Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল

Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল Notes to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল and select needs one.

Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল

Join Telegram channel
Follow us:
facebook sharing button
whatsappp sharing button
instagram sharing button

Also, you can read SCERT book online in these sections Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল These solutions are part of SCERT All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Social Science Chapter 8 পৃথিবীর ভূগোল for All Subject, You can practice these here..

পৃথিবীর ভূগোল

               Chapter – 8

দ্বিতীয় খণ্ড – ভূগোল

অনুশীলনীর প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। পৃথিবীর স্থলমণ্ডল আর জলমণ্ডল বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো। 

উত্তরঃ পৃথিবীর মোট আয়তন প্রায় ৫১০ নিযুত বর্গ কিলোমিটার । পৃথিবীর ভূ – পৃষ্ঠের প্রায় ১৪৯ নিযুত বর্গ কিলোমিটার স্থলভাগ এবং প্রায় ৩৬১ নিযুত বর্গ – কিলোমিটাার জলভাগ । পৃথিবীর স্থলভাগ ৭ টি মহাদেশ দ্বারা গঠিত— এশিয়া , আফ্রিকা , ইউরোপ , উত্তর আমেরিকা , দক্ষিণ আমেরিকা , ওশেনিয়া এবং এণ্টার্কটিকা এবং জলভাগ প্রশান্ত মহাসাগর , আটলান্টিক মহাসাগর , ভারত মহাসাগর , উত্তর ও দক্ষিণ মহাসাগর । মহাদেশ সমূহের মধ্যে এশিয়া মহাদেশ এবং মহাসাগর সমূহের মধ্যে প্রশান্ত মহাসাগর সর্ববৃহৎ । ২০১৫ সনের আনুমানিক তথ্য অনুসারে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ৭৩০ কোটি । 

প্রশ্ন ২। মহাদেশীয় স্থংস্থান সূত্র অনুসারে পৃথিবীর অবস্থা আদিতে কেমন ছিল ? 

উত্তরঃ মহাদেশীয় বিস্থাপন বা সঞ্চারণ সূত্র ( Continental Drift Theory ) অনুযায়ী আদিতে , অর্থাৎ প্রায় ৩০০ নিযুত বৎসর পূর্বে পৃথিবীটির স্থলমণ্ডল একত্রিত হয়েছিল এবং এর চতুর্দিকে জলমণ্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল । পৃথিবীর এই অবস্থাতে থাকা স্থলমণ্ডলটিকে পেঞ্জিয়া ( Pangaea ) এবং এর চতুর্দিকে আবেষ্টনকারী জলমণ্ডলকে পান্থালাসা ( Panthalassa ) বলে । 

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Join Now

প্রশ্ন ৩। মহাসাগরের তলদেশের ভূ – অবয়ব সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো । 

উত্তরঃ মহাসাগরের জলপৃষ্ঠ অতি মসৃণ কিন্তু তলদেশের ভূ – প্রকৃতি অতিশয় অসমান । স্থলমণ্ডলে যেমন পাহাড় – পর্বত , মালভূমি , সমভূমি ইত্যাদি দেখা যায় , ঠিক তেমনই সাগর – মহাসাগরের তলদেশ শৈলশিরা , দ্রোণী , সামুদ্রিক টিলা , খাত ইত্যাদি অসমান করে রেখেছে । মহাসাগরের গভীরতা গড়ে প্রায় ৪০০০ কিলোমিটার । উপকূলভাগ থেকে যতই মধ্যভাগের দিকে যাওয়া যায় সাগর মহাসাগরের গভীরতা ততই বাড়তে থাকে । উপকূলভাগ থেকে সাগর মহাসাগরের মধ্যভাগ পর্যন্ত ক্রমান্বয়ে মহীসোপান ( Continental Shelf ) , মহীঢাল ( Continental slope ) , ” গভীর সমুদ্রতল ( Deep Sea Plain ) , সমুদ্রতলীয় দ্রোণী ( Oceanic Floor ) , সামুদ্রিক শৈলশিরা ও দ্বীপ ( Oceanic Ridge and Island ) এবং গভীর সমুদ্রখাত ( Deep Sea Trench ) । এছাড়া বহু শৈলশিরা , দ্বীপ ইত্যাদি দেখা যায় । 

উপকূলের নিকটবর্তী স্থানে থাকা সাগর – মহাসাগরের অগভীর ( প্রায় ২০০০ মিটার পর্যন্ত ) অংশকে মহীসোপান বলে । মহীসোপানের পরের অংশ যথেষ্ট 

গভীর ( প্রায় ২০০ মিটার ) অংশকে মহীঢাল বলে । মহীঢালের পর সাগর মহাসাগরের মধ্যভাগ অতি গভীর সমুদ্রতলীয় দ্রোণী ( ৪০০০ মিটার পর্যন্ত গভীর ) ; গভীরতম সামুদ্রিক খাত ( গড়ে ৮০০০ মিটার পর্যন্ত গভীর ) । প্রশাস্ত মহাসাগরের তলায় থাকা মেরিয়ানা খাত ( ১১,০২২ মিটার গভীর ) পৃথিবীর গভীরতম খাত । 

প্রশ্ন ৪। মহাসাগর এবং মহাদেশগুলোর বিতরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো । 

উত্তরঃ ভূ – পৃষ্ঠের সাগর – মহাসাগরকে ধরে নদ – নদী , হ্রদ ইত্যাদির জল দ্বারা আবেষ্টিত বৃহৎ অংশকে জলমণ্ডল ( Hydrosphere ) বলা হয় । পৃথিবীর পাঁচটি মহাসাগর হল — প্রশান্ত মহাসাগর , আটলান্টিক মহাসাগর , ভারত মহাসাগর , উত্তর মহাসাগর এবং দক্ষিণ মহাসাগর । প্রশান্ত মহাসাগর এশিয়া মহাদেশ , উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত । আটলান্টিক মহাসাগর উত্তর আমেরিকা , দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ , ইউরোপ এবং আফ্রিকা মহাদেশের মধ্যে অবস্থিত । ভারত মহাসাগর এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে , আফ্রিকা মহাদেশের পূর্বে ও ওশেনিয়া মহাদেশের পশ্চিমে অবস্থিত । উত্তর মহাসাগর উত্তর আমেরিকা , ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশের উত্তরে অবস্থিত । দক্ষিণ মহাসাগর দক্ষিণ আমেরিকা , আফ্রিকা ও ওশেনিয়া মহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত । জলমণ্ডলের বেশির ভাগই দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত । 

