Class 10 Science Important Chapter 6 জীবন প্রক্রিয়া Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Science Important Chapter 6 জীবন প্রক্রিয়া Solutions and select need one. SEBA Class 10 General Science Additional Notes Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Science Important Question Answer.
Class 10 Science Important Chapter 6 জীবন প্রক্রিয়া
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 10 Science Additional Niotes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Science Additional Solutions for All Chapters, You can practice these here.
জীবন প্রক্রিয়া
Chapter: 6
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। রেচন কাকে বলে?
উত্তরঃ যে জৈবিক প্রক্রিয়ায় জীব তার বিপাকজাত দূষিত পদার্থগুলিকে দেহকোষে অদ্রাব্য কেলাস বা কোলয়েডরূপে সাময়িকভাবে জমা রেখে অথবা সরাসরি দেহ থেকে নির্গত করে দেহকে সুস্থ ও স্বাভাবিক রাখে, তাকে রেচন বলে।
২। চলন এবং গমনের প্রধান পার্থক্য কি?
উত্তরঃ চলনে জীবের সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয় না, কেবল অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের সঞ্চালন হয় ; গমনে জীবের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সঞ্চালনের মাধ্যমে সামগ্রিক স্থান পরিবর্তন হয়।
৩। ঐচ্ছিক পেশী এবং অনৈচ্ছিক পেশী কি?
উত্তরঃ যে পেশী স্বেচ্ছায় সংকোচনশীল, তাকে ঐচ্ছিক পেশী বলে আবার যে পেশী স্বেচ্ছায় সংকোচনশীল নয়, তাকে অনৈচ্ছিক পেশী বলে।
৪। উদাহরণের সঙ্গে জীবন প্রক্রিয়ার অর্থ বুঝিয়ে লিখ।
উত্তরঃ বেঁচে থাকার জন্য প্রত্যেক জীবের শরীরে কয়েকটি বিশেষ প্রক্রিয়া অনবরত চলতে থাকে। এই প্রক্রিয়ার ফলেই জীবের একটি নিজস্ব বৈশিষ্ট্যের সৃষ্টি হয় এবং জীব জড় পদার্থ হতে পৃথক হয়ে যায়। জীবদেহে অনবরত চলতে থাকা এই প্রক্রিয়াটিকে জীবন প্রক্রিয়া’ বলা হয়।
জীবদেহে অনবরত চলতে থাকা প্রক্রিয়াসমূহ হল- পরিপুষ্টি, শ্বসন, পরিবহণ, রেচন, শরীর কার্যের পরিচালনা বা নিয়ন্ত্রণ, বৃদ্ধি, চলন এবং প্রজনন।
৫। পরিপুষ্টি মানে কী? পরিপুষ্টির বিভিন্ন দশাগুলি উল্লেখ কর।
উত্তরঃ যে প্রক্রিয়ার দ্বারা জীব আহার গ্রহণ, পাচন এবং শােষণের মাধ্যমে পুষ্টিলাভ করে, সেই প্রক্রিয়াটিকে পরিপুষ্টি বলে। অর্থাৎ জীবই খাদ্যের পাচন এবং শােষণের দ্বারা দেহের বৃদ্ধি এবং বিকাশের সঙ্গে জৈবিক বিক্রিয়াতে প্রয়ােজন হওয়া শক্তি আহরণের প্রক্রিয়াটিকে পরিপুষ্টি বলে।
পরিপুষ্টির বিভিন্ন দশাসমূহ হল-
(i) খাদ্যগ্রহণ।
(ii) পাচন।
(iii) অবশােষণ।
(iv) আত্মীকরণ বা সাংগীকরণ।
(v) অপাচিত খাদ্যের বহিষ্করণ।
