Class 12 Political Science Important Chapter 10 জাতি গঠনের প্রত্যাহ্বান Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 10 জাতি গঠনের প্রত্যাহ্বান Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 10 জাতি গঠনের প্রত্যাহ্বান
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
জাতি গঠনের প্রত্যাহ্বান
Chapter: 10
| Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। আমাদের দৈনন্দিন ভাষায় ‘পরিসংখ্যান’ শব্দটি কয়টি সুস্পষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়?
উত্তরঃ আমাদের দৈনন্দিন ভাষায় ‘পরিসংখ্যান’ শব্দটি দুটি সুস্পষ্ট অর্থে ব্যবহৃত হয়।
২। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্টের মধ্যরাত্রে যে বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন তা কী নামে পরিচিত?
উত্তরঃ ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্টের মধ্যরাত্রে যে বিখ্যাত ভাষণ দিয়েছিলেন, তা ‘ভবিতব্যের সঙ্গে অভিসার’ নামে পরিচিত।
৩। স্বাধীনতার পর স্বাধীন ভারতের সামনে প্রধান কয়টি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল?
উত্তরঃ স্বাধীনতার পর স্বাধীন ভারতের সামনে প্রধান তিনটি চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল।
৪। ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা ‘Two-Nation Theory’ নীতিটি কোন রাজনৈতিক দল উত্থাপন করেছিল?
উত্তরঃ ‘দ্বিজাতি তত্ত্ব’ বা ‘Two-Nation Theory’ নীতিটি মুসলিম লীগ উত্থাপন করেছিল।
৫। ‘ফ্রন্টিয়ার গান্ধী’ বা ‘সীমান্ত গান্ধী’ নামে কে পরিচিত ছিলেন?
উত্তরঃ উত্তর-পশ্চিম সীমান্ত প্রদেশের অবিসংবাদী নেতা খান আব্দুল গফফর খান ‘ফ্রন্টিয়ার গান্ধী’ বা ‘সীমান্ত গান্ধী’ নামে পরিচিত ছিলেন।
৬। ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ফলে আনুমানিক কত মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে বাস্তুহারা হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের দেশভাগের ফলে আনুমানিক প্রায় ৮০ লক্ষ মানুষ নতুন সীমান্ত অতিক্রম করে বাস্তুহারা হয়েছিল।
৭। মহাত্মা গান্ধী কবে এবং কার হাতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন?
উত্তরঃ মহাত্মা গান্ধী ১৯৪৮ সালের ৩০ জানুয়ারি নাথুরাম বিনায়ক গডসে নামক এক চরমপন্থীর গুলিতে নিহত হন।
৮। স্বাধীনতা লাভের সময় ভারতে মোট কতগুলি দেশীয় রাজ্য বা প্রিন্সলি স্টেটস ছিল?
উত্তরঃ স্বাধীনতা লাভের সময় ভারতে মোট ৫৬৫ টি দেশীয় রাজ্য ছিল।
৯। দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে কার ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল?
উত্তরঃ দেশীয় রাজ্যগুলিকে ভারত ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
১০। দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতের সঙ্গে যোগদানের চুক্তিপত্রটি কী নামে পরিচিত ছিল?
উত্তরঃ দেশীয় রাজ্যগুলির ভারতের সঙ্গে যোগদানের চুক্তিপত্রটি ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’ নামে পরিচিত ছিল।
১১। সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ভারতে প্রথম নির্বাচন কোন দেশীয় রাজ্যে অনুষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে ভারতে প্রথম নির্বাচন মণিপুর দেশীয় রাজ্যে ১৯৪৮ সালের জুন মাসে অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
১২। তেলুগু ভাষীদের জন্য পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে কে অনশন করে প্রাণত্যাগ করেন?
উত্তরঃ তেলুগু ভাষীদের জন্য পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে প্রবীণ গান্ধীবাদী নেতা পট্টি শ্রীরামালু অনশন করে প্রাণত্যাগ করেন।
১৩। দ্বিভাষিক বোম্বাই রাজ্য ভেঙে ১৯৬০ সালে কোন দুটি নতুন রাজ্য গঠিত হয়?