পেঞ্জিয়ার প্রায় মাঝামাঝি পূর্ব – পশ্চিমে একটি সংকীর্ণ এবং লম্বা সাগরের সৃষ্টি হয়েছিল । একে টেথিস সাগর বলা হয় । এই সাগরের উত্তর – অংশটিকে লরেসিয়া এবং দক্ষিণ অংশকে গণ্ডোয়ানা ল্যাণ্ড বলা হয় । মহাদেশীর সঞ্চারণ সূত্র অনুসারে লরেসিয়া বিভাজিত হয়ে উত্তর আমেরিকা , গ্রীণল্যাণ্ড ও ভারত 

উপমহাদেশের উত্তরে থাকা ইউরোপ এবং এশিয়া মহাদেশের সৃষ্টি হয়েছিল । অপরদিকে গণ্ডোয়ানা ল্যাণ্ড বিভাজিত হয়ে দক্ষিণ আমেরিকা , আফ্রিকা , মাদাগাস্কার ; ভারতবর্ষ , আরব অঞ্চল , মালয়েশিয়া ও অন্যান্য দ্বীপপুঞ্জ , অষ্ট্রেলিয়া , এণ্টার্কটিকা ইত্যাদির সৃষ্টি হয়েছিল । 

সাগরপৃষ্ঠের কিছুটা উপরে থাকা মাটিতে পরিপূর্ণ একটি বৃহৎ অংশকে স্থলমণ্ডল বলে । স্থলমণ্ডলটি জল দ্বারা পরিবেষ্টিত হয়ে চারটি বৃহৎ অংশে বিভাজিত হয়েছে । স্থলমণ্ডলের বৃহৎ অংশকে এশিয়া , ইউরোপ ও আফ্রিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত , দ্বিতীয় অংশটি উত্তর আমেরিকা এবং দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত , তৃতীয় অংশটি অষ্ট্রেলিয়া ও অনেক দ্বীপপুঞ্জ দ্বারা ওশেনিয়া মহাদেশ গঠিত । চতুর্থ অংশটি এন্টার্কটিকা মহাদেশ দ্বারা গঠিত । স্থলভাগের বেশিরভাগ অংশ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত । 

প্রশ্ন ৫। পৃথিবীর স্থলভাগের উপরে বিদ্যমান ভূ – অবয়বগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখো । 

উত্তরঃ পাহাড় – পর্বত , মালভূমি , সমভূমি , উপকূলীয় সমভূমি ইত্যাদির উপস্থিতি স্থলমণ্ডলের ভূ – অবয়ব অসমান করে রেখেছে । অবশ্য মহাদেশের সকল স্থানে ভূ – প্রকৃতি একই নয় । পৃথিবীর ৭ টি মহাদেশের ভূ – প্রকৃতি সম্পর্কে নীচে আলোচনা করা হল । 

( ১ ) এশিয়া মহাদেশ :- এশিয়া পৃথিবীর সর্ববৃহৎ মহাদেশ । প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত জাপান , তাইওয়ান , ফিলিপাইন , জাভা , সুমাত্রা , বোর্ণিও ইত্যাদি দ্বীপসমূহ এবং ভারত মহাসাগরে অবস্থিত আন্দামান – নিকোবর , শ্রীলংকা , লাক্ষাদ্বীপ , মালদ্বীপ , বাহরিণ ইত্যাদি এশিয়া মহাদেশের অন্তর্গত । 

এশিয়া মহাদেশটি সুউচ্চ পর্বত শ্রেণি , মালভূমি , নদী উপত্যকা , নিম্নভূমি , উপকূলীয় সমভূমি , মহাসাগরীয় দ্বীপ , মরুভূমি ইত্যাদি দ্বারা পরিপূর্ণ । মহাদেশটির মধ্য অংশ পর্বত ও মালভূমিপূর্ণ । পর্বতশ্রেণির মধ্যে মহাদেশটির পশ্চিম সীমাতে উত্তর – দক্ষিণে থাকা ইউরাল পর্বতমালা , মধ্যাংশে পূর্ব – পশ্চিমে বিস্তৃত পৃথিবীর সর্বোচ্চ হিমালয় পর্বতমালা , কারাকোরাম পর্বতমালা , কুনলুন পর্বতমালা , অলতাইন পর্বতমালা , তিয়েনসান পর্বতমালা, অলতাই পর্বত , আরাবল্লী পর্বত প্রভৃতি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । হিমালয় পর্বতশ্রেণির অন্তর্গত পৃথিবীর উচ্চতম শৃংগ এভারেষ্ট এবং কারাকোরাম এশিয়া মহাদেশেই অবস্থিত । অপরদিকে মালভূমির মধ্যে তিব্বত মালভূমি , পৃথিবীর উচ্চতম পামীর মালভূমি, সাইবেরিয়া মালভূমি , মংগোলিয়া মালভূমি , দাক্ষিণাত্য মালভূমি , আরব মালভূমি , ইরান মালভূমি ইত্যাদিই প্রধান । 

( ২ ) ইউরোপ মহাদেশ :- ভূ – প্রাকৃতিকভাবে ইউরোপ মহাদেশকে দুভাগে ভাগ করা যায় — উত্তর অংশটি পশ্চিমের ফ্রান্সের উপকূল থেকে পূর্বে ইউরাল পর্বতশ্রেণি পর্যন্ত প্রায় সমতল ভূমি এবং দক্ষিণ অংশটি স্পেইন হতে কৃষ্ণসাগর পর্যন্ত পাহাড় – পর্বত , মালভূমি দ্বারা কোথাও বা উঁচু আবার কোথাও বা নীচু দক্ষিণ ইউরোপের পর্বতশ্রেণির মধ্যে আল্পস , পিরেনিজ , কার্থেপিয়ান ও ককেশাস বিশেষ উল্লেখযোগ্য । ককেশাস পর্বতশ্রেণির অন্তর্গত ‘ মাউণ্ট এলব্রাস ’ শৃংগ হল ইউরোপের উচ্চতম স্থান ( ৫,৬৩৩ মিটার ) অপরদিকে , আল্পস পর্বতের উচ্চতম শৃংগটি হল মাউণ্ট ব্ল্যাঙ্ক ( ৪,৮০৭ মিটার । ) 

ইউরোপের নদীসমূহের মধ্যে স্পেইনের এলব্রো , ফ্রান্সের রাইন ও সাইন , লোয়র ও গারণ ; জার্মানীর রাইন ও এল্ ; পোলাণ্ডের ওডার ও ভিচুলা , অষ্ট্রিয়া , হাঙ্গেরী ও রোমানিয়া , ডানিয়ুব ; বেলারুশ ও ইউক্রেনের নিপার ; ইটালীর পো ; গ্রেট ব্রিটেনের থেম্স ; রাশিয়ার ডন , ভল্গা ও ইউরাল ইত্যাদি হ্রদ বিশেষভাগে উল্লেখযোগ্য । 

