Class 12 Political Science Important Chapter 16 জন আন্দোলনের উদ্ভব Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 16 জন আন্দোলনের উদ্ভব Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 16 জন আন্দোলনের উদ্ভব
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
জন আন্দোলনের উদ্ভব
Chapter: 16
| Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ‘চিপকো আন্দোলন’ কবে এবং কোথায় প্রথম শুরু হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৭৩ সালে উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় এই আন্দোলন শুরু হয়েছিল।
২। চিপকো আন্দোলনে গ্রামবাসী ও নারীরা কীভাবে গাছ রক্ষা করেছিলেন?
উত্তরঃ গ্রামবাসী ও নারীরা গাছগুলিকে জড়িয়ে ধরে (আলিঙ্গন করে) কুঠারের হাত থেকে রক্ষা করেছিলেন।
৩। চিপকো আন্দোলনের ফলে সরকার বনসংক্রান্ত কী নির্দেশ জারি করে?
উত্তরঃ সরকার হিমালয় সংলগ্ন ওই অঞ্চলে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য গাছ কাটা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করে।
৪। ‘দলিত প্যান্থার্স’ নামক সংগঠনটি কবে এবং কোথায় গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৭২ সালে মহারাষ্ট্র রাজ্যে দলিত যুবকদের উদ্যোগে এটি গঠিত হয়েছিল।
৫। দলিত প্যান্থার্স সংগঠনের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তরঃ জাতিপ্রথা ও অস্পৃশ্যতা উচ্ছেদ করা এবং দলিতদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা দেওয়া।
৬। ১৯৮৮ সালে ‘ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন’ কোথায় কৃষকদের সমাবেশ করেছিল?
উত্তরঃ উত্তরপ্রদেশের মিরাট শহরে বিদ্যুতের মাশুল বৃদ্ধির প্রতিবাদে এই সমাবেশ হয়েছিল।
৭। ‘ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন’-এর প্রধান নেতা কে ছিলেন?
উত্তরঃ ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন-এর প্রধান সর্বভারতীয় নেতা ছিলেন মহেন্দ্র সিং টিকায়েত।
৮। ‘জাতীয় মৎস্য কর্মীদের ফোরাম’ প্রতিষ্ঠার মূল কারণ কী ছিল?
উত্তরঃ গভীর সমুদ্রে বাণিজ্যিক ট্রলারের অনিয়ন্ত্রিত মাছ ধরা বন্ধ করে স্থানীয় মৎস্যজীবীদের জীবিকা রক্ষা করা।
৯। তাড়ি-বিরোধী আন্দোলন প্রথম কোথায় শুরু হয়?
উত্তরঃ অন্ধ্রপ্রদেশের নেল্লোর জেলার দুবাগুন্টা গ্রামে মহিলাদের উদ্যোগে প্রথম এই আন্দোলন শুরু হয়।
১০। তাড়ি-বিরোধী আন্দোলনে মহিলাদের প্রধান দাবি কী ছিল?
উত্তরঃ গ্রামে মদ বিক্রি সম্পূর্ণ বন্ধ করা এবং পারিবারিক নির্যাতন ও সহিংসতা প্রতিরোধ করা।
১১। ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ কোন প্রকল্পের বিরুদ্ধে গড়ে ওঠে?
উত্তরঃ নর্মদা নদীর ওপর নির্মিতব্য ‘সর্দার সরোবর’ বহুমুখী বাঁধ প্রকল্পের বিরুদ্ধে এটি গড়ে ওঠে।
১২। ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’-এর প্রধান নেত্রী কে ছিলেন?
উত্তরঃ এই আন্দোলনের অন্যতম প্রধান নেত্রী ছিলেন সমাজকর্মী মেধা পাটকর।
১৩। রাজস্থানে ‘মজদুর কিষাণ শক্তি সংগঠন’ কোন আন্দোলন শুরু করে?
