Class 12 Political Science Important Chapter 17 আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খা Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 17 আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খা Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 17 আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খা
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
আঞ্চলিক উচ্চাকাঙ্খা
Chapter: 17
| Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। দ্রাবিড় কাযাগম সংগঠনটি কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ তামিল সমাজ সংস্কারক ই. ভি. রামস্বামী ‘পেরিয়ার’-এর নেতৃত্বে এই সংগঠনটি গঠিত হয়েছিল।
২। ‘আনন্দপুর সাহেব প্রস্তাব’ কবে এবং কার দ্বারা গৃহীত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৭৩ সালে পঞ্জাবের অকালি দলের একটি উপদল কর্তৃক এই প্রস্তাব গৃহীত হয়েছিল।
৩। ‘অপারেশন ব্লু স্টার’ কবে এবং কোথায় সংঘটিত হয়?
উত্তরঃ ১৯৮৪ সালের জুন মাসে পঞ্জাবের অমৃতসরের স্বর্ণ মন্দিরে ভারতীয় সেনাবাহিনী কর্তৃক এই সামরিক অভিযান পরিচালিত হয়।
৪। রাজীব-লঙ্গোওয়াল চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয় এবং এতে কে কে স্বাক্ষর করেন?
উত্তরঃ ১৯৮৫ সালের জুলাই মাসে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং অকালি দলের সভাপতি হরচাঁদ সিং লঙ্গোওয়াল এই চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।
৫। ‘মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ কার নেতৃত্বে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৬৫ সালের চরম দুর্ভিক্ষের পর লালডেঙ্গার নেতৃত্বে মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট গঠিত হয়েছিল।
৬। ঐতিহাসিক মিজোরাম শান্তি চুক্তি কবে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তরঃ ১৯৮৬ সালে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এবং মিজো নেতা লালডেঙ্গার মধ্যে এই শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
৭। ‘নাগা ন্যাশনাল কাউন্সিল’-এর নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ নাগাল্যান্ডের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আঙ্গামী জাপু ফিজো।
৮। ‘আসু’ বা সর্ব অসম ছাত্র ইউনিয়ন ১৯৭৯ সালে কিসের বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করে?
উত্তরঃ অসমের বেআইনি বহিরাগত বা অবৈধ অভিবাসীদের শনাক্তকরণ ও বিতাড়নের দাবিতে এই আন্দোলন শুরু করে।
৯। ঐতিহাসিক ‘অসম চুক্তি’ কবে স্বাক্ষরিত হয়?
উত্তরঃ ১৯৮৫ সালে কেন্দ্র সরকার এবং আসু নেতাদের মধ্যে এই চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
১০। অসম চুক্তির পর আন্দোলনকারী নেতারা কোন রাজনৈতিক দল গঠন করে ক্ষমতায় আসেন?
উত্তরঃ আন্দোলনকারী নেতাদের গঠিত ‘অসম গণ পরিষদ’ দল ১৯৮৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে ক্ষমতায় আসে।
১১। সিকিম কবে এবং কততম রাজ্য হিসেবে ভারতের অন্তর্ভুক্ত হয়?
উত্তরঃ ১৯৭৫ সালে গণভোটের অনুমোদনের পর সিকিম ভারতের ২২তম পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে যুক্ত হয়।
১২। সিকিমে চোগিয়াল-বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ সিকিমে গণতান্ত্রিক আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন কাজী লেহনদুপ দোর্জি।
১৩। ভারত সরকার কত সালে এবং কোন সামরিক অভিযানের মাধ্যমে গোয়াকে পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্ত করে?
উত্তরঃ ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে সামরিক অভিযানের মাধ্যমে ভারত সরকার গোয়াকে মুক্ত করে।
১৪। গোয়ায় ১৯৬৭ সালে আয়োজিত ‘মত সমীক্ষা’-র ফল কী হয়েছিল?
উত্তরঃ সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ মহারাষ্ট্রের সঙ্গে যুক্ত না হয়ে স্বতন্ত্র এলাকা হিসেবে থাকার পক্ষে রায় দেন।
১৫। সংবিধানে ‘অনুচ্ছেদ ৩৭০’-এর মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরকে কী মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল?