( ৩ ) আফ্রিকা মহাদেশ :- আফ্রিকা পৃথিবীর দ্বিতীয় মহাদেশ । উপকূলবর্তী সংকীর্ণ সমতলভূমি ছাড়া মহাদেশটির বেশিরভাগ অংশই একটি বৃহৎ মালভূমি । আফ্রিকা মহাদেশে সুউচ্চ পর্বতশ্রেণি নাই । মহাদেশটিতে বিক্ষিপ্তভাবে ছড়িয়ে থাকা ছোট ছোট উচ্চভূমি এই মহাদেশের ভূপ্রকৃতিকে উঁচু – নীচু করে রেখেছে । এই মহাদেশের পূর্বপ্রান্তে থাকা কিলিমানজারো শৃংগ মহাদেশটির উচ্চতম স্থান ( ৫,৮৯৫ মিটার ) । আফ্রিকার উচ্চভূমিসমূহের মধ্যে উত্তর প্রান্তের এট্লাস , উত্তর – পূর্ব প্রান্তের ইথিওপিয়ান উচ্চভূমি ; পশ্চিম প্রান্তের এত্তা মাওয়া উচ্চভূমি , দক্ষিণ আফ্রিকার ড্রাকেন্সবার্গ উচ্চভূমি ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য ।

পৃথিবীর বৃহত্তম নীল নদ ছাড়াও অন্যান্য প্রধান নদীসমূহ হল— কংগো ( জায়রে ) , নাইজার, জাম্বেসি , অরেঞ্জ , লিম্পোপো , ভোল্টা , সেনেগাল , সিবে ওগু , লুরিত , লুয়াঞ্চুয়া, কেলেডোন ইত্যাদি । 

উল্লেখযোগ্য হ্রদগুলো — ভিক্টোরিয়া , এলবার্ট , টাঙ্গানিকা , চাঁদ , ভোল্টা , নিয়াসা , কেবোরা বাচ্চা , মালাওয়ি , টুর্কানা , কিভু , কোচ্চৌ , এব্বে ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য । 

পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি সাহারা ছাড়াও কালাহারী ও নামিবিয়া মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত। 

( ৪ ) উত্তর আমেরিকা :- উত্তর আমেরিকা পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ । উত্তর আমেরিকা মহাদেশটির ভূ – প্রাকৃতিক গঠন বৈচিত্র্যময় । এর উচ্চতম স্থান ম্যাকিনলে শৃংগ (৬১৯৪ মিটার ) এবং নিম্নতম স্থান মৃত্যু উপত্যকা ( Death Valley ) । মহাদেশটির পশ্চিম ও পূর্ব অংশ দুটি উত্তর – দক্ষিণে পাহাড় পর্বতময় । বাকী অংশ উচ্চ ও নিম্ন সমতলভূমি । এই মহাদেশটিকে চারটি ভাগে ভাগ করা যায়— 

( ১ ) রকি পার্বত্য অঞ্চল ।

( ২ ) বিশাল উচ্চ সমভূমি অঞ্চল ।

( ৩ ) আপালেশিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল ।

( ৪ ) উপকূলীয় নিম্ন সমতলভূমি অঞ্চল । 

উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অনেক নদ – নদী ও হ্রদ আছে । নদী সমূহের মধ্যে মিসৌরী , মিসিসিপি , য়ুকুম , মেকেঞ্জি , রিওগ্রাণ্ডে , রেড , আরকানসাস , কলোরাডো , কলম্বিয়া , স্নেক , ওহিও , টেনেসি , হাডসন , সেণ্ট লরেন্স ইত্যাদি বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য । 

প্রধান প্রধান হ্রদসমূহ হল— সুপিরিয়র , হিউরন , মিচিগান , ইরি , অণ্টোরও , গ্রেট বিয়ার, গ্রেট স্লেভ , উইনিপেগ এবং গ্রেট সল্ট । মহাদেশের দক্ষিণ – পশ্চিম অংশে কলোরাডো নামে প্রায় মরুভূমি অঞ্চল আছে । 

( ৫ ) দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ :- উত্তর আমেরিকা মহাদেশের ঠিক দক্ষিণে অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশ। এই মহাদেশটি কিছুটা ত্রিভুজাকৃতি । এর উত্তর অংশটি যথেষ্ট প্রশস্ত এবং দক্ষিণ অংশ কিছু অপ্রশস্ত ।

দক্ষিণ আমেরিকা মহাদেশের ভূ – প্রকৃতি বৈচিত্র্যপূর্ণ । এই মহাদেশে উচ্চ পার্বত্যভূমি , নদীগঠিত সমভূমি , মালভূমি , উপকূলীয় সমভূমি , দ্বীপ , মরুভূমি ইত্যাদি প্রায় সকল ধরনের ভূ – অবয়ব দেখা যায় । দক্ষিণ আমেরিকার পশ্চিম।

অংশ উত্তর – দক্ষিণে পানামা যোজক হতে হর্ণ অন্তরীপ পর্যন্ত সুউচ্চ আন্দিজ পর্বতমালা বিস্তৃত হয়ে আছে । এই পর্বতমালা পৃথিবীর দীর্ঘতম ( প্রায় ৮০০০ কিলোমিটার ) পর্বতশ্রেণি । উচ্চতার দিক থেকে হিমালয় পর্বতের পরেই আন্দিজের স্থান । মহাদেশটির মধ্য – পূর্ব অংশে বিস্তীর্ণ ব্রাজিলিয়ান মালভূমি আছে । অপরদিকে আন্দিজ পর্বতমালার নিকটবর্তী অঞ্চলের উত্তর অংশে ইকুয়েডর মালভূমি এবং দক্ষিণ অংশে পারাণা – পাটাগণিয়া মালভূমি আছে । প্রশান্ত এবং আটলান্টিক উপকূলের সমভূমি অপ্রশস্ত। দক্ষিণ আমেরিকার উল্লেখযোগ্য নদীসমূহ হল — ওরিনকো , আমাজান , পারাণা , পারাগুয়ে ইত্যাদি । এই নদী কয়টি প্রায় সমগ্র মহাদেশে বিস্তৃত সমভূমির সৃষ্টি করেছে । পৃথিবীর উচ্চতম স্থানে অবস্থিত বৃহৎ টিটিকাকা হ্রদ এই মহাদেশে অবস্থিত । এই মহাদেশে আটাকামা এবং পাটাগোণিয়া মরুভূমি আছে । 

