Class 11 Bengali MIL Important Chapter 10 লজ্জাবতী Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Bengali MIL Important Chapter 10 লজ্জাবতী Solutions and select need one. Class 11 Bengali MIL Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Bengali MIL Additional Question Answer.
Class 11 Bengali MIL Important Chapter 10 লজ্জাবতী
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Bengali MIL Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Bengali MIL Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
লজ্জাবতী
Chapter: 10
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ‘লজ্জাবতী’ গল্পটি কার লেখা?
উত্তরঃ গল্পটি প্রখ্যাত সাহিত্যিক স্বর্ণকুমারী দেবীর লেখা।
২। প্রথম ভারতীয় মহিলা ঔপন্যাসিক কে ছিলেন?
উত্তরঃ প্রথম ভারতীয় মহিলা ঔপন্যাসিক ছিলেন স্বর্ণকুমারী দেবী।
৩। স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম কবে হয়েছিল?
উত্তরঃ স্বর্ণকুমারী দেবীর জন্ম হয়েছিল ১৮৫৫ (মতান্তরে ১৮৫৬) খ্রিস্টাব্দের ২৮ আগস্ট।
৪। স্বর্ণকুমারী দেবীর পিতা ও মাতার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ তাঁর পিতার নাম ছিল মহর্ষি দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুর এবং মাতার নাম ছিল সারদাদেবী।
৫। স্বর্ণকুমারী দেবী কোন বিখ্যাত পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন?
উত্তরঃ তিনি ঠাকুরবাড়ির বিখ্যাত ‘ভারতী’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন।
৬। স্বর্ণকুমারী দেবী কত বছর ‘ভারতী’ পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন?
উত্তরঃ তিনি মোট বারো বছর এই পত্রিকা সম্পাদনা করেছিলেন।
৭। স্বর্ণকুমারী দেবী ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কী পদক পেয়েছিলেন?
উত্তরঃ তিনি ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ পেয়েছিলেন।
৮। গল্পের নায়িকার নাম কেন ‘লজ্জাবতী’ রাখা হয়েছিল?
উত্তরঃ ছোটবেলায় কোনো দোষ করলে পিতা-মাতা তিরস্কার করলে সে লজ্জাবতী লতার মতো সংকুচিত হয়ে পড়ত বলে তাকে আদরে ‘লজ্জাবতী’ বলে ডাকা হতো।
৯। লজ্জাবতীর ননদের নাম কী ছিল?
উত্তরঃ লজ্জাবতীর ননদের নাম ছিল ফুলকুমারী।
১০। ফুলকুমারী বিয়ের কত বছর পর তার বাপের বাড়িতে এসেছিল?
উত্তরঃ ফুলকুমারী বিয়ের চৌদ্দ বছর পর তার বাপের বাড়িতে এসেছিল।
১১। লজ্জাবতীর মেয়ের নাম কী ছিল?
উত্তরঃ লজ্জাবতীর মেয়ের নাম ছিল পুঁটুরানী।
১২। স্বর্ণকুমারী দেবী ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে কলকাতায় কোন সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন?
উত্তরঃ তিনি ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে ‘সখীসমিতি’ নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেছিলেন।
১৩। লজ্জাবতীর শাশুড়ির বাবার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ লজ্জাবতীর শাশুড়ির বাবার নাম ছিল হরিমোহন ঘোষ।
১৪। স্বর্ণকুমারী দেবীর লেখা দুটি উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তরঃ তাঁর লেখা দুটি উল্লেখযোগ্য উপন্যাস হলো ‘দীপনির্বাণ’ এবং ‘মিবার-রাজ’।
১৫। স্বর্ণকুমারী দেবী কবে পরলোকগমন করেন?
