দের আশা – আকাঙ্ক্ষা পূরণ করতে পারে নি । এছাড়া বিধ্বংসী বিশ্বযুদ্ধের ফলে সারা দেশে খাদ্যাভাব , মহামারী ও দ্রব্যমূল্য বাড়ায় মানুষের দুর্দশা বাড়তে থাকে । শাসন – সংস্কারের খবর প্রকাশিত হওয়ার পর সারা দেশে আন্দোলনের আগুন আবার জ্বলে ওঠে । এমতাবস্থায় ব্রিটিশ সরকার শাসন – সংস্কার দূরে রেখে কঠোর দমননীতির আশ্রয় গ্রহণ করে । কুখ্যাত রাওলাট আইন প্রবর্তন এই দমননীতির অঙ্গবিশেষ । এই আইনে সম্মতি না দেওয়ার জন্য মহাত্মা গান্ধি লর্ড চেমস্ফোর্ডকে অনুরোধ করেন । কিন্তু এরই মধ্যে এই আইন বিধিবদ্ধ হয়েছে।
রাওলাট আইন ছিল দমনমূলক । এই আইন অনুসারে বিনা বিচারে যে কোনো ব্যক্তিকে অনির্দিষ্টকাল পর্যন্ত আটক করে রাখা যেত । এই আইনের বিরুদ্ধে সারা দেশে প্রতিবাদ হয় । হরতাল , শান্তিপূর্ণ সত্যাগ্রহ দ্বারা এর প্রতিবাদ জানানো হলেও সরকার দমনমূলক নীতি অব্যাহত রেখে পাঞ্জাবে সামরিক আইন বলবৎ করে ।
এই সামরিক আইন , দমন – নীতি প্রভৃতি অগ্রাহ্য করে ১৯১৯ সালের ১৩ ই এপ্রিল পাঞ্জাবের জালিয়ানওয়ালাবাগে একটি প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় । অমৃতসর শহরের কাছাকাছি এই স্থানে সেদিন নিরস্ত্র প্রতিবাদীদের উপর ব্রিটিশ সরকারের সেনানায়ক ডায়ার গুলি চালনার নির্দেশ দিয়ে অনেক নর – নারী ও শিশুকে হত্যা করে । অনেক লোক আহতও হয় ।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিরুদ্ধে ব্যাপক আন্দোলন ও বিক্ষোভ শুরু হয় । এই বিক্ষোভের জন্য অনেক সত্যাগ্রহী বিভিন্ন রকমের শাস্তিও পেয়েছিলেন । অবশেষে ১৯২০ সালে মহাত্মা গান্ধি অসহযোগ আন্দোলন শুরু করেন ।
এরই মধ্যে বিশ্বযুদ্ধে তুর্কীদের উপর ইংরেজের অমানবীয় আচরণে ভারতের মুসলমানগণ ক্ষুণ্ণ হয়েছিলেন । মহম্মদ আলি ও সৌকত আলি নামে দুই ভাইয়ের নেতৃত্বে মুসলমানগণ ব্রিটিশের বিরুদ্ধে খিলাফৎ আন্দোলন গড়ে তোলেন । গান্ধিজি কংগ্রেসের আন্দোলনের সঙ্গে খিলাফৎ আন্দোলন সংযুক্ত করতে সমর্থ হন । ১৯২০ সালে কলকাতা এবং ঐ বৎসরের শেষদিকে নাগপুর কংগ্রেস অধিবেশনে যৌথ আন্দোলনের নীতি গ্রহণ করা হয় । এই যৌথ আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল—
( ১ ) পাঞ্জাবে ব্রিটিশের অমানুষিক অত্যাচারের প্রতিবাদ ।
( ২ ) তুর্কী সাম্রাজ্যের উপর ব্রিটিশের অবিচারের প্রতিবাদ। এবং
( ৩ ) ভারত স্বরাজ গঠন ।