( ৫ ) ওশেনিয়া মহাদেশ :- অষ্ট্রেলিয়া মহাদ্বীপকে কেন্দ্র করে দক্ষিণ – পশ্চিম প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত নিউজিল্যাণ্ড, টাসমানিয়া , নিউগিনি ইত্যাদি অনেক ছোট বড় দ্বীপসমূহকে নিয়ে ওশেনিয়া মহাদেশ গঠিত । এই মহাদেশ সম্পূর্ণভাবে দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত । এই ক্ষুদ্রতম মহাদেশের বৃহত্তম দেশ হল অষ্ট্রেলিয়া । ওশেনিয়া মহাদেশের প্রধান ভূখণ্ড অষ্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যাণ্ড ইত্যাদি দ্বীপসমূহের চতুর্দিকে ঘিরে রয়েছে প্রশান্ত , ভারত ও দক্ষিণ মহাসাগর । 

ওশেনিয়া মহাদেশের মূল ভূখণ্ড অষ্ট্রেলিয়া একটি প্রাচীন মালভূমি । এই দেশের চারদিকে সংকীর্ণ উপকূলীয় সমভূমি আছে । অষ্ট্রেলিয়ার পূর্ব অংশটি গ্রেট ডিভাইডিংরেঞ্জ ও স্নোয়ি মাউণ্টেইন উচ্চভূমি অঞ্চল । মারে ও ডার্লিং নদীর অববাহিকা অঞ্চলে বৃহৎ সমভূমি আছে । 

নদ – নদী — মারে – ডালিং , বেলিয়াণ্ডো , ফিট্ওরয় , ফ্লিণ্ডার্স, ভিক্টোরিয়া , সোয়ান ইত্যাদি । হ্রদসমূহ — আয়ার , বার্লি , কার্ণেজি , ম্যাকে , ইয়েবে ইত্যাদি ।

এই মহাদেশের মরুভূমি হল অষ্ট্রেলিয়ার গ্রেট ভিক্টোরিয়া , গ্রেট স্যাণ্ডি টানামী , সিম্পসন , গিসন , লিট্ল স্যাণ্ডি , টিরারি, পেডিকা ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য ।

প্রশ্ন ৬। এশিয়া মহাদেশের প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্যসমূহ সংক্ষেপে আলোচনা করো । 

উত্তরঃ এশিয়া মহাদেশকে ভূ – প্রকৃতি অনুযায়ী ৫ টি ভাগে ভাগ করা যায়— 

( ১ ) উত্তরের বিশাল নিম্নভূমি ।

( ২ ) মধ্য এশিয়ার মালভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল । 

( ৩ ) দক্ষিণ এশিয়ার মালভূমি অঞ্চল ।

( ৪ ) বৃহৎ নদী উপত্যকা ও সমভূমি অঞ্চল ।

( ৫ ) এশিয়ার পূর্বের আগ্নেয় দ্বীপমালা । 

( ১ ) উত্তরের বিশাল নিম্নভূমি :- এশিয়ার উত্তরভাগে পূর্বে সাইবেরিয়ার উত্তর – পূর্বের এনাডির অঞ্চল থেকে পশ্চিমে ইউরাল পর্বত এবং কাস্পিয়ান সাগর পর্যন্ত একটি বিশাল ত্রিভুজাকার নিম্ন সমতল আছে । এই সমতল ভূমি মধ্য এশিয়ার পার্বত্য অঞ্চল থেকে উত্তর সাগরের দিকে ক্রমশ ঢালু হয়ে নেমে গেছে । এজন্য এই অঞ্চলের নদী ওব , লেনা এবং ইনিসি উত্তর দিকে উত্তর সাগরে পড়েছে । উত্তরের বৃহৎ সমতলকে তিনটি অংশে ভাগ করা যায় : 

( ১ ) উত্তর – পূর্বের ক্ষয়জাত নিম্নভূমি । এই অঞ্চল উচ্চ – নীচ এবং শীতল তুন্দ্রা অঞ্চল । 

( ২ ) লেনা ইনিসি – ওব তিনটি নদীর সংযুক্ত সমতলভূমি । এই নিম্নভূমি অঞ্চলটি শীতল তুন্দ্রা অঞ্চলের অন্তর্গত । নিম্নাংশে জল জমা হয়ে বন্যার সৃষ্টি করে । কাজেই এই অঞ্চলে বিস্তীর্ণ জলাভূমি আছে । 

( ৩ ) কাস্পিয়ান সাগর হতে পূর্বে তুরান উপত্যকা পর্যন্ত — এই অঞ্চলটি কাজাখস্তান , তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তানের অর্ধশুষ্ক নিম্ন মরুভূমি অঞ্চলের অন্তর্গত । 

( ২ ) মধ্য এশিয়ার মালভূমি ও পার্বত্য অঞ্চল :- এই অঞ্চলটি এশিয়া মহাদেশের মধ্যভাগে অবস্থিত । এই অংশটি এশিয়া মহাদেশের প্রায় অংশ স্থান দখল করে রয়েছে । এই অঞ্চলটি বিভিন্ন উচ্চতার পর্বতমালা ও মালভূমি দ্বারা গঠিত ৷ পামির গ্রন্থির ত্রিভুজাকৃতি ভূ – খণ্ডটির পশ্চিম চূড়া , চীন দেশের অন্তর ভাগে দক্ষিণ – পূর্ব চূড়া এবং মহাদেশের উত্তর – পূর্ব অংশটি উত্তর – পূর্ব চূড়া রচনা করেছে । মধ্য এশিয়ার মালভূমি অঞ্চলটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা যায়— পূর্বের মালভূমি অঞ্চল এবং পশ্চিমের মালভূমি অঞ্চল । পামির মালভূমি এই দুটি মালভূমিকে পৃথক করেছে । পানির হল পৃথিবীর সর্বোচ্চ মালভূমি । পামিরকে বলে ‘ পৃথিবীর ছাদ ’ বলে । 

এই অঞ্চলের অন্তর্গত হিমালয় পর্বতশ্রেণি ধনুকের মত ভারতের উত্তর দিকে দুটি শাখায় বিভক্ত হয়ে একটি শাখা চীন দেশে এবং অন্যটি ভারত ও ম্যানমারের মধ্য দিয়ে আন্দামান নিকোবর দ্বীপপুঞ্জ হয়ে সুমাত্রা ও জাভা দ্বীপপুঞ্জ পর্যন্ত গিয়েছে । পৃথিবীর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউণ্ট এভারেস্ট হিমালয় পর্বতে অবস্থিত । হিমালয়ের উত্তরে কারাকোরাম পর্বতে পৃথিবীর দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গড্‌উইন অষ্টিন বা কে₂ ( K₂ ) অবস্থিত । এর উত্তর দিকে আলটিনটাগ , নানসান , কুলুন ও খিংগাল পর্বত অবস্থিত । পামির গ্রন্থির দক্ষিণ – পশ্চিম দিকে সুলেমান ও ক্ষীরথর পর্বত ইরানের দক্ষিণে জাগ্রস নাম নিয়ে আর্মেনীয়া গ্রন্থিতে মিশেছে । পামির গ্রন্থির পশ্চিম দিক দিয়ে হিন্দুকুশ পর্বত পারস্যের উত্তরে এলবার্জ নামে আর্মেনীয় গ্রন্থিতে মিশেছে । 