উত্তরঃ দ্বিভাষিক বোম্বাই রাজ্য ভেঙে ১৯৬০ সালে গুজরাট ও মহারাষ্ট্র নামক দুটি নতুন রাজ্য গঠিত হয়।
১৪। ২০০০ সালে ভারতের মানচিত্রে কোন তিনটি নতুন রাজ্য গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ২০০০ সালে ভারতের মানচিত্রে ঝাড়খণ্ড, ছত্তিশগড় এবং উত্তরাঞ্চল (উত্তরাখণ্ড) নামক তিনটি নতুন রাজ্য গঠিত হয়েছিল।
১৫। পাঞ্জাব রাজ্য পুনর্গঠন করে ১৯৬৬ সালে কোন নতুন হিন্দিভাষী রাজ্য তৈরি করা হয়?
উত্তরঃ পাঞ্জাব রাজ্য পুনর্গঠন করে ১৯৬৬ সালে হরিয়ানা নামক নতুন রাজ্য গঠিত হয়।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। স্বাধীনতার পর স্বাধীন ভারতের সামনে আসা তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ স্বাধীনতার পর স্বাধীন ভারতের সামনে তিনটি প্রধান চ্যালেঞ্জ দেখা দিয়েছিল:
(i) প্রথম চ্যালেঞ্জ: বৈচিত্র্যের মধ্যে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা ও ভূখণ্ডের অখণ্ডতা রক্ষা।
মহাদেশসম বৈচিত্র্য: ভারত আকারে ও বৈচিত্র্যে প্রায় একটি মহাদেশের সমতুল্য ছিল। এ দেশের জনগণ বিভিন্ন ভাষায় কথা বলতেন এবং ভিন্ন ভিন্ন ধর্ম, কৃষ্টি ও সংস্কৃতির অনুগামী ছিলেন।
ঐক্য নিয়ে সংশয়: তৎকালীন সময়ে দেশের ভেতরে ও বাইরে ব্যাপকভাবে ধারণা করা হতো যে, এত ধরনের বৈচিত্র্যে ভরা একটি দেশ বেশিদিন একসঙ্গে ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারবে না। ১৯৪৭ সালের দেশ বিভাগ মানুষের এই আশঙ্কা ও ভীতির প্রমাণ হিসেবে দেখা দিয়েছিল।
(ii) দ্বিতীয় চ্যালেঞ্জ: গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা ও তা বাস্তবে রূপায়িত করা।
সংবিধান ও গণতান্ত্রিক কাঠামো: ভারতের সংবিধানে প্রতিটি নাগরিককে মৌলিক অধিকার এবং ভোটাধিকার প্রদান করা হয়। ভারত সংসদীয় শাসনভিত্তিক প্রতিনিধিত্বমূলক গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা গ্রহণ করে, যাতে রাজনৈতিক প্রতিযোগিতা একটি গণতান্ত্রিক কাঠামোর মধ্যে সম্পন্ন হয়।
রীতিনীতি ও মূল্যবোধের বিকাশ: তবে কেবল একটি গণতান্ত্রিক সংবিধান গ্রহণ করাই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট ছিল না। মূল চ্যালেঞ্জটি ছিল সংবিধান নির্দেশিত গণতান্ত্রিক রীতিনীতি, মূল্যবোধ ও প্রাতিষ্ঠানিক আচরণকে বাস্তবে পরিস্ফুট ও পরিচালিত করা।
(iii) তৃতীয় চ্যালেঞ্জ: সমগ্র সমাজের সুষম উন্নয়ন ও দারিদ্র্য দূরীকরণ।
সকলের কল্যাণ সাধন: কয়েকটি নির্দিষ্ট শ্রেণীর জন্য নয়, বরং সমগ্র সমাজের উন্নয়ন ও জনকল্যাণ নিশ্চিত করা ছিল এই চ্যালেঞ্জের লক্ষ্য।
সমতা ও সুরক্ষাকবচ: সংবিধানে সমতার নীতি স্পষ্টভাবে তুলে ধরা হয় এবং সামাজিকভাবে সুবিধাবঞ্চিত গোষ্ঠী ও ধর্মীয়-সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের জন্য বিশেষ সুরক্ষাকবচের ব্যবস্থা রাখা হয়। পাশাপাশি রাষ্ট্রের নির্দেশাত্মক নীতিসমূহের মাধ্যমে কল্যাণের লক্ষ্য নির্দিষ্ট করা হয়।
