Class 11 Bengali MIL Important Chapter 2 কালকেতুর ভোজন Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Bengali MIL Important Chapter 2 কালকেতুর ভোজন Solutions and select need one. Class 11 Bengali MIL Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Bengali MIL Additional Question Answer.
Class 11 Bengali MIL Important Chapter 2 কালকেতুর ভোজন
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Bengali MIL Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Bengali MIL Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
কালকেতুর ভোজন
Chapter: 2
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ‘কালকেতুর ভোজন’ পাঠটি কার লেখা?
উত্তরঃ পাঠটি কবি কবিকঙ্কন মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা।
২। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কোন যুগের কবি ছিলেন?
উত্তরঃ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবি ছিলেন।
৩। ‘কালকেতুর ভোজন’ পাঠটি কোন কাব্যের অন্তর্ভুক্ত?
উত্তরঃ এই পাঠটি কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর লেখা ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের অন্তর্ভুক্ত।
৪। কবির আদি নিবাস কোথায় ছিল?
উত্তরঃ কবির আদি নিবাস ছিল বর্ধমান জেলার রত্না নদীর তীরে দামুন্যা (মতান্তরে দামিণ্যা) গ্রামে।
৫। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর পিতামহ ও পিতার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ কবির পিতামহ ছিলেন পরম বৈষ্ণব জগন্নাথ মিশ্র এবং পিতার নাম ছিল হৃদয় মিশ্র।
৬। কবি কেন তাঁর পৈতৃক গ্রাম দামুন্যা ত্যাগ করেছিলেন?
উত্তরঃ ডিহিদার মাহমুদ শরিফের অত্যাচারে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট দেখা দেওয়ায় কবি গ্রাম ত্যাগ করেন।
৭। গ্রাম ত্যাগ করে কবি কোথায় আশ্রয় নিয়েছিলেন?
উত্তরঃ গ্রাম ত্যাগ করে কবি মেদিনীপুর অঞ্চলের জমিদার বাঁকুড়া রায়ের সভায় উপস্থিত হয়ে তাঁর কৃপাদৃষ্টি লাভ করেন।
৮। মুকুন্দরাম চক্রবর্তী কার গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন?
উত্তরঃ কবি বাঁকুড়া রায়ের পুত্র রঘুনাথ রায়ের গৃহশিক্ষক হিসেবে নিযুক্ত হয়েছিলেন।
৯। চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি কয়টি খণ্ডে বিভক্ত?
উত্তরঃ চণ্ডীমঙ্গল কাব্যটি তিনটি খণ্ডে বিভক্ত— দেবখণ্ড, আখেটিক (বা ব্যাধ) খণ্ড এবং বণিকখণ্ড।
১০। ‘কালকেতুর ভোজন’ অংশটি কোন খণ্ড থেকে নেওয়া হয়েছে?
উত্তরঃ এই অংশটি চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের ‘আখেটিক’ বা ‘ব্যাধ’ খণ্ড থেকে সংকলিত হয়েছে।
১১। কালকেতুর স্ত্রীর নাম কী ছিল?
উত্তরঃ কালকেতুর স্ত্রীর নাম ছিল ফুল্লরা।
১২। কালকেতু এক নিঃশ্বাসে কত হাঁড়ি আমানি পান করেছিলেন?
উত্তরঃ কালকেতু এক নিঃশ্বাসে সাত হাঁড়ি আমানি পান করেছিলেন।
১৩। কালকেতু খাবারের শুরুতে কীভাবে নিজের গোঁফ বেঁধেছিলেন?
উত্তরঃ কালকেতু খাওয়ার আগে তাঁর দুই গোঁফ মুচড়িয়ে ঘাড়ের দিকে বেঁধে নিয়েছিলেন।
১৪। ফুল্লরা কিসে করে কালকেতুকে জল খেতে দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ ফুল্লরা একটি ‘বোঁচা নারিকেলে’ (অর্থাৎ ভাঙা নারকেলের মালায়) জল ভরে কালকেতুকে দিয়েছিলেন।
১৫। ভোজনের শেষে মুখশুদ্ধি হিসেবে কালকেতু কী খেয়েছিলেন?