( ৩ ) দক্ষিণ এশিয়ার মালভূমি অঞ্চল :- এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণে পৌরাণিক শিলার দ্বারা গঠিত প্রধান মালভূমিগুলি হল— 

( ১ ) আরব মালভূমি ।

( ২ ) ভারত মালভূমি । এবং 

( ৩ ) ইউনান ও সান মালভূমি ।

( ক ) আরব মালভূমি :- ইহা একটি শুষ্ক মরুময় মালভূমি । এই মালভূমি দক্ষিণ – পশ্চিম দিক হতে উত্তর – পূর্ব দিকে ঢালু হয়ে ইউফ্রেটিশ ও টাইগ্রীস নদীর উপত্যকাতে মিশেছে । 

( খ ) ভারত মালভূমি :- এই মালভূমিটি ভারত – উপমহাদেশের দক্ষিণে অবস্থিত । এই মালভূমির পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বত এবং পূর্বসীমায় পূর্বঘাট নামে একটি অনুচ্চ পর্বত রয়েছে।মালভূমির উত্তর সীমা আরাবল্লী , মহাদেব , মহাকাল , বিন্ধ্য , কাইমুর , রাজমহল , পরেশনাথ ইত্যাদি পর্বত ঘিরে রেখেছে । 

( গ ) ইউনান ও সান মালভূমি :- ম্যানমারের ইউনান এবং চীনের সান মালভূমি দুটিও দক্ষিণ এশিয়ার উল্লেখযোগ্য মালভূমি । এই মালভূমির ভূ – পৃষ্ঠ পৌরাণিক শিলার দ্বারা গঠিত এবং যথেষ্ট পরিমাণে উঁচু – নীচু । এই মালভূমির মধ্য দিয়ে সাইলুন , মেকং , ইয়াংসি ইত্যাদি নদী প্রবাহিত হয়েছে । 

( ৪ ) বৃহৎ নদী উপত্যকা ও সমভূমি অঞ্চল :- এশিয়া মহাদেশের প্রধান নদী ইউফ্রেটিস , টাইগ্রীস , সিন্ধু , গঙ্গা , ব্রহ্মপুত্র , মেকং , মেনাম , ইয়াংসি , সালুইন , ইরাবতী , লেনা, আমুর প্রভৃতি নদীগুলি প্রতি বৎসর পলিমাটি ফেলে নিজ নিজ উপত্যকায় সমভূমির সৃষ্টি করেছে । এজন্য উপত্যকাগুলি কৃষিকার্যের উপযোগী । ফলে এই অঞ্চলগুলিতে জনবসতি ঘন।এগুলির ভেতরে ইউফ্রেটিস , টাইগ্রীস , সিন্ধু , গঙ্গা , হোয়াংহো , সেংজিয়াং ইত্যাদি নদী উপত্যকাগুলিতে প্রাচীন সভ্যতাগুলি গড়ে উঠেছিল । 

( ৫ ) এশিয়ার পূর্বের আগ্নেয় দ্বীপমালা :- এশিয়া মহাদেশের পূর্বে কিউরাইল , শাখালিন , জাপান দ্বীপপুঞ্জ , তাইওয়ান , ফিলিপাইন , কালিমাষ্টান ইত্যাদি দ্বীপপুঞ্জগুলি মালার মত ঘিরে এই দ্বীপগুলির মধ্যে দিয়ে একটি পর্বতশ্রেণি রয়েছে । এই পর্বতসমূহতে অনেক আগ্নেয়গিরি আছে । এর মধ্যে জাপানের হন্দু দ্বীপের ফুজিয়ামা সবচাইতে উঁচু আগ্নেয়গিরি । 

প্রশ্ন ৭। কারণ দর্শিয়ে উত্তর লেখো : 

( ক ) পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশই উত্তর গোলার্ধে অবস্থান করছে কেন ? 

উত্তরঃ জলমণ্ডলের বৃহৎ অংশ ( ৫৭ শতাংশ ) দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত । অপরদিকে স্থলভাগের বৃহৎ অংশ ( ৬৭ শতাংশ ) উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত । এছাড়া এন্টার্কটিকা মহাদেশে কোন জনবসতি নেই । এই কারণে পৃথিবীর মোট জনসংখ্যার প্রায় ৯০ শতাংশ উত্তর গোলার্ধে বাস করে । 

( খ ) এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু বৈচিত্র্যময় কেন ? 

উত্তরঃ এশিয়া মহাদেশের জলবায়ু বৈচিত্র্যময় হবার কারণগুলো হল— 

( ১ ) সমগ্র মহাদেশটি উত্তরের শীতপ্রধান অঞ্চল হতে দক্ষিণে গ্রীষ্মপ্রধান অঞ্চল পর্যন্ত বিস্তৃত হওয়ার জন্য শীত এবং গ্রীষ্ম উভয়ই এতে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে । 

( ২ ) এই মহাদেশ বন্ধুর পাহাড় – পর্বতে পরিপূর্ণ । এইজন্য পাহাড়গুলির অবস্থিতিই জলবায়ুর তারতম্য ঘটিয়েছে ।

( ৩ ) বিস্তৃত উপকূলরেখা তথা সাগর – মহাসাগরের প্রভাব জলবায়ুর উপরে পড়ার জন্য জলবায়ুর পার্থক্য দেখা যায় । 

( ৪ ) বাতাসের গতি এবং দিকও মহাদেশটির জলবায়ুর তারতম্য ঘটিয়েছে । 

( ৫ ) মাটি , জল , মানুষের বসতি এবং বৎসরের ঋতুগুলিও মহাদেশের জলবায়ুর তারতম্য ঘটিয়েছে বলা যায় । 

( গ ) এন্টার্কটিকা মহাদেশে মানুষের স্থায়ী বসতি নেই কেন ? 

উত্তরঃ এণ্টার্কটিকা মহাদেশ প্রায় সারা বৎসরই পুরু বরফে আচ্ছাদিত থাকে । এখানে কোন বড় গাছ জন্মায় না । কেবলমাত্র কোন কোন স্থানে শ্যাওলা ও ঢেকী জাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায়।এই সকল উদ্ভিদ সারা বৎসর থাকে না । এ জন্যই এই মহাদেশে কোন স্থায়ী বসতি নেই। 

প্রশ্ন ৮। নীচের প্রশ্নগুলোর সংক্ষিপ্ত উত্তর লেখো : 

( ক ) এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশের মধ্যেকার প্রাকৃতিক সীমা কীসে সৃষ্টি হয়েছে ? 

