Class 12 Political Science Important Chapter 18 ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সম্প্রসার সমূহ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 18 ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সম্প্রসার সমূহ Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 18 ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সম্প্রসার সমূহ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
ভারতের রাজনীতিতে সাম্প্রতিক সম্প্রসার সমূহ
Chapter: 18
| Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দল কতগুলি আসন পেয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস দল ১৯৭টি আসন পেয়েছিল।
২। ১৯৯০ সালে কেন্দ্রীয় সরকারের চাকরিতে ‘অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণী’ র জন্য কত শতাংশ আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়?
উত্তরঃ অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণী-র জন্য ২৭ শতাংশ (27%) আসন সংরক্ষণের কথা বলা হয়।
৩। ‘মণ্ডল কমিশন’ কার সভাপতিত্বে এবং কবে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ বি. পি. মণ্ডলের সভাপতিত্বে ১৯৭৮ সালে ‘দ্বিতীয় পশ্চাৎপদ শ্রেণী কমিশন’ বা মণ্ডল কমিশন গঠিত হয়েছিল।
৪। ভারতে নতুন অর্থনৈতিক নীতি বা অর্থনৈতিক সংস্কার কবে এবং কার প্রধানমন্ত্রীত্বকালে গৃহীত হয়?
উত্তরঃ ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিংহ রাওয়ের কার্যকালে নব্য অর্থনৈতিক নীতি গৃহীত হয়।
৫। ‘বামসেফ’ কবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর প্রধান উদ্দেশ্য কী ছিল?
উত্তরঃ ১৯৭৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং এর উদ্দেশ্য ছিল শোষিত বহুজন সম্প্রদায়ের (SC, ST, OBC ও সংখ্যালঘু) অধিকারের পক্ষে অবস্থান নেওয়া।
৬। ‘বহুজন সমাজ পার্টি’ কার নেতৃত্বে এবং কবে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৮৪ সালে কাশীরামের নেতৃত্বে বহুজন সমাজ পার্টি গঠিত হয়েছিল।
৭। ১৯৮৯ সালে গঠিত ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকারকে বাইরে থেকে কোন দুটি ভিন্নমুখী রাজনৈতিক দল সমর্থন জানিয়েছিল?
উত্তরঃ ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বামফ্রন্ট ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকারকে বাইরে থেকে সমর্থন জানিয়েছিল।
৮। বাবরি মসজিদ কবে এবং কোথায় ধ্বংস করা হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর উত্তরপ্রদেশের অযোধ্যা শহরে বাবরি মসজিদ ধ্বংস করা হয়েছিল।
৯। অযোধ্যা ঘটনার তদন্তের জন্য কেন্দ্র সরকার কোন কমিশন গঠন করেছিল?
উত্তরঃ অযোধ্যায় বাবরি মসজিদ ধ্বংসের ঘটনা তদন্তের জন্য কেন্দ্র সরকার ‘লিবারহান কমিশন’ গঠন করেছিল।
১০। ২০০২ সালে গুজরাটের কোন রেল স্টেশনে ‘কর সেবকদের’ ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছিল?
উত্তরঃ ২০০২ সালে গুজরাটের গোধরা স্টেশনে ট্রেনে আগুন লাগানোর ঘটনা ঘটেছিল।
১১। ভারতে (NDA) ‘এন ডি এ’ এবং (UPA) ‘ইউ পি এ’-র পূর্ণরূপ কী?
উত্তরঃ ভারতে-র পূর্ণরূপ হলো ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক অ্যালায়েন্স এবং UPA-র পূর্ণরূপ হলো ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স।
১২। ১৯৯৬ সালে মাত্র ১৩ দিনের জন্য কোন রাজনৈতিক দলের নেতৃত্বে কেন্দ্রীয় সরকার গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ অটল বিহারী বাজপেয়ীর নেতৃত্বে ভারতীয় জনতা পার্টির সরকার গঠিত হয়েছিল।
১৩। ‘শাহ বানো মামলা’ (১৯৮৫) কিসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?