উত্তরঃ বকেয়া মজুরি ও খরচের হিসাব প্রকাশের দাবিতে ‘তথ্য জানার অধিকার’ আন্দোলনের সূচনা করে।
১৪। ভারতে ‘তথ্য জানার অধিকার আইন’ কবে রাষ্ট্রপতির অনুমোদন পায়?
উত্তরঃ ২০০৫ সালের জুন মাসে আইনটি রাষ্ট্রপতির অনুমোদন লাভ করে।
১৫। সংবিধানে ৭৩ ও ৭৪ তম সংশোধনীর মাধ্যমে মহিলাদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়?
উত্তরঃ স্থানীয় পঞ্চায়েত ও পৌরসভা স্তরে মহিলাদের জন্য এক-তৃতীয়াংশ (৩৩%) আসন সংরক্ষিত করা হয়।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। চিপকো আন্দোলনের কারণ এবং এর সামাজিক ও পরিবেশগত গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ চিপকো আন্দোলনের কারণসমূহ:
(ক) স্থানীয় অধিবাসীদের অধিকারে বঞ্চনা: বন দপ্তর স্থানীয় গ্রামবাসীদের কৃষিকাজের প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি তৈরির জন্য ‘আস’ গাছ কাটার অনুমতি দিতে অস্বীকার করে, অথচ বাণিজ্যিক ব্যবহারের জন্য সেই একই গাছ একটি খেলাধুলার সামগ্রী প্রস্তুতকারক সংস্থাকে কেটে নেওয়ার অনুমতি দেয়। এই বৈষম্যমূলক সিদ্ধান্ত স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের জন্ম দেয়।
(খ) বহিরাগতদের শোষণ ও নিয়ন্ত্রণের বিরোধিতা: বহিরাগত বন-ঠিকাদারদের হাতে অঞ্চলের প্রাকৃতিক সম্পদ তুলে দেওয়ার প্রতিবাদ জানানো হয়। গ্রামবাসীরা দাবি করেন যে বহিরাগতদের বনাঞ্চল ব্যবহারের অধিকার বন্ধ করতে হবে এবং জল, ভূমি ও বনের ওপর স্থানীয় সম্প্রদায়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে হবে।
(গ) আঞ্চলিক অর্থনৈতিক বঞ্চনা: স্থানীয় ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য কম মূল্যে কাঁচামাল সরবরাহ না করা এবং বনাঞ্চলে কর্মরত ভূমিহীন শ্রমিকদের ন্যূনতম মজুরি ও অর্থনৈতিক সুরক্ষা নিশ্চিত না করার কারণে আন্দোলন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
চিপকো আন্দোলনের সামাজিক গুরুত্ব:
(ক) নারীদের সক্রিয় ভূমিকা: আন্দোলনে নারীদের ব্যাপক ও স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ এক নতুন মাত্রা যোগ করে। বনাঞ্চল রক্ষার পাশাপাশি নারীরা এলাকায় পুরুষদের মদাসক্তির বিরুদ্ধে দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন গড়ে তোলেন এবং অন্যান্য সামাজিক সমস্যাকেও এর অন্তর্ভুক্ত করেন।
(খ) আঞ্চলিক ঐক্য ও সচেতনতা: এই সংগ্রাম উত্তরাঞ্চল অঞ্চলের পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক শোষণের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষকে সংগঠিত করে তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতন করে তোলে।
