Class 12 Political Science Important Chapter 11 এক দলীয় প্রাধান্যের যুগ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 11 এক দলীয় প্রাধান্যের যুগ Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 11 এক দলীয় প্রাধান্যের যুগ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
এক দলীয় প্রাধান্যের যুগ
Chapter: 11
| Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ভারতের সংবিধান কত তারিখে গৃহীত হয়েছিল এবং এটি কবে থেকে কার্যকর হয়?
উত্তরঃ ভারতের সংবিধান ১৯৪৯ সালের ২৬ শে নভেম্বর গৃহীত হয়েছিল এবং ১৯৫০ সালের ২৬ শে জানুয়ারি এটি আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যকর হয়।
২। স্বাধীন ভারতের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার কে ছিলেন?
উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের প্রথম মুখ্য নির্বাচন কমিশনার ছিলেন সুকুমার সেন।
৩। ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে মোট যোগ্য ভোটার কতজন ছিলেন এবং তাঁদের মধ্যে কত শতাংশ স্বাক্ষর ছিলেন?
উত্তরঃ ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে মোট যোগ্য ভোটার ছিলেন প্রায় ১৭ কোটি এবং তাঁদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ স্বাক্ষর ছিলেন।
৪। প্রথম সাধারণ নির্বাচনে লোকসভার কতগুলি আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল?
উত্তরঃ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে লোকসভার ৪৮৯টি আসনে প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল।
৫। প্রথম সাধারণ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায় কতজন মহিলার নাম সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি?
উত্তরঃ প্রথম সাধারণ নির্বাচনের খসড়া ভোটার তালিকায় প্রায় ৪০ লক্ষ মহিলার নাম সঠিকভাবে লিপিবদ্ধ হয়নি।
৬। প্রথম সাধারণ নির্বাচনকে একজন ভারতীয় সম্পাদক কী বলে অভিহিত করেছিলেন?
উত্তরঃ প্রথম সাধারণ নির্বাচনকে একজন ভারতীয় সম্পাদক “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়া খেলা” বলে অভিহিত করেছিলেন।
৭। স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় কে শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন?
উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচনের পর গঠিত প্রথম মন্ত্রিসভায় মাওলানা আবুল কালাম আজাদ শিক্ষামন্ত্রী ছিলেন।
৮। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস লোকসভার ৪৮৯টি আসনের মধ্যে কয়টি আসনে জয়লাভ করেছিল?
উত্তরঃ ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস লোকসভার ৪৮৯টি আসনের মধ্যে ৩৬ ৪টি আসনে জয়লাভ করেছিল।
৯। প্রথম সাধারণ নির্বাচনে লোকসভায় আসন সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল কোনটি ছিল?
উত্তরঃ প্রথম সাধারণ নির্বাচনে লোকসভায় আসন সংখ্যার দিক থেকে দ্বিতীয় বৃহত্তম রাজনৈতিক দল ছিল ভারতের কমিউনিস্ট পার্টি তারা মোট ১৬টি আসন পেয়েছিল।
১০। কেরালা বিধানসভা নির্বাচনে কত সালে কমিউনিস্ট পার্টি গণতান্ত্রিকভাবে সরকার গঠন করে এবং মুখ্যমন্ত্রী কে হন?
উত্তরঃ ১৯৫৭ সালের মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে জয়ী হয়ে কেরালায় কমিউনিস্ট পার্টি সরকার গঠন করে এবং ই. এম. এস. নাম্বুদিরিপাদ মুখ্যমন্ত্রী হন।
১১। কত সালে সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে কেরালার নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকারকে বরখাস্ত করা হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৫৯ সালে সংবিধানের ৩৫৬ নম্বর ধারা প্রয়োগ করে কেরালার নির্বাচিত কমিউনিস্ট সরকারকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
১২। কংগ্রেস সোশালিস্ট পার্টি কত সালে মূল কংগ্রেস দল থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে?
উত্তরঃ ১৯৪৮ সালে কংগ্রেস সোশালিস্ট পার্টি মূল কংগ্রেস দল থেকে পৃথক হয়ে স্বতন্ত্র দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে।
১৩। ভারতীয় জনসংঘ কত সালে এবং কার সভাপতিত্বে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৫১ সালে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সভাপতিত্বে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
১৪। সি. রাজাগোপালাচারীর নেতৃত্বে কত সালে ‘স্বতন্ত্র পার্টি’ গঠিত হয়?
