Class 11 Political Science Important Chapter 17 জাতীয়তাবাদ

Class 11 Political Science Important Chapter 17 জাতীয়তাবাদ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Political Science Important Chapter 17 জাতীয়তাবাদ Solutions and select need one. Class 11 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Political Science Important Notes Bengali Medium.

Class 11 Political Science Important Chapter 17 জাতীয়তাবাদ

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Political Science Important Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Political Science Additional Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 17

Part – 2: রাজনৈতিক তত্ত্ব
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। সাধারণত জাতীয়তাবাদ কী? 

উত্তরঃ জাতীয়তাবাদ হচ্ছে দেশাত্মবোধ,জাতীয় পতাকা এবং দেশের জন্য আত্মবলিদান ইত্যাদির সমষ্টি।

২। কোথায় প্রজাতন্ত্র দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়? 

উত্তরঃ দিল্লিতে প্রজাতন্ত্র দিবসে কুচকাওয়াজ অনুষ্ঠিত হয়।

৩। ঊনবিংশ শতাব্দীতে কোন দুটি রাষ্ট্র জাতীয়তাবাদী একত্রীকরণের ফলে গঠিত হয়েছিল? 

উত্তরঃ ঊনবিংশ শতাব্দীতে জার্মানি ও ইতালি জাতীয়তাবাদী একত্রীকরণের ফলে গঠিত হয়েছিল।

৪। জাতীয়তাবাদী আদর্শের মূল উদ্দেশ্য কী ছিল? 

উত্তরঃ জাতীয়তাবাদী আদর্শের মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈদেশিক শাসন থেকে মুক্তির মাধ্যমে জাতীয় রাষ্ট্র গঠন করা।

৫। ১৯৬০ সালে কোন কোন গোষ্ঠী আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করেছিল? 

উত্তরঃ ১৯৬০ সালে কানদাহর কুবেকুজ, উত্তর স্পেনের বাসকুজ এবং তুরস্ক ও ইরাকের কুর্দিরা আলাদা রাষ্ট্রের দাবিতে আন্দোলন করেছিল।

৬। একটি জাতির অন্যতম প্রধান উপাদান কী? 

উত্তরঃ একটি জাতির অন্যতম প্রধান উপাদান হলো বিশ্বাসের অংশ বা সম্মিলিত বিশ্বাস।

৭। পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম কী? 

উত্তরঃ পণ্ডিত জওহরলাল নেহরুর বিখ্যাত গ্রন্থটির নাম হলো ‘দ্য ডিসকভারি অফ ইন্ডিয়া’।

৮। ইহুদিরা কোন অঞ্চলকে তাদের ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ বলে গণ্য করে? 

উত্তরঃ ইহুদিরা প্যালেস্টাইনকে তাদের নিজস্ব ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ বলে গণ্য করে।

৯। জাতি মূলত কীসের ভিত্তিতে গঠিত হয়? 

উত্তরঃ জাতি মূলত সম্মিলিত বিশ্বাস,ইতিহাস এবং একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডের ওপর ভিত্তি করে গঠিত একটি কাল্পনিক জনগোষ্টী।

১০। রাজনৈতিক আদর্শের দুটি উদাহরণ দাও। 

উত্তরঃ রাজনৈতিক আদর্শের দুটি উদাহরণ হলো গণতন্ত্র এবং ধর্মনিরপেক্ষতা।

১১। ‘বাস্ক’ অঞ্চলটি কোন দেশে অবস্থিত? 

উত্তরঃ বাস্ক অঞ্চলটি স্পেনে অবস্থিত একটি পাহাড়ি ও উন্নত অঞ্চল।

১২। ‘এক কৃষ্টি এক রাষ্ট্র’ নীতিটি কখন বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছিল? 

উত্তরঃ প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নীতিটি বিশেষভাবে কার্যকর হয়েছিল।

১৩। জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ জাতীয় আত্মনিয়ন্ত্রণ বলতে বোঝায় জাতিসমূহের জন্য নিজস্ব স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের অধিকার।

১৪। ভারতীয় সংবিধানে সংখ্যালঘুদের জন্য কী ব্যবস্থা করা হয়েছে? 

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানে ধর্মীয়,ভাষিক ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষার্থে বিভিন্ন ধারা ও উপধারা সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে।

১৫। জাতীয়তাবাদ কোন দুই ধরনের অনুভূতির জন্ম দিতে পারে? 