মহাত্মা গান্ধি এই অহিংস আন্দোলনের সূচনা করেন । অহিংস অসহযোগ এবং আইন অমান্য এই দুইটিই অহিংসার আদর্শের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত করে গান্ধিজি আন্দোলনে এক নূতন যুগের সূচনা করেন ।
ব্রিটিশ সরকারকে অচল করে দেওয়ার জন্য আইনসভা , বিচারালয় , সরকারী চাকরি , স্কুল, কলেজ প্রভৃতি বর্জন করে অহিংস আন্দোলনে যোগদান করতে গান্ধিজি ভারতবাসীকে আহ্বান জানান হয় । জমির খাজনা ব্রিটিশ সরকারকে জমা না দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান। আফিং , ভাঙ , মদ , সিগারেট প্রভৃতি বিদেশী মাদকদ্রব্য বর্জন করতেও বলা হয় । চরকায় সূতা কাটা , খদ্দরের কাপড় পরা আন্দোলনের অন্তর্ভুক্ত করা হয় । মহাত্মা গান্ধির প্রতি অসীম শ্রদ্ধার জন্য ভারতবাসী এইগুলি মেনে নিয়ে আন্দোলনে যোগদান করে ।
লালা লাজপত রায় , মতিলাল নেহরু , মহম্মদ আলি , সৌকত আলি , চিত্তরঞ্জন দাশ , জওহরলাল নেহরু , সুভাষচন্দ্র বসু , সরোজিনী নাইডু প্রমুখ দেশের প্রায় বেশিরভাগ নেতা এই আন্দোলনে যোগদান করেন । আসাম থেকে চন্দ্রকান্ত শর্মা , তরুণরাম ফুকন , নবীনচন্দ্র বরদলৈ প্রমুখ নেতারাও আন্দোলনে যোগদান করেন ।
অসহযোগ আন্দোলনকে দমন করার ব্যাপক আন্দোলন শুরু হয় । ঠিক তখনই ব্রিটিশরাজ সিংহাসালের উত্তরাধিকারী প্রিন্স – অব – ওয়েলস ভারতে আসেন । সেইদিন দেশের সর্বত্র বিক্ষোভ দেখানো হলে জনতার উপর নির্মম লাঠি চালানো হয় এবং ব্যাপক ধরপাকড় শুরু হয় । মহাত্মা গান্ধি সহ অনেক নেতা কারারুদ্ধ হন । পুলিশের অত্যাচারে অনেক লোকের মৃত্যু ও অনেক লোক আহত হয় । উত্তর প্রদেশের চৌরিচৌরা নামক স্থানে পুলিশের এই অত্যাচারের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ জানাতে বিক্ষুব্ধ একদল জনতা একটি থানা আক্রমণ করে কয়েকজন পুলিশকে হত্যা করে ।
অহিংস আন্দোলনের মধ্যে এই হিংসাত্মক ঘটনা ঘটার প্রতিবাদে গান্ধিজি আন্দোলন প্রত্যাহার করে নেন । গান্ধিজির এইরূপ সিদ্ধান্তে জওহরলাল নেহেরু , সুভাষচন্দ্র বসু প্রমুখ নেতারা অসত্তোষ প্রকাশ করেন । গান্ধিজির ছয় বৎসরের কারাবাস হয় । এদিকে তুরস্কের গাজী মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক বিজয়ী হলে সুলতান গদিচ্যুত হন এবং সঙ্গে সঙ্গে ভারতের খিলাফৎ আন্দোলনের অবসান ঘটে । এবং তখনই অসহযোগ আন্দোলনের প্রথম পর্যায়ের সমাপ্তি ঘটে।
প্রশ্ন ৪। আইন অমান্য আন্দোলনের মূল লক্ষ্য কী ছিল ? এই আন্দোলনের মূল বৈশিষ্ট্য কী ?
