Class 11 Political Science Important Chapter 7 যুক্তরাষ্ট্রবাদ

Class 11 Political Science Important Chapter 7 যুক্তরাষ্ট্রবাদ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Political Science Important Chapter 7 যুক্তরাষ্ট্রবাদ Solutions and select need one. Class 11 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Political Science Important Notes Bengali Medium.

Class 11 Political Science Important Chapter 7 যুক্তরাষ্ট্রবাদ

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Political Science Important Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Political Science Additional Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 7

Part – 1: কাৰ্য্যক্ষেত্ৰে ভাতীয় সংবিধান
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। সোভিয়েত রাশিয়ার প্রধান কারণ কী ছিল?

উত্তরঃ এর প্রধান কারণ ছিল অতিরিক্তেন্দ্রীকরণ, ক্ষমতার পুঞ্জীভবন এবং স্বকীয় ভাষা ও সংস্কৃতি সমৃদ্ধ অঞ্চলগুলির ওপর রাশিয়ার আধিপত্য বিস্তার।

২। ভারতীয় সংবিধানের ১ নং অনুচ্ছেদে ভারতকে কীভাবে বর্ণনা করা হয়েছে?

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানের ১ নং অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে,”ইন্ডিয়া অর্থাৎ ভারত হবে রাজ্যগুলির একটি সংঘ “।

৩। কত সালে সোভিয়েত রাশিয়া ভেঙে একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৯১ সালে সোভিয়েত রাশিয়া বা সোভিয়েত ইউনিয়ন ভেঙে পড়ে এবং একাধিক স্বাধীন রাষ্ট্রে রূপান্তরিত হয়।

৪। সাধারণত একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় কত ধরনের বা কয়টি স্তরের সরকার থাকে?

উত্তরঃ যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থায় সাধারণত দুই ধরনের বা দুই স্তরের শাসন ব্যবস্থা থাকে,যেখানে স্ব-স্ব ক্ষেত্রে সরকারগুলি স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে।

৫। ভারতের সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতা বণ্টনের জন্য কয়টি তালিকা রয়েছে?

উত্তরঃ ভারতের সংবিধানে ক্ষমতা বণ্টনের জন্য তিনটি তালিকা (কেন্দ্র তালিকা, রাজ্য তালিকা এবং যুগ্ম তালিকা) রয়েছে।

৬। ভারতের প্রতিরক্ষা এবং বৈদেশিক নীতি কোন তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়?

উত্তরঃ ভারতের প্রতিরক্ষা, আণবিক শক্তি এবং বৈদেশিক নীতি সম্পূর্ণভাবে কেন্দ্র তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

৭। পুলিশ এবং কৃষি ভারতের কোন তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়?

উত্তরঃ পুলিশ এবং কৃষি সামগ্রিকভাবে রাজ্য তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়।

৮। যুগ্ম তালিকার অন্তর্ভুক্ত যেকোনো দুটি বিষয়ের নাম লেখো।

উত্তরঃ যুগ্ম তালিকার অন্তর্ভুক্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিক্ষা এবং শ্রমিক ইউনিয়ন।

৯। অবশিষ্ট ক্ষমতা বলতে কী বোঝায়?

উত্তরঃ যেসব বিষয় কেন্দ্র, রাজ্য বা যুগ্ম তালিকার অন্তর্ভুক্ত নয়,সেগুলির ওপর আইন প্রণয়নের ক্ষমতাকে অবশিষ্ট ক্ষমতা বলা হয় এবং এটি কেবল কেন্দ্রীয় আইনসভার হাতে ন্যস্ত থাকে।

১০। সংবিধানের কোন বিতর্কিত ধারা প্রয়োগ করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা যায়?

উত্তরঃ সংবিধানের অত্যন্ত বিতর্কিত ৩৫৬ নং ধারা প্রয়োগ করে রাজ্যে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা যায়।

১১। কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ক পর্যালোচনার জন্য গঠিত সরকারিয়া কমিশন কত সালে তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছিল?

উত্তরঃ সরকারিয়া কমিশন ১৯৮৮ সালে তাদের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবেদনটি জমা দিয়েছিল।

১২। ভারতীয় সংবিধানের কত নম্বর ধারার অধীনে পূর্বে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ মর্যাদা প্রদান করা হয়েছিল?

উত্তরঃ সংবিধানের ৩৭০ নং ধারার অধীনে পূর্বে জম্মু-কাশ্মীরকে বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও মর্যাদা দেওয়া হয়েছিল।

১৩। ভারতীয় সংবিধানে রাজ্যগুলির সীমানা পরিবর্তন বা নতুন রাজ্য গঠনের ক্ষমতা কার ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে?

