Class 11 Political Science Important Chapter 18 ধর্মনিরপেক্ষতা

Class 11 Political Science Important Chapter 18 ধর্মনিরপেক্ষতা Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Political Science Important Chapter 18 ধর্মনিরপেক্ষতা Solutions and select need one. Class 11 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Political Science Important Notes Bengali Medium.

Class 11 Political Science Important Chapter 18 ধর্মনিরপেক্ষতা

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Political Science Important Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Political Science Additional Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 18

Part – 2: রাজনৈতিক তত্ত্ব
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। ধর্ম নিরপেক্ষতা মূলতঃ কিসের বিরোধিতা করে? 

উত্তরঃ ধর্ম নিরপেক্ষতা আন্তঃধর্মীয় এবং স্ব-ধর্মীয় আধিপত্যের বিরোধিতা করে।

২। আন্তঃধর্মীয় আধিপত্যের একটি উদাহরণ দাও। 

উত্তরঃ ১৯৮৪ সালে দিল্লিতে শিখ হত্যা অথবা ২০০২ সালে গুজরাটে মুসলিম হত্যা আন্তঃধর্মীয় আধিপত্যের উদাহরণ।

৩। স্ব-ধর্মীয় আধিপত্যের একটি উদাহরণ কী? 

উত্তরঃ হিন্দু ধর্মে দলিতদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা প্রদান করা স্ব-ধর্মীয় আধিপত্যের একটি উদাহরণ।

৪। ধর্মীয় রাষ্ট্র বা ‘Theocratic State’ বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ যে রাষ্ট্র ধর্মীয় প্রধান বা যাজক দ্বারা শাসিত ও চালিত হয়, তাকে ধর্মীয় রাষ্ট্র বলে।

৫। ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে বিভেদ মানে না এমন একটি রাষ্ট্রের নাম বলো। 

উত্তরঃ বর্তমান তালিবান নিয়ন্ত্রিত রাষ্ট্রগুলো ধর্ম ও রাজনীতির মধ্যে কোনো বিভেদ মানে না।

৬। ধর্ম নিরপেক্ষতার পাশ্চাত্য নমুনার মূল বৈশিষ্ট্য কী? 

উত্তরঃ পাশ্চাত্য নমুনার মূল বৈশিষ্ট্য হলো রাষ্ট্র ও ধর্মের পারস্পরিক বর্জন বা সম্পূর্ণ পৃথকীকরণ।

৭। তুর্কী ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রবর্তক কে ছিলেন? 

উত্তরঃ মুস্তাফা কামাল আতাতুর্ক তুর্কী ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রবর্তন করেছিলেন।

৮। ‘আতাতুর্ক’ শব্দটির অর্থ কী? 

উত্তরঃ ‘আতাতুর্ক’ শব্দটির অর্থ হলো তুর্কী জাতির জনক।

৯। তুর্কী ‘টুপি আইন’ কী ছিল? 

উত্তরঃ তুর্কী টুপি আইন দ্বারা মুসলমানদের মাথায় পরা পরম্পরাগত টুপি বা ‘ফেজ’ নিষিদ্ধ করা হয়েছিল।

১০। ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতার মূল প্রবক্তা বা দ্রষ্টা কে ছিলেন? 

উত্তরঃ জওহরলাল নেহরু ছিলেন ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতার প্রধান দ্রষ্টা।

১১। নেহরুর দৃষ্টিতে ধর্ম নিরপেক্ষতা বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ নেহরুর কাছে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানেই ধর্মের প্রতি বিরোধিতা নয়, বরং সকল ধর্মকে সমান মর্যাদা দান করা।

১২। ‘নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী দূরত্ব’ বলতে কী বোঝায়? 

উত্তরঃ রাষ্ট্র ধর্মীয় ব্যাপারে প্রয়োজন অনুযায়ী হস্তক্ষেপ করতে পারে অথবা দূরে থাকতে পারে, একেই নির্ধারিত দূরত্ব বলে।

১৩। ভারতীয় সংবিধানের কোন ধারা ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের অধিকার প্রদান করে? 

উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধান ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপনের অধিকার প্রদান করে।

১৪। ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে একটি সমালোচনার নাম লেখো। 

উত্তরঃ ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে একটি প্রধান সমালোচনা হলো এটি ‘ভোট ব্যাঙ্ক রাজনীতি’কে উৎসাহ দেয়।

১৫। ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতা কি পাশ্চাত্য নমুনার নকল? 

উত্তরঃ না,ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতা পাশ্চাত্য ও প্রাচ্যের অভিজ্ঞতার সংমিশ্রণে তৈরি একটি স্বতন্ত্র ধারণা।

দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। আন্তঃধর্মীয় এবং স্ব-ধর্মীয় আধিপত্য বলতে কী বোঝায়? পাঠ্যপুস্তকের উদাহরণসহ আলোচনা করো। 

উত্তরঃ আন্তঃধর্মীয় আধিপত্য: আন্তঃধর্মীয় আধিপত্য বলতে এমন এক পরিস্থিতিকে বোঝায় যেখানে একটি ধর্মীয় গোষ্ঠী অন্য একটি ধর্মীয় গোষ্ঠীর ওপর আধিপত্য বিস্তার করে,তাদের ওপর বৈষম্যমূলক আচরণ করে বা সরাসরি অত্যাচার চালায়। এটি মূলত এক ধর্মের মানুষের প্রতি অন্য ধর্মের মানুষের অসহিষ্ণুতার বহিঃপ্রকাশ। 

পাঠ্যপুস্তকে ভারতে ঘটে যাওয়া এই ধরনের আধিপত্যের তিনটি বড়উদাহরণ দেওয়া হয়েছে:

(i) ১৯৮৪ সালের শিখ হত্যা: দিল্লিতে এবং দেশের অন্যান্য প্রান্তে প্রায় চার হাজার শিখ ধর্মাবলম্বীকে হত্যা করা হয়েছিল।

(ii) কাশ্মীরি পণ্ডিতদের উচ্ছেদ: ১৯৯০-এর দশকে কাশ্মীরি পণ্ডিতদের তাদের নিজস্ব ঘরবাড়ি ও উপত্যকা ছেড়ে চলে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল এবং তারা আজও নিজগৃহে ফিরতে পারেনি।

(iii) ২০০২ সালের গুজরাট দাঙ্গা: গুজরাটে প্রায় দুই হাজার মুসলিম ধর্মাবলম্বীকে হত্যা করা হয়েছিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলো আজও স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে লড়াই করছে।

স্স্ব-ধর্মীয় আধিপত্য হলো যখন একই ধর্মের অভ্যন্তরে কোনো নির্দিষ্ট গোষ্ঠী, বর্ণ বা লিঙ্গের ওপর অন্য গোষ্ঠী আধিপত্য বিস্তার করে বা বৈষম্য করে। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় যে একটি ধর্মের ভেতরেই গভীর ভেদাভেদ ও উঁচু-নিচুর স্তর বিদ্যমান থাকে। 

এর প্রধান উদাহরণগুলো হলো:

(i) জাতপাত ও অস্পৃশ্যতা: হিন্দু ধর্মের ভেতরে উচ্চবর্ণের মানুষজন দীর্ঘকাল ধরে দলিতদের ওপর আধিপত্য বজায় রেখেছে। অনেক ক্ষেত্রে দলিতদের মন্দিরে প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।

(ii) লিঙ্গ বৈষম্য: প্রায় সব ধর্মেই পুরুষ ও মহিলাদের সমান মর্যাদা দেওয়ার ক্ষেত্রে সমস্যা লক্ষ্য করা যায়। উদাহরণস্বরূপ, কোনো কোনো অঞ্চলে হিন্দু মহিলাদের মন্দিরে প্রবেশ করতে দেওয়া হয় না।

২। নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী দূরত্ব’ বলতে কী বোঝায়? ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব লেখো। 

উত্তরঃ নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী দূরত্ব’ বলতে পাশ্চাত্য মডেলে রাষ্ট্র ধর্মীয় ব্যাপারে কোনোভাবেই হস্তক্ষেপ করে না এবং ধর্মও রাষ্ট্রের কাজে মাথা ঘামায় না। কিন্তু ভারতের মতো বহু-ধর্মীয় দেশে রাষ্ট্র নিজেকে ধর্ম থেকে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন রাখতে পারে না। 

এখানে নির্ধারিত নীতি অনুযায়ী দূরত্বের অর্থ হলো:

(i) রাষ্ট্র কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত হবে না এবং কোনো ধর্মকে রাষ্ট্রীয় ধর্ম হিসেবে গ্রহণ করবে না।

(ii) রাষ্ট্র প্রয়োজন অনুযায়ী কোনো ধর্মীয় বিষয়ে হস্তক্ষেপ করতে পারে আবার কোনো বিষয়ে দূরেও থাকতে পারে। এই হস্তক্ষেপ বা দূরত্ব বজায় রাখা কোনো খামখেয়ালি সিদ্ধান্ত নয়,বরং এটি শান্তি, স্বাধীনতা এবং সাম্যের মতো সাংবিধানিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়।

ভারতীয় প্রেক্ষাপটে এর গুরুত্ব: 

(i) সামাজিক সংস্কার ও সাম্য প্রতিষ্ঠা: হিন্দু ধর্মের অস্পৃশ্যতা বা জাতপাতের মতো কুপ্রথাগুলো দূর করতে রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ জরুরি ছিল। ‘নির্ধারিত দূরত্ব’ নীতির ফলেই ভারতীয় সংবিধানে অস্পৃশ্যতা নিষিদ্ধ করা সম্ভব হয়েছে। 

(ii) সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা: ভারতের মতো দেশে সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের আধিপত্য থেকে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের রক্ষা করা প্রয়োজন। এই নীতির মাধ্যমে রাষ্ট্র সংখ্যালঘুদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার বিশেষ অধিকার দেয়, যা তাদের অস্তিত্ব ও সংস্কৃতিকে টিকিয়ে রাখতে সাহায্য করে।

(iii) আন্তঃধর্মীয় ও স্ব-ধর্মীয় আধিপত্য রোধ: ধর্ম নিরপেক্ষতার মূল লক্ষ্য হলো এক ধর্মের ওপর অন্য ধর্মের আধিপত্য এবং ধর্মের ভেতরে এক গোষ্ঠীর ওপর অন্য গোষ্ঠীর আধিপত্য বন্ধ করা। নির্ধারিত দূরত্বের নীতি রাষ্ট্রকে এই উভয় প্রকার আধিপত্যের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ দেয়।

৩। তুর্কী আধুনিকীকরণে মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের ভূমিকা এবং তাঁর ধর্ম নিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্য ব্যাখ্যা করো। 

উত্তরঃ আধুনিকীকরণে আতাতুর্কের ভূমিকা তুরস্কের সমাজ ও সংস্কৃতিকে পাশ্চাত্য ধাঁচে গড়ে তুলতে তিনি বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন:

(i) খিলাফত ব্যবস্থার অবসান: আতাতুর্ক তুর্কী জনজীবন থেকে দীর্ঘদিনের পুরনো ‘খলিফা’ বা খিলাফত ব্যবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য দৃঢ়প্রতিজ্ঞ ছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন শাসন ব্যবস্থা হবে সম্পূর্ণ জনগণের এবং আধুনিক রাজনৈতিক আদর্শের ওপর ভিত্তি করে।