চিপকো আন্দোলনের পরিবেশগত গুরুত্ব:
(ক) গাছ কাটা নিষিদ্ধকরণ: আন্দোলনের তীব্রতায় সরকার নতিস্বীকার করে এবং হিমালয় সংলগ্ন পাহাড়ি অঞ্চলে পরবর্তী ১৫ বছরের জন্য সব ধরনের গাছ কাটা সম্পূর্ণরূপে নিষিদ্ধ করে আদেশ জারি করে।
(খ) পরিবেশ আন্দোলনের প্রতীক: চিপকো আন্দোলন স্থানীয় প্রাকৃতিক পরিবেশ ও বাস্তুতন্ত্র রক্ষার দাবিকে সফলভাবে তুলে ধরে, যা পরবর্তীতে ১৯৭০-এর দশক ও তার পরেও ভারতে সংগঠিত নানা জনআন্দোলনের প্রধান অনুপ্রেরণা ও প্রতীকে পরিণত হয়।
২। মহারাষ্ট্রে ‘দলিত প্যান্থার্স’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পটভূমি, প্রধান উদ্দেশ্য আলোচনা করো।
উত্তরঃ মহারাষ্ট্রে ‘দলিত প্যান্থার্স’ সংগঠনের আত্মপ্রকাশের পটভূমি:
(ক) আইন সত্ত্বেও অবিরাম সামাজিক নির্যাতন: ভারতীয় সংবিধানে অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ করা সত্ত্বেও দলিতদের ওপর জাতিগত হিংসা ও সামাজিক বৈষম্য অব্যাহত ছিল।গ্রামে দলিতদের বসতি মূল গ্রাম থেকে পৃথক রাখা হতো, সাধারণ উৎস থেকে পানীয় জল নেওয়ার অধিকার ছিল না এবং দলিত মহিলারা চরম অবমাননার শিকার হতেন।
(খ) প্রচলিত রাজনীতির ব্যর্থতা: দলিতদের সমর্থনে গড়ে ওঠা রাজনৈতিক দলগুলি (যেমন রিপাবলিকান পার্টি অফ ইন্ডিয়া) নির্বাচনী রাজনীতিতে ক্রমাগত বিভাজন ও ব্যর্থতার মুখোমুখি হয়ে প্রান্তিক দলে পরিণত হয়।ফলে তারা দলিতদের অধিকার আদায়ে ব্যর্থ হয়।
(গ) তরুণ সমাজের ক্ষোভ ও আম্বেদকরের আদর্শ: স্বাধীনতার দুই দশক পরেও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় শিক্ষিত দলিত যুবকদের মধ্যে তীব্র মানসিক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। ডঃ বি. আর. আম্বেদকরের অসামান্য আদর্শ ও সামাজিক ন্যায়বিচারের দৃষ্টিভঙ্গি তাঁদের বিশেষভাবে অনুপ্রাণিত করে।
প্রধান উদ্দেশ্য:
(ক) জাতিপ্রথা ধ্বংস করা: সমাজে বিদ্যমান জাতি-ভিত্তিক সমাজব্যবস্থা ও অস্পৃশ্যতা সম্পূর্ণ উচ্ছেদ করা।
(খ) অধিকার ও সংরক্ষণের কার্যকর বাস্তবায়ন: সংবিধানপ্রদত্ত সমতা, সামাজিক ন্যায়বিচার ও সংরক্ষণ নীতিগুলিকে সঠিক প্রয়োগ করানো।
(গ) বৃহৎ সামাজিক ঐক্য প্রতিষ্ঠা: কেবল দলিতদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না থেকে ভূমিহীন দরিদ্র কৃষক, খেতমজুর এবং শহরাঞ্চলের শিল্প শ্রমিকদের মতো সমস্ত নিপীড়িত শ্রেণিকে একত্রিত করা।
৩। ‘ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন’-এর আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়ন’-এর আন্দোলনের বৈশিষ্ট্যগুলি:
(i) অ-দলীয় রাজনৈতিক অবস্থান ও চাপ সৃষ্টি: বি কে ইউ শুরু থেকেই নির্বাচনী বা প্রথাগত রাজনৈতিক দলগুলি থেকে নিজেকে দূরে রেখেছিল। এটি কোনো রাজনৈতিক দলে রূপান্তরিত না হয়ে সরকারের ওপর অর্থনৈতিক দাবি আদায়ের জন্য একটি অ-দলীয় ‘চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী’ হিসেবে কাজ করত।
(ii) প্রতিবাদের গণমুখী ও অভিনব কৌশল: নিজেদের দাবি আদায়ে BKU নানা ধরনের গণপ্রতিরোধমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করত। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বিশাল সমাবেশ বা র্যালি, দীর্ঘমেয়াদী ধরণা, বিক্ষোভ প্রদর্শন এবং ‘জেল ভরো’ আন্দোলন।
(iii) ঐতিহ্যবাহী সামাজিক ও গোত্রভিত্তিক কাঠামোর ব্যবহার: কৃষকদের সংগঠিত ও ঐক্যবদ্ধ করতে গ্রামের প্রথাগত জাতি পঞ্চায়েত ও গোত্রভিত্তিক সামাজিক নেটওয়ার্ককে দক্ষতার সঙ্গে ব্যবহার করেছিল। এর ফলে তারা গ্রামীণ সমাজব্যবস্থার শিকড় থেকে হাজার হাজার কৃষককে অতি দ্রুত সমাবেশিত করতে পারত।
(iv) সচ্ছল কৃষক ও বাণিজ্যিক কৃষিকাজের প্রাধান্য: বি কে ইউ-এর মূল সমর্থক ভিত্তি ছিল প্রধানত সবুজ বিপ্লবের ফলে সুবিধাপ্রাপ্ত পশ্চিম উত্তরপ্রদেশ,পাঞ্জাব ও হরিয়ানার সচ্ছল কৃষক সম্প্রদায়। এরা মূলত বাজারের জন্য উদ্বৃত্ত ফসল উৎপাদনকারী কৃষক ছিলেন।
৪। ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন’ গড়ে ওঠার কারণ, উত্থাপিত মূল বিতর্কসমূহ বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ‘নর্মদা বাঁচাও আন্দোলন গড়ে ওঠার মূল কারণগুলি:
(ক) বৃহৎ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্প: নর্মদা ও তার উপনদীগুলির ওপর মধ্যপ্রদেশ, গুজরাট ও মহারাষ্ট্র রাজ্যে ৩০টি বড়, ১৩৫টি মাঝারি এবং প্রায় ৩,০০০টি ছোট বাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছিল।
(খ) বাস্তুচ্যুতি ও গণ-স্থানান্তর: গুজরাটের ‘সর্দার সরোবর’ এবং মধ্যপ্রদেশের ‘নর্মদা সাগর’ বাঁধের ফলে তিনটি রাজ্যের ২৪৫টি গ্রাম সম্পূর্ণ বা আংশিক জলমগ্ন হওয়ার এবং প্রায় আড়াই লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।
(গ) পুনর্বাসনের অভাব: বাঁধের জলে ভিটেমাটি হারানো দরিদ্র কৃষক ও আদিবাসীদের উপযুক্ত বিকল্প জমি ও সুনির্দিষ্ট পুনর্বাসনের কোনো সুসংহত পরিকল্পনা আদতে ছিল না।
আন্দোলনে উত্থাপিত মূল বিতর্কগুলি:
(ক) ব্যয়-সুফল বিশ্লেষণ: এনবিএ দাবি তোলে যে এ যাবৎকালে সমাপ্ত উন্নয়ন প্রকল্পগুলির প্রকৃত সামাজিক ও পরিবেশগত ক্ষতির হিসাবের সাথে অর্থনৈতিক সুফলের তুলনা করে দেখা উচিত।
(খ) উন্নয়নের ধারা ও আদর্শের প্রশ্ন: আন্দোলনকারীরা প্রশ্ন তোলেন যে গণতন্ত্রে নির্দিষ্ট কিছু জনগোষ্ঠীকে বা দরিদ্র অধিবাসীদের সমাজের অন্যদের সুবিধার জন্য বারবার জমি ও জীবিকা ত্যাগ করতে বাধ্য করা কতটা ন্যায্যসংগত।