৬। পূর্ণগ্রাসী জীব কাকে বলে? উদাহরণের সাথে পূর্ণগ্রাসী জীবের বিভিন্ন শ্রেণিসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তরঃ সম্পূর্ণ জৈব আহার ভক্ষণ করে সেখান থেকে পুষ্টি আহরণ করা জীবকেই পূর্ণগ্রাসী জীব বলা হয়। অর্থাৎ পূর্ণগ্রাসী পুষ্টিতে খাদ্যগ্রহণ করা জীবসমূহ পূর্ণগ্রাসী জীব। পূর্ণগ্রাসী প্রাণীর পাচিত খাদ্যবস্তু দেহকোষে রক্তে শশাষণ করে নেয়। এই প্রাণীর পাচনকার্য দেহের ভিতরে হয় এবং খাদ্যের হজম হওয়া অংশ মল হিসাবে দেহ হতে ত্যাগ করে।
খাদ্যের প্রকৃতি এবং উৎসের উপর নির্ভর করে পূর্ণগ্রাসী জীবকে কয়েকটি শ্রেণিতে ভাগ করা যায়-
(a) তৃণভােজী প্রাণী- এই প্রকার প্রাণীরা ঘাস, লতা-পাতা, তৃণ ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে। উদাহরণ- গরু, ছাগল, হাতী, মহিষ, হরিণ ইত্যাদি।
(b) মাংসভােজী প্রাণী- এই সকল প্রাণীরা অপর প্রাণীর মাংস খেয়ে জীবন ধারণ করে। উদাহরণ- সাপ, মাদ্রাঙা, চিল, বক, বাঘ, সিংহ ইত্যাদি।
(c) পতঙ্গভভাজী প্রাণী- এই সকল প্রাণীরা পােকা-মাকড় ইত্যাদি খেয়ে জীবন ধারণ করে। উদাহরণব্যাঙ, টিকটিকি ইত্যাদি।
(d) মৃতভােজী প্রাণী- এই সকল প্রাণীরা অন্য প্রাণীর মৃতদেহ ভক্ষণ করে জীবন ধারণ করে। উদাহরণকাক, শকুন ইত্যাদি।
৭। জীবদেহে খাদ্যের প্রয়ােজনীয়তার মুখ্য কারণগুলি বর্ণনা কর।
উত্তরঃ বেঁচে থাকার জন্য জীবমাত্রেই, সে প্রাণীই হােক বা উদ্ভিদ হােক, নিয়মিতভাবে তাদের খাদ্যের প্রয়ােজন। খাদ্যই প্রাণীদেহের প্রধান শক্তির উৎস। যা প্রাণীদেহের বিভিন্ন জৈবিক কার্য তথা বৃদ্ধি, চলন অঙ্গের মেরামতি ইত্যাদি অতি আবশ্যকীয় কার্যসমূহ সমাধা করে। জীবদেহে খাদ্যের প্রয়ােজনীয়তার মুখ্য কারণ কয়টি হল-
(i) খাদ্যই জীবের শক্তি যােগায়- জীবের দেহে অনবরত চলে থাকা বিভিন্ন রাসায়নিক বিক্রিয়ার জন্য শক্তি আবশ্যক। শক্তি ব্যতীত জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়া সম্ভব নহে। এই শক্তি জীব খাদ্য হতেই সংগ্রহ করে। খাদ্যের অভাবে জীবন প্রক্রিয়া অচল হয়ে পড়ে এবং ফলে জীবের মৃত্যু ঘটে।
(ii) খাদ্যই জীবের বৃদ্ধি এবং বিকাশে সাহায্য করে- খাদ্য হতে আহরণ করা উপাদানসমূহে জীবের ভৌতিক আধার প্রােটোপ্লাজম গঠন করে। প্রােটোপ্লাজমে জীবদেহের গঠন এবং বৃদ্ধি করে। খাদ্যে থাকা পুষ্টিকারক দ্রব্যসমূহের উপরেই জীবের বৃদ্ধি এবং বিকাশ নির্ভর করে। এই দ্রব্যসমূহের উপযুক্ত পরিমাণে যােগান থাকলে জীবের বৃদ্ধি এবং বিকাশ নিয়মিতভাবে হয়।
(iii) খাদ্যই জৈবিক প্রক্রিয়াতে প্রয়ােজনীয় দ্রব্য যােগান দেয়- জীবদেহের জীবন প্রক্রিয়াতে ব্যবহৃত হওয়া বিভিন্ন প্রয়ােজনীয় দ্রব্য- খনিজ লবণ, জল, পটাসিয়াম, সােডিয়াম, ক্যালসিয়াম ইত্যাদি খাদ্য হতেই পাওয়া যায়। বিভিন্ন জৈবিক কার্ষ চলার জন্য প্রয়ােজন হওয়া উপাদানগুলি জীবই দেহকোষে জমা করে রাখে এবং প্রয়ােজনমত দেহে ব্যবহার করে।
এই সকল বিভিন্ন কারণে জীবদেহে খাদ্যের প্রয়ােজন।
৮। খাদ্য কাকে বলে? প্রাণীর খাদ্যে থাকা জৈব উপাদানগুলির কার্যের বিষয়ে একটি সংক্ষিপ্ত আভাস দাও।