(ii) বর্ণমালা ও পঞ্জিকার পরিবর্তন: আধুনিক শিক্ষার প্রসারের লক্ষ্যে ১৯২৮ সালে তিনি আরবি বর্ণমালার পরিবর্তে ল্যাটিন বর্ণমালার ওপর ভিত্তি করে নতুন তুর্কী বর্ণমালা প্রবর্তন করেন। এছাড়াও তিনি তুরস্কের প্রচলিত পঞ্জিকা বাতিল করে পাশ্চাত্য বা গ্রেগরিয়ান পঞ্জিকা গ্রহণ করেন।

(iii) পোশাক ও জীবনযাত্রার পরিবর্তন: জনগণকে আধুনিক জীবনযাত্রায় অভ্যস্ত করতে তিনি ‘টুপি আইন’ প্রবর্তন করেন, যার মাধ্যমে মুসলমানদের মাথায় পরা প্রথাগত টুপি বা ‘ফেজ’ নিষিদ্ধ করা হয়। 

আতাতুর্কের ধর্ম নিরপেক্ষতার বৈশিষ্ট্য:

(i) সক্রিয় হস্তক্ষেপকারী প্রকৃতি: তুরস্কের ধর্ম নিরপেক্ষতা কেবল ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে বিচ্ছেদ বা নীতিগত দূরত্ব বজায় রাখা ছিল না। বরং এটি ছিল ধর্মের মধ্যে জড়িয়ে থাকা বিভিন্ন প্রথা ও বিষয়গুলোতে রাষ্ট্রীয় উদ্যোগে সক্রিয়ভাবে হস্তক্ষেপ করে ধর্মকে দমন করার একটি রূপ।

(ii) ধর্মকে জনজীবন থেকে দূরে রাখা: আতাতুর্ক চেয়েছিলেন ধর্মের প্রভাব কেবল মানুষের ব্যক্তিগত বিশ্বাসের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকুক। রাষ্ট্রীয় কোনো কাজে বা সামাজিক প্রথায় ধর্মের কোনো স্থান থাকবে না, এই লক্ষ্যেই তিনি কাজ করেছেন।

(iii) বাধ্যতামূলক আধুনিকীকরণ: তাঁর ধর্ম নিরপেক্ষতা ছিল মূলত রাষ্ট্রকে আধুনিক করার একটি হাতিয়ার। তিনি মনে করতেন প্রথাগত ভাবনাচিন্তা তুরস্কের হীন অবস্থার জন্য দায়ী,তাই জোরপূর্বক হলেও তিনি আধুনিক বিজ্ঞানমনস্ক সমাজ গড়তে চেয়েছিলেন।

৪। ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতা প্রসঙ্গে জওহরলাল নেহরুর দৃষ্টিভঙ্গি আলোচনা করো। 

উত্তরঃ নেহরুর ধর্ম নিরপেক্ষতার দৃষ্টিভঙ্গি নিচে বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) ধর্ম নিরপেক্ষতার সংজ্ঞা ও মূল আদর্শ: নেহরুর মতে, ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র মানে এই নয় যে রাষ্ট্র ধর্মবিরোধী হবে। তিনি বিশ্বাস করতেন এমন একটি রাষ্ট্রের প্রয়োজন যা “সকল ধর্মকে সমানভাবে রক্ষা করবে”। তাঁর দৃষ্টিতে ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্রে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মকে ‘রাষ্ট্রীয় ধর্ম’ হিসেবে গ্রহণ করা হবে না এবং রাষ্ট্র কোনো বিশেষ ধর্মের প্রতি পক্ষপাতিত্ব দেখাবে না। 

(ii) তুর্কী মডেলের সাথে পার্থক্য: নেহরুর ধর্ম নিরপেক্ষতার মডেলটি তুরস্কের মুস্তাফা কামাল আতাতুর্কের মডেল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ছিল। আতাতুর্ক রাষ্ট্রীয় শক্তির মাধ্যমে ধর্মকে দমন করার চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু নেহরু ধর্ম ও রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্নতার পক্ষপাতী ছিলেন না। 

