Class 10 Social Science Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন Notes to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Class 10 Social Science Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন and select needs one.
Class 10 Social Science Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন
Also, you can read SCERT book online in these sections Class 10 Social Science Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. Class 10 Social Science Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন These solutions are part of SCERT All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Social Science Chapter 1 বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন for All Subject, You can practice these here..
বঙ্গ বিভাজন ( ১৯০৫-১৯১১ ) ও স্বদেশী আন্দোলন
Chapter – 1
প্রথম খণ্ড – ইতিহাস
অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর
অতি সংক্ষেপে উত্তর দাও
প্রশ্ন ১। বঙ্গ বিভাজন কোন ভাইসরয়ের শাসনকালে সংঘটিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ লর্ড কার্জনের শাসনকালে ।
প্রশ্ন ২। ১৯০৫ খ্রিস্টাব্দের কোন তারিখে বঙ্গ বিভাজন কার্য সংঘটিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৬ ই অক্টোবর তারিখে ।
প্রশ্ন ৩। বিদেশী পণ্য বর্জনের প্রস্তাব কোন সভায় গৃহীত হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯০৫ সালের জুলাই , দিনাজপুরের মহারাজার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত সভায় ।
প্রশ্ন ৪। স্বদেশী আন্দোলনের সময় “ যুগান্তর ” নামক সংবাদপত্র কে সম্পাদনা করেছিলেন ?
উত্তরঃ ভূপেন্দ্রনাথ দত্ত সম্পাদনা করেছিলেন ।
প্রশ্ন ৫। বঙ্গদেশে “ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ” নামক অনুষ্ঠান কখন গঠিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯০৬ সালের ১১ ই মার্চে ।
প্রশ্ন ৬। “ বেঙ্গল কেমিকেলস্ ” নামক শিল্প প্রতিষ্ঠানটির প্রধান উদ্যোক্তা কে ছিলেন ?
উত্তরঃ আচার্য প্রফুল্ল চন্দ্র রায় ।
প্রশ্ন ৭। কার পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ভারতীয়দের জন্য ‘ স্বরাজ ’ দাবি করে প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ দাদাভাই নাওরোজীর পৌরোহিত্যে অনুষ্ঠিত জাতীয় কংগ্রেসের অধিবেশনে ।
প্রশ্ন ৮। “ বন্দিনী ভারত ” নামক নাটকটির রচয়িতা কে ?
উত্তরঃ অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী ।
প্রশ্ন ৯। বঙ্গদেশের একত্রীকরণ কখন করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৯১১ সালে ।
সংক্ষিপ্ত উত্তর দাও
প্রশ্ন ১। বঙ্গ বিভাজনের ফলে সৃষ্টি হওয়া “ পূর্ববঙ্গ ও অসম ” নামক প্রদেশটির সঙ্গে সংলগ্ন বঙ্গদেশের প্রধান তিনটি ভৌগোলিক সংমণ্ডল উল্লেখ করো ।
উত্তরঃ বঙ্গ বিভাজন সৃষ্টি করা “ পূর্ববঙ্গ ও অসম ” নামক প্রদেশটির সঙ্গে সংলগ্ন হওয়া বঙ্গদেশের প্রধান তিনটি ভৌগোলিক সংমণ্ডল হল— ঢাকা , চট্টগ্রাম ও রাজশাহী ।
প্রশ্ন ২। বঙ্গ বিভাজনের অন্তর্নিহিত উদ্দেশ্য কী ছিল , তা সংক্ষেপে লেখো ।