উত্তরঃ যে সকল দ্রব্য হতে জীব শক্তি এবং শরীর বৃদ্ধির জন্য প্রয়ােজনীয় উপাদানসমূহ আহরণ করে সেই দ্রব্যসমূহকে আহার বা খাদ্য বলা হয়। খাদ্য হল নির্দিষ্ট কয়েকটি জৈব এবং অজৈব যৌগের সমষ্টি। এই যৌগসমূহকে কার্য অনুযায়ী ছয়টি উপাদানে ভাগ করা হয়েছে। এই ভাগগুলি নীচে উল্লেখ করা হল-
(i) কার্বোহাইড্রেট – কার্বোহাইড্রেট হল খাদ্যের একটি প্রধান জৈবিক উপাদান। ইহা কার্বন, হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দ্বারা গঠিত। জীবদেহের প্রয়ােজনীয় শক্তির মূল উৎস হল কার্বোহাইড্রেট।
(ii) প্রােটিন- প্রােটিন জীবের খাদ্যে অতি প্রয়ােজনীয় শরীর গঠনকারী জৈব যৌগ। এ ছাড়া জীবের দেহগঠন এবং বৃদ্ধি হয় না। বিভিন্ন প্রােটিন যৌগ জেরাটিন, কোলাজেন, ইলাস্টিন ইত্যাদি দিয়ে দেহের বিভিন্ন কলা গঠন করে। প্রােটিন দেহের অক্সিজেন বহনকারী যৌগ হিসাবে কাজ করে।
(iii) লিপিড বা স্নেহ পদার্থ- লিপিড় বা স্নেহ পদার্থ খাদ্যের এক মুখ্য জৈব উপাদান। বিভিন্ন ধরনের তেল এবং চর্বি জাতীয় খাদ্যসমূহ লিপিডের অন্তর্গত। স্নেহপদার্থ জীবের দেহে ভবিষ্যতে ব্যবহারের উপযােগী শক্তির ভাণ্ডার হিসাবে সঞ্চিত হয়ে থাকে। লিপিডে শরীরের তাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং কিছু সংখ্যক কোষাঙ্গ ক্ষেত্রে মুখ্য উপাদান হিসাবে অংশগ্রহণ করে।
(iv) খনিজ লবণ- জীবদেহে খনিজ লবণ একটি অতি প্রয়ােজনীয় অজৈব উপাদান। ইহা জীবদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং পুষ্টিতে বিশেষ সহযােগিতা করে। খনিজ লবণ জীবদেহে চলে থাকা বিভিন্ন বিপাকীয় কার্যে বিশেষভাবে সাহায্য করে এবং দেহের কলা গঠনে অংশগ্রহণ করে। বিভিন্ন খনিজ মৌলই প্রাণীদেহে স্নায়ু প্রেরণা প্রবাহ এবং পেশীর সঞ্চালন কার্যে সাহায্য করে। খাদ্যে খনিজ লবণের পরিমাণ কম হলে বিপাকীয় কার্যে ব্যাঘাত জন্মে,ফলে বিভিন্ন রােগ দেখা দেয়।
(v) জল- জীবদেহের কোষসমূহে চলে থাকা জীবন-কার্যের জন্য জল অতি অত্যাবশ্যকীয় উপাদান।
(a) জল কোষের জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ার দ্রাবক রূপে কাজ করে।
(b) খাদ্যের প্রধান জৈব উপাদান কার্বোহাইড্রেট, প্রােটিন, লিপিড ইত্যাদির পাচনে জল সহায়তা করে।
(c) জল ছাড়া প্রােটোপ্লাজম সক্রিয় হয়ে থাকতে পারে না।
(d) জল দেহের উষ্ণতা নিয়ন্ত্রণে অংশগ্রহণ করে।
(e) রক্তের প্লাজমায় থাকা খাদ্যের নানাপ্রকার উপাদান এবং রেচন দ্রব্যসমূহের পরিবহণে জল সাহায্য করে।
(f) সালােক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় জুল মুখ্য বিক্রিয়া রূপে অংশগ্রহণ করে শ্বেতসার প্রস্তুত করতে সাহায্য করে।
(vi) ভিটামিন- ভিটামিন জীবদেহের প্রয়ােজনীয় জৈব যৌগ। ভিটামিনসমূহ প্রাণীদেহের স্বাভাবিক বৃদ্ধি এবং বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা গ্রহণ করে। ভিটামিনের অভাবে প্রাণীদেহে নানা ধরনের রােগ দেখা দেয়। ভিটামিন প্রাণীর শরীর সুস্থ রাখে এবং দেহের বিভিন্ন জৈব রাসায়নিক বিক্রিয়ায় সক্রিয় অংশগ্রহণ করে শরীর বিষয়ে কার্য পরিচালনা করতে সাহায্য করে।
৯। পাচন কাকে বলে?