উত্তরঃ ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় জম্মু ও কাশ্মীরকে অধিকতর স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্তির পটভূমি, ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ মর্যাদা এবং এর অভ্যন্তরীণ বিতর্ক আলোচনা করো।
উত্তরঃ জম্মু ও কাশ্মীর ভারতের অন্তর্ভুক্তির পটভূমি:
(i) দেশীয় রাজ্যের অবস্থা: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতা ও দেশভাগের সময় জম্মু ও কাশ্মীর একটি স্বাধীন দেশীয় রাজ্য ছিল। রাজ্যের হিন্দু রাজা হরি সিং ভারত বা পাকিস্তান—কোনো রাষ্ট্রেই যোগ না দিয়ে স্বাধীন ও নিরপেক্ষ অস্তিত্ব বজায় রাখতে চেয়েছিলেন।
(ii) পাকিস্তানের মনোভাব ও স্থানীয় অবস্থান: পাকিস্তানের নেতারা ধরে নিয়েছিলেন যে রাজ্যের অধিকাংশ জনগোষ্ঠী মুসলিম হওয়ায় কাশ্মীর পাকিস্তানে যোগ দেবে। কিন্তু কাশ্মীরের অধিবাসীরা নিজেদের সর্বপরি ‘কাশ্মীরি’ পরিচয় নিয়ে ভাবতে পছন্দ করতেন।
(iii) উপজাতীয় আক্রমণ ও সামরিক সাহায্য: ১৯৪৭ সালের অক্টোবরে পাকিস্তান সমর্থিত উপজাতীয় অনুপ্রবেশকারীরা কাশ্মীর দখলের উদ্দেশ্যে আক্রমণ চালায়। চরম সংকটে পড়ে রাজা হরি সিং ভারত সরকারের কাছে সামরিক সহায়তার আবেদন জানান।
৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ মর্যাদা:
(i) সংবিধানিক মর্যাদা: ভারতীয় সংবিধানের ৩৭০ অনুচ্ছেদের মাধ্যমে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের তুলনায় অধিকতর স্বায়ত্তশাসন ও বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছিল।
পৃথক সংবিধান: এই বিশেষ বিধানের অধীনে জম্মু ও কাশ্মীরের নিজস্ব পৃথক সংবিধান ছিল।
(ii) কেন্দ্রীয় আইনের সীমাবদ্ধতা: ভারতীয় সংবিধানের সমস্ত বিধান বা সংসদে গৃহীত আইন সরাসরি জম্মু ও কাশ্মীরে প্রযোজ্য হতো না। রাজ্য বিধানসভার অনুমোদন মিললেই কেবল কেন্দ্র প্রণীত আইন রাজ্যে কার্যকারী হতো।
৩৭০ অনুচ্ছেদ ঘিরে অভ্যন্তরীণ বিতর্ক:
(ক) ভারতের অন্যান্য অংশের দৃষ্টিভঙ্গি (সম্পূর্ণ সংযুক্তির দাবি): ভারতের একটি বড় অংশ ও রাজনৈতিক চিন্তাবিদরা মনে করতেন যে ৩৭০ অনুচ্ছেদের বিশেষ মর্যাদা জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারত রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পূর্ণ সংহত বা সংযুক্ত হতে বাধা দিচ্ছে। তাঁদের মূল দাবি ছিল ৩৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল করে জম্মু ও কাশ্মীরকে ভারতের অন্যান্য রাজ্যের মতো সমান মর্যাদা প্রদান করা।
(খ) কাশ্মীরি জনগণের দৃষ্টিভঙ্গি ও ৩টি প্রধান অভিযোগ: অন্যদিকে, কাশ্মীরিদের একটি বড় অংশ মনে করত যে ৩৭০ অনুচ্ছেদে প্রদত্ত স্বায়ত্তশাসন যথেষ্ট নয়।
২। পঞ্জাব সংকটের কারণ, ‘আনন্দপুর সাহেব প্রস্তাব’ এবং ‘অপারেশন ব্লু স্টার’-এর বিবরণ দাও।
উত্তরঃ পঞ্জাব সংকটের কারণ:
(i) ভাষাগত পুনর্গঠন ও বিলম্ব: ১৯৫০-এর দশকে ভারতের অধিকাংশ রাজ্য ভাষাগত ভিত্তিতে পুনর্গঠিত হলেও পঞ্জাবিভাষী পৃথক রাজ্যের জন্য পঞ্জাবকে ১৯৬৬ সাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। ১৯৬৬ সালে পঞ্জাব বিভক্ত হয়ে পঞ্জাব, হরিয়ানা ও হিমাচল প্রদেশ গঠিত হলে পঞ্জাবে শিখরা সংখ্যাগরিষ্ঠ হয়।