উত্তরঃ ১৯৩০ সাল থেকে আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করা হয়েছিল । গান্ধিজি নেহেরু রিপোর্টের সিদ্ধান্ত ব্রিটিশ সরকারকে স্মরণ করিয়ে ভারতের ডোমিনিয়নের মর্যাদা দাবি করেন । তিনি তার ইয়ং ইণ্ডিয়া পত্রিকায় পূর্ণ স্বরাজের লক্ষ্যে এগারো দফা দাবি সরকারের কাছে পেশ করলেও সরকার ওই সব দাবি অগ্রাহ্য করে দমনমূলক নীতি প্রয়োগ করে সমস্ত প্রকার বিক্ষোভ দমনে তৎপর হয় । এই সময় ব্রিটিশ সরকার সুভাষচন্দ্র সহ আরও কয়েকজন নেতাকে গ্রেফতার করে । প্রসঙ্গত উল্লেখ্য যে ১৯২৩ খ্রিস্টাব্দে এক আইনের বলে লবণের ওপর দ্বিগুণ কর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছিল । এছাড়া সমুদ্রের জল থেকে লবণ তৈরি করা ছিল সরকারি আইনের বিরুদ্ধে । এর ফলে জনসাধারণ বিশেষ অসুবিধায় পড়ে । গান্ধিজি ভাইসরয় লর্ড আরউইনকে লবণ উৎপাদনের ব্যাপারে সমস্ত সরকারি বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার দাবি জানান। লর্ড আরউইন এই প্রস্তাব নাকচ করে দেওয়ায় গান্ধিজি লবণ সত্যাগ্রহের দ্বারা আইন অমান্য আন্দোলন শুরু করতে বাধ্য হন ।
১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ১২ মার্চ পরিকল্পনা অনুযায়ী গান্ধিজি ৭৯ জন অনুগামীদের নিয়ে সবরমতী আশ্রম থেকে গুজরাটের সমুদ্রতীরে দাণ্ডির দিকে পদযাত্রা শুরু করেন । তাঁর এই যাত্রার উদ্দেশ্য ছিল সরকারি নিষেধাজ্ঞা অগ্রাহ্য করে সমুদ্রতীরে লবণ তৈরি করে লবণ আইন লঙ্ঘন করা । দাণ্ডি অভিযান সারাদেশে নতুন আশার সঞ্চার করে । ১৯৩০ খ্রিস্টাব্দের ৬ এপ্রিল গান্ধিজি সমুদ্রতীর থেকে একমুঠো লবণ হাতে তুলে নিয়ে সরকারি লবণ আইন লঙ্ঘন করলে আইন অমান্য আন্দোলনের শুরু হয় । আইন অমান্য আন্দোলনকে কার্যকরি করতে ভারতের বিভিন্ন স্থানে , যেমন — মাদ্রাজ , মুম্বাই , বাংলা , আসাম ইত্যাদি অঞ্চলে ব্যক্তিগত উদ্যোগে লবণ তৈরি শুরু হয় । এছাড়া বিভিন্ন অঞ্চলে সরকারি অন্যান্য কর অস্বীকার করা হয় । বিদেশি দ্রব্য বয়কট , সরকারি দোকানের সামনে বিক্ষোভ এবং ধর্মঘটের মাধ্যমে আইন অমান্য আন্দোলনকে আরও সক্রিয় করে তোলা হয় । স্ত্রী পুরুষ নির্বিশেষে এই আন্দোলনে যোগদান করে ।
আইন অমান্য আন্দোলনকে দমন করার উদ্দেশ্যে লবণ সত্যাগ্রহীদের ওপর পুলিশ চরম অত্যাচার শুরু করে । সংবাদপত্রের স্বাধীনতা খর্ব করা হয় । সর্বোপরি সরকার জাতীয় কংগ্রেসকে বে – আইনী দল হিসাবে চিহ্নিত করে । এছাড়া আন্দোলনকারীদের সম্পত্তি সরকার বাজেয়াপ্ত করে । প্রায় ৬০,০০০ সত্যাগ্রহী গ্রেফতার হয় ।
প্রশ্ন ৫। কী পরিস্থিতিতে ভারত ত্যাগ আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ? ভারতের স্বাধীনতা সংগ্রামে এই আন্দোলনের কার্যসূচিকে তুমি মাইল স্টোন রূপে সাধ্যস্ত করতে চাও ? তোমার মতামতের সমর্থনে যুক্তি দাও ।
