Class 12 Political Science Important Chapter 15 গণতান্ত্রিক পরম্পরার সঙ্কট

Class 12 Political Science Important Chapter 15 গণতান্ত্রিক পরম্পরার সঙ্কট Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 15 গণতান্ত্রিক পরম্পরার সঙ্কট Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.

Class 12 Political Science Important Chapter 15 গণতান্ত্রিক পরম্পরার সঙ্কট

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 15

Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ১৯৭৪ সালের জানুয়ারিতে গুজরাটের ছাত্ররা কেন আন্দোলন শুরু করেছিল?

উত্তরঃ খাদ্যশস্য, রান্নার তেল ও নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং উচ্চপর্যায়ের দুর্নীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন শুরু করেছিল।

২। বিহার ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য জয়প্রকাশ নারায়ণ কী শর্ত দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ আন্দোলনটি সম্পূর্ণ অহিংস থাকবে এবং এটি বিহারের বাইরে ছড়িয়ে পড়ে জাতীয় রূপ নেবে এই শর্ত দিয়েছিলেন।

৩। জয়প্রকাশ নারায়ণ বিহার আন্দোলনে কোন বিখ্যাত স্লোগানের জন্ম দেন?

উত্তরঃ সম্পূর্ণ ক্রান্তি অব নারা হ্যায়, ভাবী ইতিহাস হামারা হ্যায়” এই বিখ্যাত স্লোগানের জন্ম দেন।

৪। ১৯৭৪ সালের মে মাসে ভারতে ঐতিহাসিক রেল ধর্মঘটের নেতৃত্ব কে দিয়েছিলেন?

উত্তরঃ ১৯৭৪ সালের মে মাসে ভারতে ঐতিহাসিক রেল ধর্মঘটের নেতৃত্ব জর্জ ফার্নান্ডেজ দিয়েছিলেন।

৫। ১৯৭৩ সালের কোন বিখ্যাত মামলায় সংবিধানের ‘বুনিয়াদি বৈশিষ্ট্য’ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতী মামলায় সংবিধানের ‘বুনিয়াদি বৈশিষ্ট্য’ তত্ত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়।

৬। ১৯৭৩ সালে প্রথা ভেঙে কাকে ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়?

উত্তরঃ ১৯৭৩ সালে প্রথা ভেঙে বিচারপতি এ. এন. রায়কে ভারতের প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিযুক্ত করা হয়।

৭। এলাহাবাদ হাইকোর্টের বিচারপতি জগমোহন লাল সিনহা ১৯৭৫ সালের ১২ই জুন কী রায় দেন?

উত্তরঃ ১৯৭১ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধীর নির্বাচনকে অবৈধ রায় দেন।

৮। ১৯৭৫ সালের কত তারিখে ভারতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়?

উত্তরঃ ১৯৭৫ সালের ২৫ শে জুন রাতে ভারতে জাতীয় জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

৯। ভারতীয় সংবিধানের কত নম্বর ধারা অনুযায়ী ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়?

উত্তরঃ ৩৫২ নম্বর ধারা অনুযায়ী ১৯৭৫ সালে জরুরি অবস্থা ঘোষিত হয়।

১০। জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি কে ছিলেন?

উত্তরঃ জরুরি অবস্থা ঘোষণার সময় ভারতের রাষ্ট্রপতি ফকরুদ্দীন আলী আহমেদ ছিলেন।

১১। জরুরি অবস্থার সময় সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধকে কী বলা হতো?

উত্তরঃ জরুরি অবস্থার সময় সংবাদপত্রের ওপর আরোপিত বিধিনিষেধকে প্রেস সেন্সরশিপ বলা হতো।

১২। ১৯৭৭ সালে গঠিত ‘শাহ অনুসন্ধান কমিশন’- এর প্রধান কে ছিলেন?

উত্তরঃ সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জে. সি. শাহ ছিলেন।

১৩। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়ে কোন নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে?

উত্তরঃ ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে বিরোধী দলগুলি একত্রিত হয়ে জনতা পার্টি নতুন রাজনৈতিক দল গঠন করে।

১৪। ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী কোন কেন্দ্রে পরাজিত হন?

উত্তরঃ ১৯৭৭ সালের লোকসভা নির্বাচনে ইন্দিরা গান্ধী উত্তর প্রদেশের রায়বেরেলী কেন্দ্রে পরাজিত হন।

১৫। ১৯৭৭ সালে গঠিত ভারতের প্রথম অ-কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী কে হয়েছিলেন?

