Class 12 Political Science Important Chapter 12 পরিকল্পিত উন্নয়নের রাজনীতি

Class 12 Political Science Important Chapter 12 পরিকল্পিত উন্নয়নের রাজনীতি Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 12 পরিকল্পিত উন্নয়নের রাজনীতি Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.

Class 12 Political Science Important Chapter 12 পরিকল্পিত উন্নয়নের রাজনীতি

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 12

Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ‘পরিকল্পনা কমিশন’ ভারতে কবে এবং কীভাবে গঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৫০ সালের মার্চ মাসে ভারত সরকারের এক সাধারণ কার্যনির্বাহী সিদ্ধান্তের মাধ্যমে ‘পরিকল্পনা কমিশন’ গঠিত হয়েছিল।

২। ‘বোম্বে পরিকল্পনা’ কী এবং এটি কবে প্রস্তুত করা হয়?

উত্তরঃ ১৯৪৪ সালে ভারতের একদল বৃহৎ শিল্পপতি একত্রিত হয়ে দেশে পরিকল্পিত অর্থনীতি স্থাপনের জন্য যৌথভাবে যে খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেন, তাকে ‘বোম্বে পরিকল্পনা’ বলা হয়।

৩। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কাল কত ছিল এবং এর খসড়া তৈরিতে কোন তরুণ অর্থনীতিবিদ যুক্ত ছিলেন?

উত্তরঃ প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কাল ছিল ১৯৫১ থেকে ১৯৫৬ সাল এবং এর খসড়া তৈরিতে অর্থনীতিবিদ কে. এন. রাজ যুক্ত ছিলেন।

৪। প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় মূলত কোন ক্ষেত্রের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল?

উত্তরঃ প্রথম পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনায় প্রধানত কৃষি বিভাগ, সেচ প্রকল্প (যেমন ভাকরা-নাঙ্গাল বাঁধ) এবং ভূমিসংস্কারের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল।

৫। দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কাল কত ছিল এবং কার নেতৃত্বে এই পরিকল্পনা প্রস্তুত করা হয়েছিল?

উত্তরঃ দ্বিতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনার সময়কাল ছিল ১৯৫৬ থেকে ১৯৬১ সাল এবং প্রখ্যাত অর্থনীতিবিদ ও পরিসংখ্যানবিদ পি. সি. মহালানবিশের নেতৃত্বে এটি প্রস্তুত করা হয়েছিল।

৬। পি. সি. মহালানবিশ কত সালে এবং কোন বিখ্যাত প্রতিষ্ঠানটি প্রতিষ্ঠা করেন?

উত্তরঃ পি. সি. মহালানবিশ ১৯৩১ সালে ‘ইন্ডিয়ান স্ট্যাটিস্টিক্যাল ইনস্টিটিউট’ প্রতিষ্ঠা করেন।

৭। ‘ইকোনমি অফ পার্মানেন্স’ গ্রন্থের লেখক কে ছিলেন?

উত্তরঃ ‘ইকোনমি অফ পার্মানেন্স’ গ্রন্থের লেখক ছিলেন গান্ধীবাদী অর্থনীতিবিদ জে. সি. কুমারপ্পা।

৮। ভারতের ‘মিশ্র অর্থনীতি’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ ভারতের মিশ্র অর্থনীতি বলতে এমন এক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা বোঝায়, যেখানে পুঁজিবাদী ও সমাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার সমন্বয়ে সরকারি ও বেসরকারি উভয় ক্ষেত্রকেই যৌথভাবে স্থান দেওয়া হয়েছে।

৯। ‘কেরালা মডেল’ কীসের সাথে সম্পর্কিত?

উত্তরঃ ‘কেরালা মডেল’ বলতে কেরালা রাজ্যে গৃহীত পঞ্চায়েতভিত্তিক বিকেন্দ্রীকৃত পরিকল্পিত উন্নয়নকে বোঝায়, যেখানে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, ভূমিসংস্কার ও দারিদ্র্য দূরীকরণের ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল।

১০। ১৯৬০-এর দশকে ভারতের কোন রাজ্যে খাদ্যাভাব ও খরা সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছিল?