উত্তরঃ বঙ্গ বিভাজনের সপক্ষে লর্ড কার্জনের উন্নত ও দক্ষ প্রশাসন প্রতিষ্ঠার যুক্তি ছিল একটি প্রবঞ্চনা মাত্র । প্রকৃতপক্ষে বঙ্গ বিভাজনের পরিকল্পনা ছিল গভীর ষড়যন্ত্র ও দুরভিসন্ধির ফল । বাংলা ছিল ভারতের জাতীয়তাবাদের প্রধান কেন্দ্র । বাংলাতেই প্রথম ধ্বনিত হয়েছিল ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদ ও ঔপনিবেশিক শোষণের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ । ভারতের জাতীয় কংগ্রেসের নেতৃত্বেও ছিল বাঙ্গালীদের সার্বিক প্রাধান্য । বাংলার ঐক্য ও জাতীয় চেতনার স্ফুরণ ইংরেজদের কাছে বিপদসংকেত বলে মনে হয়েছিল । লর্ড কার্জন বাংলাকে বিভক্ত করে একই সঙ্গে বাংলার জাতীয়তাবোধ ও জাতীয় কংগ্রেসের ভিত্তিকে ভেঙ্গে ফেলার পরিকল্পনা করেছিলেন ।
প্রশ্ন ৩। বঙ্গ বিভাজন বিরোধী আন্দোলন কেন “ স্বদেশী আন্দোলন ” নামে পরিচিত হল ।
উত্তরঃ বঙ্গ বিভাজনের পরিকল্পনাটি সরকারিভাবে ১৯০৫ সালের ১৯ জুলাই প্রকাশিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে পূর্ববঙ্গ , উত্তরবঙ্গ ও পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন স্থানে অনুষ্ঠিত প্রতিবাদী সভার মাধ্যমে প্রবল গণসংগ্রামের জোয়ার ঘটেছিল । জাতি – ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে সকল শ্রেণির মানুষ এই সংগ্রামে ঝাপিয়ে পড়েছিল । বঙ্গচ্ছেদের পরিণতি হিসাবে সঙ্গবদ্ধভাবে বিদেশী সামগ্রী বর্জন এবং স্বদেশী সামগ্রী গ্রহণের সিদ্ধান্ত অনুমোদিত হওয়ার পর “ স্বদেশী আন্দোলন ” নামে এই আন্দোলন পরিচিতি লাভ করে ।
প্রশ্ন ৪। স্বদেশী আন্দোলন জাতীয় শিক্ষাক্ষেত্রে যে অবদান রেখেছে সে বিষয়ে আলোচনা করো ।
উত্তরঃ শুধুমাত্র বিদেশী পণ্য বর্জনের মধ্যে স্বদেশী আন্দোলন সীমাবদ্ধ ছিল না । বঙ্গদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উপর এর প্রভাব পড়েছিল । ছাত্রসমাজের মধ্যে দেখা দেওয়া আন্দোলনের প্রবণতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বঙ্গপ্রদেশ সরকারের মুখ্য সচিব আর . ডব্লিউ . কার্লাইল এক আদেশ বলে ছাত্রদের আন্দোলনে অংশগ্রহণ না করতে হুঁশিয়ারী দেন । সমগ্র বঙ্গদেশে এই আদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদের জোয়ার উঠেছিল। কার্লাইলের আদেশের প্রতিবাদে ছাত্রগণ ক্লাস বর্জন করে । বিপিনচন্দ্র পাল , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , আব্দুল রসুল প্রমুখ নেতা ছাত্রসমাজকে সরকারী শিক্ষানুষ্ঠান ত্যাগ করার আহ্বান জানিয়েছিলেন । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ১৯০৫ সালের ৫ ই আগস্ট কলকাতায় এক জনসভায় জাতীয় শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জ্ঞানগর্ভ বক্তৃতা দিয়েছিলেন । পরের দিন অর্থাৎ ৬ ই আগস্ট বিশাল জনতার উপস্থিতিতে তিনি “ বঙ্গ জাতীয় বিদ্যালয় ” নামক জাতীয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান প্রতিষ্ঠা করেন । রংপুরে ৮ ই নভেম্বর দ্বিতীয় জাতীয় বিদ্যালয় স্থাপন হয় । রাসবিহারী বসুর নেতৃত্বে কলকাতার টাউন হলে ১৯০৬ সালের গঠিত হয় । ১১ ই মার্চ অনুষ্ঠিত সভায় “ জাতীয় শিক্ষা পরিষদ ” নামে শিক্ষার শীর্ষ প্রতিষ্ঠানটি
প্রশ্ন ৫। স্বদেশী আন্দোলনের সময় বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্পের বিকাশ কীভাবে সম্ভবপর হয়েছিল আলোচনা করো ?