উত্তরঃ জাতীয়তাবাদ একদিকে যেমন তীক্ষ্ণ আনুগত্যের সৃষ্টি করে,অন্যদিকে তেমনি গভীর ঘৃণারও জন্ম দিতে পারে।

দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো আলোচনা করো। 

উত্তরঃ ইতিবাচক ও নেতিবাচক দিকগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

জাতীয়তাবাদের ইতিবাচক দিক:

(i) মুক্তি ও স্বাধিকার অর্জন: জাতীয়তাবাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইতিবাচক দিক হলো এটি জনগণকে একত্রিত করে এবং তাদের স্বাধিকার অর্জনের মাধ্যমে অত্যাচারী শাসনের হাত থেকে মুক্ত হতে উদ্বুদ্ধ করে। বিশ শতকের প্রথমার্ধে এশিয়া ও আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ ব্রিটিশ, ফরাসি, ডাচ এবং পর্তুগিজ উপনিবেশিক শাসনের বিরুদ্ধে জাতীয়তাবাদী আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়েই স্বাধীনতা সংগ্রাম করেছিল এবং বিজয়ী হয়েছিল।

(ii) একত্রীকরণ ও শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠন: ঊনবিংশ শতাব্দীতে ইউরোপের অনেক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সাম্রাজ্য জাতীয়তাবাদের প্রভাবে একত্রিত হয়ে বৃহৎ ও শক্তিশালী জাতীয় রাষ্ট্র গঠন করেছিল। এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হলো জার্মানি ও ইতালির জাতীয়তাবাদী একত্রীকরণ।

(iii) ঐক্য ও সংহতি: এটি জনগণের মধ্যে দেশাত্মবোধ এবং ত্যাগের মনোভাব জাগ্রত করে। এটি মানুষকে একটি সাধারণ রাজনৈতিক পরিচিতির আওতায় নিয়ে আসে, যা রাষ্ট্রের প্রতি নাগরিকদের তীক্ষ্ণ আনুগত্য নিশ্চিত করে।

জাতীয়তাবাদের নেতিবাচক দিক:

(i) সংঘাত ও ঘৃণা: জাতীয়তাবাদ একদিকে যেমন আনুগত্য সৃষ্টি করে, অন্যদিকে এটি অন্য জাতি বা গোষ্ঠীর প্রতি গভীর ঘৃণারও জন্ম দিতে পারে। এর ফলে পারস্পরিক দ্বন্দ্ব, বিবাদ এবং অবিশ্বাসের সৃষ্টি হয় যা আন্তর্জাতিক শান্তির জন্য হুমকিস্বরূপ।

(ii) বিচ্ছিন্নতাবাদ: জাতীয়তাবাদ অনেক সময় রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বিচ্ছিন্নতাবাদের পথ সুগম করে। যখন কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী নিজেদের আলাদা জাতি হিসেবে গণ্য করে আলাদা রাষ্ট্রের দাবি জানায়, তখন রাষ্ট্রীয় কাঠামো ধ্বংসের উপক্রম হয়। 

(iii) সংখ্যালঘু নিপীড়ন ও সহিংসতা: ঊনবিংশ শতাব্দীর “এক কৃষ্টি এক রাষ্ট্র” নীতিটি অনেক সময় সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য বিপজ্জনক হয়ে দাঁড়ায়। প্রতিটি রাষ্ট্রেই একাধিক সাংস্কৃতিক সম্প্রদায় থাকে, ফলে কোনো একটি বিশেষ সংস্কৃতিকে প্রাধান্য দিলে সংখ্যালঘুরা বৈষম্যের শিকার হয়। 

২। জাতি গঠনের প্রধান উপাদানগুলো সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো। 

উত্তরঃ জাতি গঠনের প্রধান উপাদানগুলো নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) সম্মিলিত বিশ্বাস: জাতির অস্তিত্ব মূলত এর সদস্যদের সম্মিলিত বিশ্বাসের ওপর নির্ভর করে। জাতি কোনো পাহাড়,পর্বত বা প্রাসাদের মতো দৃশ্যমান বস্তু নয় যা আমরা স্পর্শ করতে পারি। এটি মানুষের মনে লালিত একটি চেতনা। একটি জনসমষ্টি তখনই জাতি হিসেবে গণ্য হয়,যখন এর সদস্যরা বিশ্বাস করেন যে তাঁরা একটি ঐক্যবদ্ধ গোষ্ঠী।

(ii) ইতিহাস: জাতি হিসেবে আত্মপ্রকাশকারী জনগোষ্টীর একটি চলমান ঐতিহাসিক পরিচিতি থাকে। তাঁরা সুদূর অতীতের ঐতিহ্য থেকে প্রেরণা সংগ্রহ করে নিজেদের ভবিষ্যৎ রচনা করেন। ভারতীয় জাতীয়তাবাদীরা যেমন প্রাচীন সভ্যতা ও সাংস্কৃতিক পরম্পরার ভিত্তিতে ভারতীয় জাতির দাবি তুলেছেন।