উত্তরঃ ১৯৬০-এর দশকে ভারতের বিহার রাজ্যে খাদ্যাভাব ও খরা সবচেয়ে তীব্র রূপ ধারণ করেছিল।

১১। ভারতের ‘সবুজ বিপ্লব’ বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ কৃষিক্ষেত্রে খাদ্য স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যে সরকার কর্তৃক উচ্চফলনশীল বীজ, সার, কীটনাশক ও সেচ ব্যবস্থার জন্য ভর্তুকি প্রদান করে খাদ্যশস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি করার কৌশলকে ‘সবুজ বিপ্লব’ বলা হয়।

১২। ‘ভারতের দুধওয়ালা’ নামে কে পরিচিত ছিলেন এবং তিনি কোন আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন?

উত্তরঃ ‘ভারতের দুধওয়ালা’ নামে পরিচিত ছিলেন ভার্গিস কুরিয়েন এবং তিনি আমুল দুগ্ধ সমবায় আন্দোলনের সাথে যুক্ত ছিলেন।

১৩। ‘অপারেশন ফ্লাড’ কবে চালু হয় এবং এটি কোন বিপ্লবের সাথে সম্পর্কিত?

উত্তরঃ ‘অপারেশন ফ্লাড’ ১৯৭০ সালে চালু হয় এবং এটি দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি ও গ্রামীণ উন্নয়নের জন্য পরিচালিত ‘শ্বেত বিপ্লব’-এর সাথে সম্পর্কিত।

১৪। ভারতের পরিকল্পনায় ‘প্ল্যান হলিডে’ বা পরিকল্পনা স্থগিত রাখার ঘটনা কবে ঘটেছিল?

উত্তরঃ ১৯৬৬ সালে তীব্র অর্থনৈতিক সংকট ও সম্পদ ঘাটতির কারণে সরকার চতুর্থ পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত রেখেছিল।

১৫। ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতির বার্ষিক বৃদ্ধির হার আনুমানিক কত শতাংশ ছিল?

উত্তরঃ ১৯৬০ থেকে ১৯৮০ সালের মধ্যে ভারতীয় অর্থনীতির বার্ষিক বৃদ্ধির হার ছিল আনুমানিক ৩ থেকে ৩.৫ শতাংশ।

দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের সামনে উন্নয়নের কোন দুটি মডেল উপস্থিত ছিল এবং ভারতের জাতীয় নেতৃবৃন্দ কোন অর্থনৈতিক পথ বেছে নিয়েছিলেন?

উত্তরঃ স্বাধীনতার প্রাক্কালে ভারতের সামনে উন্নয়নের দুটি প্রধান মডেল উপস্থিত ছিল— একটি হলো উদার পুঁজিবাদী মডেল, যা পশ্চিম ইউরোপ ও যুক্তরাষ্ট্রে প্রচলিত ছিল, এবং অপরটি হলো সমাজতান্ত্রিক মডেল, যা সংহত সোভিয়েত ইউনিয়নে প্রচলিত ছিল।

ভারতে কমিউনিস্ট ও সমাজতান্ত্রিক নেতাদের পাশাপাশি পণ্ডিত জওহরলাল নেহেরু সহ বহু কংগ্রেস নেতাও সমাজতান্ত্রিক মডেলের দ্বারা গভীরভাবে প্রভাবিত ছিলেন। তবে ভারত এই দুটি মডেলের কোনোটিকেই হুবহু গ্রহণ না করে ‘মিশ্র অর্থনীতি’-র পথ বেছে নিয়েছিল, যেখানে রাষ্ট্রীয় বা সরকারি ক্ষেত্রের নিয়ন্ত্রণ যেমন বজায় রাখা হয়েছিল, তেমনি বেসরকারি ক্ষেত্রকেও বিকাশের সুযোগ দেওয়া হয়েছিল।

২।  স্বাধীনোত্তর ভারতে পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রধান আর্থ-সামাজিক রাজনৈতিক ও

ফলাফলগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ স্বাধীনোত্তর ভারতে পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রধান রাজনৈতিক ও আর্থ-সামাজিক ফলাফলগুলি আলোচনা করা হলো:

আর্থ-সামাজিক ফলাফল:  

(i) অর্থনৈতিক অবকাঠামো ও ভারী শিল্পের ভিত্তি নির্মাণ: পরিকল্পিত উন্নয়নের প্রথম পর্যায়ে ভারতের ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মূল অবকাঠামোগত ভিত্তি তৈরি হয়। সেচ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের জন্য ভাকরা-নাঙ্গাল ও হিরাকুদের মতো মেগা বাঁধ প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়।