উত্তরঃ ভোজনের শেষে কালকেতু মুখশুদ্ধি হিসেবে ‘হবীতকী’ (হরিতকী) খেয়েছিলেন।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। ‘কালকেতুর ভোজন’ অবলম্বনে কালকেতুর ভোজনের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় দাও।
উত্তরঃ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তী তাঁর ‘কালকেতুর ভোজন’ পাঠে কালকেতুর আহারের এক অত্যন্ত বাস্তব ও কৌতুকপূর্ণ চিত্র অঙ্কন করেছেন। কালকেতু ছিল ব্যাধ নন্দন, তাই তার আহারের পরিমাণ ও ধরণ ছিল সাধারণ মানুষের চেয়ে আলাদা। খাওয়ার শুরুতে সে তার গোঁফ দুটিকে মুচড়িয়ে ঘাড়ের কাছে বেঁধে নেয় এবং এক নিঃশ্বাসে সাত হাঁড়ি আমানি (পান্তা ভাতের জল) পান করে। এরপর সে একে একে চার হাঁড়ি খুদ-জাউ এবং ছয় হাঁড়ি মুসুরী-ডালের সুপের সঙ্গে লাউ মিশিয়ে আহার করে। এছাড়া তার পাতে ছিল প্রচুর পরিমাণে আলু ও ওল পোড়া এবং করঞ্জা ও আমড়া দিয়ে রান্না করা কচু। শেষে দই ও অন্ন দিয়ে তিন হাঁড়ি ভাত খেয়ে সে তার ভোজন সমাপ্ত করে। ভোজনের এই বর্ণনা কালকেতুর আদিম ও অরণ্যচারী স্বভাবকে নিপুণভাবে ফুটিয়ে তোলে।
২। কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর জীবন পরিচয় ও তাঁর দেশত্যাগের কারণ আলোচনা করো।
উত্তরঃ মুকুন্দরাম চক্রবর্তী ছিলেন মধ্যযুগের চণ্ডীমঙ্গল কাব্যের সর্বশ্রেষ্ঠ কবি। তিনি বর্ধমান জেলার দামুন্যা গ্রামে বসবাস করতেন, যেখানে তাঁর পরিবার কয়েক পুরুষ ধরে বাস করছিল। তাঁর পিতার নাম হৃদয় মিশ্র এবং পিতামহ ছিলেন জগন্নাথ মিশ্র। তৎকালীন সময়ে ডিহিদার মাহমুদ শরিফের অত্যাচারে গ্রামে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় নেমে আসে,ফলে কবি তাঁর পৈতৃক ভিটা ত্যাগ করে মেদিনীপুরের দিকে পাড়ি জমান। পথে অনেক কষ্ট সহ্য করার পর তিনি ব্রাহ্মণভূম বা আড়রা গ্রামের জমিদার বাঁকুড়া রায়ের আশ্রয় লাভ করেন। কবির পাণ্ডিত্য ও কবিত্বে মুগ্ধ হয়ে বাঁকুড়া রায় তাঁকে তাঁর পুত্র রঘুনাথের গৃহশিক্ষক নিযুক্ত করেন। পরবর্তীতে রঘুনাথ রাজা হলে তাঁরই উৎসাহে ও দেবী চণ্ডীর স্বপ্নাদেশে মুকুন্দরাম তাঁর বিখ্যাত ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যটি রচনা করেন।
৩। ‘কালকেতুর ভোজন’ কবিতায় হাস্যরস ও বাস্তবধর্মী বর্ণনার যে পরিচয় পাওয়া যায় তা বুঝিয়ে বলো।