উত্তরঃ ভারত ত্যাগ আন্দোলন ব্রিটিশের বিরুদ্ধে ভারতবাসীর শেষ তথা চূড়ান্ত প্রত্যক্ষ আন্দোলন । ১৯৪২ সালে জার্মানির মিত্রশক্তি জাপানের ভারত মণ সম্ভা আক্রমণ করার সম্ভাবনা দেখা দেয় । জাপানের সাফল্যে ভয় পেয়ে ব্রিটিশ মন্ত্রীসভা ভারতের জনগণের সহযোগিতা লাভের জন্য স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপকে ভারতে প্রেরণ করে । কিন্তু ক্রিপসের প্রস্তাবে ভারতকে স্বাধীনতা দানের কোনো উল্লেখ না থাকায় কংগ্রেস তা গ্রহণ করে নি ।
ভারত ত্যাগ আন্দোলন প্রস্তাব :- ভারত সীমান্তে যখন জাপানী সৈন্য উপস্থিত , তখন স্যার স্ট্যাফোর্ড ক্রিপস্ তার মিশন অকৃতকার্য হওয়ায় ইংল্যাণ্ডে প্রত্যাবর্তন করেন । ভারতে সর্বত্র এক তীব্র হতাশা দেখা দেয় । ব্রিটিশ কর্তৃপক্ষের অদূরদর্শিতায় কংগ্রেস নেতৃবৃন্দ হতবাক হলেন । মহাত্মা গান্ধি তাঁর “ হরিজন ” পত্রিকায় ব্রিটিশদের ভারত ত্যাগ করে যেতে বললেন । সমগ্র ভারতে ব্রিটিশের বিরুদ্ধে “ ভারত ত্যাগ ” ধ্বনি উত্থিত হয় । মহাত্মা গান্ধি স্পষ্টভাবে বললেন যে ভারতে ব্রিটিশ শাসন বজায় থাকলেই জাপান থাকবে না । কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি ১৯৪২ সালের ১৪ ই জুলাই ব্রিটিশকে ভারত ত্যাগের জন্য অনুরোধ জানিয়ে এক প্রস্তাব পাস করেন । বোম্বাইতে ( মুম্বাইতে ) ১৯৪২ সালের ৮ ই আগস্ট কংগ্রেস কমিটির অধিবেশনে ওয়ার্কিং কমিটির প্রস্তাব অনুমোদিত হয়।
পৃথিবীতে শান্তি ও স্বাধীনতা স্থাপন এবং ভারতবাসীদের জাতীয় জীবনের উন্নতি বিধানের জন্য ভারতের স্বাধীনতা স্বীকার করে নেওয়া অপরিহার্য এই কথাও প্রস্তাবে গৃহীত হল । পরদিন অর্থাৎ ৯ ই আগস্ট প্রাতঃকালে মহাত্মা গান্ধিসহ কংগ্রেসের অন্যান্য গণ্যমান্য নেতাকে গ্রেপ্তার করা হল । ব্রিটিশ সরকারের ধারণা ছিল যে , কংগ্রেস নেতৃবৃন্দকে কারারুদ্ধ করলেই আন্দোলন থেমে যারে । এই উদ্দেশ্যে তাঁরা নিখিল ভারত কংগ্রেস কমিটি এবং প্রাদেশিক কংগ্রেস কমিটিগুলি বেআইনী বলে ঘোষণা করেন ।
গণ বিদ্রোহ :- সেইদিন নেতৃত্বহীন ভারতবাসী ব্রিটিশ অত্যাচারের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়িয়েছিল। সরকারী প্রতিষ্ঠান , সরকারী সম্পত্তি প্রভৃতি বিনাশ করে ব্রিটিশের অত্যাচারী শাসালের বিরুদ্ধে জনসাধারণ তাদের বিক্ষোভ দেখাল । সমগ্র ভারতে আগুন জ্বলল । অনেক রেলস্টেশন , পোস্ট অফিস ও থানা ভস্মীভূত হল । মোট ৫৩৮ বার পুলিশ ও সৈন্যদেরকে গুলিবর্ষণ করবার আদেশ দিতে হয়েছিল ।