(ii) ভূমি সংস্কার ও তার বাস্তব চিত্র: কৃষিক্ষেত্রে ঔপনিবেশিক শোষণের অবসান ঘটাতে জমিদারি প্রথা বিলুপ্ত করা হয়, যা ভূস্বামীদের রাজনৈতিক কর্তৃত্ব হ্রাস করতে সাহায্য করেছিল। এছাড়া ছোট ছোট জমি জোত একত্রীকরণ এবং কৃষিজমির ঊর্ধ্বসীমা নির্ধারণের জন্য আইন পাস হয়। তবে গ্রামীণ ভূস্বামী ও প্রভাবশালী গোষ্ঠী আইনি ফাঁকফোকর ব্যবহার করে এসব আইন এড়িয়ে যায়, ফলে প্রকৃত ভূমিহীন কৃষকদের হাতে জমি পৌঁছায়নি এবং অধিকাংশ সংস্কার কেবল কাগজে-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে যায়।

(iii) সবুজ বিপ্লব, আঞ্চলিক বৈষম্য ও শ্রেণি বৈষম্য: ১৯৬০-এর দশকের খাদ্যাভাব কাটাতে শুরু হওয়া সবুজ বিপ্লব দেশকে গমের উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ করলেও এর সামাজিক প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। সবুজ বিপ্লবের সুফল মূলত ধনী ভূস্বামী ও বড় কৃষকদের হাতে পৌঁছেছিল।

রাজনৈতিক ফলাফল:

(i) মধ্যবর্তী কৃষক শ্রেণি ও নতুন রাজনৈতিক শক্তির উত্থান: সবুজ বিপ্লবের ফলে গ্রামীণ ভারতে মাঝারি আকারের জমির মালিক বা ‘মধ্যবর্তী কৃষক শ্রেণি’ অর্থনৈতিকভাবে লাভবান হয়। ১৯৭০-এর দশক থেকে এই সচ্ছল কৃষক শ্রেণি সংগঠিত হতে শুরু করে এবং ভারতের আঞ্চলিক ও জাতীয় রাজনীতিতে এক অত্যন্ত প্রভাবশালী রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।

(ii) রাষ্ট্রের ভূমিকা বৃদ্ধি ও রাজনৈতিক বিতর্ক: ১৯৬০-এর দশকের শেষের দিকে (বিশেষ করে ইন্দিরা গান্ধীর শাসনামলে) ব্যাঙ্ক জাতীয়করণ এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের ওপর নানা বিধিনিষেধ আরোপের মাধ্যমে অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ চরম মাত্রায় বৃদ্ধি পায়। ডানপন্থী গোষ্ঠীগুলি লাইসেন্স-পারমিট ব্যবস্থার মাধ্যমে আমলাতান্ত্রিক দুর্নীতি ও অদক্ষতার তীব্র সমালোচনা করে, অন্যদিকে বামপন্থীরা অভিযোগ করে যে রাষ্ট্র শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে পর্যাপ্ত ব্যয় না করে ধনী শিল্পপতি ও ভূস্বামীদের স্বার্থ রক্ষা করছে।

(iii) কৃষক ও বামপন্থী সংগঠনগুলির বিস্তার: ভূমি সংস্কারের ব্যর্থতা এবং গ্রামীণ দারিদ্র্যের কারণে বহু এলাকায় দরিদ্র কৃষক ও ক্ষেতমজুরদের অসন্তোষ বৃদ্ধি পায়। এর ফলে দেশে বিভিন্ন বামপন্থী দল ও কৃষক সংগঠন দরিদ্র কৃষক ও ভূমিহীনদের সংগঠিত করার রাজনৈতিক সুযোগ পায়।

৩। স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ‘কৃষি বনাম শিল্প’ বিতর্কের মূল বক্তব্যগুলি কী ছিল?

উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের অর্থনৈতিক উন্নয়নে ‘কৃষি বনাম শিল্প’ বিতর্কের মূল বক্তব্যগুলি: 

পরিকল্পনা শুরুর পর থেকেই অর্থনৈতিক নীতি নির্ধারণে কৃষি ও শিল্পের অগ্রাধিকার নিয়ে নীতিপ্রণেতাদের মধ্যে তীব্র তর্ক বিতর্ক দেখা দেয়।

(i) গান্ধীবাদী অর্থনীতিবিদ জে. সি. কুমারপ্পার মতো চিন্তাবিদরা মনে করতেন যে, গ্রামীণ শিল্পায়ন ও কৃষির উন্নয়নে বেশি অর্থ বরাদ্দ না করলে গ্রামীণ দারিদ্র্য দূর করা সম্ভব নয়।

(ii) চৌধুরী চরণ সিংহের মতো নেতারাও যুক্তি দিয়েছিলেন যে, শিল্পের চেয়ে কৃষিতে জাতীয় সম্পদ বেশি নিয়োজিত করা উচিত, কারণ ভারত একটি কৃষিপ্রধান দেশ।

(iii) অন্যদিকে, শিল্পায়নের সমর্থকরা মনে করতেন যে, দারিদ্র্যের চক্র থেকে মুক্তি পেতে হলে শিল্পোৎপাদন বৃদ্ধি করা অনিবার্য এবং এটি রূপায়িত না হলে কৃষির ওপর বাড়তি জনসংখ্যার চাপ কমবে না।

৪। ১৯৬০-এর দশকের বিহারের খাদ্য সংকট এবং ভারতের ‘সবুজ বিপ্লব’-এর পটভূমি ও ফলাফল আলোচনা করো।

উত্তরঃ বিহারের খাদ্য সংকট: ১৯৬০-এর দশকে বিহারে খাদ্যাভাব সবচেয়ে করুণ রূপ ধারণ করে।

(i) উৎপাদন হ্রাস: বিহারের প্রায় ৯টি জেলায় খাদ্যশস্যের উৎপাদন স্বাভাবিকের তুলনায় অর্দেকেরও নিচে নেমে যায়।

(ii) পুষ্টি ও মৃত্যুর হার: মানুষের দৈনিক গড় ক্যালোরি গ্রহণ ২,২০০ থেকে কমে ১,২০০-তে নেমে আসে (যেখানে স্বাভাবিক প্রয়োজন ছিল ২,৪৫০)। ১৯৬৭ সালে বিহারে মৃত্যুর হার পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ৩৪% বৃদ্ধি পায়।

(iii) আঞ্চলিক নিষেধাজ্ঞা: রাজ্যগুলির মধ্যে খাদ্যের বাণিজ্য নিষিদ্ধ থাকায় বাইরের রাজ্য থেকে সহজে বিহারে চাল-গম পৌঁছাতে পারেনি, ফলে খাদ্যদ্রব্যের দাম হু হু করে বেড়ে যায়। ভারত সরকারকে বাধ্য হয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের PL- 480 চুক্তির অধীনে গম আমদানি করে পরিস্থিতি সামাল দিতে হয়।

সবুজ বিপ্লবের পটভূমি: বিদেশি সাহায্যের ওপর নির্ভরশীলতা দেশের সার্বভৌমত্ব ও অর্থনৈতিক নীতিকে ঝুঁকিতে ফেলছিল। এই চরম অসম্মানজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের লক্ষ্যেই সরকার কৃষিনীতিতে এক আমূল পরিবর্তন আনে, যা ‘সবুজ বিপ্লব’ নামে পরিচিত।

সবুজ বিপ্লবের ফলাফল:

ইতিবাচক ফলাফল: 

(i) ভারত খাদ্যে, বিশেষত গম উৎপাদনে দ্রুত স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করে এবং বিদেশি নির্ভরতা মুক্ত হয়। 

(ii) ধনী ও মাঝারি কৃষকদের অর্থনৈতিক অবস্থার উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটে।

নেতিবাচক ফলাফল: 

(i) আঞ্চলিক বৈষম্য: পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও পশ্চিম উত্তর প্রদেশ অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ হয়, কিন্তু বিহার, ওড়িশার মতো পিছিয়ে পড়া অঞ্চলগুলি বঞ্চিত থেকে যায়। 

(ii) সামাজিক মেরুকরণ: বড় জোতদার ও ধনী কৃষকরাই এর সিংহভাগ সুবিধা পায়, ফলে গ্রামীণ ভারতে দরিদ্র কৃষক ও ধনী স্বত্বাধিকারীদের মধ্যে ব্যবধান আরও বেড়ে যায়।