উত্তরঃ ১৯৫৯ সালের আগস্ট মাসে সি. রাজাগোপালাচারীর নেতৃত্বে ‘স্বতন্ত্র পার্টি’ গঠিত হয়।
১৫। ভারতের সমস্ত সাধারণ নির্বাচনে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার কবে থেকে শুরু হয়?
উত্তরঃ ২০০৪ সালের সাধারণ নির্বাচন থেকে ভারতের সমস্ত ক্ষেত্রে পুরোপুরি ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিন ব্যবহার শুরু হয়।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন পরিচালনার ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশনকে কী কী বড় চ্যালেঞ্জ বা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল?
উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের প্রথম সাধারণ নির্বাচন পরিচালনা করা নির্বাচন কমিশনের জন্য একটি অভূতপূর্ব বড় চ্যালেঞ্জ বা পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হয়েছিল:
(i) ভৌগোলিক পরিধি ও নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ: ভারতের মতো বিশাল আয়তনের দেশে ১৭ কোটি যোগ্য ভোটারের জন্য নতুন করে প্রতিটি নির্বাচনী কেন্দ্রের সীমানা নির্ধারণ করা অত্যন্ত জটিল কাজ ছিল। এই ১৭ কোটি ভোটারকে নিয়ে সারা দেশে ৩,২০০ জন বিধানসভা সদস্য এবং ৪৮৯ জন লোকসভা সদস্য নির্বাচিত করার বিশাল প্রশাসনিক প্রস্তুতি নিতে হয়েছিল।
(ii) ভোটার তালিকা প্রস্তুতকরণ ও নারী ভোটারের নাম বিভ্রাট: সারাদেশের যোগ্য ভোটারদের তালিকা তৈরি করা ছিল এক বিশাল কর্মযজ্ঞ। প্রথম খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশের পর দেখা যায়, প্রায় ৪০ লক্ষ মহিলার নিজস্ব নাম নথিভুক্ত না হয়ে কেবল ‘অমুকের স্ত্রী’ বা ‘অমুকের কন্যা’ হিসেবে লিপিবদ্ধ হয়েছিল।
(iii) ব্যাপক নিরক্ষরতা ও অভিনব ভোটদান পদ্ধতি: নির্বাচনের সময়ে দেশের ভোটারদের মধ্যে মাত্র ১৪ শতাংশ মানুষ স্বাক্ষর ছিলেন। ফলে প্রথাগত ব্যালট কাগজে নাম পড়ে ভোট দেওয়া অধিকাংশ মানুষের পক্ষে সম্ভব ছিল না। এই সমস্যা সমাধানে কমিশন প্রতিটি প্রার্থীর জন্য আলাদা নির্বাচনী প্রতীক নির্ধারণ করে এবং প্রতিটি প্রার্থীর জন্য আলাদা স্টিলের ব্যালট বাক্স রাখার সিদ্ধান্ত নেয়।
(iv) বিপুল সংখ্যক নির্বাচনী কর্মী ও আধিকারিকদের প্রশিক্ষণ: একটি নতুন গণতান্ত্রিক দেশে নির্বাচন পরিচালনার জন্য প্রিসাইডিং অফিসার, পোলিং অফিসারসহ লক্ষ লক্ষ দক্ষ কর্মীর প্রয়োজন ছিল। নির্বাচন কমিশনকে ৩ লক্ষের চেয়েও বেশি আধিকারিক ও নির্বাচনী কর্মীকে বিশেষ প্রশিক্ষণ দিয়ে গড়ে তুলতে হয়েছিল।
(v) আন্তর্জাতিক সংশয় ও সামাজিক চ্যালেঞ্জ: সেই সময়ে এশিয়া বা ইউরোপের বহু উন্নত দেশেও সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকার পুরোপুরি কার্যকর হয়নি বা নারীদের সমান অধিকার ছিল না।