উত্তরঃ ভারতের রাজ্যগুলির সীমানা পরিবর্তন বা নতুন রাজ্য গঠনের চূড়ান্ত ক্ষমতা সংসদ বা পার্লামেন্টের ওপর ন্যস্ত করা হয়েছে।

১৪। ভারতের দুটি রাজ্যের মধ্যে জল বণ্টন নিয়ে দীর্ঘদিনের বিবাদের একটি উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর মধ্যে কাবেরী নদীর জল বণ্টন নিয়ে বিবাদ হলো এর একটি অন্যতম উদাহরণ।

১৫। পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী সরকার কত সালে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রকাশ করেছিল?

উত্তরঃ পশ্চিমবঙ্গের বামপন্থী সরকার ১৯৭৭ সালে কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্ক পুনর্গঠনের দাবি জানিয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ দলিল প্রকাশ করেছিল।

দীর্ঘ প্রশ্ন ও উত্তর। 

১। যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা বলতে কী বোঝায়? এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থা হলো এমন এক প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা যেখানে রাষ্ট্রের ক্ষমতাকে কেন্দ্রীয় বা জাতীয় সরকার এবং আঞ্চলিক বা রাজ্য সরকারগুলির মধ্যে ভাগ করে দেওয়া হয়। এই ব্যবস্থায় উভয় স্তরের সরকারই নিজ নিজ ক্ষেত্রে স্বাধীনভাবে কাজ করার আইনি অধিকার লাভ করে। 

এর মূল বৈশিষ্ট্যগুলি আলোচনা করা হলো:

(i) দ্বি-স্তরীয় শাসন ব্যবস্থা: যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সাধারণত দুটি স্তরের সরকার থাকে, যেমন সমগ্র দেশের জন্য কেন্দ্রীয় সরকার এবং অঞ্চলগুলির জন্য রাজ্য বা প্রাদেশিক সরকার। ভারতেও কেন্দ্র ও রাজ্য উভয় স্তরেই পৃথক শাসন ব্যবস্থা বিদ্যমান।

(ii) লিখিত ও সুপরিবর্তনীয় সংবিধান: এই ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হলো একটি লিখিত সংবিধান, যেখানে দুই ধরনের সরকারের ক্ষমতা ও কাজের পরিধি সুনির্দিষ্টভাবে লিপিবদ্ধ থাকে।

(iii) সংবিধানের সর্বোচ্চতা: সংবিধানে উল্লিখিত ক্ষমতার সীমানা উভয় স্তরের সরকারই মেনে চলতে বাধ্য থাকে এবং সংবিধানই ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস হিসেবে বিবেচিত হয়।

(iv) স্বাধীন বিচারবিভাগ: কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যে ক্ষমতার বণ্টন বা দ্বন্দ্বের বিষয়ে কোনো বিরোধ বা আইনি অমিল দেখা দিলে তা মীমাংসা করার জন্য একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ বিচার বিভাগের উপস্থিতি অপরিহার্য। ভারতে সুপ্রিম কোর্ট এই অভিভাবকের ভূমিকা পালন করে।

২। ভারতীয় সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির মধ্যে ক্ষমতার বিভাজন কীভাবে করা হয়েছে? বিস্তারিত লেখো।

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানে কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির কাজের ক্ষেত্রকে সুস্পষ্ট করতে তিন ধরনের তালিকার মাধ্যমে ক্ষমতার বিভাজন করা হয়েছে। 

এই ক্ষমতা বিভাজনের কাঠামোটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(i) কেন্দ্র তালিকা: এই তালিকায় জাতীয় স্বার্থের সাথে জড়িত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলি অন্তর্ভুক্ত থাকে। এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত বিষয়গুলির ওপর কেবল কেন্দ্রীয় সংসদ আইন প্রণয়ন করতে পারে। 

এর প্রধান উদাহরণগুলি হলো— প্রতিরক্ষা, বৈদেশিক নীতি, আণবিক শক্তি, যুদ্ধ ও শান্তি, ব্যাংক ব্যবস্থা,রেলওয়ে এবং ডাক ও তার।

(ii) রাজ্য তালিকা: আঞ্চলিক বা স্থানীয় স্বার্থের সাথে জড়িত বিষয়গুলি এই তালিকার অন্তর্ভুক্ত। সাধারণ পরিস্থিতিতে কেবল রাজ্য বিধানসভাই এই তালিকার বিষয়গুলির ওপর আইন প্রণয়ন করতে পারে। 