উত্তরঃ যে প্রক্রিয়ার দ্বারা খাদ্যের জটিল উপাদানসমূহকে সরল অবস্থায় পরিবর্তন করা হয়, সেই প্রক্রিয়াকে পাচন বলে।
১০। খাদ্য কাকে বলে?
উত্তরঃ যে সকল দ্রব্য হতে জীব শক্তি ও শরীর বৃদ্ধির জন্য প্রয়ােজনীয় উপাদানসমূহ আহরণ করে, সেইসকল দ্রব্যকে খাদ্য বলা হয়।
১১। পুষ্টির দ্বারা জীবদেহে কি কি হয়?
উত্তরঃ পুষ্টির দ্বারা জীবদেহে সংঘটিত বিভিন্ন ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ায় প্রয়ােজনীয় শক্তি আহরণ করে। পুষ্টির দ্বারা জীবদেহ বৃদ্ধি এবং কলার গঠন হয়। এর দ্বারা জীব রােগ-প্রতিরােধ ক্ষমতা আহরণ করে। পুষ্টির দ্বারাই জীব ভবিষ্যতে ব্যবহারের জন্য দেহে খাদ্য সঞ্চয় করে রাখে।
১২। জীবদেহে চলা সাধারণ জীবন প্রক্রিয়াসমূহ কি কি?
উত্তরঃ জীবদেহে চলা সাধারণ জীবন প্রক্রিয়াসমূহ হল- পরিপুষ্টি, শ্বসন, পরিবহণ, রেচন, শরীর কার্যের পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণ, বৃদ্ধি, চলন এবং প্রজনন ।
১৩। জীবন প্রক্রিয়ার জন্য কি প্রয়ােজন?
উত্তরঃ জীবদেহে যে কোন জীবন প্রক্রিয়া সংঘটিত হওয়ার জন্য শক্তির প্রয়ােজন, এই শক্তি জীব খাদ্য হতে আহরণ করে।
১৪। পরিবহণ বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ বহুকোষী জীবের দেহে শােষিত খাদ্য একস্থান হতে অন্যস্থানে বিতরণ হওয়া প্রক্রিয়াটিকে পরিবহণ বলা হয়।
১৫। পরিপুষ্টি বলতে কি বুঝ?
উত্তরঃ পরিপুষ্টি হল জীবনের এক জীবন প্রক্রিয়া যার দ্বারা জীব আহার গ্রহণ, পাচন এবং শােষণের মাধ্যমে পুষ্টি লাভ করে। খাদ্যের মাধ্যমে উদ্ভিদ এবং প্রাণী পুষ্টি লাভ করে।
১৬। জীবন প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি কি?
উত্তরঃ জীবের জীবন প্রক্রিয়ার মূল চালিকাশক্তি হল খাদ্য বা আহার। খাদ্য বা আহার ব্যতীত জীবের দেহে জীবন প্রক্রিয়া সম্ভব নয়।
১৭। কার্য অনুযায়ী পুষ্টিকর দ্রব্যসমূহকে কি কি ভাগে করা
হয়েছে?
উত্তরঃ কার্য অনুযায়ী পুষ্টিকর দ্রব্যসমূহকে নিটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। সেইগুলি হল-
(i) দেহ গঠনকারী পুষ্টিকর দ্রব্য।
(ii) শক্তির উৎপাদনকারী পুষ্টিকর দ্রব্য।এবং
(iii) দেহের বিপাক কার্য নিয়ন্ত্রণ করা পুষ্টিকর দ্রব্য।
১৮। আত্মীণ বা স্বাংগীকরণ কাকে বলে?