উত্তরঃ তিনি ১৯৩২ খ্রিস্টাব্দের ৩ জুলাই পরলোকগমন করেন।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। সাহিত্যিক ও সমাজসেবী হিসেবে স্বর্ণকুমারী দেবীর কৃতিত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ স্বর্ণকুমারী দেবী ছিলেন আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত এবং প্রগতিশীল মনের অধিকারী একজন বহুমুখী প্রতিভা। তিনি ছিলেন প্রথম ভারতীয় মহিলা ঔপন্যাসিক এবং ছোটগল্প রচনায় তাঁর বিশেষ দক্ষতা ছিল। তিনি দীর্ঘ বারো বছর ধরে ‘ভারতী’ পত্রিকা সফলভাবে সম্পাদনা করে তাঁর অসামান্য সম্পাদনা শৈলীর পরিচয় দিয়েছিলেন। তাঁর রচিত উল্লেখযোগ্য উপন্যাসের মধ্যে রয়েছে ‘দীপনির্বাণ’, ‘মিবার-রাজ’, ‘ফুলের মালা’ এবং ‘কাহাকে’। সাহিত্যের পাশাপাশি তিনি সমাজসেবা ও দেশসেবায় যুক্ত ছিলেন। ১৮৮৬ খ্রিস্টাব্দে তিনি ‘সখীসমিতি’ প্রতিষ্ঠা করে স্বদেশি পণ্যের মেলা ও প্রদর্শনীর ব্যবস্থা করেন। ১৮৯০ খ্রিস্টাব্দে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেসের ষষ্ঠ অধিবেশনে তিনি প্রতিনিধি হিসেবে অংশগ্রহণ করেছিলেন এবং দেশাত্মবোধক সংগীত রচনার মাধ্যমে দেশবাসীকে উদ্বুদ্ধ করেছিলেন। ১৯২৭ খ্রিস্টাব্দে তাঁর এই সাহিত্যকীর্তির জন্য কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় তাঁকে ‘জগত্তারিণী স্বর্ণপদক’ প্রদান করে।
২। ‘লজ্জাবতী’ গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র লজ্জাবতীর স্বভাবের বৈশিষ্ট্যগুলি বর্ণনা করো।
উত্তরঃ লজ্জাবতী ছিল অত্যন্ত অভিমানী এবং কোমল হৃদয়ের এক নারী। ছোটবেলায় পিতা-মাতার সামান্য তিরস্কারেও সে লজ্জাবতী লতার মতো সংকুচিত হয়ে পড়ত,তাই তাকে এই নামে ডাকা হতো। তার মধ্যে এক ধরনের অকৃত্রিম বিনয়, নম্রতা এবং শিশুসুলভ সরলতা ছিল। কিন্তু শ্বশুরবাড়ির কঠোর পরিবেশে তার এই কোমলতা ও নীরবতা সমাদর পায়নি। সে প্রশংসার কাজ করে প্রচার করতে জানত না এবং দোষ না থাকলেও নিজের সপক্ষে কথা বলতে পারত না, বরং চোখের জল ফেলে চুপ করে থাকত। স্বামীর প্রতি তার গভীর অনুরাগ থাকলেও অভিমানে সে সব কথা বুঝিয়ে বলতে পারত না, যার ফলে তাকে অনেক কষ্ট সহ্য করতে হতো। মনকি অসুস্থ অবস্থায়ও সে কারোর ওপর নির্ভর না করে নিজের কর্তব্য পালন করতে চেয়েছিল,যা তার চরিত্রের ধৈর্য ও সহনশীলতার পরিচয় দেয়।
৩। লজ্জাবতীর প্রতি তার শাশুড়ির আচরণের পরিচয় দাও।