ফলে দারিদ্র্য ও নিরক্ষরতায় ভরা ভারতে এই ব্যবস্থা প্রয়োগকে বিশ্বজুড়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ মনে করা হয়েছিল:
একজন ভারতীয় সম্পাদক একে “ইতিহাসের সবচেয়ে বড় জুয়া খেলা” বলে আখ্যা দেন।
‘অর্গানাইজার’ নামক সাময়িকপত্র দাবি করেছিল যে জওহরলাল নেহরু তাঁর জীবদ্দশাতেই সার্বজনীন ভোটাধিকারের ব্যর্থতা প্রত্যক্ষ করবেন।
২। স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস দলের বিপুল সাফল্য ও আধিপত্যের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের প্রথম তিনটি সাধারণ নির্বাচনে কংগ্রেস দলের বিপুল সাফল্য ও আধিপত্যের প্রধান কারণগুলি আলোচনা করা হলো:
১। স্বাধীনতা সংগ্রামের ঐতিহাসিক উত্তরাধিকার ও সুপরিচিতি: কংগ্রেসের অসাধারণ সাফল্যের মূল ভিত্তি ছিল স্বাধীনতা সংগ্রামের দীর্ঘ উত্তরাধিকার। ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস স্বাধীনতার লড়াইয়ে নেতৃত্বদানকারী প্রধান দল হওয়ায় সাধারণ মানুষের কাছে এটি অত্যন্ত পরিচিত নাম ছিল এবং জাতীয় আন্দোলনের প্রধান ধারক হিসেবে সমাজে সুপ্রতিষ্ঠিত ছিল।
২। ‘প্রথম শুরু করার’ সাংগঠনিক সুবিধা: স্বাধীনতার সময়ে একমাত্র কংগ্রেসেরই দলীয় ও সাংগঠনিক জাল দেশের দৈর্ঘ্য ও প্রস্থজুড়ে, এমনকি একদম গ্রাম বা তৃণমূল পর্যায় পর্যন্ত বিস্তৃত ছিল। অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলি যখন স্বাধীনতার ঠিক আগে বা পরে গঠিত হচ্ছিল, তখন কংগ্রেস আগে থেকেই সুসংগঠিতভাবে ছড়িয়ে থাকার কারণে নির্বাচনী প্রচারে ‘প্রথম শুরু করার’ অসামান্য সুবিধা পেয়েছিল।
৩। জনপ্রিয় ও প্রখ্যাত নেতৃত্ব: কংগ্রেস দলে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর মতো অত্যন্ত জনপ্রিয় ও সর্বমান্য নেতাসহ স্বাধীনতা সংগ্রামের সামনের সারির বহু প্রখ্যাত নেতা প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। দেশজুড়ে নেহরুর মতো ক্যারিশম্যাটিক নেতৃত্বের প্রভাব সাধারণ ভোটারদের ব্যাপকভাবে আকর্ষণ করেছিল।
৪। কংগ্রেসের সামাজিক ও আদর্শগত মেলবন্ধন: কংগ্রেস কেবল একটি দল ছিল না, বরং এটি কৃষক, শ্রমিক, শিল্পপতি, শহুরে ও গ্রামীণ জনগণ, উচ্চবর্ণ ও নিম্নবর্ণ—সকলকে যুক্ত করে একটি সুবিশাল সামাজিক মেলবন্ধনে পরিণত হয়েছিল। একই সাথে দলটির ভেতরে প্রগতিশীল, রক্ষণশীল, চরমপন্থী, নরমপন্থী ও সোশালিস্টসহ নানা আদর্শের মানুষের স্থান থাকায় সমাজের প্রায় সব ধরনের মানুষ কংগ্রেসকে নিজেদের দল বলে মনে করতো।
৩। কংগ্রেস দলকে কেন একটি “সামাজিক ও আদর্শগত জোট বা কোয়ালিশন” বলে বর্ণনা করা হয়?