উত্তরঃ ১৯৭৭ সালে গঠিত ভারতের প্রথম অ-কংগ্রেস সরকারের প্রধানমন্ত্রী মোরারজি দেশাই হয়েছিলেন।

দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। ১৯৭৫ সালের ২৫ শে জুন ভারতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পটভূমি বা প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯৭৫ সালের ২৫ শে জুন ভারতে জরুরি অবস্থা ঘোষণার পটভূমি বা প্রধান কারণগুলি আলোচনা করা হলো:

(i) অর্থনৈতিক সংকট ও জনবিক্ষোভ: ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ যুদ্ধ, আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং ১৯৭২-৭৩ সালের খরার কারণে ১৯৭৩-৭৪ সালে ভারতে ৩০% পর্যন্ত অভূতপূর্ব মূল্যস্ফীতি ঘটে। এর ফলে গুজরাট ও বিহারে ব্যাপক ছাত্র আন্দোলন শুরু হয়।

(ii) জয়প্রকাশ নারায়ণের নেতৃত্ব ও ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’: লোকনায়ক জয়প্রকাশ নারায়ণ বিহারের ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্ব গ্রহণ করেন এবং দুর্নীতি ও কুশাসনের বিরুদ্ধে ‘সম্পূর্ণ বিপ্লব’-এর আহ্বান জানান। ১৯৭৪ সালে রেল ধর্মঘট এবং বিরোধী দলগুলির একত্রিত হয়ে দিল্লি রামলীলা ময়দানে গণবিক্ষোভ ইন্দিরা গান্ধী সরকারের ওপর তীব্র চাপ সৃষ্টি করে।

(iii) বিচার বিভাগের সাথে সংঘাত: ১৯৭৩ সালের কেশবানন্দ ভারতী মামলার রায় এবং প্রথা ভেঙে এ. এন. রায়কে প্রধান বিচারপতি নিয়োগ করা নিয়ে সরকার ও বিচার বিভাগের মধ্যে বিরোধ চরমে পৌঁছায়।

(iv) এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় (১৯৭৫): ১৯৭৫ সালের ১২ই জুন এলাহাবাদ হাইকোর্ট ১৯৭১ সালের নির্বাচনে সরকারি যন্ত্রের অপব্যবহারের অভিযোগে ইন্দিরা গান্ধীর লোকসভা নির্বাচন বাতিল করে দেয়।

(v) জরুরি অবস্থা ঘোষণা: ২৫ শে জুন রামলীলা ময়দানে জয়প্রকাশ নারায়ণ সরকার ও পুলিশকে অসাংবিধানিক আদেশ অমান্য করার আহ্বান জানালে, ওই রাতেই অভ্যন্তরীণ গোলযোগের অজুহাতে ৩৫২ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়।

২। ১৯৭৫-১৯৭৭ সালের জরুরি অবস্থার প্রধান পরিণতি ও নাগরিক অধিকারের ওপর এর প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯৭৫ সালের জুন থেকে ১৯৭৭ সালের মার্চ পর্যন্ত দীর্ঘ ১৮ মাসের জরুরি অবস্থা ভারতের গণতান্ত্রিক কাঠামো ও নাগরিক অধিকারের ওপর গভীর প্রভাব সৃষ্টি করেছিল:

(i) নাগরিক ও মৌলিক অধিকার খর্ব: সংবিধানের ১৯ নম্বর ধারা স্থগিত করে নাগরিকদের বাক-স্বাধীনতা, সভা-সমাবেশের অধিকার এবং চলাফেরার স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া হয়। নাগরিকদের জীবন ও ব্যক্তিগত স্বাধীনতার অধিকার অক্ষুণ্ণ রাখার আইনি প্রতিবিধানও বন্ধ হয়ে যায়।

(ii) বিরোধী রাজনৈতিক নেতাদের গ্রেপ্তার: জরুরি অবস্থা জারির সাথে সাথেই জয়প্রকাশ নারায়ণ, মোরারজি দেশাই, অটল বিহারী বাজপেয়ী, এল. কে. আদবানী সহ প্রায় এক লক্ষেরও বেশি রাজনৈতিক কর্মী ও বিরোধী নেতাকে নিবর্তনমূলক আটক আইনে গ্রেপ্তার করা হয়।

(iii) প্রেস সেন্সরশিপ: সংবাদপত্রের স্বাধীনতার ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়। সরকারি অনুমোদনের ব্যতিরেকে কোনো সংবাদ প্রকাশ নিষিদ্ধ হয়। এর প্রতিবাদে দি ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস ও দ্য স্টেটসম্যানের মতো সংবাদপত্রগুলি সম্পাদকীয় স্থান ফাঁকা রেখে প্রতিবাদ জানায়।

(iv) সংবিধানের ৪২তম সংশোধন (১৯৭৬): এই সংশোধনের মাধ্যমে লোকসভা ও বিধানসভাগুলির মেয়াদ ৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৬ বছর করা হয় এবং সুপ্রিম কোর্টের বিচার বিভাগীয় পর্যালোচনার ক্ষমতা সীমিত করে প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতা অত্যন্ত বৃদ্ধি করা হয়।

৩। শাহ অনুসন্ধান কমিশন কেন গঠিত হয়েছিল এবং এর প্রধান অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তগুলি কী ছিল?