২। ১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগ ও দেশভাগের প্রধান পরিণতিগুলি সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ ১৯৪৭ সালের ১৪-১৫ আগস্ট দেশভাগের মাধ্যমে ভারত ও পাকিস্তান নামক দুটি স্বাধীন রাষ্ট্রের উদ্ভব ঘটেছিল।
এই দেশবিভাগের ফলে সমাজে ও রাজনীতিতে যেসকল প্রধান পরিণতি দেখা দিয়েছিল, সেগুলি সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
(i) ব্যাপক জনবিনিময় ও বাস্তুচ্যুতি: ১৯৪৭ সালে পৃথিবীর ইতিহাসে অন্যতম বৃহত্তম, আকস্মিক, অপরিকল্পিত ও দুঃখদায়ক জনবিনিময় ঘটেছিল। দেশভাগের ফলে আনুমানিক ৮০ লক্ষ মানুষ সীমান্ত অতিক্রম করে বাস্তুহারা হয়েছিলেন।
(ii) সাম্প্রদায়িক হিংসা ও বিপুল প্রাণহানি: দেশবিভাগের সময় সীমান্তের উভয় পারে তীব্র সাম্প্রদায়িক দাঙ্গা, হত্যা ও নৃশংসতা সংগঠিত হয়েছিল। এর ফলে প্রায় ৫ লক্ষ থেকে ১০ লক্ষ মানুষ প্রাণ হারিয়েছিলেন।
(iii) নারীদের ওপর নিগ্রহ ও অত্যাচার: বিভাজনের সময় সীমান্তে হাজার হাজার নারী অপহরণ, অত্যাচার এবং জোরপূর্বক ধর্মান্তরের শিকার হয়েছিলেন। অনেক ক্ষেত্রে পারিবারিক সম্মান রক্ষার অজুহাতে পরিবারগুলি নিজেদের নারীদের হত্যা করেছিল এবং বহু শিশু স্বজনদের থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল।
(iv) দীর্ঘস্থায়ী শরণার্থী শিবির সংকট: ভিটেমাটি হারিয়ে পালিয়ে আসা লক্ষ লক্ষ মানুষকে সীমান্তে অস্থায়ী শরণার্থী শিবিরে আশ্রয় নিতে হয়েছিল। এই মানুষদের কাছে স্বাধীনতার প্রকৃত অর্থ দাঁড়িয়েছিল মাসের পর মাস ও বছরের পর বছর শরণার্থী শিবিরের করুণ জীবনযাপন।
৩। ভারতের সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলির সংহতি সাধনে সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা এবং ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’ বলতে কী বোঝো?
উত্তরঃ ভারতের সঙ্গে দেশীয় রাজ্যগুলির সংহতি সাধনে সরদার বল্লভভাই প্যাটেলের ভূমিকা:
(i) সংকটকালে নেতৃত্বের ভূমিকা: স্বাধীনতা-পরবর্তী চরম সংকটপূর্ণ সময়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও উপ-প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সরদার প্যাটেল দেশীয় রাজ্যের শাসকদের সঙ্গে আলোচনার ঐতিহাসিক দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন।
(ii) কূটনীতি ও দৃঢ়তার প্রয়োগ: তিনি অত্যন্ত কুশল প্ররোচনা, অসাধারণ কূটনীতি ও দৃঢ়তার সাথে বেশিরভাগ শাসককে ভারতীয় ইউনিয়নে অন্তর্ভুক্ত করতে সক্ষম হয়েছিলেন। উদাহরণস্বরূপ, তদানীন্তন ওড়িশায় ২৬টি ছোট দেশীয় রাজ্য এবং গুজরাটের সৌরাষ্ট্র অঞ্চলে ১৪টি বড় ও ১১৯টি ছোট রাজ্যসহ অসংখ্য শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান ছিল, যেগুলিকে একত্রিত করা অত্যন্ত জটিল কাজ ছিল।
