Class 12 Political Science Important Chapter 13 ভারতের বর্হিসম্পর্ক

Class 12 Political Science Important Chapter 13 ভারতের বর্হিসম্পর্ক Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 13 ভারতের বর্হিসম্পর্ক Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.

Class 12 Political Science Important Chapter 13 ভারতের বর্হিসম্পর্ক

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 13

Part – 2: স্বাধীনোত্তর ভারতের রাজনীতি
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ভারতীয় সংবিধানের কত নম্বর ধারায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বর্ধনের কথা বলা হয়েছে?

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানের ৫১ নম্বর ধারায় আন্তর্জাতিক শান্তি ও নিরাপত্তা বর্ধন, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন এবং সালিসি দ্বারা বিবাদ নিষ্পত্তির নির্দেশাত্মক নীতিসমূহ লিপিবদ্ধ করা হয়েছে।

২। জওহরলাল নেহরু কত সাল থেকে কত সাল পর্যন্ত ভারতের বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন ও কার্যকরী করার দায়িত্ব পালন করেন?

উত্তরঃ জওহরলাল নেহরু ১৯৪৬ সাল থেকে ১৯৬৪ সাল পর্যন্ত ভারতের প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী উভয় ভূমিকায় থেকে বৈদেশিক নীতি প্রণয়ন ও রূপায়ণে মূল দায়িত্ব পালন করেন।

৩। জওহরলাল নেহরুর বৈদেশিক নীতির তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য কী কী ছিল?

উত্তরঃ নেহরুর বৈদেশিক নীতির তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য ছিল—কঠিন পরিশ্রমে অর্জিত সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, দেশের আঞ্চলিক সংহতি বজায় রাখা এবং দ্রুতগতিতে অর্থনৈতিক বিকাশ নিশ্চিত করা।

৪। ঐতিহাসিক ‘পঞ্চশীল নীতি’ কবে এবং কাদের মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৫৪ সালের ২৯শে এপ্রিল ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং চীনের প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাইয়ের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘পঞ্চশীল নীতি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

৫। ‘বানদুং সম্মেলন’ কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৫৫ সালে ইন্দোনেশিয়ার বানদুং শহরে ঐতিহাসিক আফ্রো-এশীয় সম্মেলন বা ‘বানদুং সম্মেলন’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

৬। জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন কবে এবং কোথায় অনুষ্ঠিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৬১ সালের সেপ্টেম্বর মাসে যুগোশ্লাভিয়ার বেলগ্রেডে জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলনের প্রথম শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছিল।

৭। তিব্বতের আধ্যাত্মিক নেতা দলাই লামা কবে ভারতের কাছে রাজনৈতিক আশ্রয় প্রার্থনা করেন এবং ভারতে আসেন?

উত্তরঃ তিব্বতে চীনা শাসনের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহ দমনের পর, ১৯৫৯ সালে দলাই লামা নিজ অনুগামীদের সাথে ভারতের সীমান্ত অতিক্রম করে রাজনৈতিক আশ্রয় গ্রহণ করেন।

৮। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ প্রধানত ভারতের কোন কোন সীমান্ত অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ প্রধানত ভারতের উত্তর-পূর্ব সীমান্ত অঞ্চলের নেফা এবং লাদাখের আকসাই চীন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল।

৯। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি কবে এবং কার কার মধ্যে স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৬০ সালে ওয়ার্ল্ড ব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু এবং পাকিস্তানের রাষ্ট্রপতি আইয়ুব খানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

১০। ১৯৬৫ সালের ভারত পাকিস্তান যুদ্ধের পর কোন ঐতিহাসিক শান্তি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৬৫ সালের যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালে বিশ্বমঞ্চের মধ্যস্থতায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী লালবাহাদুর শাস্ত্রী ও পাকিস্তানের জেনারেল আইয়ুব খানের মধ্যে ‘তাসখন্দ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

১১। ১৯৭১ সালের ভারত সোভিয়েত মৈত্রী চুক্তি কত বছরের জন্য স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ভারত ও সোভিয়েত ইউনিয়নের মধ্যে ২০ বছর মেয়াদী ‘শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

১২। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধের পর ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৭১ সালের যুদ্ধের পর ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী ও পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে ঐতিহাসিক ‘শিমলা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়।

১৩। ভারতে প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা কবে এবং কার নেতৃত্বে পরিচালিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৭৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রাজত্বকালে রাজস্থানের পোখরানে ভারতের প্রথম শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক বিস্ফোরণ পরীক্ষা পরিচালিত হয়।

১৪। ভারত কেন এন.পি.টি. চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে?