(গ) প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয় নিয়ন্ত্রণ: বাঁধ প্রকল্পের ফলে জল, জমি ও বনের মতো প্রাকৃতিক পরিবেশের যে বিনাশ ঘটছে তার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এনবিএ প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর স্থানীয় সম্প্রদায়ের কার্যকর নিয়ন্ত্রণের দাবি জানায়।
(ঘ) সুবিধাভোগী ও ভুক্তভোগীদের মধ্যে আঞ্চলিক দ্বন্দ্ব: গুজরাট রাজ্য সরকারের মতে সর্দার সরোবর বাঁধ খরা নিয়ন্ত্রণ, পানীয় জল সরবরাহ, সেচ এবং বিদ্যুৎ উৎপাদনে সাহায্য করবে কিন্তু মধ্যপ্রদেশ ও মহারাষ্ট্রের পরিবেশকর্মীদের মতে ক্ষতিগ্রস্তদের বলিদানের বিনিময়ে এই সুবিধা আদায় করা অনুচিত ছিল।
৫। রাজস্থানে ‘মজদুর কিষাণ শক্তি সংগঠন’-এর পরিচালিত ‘তথ্য জানার অধিকার’ আন্দোলনের ইতিহাস ও এর তাৎপর্য লেখো।
উত্তরঃ ১৯৯০ সালে রাজস্থানের একটি অনগ্রসর অঞ্চলে ‘মজদুর কিষাণ শক্তি সংগঠন’ নামক একটি প্রান্তিক সংগঠন স্থানীয় কৃষক ও শ্রমিকদের অধিকার রক্ষায় আন্দোলন শুরু করে। বকেয়া মজুরি না পাওয়ার প্রতিবাদে সরকারি খরচের হিসাব জানার দাবি থেকে এই আন্দোলনের জন্ম হয়।
আন্দোলনের ইতিহাস ও কৌশল:
(ক) খরা ত্রাণ কাজের বকেয়া মজুরি: খরা ত্রাণকাজে নিযুক্ত শ্রমিকেরা সরকারিভাবে নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি না পাওয়ায় সংগঠনটি সরকারি মাস্টার রোল, বিল ও ভাউচারের প্রতিলিপি দেখার দাবি জানায়।
(খ) জন শুনানির আয়োজন: সরকারি গোপনীয়তা ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে MKSS ‘জন শুনানি’ (জনসাধারণের সামনে খোলামেলা শুনানি) আয়োজন করে। সেখানে সাধারণ মানুষের সামনে সরকারি নথিপত্র পড়ে শোনানো হয় এবং দুর্নীতি ফাঁস করা হয়।
(গ) আইনি স্বীকৃতি ও বিস্তার: দীর্ঘ আন্দোলনের চাপে রাজস্থান সরকার ১৯৯৯ সালে পঞ্চায়েত আইনের সংশোধন করে সরকারি নথির অনুলিপি পাওয়ার অধিকার প্রদান করে। পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে দিল্লিতে ‘জাতীয় তথ্য জানার অধিকার পরিষদ’ গঠিত হলে এটি সর্বভারতীয় রূপ নেয়।
রাজনৈতিক ও সামাজিক তাৎপর্য:
(ক) দুর্নীতি প্রতিরোধ ও স্বচ্ছতা: এই আন্দোলন প্রমাণ করে যে সরকারি কাজের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে তথ্য পাওয়ার অধিকার একটি অপরিহার্য হাতিয়ার।
(খ) গণতন্ত্রের ক্ষমতায়ন: সাধারণ দরিদ্র ও প্রান্তিক মানুষের হাতে প্রশাসনিক তথ্য পৌঁছানোর ফলে গণতন্ত্র তৃণমূল স্তরে শক্তিশালী হয়।
(গ) সর্বভারতীয় আইনের প্রণয়ন: এই দীর্ঘ আন্দোলনের ফলশ্রুতিতে ২০০৫ সালের জুন মাসে সর্বভারতীয় স্তরে ঐতিহাসিক ‘তথ্য জানার অধিকার আইন’ পাস হয়।