উত্তরঃ ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস দলকে প্রধানত নিম্নলিখিত কারণগুলির জন্য একটি “সামাজিক ও আদর্শগত জোট বা কোয়ালিশন” বলে বর্ণনা করা হয়:
(i) সামাজিক মেলবন্ধন: ১৮৮৫ সালে প্রতিষ্ঠার সময়ে কংগ্রেস প্রধানত উচ্চবিত্ত, ইংরেজি-শিক্ষিত ও শহুরে পেশাজীবীদের একটি চাপ সৃষ্টিকারী গোষ্ঠী হিসেবে শুরু হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তীকালে জাতীয় আন্দোলনের হাত ধরে এটি কৃষক, শ্রমিক, শিল্পপতি, গ্রামীণ ও শহুরে জনগণ, উচ্চ ও নিম্ন বর্ণ এবং বিভিন্ন সামাজিক শ্রেণির এক সুবিশাল সামাজিক মেলবন্ধনে পরিণত হয়।
(ii) আদর্শগত বৈচিত্র্য ও সহনশীলতা: কংগ্রেস একক কোনো নির্দিষ্ট ভাবধারায় আবদ্ধ ছিল না। এর ছাতার তলায় শান্তিবাদী, বিপ্লবী, রক্ষণশীল, প্রগতিশীল, চরমপন্থী, নরমপন্থী, সমাজতান্ত্রিক এবং দক্ষিণপন্থী—সব ধরনের রাজনৈতিক মতাদর্শের মানুষ ও গোষ্ঠী অবস্থান করার সুযোগ পেয়েছিল।
(iii) অভ্যন্তরীণ উপদলীয় ভারসাম্য: কংগ্রেসের কোয়ালিশনভিত্তিক কাঠামোর কারণে দলের ভেতরে একাধিক অভ্যন্তরীণ উপদল গড়ে উঠেছিল। বিরোধ বা ভিন্ন মত দেখা দিলে নেতারা দল ত্যাগ না করে দলের ভেতরে থেকেই নিজস্ব দাবি ও মতাদর্শ প্রকাশের সুযোগ পেতেন। এর ফলে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ উপদলগুলিই বিরোধীদের মতো কাজ করে নীতি নির্ধারণে ভারসাম্য বজায় রাখতো।
(iv) সমঝোতা ও সমন্বয়ের নীতি: বিচিত্র সামাজিক ও আদর্শগত শ্রেণি যুক্ত থাকার ফলে কংগ্রেস কোনো চরম অবস্থান নেওয়ার পরিবর্তে আলোচনা, আপোশ ও সহনশীলতার মাধ্যমে সর্বজনগ্রাহ্য মধ্যপন্থা বা ঐকমত্যে পৌঁছাতে সক্ষম হতো।
৪। ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি আসনে কতজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন এর বিস্তারিত আলোচনা করো?
উত্তরঃ ১৯৫২ সালের প্রথম সাধারণ নির্বাচনে গড়ে প্রতি আসনে ৪ জন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। এই নির্বাচনটি অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক এবং ভারতের গণতান্ত্রিক ইতিহাসে একটি যুগান্তকারী ঘটনা ছিল।
এর বিস্তারিত আলোচনা হলো:
(i) ব্যাপক প্রতিদ্বন্দ্বিতা ও প্রার্থীর সংখ্যা: ১৯৫২ সালের সাধারণ নির্বাচনে লোকসভার ৪৮৯টি আসন এবং বিভিন্ন রাজ্যের বিধানসভাগুলির প্রায় ৩,২০০টি আসনের জন্য প্রতিনিধি নির্বাচনের ব্যবস্থা করা হয়। সারা দেশজুড়ে গড়ে প্রতিটি আসন-পিছু চারজন করে প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় অবতীর্ণ হওয়ায় নির্বাচনটি একটি তীব্র ও উন্মুক্ত প্রতিযোগিতায় রূপ নেয়।
(ii) নির্বাচনের সময়সীমা ও ব্যাপ্তি: তৎকালীন সময়ে দেশের ভৌগোলিক ও সামাজিক পরিস্থিতির কারণে নির্বাচন পরিচালনা অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ ছিল। ১৯৫১ সালের অক্টোবর থেকে ১৯৫২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচনী প্রচার, ভোটাভুটি গ্রহণ এবং ভোট গণনা চূড়ান্তভাবে শেষ করতে দীর্ঘ চার মাস সময় লেগেছিল।