উত্তরঃ খাদ্যের পাচনের মাধ্যমে জটিল অণুগুলি সরল অণুতে রূপান্তর হয়। এই সরল অণুগুলি দেহকোষে শােষণ করে নিয়ে কোষস্থ পদার্থে পরিবর্তন করা প্রক্রিয়াকে আত্মীকরণ বা স্বাংগীকরণ বলে।
১৯। শর্করা কাকে বলে?
উত্তরঃ কার্বোহাইড্রেট যৌগগুলি একটি বা একাধিক গােট বা একক দ্বারা গঠিত। এইরূপ একটি গােট বা একককে শর্করা বলে।
২০। একশর্করা কাকে বলে?
উত্তরঃ যে শর্করা একটিমাত্র শর্করার একক দ্বারা গঠিত তাকে একশর্করা বলে।
২১। ক্লোরােপ্লাস্টের আকার কিরূপ?
উত্তরঃ ক্লোরােপ্লাস্ট বিভিন্ন আকৃতিতে থাকে। কিছু সংখ্যক ক্লোরােপ্লাস্ট গােলাকার, ডিম্বাকার থালার মতাে এবং ফিতীকৃতি ইত্যাদি। আবার কিছু সংখ্যক ক্লোরােপ্লাস্ট বহু বাহু যুক্ত হয়ে থাকে।
২২। আলােক নির্ভর বিক্রিয়ার কয়টি ভাগ এবং কি কি?
উত্তরঃ আলােক নির্ভর বিক্রিয়ায় তিনটি ভাগ আছে-
(i) আলােকশক্তি শােষণ করা।
(ii) ইলেকট্রন এবং হাইড্রোজেন স্থানান্তরের দ্বারা ATP এবং NADPH উৎপন্ন করা।এবং
(iii) বিক্রিয়ার জন্য নির্গত হওয়া ইলেকট্রনের স্থান পূর্ণ করা।
২৩। সালােক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়াসমূহ কি কি ভাগে সম্পূর্ণ হয়?
উত্তরঃ সালােক সংশ্লেষণ প্রক্রিয়ার বিক্রিয়াসমূহ প্রধানত দুইটি ভাগে সম্পূর্ণ হয়। সেইগুলি হল-
(i) আলোক নির্ভর বিক্রিয়া বা আলােক বিক্রিয়া।
(ii) আলােক অনির্ভর বিক্রিয়া বা আন্ধার বিক্রিয়া।
২৪। আলােক নির্ভর বিক্রিয়াতে কি হয়?
উত্তরঃ আলােক নির্ভর বিক্রিয়াতে সূর্যের আলােকশক্তি রাসায়নিক শক্তিতে রূপান্তরিত হয় এবং এই শক্তি কম সময়ের জন্য ATP এবং NADPH -তে সঞ্চিত হয়।
আলােক নির্ভর বিক্রিয়ার আলােকশক্তি শােষণ হয়। ইলেকট্রন এবং হাইড্রোজেন স্থানান্তরের ফলে ATP এবং NADPH উৎপন্ন হয় এবং বিক্রিয়ার জন্য বের হয়ে আসা ইলেকট্রনের স্থান পূরণ করে।
২৫। জীবদেহে সংবহনের গুরুত্ব কী?