এর উদাহরণ হলো— কৃষি, পুলিশ, কারাগার, স্থানীয় সরকার, জনস্বাস্থ্য এবং ভূমি।

(iii) যুগ্ম তালিকা: এই তালিকায় এমন কিছু বিষয় রাখা হয়েছে যেগুলির ওপর কেন্দ্র এবং রাজ্য উভয় সরকারই আইন প্রণয়ন করতে পারে। তবে উভয়ের আইনের মধ্যে কোনো সংঘাত দেখা দিলে কেন্দ্রীয় আইনই বলবৎ হয়। 

এর প্রধান উদাহরণগুলি হলো— শিক্ষা, শ্রমিক ইউনিয়ন, অরণ্য, খাদ্য ভেজাল প্রতিরোধ এবং দত্তক গ্রহণ ও উত্তরাধিকার।

৩। ভারতীয় সংবিধানে কেন একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা অনুভব করা হয়েছিল? এর সপক্ষে প্রধান যুক্তিগুলি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধান প্রণেতারা ভারতকে একটি যুক্তরাষ্ট্রীয় কাঠামো দিলেও কেন্দ্রের হাতে অনেক বেশি ক্ষমতা ন্যস্ত করে একটি শক্তিশালী কেন্দ্রীয় সরকার গঠন করেছিলেন। 

এর সপক্ষে প্রধান যুক্তিগুলি দেওয়া হলো:

(i) ভারতের ঐক্য ও অখণ্ডতা রক্ষা: দেশভাগের দুঃখজনক অভিজ্ঞতার পর ভারতের বহুত্ববাদী সমাজকে ঐক্যবদ্ধ রাখা এবং বিচ্ছিন্নতাবাদী প্রবণতা রোধ করার জন্য একটি শক্তিশালী কেন্দ্রের প্রয়োজন ছিল। ভারতের প্রায় ৫০০টিরও বেশি দেশীয় রাজ্যকে অন্তর্ভুক্ত করার সময় দেশের অভ্যন্তরীণ শান্তি ও সংহতি বজায় রাখাই ছিল প্রধান লক্ষ্য।

(ii) আর্থিক উন্নতি ও পরিকল্পনা: দেশের দারিদ্র্য, নিরক্ষরতা এবং সামাজিক বৈষম্যের মতো গুরুতর সমস্যাগুলির সমাধান করার জন্য সমগ্র দেশের সম্পদকে সুসংগঠিতভাবে ব্যবহার করা প্রয়োজন ছিল। এই কারণে অর্থনৈতিক উন্নয়নে কেন্দ্রের নেতৃত্বকে বেশি প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।

(iii) জরুরি অবস্থা মোকাবিলার ক্ষমতা: সংবিধানে জরুরি অবস্থার মতো বিশেষ সংকটময় পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে কেন্দ্রকে ব্যাপক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থা জারি হলে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রায় একটি এককেন্দ্রিক ব্যবস্থায় পরিণত হয়,যা দেশকে রক্ষা করতে সহায়ক হয়।

(iv) রাজ্য পুনর্গঠনের ক্ষমতা: ভারতের সংসদ একক সিদ্ধান্তেই যেকোনো রাজ্যের সীমানা পরিবর্তন করতে পারে বা নতুন রাজ্য গঠন করতে পারে, যা পরিবর্তিত পরিস্থিতির প্রয়োজনে সাহায্য করে।

৪। ভারতের কেন্দ্র ও রাজ্যের মধ্যকার সম্পর্কের প্রধান বিবাদ বা বিরোধের ক্ষেত্রগুলি সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ভারতীয় যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় দীর্ঘকাল ধরেই কেন্দ্র ও রাজ্যগুলির সম্পর্কের মধ্যে বিভিন্ন কারণে উত্তেজনা ও বিরোধ দেখা গেছে। এই বিবাদের প্রধান প্রধান ক্ষেত্রগুলি আলোচনা করা হলো:

(i) স্বায়ত্তশাসনের দাবি: পশ্চিমবঙ্গ, তামিলনাড়ু ও পাঞ্জাবের মতো বহু রাজ্যই বিভিন্ন সময়ে কেন্দ্রের আর্থিক ও প্রশাসনিক নিয়ন্ত্রণ কমানোর জন্য এবং রাজ্যগুলির স্বায়ত্তশাসন বৃদ্ধির দাবি জানিয়ে এসেছে।