(iii) সরকারের মূল নীতি বাস্তবায়ন প্যাটেলের নেতৃত্বে ভারত সরকারের দৃষ্টিভঙ্গি তিনটি প্রধান নীতির দ্বারা পরিচালিত হয়েছিল: দেশীয় রাজ্যের বেশিরভাগ জনগণের ভারতীয় ইউনিয়নে যোগদানের ইচ্ছাকে প্রাধান্য দেওয়া। আঞ্চলিক বৈচিত্র্যকে মেনে নিয়ে কিছু কিছু অঞ্চলে স্বায়ত্তশাসন দেওয়ার ক্ষেত্রে নমনীয়তা দেখানো। দেশভাগের পটভূমিতে সীমানা নির্ধারণ এবং জাতীয় সংহতি রক্ষাকে চরম গুরুত্ব প্রদান করা।
‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’: ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’ হলো একটি আইনি সম্মতিপত্র বা দলিল।
(i) অর্থ: দেশীয় রাজ্যের শাসকেরা এই দলিলে স্বাক্ষর করার মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিতেন যে, তাঁদের রাজ্যটি ভারতীয় ইউনিয়নের একটি অংশ হতে সম্মত হয়েছে।
(ii) বাস্তবায়ন: ১৯৪৭ সালের ১৫ই আগস্টের পূর্বেই শান্তিপূর্ন আলোচনার মাধ্যমে ভারতীয় সীমানার নিকটবর্তী বেশিরভাগ দেশীয় রাজ্যের শাসকেরা এই ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অব অ্যাকসেশন’ দলিলে স্বাক্ষর করে ভারত ইউনিয়নে যোগদান করেছিলেন।
৪। হায়দরাবাদ ও মণিপুর রাজ্য দুটি কীভাবে ভারত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল?
উত্তরঃ হায়দরাবাদ ও মণিপুর রাজ্য দুটি ভারত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়েছিল:
হায়দরাবাদের ভারত অন্তর্ভুক্ত:
(i) নিজামের স্বাধীন থাকার ইচ্ছা: ভারতের বৃহত্তম দেশীয় রাজ্য হায়দরাবাদের শাসক নিজাম স্বাধীন থাকতে চেয়েছিলেন। তিনি ১৯৪৭ সালের নভেম্বরে ভারত সরকারের সঙ্গে এক বছরের জন্য ‘যথাস্থিতি চুক্তি’ স্বাক্ষর করেন।
(ii) জনগণের আন্দোলন ও রাজাকারের অত্যাচার: এই সময়ে হায়দরাবাদের তেলেঙ্গানা অঞ্চলের কৃষকেরা নিজামের নিপীড়নমূলক শাসনের বিরুদ্ধে তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলে এবং হায়দরাবাদ শহর আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠে। আন্দোলন দমনে নিজাম ‘রাজাকার’ নামে এক পরা-সামরিক (আধা-সামরিক) বাহিনীকে নিয়োজিত করেন।
(iii) সামরিক অভিযান ও আত্মসমর্পণ: পরিস্থিতি সামাল দিতে ১৯৪৮ সালের সেপ্টেম্বরে ভারতীয় সেনাবাহিনী হায়দরাবাদে প্রবেশ করে। কয়েকদিনের যুদ্ধের পর নিজামের বাহিনী আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয় এবং এর ফলে হায়দরাবাদ ভারত ইউনিয়নের অন্তর্ভুক্ত হয়।
মণিপুরের ভারত অন্তর্ভুক্ত:
(i) স্বায়ত্তশাসনের শর্তে চুক্তি: স্বাধীনতার কয়েকদিন পূর্বে মণিপুরের মহারাজা বোধচন্দ্র সিংহ অভ্যন্তরীণ স্বায়ত্তশাসন বজায় রাখার শর্তে ভারত সরকারের সঙ্গে ‘ইনস্ট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন’ স্বাক্ষর করেন।
(ii) জনমত ও প্রথম সর্বজনীন নির্বাচন: জনমতের চাপে ১৯৪৮ সালের জুনে মণিপুরে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয় এবং রাজ্যটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্রে পরিণত হয়। মণিপুরই ছিল ভারতের প্রথম রাজ্য যেখানে সার্বজনীন প্রাপ্তবয়স্ক ভোটাধিকারের ভিত্তিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।