উত্তরঃ স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে আত্মশক্তি বিকাশের মানসিকতাই বঙ্গদেশের জাতীয় শিল্প – কারখানা গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল । স্বদেশী পণ্যের চাহিদা বাড়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন কুটির শিল্প এবং কতিপয় বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল । সূতা কাটার কল , ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁতশাল , সরিষার তেল , সাবান , চিনি , দেশলাই , বিস্কুট প্রভৃতির কারখানা গড়ে উঠেছিল । এর সঙ্গে জাতীয় ব্যাঙ্ক ও স্বদেশী বীমা কোম্পানীও গড়ে উঠেছিল । রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর প্রতিষ্ঠিত ১৮৯৭ সালের স্বদেশী ভাণ্ডার একটি বৃহৎ বস্ত্র প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছিল । যোগেশচন্দ্র চৌধুরী ও কৃষ্ণবিহারী সোলের প্রচেষ্টায় – কলকাতার বউবাজারে গড়ে উঠেছিল “ ইণ্ডিয়ান স্টোর্স ” নামক প্রতিষ্ঠান । ঠাকুর পরিবারের কন্যা সরলাদেবী ১৯০৩ সালে কর্নওয়ালিশ ষ্ট্রীটে ( বর্তমান বিধান সরণী ) “ লক্ষ্মী ভাণ্ডার ” প্রতিষ্ঠা করেছিলেন । জগদীশচন্দ্র বসু , প্রফুল্লচন্দ্র রায় , নীলরতন সরকার প্রমুখ অসাধারণ ব্যক্তি বঙ্গদেশে বৃহৎ শিল্প গড়ে তোলার চিন্তা করেছিলেন । নীলরতন সরকারের উদ্যোগে “ বঙ্গলক্ষ্মী কটন মিল ” এবং আচার্য প্রফুল্লচন্দ্র রায়ের “ বেঙ্গল কেমিকেলস্ ” নামক উদ্যোগ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল ।
প্রশ্ন ৬। স্বদেশী আন্দোলন দমন করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার কী কী আন্দোলনবিরোধী কার্যসূচি গ্রহণ করেছিল ?
উত্তরঃ বঙ্গভঙ্গের ক্ষেত্রে ব্রিটিশ সরকার কংগ্রেসের নরমপন্থী নেতাগণের সহযোগিতা আশা করেছিল । লর্ড কার্জন এই নেতৃবৃন্দকে হাতের মুঠিতে রাখার উদ্দেশ্যে তাঁদের প্রদান করেছিলেন নানাপ্রকার উপাধি , পদক ও পদ । উদারপন্থী কংগ্রেস সদস্যগণকে উচ্চন্যায়ালয়ে বিচারপতির পদ , ব্রিটিশ সংসদের সদস্য পদ , ভাইসরয় পদপর্যায়ের লোভনীয় সদস্য পদের প্রস্তাব দিয়ে বঙ্গভঙ্গ পরিকল্পনায় তাঁদের সমর্থন আশা করেছিল । তবুও কার্জন বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলন দুর্বল করতে পারেনি ।
কঠোর আইন প্রয়োগ করে ব্রিটিশ জনমত প্রকাশে বাধা আরোপ করেছিল । ব্রিটিশ সরকার ১৯০৭ সালের ৩ রা জুন দেশীয় সংবাদপত্রের উপর সতর্কীকরণ জারি করেছিল । ১৯০৭ সালের ১৫ ই আগস্ট “ বন্দেমাতরম্ ” সঙ্গীতটি নিষিদ্ধ করা হয় ।
বিভেদকামী নীতির প্রশ্রয় দিয়ে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শোষণ অক্ষুণ্ণ রাখার চেষ্টা করেছিল । হিন্দু ও মুসলমানদের মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করে মুসলমানদের থেকে বঙ্গ বিভাজনের তারা সহযোগিতা আদায় করতে চেষ্টা করেছিল ।