উত্তরঃ ইউরাল পর্বত দ্বারা এশিয়া ও ইউরোপের প্রাকৃতিক সীমা নির্দ্ধারিত হয়েছে । 

( খ ) পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা কোন্‌টি এবং কোথায় অবস্থিত ? 

উত্তরঃ পৃথিবীর দীর্ঘতম পর্বতমালা হল আন্দিজ পর্বতমালা । আন্দিজ পর্বতমালা দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত ।

( গ ) আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম আর ক্ষুদ্রতম মহাদেশের নাম লেখো । 

উত্তরঃ এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ এবং ক্ষুদ্রতম মহাদেশ ওশেনিয়া । 

( ঘ ) পৃথিবীর কোন্ দেশ কোন্ দুটি মহাদেশে বিস্তৃত ? 

উত্তরঃ রাশিয়া দেশটি ইউরোপ ও এশিয়া মহাদেশে বিস্তৃত । 

( ঙ ) আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম এবং ক্ষুদ্রতম দেশের নাম বলো । 

উত্তরঃ আয়তনের ভিত্তিতে পৃথিবীর বৃহত্তম দেশ রাশিয়া এবং ক্ষুদ্রতম দেশ ভেটিকান সিটি । 

( চ ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশের প্রধান পর্বত শ্রেণিটির নাম কী ? এই পর্বতমালার দৈর্ঘ্য কত এবং মহাদেশের কোন্ অংশে অবস্থিত ? 

উত্তরঃ উত্তর আমেরিকার প্রধান পর্বত শ্রেণিটির নাম রকি । এর দৈর্ঘ্য ৬,৮৮৩.কি.মি . এবং এই পর্বত শ্রেণিটি উত্তর আমেরিকার পশ্চিমে অবস্থিত। 

( ছ ) পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমি কোন্‌টি এবং তা কোথায় অবস্থিত ? 

উত্তরঃ পৃথিবীর বৃহত্তম মরুভূমিটির নাম সাহারা মরুভূমি । এই মরুভূমি আফ্রিকা মহাদেশে অবস্থিত । 

( জ ) এশিয়া মহাদেশের দুটি করে উত্তর ও পূর্বদিকে প্রবাহিত নদীর নাম লেখো । 

উত্তরঃ এশিয়া মহাদেশের দুটি উত্তরদিকে প্রবাহিত নদী হল লেনা এবং ইনিসি । দুটি পূর্বদিকে প্রবাহিত নদীর নাম ইয়াংসিকিয়াং এবং হোয়াংহো। 

( ঝ ) অষ্ট্রেলিয়ার একটি করে প্রধান পর্বতশ্রেণি , নদী এবং মরুভূমির নাম লেখো । 

উত্তরঃ একটি পর্বত শ্রেণির নাম গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ , একটি নদীর নাম মারে – ডার্লিং এবং একটি মরুভূমির নাম হল গ্রেট ভিক্টোরিয়া । 

( ঞ ) ইউরোপ মহাদেশের অন্তর্গত তথা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত তিনটি দেশের নাম লেখো । 

উত্তরঃ দেশ তিনটির নাম হল ফ্রান্স , স্পেন ও ইটালী ।

প্রশ্ন ৯। সংক্ষেপে টীকা লেখো : 

( ক ) পেঞ্জিয়া । 

উত্তরঃ মহাদেশীয় বিস্থাপন বা সঞ্চারণ সূত্র ( Continental Drift Theory ) অনুযায়ী আদিতে , অর্থাৎ প্রায় ৩০০ নিযুত বৎসর পূর্বে পৃথিবীটির স্থলমণ্ডল একত্রিত হয়েছিল এবং এর চতুর্দিকে জলমণ্ডল দ্বারা পরিবেষ্টিত ছিল । পৃথিবীর এই অবস্থাতে থাকা স্থলমণ্ডলটিকে পেঞ্জিয়া ( Pangaea ) এবং এর চতুর্দিকে আবেষ্টনকারী জলমণ্ডলকে পান্থালাসা (Panthalassa ) বলে । 

( খ ) উত্তর মহাসাগর ।

উত্তরঃ উত্তর মহাসাগর প্রায় ১৪ নিযুত বর্গ কিলোমিটার স্থান জুড়ে আছে । এই মহাসাগর পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাসাগর । এর আকার ভারত মহাসাগরের এক – পঞ্চমাংশ । এই মহাসাগরটি উত্তর মেরুতে বৃত্তাকারে আছে । এশিয়া , ইউরোপ ও উত্তর আমেরিকার উত্তরাংশ এই মহাসাগর বেষ্টন করে আছে । উত্তর মহাসাগরের গভীরতা প্রায় ৩৫০০ মিটার।বৎসরের প্রায় সময়ই বরফে ঢাকা থাকে । 

( গ ) ওসেনিয়া মহাদেশ ।

উত্তরঃ চারদশক পূর্বে ওশেনিয়া মহাদেশ বললে অষ্ট্রেলিয়া মহাদ্বীপ ও এর নিকটবর্তী টাসমেনিয়া , নিউজিল্যাণ্ড এবং নিউগিনি দ্বীপকে নিয়ে স্থলভাগ ও জলভাগকে ধরা হত । কিন্তু বর্তমানে জলপথ , বিমানপথ ও ইলেকট্রনিক মাধ্যমের দ্বারা যোগাযোগ ব্যবস্থা ভাল হওয়ায় অষ্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যাণ্ড এবং এর নিকটবর্তী অনেক দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে সামাজিক , অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মিত্রতা অধিক সুদৃঢ় হওয়ায় এই সকল দ্বীপগুলিকে নিয়ে ওশেনিয়া মহাদেশের ধারণা জন্মেছে। এর উল্লেখযোগ্য দেশের নাম হল — অষ্ট্রেলিয়া , নিউজিল্যাণ্ড , ফিজি , টাভালু , ভানু আটু , সোলোমন দ্বীপপুঞ্জ , পপুওয়া নিউগিনি , টঙ্গা ইত্যাদি । 