উত্তরঃ সংবহনের গুরুত্ব- সংবহনের মাধ্যমে জীবদেহে নিম্নলিখিত গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলি সাধিত হয়-
১। পুষ্টি – উদ্ভিদদেহে সালােকসংশ্লেষের মাধ্যমে প্রস্তুত তরল খাদ্য ফ্লোয়েম কলার মাধ্যমে এবং উন্নত প্রাণীদের ক্ষেত্রে পৌষ্টিক নালি থেকে শােষিত সরল খাদ্য-উপাদান রক্তের মাধ্যমে সংবহন প্রক্রিয়ায় সমস্ত দেহকোষে পৌছায়।
২। শ্বসন- সংবহনের প্রধান উদ্দেশ্য শ্বাস-অঙ্গের মাধ্যমে সংগৃহীত অক্সিজেন প্রতিটি কোষে প্রেরণ এবং কোষের শ্বসনের ফলে উৎপন্ন কার্বন ডাই-অক্সাইডকে শ্বাস-অঙ্গে বহন করে এনে পরিবেশে ত্যাগ করা।
৩। হরমােন পরিবহণ- উদ্ভিদদেহের বিভিন্ন অগ্রবর্ত অংশ থেকে এবং প্রাণীদেহে বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি থেকে উৎপন্ন হরমােন সংবহনের মাধ্যমে দেহের বিভিন্ন কোষে পৌঁছায়।
৪। রেচন- কোষে উৎপন্ন বিপাকজাত বর্জ্য পদার্থসমূহ সংবহনের ফলে রেচন-অঙ্গে আসে এবং দেহ থেকে দূরীভূত হয়।
৫। সঞ্চয়- দেহের প্রয়ােজনাতিরিক্ত খাদ্যবস্তু সংবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন সঞ্চয়ী-অঙ্গে পৌছায় এবং ভবিষ্যতের জন্য সঞ্চিত থাকে।
৬। দেহের সুরক্ষা- উন্নত প্রাণীর ক্ষেত্রে সংবহনের মাধ্যমে বিভিন্ন রক্তকণিকা (যেমন- রক্তের শ্বেতকণিকা) সরাসরি রােগজীবাণু ধ্বংস করে এবং অ্যান্টিবডি বহনের মাধ্যমে দেহের সুরক্ষায় এক বিশেষ ভূমিকা পালন করে।
৭। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ- উষ্ণ শশাণিত প্রাণীর ক্ষেত্রে সংবহনের মাধ্যমে দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৮। দেহের জলসাম্য নিয়ন্ত্রণ- সংবহন ক্রিয়া জীবদেহের জলসাম্যাবস্থা নিয়ন্ত্রণ করে।
২৬। রক্তের বিভিন্ন উপাদানের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তরঃ রক্তের বিভিন্ন উপাদান রক্তের প্রধান দুটি উপাদান হল রক্তরস ও রক্তকণিকা। রক্তে রক্তরস থাকে 55% এবং রক্তকণিকা থাকে 45%।
১। রক্তরস- রক্তরসে 91-92% জল এবং ৪-9% কঠিন ও গ্যাসীয় পদার্থ থাকে। কঠিন পদার্থে আবার 0.9% অজৈব ও 7-8% জৈব পদার্থ থাকে।
অজৈব পদার্থের উপাদানগুলি হল- সােডিয়াম, পটাশিয়াম, ক্যালশিয়াম, তামা, ম্যাগনেসিয়াম, ফসফরাস, সালফার, লােহা, আয়ােডিন, দস্তা, ক্লোরিন, অ্যামােনিয়া ইত্যাদি।
জৈব পদার্থের উপাদানগুলি হল-
(i) প্রােটিন জাতীয়- সিরাম অ্যালবুমিন, সিরাম গ্লোবিউলিন, ফাইব্রিনােজেন, প্রােগ্রম্বিন।
(ii) নাইট্রোজেনঘটিত জৈব পদার্থ- ইউরিয়া, ইউরিক অ্যাসিড, অ্যামাইনাে অ্যাসিড, ক্রিয়েটিন, ক্রিয়েটিনিন।
(iii) অন্যান্য জৈব বস্তু- গ্লুকোজ, লিপিড, বিভিন্ন হরমােন, উৎসেচক, ভিটামিন, বিলিরুবিন, ক্যারােটিন ইত্যাদি।
২। রক্তকণিকা- রক্তে তিন ধরনের কণিকা থাকে- লােহিত রক্তকণিকা, শ্বেত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা।