মহাত্মা গান্ধির “ করেঙ্গে ইয়ে মরেঙ্গে ” আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে লক্ষ লক্ষ ভারতবাসী ভারতের শহর , নগর , গ্রামাঞ্চল সর্বত্র গণবিক্ষোভে অংশ গ্রহণ করল । এই গণবিক্ষোভের মূল লক্ষ্য ছিল ব্রিটিশ প্রশাসন অচল করে দেওয়া এবং যোগাযোগ ও সংযোগ ব্যবস্থা বিনাশ করে ব্রিটিশ শাসালের অবসান ঘটানো । বাংলাদেশের মেদিনীপুর জেলায় “ ভারত ত্যাগ ” আন্দোলন বা “ আগস্ট বিপ্লব ” এক অভূতপূর্ব সংগঠন ক্ষমতার পরিচয় দিয়েছিল । ভারত ত্যাগ আন্দোলন মেদিনীপুরে এক প্রকৃত বিপ্লবের রূপ ধারণ করেছিল । বীরাঙ্গনা মাতঙ্গিনী হাজরা জাতীয় পতাকা হাতে নিয়ে শোভাযাত্রায় নেতৃত্ব দিতে গিয়ে পুলিশের গুলি উপেক্ষা করে এগিয়ে গিয়েছিলেন । শেষপর্যন্ত পুলিশের গুলিতেই তিনি জাতীয় পতাকা হাতে প্রাণদান করে দেশের জন্য চরম আত্মত্যাগের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত রেখেছিলেন ।
মেদিনীপুরের মতন বর্তমান উত্তর প্রদেশের বালিয়া জেলায় এবং বিহারের ভাগলপুরে সাময়িকভাবে স্বাধীনতা ঘোষণা করা হয়েছিল । কয়েক মাস এই স্বাধীনতা বহাল ছিল ।
লিব্রিটিশ সরকার এই বিদ্রোহ দমন করতে সর্বপ্রকার দমনমূলক অত্যাচার নীতি অনুসরণ করতে লাগলেন । পুলিশ ও মিলিটারীর গুলিতে প্রায় দশ হাজার লোক প্রাণ হারায় এবং অসংখ্য লোক কারারুদ্ধ হয় । নেতৃত্ববিহীন জনসাধারণ স্বতঃস্ফূর্তভাবে ব্রিটিশ সরকারের বিরুদ্ধে বিদ্রোহী হয়ে উঠলে কোনো কোনো ক্ষেত্রে বিদ্রোহ স্বাভাবিকভাবেই হিংসাশ্রয়ী হয়ে উঠে । মহাত্মা গান্ধি হিংসাত্মক কার্যাবলীর বিরুদ্ধে নৈতিক প্রতিবাদ হিসাবে দীর্ঘ তিন সপ্তাহ অনশনে ব্রতী হন । অনশনকালে যখন গান্ধিজির জীবন সংকটাপন্ন হয়ে উঠে তখন ব্রিটিশ সরকার বিনাশর্তে তাঁকে মুক্তিদানে স্বীকৃত হয় । সমগ্র দেশবাসীর প্রার্থনায় মহাত্মা গান্ধি দীর্ঘ তিন সপ্তাহের কঠোর অনশন – পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন ।
প্রশ্ন ৬। ভারতীয় জাতীয় সেনাবাহিনীর বিষয়ে একটি টীকা লেখো ।
উত্তরঃ সুভাষচন্দ্র চিরকাল ছিলেন নির্ভীক বিপ্লবী । দেশসেবায় দুঃসাহসিকতা , নূতন পন্থা উদ্ভাবন প্রতিভার সঙ্গে এক অসাধারণ সংগঠনী শক্তি তাঁকে স্বল্পকালের মধ্যে সমগ্র ভারতের জনপ্রিয় নেতার আসনলাভে সহায়তা করেছিল ।
১৯২৮ সালে কলকাতা কংগ্রেসে সুভাষচন্দ্র ও পণ্ডিত জওহরলাল নেহরু নরমপন্থীদের “ ডোমিনিয়ন স্টেটাসে ” র পাল্টা পূর্ণ স্বাধীনতা দাবি করেন । ১৯৩৮ সালে হরিপুরা কংগ্রেস অধিবেশনে সুভাষচন্দ্র সভাপতি নির্বাচিত হন । কিন্তু মহাত্মা গান্ধির সঙ্গে তাঁর মতবিরোধ বাড়তে থাকে । পর বৎসর ত্রিপুরী ( মধ্যপ্রদেশ ) কংগ্রেসে গান্ধিজির মনোনীত প্রার্থী পট্টভি সীতারামাইয়াকে পরাজিত করে সুভাষচন্দ্র কংগ্রেস সভাপতি নির্বাচিত হন । কংগ্রেসের নরমপন্থীদের সঙ্গে মতবিরোধ তীব্র হওয়ার কারণে তিনি কংগ্রেসের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করে “ ফরোয়ার্ড ব্লক ” নামে নূতন একটি রাজনৈতিক দল গঠন করেন ।