( ঘ ) এশিয়া মহাদেশের নদ – নদী ।

উত্তরঃ এশিয়ার বৃহৎ নদী উপত্যকা অঞ্চল — ওবি , ইনিসি , লেনা এই তিনটি নদী এশিয়া মহাদেশের মধ্যাংশ ও পূর্বাংশের উচ্চ পর্বত হতে বের হয়ে উত্তর মহাসাগরে পড়েছে । অন্যদিকে আমুর , হোয়াংহো , ইয়াংসিকিয়াং ও সিকিয়াং মহাদেশটির পূর্ব অঞ্চলের পর্বত হতে বের হয়ে পূর্বে প্রবাহিত হয়ে প্রশান্ত মহাসাগরে পড়েছে । মেকং , মেনাম দক্ষিণাংশের উচ্চ পর্বত হতে বের হয়ে দক্ষিণে প্রবাহিত হয়ে দক্ষিণ চীন সাগর ও থাইল্যাণ্ড উপসাগরে পড়েছে । সালুইন ও ইরাবতী নদী দুটি চীন – ব্রহ্মদেশের পর্বত হতে বের হয়ে ভারত মহাসাগরের বঙ্গোপসাগরে পড়েছে । ব্রহ্মপুত্র ও গঙ্গা নদী হিমালয় পর্বত হতে উৎপন্ন হয়ে বঙ্গোপসাগরে মিলিত হয়েছে।

সিন্ধু নদী হিমালয়ে আবির্ভাব হয়ে আরব সাগরে পড়েছে । ইউফ্রেটিস ও টাইগ্রিস নদী দুটি এশিয়া মাইনর অঞ্চলের পর্বত হতে উৎপন্ন হয়ে পারস্য উপমহাসাগরে পড়েছে । উপরোক্ত নদীসমূহ বৃহৎ সমভূমির সৃষ্টি করেছে । 

( ঙ ) আফ্রিকা মহাদেশের হ্রদসমূহ  ।

উত্তরঃ আফ্রিকা মহাদেশের উল্লেখযোগ্য হ্রদসমূহ হল — ভিক্টোরিয়া , এলবার্ট , ট্যাঙ্গানিকা , চাঁদ , ভোল্টা , নিয়াসা , কেবোরা বাচ্চা , মালাওই , টুর্কানা , কিভু , কোচ্চৌ , এব্বে ইত্যাদি। 

( চ ) ইউরোপ মহাদেশের নদ – নদী ।

উত্তরঃ ইউরোপ মহাদেশের মধ্য ভাগ দিয়ে অনেক নদ – নদী প্রবাহিত হয়েছে । এই নদীগুলির অধিকাংশই ছোট কিন্তু নাব্য ও শিল্পপ্রধান অঞ্চলগুলির মধ্য দিয়ে প্রবাহিত । এর জন্য দেশের অর্থনৈতিক উন্নতিতে এই নদীগুলির গুরুত্ব অসীম । দক্ষিণের পার্বত্য অঞ্চলটি ইউরোপের প্রধান জলবিভাজিকা । ইউরোপের প্রধান নদীসমূহকে তিনভাগে বিভক্ত করা হয়েছে। যেমন— 

( ক ) ভঙ্গিল পর্বতমালার উত্তরের উত্তর বাহিনীর নদী ।

( খ ) ভঙ্গিল পর্বতমালার দক্ষিণের দক্ষিণবাহিনী নদী । এবং 

( গ ) রুশ দেশের নদীসমূহ । 

( ক ) ফ্রান্স দেশের প্রধান নদী সাইন , লোয়র এবং গারণ । ভোজ পর্বত হতে পর্বতমা উৎপন্ন হওয়া মিউজ নদী ফ্রান্স , বেলজিয়াম ও হল্যাণ্ডের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়ে উত্তর সাগরে পড়েছে । রাইন নদী আল্পস্ থেকে উৎপত্তি হয়ে সুইজারল্যাণ্ড, ফ্রান্স ও জার্মানীর মধ্য দিয়ে উত্তর সাগরে পড়েছে । এই নদীতে পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশি জাহাজ চলাচল করে । এ নদী জার্মানীর মধ্য দিয়ে উত্তর সাগরে মিশেছে । জার্মানীর মধ্য হতে নির্গত ওয়েজার নদী উত্তর সাগরে মিশেছে । কার্পেথিয়ান পর্বত থেকে ওডার ও ভিষ্টুলা নদী উৎপন্ন হয়ে জার্মানীর মধ্য দিয়ে বাল্টিক সাগরে পড়েছে। 

( খ ) দক্ষিণ বাহিনী নদীসমূহের মধ্যে রোন নদী ফ্রান্সের মধ্য মালভূমি হতে উৎপন্ন হয়ে দক্ষিণ সীমা দিয়ে প্রবাহিত হয়ে ভূমধ্য সাগরে পড়েছে । ইটালির পো – নদী আল্পস্ পর্বত হতে উৎপন্ন হয়ে ভূমধ্য সাগরে পড়েছে । আর্নো ও টাইবার নদী ভূমধ্য সাগরে পড়েছে । ব্লেক ফরেস্ট হতে উৎপন্ন হওয়া ডানিয়ুব নদী অনেকগুলি দেশের মধ্য দিয়ে পার হয়ে কৃষ্ণসাগরে পড়েছে । ভিয়েনা , বুডাপেষ্ট , বেলগ্রেড ইত্যাদি শহরগুলি ডানিয়ুব নদীর তীরে অবস্থিত । 

( গ ) ইউরোপীয় রুশিয়ার অন্তর্গত ভল্গা নদী এই মহাদেশের দীর্ঘতম নদী । ইহা কাস্পিয়ান সাগরে পড়েছে । রুশিয়ার প্রায় অর্ধেক এই নদীর অববাহিকা অধিকার করে রয়েছে । পশ্চিম ডুইনা ও উত্তর ডুইনা ভলডাই পাহাড় হতে বের হয়ে যথাক্রমে বাল্টিক সাগর ও উত্তর সাগরে পড়েছে । নিষ্টার , নিপার ও ডন রুশিয়ান দক্ষিণ অংশের প্রধান নদী । 

( ছ ) আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল ।

উত্তরঃ উত্তর আমেরিকার পূর্ব অংশে উত্তরে নিউফাউণ্ডল্যাণ্ড থেকে দক্ষিণে ফ্লোরিডা পর্যন্ত বিস্তৃত পাহাড় – পর্বত , সংকীর্ণ উপত্যকা ও ভগ্ন মালভূমি দ্বারা গঠিত উঁচু – নীচু আপালেশিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল আছে । এই অঞ্চলের দক্ষিণ অংশে এলিঘেণি ও ব্লুরিজ পর্বতশ্রেণি আছে । আপালেশিয়ান উচ্চভূমি থেকে পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলীয় অংশে উত্তরে নোভাস্কশিয়া থেকে দক্ষিণে পানামা পর্যন্ত এক বিস্তৃত উপকূলীয় সমতলভূমি আছে । 