(i) লােহিত রক্তকণিকা- প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে লােহিত রক্তকণিকার সংখ্যা প্রায় 50 লক্ষ। মানুষের লােহিত রক্তকণিকাগুলি গােলাকার, দ্বি-অবতল ও নিউক্লিয়াসবিহীন। (পরিণত অবস্থায়)। লােহিতকণিকায় শ্বাসরঙ্গক হিসেবে হিমােগ্লোবিন থাকায় এটি লাল বর্ণের হয়।
(ii) শ্বেত রক্তকণিকা- প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে এদের সংখ্যা প্রায় 5.10 হাজার। এগুলি দু-প্রকারের—দানাদার এবং দানাবিহীন। এগুলি নিউক্লিয়াসযুক্ত।
(iii) অণুচক্রিকা- প্রতি ঘনমিলিমিটার রক্তে এদের সংখ্যা প্রায় 2.5-5 লক্ষ। এগুলি নিউক্লিয়াসবিহীন।
২৭। রক্তের প্রধান কাজগুলি উল্লেখ করাে।
উত্তরঃ রক্তের প্রধান কাজগুলি নিম্নরূপ-
১। পুষ্টিদ্রব্যের পরিবহণ- পরিপাকের ফলে উদ্ভুত সরল খাদ্য-উপাদান, ভিটামিন, খনিজ লবণ ও জল অন্ত্র থেকে শােষিত হয়ে রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কলাকোষে পৌছেয়।
২। গ্যাসের পরিবহণ- রক্ত শ্বাস-অঙ্গ থেকে অক্সিজেন কলাকোষে এবং কলাকোষ থেকে কার্বন ডাই-অক্সাইড শ্বাস-অঙ্গে বহন করে।
৩। প্রমােনর পরিবহণ- দেহের বিভিন্ন অন্তঃক্ষরা গ্রন্থির কোনাে নালি না থাকায় অন্তঃক্ষরা গ্রন্থি নিঃসৃত পদার্থ রক্তের মাধ্যমে বিভিন্ন কোষে নীত হয়।
৪। রেচন পদার্থের পরিবহণ- দেহের বিভিন্ন কলাকোশে উৎপন্ন রেচন পদার্থসমূহ রক্তের মাধ্যমে রেচন-অঙ্গে পৌছায় ও পরে দেহের বাইরে নির্গত হয়।
৫। দেহের সুরক্ষা- দেহে রােগজীবাণু প্রবেশ করলে রক্তের শ্বেতকণিকার দ্বারা তা ধবংসপ্রাপ্ত হয়।
৬। অম্ল ও ক্ষারের সমতা- রক্তে উপস্থিত বিভিন্ন বাফার’ বিপাক ক্রিয়ায় উৎপন্ন বিভিন্ন অম্ল ও ক্ষারের প্রশমন ঘটিয়ে দেহের অম্ল ও ক্ষারের সমতা বজায় রাখে।
৭। জলসাম্যের নিয়ন্ত্রণ- রক্তরস ও কলারসের মধ্যে জল বিনিময়ের মাধ্যমে জলের সমতা নিয়ন্ত্রিত হয়।
৮। দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ- রক্ত দেহের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ভূমিকা গ্রহণ করে। রক্তে জলের পরিমাণ বেশি এবং জলের আপেক্ষিক তাপ হল এক তাই রক্তের তাপ পরিবাহিতা বেশি।
৯। রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ- রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে প্রধান ভূমিকা পালন করে রক্তের সান্দ্রতা ও রক্তের মােট পরিমাণ।
১০। রক্তক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ- রক্ততঞ্চনের মাধ্যমে রক্তপাত বন্ধ হয়।
১১। প্রােটিনের সঞ্চয়ভাণ্ডার- রক্তরসের প্রােটিন প্রয়ােজনে কলাকোষীয় প্রােটিনের সঞ্চয়ভাণ্ডার হিসেবে কাজ করে।
২৮। বাম্পমােচনের ওপর প্রভাববিস্তারকারী বিভিন্ন প্রভাবক সম্পর্কে আলােচনা করাে।
উত্তরঃ বহিঃপ্রভাব:
১। কার্বন ডাই-অক্সাইড- বাতাসে CO₂,-এর ঘনত্ব বেশি হলে পত্ররন্ধ্র বন্ধ হয়ে যায়। CO₂, -এর উচ্চ গাঢ়ত্ব সম্ভবত রক্ষীকোষে K⁺ -এর অনুপ্রবেশে বাধা প্রদান করে এবং পত্ররন্ধ্রের উন্মােচনকে ব্যাহত করে।