বঙ্গভঙ্গ বিরোধী গণ আন্দোলনকে খর্ব করার উদ্দেশ্যে ব্রিটিশ সরকার পুলিশ ও সৈন্যবাহিনীর সাহায্যে হিংসা ও সন্ত্রাস চালিয়েছিল । ব্রিটিশ সরকার ১৯০৮ সালের ১১ ই ডিসেম্বর বঙ্গভঙ্গ বিরোধী আন্দোলনের শীর্ষ নেতা কৃষ্ণকুমার দত্ত , মনোরঞ্জন গুহঠাকুরতা , সুবোধচন্দ্র মল্লিক , সতীশচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় , শ্যামসুন্দর চক্রবর্তী , শচীন্দ্রপ্রসাদ বসু , ভূপেন্দ্রনাথ নাগ , পুলিনবিহারী দাস , অশ্বিনীকুমার দত্তকে নির্বাসন দিয়েছিল ।
প্রশ্ন ৭। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি ফলাফল উল্লেখ করো ।
উত্তরঃ স্বদেশী আন্দোলনের ফলাফল তিনটি হল—
( ক ) জাতীয় সাহিত্য :- স্বদেশানুভূতির জোয়ারে সাহিত্য সৃষ্টিতে বিশেষ প্রেরণা জুগিয়েছিল । স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে বিভিন্ন সংবাদপত্র , আলোচনা , গ্রন্থ , গান , নাটক, প্রবন্ধ প্রভৃতি প্রকাশিত হওয়ায় জাতীয় সাহিত্য সমৃদ্ধি ও উৎকর্ষতা লাভ করে ।
( খ ) জাতীয় শিক্ষা :- স্বদেশী আন্দোলন শুধুমাত্র বিদেশী পণ্য বর্জনের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না । বঙ্গদেশের প্রচলিত শিক্ষা ব্যবস্থার উপরও এর প্রভাব পড়েছিল । ছাত্রসমাজের মধ্যে দেখা দেওয়া আন্দোলনের একতার প্রতি লক্ষ্য রেখে বঙ্গদেশের সরকারের মুখ্য সচিব আর . ডব্লিউ . কার্লাইল এক আদেশজারির মাধ্যমে ছাত্রগণকে আন্দোলনে যোগদান না করার নির্দেশ দেন । বিপিনচন্দ্র পাল , রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর , আব্দুল রসুল প্রমুখ ছাত্রসমাজকে সরকারী শিক্ষানুষ্ঠান ত্যাগ করার আহ্বান জানান । বিভিন্ন মনীষি বিভিন্ন স্থানে স্বদেশী স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন ফলে জাতীয় শিক্ষার প্রসার ঘটে ।
( গ ) স্বদেশী শিল্পোদ্যোগ :- স্বদেশী আন্দোলনের পটভূমিতে আত্মশক্তির বিকাশের মানসিকতা বঙ্গদেশে জাতীয় শিল্প – কারখানা গড়ে তোলার অনুকূল পরিবেশ সৃষ্টি করেছিল । স্বদেশী পণ্যের চাহিদা বৃদ্ধি হওয়ার পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন কুটির শিল্প ও কতিপয় বৃহৎশিল্প প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠেছিল । সূতাকাটার কল , ক্ষুদ্র ও মাঝারি তাঁত শিল্প , সরিষার তেল , সাবান , চিনি , দেশলাই , বিস্কুট প্রভৃতির কারখানা গড়ে উঠেছিল ।
প্রশ্ন ৮। স্বদেশী আন্দোলনের তিনটি অবদান উল্লেখ করো ।
উত্তরঃ ভারতবর্ষের রাজনৈতিক ও সামাজিক ব্যবস্থায় স্বদেশী আন্দোলন গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে । এর প্রধান অবদানগুলো নিম্নরূপ—
( ক ) ভারতবাসীকে গণ আন্দোলন সম্পর্কে স্বদেশী আন্দোলন একটি রাজনৈতিক শিক্ষা দিতে সক্ষম হয়েছিল । দেশের বেশিরভাগ মানুষ আন্দোলনে সমবেত হলে যে গণ আন্দোলন জয়যুক্ত হওয়া সুনিশ্চিত , সেকথা ভারতবাসী স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমে আয়ত্ত করতে পেরেছিল ।