(ii) অকালি দলের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা: ১৯৬৭ ও ১৯৭৭ সালে অকালি দল পঞ্জাবে জোট সরকার গঠন করলেও তা মেয়াদের মাঝপথেই কেন্দ্র কর্তৃক বরখাস্ত হয়। তাছাড়া পঞ্জাবের শিখ সম্প্রদায়ের মধ্যে অভ্যন্তরীণ জাতিগত ও শ্রেণীগত বিভাজন ছিল এবং অকালি দল হিন্দু সম্প্রদায়ের পর্যাপ্ত সমর্থন পাচ্ছিল না।
(iii) জলবণ্টন ও অর্থনৈতিক ক্ষোভ: ১৯৮০ সালে সরকার বরখাস্ত হওয়ার পর অকালি দল প্রতিবেশী রাজ্যগুলির সঙ্গে নদী জলবণ্টনের প্রশ্নে আন্দোলন শুরু করে।
আনন্দপুর সাহেব প্রস্তাব:
(i) পটভূমি ও গ্রহণ: ১৯৭০-এর দশকের সূচনায় অকালি দলের একটি উপদল পঞ্জাবের রাজনৈতিক স্বায়ত্তশাসনের দাবি তোলে এবং ১৯৭৩ সালে আনন্দপুর সাহেব সম্মেলনে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করে।
(ii) মূল দাবিদাওয়া: এই প্রস্তাবে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্নির্ধারণ করে পঞ্জাবকে অধিকতর আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসন প্রদান এবং সংবিধানে প্রকৃত যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো শক্তিশালী করার আহ্বান জানানো হয়।
(iii) ধর্মীয় ও আঞ্চলিক লক্ষ্য: প্রস্তাবে শিখ কৌম বা সম্প্রদায়ের পৃথক অস্তিত্ব ও আঞ্চলিক আকাঙ্ক্ষার কথা উল্লেখ করা হয় এবং শিখদের ‘বলবোলা’ (প্রাধান্য বা নেতৃত্ব) অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়।
অপারেশন ব্লু স্টার:
(i) পটভূমি: ১৯৮০-র দশকের শুরুতে সশস্ত্র চরমপন্থীরা অমৃতসরের পবিত্র স্বর্ণ মন্দিরের (হরিমন্দির সাহিব) ভেতরে তাঁদের প্রধান কর্মকাণ্ড স্থাপন করে এবং মন্দির প্রাঙ্গণকে একটি অস্ত্রসজ্জিত দুর্গে পরিণত করে।
(ii) সামরিক অভিযান: ১৯৮৪ সালের জুন মাসে ভারত সরকার স্বর্ণ মন্দির থেকে সশস্ত্র চরমপন্থীদের মুক্ত করার জন্য সামরিক অভিযান পরিচালনা করে, যার কোড নাম দেওয়া হয় ‘অপারেশন ব্লু স্টার’।
(iii) পরিণতি ও মানসিক আঘাত: সেনাবাহিনী চরমপন্থীদের বের করে দিতে সক্ষম হলেও এই অভিযানে পবিত্র মন্দির প্রাঙ্গণ ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এর ফলে ভারত ও বিদেশের বিপুল সংখ্যক শিখ ধর্মাবলম্বীর ধর্মীয় অনুভূতিতে গভীর আঘাত লাগে এবং তাঁরা একে নিজ ধর্মের ওপর আক্রমণ বলে মনে করেন।
৩। উত্তর-পূর্ব ভারতে মিজোরামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন, লালডেঙ্গার ভূমিকা এবং ১৯৮৬ সালের শান্তি চুক্তি আলোচনা করো।
উত্তরঃ উত্তর-পূর্ব ভারতে মিজোরামের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন:
(i) ভৌগোলিক ও ঐতিহাসিক অবস্থান: স্বাধীনতার পর মিজো পাহাড় এলাকাকে অসম রাজ্যের অধীনে একটি স্বশাসিত জেলা হিসেবে গঠন করা হয়েছিল। কিন্তু কিছু মিজো জনগোষ্ঠীর লোক বিশ্বাস করতেন যে তাঁরা কখনো ব্রিটিশ ভারতের অংশ ছিলেন না, তাই তাঁরা ভারতীয় সংঘের অন্তর্ভুক্ত নন।
(ii) ১৯৫৯ সালের মহাদুর্ভিক্ষ ও সরকারি ব্যর্থতা: ১৯৫৯ সালে মিজো পাহাড় অঞ্চলে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই চরম দুর্ভিক্ষের সময় অসম সরকার উপযুক্ত ও সময়োপযোগী ত্রাণ সামগ্রী পৌঁছাতে ব্যর্থ হলে স্থানীয় মিজো জনগণের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম হয়।
(iii) এমএনএফ গঠন: অসম সরকারের এই ব্যর্থতা ও গণঅসন্তোষের পরিণতি স্বরূপ লালডেঙ্গার নেতৃত্বে ‘মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ গঠিত হয়।
সশস্ত্র সংগ্রাম ও লালডেঙ্গার ভূমিকা:
(i) স্বাধীনতার ঘোষণা ও সশস্ত্র অভিযান: ১৯৬৬ সালে লালডেঙ্গার নেতৃত্বে এমএনএফ স্বাধীন মিজোরামের দাবি তুলে ভারতের বিরুদ্ধে সশস্ত্র অভিযান শুরু করে।
(ii) দুই দশকের গেরিলা যুদ্ধ: এইভাবে ভারতীয় সেনাবাহিনী ও মিজো বিদ্রোহীদের মধ্যে প্রায় দুই দশকব্যাপী এক বিস্তৃত ও রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ চলে।
(iii) বহিরাগত সহায়তা: লালডেঙ্গার দল পাকিস্তান সরকারের কাছ থেকে সমর্থন পায় এবং তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানে (বর্তমান বাংলাদেশ) নিরাপদ আশ্রয় গড়ে তোলে।
১৯৮৬ সালের ঐতিহাসিক মিজোরাম শান্তি চুক্তি:
(i) আলাপ-আলোচনার সূচনা: রাজনৈতিক নেতৃত্বের পরিপক্কতার কারণে উভয় প্রান্ত শান্তির আলোচনায় সম্মত হয়। লালডেঙ্গা পাকিস্তানে তাঁর নির্বাসন থেকে ফিরে আসেন এবং ভারত সরকারের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেন।
(ii) রাজীব গান্ধী ও লালডেঙ্গা চুক্তি: তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী এই আলোচনাকে ইতিবাচক পরিণতির দিকে চালিত করেন এবং ১৯৮৬ সালে রাজীব গান্ধী ও লালডেঙ্গার মধ্যে ঐতিহাসিক মিজোরাম শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তির মূল শর্তাবলি:
পূর্ণাঙ্গ রাজ্যের মর্যাদা: মিজোরামকে ভারতীয় সংঘের একটি পূর্ণাঙ্গ রাজ্য হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়া হয় এবং বিশেষ স্বায়ত্তশাসন প্রদান করা হয়।
বিচ্ছিন্নতাবাদ ত্যাগ: মিজো ন্যাশনাল ফ্রন্ট তাদের সশস্ত্র ও বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন সম্পূর্ণ ত্যাগ করতে রাজি হয়।
৪। অসম আন্দোলন-এর কারণ, এবং ঐতিহাসিক ‘অসম চুক্তি’ বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ অসম আন্দোলন এর মূল কারণ:
(ক) জনবিন্যাসের পরিবর্তনের আশঙ্কা: অসমিয়া জনগোষ্ঠীর প্রধান ভয় ছিল যে বাংলাদেশ থেকে আসা বহুসংখ্যক বেআইনি অভিবাসী বা অনুপ্রবেশকারীদের কারণে তাঁরা নিজেদের রাজ্যেই ভাষাগত ও সংস্কৃতিগতভাবে সংখ্যাঘূঘিষ্ঠে পরিণত হবেন।
(খ) ত্রুটিপূর্ণ ভোটার তালিকা: আসু দাবি তোলে যে ভোটার তালিকায় লক্ষ লক্ষ অবৈধ অভিবাসীদের নাম উঠে গেছে। ১৯৫১ সালের পর রাজ্যে প্রবেশকারী সমস্ত অবৈধ বহিরাগতদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর দাবি জানানো হয়।
(গ) অর্থনৈতিক শোষণের ক্ষোভ: খনিজ তেল, চা ও কয়লার মতো প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও অসমে দারিদ্র্য ও বেকারত্ব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে ছিল। স্থানীয় মানুষের মধ্যে এই ক্ষোভ জন্মায় যে রাজ্য থেকে সম্পদ বাইরে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, অথচ স্থানীয় জনগণ তার আনুপাতিক সুফল পাচ্ছেন না।
ঐতিহাসিক ‘অসম চুক্তি’: দীর্ঘ ছয় বছরের অশান্তির পর ১৯৮৫ সালে প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র সরকার এবং আসু নেতাদের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘অসম চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।
ঐতিহাসিক ‘অসম চুক্তি’ বিশ্লেষণ:
(i) অবৈধ অভিবাসী সনাক্তকরণ ও নির্বাসন: ১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের (বাংলাদেশ যুদ্ধ সূচনার তারিখ) পর অসমে আসা সমস্ত অবৈধ অভিবাসীদের চিহ্নিত করে ফেরত পাঠানোর সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