উত্তরঃ ১৯৮৫ সালের শাহ বানো মামলাটি একজন তালাকপ্রাপ্ত মুসলিম নারীর খোরপোশের অধিকার ও ব্যক্তিগত আইনের সাথে সম্পর্কিত ছিল।
১৪। ২০০৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কেন্দ্র সরকার গঠনকারী জোটটির নাম কী ছিল এবং কে প্রধানমন্ত্রী হন?
উত্তরঃ জোটটির নাম ছিল ‘ইউনাইটেড প্রগ্রেসিভ অ্যালায়েন্স’ এবং ড. মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী হন।
১৫। ‘ইন্দিরা সাহনি মামলা’ কিসের সাথে সম্পর্কিত ছিল?
উত্তরঃ ১৯৯২ সালের ইন্দিরা সাহনি মামলাটি মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী দেওয়া ২৭% সরকারি চাকরি সংরক্ষণের সিদ্ধান্তের বৈধতার সাথে সম্পর্কিত ছিল।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। ১৯৮৯ পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতিতে ‘কংগ্রেস প্রণালী’র অবক্ষয় এবং ‘জোট রাজনীতির’ উত্থানের কারণ আলোচনা করো।
উত্তরঃ ১৯৮৯ পরবর্তী ভারতীয় রাজনীতিতে ‘কংগ্রেস প্রণালী’র অবক্ষয়: ১৯৮৪ সালের লোকসভা নির্বাচনে কংগ্রেস ৪১৫টি আসনে বিপুল বিজয় অর্জন করেছিল, কিন্তু ১৯৮৯ সালের লোকসভা নির্বাচনে দলটির আসন সংখ্যা ব্যাপকভাবে হ্রাস পেয়ে মাত্র ১৯৭টিতে নেমে আসে। রাষ্ট্রবিজ্ঞানীরা স্বাধীনতার পর থেকে জাতীয় রাজনীতিতে কংগ্রেসের যে একক আধিপত্য প্রত্যক্ষ করেছিলেন, তাকে ‘কংগ্রেস প্রণালী’ বলে অভিহিত করতেন। ১৯৮৯ সালের পর থেকে কেন্দ্রে কংগ্রেসের এই একক আধিপত্যের অবসান ঘটে এবং ভারতীয় রাজনীতিতে বহু-দলীয় প্রতিযোগিতার এক নতুন অধ্যায় সূচিত হয়।
‘জোট রাজনীতির’ উত্থানের কারণসমূহ:
(ক) একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার অভাব: ১৯৮৯ সালের সাধারণ নির্বাচনে কোনো রাজনৈতিক দলই লোকসভায় একক স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। লোকসভায় কংগ্রেস সর্ববৃহৎ দল হলেও তারা সরকার গঠন না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
(খ) ন্যাশনাল ফ্রন্ট সরকার ও বহিরাগত সমর্থন: জনতা দল ও কয়েকটি আঞ্চলিক দলের সমন্বয়ে গঠিত ‘ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ কেন্দ্রে সরকার গঠন করে। এই সরকারকে দুটি সম্পূর্ণ বিপরীতমুখী রাজনৈতিক আদর্শের দল—ভারতীয় জনতা পার্টি এবং বামফ্রন্ট বাইরে থেকে সমর্থন প্রদান করে।
(গ) আঞ্চলিক ও পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর দলগুলির উত্থান: ১৯৯০-এর দশকে অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণী এবং দলিতদের প্রতিনিধিত্বকারী বিভিন্ন আঞ্চলিক ও সামাজিক দলের শক্তিশালী উত্থান ঘটে। ফলে একক কোনো জাতীয় দলের পক্ষে দেশজুড়ে আধিপত্য বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়ে।
২। ‘মণ্ডল কমিশন’ এর প্রধান সুপারিশসমূহ এবং ভারতীয় রাজনীতিতে এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ‘মণ্ডল কমিশন’ এর প্রধান সুপারিশসমূহ:
(ক) জনসংখ্যার অনুপাত সনাক্তকরণ: কমিশন তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ করে সিদ্ধান্ত নেয় যে ভারতের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৫২ শতাংশ মানুষ ‘অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণী’ (OBC)-র অন্তর্ভুক্ত।