উত্তরঃ এন.পি.টি. চুক্তিটি অত্যন্ত বৈষম্যমূলক হওয়ায় এবং কেবল পাঁচটি পারমাণবিক শক্তিধর রাষ্ট্রকে সুবিধা প্রদান করায় ভারত এতে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে।

১৫। ১৯৯৯ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কোথায় সামরিক সংঘর্ষ বা যুদ্ধ ঘটেছিল?

উত্তরঃ ১৯৯৯ সালে জম্মু ও কাশ্মীরের কারগিল অঞ্চলের নিয়ন্ত্রণ রেখা বরাবর দ্রাস, কাকসর ও বাটালিক এলাকায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে কারগিল সামরিক সংঘর্ষ ঘটেছিল।

দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। স্বাধীন ভারতের বৈদেশিক নীতি নির্ধারণে পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর অবদান আলোচনা করো।

উত্তরঃ স্বাধীন ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিসেবে জওহরলাল নেহরু (১৯৪৬-১৯৬৪) ভারতের বৈদেশিক নীতির মূল রূপকার ছিলেন।

তাঁর অবদানের মূল দিকগুলি আলোচনা করা হলো:

(i) তিনটি প্রধান লক্ষ্য: নেহরু বৈদেশিক নীতির মাধ্যমে তিনটি প্রধান উদ্দেশ্য অর্জন করতে চেয়েছিলেন—কঠিন সংগ্রামে অর্জিত জাতীয় সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা, ভারতের আঞ্চলিক সংহতি অক্ষুণ্ণ রাখা এবং দ্রুত অর্থনৈতিক উন্নয়ন ঘটানো।

(ii) জোট-নিরপেক্ষতা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধোত্তর শীতল যুদ্ধের যুগে বিশ্ব যখন দুটি শক্তিজোট—মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়নে বিভক্ত ছিল, নেহরু কোনো সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে স্বাধীন জোট-নিরপেক্ষ নীতি গ্রহণ করেন।

(iii) আফ্রো-এশীয় সংহতি: নেহরুর উদ্যোগে ১৯৪৭ সালের মার্চে এশীয় সম্পর্ক সম্মেলন, ১৯৪৯ সালে ইন্দোনেশিয়ার স্বাধীনতা সংগ্রাামকে সমর্থন এবং ১৯৫৫ সালে বানদুং সম্মেলনের মাধ্যমে এশিয়া ও আফ্রিকার নবস্বাধীন দেশগুলোর মধ্যে মেলবন্ধন সৃষ্টি হয়।

(iv) শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান: ১৯৫৪ সালে চীনের সঙ্গে ‘পঞ্চশীল নীতি’ স্বাক্ষরের মাধ্যমে নেহরু আন্তর্জাতিক ক্ষেত্রে শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের বার্তা প্রচার করেন।

২। প্জোট-নিরপেক্ষ নীতি বলতে কী বোঝায়? ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত ন্যাটো এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন পরিচালিত ওয়ারশ সামরিক জোটে যোগ না দিয়ে, সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে বিশ্বনীতি পরিচালনা করার নীতিকেই ‘জোট-নিরপেক্ষ নীতি’ বলা হয়।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে এর গুরুত্ব:

(i) সার্বভৌমত্ব ও স্বকীয়তা রক্ষা: জোট-নিরপেক্ষতার ফলে ভারত আন্তর্জাতিক যেকোনো ইস্যুতে সামরিক জোটের চাপে না নতি স্বীকার করে নিজস্ব স্বাধীন অবস্থান নিতে সক্ষম হয়।

(ii) উভয় শিবির থেকে সহায়তা প্রাপ্তি: এই নীতির ফলে ভারত শীতল যুদ্ধের সময় কোনো এক ব্লকের অধীনে না গিয়ে আমেরিকা ও সোভিয়েত ইউনিয়ন—উভয় মহাশক্তিধর রাষ্ট্র থেকেই অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত সাহায্য লাভ করে।

(iii) বিশ্বশান্তি প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা: ১৯৫৬ সালের সুয়েজ খাল সংকট বা হাঙ্গেরি আক্রমণের মতো আন্তর্জাতিক সংকটগুলোতে ভারত নিরপেক্ষ মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করতে পেরেছিল।

(iv) তৃতীয় বিশ্বের নেতৃত্ব: ১৯৬১ সালে বেলগ্রেড সম্মেলনের মাধ্যমে জোট-নিরপেক্ষ আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে আত্মপ্রকাশ করে, যেখানে ভারত সাম্রাজ্যবাদ ও বর্ণবাদের বিরুদ্ধে নতুন স্বাধীন দেশগুলোর কণ্ঠস্বর হিসেবে উঠে আসে।

৩। ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের কারণ এবং ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব আলোচনা করো।