(iii) সাধারণ মানুষের আশাব্যঞ্জক অংশগ্রহণ: সেই সময়ে দেশের প্রায় ৮৬ শতাংশ ভোটার নিরক্ষর থাকা সত্ত্বেও জনগণের অংশগ্রহণের হার ছিল অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। দেশের মোট ১৭ কোটি যোগ্য ভোটারের মধ্যে অর্ধেকেরও বেশি (৫০%-এর বেশি) মানুষ নির্বাচনের দিন ভোটকেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে স্বতঃস্ফূর্তভাবে তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন।
(iv) নির্বাচনের নিরপেক্ষতা ও স্বীকৃতি: নির্বাচনের ফলাফল ঘোষিত হওয়ার পর সমস্ত বিতর্ক ও সংশয়ের অবসান ঘটে। পরাজিত প্রার্থী ও দলগুলিও এই নির্বাচনকে সম্পূর্ণ অবাধ, নিরপেক্ষ ও পক্ষপাতহীন বলে মেনে নেয়, যা ভারতে বহুদলীয় গণতন্ত্র ও সুষ্ঠু নির্বাচন ব্যবস্থার ভিত্তি মজবুত করেছিল।
৫। স্বাধীন ভারতের প্রাথমিক পর্বে গঠিত প্রধান তিনটি বিরোধী দল—সোশালিস্ট পার্টি, ভারতীয় জনসংঘ এবং স্বতন্ত্র পার্টির মূল নীতি ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।
উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের প্রাথমিক পর্বে গঠিত প্রধান তিনটি বিরোধী দল—সোশালিস্ট পার্টি, ভারতীয় জনসংঘ এবং স্বতন্ত্র পার্টির মূল নীতি ও বৈশিষ্ট্য আলোচনা করা হলো:
(i) সোশালিস্ট পার্টি (সমাজতান্ত্রিক দল):
উৎপত্তি ও আদর্শ: ১৯৪৮ সালে কংগ্রেসের অভ্যন্তরীণ গঠনতন্ত্র পরিবর্তনের পর সোশালিস্ট পার্টি মূল কংগ্রেস থেকে পৃথক হয়ে আলাদা দল গঠন করে। তারা মূলত ‘গণতান্ত্রিক সমাজবাদে’ বিশ্বাসী ছিল।
মূল নীতি: সোশালিস্ট পার্টি কংগ্রেস সরকারকে পুঁজিবাদী ও জমিদারশ্রেণির সমর্থক হিসেবে সমালোচনা করতো এবং কৃষক ও শ্রমিকদের স্বার্থ উপেক্ষার অভিযোগ তুলতো।
প্রধান নেতৃত্ব: আচার্য নরেন্দ্র দেব, জয়প্রকাশ নারায়ণ, রামমনোহর লোহিয়া এবং অশোক মেহতা ছিলেন এই দলের অন্যতম প্রধান নেতা।
(ii) ভারতীয় জনসংঘ:
প্রতিষ্ঠা ও আদর্শ: ১৯৫১ সালে ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জীর সভাপতিত্বে ভারতীয় জনসংঘ প্রতিষ্ঠিত হয়। এটি ‘এক দেশ, এক সংস্কৃতি, এক জাতি’ ধারণায় গভীরভাবে বিশ্বাসী ছিল।
মূল নীতি: দলটির অন্যতম প্রধান দাবি ছিল ‘অখণ্ড ভারত’ গঠন (ভারত ও পাকিস্তানের পুনর্মিলন), হিন্দি ভাষাকে ভারতের একমাত্র সরকারি ভাষা করা এবং ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুবিধা প্রদান না করা। এছাড়া দলটি ভারতকে পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তোলার জোর দাবি জানিয়েছিল।
প্রধান নেতৃত্ব: ড. শ্যামাপ্রসাদ মুখার্জী, দীনদয়াল উপাধ্যায় এবং বলরাজ মাধোক ছিলেন এই দলের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও চিন্তাবিদ।
(iii) স্বতন্ত্র পার্টি:
প্রতিষ্ঠা ও প্রেক্ষাপট: ১৯৫৯ সালের আগস্ট মাসে কংগ্রেসের নাগপুর অধিবেশনে সমবায় চাষ ও জমিজমার সর্বোচ্চ সীমা নির্ধারণ সংক্রান্ত প্রস্তাবের প্রতিবাদে স্বতন্ত্র পার্টি গঠিত হয়।
মূল নীতি: স্বতন্ত্র পার্টি অর্থনীতিতে রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণ ও রাষ্ট্রায়ত্তকরণের বিরোধী ছিল। তারা ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, মুক্ত বাজার অর্থনীতি, লাইসেন্স প্রথার বিলোপ এবং বেসরকারি ক্ষেত্রের বিকাশকে সমর্থন জানাত। আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের পক্ষপাতী ছিল।
প্রধান নেতৃত্ব: সি. রাজাগোপালাচারী, কে. এম. মুন্সী, এন. জি. রঙ্গা এবং মিনু মাসানী ছিলেন এই দলের প্রধান কাণ্ডারী।