(iii) সামাজিক সংস্কার ও রাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ: নেহরু দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করতেন যে একটি ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র প্রয়োজনে ধর্মীয় ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করে সামাজিক কুসংস্কার ও অন্যায় দূর করতে পারে। তাঁর এই চিন্তাধারার ফলেই ভারতে জাতিভেদ প্রথা,পণপ্রথা এবং সতীদাহ প্রথা বিলোপের মতো গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়ন করা সম্ভব হয়েছিল। 

(iv) সাম্প্রদায়িকতার বিরোধিতা: নেহরু বিভিন্ন বিষয়ে নমনীয় হলেও সাম্প্রদায়িকতার প্রশ্নে ছিলেন অত্যন্ত কঠোর ও আপসহীন। তাঁর কাছে ধর্ম নিরপেক্ষতা মানেই ছিল সবরকম সাম্প্রদায়িকতার সম্পূর্ণ বিরোধিতা। তিনি সংখ্যাগুরু সম্প্রদায়ের সাম্প্রদায়িক সংকীর্ণতার তীব্র সমালোচনা করতেন, কারণ তিনি মনে করতেন এটি জাতীয় ঐক্য ও সংহতির জন্য বড় হুমকি।

৫। ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান সমালোচনাগুলো বিশ্লেষণ করো। 

উত্তরঃ ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতার বিরুদ্ধে ওঠা প্রধান সমালোচনা এবং সেগুলোর যৌক্তিকতা বিশ্লেষণ করা হলো:

(i) ধর্মবিরোধী: একটি প্রধান সমালোচনা হলো ধর্ম নিরপেক্ষতা ধর্মের বিরোধী। তবে এর বিপরীতে যুক্তি দেওয়া হয় যে,ধর্ম নিরপেক্ষতা আসলে ধর্মের শত্রু নয়, বরং এটি সকল ধর্মের সমতা ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বৃদ্ধি করে। এটি ব্যক্তির ধর্মীয় পরিচয় রক্ষা করতে সাহায্য করে এবং কেবল ধর্মের মধ্যে থাকা উগ্রতা বা হিংসাত্মক দিকগুলোর বিরোধিতা করে।

(ii) পাশ্চাত্য আমদানিকৃত: অনেক সমালোচক মনে করেন যে ধর্ম নিরপেক্ষতার ধারণাটি পাশ্চাত্য থেকে ধার করা এবং এটি ভারতের মতো একটি ধার্মিক দেশের জন্য অনুপযুক্ত। কিন্তু এর উত্তরে বলা হয় যে,ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতা কেবল পাশ্চাত্যের নকল নয়। এটি ভারতের নিজস্ব ইতিহাস,বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন ধর্মীয় সম্প্রদায়ের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে। 

(iii) সংখ্যালঘুবাদ: সমালোচকদের মতে,ভারতীয় ধর্ম নিরপেক্ষতা সংখ্যালঘুদের বিশেষ অধিকার বা সুযোগ-সুবিধা প্রদানের মাধ্যমে ‘সংখ্যালঘুবাদ’ প্রচার করে। এর জবাবে পাঠ্যপুস্তকে বলা হয়েছে যে, সংখ্যালঘুদের বিশেষ অধিকার দেওয়া কোনো অন্যায্য পক্ষপাতিত্ব নয়। 

(iv) হস্তক্ষেপকারী: কেউ কেউ মনে করেন যে রাষ্ট্র ধর্মীয় সংস্কারে হস্তক্ষেপ করে সম্প্রদায়ের ধর্মীয় স্বাধীনতায় বাধা দান করে। তবে ভারতীয় মডেল অনুযায়ী, রাষ্ট্র কেবল তখনই হস্তক্ষেপ করে যখন কোনো ধর্মীয় প্রথা মানুষের মৌলিক অধিকার ক্ষুণ্ণ করে। উদাহরণস্বরূপ,অস্পৃশ্যতা দূর করা বা বাল্যবিবাহ রোধের মতো সামাজিক সংস্কারগুলো করতে রাষ্ট্রের এই ইতিবাচক হস্তক্ষেপের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top