উত্তরঃ মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর অন্যতম প্রধান গুণ হলো তাঁর প্রখর পর্যবেক্ষণ ক্ষমতা এবং উপন্যাসের মতো চরিত্র সৃষ্টির দক্ষতা। ‘কালকেতুর ভোজন’ পাঠে তিনি কালকেতুর মতো এক আদিম ব্যাধের আহারের দৃশ্য বর্ণনায় কৌতুক রসের অবতারণা করেছেন। কালকেতুর অতিকায় দেহ এবং তার বিশাল খিদের বর্ণনা দিতে গিয়ে কবি দেখিয়েছেন সে কীভাবে এক নিঃশ্বাসে সাত হাঁড়ি আমানি শেষ করে দেয়। ছোট গ্রাস তোলার সময় তার হাতকে তাল গাছের সঙ্গে তুলনা করা হয়েছে,যা হাস্যরসের সৃষ্টি করে। আবার এই কৌতুক বর্ণনার আড়ালে তৎকালীন সমাজের দরিদ্র ব্যাধদের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রার বাস্তব ছবি ফুটে উঠেছে। কবির এই বাস্তবধর্মী দৃষ্টি ও জীবনবোধের জন্যই কালকেতু চরিত্রটি অত্যন্ত প্রাণবন্ত হয়ে উঠেছে।
৪। কালকেতুর ভোজনের আগে ফুল্লরা কীভাবে প্রস্ততি ও পরিবেশন করেছিল তার বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ কালকেতু যখন দূর থেকে ভোজনের জন্য সাড়া দেয়,তখন ফুল্লরা সসম্ভ্রমে তাকে বসতে দেয়। বসার জন্য সে হরিণের ছাল বিছিয়ে দেয়। কালকেতুকে হাত-মুখ ধোয়ার জন্য ফুল্লরা একটি ভাঙা নারকেলের মালায় জল এনে দেয়। কালকেতু হাত-পা ধুয়ে মন প্রসন্ন করে ভোজনে বসে। পরিবেশনের সময় ফুল্লরা মাটির থালায় খাবার বেড়ে দেয় এবং ব্যঞ্জন খাওয়ার জন্য নতুন মাটির পাত্র বা খাপরা ব্যবহার করে। ফুল্লরার এই আন্তরিক সেবা ও সাধারণ উপকরণের মাধ্যমে পরিবেশন তৎকালীন গ্রামীণ বাংলার এক অনাড়ম্বর অথচ ভক্তিপূর্ণ গৃহস্থালির পরিচয় দেয়।
৫। মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যের খণ্ডসমূহ এবং ‘কালকেতুর ভোজন’ পাঠটির উৎস সম্পর্কে লেখো।
উত্তরঃ কবি মুকুন্দরাম চক্রবর্তীর অমর সৃষ্টি ‘চণ্ডীমঙ্গল’ কাব্যটি মূলত তিনটি খণ্ডে বিভক্ত— দেবখণ্ড, আখেটিক বা ব্যাধ খণ্ড এবং বণিকখণ্ড। দেবখণ্ডে দেবী দুর্গার পৌরাণিক কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। আখেটিক খণ্ডে কালকেতু ও ফুল্লরার উপাখ্যানের মাধ্যমে মর্ত্যে দেবীর পূজা প্রচারের কাহিনী স্থান পেয়েছে। বণিকখণ্ডে ধনপতি ও খুল্লনার কাহিনী বর্ণিত হয়েছে। আমাদের পাঠ্য ‘কালকেতুর ভোজন’ কবিতাটি এই কাব্যের দ্বিতীয় খণ্ড অর্থাৎ ‘আখেটিক খণ্ড’ থেকে সংকলিত হয়েছে। এই খণ্ডটি কালকেতুর জীবন সংগ্রাম ও দেবীর কৃপা লাভের বর্ণনায় সমৃদ্ধ, যার একটি ক্ষুদ্র অংশ হলো এই ভোজন পর্ব। কবি তাঁর অসাধারণ কাব্য প্রতিভার মাধ্যমে এই প্রাচীন কাহিনীকে তৎকালীন বাঙালি সমাজের প্রাত্যহিক অভিজ্ঞতার সঙ্গে যুক্ত করেছেন।