(iii) চুক্তি স্বাক্ষর ও ক্ষোভ: মণিপুরের নির্বাচিত বিধানসভায় ভারতের সঙ্গে সম্পূর্ণ অন্তর্ভুক্তির বিষয়ে তীব্র মতভেদ দেখা দেয়। অবশেষে ভারত সরকার মণিপুরের নির্বাচিত বিধানসভার পরামর্শ না নিয়েই মহারাজা বোধচন্দ্র সিংহকে চাপ দিয়ে ১৯৪৯ সালের সেপ্টেম্বরে অন্তর্ভুক্তির চুক্তিতে স্বাক্ষর করায়। এর ফলে মণিপুর ভারত ইউনিয়নের অংশ হলেও সেখানে ক্ষোভ ও আপত্তির সৃষ্টি হয়।
৫। ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের প্রেক্ষাপট ও সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভারতে রাজ্য পুনর্গঠন কমিশনের প্রেক্ষাপট:
(i) ঔপনিবেশিক সীমানা ও কংগ্রেসের প্রতিশ্রুতি: ঔপনিবেশিক আমলে রাজ্যগুলির সীমানা প্রশাসনিক সুবিধা বা ব্রিটিশদের দখলের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছিল, যা ছিল কৃত্রিম। ১৯২০ সালের নাগপুর কংগ্রেস অধিবেশনে জাতীয় কংগ্রেস প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে ভাষার ভিত্তিতে প্রদেশ পুনর্গঠন করা হবে।
(ii) স্বাধীনতার পর দ্বিধা: স্বাধীনতার পর দেশবিভাগের ক্ষত এবং সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও বিচ্ছিন্নতার ভয়ে কেন্দ্রীয় নেতৃত্ব ভাষার ভিত্তিতে রাজ্য পুনর্গঠনের সিদ্ধান্ত স্থগিত রাখার পক্ষপাতী ছিলেন।
(iii) বিশলান্ধ্র আন্দোলন ও কমিশন গঠন: কেন্দ্রীয় সরকারের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে তৎকালীন মাদ্রাজ রাজ্যের তেলুগুভাষী অঞ্চলে ‘বিশলান্ধ্র আন্দোলন’ শুরু হয়। প্রবীণ গান্ধীবাদী নেতা পট্টি শ্রীরামালু পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশের দাবিতে অনশন শুরু করেন এবং ৫৬ দিন অনশনের পর ১৯৫২ সালের ডিসেম্বরে তাঁর মৃত্যু হয়। এর ফলে ব্যাপক হিংসাত্মক আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে এবং প্রধানমন্ত্রী নেহরু পৃথক অন্ধ্রপ্রদেশ গঠনের ঘোষণা দেন।
সুদূরপ্রসারী গুরুত্ব:
(i) জাতীয় ঐক্য সুদৃঢ়করণ: পূর্বে আশঙ্কা করা হয়েছিল যে ভাষাভিত্তিক রাজ্য গঠন দেশের ঐক্য বিনষ্ট করবে কিন্তু বাস্তবে দেখা যায় যে আঞ্চলিক ও ভাষাগত দাবিকে স্বীকৃতি দেওয়ায় জাতীয় ঐক্য আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হয়েছে।
(ii) গণতন্ত্রের প্রসার ও সর্বস্তরের অংশগ্রহণ: ভাষাভিত্তিক পুনর্গঠনের ফলে রাজ্য রাজনীতির পথ কেবল ইংরেজিভাষী অল্পসংখ্যক অভিজাতদের নিয়ন্ত্রণে থাকেনি; সাধারণ মানুষের জন্য শাসনের পথ উন্মুক্ত হয়েছে এবং গণতন্ত্রের ভিত্তি গভীর হয়েছে।
(iii) বৈচিত্র্যের মধ্যে ঐক্য প্রতিষ্ঠা: ভাষাগত ও সাংস্কৃতিক ভিন্নতাকে সংবিধানে ও রাষ্ট্রে গণতান্ত্রিক মর্যাদায় প্রতিষ্ঠিত করা হয়েছে।