৫। ভারতে ‘শ্বেত বিপ্লব’ কী এবং আমুল-এর সমবায় আন্দোলনের ভূমিকা আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতে দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি, গ্রামীণ অর্থনীতির বিকাশ এবং সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে দুগ্ধচাষীদের স্বাবলম্বী করে তোলার যে অভূতপূর্ব আন্দোলন গড়ে উঠেছিল, তাকে ‘শ্বেত বিপ্লব’ বলা হয়।

আমুল-এর সমবায় আন্দোলনের ভূমিকা: স্বাধীনোত্তর ভারতে গ্রামীণ অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করা, দুগ্ধ উৎপাদন বৃদ্ধি করা এবং সমবায় ব্যবস্থার মাধ্যমে ক্ষুদ্র দুগ্ধ চাষীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলার ক্ষেত্রে ‘আমুল’এক ঐতিহাসিক বিপ্লব ঘটিয়েছিল। গুজরাটের একটি আঞ্চলিক উদ্যোগ হিসেবে যাত্রা শুরু করে আমুল যেভাবে সর্বভারতীয় ‘শ্বেত বিপ্লব’-এর রূপ নিয়েছিল, তা বিশ্ব ইতিহাসে সমবায় আন্দোলনের এক অনন্য দৃষ্টান্ত।

(i) আমুল সমবায় আন্দোলনের সূচনা ও সাংগঠনিক ভিত্তি:

উৎপত্তি ও কেন্দ্র: গুজরাটের আনন্দ শহরকে কেন্দ্র করে এই ডেইরি সমবায় আন্দোলনের বিকাশ ঘটে।

প্রতিষ্ঠান ও সদস্য সংখ্যা: ‘গুজরাট মিল্ক কো-অপারেটিভ মার্কেটিং ফেডারেশন লিমিটেড’-এর অধীনে প্রায় আড়াই মিলিয়ন (২৫ লাখ) দুগ্ধ উৎপাদককে এক ছাতার তলায় সুসংগঠিত করা হয়।

কৃষকদের মালিকানা: দুগ্ধ চাষীরা নিজেরাই নিজেদের উৎপাদিত দুধের প্রক্রিয়াকরণ ও বাজারজাতকরণের মালিক হয়ে ওঠেন, যা গ্রামীণ অর্থনীতিতে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছিল।

(ii) মধ্যস্বত্বভোগীদের অবসান ও অর্থনৈতিক স্থায়িত্ব:

দালাল শ্রেণীর শোষণ রোধ: প্রচলিত ব্যবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালরা দুগ্ধ চাষীদের কম দাম দিয়ে বিপুল মুনাফা লুটত। আমুল সমবায় আন্দোলন এই দালাল শ্রেণীকে সম্পূর্ণ নির্মূল করে দুগ্ধ উৎপাদক এবং চূড়ান্ত গ্রাহকদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ স্থাপন করে।

স্থায়ী আয়ের নিশ্চয়তা: উৎপাদিত দুধের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করার পাশাপাশি গ্রামীণ পরিবারগুলির জন্য সারা বছর ধরে একটি নিয়মিত ও স্থায়ী আয়ের বন্দোবস্ত করা সম্ভব হয়।

(iii) ভার্গিস কুরিয়েন ও ‘অপারেশন ফ্লাড’:

‘ভারতের দুধওয়ালা’: আমুলের এই অভূতপূর্ব সাফল্যের মূল কারিগর ও রূপকার ছিলেন ভার্গিস কুরিয়েন। আমুলকে একটি পেশাদার ও লাভজনক প্রতিষ্ঠানে পরিণত করার ক্ষেত্রে প্রধান ভূমিকা পালনের জন্য তাঁকে শ্রদ্ধার সাথে ‘ভারতের দুধওয়ালা’ হিসেবে ভূষিত করা হয়।

জাতীয় মিল্ক গ্রিড ও অপারেশন ফ্লাড: আমুল মডেলের বিপুল সাফল্য দেখে ১৯৭০ সালে ভারত সরকার ‘অপারেশন ফ্লাড’ নামক এক দেশব্যাপী গ্রামীণ উন্নয়ন কার্যক্রম শুরু করে। এর মাধ্যমে সারাদেশে বিভিন্ন আঞ্চলিক ডেইরি সমবায়কে যুক্ত করে একটি ‘জাতীয় মিল্ক গ্রিড’ গড়ে তোলা হয়।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top