উত্তরঃ ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের কারণ এবং ভারতের রাজনৈতিক ও সামরিক ক্ষেত্রে এর প্রভাব: ১৯৫০-এর দশকে ভারত ও চীনের মধ্যে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক (“হিন্দি-চিনি ভাই ভাই”) থাকলেও দুটি মূল ঘটনাকে কেন্দ্র করে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ফাটল ধরে।

যুদ্ধের প্রধান কারণসমূহ:

(i) তিব্বত সংকট: ১৯৫০ সালে চীন তিব্বত দখল করে নেয়। ১৯৫৯ সালে তিব্বতে চীনা শাসনের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ দমিত হলে দলাই লামা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় নেন, যাকে চীন শত্রুভাবাপন্ন কাজ বলে মনে করে।

(ii) সীমানা বিরোধ: লাদাখের আকসাই চীন এলাকা এবং উত্তর-পূর্ব ভারতের নেফা (NEFA – অরুণাচল প্রদেশ) অঞ্চলকে চীন নিজেদের বলে দাবি করে এবং আকসাই চীনে সামরিক সড়ক নির্মাণ করে।

ভারতের ওপর যুদ্ধের প্রভাব:

(i) রাজনৈতিক ও কৌশলগত ধাক্কা: ১৯৬২ সালের অক্টোবরে চীন ভারত আক্রমণ করে ভারতের সীমান্ত অঞ্চল দখল করে নেয়। এই পরাজয়ে ভারতের আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এবং জওহরলাল নেহরু তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন।

(ii) মন্ত্রিসভায় রদবদল ও অনাাস্থা প্রস্তাব: ব্যর্থতার দায়ে তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ভি. কে. কৃষ্ণ মেননকে পদত্যাগ করতে হয় এবং লোকসভায় নেহরু সরকারের বিরুদ্ধে প্রথম অনাস্থা প্রস্তাব আনা হয়।

(iii) কমিউনিস্ট দলের বিভাজন: চীনকে সমর্থন বা বিরোধিতার প্রসঙ্গে” ১৯৬৪ সালে ভারতীয় কমিউনিস্ট পার্টি বিভক্ত হয়ে নতুন দল সি.পি.আই (এম) গঠিত হয়।

(iv)সামরিক আধুনিকীকরণ: ভারত সরকার সামরিক পুনর্গঠনে বাধ্য হয়। ১৯৬২ সালের নভেম্বরে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম দপ্তর প্রতিষ্ঠিত হয় এবং তৃতীয় পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

৪। ১৯৭১ সালের বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা এবং এর কৌশলগত ফলাফল বিশ্লেষণ করো।

উত্তরঃ বাংলাদেশ মুক্তিযুদ্ধে ভারতের ভূমিকা:

(i) মানবিক সংকট ও শরণার্থী আশ্রয়: ১৯৭১ সালের শুরুতেই পাকিস্তানি বাহিনী শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের সাধারণ মানুষের ওপর নারকীয় অত্যাচার শুরু করে। এর ফলে প্রায় ৮০ লক্ষ শরণার্থী ভারতে পালিয়ে এসে আশ্রয় গ্রহণ করে। ভারত সরকার এই বিশাল শরণার্থী বোঝা বহন করার পাশাপাশি বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রামীদের নৈতিক ও সামরিক সহায়তা প্রদান করে।

(ii) আন্তর্জাতিক কূটনীতি ও ভারত সোভিয়েত চুক্তি: ১৯৭১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, পাকিস্তান ও চীনের মধ্যে এক কূটনৈতিক অক্ষ গড়ে ওঠে (মার্কিন প্রতিনিধি হেনরী কিসিঞ্জারের গোপন চীন সফর)। এই শক্তিজোড়ের চাপ মোকাবিলা করতে এবং জাতীয় নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে ১৯৭১ সালের আগস্ট মাসে ভারত সোভিয়েত ইউনিয়নের সাথে ২০ বছর মেয়াদী ঐতিহাসিক ‘শান্তি, মৈত্রী ও সহযোগিতা চুক্তি’ স্বাক্ষর করে, যা ভারতকে সামরিক সুরক্ষার আশ্বাস দেয়।

(iii) সামরিক পদক্ষেপ ও প্রত্যক্ষ যুদ্ধ: ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরে পাকিস্তান ভারতের পাঞ্জাব, রাজস্থান ও জম্মু-কাশ্মীর সীমান্তে আক্রমণ চালালে যুদ্ধ পূর্ণাঙ্গ রূপ নেয়। ভারত স্থল, নৌ ও বিমান বাহিনীকে একযোগে প্রয়োগ করে এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্থানীয় জনগণের সহায়তায় মাত্র ১০ দিনের মধ্যে ঢাকাকে তিন দিক থেকে অবরুদ্ধ করে ফেলে।