উত্তরঃ ১৯৭৭ সালের মে মাসে লোকসভা নির্বাচনে জয়লাভের পর জনতা দল সরকার সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত প্রধান বিচারপতি জে. সি. শাহ-এর নেতৃত্বে ‘শাহ অনুসন্ধান কমিশন’ গঠন করে।

কমিশনের উদ্দেশ্য: জরুরি অবস্থাকালীন ক্ষমতার অপব্যবহার, প্রশাসনিক অনিয়ম, বেআইনি গ্রেপ্তার, গণমাধ্যমের ওপর নিপীড়ন এবং বেআইনি বলপ্রয়োগের অভিযোগ তদন্ত করাই ছিল এই কমিশনের মূল উদ্দেশ্য।

প্রধান অনুসন্ধান ও সিদ্ধান্তগুলি:

(i) ক্ষমতার চরম অপব্যবহার: কমিশন দীর্ঘ তদন্ত ও সাক্ষ্যগ্রহণের পর একাধিক অন্তর্বর্তী ও চূড়ান্ত প্রতিবেদন পেশ করে জানায় যে, জরুরি অবস্থা ঘোষণার ক্ষেত্রে ক্যাবিনেটকে অন্ধকারে রাখা হয়েছিল এবং ব্যক্তিগত রাজনৈতিক অস্তিত্ব রক্ষার উদ্দেশ্যে সাংবিধানিক ক্ষমতার অপব্যবহার করা হয়েছিল।

(ii) আমলাতন্ত্র ও পুলিশের রাজনৈতিক ব্যবহার: জেলা শাসক ও পুলিশ প্রশাসন নিরপেক্ষভাবে কাজ না করে শাসক দলের রাজনৈতিক স্বার্থে কাজ করেছিল এবং সাধারণ নাগরিকদের ওপর নিবর্তনমূলক আটক আইন প্রয়োগ করেছিল।

(iii) অসাংবিধানিক ক্ষমতার কেন্দ্র: কোনো সরকারি পদে না থেকেও প্রধানমন্ত্রীর পুত্র সঞ্জয় গান্ধী কীভাবে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড ও দিল্লির উচ্ছেদ অভিযানে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে কর্তৃত্ব চালান, কমিশন তার বিস্তারিত প্রমাণ তুলে ধরে।

৪। ১৯৭৭ সালের ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনের পটভূমি, বৈশিষ্ট্য এবং অ-কংগ্রেসবাদের প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯৭৭ সালের ষষ্ঠ লোকসভা নির্বাচনের পটভূমি নির্বাচনের পটভূমি:

(i) জরুরি অবস্থার অবসান ও নির্বাচনের ঘোষণা: ১৯৭৫ সালের ২৫ শে জুন থেকে চালু হওয়া প্রায় ১৮ মাসের দীর্ঘ জাতীয় জরুরি অবস্থার পর, ১৯৭৭ সালের জানুয়ারি মাসে সরকার নির্বাচন আয়োজনের সিদ্ধান্ত নেয় এবং কারারুদ্ধ বিরোধী নেতাদের মুক্তি দেয়।

(ii) প্রশাসনিক বাড়াবাড়ি ও জনক্ষোভ: জরুরি অবস্থাকালীন নিবর্তনমূলক আটক আইনে গণগ্রেপ্তার, মৌলিক অধিকার স্থগিতকরণ, সংবাদপত্রের ওপর সেন্সরশিপ, জোরপূর্বক পরিবার পরিকল্পনা ও নির্বীজকরণ এবং তুর্কম্যান গেটের মতো দরিদ্র এলাকার বস্তি উচ্ছেদের ফলে সাধারণ মানুষের মনে সরকারের বিরুদ্ধে প্রচণ্ড ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছিল।

(iii) ‘গণতন্ত্র বাঁচাও’ আন্দোলন: জয়প্রকাশ নারায়ণ সহ শীর্ষ বিরোধী নেতৃবৃন্দের কারাবাস এবং দমনপীড়নের বিরুদ্ধে অ-কংগ্রেসী রাজনৈতিক দলগুলি একত্রিত হতে শুরু করে। ফলে নির্বাচনটি কেবল রাজনৈতিক ক্ষমতার লড়াই না হয়ে “গণতন্ত্র বনাম একনায়কতন্ত্রের” এক বিশাল গণআন্দোলনে রূপ নেয়।

নির্বাচনের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:

(i) জনতা পার্টির আত্মপ্রকাশ: নির্বাচনের ঠিক প্রাক্কালে প্রধান বিরোধী দলগুলি (কংগ্রেস (ও), জনসংঘ, সমাজতান্ত্রিক দল, ভারতীয় লোকদল) নিজেদের মতাদর্শগত পার্থক্য ভুলে একত্রিত হয় এবং ‘জনতা পার্টি’ নামে এক নতুন রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলে। 

(ii) কংগ্রেসের ভাঙন ও ‘গণতন্ত্রের জন্য কংগ্রেস’: জরুরি অবস্থার তীব্র বিরোধিতা করে প্রবীণ কংগ্রেস নেতা জগজীবন রামের নেতৃত্বে একটি গোষ্ঠী দল ত্যাগ করেন এবং ‘গণতন্ত্রের জন্য কংগ্রেস’ গঠন করে জনতা পার্টির সাথে জোটবদ্ধ হন।

(iii) জরুরি অবস্থার ওপর গণভোট: জনতা দল এই নির্বাচনকে জরুরি অবস্থার অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ ও প্রশাসনিক স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এক জাতীয় গণভোটে পরিণত করতে সমর্থ হয়।

‘অ-কংগ্রেসবাদ’- এর প্রভাব:

(i) ভোট বিভাজন রোধ: ১৯৬০-এর দশকে সমাজবাদী নেতা রামমনোহর লোহিয়া প্রবর্তিত ‘অ-কংগ্রেসবাদ’ তত্ত্বে বলা হয়েছিল যে কংগ্রেসকে পরাজিত করতে বিরোধী ভোট বিভক্ত হওয়া আটকানো জরুরি। ১৯৭৭ সালের নির্বাচনে সমস্ত প্রধান বিরোধী দল এক পতাকাতলে এসে লড়ায় অ-কংগ্রেসী ভোটের বিভাজন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়, যা জনতা দলের নিরঙ্কুশ বিজয়ে প্রধান ভূমিকা রাখে।

(ii) একদলীয় আধিপত্য ব্যবস্থার অবসান: ১৯৫২ সাল থেকে কেন্দ্রে চলে আসা কংগ্রেস দলের একচ্ছত্র রাজনৈতিক আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় রাজনীতিতে বিকল্প শক্তির উত্থানের পথ সুগম হয়।

৫। ১৯৭৫ সালের জরুরি অবস্থা ভারতীয় গণতন্ত্রকে কী কী প্রধান শিক্ষা দিয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৭৫-১৯৭৭ সালের জরুরি অবস্থার তিক্ত অভিজ্ঞতা ভারতের রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক ব্যবস্থাকে পুনর্বিন্যস্ত করতে এবং গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করতে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ শিক্ষা দিয়েছিল:

(i) গণতন্ত্রের অভ্যন্তরীণ শক্তি ও স্থায়িত্ব: জরুরি অবস্থা দেখিয়েছিল যে ভারতে সাময়িকভাবে গণতন্ত্র স্থগিত হলেও এ দেশের জনগণ স্বৈরাচারী শাসন বরদাস্ত করে না। ১৯৭৭ সালের ব্যালট বাক্সের মাধ্যমে জনগণ প্রমাণ করেছিল যে ভারতের গণতন্ত্রের মূল শিকড় অত্যন্ত গভীরে প্রোথিত।

(ii) সাংবিধানিক অস্পষ্টতা দূরীকরণ (৪৪তম সংশোধন): জরুরি অবস্থার পর ১৯৭৮ সালে ৪৪তম সংবিধান সংশোধন করে ‘অভ্যন্তরীণ গোলযোগ’ শব্দটি তুলে দিয়ে ‘সশস্ত্র বিদ্রোহ’ শব্দটি প্রতিস্থাপন করা হয়। সিদ্ধান্ত হয় যে লিখিত ক্যাবিনেট পরামর্শ ছাড়া রাষ্ট্রপতি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করতে পারবেন না এবং ২১ নম্বর ধারায় বর্ণিত জীবন ও স্বাধীনতার মৌলিক অধিকার জরুরি অবস্থাতেও খর্ব করা যাবে না।

(iii) পৌর স্বাধীনতা ও মানবাধিকার বিষয়ে সচেতনতা: জরুরি অবস্থার পর দেশে নাগরিকদের সিভিল লিবার্টি বা পৌর স্বাধীনতা রক্ষায় বিচার বিভাগ অত্যন্ত সক্রিয় হয়ে ওঠে। নাগরিক অধিকার রক্ষায় বিভিন্ন অসরকারি ও আইনি সংস্থার জন্ম হয়।

(iv) প্রশাসনের দলীয়করণ প্রতিরোধ: শাহ কমিশনের প্রতিবেদনের পর শাসন বিভাগ ও পুলিশ প্রশাসনকে দলীয় প্রভাবমুক্ত রেখে স্বাধীনভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তা ব্যাপকভাবে অনুভূত হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top