(ii) রাজ্যপালের ভূমিকা: রাজ্যপালের পদটি কেন্দ্র-রাজ্য বিরোধের সবচেয়ে বিতর্কিত ক্ষেত্রগুলির একটি। রাজ্যপাল যেহেতু নির্বাচিত নন এবং রাষ্ট্রপতি দ্বারা নিযুক্ত হন, তাই অনেক সময় বিরোধী দলশাসিত রাজ্যগুলি অভিযোগ করে যে রাজ্যপাল কেন্দ্রের দলীয় এজেন্ট হিসেবে কাজ করছেন এবং রাজ্য সরকারের কাজে অন্যায় হস্তক্ষেপ করছেন।

(iii) ৩৫৬ নং ধারার অপব্যবহার: সংবিধানে বর্ণিত এই ধারাটির মাধ্যমে যেকোনো রাজ্যের মন্ত্রিসভাকে বরখাস্ত করে রাষ্ট্রপতির শাসন জারি করা যায়। অতীতে বহুবার রাজনৈতিক স্বার্থে বিভিন্ন রাজ্যের নির্বাচিত সরকারকে বরখাস্ত করতে এই ধারার অন্যায় ব্যবহার হয়েছে,যা কেন্দ্র ও রাজ্যের সম্পর্ককে চরম তিক্ত করে তুলেছে।

(iv) আর্থিক সংস্থান ও বৈষম্য: রাজ্যগুলির অভিযোগ যে রাজস্ব আদায়ের প্রধান প্রধান উৎসগুলি কেন্দ্রের হাতে থাকায় রাজ্যগুলিকে সর্বদা অনুদান ও ঋণের জন্য কেন্দ্রের ওপর নির্ভর করতে হয়,যা আর্থিক ক্ষেত্রে বৈষম্য সৃষ্টি করে।

৫। ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ বলতে কী বোঝায়? কয়েকটি রাজ্যের উদাহরণসহ এটি আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতের যুক্তরাষ্ট্রীয় শাসন ব্যবস্থার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও অভিনব বৈশিষ্ট্য হলো দেশের সব রাজ্যের জন্য সমান ক্ষমতা ব্যবহারের পরিবর্তে কিছু নির্দিষ্ট অঞ্চলের ঐতিহাসিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য বিবেচনা করে তাদের জন্য সংবিধানে ‘বিশেষ ব্যবস্থা’ বা বিশেষ সুবিধা রাখা হয়েছে। ক্ষমতার স্বাভাবিক বিভাজনের ক্ষেত্রে সংবিধান সব রাজ্যের জন্য একই ধরনের কাঠামো তৈরি করলেও, বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনা করে কিছু রাজ্যকে অধিক স্বায়ত্তশাসন বা বিশেষ মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

এর প্রধান দিকগুলি আলোচনা করা হলো:

(i) উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলির জন্য বিশেষ মর্যাদা: উত্তর-পূর্ব ভারতের রাজ্যগুলির (যেমন- অসম, নাগাল্যান্ড, অরুণাচল প্রদেশ, মিজোরাম ইত্যাদি) আদিবাসী ও উপজাতি জনগোষ্ঠীর অনন্য সংস্কৃতি ও ইতিহাস রক্ষা করতে ৩৭১ নং ধারার অধীনে বিশেষ আইনি সুরক্ষা দেওয়া হয়েছে।

(ii) পাহাড়ী ও অনগ্রসর রাজ্যগুলির সুরক্ষা: হিমাচল প্রদেশ, অন্ধ্রপ্রদেশ, গোয়া, ওড়িশা, গুজরাট, মহারাষ্ট্র এবং সিকিমের মতো বিভিন্ন রাজ্যের জন্য তাদের ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা বিবেচনা করে সংবিধানে বিশেষ ব্যবস্থার সংস্থান রাখা হয়েছে।

(iii) জম্মু ও কাশ্মীরের বিশেষ পরিস্থিতি: পূর্বে সংবিধানের ৩৭০ নং ধারার মাধ্যমে জম্মু-কাশ্মীর রাজ্যকে অত্যন্ত বিশেষ স্বায়ত্তশাসন ও নিজস্ব সংবিধান রাখার অধিকার দেওয়া হয়েছিল, যা ভারতের অন্যান্য রাজ্যের চেয়ে আলাদা ছিল।

(iv) উদ্দেশ্য: এই বিশেষ ব্যবস্থাগুলির মূল লক্ষ্য হলো দেশের পিছিয়ে পড়া ও প্রান্তিক অঞ্চলের মানুষকে বিচ্ছিন্নতাবাদের দিকে যেতে না দিয়ে জাতীয় মূলধারার সাথে যুক্ত রাখা এবং দেশের সামগ্রিক ঐক্য রক্ষা করা।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top