২। আলােক- আলােক উপস্থিতিতে পত্ররন্ধ্র খােলা থাকে। আলাের তীব্রতা বাড়লে বাষ্পমােচনের হার বাড়ে।
৩। বাতাসের আর্দ্রতা- বায়ুমণ্ডলে আদ্রতা বেশি হলে অর্থাৎ বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ বৃদ্ধি পেলে বাষ্পমােচনের হার কমে।
৪। বায়ুপ্রবাহ- বায়ুপ্রবাহ বৃদ্ধি পেলে পত্ৰতল থেকে জলীয় বাষ্পের দ্রুত অপসারণ ঘটে। ফলে বাষ্পমােচন বৃদ্ধি পায়।
৫। উষ্ণতা- পরিবেশের উষ্ণতা বাড়লে বাষ্পীভবনের হার বাড়ে এবং বাষ্পমােচনেরও হার বাড়ে।
অন্তঃপ্রভাবঃ
১। পাতার গঠন- উদ্ভিদের পত্রফলক প্রসারিত হলে বাষ্পমােচনের হারও বাড়ে। আবার পাতার ত্বকে পুরু কিউটিকল থাকলে বাষ্পমােচনের হার কমে।
২। পত্ররন্ত্রের গঠন- সংখ্যা- পাতার পত্ররন্ধ্রের সংখ্যা বেশি হলে বাষ্পমােচনের হার বাড়ে। পাতার উধর্বত্ত্বক বা নিম্নত্বকে পত্ররন্ধ্রের অবস্থান হলে বাষ্পমােচন স্বাভাবিক থাকে। কিন্তু কাণ্ডের বা পত্ৰত্বকের গভীরে পত্ররন্ধ থাকলে বাষ্পমােচন কমে। জাঙ্গল উদ্ভিদে এরূপ নিবেশিত পত্ররন্ধ্র থাকে।
৩। পত্ৰত্বকে রােম বা শঙ্কের উপস্থিতি- পাতার পৃষ্ঠতলে রােম বা শঙ্কের উপস্থিতি আলাে প্রতিফলিত করে পত্ররন্ধ্রের উন্মােচনকে ব্যাহত করে। ফলে বাষ্পমােচনের হার কমে।
৪। হরমােন- রক্ষীকোষে অ্যাস্পাইসিক অ্যাসিডের পরিমাণ বাড়লে বাষ্পমােচনের হার কমে। অ্যাস্পাইসিক অ্যাসিড কোষপর্দার ভেদ্যতাকে কমিয়ে রক্ষীকোষে পটাশিয়াম আয়নের অনুপ্রবেশ ব্যাহত করে। ফলে পত্ররন্ধ্রের উন্মােচন হয় না।
২৯। উদ্ভিদের সংবহন পদ্ধতি-
উত্তরঃ উদ্ভিদের সংবহন পদ্ধতি- উদ্ভিদের সংবহন প্রক্রিয়াটিকে দুটি ভাগে ভাগ করা হয়-
১। রসের উৎস্রোত এবং
২। পাতায় প্রস্তুত খাদ্যের সংবহন।
১। রসের উৎস্রোত- মূলরােম দ্বারা শােষিত জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ কর্টেক্সের কোষস্তর দিয়ে জাইলেম বাহিকার ভিতর দিয়ে ঊধ্বমুখে প্রবাহিত হয়ে পাতায় পৌছায়। এই জাইলেম বাহিকা মূল থেকে পাতা পর্যন্ত একটি অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ গঠন করে। এই অবিচ্ছিন্ন অঙ্গে শােষিত জল ও জলে দ্রবীভূত খনিজ লবণ মূলজ চাপ, শশাষণ চাপ, প্রস্বেদন টান ইত্যাদি কয়েকটি প্রক্রিয়ার ফলে উপরের দিকে বাহিত হয়ে পাতার মেসােফিল কলায় পৌছায়। এইভাবে মাটির জল রসের উৎস্রোতের মাধ্যমে পাতায় পৌঁছায়।
২। পাতায় প্রস্তুত খাদ্যের সংবহন- পাতায় প্রস্তুত খাদ্যবস্তু ফ্লোয়েম কলার মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। ফ্লোয়েম কলার সীভনলের কোষগুলি পরপর সজ্জিত হয়ে একটি অবিচ্ছিন্ন অঙ্গ গঠন করে। সীভনলের ভেতর অণুপ্রস্থ প্রাচীরে চালুনির মতাে ছােটো ছােটো ছিদ্র থাকায় তরল খাদ্যবস্তু সহজেই পরিবাহিত হতে পারে। এই সীভনল থেকেই খাদ্যরস উদ্ভিদের বিভিন্ন অংশে ব্যাপন প্রক্রিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে এইভাবেই পাতায় প্রস্তুত খাদ্যবস্তু উদ্ভিদদেহে সংবাহিত হয়।