কৌশলগত ও রাজনৈতিক ফলাফল:

(i) দ্বিমুখী সামরিক হুমকির অবসান: ১৯৭১ সালের পূর্ব পর্যন্ত ভারতের পূর্ব ও পশ্চিম—উভয় সীমান্তেই শত্রুভাবাপন্ন পাকিস্তান অবস্থিত ছিল। বাংলাদেশের স্বাধীনতার ফলে ভারতের পূর্ব সীমান্তে একটি বন্ধুপ্রতীম রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হয়, যা ভারতের কৌশলগত নিরাপত্তা বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

(ii) শিমলা চুক্তি (১৯৭২): যুদ্ধের সমাপ্তির পর ১৯৭২ সালের জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী এবং পাকিস্তানের নেতা জুলফিকার আলী ভুট্টোর মধ্যে ঐতিহাসিক ‘শিমলা চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়, যার মাধ্যমে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের নীতি গৃহীত হয়।

(iii) দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের প্রাধান্য ও সামরিক মর্যাদা বৃদ্ধি: এই যুদ্ধে একক ও দ্রুত বিজয় বিশ্বমঞ্চে ভারতের সামরিক শক্তি ও সক্ষমতা প্রমাণ করে এবং দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে এক বৃহৎ শক্তি হিসেবে ভারতের অবস্থান সুদৃঢ় করে।

৫। ভারতের পারমাণবিক নীতির মূল বৈশিষ্ট্য ও বিবর্তন আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতের পারমাণবিক নীতির মূল বৈশিষ্ট্য:

(i) শান্তিপূর্ণ কাজে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার: কর্মসূচির শুরু থেকেই ভারত চিকিৎসাবিজ্ঞান, কৃষি, শিল্পায়ন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের মতো শান্তিপূর্ণ উদ্দেশ্যে পরমাণু শক্তি ব্যবহারের ওপর জোর দিয়ে এসেছে।

(ii) বৈষম্যমূলক আন্তর্জাতিক চুক্তির বিরোধিতা: ভারত আন্তর্জাতিক পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণ সমর্থন করলেও বৈষম্যমূলক চুক্তিগুলোর তীব্র বিরোধিতা করেছে। ১৯৬৮ সালের ‘পারমাণবিক অস্ত্র নিষিদ্ধকরণ চুক্তি’ এবং ১৯৯৬ সালের ‘সর্বাত্মক পরীক্ষা-নিষেধাজ্ঞা চুক্তি’ কে ভারত বৈষম্যমূলক মনে করে স্বাক্ষর করতে অস্বীকার করে।

(iii) বিশ্বস্তযোগ্য ন্যূনতম বাধা বা প্রতিরোধ: ১৯৯৮ সালের সামরিক পরীক্ষার পর ভারত ঘোষণা করে যে তার পারমাণবিক শক্তি কোনো দেশের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের জন্য নয় বরং জাতীয় প্রতিরক্ষা সুনিশ্চিত করতে একটি ন্যূনতম প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখার জন্য।

ভারতের পারমাণবিক নীতির বিবর্তন:

(i) নেহরু যুগ ও প্রারম্ভিক বিকাশ: ১৯৪০-এর দশকের শেষভাগে বিশিষ্ট বিজ্ঞানী ড. হোমি জাহাঙ্গীর ভাবা-র পরিচালনায় ভারতের পরমাণু কর্মসূচির সূচনা হয়। প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার চরম বিরোধী ছিলেন এবং দ্রুত আধুনিক ভারত গঠনে প্রযুক্তিগত স্বনির্ভরতার জন্য পরমাণু শক্তির শান্তিপূর্ণ ব্যবহারের ওপর আস্থা রেখেছিলেন।

(ii) কৌশলগত পরিবর্তন ও ১৯৬৪-র চীনা পরীক্ষা: ১৯৬৪ সালের অক্টোবরে কমিউনিস্ট চীন প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটালে দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক নিরাপত্তা সমীকরণ বদলে যায়। এর পাশাপাশি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের পাঁচ স্থায়ী সদস্য দেশ ১৯৬৮ সালে বিশ্বজুড়ে NPT চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে ভারত বৈষম্যের প্রতিবাদে তা প্রত্যাখ্যান করে।

(iii) প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা ১৯৭৪: ১৯৭৪ সালের মে মাসে প্রধানমন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধীর রাজত্বকালে রাজস্থানের পোখরানে ভারত তার প্রথম পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটায়। আন্তর্জাতিক চাপ থাকলেও ভারত যুক্তি দেখায় যে এটি কেবল শান্তিপূর্ণ কাজের জন্য পরিচালিত একটি পরীক্ষা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top