(ii) রাজনৈতিক দল গঠন ও ক্ষমতার পরিবর্তন: আন্দোলনের সফল সমাপ্তির পর আসু এবং অসম গণ সংগ্রাম পরিষদ যৌথভাবে ‘অসম গণ পরিষদ’ নামে একটি রাজনৈতিক দল গঠন করে। ১৯৮৫ সালের বিধানসভা নির্বাচনে তারা জয়ী হয়ে রাজ্যে সরকার গঠন করে।
(iii) চুক্তির মূল্যায়ন: এই চুক্তি অসমে সাময়িক শান্তি ফিরিয়ে আনে এবং রাজনীতিতে নতুন রূপান্তর ঘটায়, কিন্তু বাস্তবিক ক্ষেত্রে প্রপ্রজন সমস্যার সম্পূর্ণ স্থায়ী সমাধান করতে পারেনি।
৫। গোয়ার পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্তি এবং সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইতিহাস সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ গোয়ার পর্তুগিজ শাসন থেকে মুক্তির ইতিহাস:
(i) পর্তুগিজ ঔপনিবেশিক শাসন: ১৯৪৭ সালে ভারত স্বাধীন হলেও পর্তুগাল গোয়া, দমন ও দিউ থেকে তাদের ঔপনিবেশিক শাসন প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করে। দীর্ঘ চারশত বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এই শাসনে গোয়ার জনগণ রাজনৈতিক ও নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত ছিলেন এবং বলপূর্বক ধর্মান্তরণের শিকার হতেন।
(ii) মুক্তিসংগ্রাম ও সামরিক অভিযান: ভারত সরকার দীর্ঘ সময় ধরে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পর্তুগিজদের চলে যাওয়ার অনুরোধ জানালেও তা ব্যর্থ হয়। গোয়ার অভ্যন্তরে স্থানীয় আন্দোলনকারী এবং মহারাষ্ট্রের সমাজতান্ত্রিক সত্যগ্রহীদের আন্দোলন তীব্র রূপ নেয়। অবশেষে ১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে ভারত সরকার সামরিক বাহিনী পাঠায় এবং মাত্র দুই দিনের অভিযানে গোয়া, দমন ও দিউকে পর্তুগিজ মুক্ত করে কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে পরিণত করে।
(iii) ঐতিহাসিক ‘মত সমীক্ষা’ ও পূর্ণ রাজ্য লাভ: মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি গোয়াকে মহারাষ্ট্রের সাথে যুক্ত করার দাবি জানালে, কোঙ্কনি ভাষা ও নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষায় গোয়াবাসীরা এর বিরোধিতা করেন। ১৯৬৭ সালের জানুয়ারি মাসে কেন্দ্র সরকার গোয়ায় এক ঐতিহাসিক ‘মত সমীক্ষা’ আয়োজন করে।
সিকিমের ভারতের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার ইতিহাস:
(i) ‘আশ্রিত’ রাজ্যের অবস্থান: ১৯৪৭ সালে স্বাধীনতার সময় সিকিম ভারতের অন্তর্ভুক্ত কোনো রাজ্য ছিল না, আবার সম্পূর্ণ সার্বভৌম দেশও ছিল না, বরং এটি ছিল ভারতের একটি ‘আশ্রিত’ রাজ্য। সিকিমের প্রতিরক্ষা ও বৈদেশিক বিষয় ভারতের নিয়ন্ত্রণে থাকলেও অভ্যন্তরীণ শাসন ছিল চোগিয়াল নামক রাজার হাতে।
(iii) চোগিয়াল-বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলন: সিকিমের সংখ্যাগরিষ্ঠ নেপালি জনগণ চোগিয়ালের একচ্ছত্র শাসনের বিরোধিতা করেন এবং গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবি তোলেন। কাজী লেহনদুপ দোর্জির নেতৃত্বে চোগিয়াল-বিরোধী আন্দোলনকারীরা ভারত সরকারের কাছে সহায়তা চান।
(iv) বিধানসভার সিদ্ধান্ত ও গণভোট: ১৯৭৪ সালের নির্বাচনে সিকিম কংগ্রেস জয়ী হয়, যারা ভারতের সাথে সংগতির পক্ষপাতী ছিল। ১৯৭৫ সালের এপ্রিলে সিকিম বিধানসভা চোগিয়াল রাজতন্ত্র বিলোপ এবং ভারতের সাথে সম্পূর্ণ সংযুক্তির প্রস্তাব গ্রহণ করে। এর পরেই অনুষ্ঠিত এক জনভোটে জনগণ এই সিদ্ধান্তকে বিপুলভাবে সমর্থন করেন।