( জ ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশের হ্রদসমূহ । 

উত্তরঃ উত্তর আমেরিকার প্রধান হ্রদসমূহ হল — সুপিরিয়র , হিউরণ , মচিগান , এরি , অণ্টেরিও , গ্রেট বিয়ার , গ্রেট স্লেভ , উইনিপেগ ও গ্রেট সল্ট । 

প্রশ্ন ১০। পার্থক্য লেখো : 

( ক ) মহীসোপান এবং মহীঢাল মহীসোপান ।

উত্তরঃ                

মহীসোপানমহীঢাল
১। উপকূলের চারদিকে থাকা অগভীর (প্রায় ২০০০ মিটার পর্যন্ত ) অংশকে মহীসোপান বলে । ১। মহীসোপানের পরবর্তী যথেষ্ট গভীর (প্রায় ২০০ মিটার পর্যন্ত ) অংশটিকে মহীঢাল বলে ।
২। এই স্থান উপকূল সংলগ্ন হওয়ায় মানুষের গতিবিধি দেখা যায় । ২। এখানে কোন গতি – বিধি দেখা যায় না ।

( খ ) এভারেস্ট শৃঙ্গ ও গডউইন অস্টিন শৃঙ্গ ।

উত্তরঃ            

এভারেস্ট শৃঙ্গগডউইন অস্টিন শৃঙ্গ 
১। এভারেষ্ট শৃঙ্গ পৃথিবীর উচ্চতম শৃঙ্গ ।১। এই শৃঙ্গ পৃথিবীর দ্বিতীয় উচ্চতম শৃঙ্গ ।
২। এর উচ্চতা ৮,৮৪৮ মিটার ।২। এর উচ্চতা ৮,৬১১ মিটার ।
৩। এভারেষ্টের অপর কোন নাম নেই ।৩। গডউইন অস্টিনকে K₂ ও বলে ।
৪। এভারেষ্ট হিমালয় পর্বতমালায় অবস্থিত ।৪। কারাকোরাম পর্বতমালায় অবস্থিত ।

( গ ) ওসেনিয়া মহাদেশ এবং এন্টার্কটিকা মহাদেশ ।

উত্তরঃ            

ওসেনিয়া মহাদেশএন্টার্কটিকা মহাদেশ
১। ওসেনিয়া দক্ষিণ – পশ্চিম মহাসাগরে অবস্থিত।১। এই মহাদেশ দক্ষিণ – মহাসাগরে অবস্থিত ।
২। এই মহাদেশে স্থায়ী জনবসতি আছে ।২। এখানে কোন জনবসতি নেই ।
৩। এখানে ক্যাঙ্গারু , উটপাখি , ভেড়া , গরু ইত্যাদি জীবজন্তু দেখা যায় ।৩। এখানে শীল , পেঙ্গুইন , বল্গা হরিণ ইত্যাদি জীবজন্তু দেখা যায় ।
৪। এখানে নানাপ্রকারের উদ্ভিদ তথা তৃণজাতীয় উদ্ভিদ দেখা যায় ।৪। এখানে বৎসরের কোন সময়ে শ্যাওলা ও ঢেকী জাতীয় উদ্ভিদ পাওয়া যায় ।

( ঘ ) গোবি মরুভূমি এবং আটাকামা মরুভূমি

উত্তৰঃ 

গোবি মরুভূমিআটাকামা মরুভূমি
১। এই মরুভূমি মঙ্গোলিয়াতে অবস্থিত ।১। এটা দক্ষিণ আমেরিকায় অবস্থিত ।
২। উষ্ণ মরুভূমি অঞ্চল ।২। নাতিশীতোষ্ণ মরুভূমি অঞ্চল ।
৩। এই মরুভূমি প্রশান্ত মহা সাগরের উপকূলে অবস্থিত ।৩। এই মরুভূমি তিব্বতের মালভূমি অঞ্চলে অবস্থিত ।

প্রশ্ন ১১। শুদ্ধ উত্তরটি বেছে দাও : 

( ক ) পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাসাগর কোন্‌টি ? 

( ১ ) প্রশান্ত মহাসাগর।

( ২ ) ভারত মহাসাগর।

( ৩ ) আটলান্টিক মহাসাগর। 

( ৪ ) দক্ষিণ মহাসাগর।

উত্তৰঃ ( ৩ ) আটলান্টিক মহাসাগর ।

( খ ) পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ কোন্‌টি ? 

( ১ ) উত্তর আমেরিকা মহাদেশ। 

( ২ ) ইউরোপ মহাদেশ।

( ৩ ) এণ্টার্কটিকা মহাদেশ। 

( ৪ ) ওসেনিয়া মহাদেশ।

উত্তৰঃ ( ৪ ) ওসেনিয়া মহাদেশ ।

( গ ) ফক্‌ল্যাণ্ড দ্বীপটি কোন্ মহাসাগরে অবস্থিত ?

( ১ ) আটলান্টিক মহাসাগর।

( ২ ) উত্তর মহাসাগর।

( ৩ ) প্রশান্ত মহাসাগর। 

( ৪ ) ভারত মহাসাগর।

উত্তৰঃ ( ১ ) আটলান্টিক মহাসাগর ।

( ঘ ) এশিয়া এবং আফ্রিকা মহাদেশকে কোন্ সাগর পৃথক করেছে ?

( ১ ) ভূমধ্যসাগর।

( ২ ) লোহিত সাগর। 

( ৩ ) কাস্পিয়ান সাগর। 

( ৪ ) আরব সাগর।

উত্তৰঃ ( ২ ) লোহিত সাগর ।

( ঙ ) এশিয়া এবং ইউরোপ মহাদেশকে প্রাকৃতিকভাবে কে পৃথক করেছে 

( ১ ) ইউরাল পর্বতমালা। 

( ২ ) ককেসাস পর্বত।

( ৩ ) কাস্পিয়ান সাগর। 

( ৪ ) ভল্গা নদী।

উত্তৰঃ ( ১ ) ইউরাল পর্বতমালা ।

( চ ) ইকুয়েডর কোন্ মহাদেশে অবস্থিত ? 

( ১ ) উত্তর আমেরিকা। 

( ২ ) দক্ষিণ আমেরিকা। 

( ৩ ) আফ্ৰিকা।

( ৪ ) এশিয়া।

উত্তৰঃ ( ২ ) দক্ষিণ আমেরিকা ।

( ছ ) ব্রাজিলের রাজধানী কী ? 

( ১ ) রিও ডি জেনেইরো। 

( ২ ) সাও পাওলো।

( ৩ ) ব্রাসিলিয়া।

 ( ৪ ) লিমা।

উত্তৰঃ ব্রাসিলিয়া । 

অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

This will close in 0 seconds

Scroll to Top