(iii) ভূখণ্ড: একটি নির্দিষ্ট ভৌগোলিক এলাকার সঙ্গে একাত্মবোধ জাতি গঠনের অন্যতম প্রধান উপাদান। কোনো জনসমষ্টি যখন সুদীর্ঘকাল একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে বসবাস করে, তখন তাদের মধ্যে নিবিড় যোগাযোগ ও গভীর একাত্মবোধ তৈরি হয়। তাঁরা সেই ভূমিকে মাতৃভূমি, পিতৃভূমি বা পুণ্যভূমি বলে গণ্য করেন। যেমন, ইহুদিরা প্যালেস্টাইনকে তাঁদের ‘প্রতিশ্রুত ভূমি’ মনে করে।

(iv) রাজনৈতিক আদর্শ: একটি স্বাধীন রাজনৈতিক প্রতিষ্ঠান গড়ার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই জাতিকে অন্যান্য গোষ্ঠী থেকে আলাদা করে। জাতির সদস্যরা রাষ্ট্র গঠনের ক্ষেত্রে একই ধরনের রাজনৈতিক আদর্শ পোষণ করেন। আধুনিক গণতন্ত্রে রাজনৈতিক মূল্যবোধ বা আদর্শ যেমন—গণতন্ত্র, ধর্মনিরপেক্ষতা বা উদারবাদ মানুষকে ঐক্যবদ্ধ রাখার প্রধান ভিত্তি হিসেবে কাজ করে।

৩। ‘এক কৃষ্টি এক রাষ্ট্র’ নীতির সীমাবদ্ধতাগুলো কী কী? 

উত্তরঃ ঊনবিংশ শতাব্দীর ইউরোপে ‘এক কৃষ্টি এক রাষ্ট্র’ স্লোগানটি বিশেষ জনপ্রিয়তা পেয়েছিল এবং প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরবর্তী সময়ে ভার্সাইল সন্ধির মাধ্যমে বিভিন্ন রাষ্ট্রের সীমা নির্ধারণের ক্ষেত্রে এই নীতিটি বিশেষভাবে কার্যকর করা হয়েছিল। 

তবে এই নীতির প্রয়োগের ক্ষেত্রে বেশ কিছু গভীর সীমাবদ্ধতা ও নেতিবাচক প্রভাব লক্ষ্য করা গেছে,যা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) ক্ষুদ্র ও দুর্বল রাষ্ট্রের সৃষ্টি: এই নীতির প্রধান সীমাবদ্ধতা হলো এর ফলে প্রচুর ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র স্বাধীন রাষ্ট্রের সৃষ্টি হয়। ভৌগোলিকভাবে ছোট এবং জনসংখ্যায় কম হওয়ার কারণে এই রাষ্ট্রগুলো রাজনৈতিক এবং অর্থনৈতিক উভয় দিক থেকেই অত্যন্ত দুর্বল থাকে। 

(ii) সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সমস্যা: বাস্তবে দেখা যায় যে, বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রেই একাধিক সাংস্কৃতিক বা জাতিগত সম্প্রদায় বসবাস করে। যখন কোনো রাষ্ট্রকে কেবল একটি বিশেষ সংস্কৃতির ভিত্তিতে চিহ্নিত করা হয়,তখন সেই রাষ্ট্রের অন্যান্য সংখ্যালঘু সাংস্কৃতিক সম্প্রদায়গুলো প্রায়ই বৈষম্য ও অসুবিধার সম্মুখীন হয়। 

(iii) গণতান্ত্রিক আদর্শের পরিপন্থী: কোনো ভূখণ্ডকে একটি বিশেষ ধর্ম বা ভাষার মাধ্যমে রাষ্ট্রীয় পরিচয় প্রদান করলে অন্যান্য গোত্রসমূহ উপেক্ষিত হয় এবং তাদের ধর্মীয় বা ভাষাগত স্বাধীনতা খর্ব হতে পারে। 

(iv) জনস্থানান্তর ও উচ্ছেদ: ‘এক কৃষ্টি এক রাষ্ট্র’ নীতির ভিত্তিতে সীমানা পুনর্গঠন করার ফলে লক্ষ লক্ষ মানুষকে তাদের আদিবাস থেকে উচ্ছেদ হতে হয়েছে। সীমানা পরিবর্তনের কারণে বিপুল সংখ্যক জনসংখ্যাকে এক রাষ্ট্র থেকে অন্য রাষ্ট্রে স্থানান্তরিত হতে বাধ্য করা হয়,যার ফলে তারা কয়েক যুগের ভিটেমাটি হারিয়ে মানবেতর সংকটের মুখে পড়ে।