(খ) ২৭% সরকারি চাকরি ও শিক্ষা সংরক্ষণ: মণ্ডল কমিশন ও বি সি সম্প্রদায়ের সামাজিক ও শিক্ষাগত পশ্চাৎপদতা দূর করার লক্ষ্যে সরকারি চাকরি এবং সরকারি উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের জন্য ২৭ শতাংশ (27%) আসন সংরক্ষণের সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করে।
(গ) ভূমি সংস্কারের সুপারিশ: কমিশন জমিভিত্তিক বৈষম্য দূর করতে উত্তর ভারতে কার্যকর ভূমি সংস্কারের ওপরও জোর দেয়।
ভারতীয় রাজনীতিতে এর সামাজিক ও রাজনৈতিক প্রভাব:
(i) ১৯৯০ সালের সিদ্ধান্ত ও বিক্ষোভ: ১৯৯০ সালের আগস্ট মাসে ভিপি সিং-এর নেতৃত্বাধীন ‘ন্যাশনাল ফ্রন্ট’ সরকার কেন্দ্রীয় সরকারি চাকরিতে মণ্ডল কমিশনের ২৭% সংরক্ষণ সুপারিশ কার্যকর করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। এর ফলে দেশজুড়ে, বিশেষত উত্তর ভারতের বিভিন্ন শহরে তীব্র সংরক্ষণ-বিরোধী আন্দোলন ও ছাত্র বিক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
(ii) আইনি স্বীকৃতি (‘ইন্দিরা সাহনি মামলা’): সরকারের এই সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করা হয়, যা ‘ইন্দিরা সাহনি মামলা’ নামে পরিচিতি পায়। ১৯৯২ সালের নভেম্বরে সুপ্রিম কোর্ট সরকারি চাকরিতে ও বি সি-দের ২৭% সংরক্ষণের সিদ্ধান্তকে আইনিভাবে বৈধ ঘোষণা করে।
(iii) সামাজিক শক্তির পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক ক্ষমতায়ন: মণ্ডল কমিশনের সুপারিশ বাস্তবায়ন ও বি সি জনগোষ্ঠীর মধ্যে রাজনৈতিক চেতনা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে বহুজন সমাজ পার্টি (BSP), সমাজবাদী পার্টি (SP), জনতা দল ইত্যাদি আঞ্চলিক ও ও বি সি-কেন্দ্রিক দলগুলি উত্তর ভারতের রাজনীতিতে অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে ওঠে এবং ভারতীয় প্রশাসনিক নীতিতে পিছিয়ে পড়া শ্রেণীর অংশীদারিত্ব সুনিশ্চিত হয়।
৩। ১৯৯০-এর দশকে ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদের উত্থান, অযোধ্যা বিবাদ এবং এর পরিণতি বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ১৯৯০-এর দশকে ভারতীয় রাজনীতিতে হিন্দুত্ববাদের উত্থান: ১৯৮০-র দশকে ভারতীয় জনতা পার্টি নিজস্ব রাজনৈতিক ভিত্তি শক্ত করতে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক জাতীয়তাবাদের ওপর জোর দিতে শুরু করে। ভি. ডি. সাভারকরের দেওয়া ‘হিন্দুত্ব’ ধারণাকে পাথেয় করে দলটি ভারতীয় সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়ের নতুন ব্যাখ্যা প্রদান করে। ১৯৮৫ সালের ‘শাহ বানো মামলা’ এবং পরবর্তীতে ১৯৮৬ সালে সরকারের নেওয়া ‘মুসলিম মহিলা আইন’ গ্রহণের সিদ্ধান্তকে বিজেপি সংখ্যালঘু তোষণ নীতি বলে তীব্র সমালোচনা করে।
অযোধ্যা বিবাদ:
(ক) তালা খোলার নির্দেশ: ১৯৮৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ফৈজাবাদ জেলা আদালতের এক নির্দেশনায় অযোধ্যার বিতর্কিত বাবরি মসজিদ প্রাঙ্গণের তালা খুলে দেওয়া হয়, যাতে হিন্দুরা সেখানে পূজা-অর্চনা করতে পারেন।