সাম্রাজ্যবাদী ইংরেজ সরকার বার বার মহান বীর সন্তান নেতাজীকে কারারুদ্ধ করে । ১৯৪০ সালে তাঁকে নিরাপত্তা আইন বলে গ্রেপ্তার করে বিনা বিচারে আটক করে রাখেন । কারাগারে বন্দী অবস্থায় ১৯৪০ সালে সুভাষচন্দ্র আইনসভার সদস্য নির্বাচিত হন । জেলে কিছুদিনের মধ্যেই তাঁর স্বাস্থ্যভঙ্গ হলে তাঁকে পুলিশ প্রহরায় কলকাতার এলগিন রোডস্থ নিজ বাসভবনে নজরবন্দী করে রাখা হয় ।
আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠন :- নজরবন্দী অবস্থায় ১৯৪১ সালের জানুয়ারী মাসে কোনো একসময়ে পুলিশ ও গোয়েন্দাদের চোখে ধূলা দিয়ে সুভাষচন্দ্র ছদ্মবেশে দেশ থেকে পলায়ন করেন । তারপর তিনি আফগানিস্তান প্রভৃতি দেশের মধ্য দিয়ে জার্মানীতে গিয়ে উপস্থিত হন।হিটলারের সহায়তায় তিনি জার্মানীর সেনাবাহিনী কর্তৃক ধৃত ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে এক স্বাধীন ভারতের সেনাবাহিনী গঠন করেন । অতঃপর তিনি জাপান এবং সেখান থেকে জাপান অধিকৃত সিঙ্গাপুরে এসে উপস্থিত হন । সেখানে রাসবিহারী বসু প্রমুখ ভারতীয় তাঁকে আজাদ হিন্দ ফৌজ গঠনে সহায়তা করেন ।
জাপানের হাতে বন্দী ভারতীয় সৈন্যদের নিয়ে সুভাষচন্দ্র তাঁর আজাদ হিন্দ বাহিনী গড়ে তোলেন । তাঁর ব্যক্তিত্বের প্রভাবে হিন্দু – মুসলমান উভয় সম্প্রদায়ের সৈনিকগণ তাঁর আহ্বানে সাড়া দিল । তিনি সাম্প্রদায়িক একতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন । তিনি হলেন আজাদ হিন্দ ফৌজের “ নেতাজী ” । সিঙ্গাপুরে আজাদ হিন্দ সরকারও গঠিত হয় । আজাদ হিন্দু বাহিনী নিয়ে “ নেতাজী ” আসামের সীমা অতিক্রম করে ভারতে প্রবেশ করে কোহিমা ও শিলচরের কাছাকাছি মিতেনপুর অধিকার করতে সমর্থ হন । কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত খাদ্যাভাব ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে আজাদ হিন্দ ফৌজ আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় । ১৯৪১ সালের ১৮ ই আগস্ট এক বিমান দুর্ঘটনায় নেতাজী সুভাষচন্দ্রের মৃত্যু ঘটেছে বলে প্রচারিত হয়েছে । কিন্তু এই ঘটনার সত্যতা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত কোনো স্থির এবং সর্বজনগ্রাহ্য সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া সম্ভব হয় নি । নেতাজী ভারতবাসীর মধ্যে না থাকলেও তাঁর কীর্তি ভারতবাসীর হৃদয়ে চির উজ্জ্বল থাকবে ।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

Hi, I’m Dev Kirtonia, Founder & CEO of Dev Library. A website that provides all SCERT, NCERT 3 to 12, and BA, B.com, B.Sc, and Computer Science with Post Graduate Notes & Suggestions, Novel, eBooks, Biography, Quotes, Study Materials, and more.