৪। বাস্ক জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের পটভূমি আলোচনা করো। 

উত্তরঃ স্পেনের বাস্ক জাতীয়তাবাদী আন্দোলন ইউরোপের অন্যতম দীর্ঘস্থায়ী এবং জটিল একটি রাজনৈতিক ইস্যু। এই আন্দোলনের পটভূমি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অবস্থান: স্পেনের বাস্ক অঞ্চলটি ভৌগোলিক দিক থেকে একটি পাহাড়ি এবং অর্থনৈতিকভাবে অত্যন্ত উন্নত অঞ্চল। পাহাড়ি বন্ধুর ভূপ্রকৃতির কারণে এই অঞ্চলটি ঐতিহাসিককাল থেকেই স্পেনের মূল ভূখণ্ড থেকে কিছুটা বিচ্ছিন্ন ছিল। 

(ii) স্বতন্ত্র সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত পরিচয়: বাস্ক জাতীয়তাবাদের প্রধান ভিত্তি হলো তাঁদের স্বতন্ত্র কৃষ্টি ও সংস্কৃতি। বাস্ক জাতীয়তাবাদীদের মতে, তাঁদের সংস্কৃতি স্পেনের প্রধান সংস্কৃতি থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।  সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ভাষা; বাস্ক ভাষার সঙ্গে স্পেনীয় ভাষার কোনো মৌলিক মিল নেই। 

(iii) ঐতিহাসিক স্বশাসন: বাস্কদের স্বশাসনের ইতিহাস অত্যন্ত প্রাচীন। সুদীর্ঘ রোমান শাসন আমল থেকেই বাস্ক অঞ্চলের অধিবাসীরা তাঁদের স্বশাসনের প্রশ্নে কোনো আপস করেননি এবং স্পেনীয় শাসকদের কাছে পুরোপুরি আত্মসমর্পণ করেননি। 

(iv) আধুনিক আন্দোলনের সূত্রপাত: আধুনিক বাস্ক আন্দোলনের সূত্রপাত হয় উনবিংশ শতাব্দীর শেষভাগে। যখন স্পেন সরকার বাস্কদের দীর্ঘদিনের বিশেষ রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থাগুলো বন্ধ করার উদ্যোগ নেয়,তখন এর বিরুদ্ধে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

৫। গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয়তাবাদ ও বহুত্ববাদের সম্পর্ক ব্যাখ্যা করো। 

উত্তরঃ গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় জাতীয়তাবাদ ও বহুত্ববাদের সম্পর্ক বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) সংখ্যালঘু সংস্কৃতির স্বীকৃতি ও সুরক্ষা: বর্তমানে অনেক গণতান্ত্রিক সমাজ উপলব্ধি করেছে যে, একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র গঠনের জন্য কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের প্রাধান্য যথেষ্ট নয়। বরং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসকারী প্রতিটি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কৃষ্টি ও সংস্কৃতির যথাযোগ্য স্বীকৃতি এবং সুরক্ষা প্রয়োজন। 

(ii) সামাজিক সংহতি ও রাজনৈতিক আদর্শ: কেবল সাম্য বা স্বাধীনতার মতো রাজনৈতিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে একটি শক্তিশালী জাতি গঠন করা বর্তমানে প্রায় অসম্ভব। একটি অখণ্ড রাষ্ট্র গঠনের জন্য বিভিন্ন সংস্কৃতির মানুষের সম নাগরিক অধিকার নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। 

(iii) ভারতীয় সংবিধানের উদাহরণ: গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় বহুত্ববাদের সার্থক প্রয়োগ দেখা যায় ভারতীয় সংবিধানে। ভারত একটি বহু কৃষ্টি ও বহু ভাষার দেশ হওয়া সত্ত্বেও এখানে জাতীয়তাবাদ অত্যন্ত প্রবল। এর অন্যতম কারণ হলো ভারতীয় সংবিধানে ধর্মীয়,ভাষিক ও সাংস্কৃতিক সংখ্যালঘুদের স্বার্থ রক্ষায় বিভিন্ন বিশেষ ধারা ও উপধারা সন্নিবিষ্ট করা হয়েছে। 

(iv) জাতীয় পরিচিতির নতুন সংজ্ঞা: আধুনিক গণতন্ত্রে জাতীয় পরিচিতিকে এমনভাবে বর্ণনা করা হয় যাতে রাষ্ট্রের প্রতিটি সম্প্রদায়ের অবদান ও গুরুত্ব স্বীকৃত হয়। এখানে জাতীয়তাবাদ কোনো নির্দিষ্ট একটি ধর্ম বা ভাষাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে না, বরং দেশের সংবিধান ও গণতান্ত্রিক মূল্যবোধকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়। 

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top