( খ ) ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস সূচনালগ্নে আবেদন নিবেদনের মাধ্যমে সহনশীল চিন্তায় বিশ্বাস রেখে ব্রিটিশ সরকারের উপর ভারতীয়দের উন্নতি আশা করেছিল । কিন্তু বঙ্গভঙ্গকে কেন্দ্র করে জাতীয় কংগ্রেসের চিন্তা কর্মে পরিবর্তনের সূচনা হয়েছিল ।
( গ ) স্বদেশী আন্দোলনের মাধ্যমেই ভারতবাসী ব্রিটিশ সরকারের নিকট স্বরাজ দাবি করার সুযোগ লাভ করেছিল । স্বদেশী আন্দোলনের তীব্র উত্তেজনা জাতীয় কংগ্রেসকে দাদাভাই নৌরোজীর পৌরোহিত্যে ১৯০৬ সালে অনুষ্ঠিত কলকাতার অধিবেশনে সর্বপ্রথম ভারতবাসীর জন্য স্বরাজ দাবি করার প্রস্তাব গ্রহণ করতে বাধ্য করেছিল ।
সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো
( ১ ) কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর :- ১২৬৮ বঙ্গাব্দের ২৫ শে বৈশাখ ( ১৮৬১ সালের ৭ ই মে ) কলকাতার জোড়াসাঁকোর বিখ্যাত ঠাকুর পরিবারে কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর জন্মগ্রহণ করেন । বাল্যকাল থেকে রবীন্দ্রনাথ কবিতা লিখতে শুরু করেন । সমস্ত জীবন ধরে তিনি কবিতা , গান , গল্প , প্রবন্ধ , নাটক , উপন্যাস প্রভৃতি রচনা করেন । ১৯১৩ সালে রবীন্দ্রনাথ তাঁর কাব্যগ্রন্থ ‘ গীতাঞ্জলি’র জন্য নোবেল পুরস্কার লাভ করেন । কিছুদিনের জন্য রবীন্দ্রনাথ সক্রিয়ভাবে রাজনীতিতে অংশগ্রহণ করেন ।
বঙ্গভঙ্গ আন্দোলনে অর্থাৎ স্বদেশী আন্দোলনে তিনি ঝাপিয়ে পড়েন । তাঁর রচিত গান “ বাঙ্গালির প্রাণ বাঙ্গালির মন , এক হউক হে ভগবান ….. … .. ” হিন্দু – মুসলমানদের মধ্যে ঐক্যবন্ধন করে । জালিয়ানওয়ালা বাগের হত্যাকাণ্ডের প্রতিবাদে ১৯১৯ সালে রবীন্দ্রনাথ ব্রিটিশ প্রদত্ত ‘ নাইট ’ উপাধি ত্যাগ করেন । বাংলা ১৩৪৮ সালের ২২ শে শ্রাবণ ( ইং ১৯৪১ সালের ৭ ই আগস্ট ) রাখীপূর্ণিমার দিন ৮০ বৎসর বয়সে বিশ্বকবির মহাপ্রয়াণ হয় ।
( ২ ) মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল ( ভগিনী নিবেদিতা ) :- ঊনবিংশ শতকে স্বামী বিবেকানন্দ ভারতবর্ষের নবজাগরণের ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পুরোধা ছিলেন । আর ভারতমাতার পায়ে তাঁরই শ্রেষ্ঠ উপহার মার্গারেট এলিজাবেথ নোবল বা ভগিনী নিবেদিতা । উত্তর আয়ারল্যান্ডের টাইরন প্রদেশের ডানগ্যানন নামক একটি ছোট শহরে ১৮৫৭ সালের ২৮ শে অক্টোবর তিনি জন্মগ্রহণ করেন । তিনি ১৮৯৮ সালের ২৮ শে জানুয়ারি ভারতভূমিতে পদার্পণ করেন । কলকাতায় অবস্থান করে তিনি নারী , যুবক – যুবতীগণের মধ্যে জাগরণ সৃষ্টিতে অনুপ্রেরণা জোগান ।