(খ) গণআন্দোলন ও রথযাত্রা: এই সিদ্ধান্তকে কেন্দ্র করে উভয় সম্প্রদায়ের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা ছড়ায়। বিজেপি ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদ রাম মন্দির নির্মাণের পক্ষে দেশব্যাপী রাজনৈতিক জনমত গড়ে তুলতে থাকে। ১৯৯০ সালে এল. কে. আদভানি গুজরাটের সোমনাথ থেকে অযোধ্যা পর্যন্ত বিশাল ‘রথযাত্রা’ পরিচালনা করেন।
এর পরিণতি:
(i) ৬ ডিসেম্বরের ঘটনা: ১৯৯২ সালের ৬ ডিসেম্বর দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত হাজার হাজার ‘কর সেবক’ অযোধ্যায় সমবেত হয় এবং বিতর্কিত বাবরি মসজিদ কাঠামোটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে।
(ii) সাম্প্রদায়িক সহিংসতা: এই ঘটনার পর দেশজুড়ে বিশেষত মুম্বাই ও উত্তর ভারতে তীব্র হিন্দু-মুসলিম সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে, যাতে বহু মানুষ প্রাণ হারান।
(iii) রাজনৈতিক ও আইনি পদক্ষেপ: কেন্দ্র সরকার অযোধ্যার ঘটনা তদন্তে ‘লিবারহান কমিশন’ নিয়োগ করে এবং উত্তরপ্রদেশসহ বিজেপি শাসিত রাজ্য সরকারগুলিকে বরখাস্ত করে।
(iv) ধর্মনিরপেক্ষতার ওপর বিতর্ক: এই ঘটনা ভারতের ধর্মনিরপেক্ষ নীতি ও রাষ্ট্রীয় কাঠামোর ওপর তীব্র বিতর্ক তৈরি করে এবং ভারতীয় রাজনীতিতে ধর্মীয় পরিচয়ের ব্যবহারকে এক স্পর্শকাতর রাজনৈতিক রূপ দেয়।
৪। ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পটভূমি, ঘটনাপ্রবাহ এবং দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থার ওপর এর প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গার পটভূমি,দাবানলের পটভূমি: ২০০২ সালের ২৭ ফেব্রুয়ারি গুজরাটের গোধরা রেল স্টেশনে অযোধ্যা থেকে ফেরত আসা রামসেবক ও যাত্রীবাহী ‘সাবরমতী এক্সপ্রেস’ ট্রেনের একটি বগিতে অগ্নিকাণ্ডের ভয়াবহ ঘটনা ঘটে। এই অগ্নিসংযোগে মোট ৫৭ জন মানুষ প্রাণ হারান। আশঙ্কা তৈরি হয় যে এই অগ্নিকাণ্ডটি পরিকল্পিত সহিংস আক্রমণের ফল।
ঘটনাপ্রবাহ ও সহিংসতার বিস্তার:
(ক) রাজ্যজুড়ে দাঙ্গা: গোধরা ঘটনার পরদিনই গুজরাটের বহু শহরে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে ব্যাপক হিংসাত্মক আন্দোলন ও সহিংসতা ছড়িয়ে পড়ে।
(খ) ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি: প্রায় এক মাস ধরে চলা এই সহিংসতায় প্রায় ১,১০০ জন মানুষ নিহত হন, যাঁদের বড় অংশই ছিলেন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের। হাজার হাজার মানুষ গৃহহীন হন এবং ত্রাণ শিবিরে আশ্রয় নিতে বাধ্য হন।
(গ) প্রশাসনের ব্যর্থতা ও সমালোচনা: জাতীয় মানবাধিকার কমিশন এবং দেশের নাগরিক সমাজ আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষায় গুজরাট রাজ্য সরকারের চরম ব্যর্থতার তীব্র সমালোচনা করে। পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী অটল বিহারী বাজপেয়ী রাজ্য সরকারকে ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে প্রজাদের রক্ষা করার ‘রাজধর্ম’ পালনের আহ্বান জানান।
রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রভাব:
(i) নির্বাচনী প্রক্রিয়া পিছিয়ে দেওয়া: রাজ্যে সহিংসতা ও অবিশ্বাসের বাতাবরণ তৈরির কারণে নির্বাচন কমিশন বিধানসভা নির্বাচন স্থগিত রাখার অভূতপূর্ব সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে।
(ii) সাম্প্রদায়িক রাজনীতির ঝুঁকি প্রকাশ: এই ঘটনা প্রমাণ করে যে রাজনৈতিক উদ্দেশে ধর্মীয় আবেগের অপব্যবহার ও পক্ষপাতমূলক প্রশাসনিক আচরণ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার জন্য কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।
(iii) ধর্মনিরপেক্ষতা সুসংহত করার শিক্ষা: গুজরাট দাঙ্গা স্বাধীন ভারতের রাজনীতিতে রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার এবং সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করার বিষয়টিকে পুনরায় জাতীয় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে নিয়ে আসে।
৫। ১৯৯০-এর দশক থেকে পরবর্তী সময়ে ভারতের রাজনীতিতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের মধ্যে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ঐকমত্যের প্রধান দিকগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ ১৯৯০-এর দশকের পর থেকে ভারতের বিভিন্ন জাতীয় ও আঞ্চলিক রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে প্রধান ৪টি বিষয়ে এক গভীর রাজনৈতিক ঐকমত্য গড়ে ওঠার প্রধান দিকগুলি:
(i) নতুন অর্থনৈতিক নীতির সমর্থন: ১৯৯১ সালে প্রধানমন্ত্রী পি. ভি. নরসিংহ রাও এবং অর্থমন্ত্রী ড. মনমোহন সিং-এর নেতৃত্বে সূচিত নতুন অর্থনৈতিক সংস্কার, উদারীকরণ ও বিশ্বায়নের নীতিকে প্রথম দিকে বিভিন্ন দল সমালোচনা করলেও পরবর্তীতে অধিকাংশ প্রধান রাজনৈতিক দল এটি মেনে নেয়।
(ii) অন্যান্য পশ্চাৎপদ শ্রেণীর সামাজিক ও রাজনৈতিক দাবির স্বীকৃতি: মণ্ডল কমিশন পরবর্তী রাজনীতিতে ও বি সি জনগোষ্ঠীর শিক্ষাগত, সামাজিক ও রাজনৈতিক অধিকারকে সমস্ত রাজনৈতিক দল নীতিগতভাবে মেনে নেয়। ফলে সরকারি চাকরি ও উচ্চশিক্ষায় ব্যাকওয়ার্ড ক্লাসের অধিকার রক্ষা করা এবং রাজনীতিতে তাদের উপযুক্ত প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার বিষয়ে জাতীয় স্তরে ঐকমত্য তৈরি হয়।
(iii) জাতীয় প্রশাসনে রাজ্য বা আঞ্চলিক দলগুলির ভূমিকার স্বীকৃতি: পূর্বতন এক-দলীয় আধিপত্যের ধারণা বাতিল হয়ে রাজ্য স্তরের আঞ্চলিক দলগুলির গুরুত্ব সার্বজনীনভাবে স্বীকৃত হয়। কেন্দ্র সরকার পরিচালনা এবং জোট গঠনে স্থানীয় ও আঞ্চলিক দলগুলির অংশগ্রহণ যে অপরিহার্য, তা জাতীয় দলগুলি স্পষ্ট ভাষায় মেনে নেয়।
(iv) আদর্শগত নমনীয়তা ও বাস্তবমুখী জোট রাজনীতি: পূর্বে রাজনৈতিক জোট গঠনের ক্ষেত্রে যে কঠোর আদর্শগত সংহতি বা নীতিগত মিল খোঁজা হতো, তা দূর হয়ে বাস্তববাদী উদ্দেশ্যকেন্দ্রিক জোট গঠনের সংস্কৃতি শুরু হয়। আদর্শের অমিল থাকা সত্ত্বেও বিভিন্ন দল সরকার পরিচালনা বা রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতার স্বার্থে সমঝোতায় পৌঁছাতে সমর্থ হয়—যেমন বিজেপি নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোটে বহু ধর্মনিরপেক্ষ আঞ্চলিক দলের শরিক হওয়া।