তিনি কলকাতায় অবস্থানকালে ইয়ংমেনস্ হিন্দু ইউনিয়ন , বিবেকানন্দ সোসাইটি , ডন সোসাইটি এবং অনুশীলন সমিতির সঙ্গে প্রত্যক্ষভাবে জড়িত হয়ে নারী ও যুবক – যুবতীগণকে দেশীয় শিল্পের মাধ্যমে স্বনির্ভরশীল হতে আবেদন জানিয়েছিলেন । ১৯০৫ সালের ১১ ই ফেব্রুয়ারী কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাবর্তনে ভাইসরয় লর্ড কার্জনের প্রাচ্যবাসীর প্রতি কটুক্তি নিবেদিতাকে আঘাত দিয়েছিল । এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানানোর উদ্দেশ্যে নিবেদিতা রাসবিহারী বসুর পৌরোহিত্যে কলকাতার টাউন হলে ১৯০৫ সালে ১১ ই মার্চ এক প্রতিবাদী সভা অনুষ্ঠিত করেন । মাত্র ৪৪ বছর বয়সে ১৯১১ সালের ১৩ অক্টোবর নিবেদিতা দেহত্যাগ করেন।
( ৩ ) নবাব সলিমউল্লা :- নবাব সলিমউল্লা ছিলেন ঢাকার নবাব । ১৯০৬ সালের ৩০ শে ডিসেম্বর তাঁর নেতৃত্বে ঢাকায় মুসলিম লীগ প্রতিষ্ঠিত হয় ।
“ সর্বভারতীয় মুসলিম লীগ ” নামক রাজনৈতিক দল স্থাপনের নেতৃত্ব বহন করা ব্যক্তি সলিমউল্লা সেদিন নবগঠিত রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ঘোষণা করেছিলেন। তা হল—
( ক ) ব্রিটিশ সরকারের প্রতি মুসলমান সম্প্রদায়ের আনুগত্যের প্রসার ঘটবে ।
( ৪ ) অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী :- ১৮৮৫ সালে অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী জন্মগ্রহণ করেন । তিনি আসামের বিখ্যাত স্বাধীনতা সংগ্রামী । “ অসমকেশরী ” নামে তিনি পরিচিত । তিনি আসামে স্বদেশী আন্দোলনে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেন । অসমবাসীর মধ্যে তিনি বঙ্গভঙ্গ বিরোধী প্রচার চালিয়েছিলেন । অম্বিকাগিরি “ বন্দিনী ভারত ” নামক একখানা বিদ্রোহাত্মক নাটক রচনা করেছিলেন । ১৯০৬ সালের ৩১ শে জুলাই কটন কলেজিয়েট হাইস্কুলে নাটকখানা অভিনয় চলাকালে পুলিশ মঞ্চ হতে নাটকের পাণ্ডুলিপি বাজেয়াপ্ত করেছিল ।
অম্বিকাগিরি , ক্ষুদিরাম বসু , বারীন ঘোষ ও উল্লাসকর দত্তের সঙ্গে যোগাযোগ করে “ সেবা সমিতি ” নামে একটি বিপ্লবী সংগঠন গড়ে তুলেছিলেন । ১৯০৬ সালের ৭ ই সেপ্টেম্বর র্যামফিল্ড ফুলারকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুয়াহাটি শিলং পথে তিনি একটি বোমা পুতেছিলেন । পুলিশ এ ব্যাপারে তাঁকে জেরা করে এবং ১৯১৪ সাল পর্যন্ত তাঁকে বরপেটায় অন্তরীণ বন্দী হিসাবে রাখে । অম্বিকাগিরি ১৯৬৭ সালে পরলোক গমন করেন ।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

Hi! my Name is Parimal Roy. I have completed my Bachelor’s degree in Philosophy (B.A.) from Silapathar General College. Currently, I am working as an HR Manager at Dev Library. It is a website that provides study materials for students from Class 3 to 12, including SCERT and NCERT notes. It also offers resources for BA, B.Com, B.Sc, and Computer Science, along with postgraduate notes. Besides study materials, the website has novels, eBooks, health and finance articles, biographies, quotes, and more.