উত্তরঃ লজ্জাবতীর শাশুড়ি ছিলেন অত্যন্ত কঠোর এবং একদেশদর্শী স্বভাবের মানুষ। লজ্জাবতীর সরলতা ও নীরবতাকে তিনি অলসতা বা চালাকি বলে ভুল বুঝতেন। তাঁর কাছে ধনাঢ্য বাড়ির মেয়ে ফুলকুমারী ছিল অনেক বেশি আদরের, তাই ফুলকুমারী আসার খবরে তিনি লজ্জাবতীকে বিশেষ সতর্ক করে দিয়েছিলেন যাতে সেবার কোনো খামতি না হয়। পুঁটুরানীর একটি চুলের কাঁটা হারিয়ে যাওয়াকে কেন্দ্র করে তিনি লজ্জাবতীকে প্রচণ্ড কটু কথা বলেন এবং তাকে ‘উড়নচণ্ডী’ ও ‘অলক্ষণা’ বলে সম্বোধন করেন। এমনকি লজ্জাবতীর বাবার বাড়ির প্রসঙ্গ টেনে তাকে ছোট করতেও দ্বিধা করেননি। নিজের ছেলের কাছে লজ্জাবতীর নামে মিথ্যে অভিযোগ করে তিনি তাদের সম্পর্কে বিচ্ছেদ সৃষ্টি করেন। লজ্জাবতীর চরম অসুস্থতাকেও তিনি ‘ভান’ বলে মনে করেছিলেন, যা তাঁর অসংবেদনশীল মনোভাবেরই বহিঃপ্রকাশ।
৪। লজ্জাবতী ও ফুলকুমারীর সম্পর্কের বর্ণনা করো।
উত্তরঃ ফুলকুমারী ছিল লজ্জাবতীর ননদ, কিন্তু তাদের সম্পর্ক ছিল গভীর বন্ধুত্বের ও সহমর্মিতার। দীর্ঘ চৌদ্দ বছর পর বাপের বাড়ি এসে ফুলকুমারী লজ্জাবতীর প্রতি বাড়ির সকলের অবিচার লক্ষ্য করে ব্যথিত হয়েছিল। সে যখন দেখল যে লজ্জাবতী কোনো দোষ না থাকা সত্ত্বেও শাশুড়ি ও স্বামীর বকুনি খাচ্ছে, তখন সে বারবার লজ্জাবতীর পক্ষ নিয়ে প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছে। লজ্জাবতীর অসুস্থতার সময় ফুলকুমারীই প্রথম তা বুঝতে পেরেছিল এবং তাকে বিশ্রাম নিতে বলেছিল। এমনকি লজ্জাবতীর হয়ে সে নিজেই রান্না করার দায়িত্ব নিয়েছিল, যদিও তার ফলে তাকে শাশুড়ির কাছে লাঞ্ছিত হতে হয়েছিল। লজ্জাবতীর মৃত্যুর পর ফুলকুমারীই সেই মানুষ যে মর্মান্তিক দুঃখে ভেঙে পড়েছিল এবং উপলব্ধি করেছিল যে লজ্জাবতী অনাদরে ও অভিমানেই প্রাণ হারিয়েছে।
৫। ‘লজ্জাবতী’ গল্পটি একটি করুণ রসের গল্প— উক্তিটি বিচার করো।
উত্তরঃ ‘লজ্জাবতী’ গল্পটি ঊনবিংশ শতকের বাঙালি সমাজের এক অন্তরালবর্তিনী নারীর অবহেলা ও তিলে তিলে ধ্বংস হওয়ার এক করুণ আখ্যান। লজ্জাবতী ছিল অত্যন্ত স্পর্শকাতর, যাকে তার শ্বশুরবাড়ির নিষ্ঠুর পরিবেশ এবং শাশুড়ির কঠোর বাক্যবাণ সহ্য করতে হতো। গল্পের ট্র্যাজেডি শুরু হয় যখন একটি তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে লজ্জাবতীর শাশুড়ি তাকে অকারণে অপমান করেন এবং তার স্বামী তাকে ভুল বুঝে গৃহত্যাগের হুমকি দিয়ে চলে যান। অসুস্থ অবস্থায় পর্যাপ্ত গরম কাপড়ের অভাব এবং মানসিক যন্ত্রণায় তার রোগ আরও বেড়ে যায়। ফুলকুমারীর ভালোবাসা ও সহমর্মিতা পেলেও ততক্ষণে অনেক দেরি হয়ে গিয়েছিল।শেষ পর্যন্ত লজ্জাবতীর রোগশয্যা থেকে চিতা-শয্যায় গমন এবং তার মৃত্যুর পর বাড়ির সকলের অসার বিলাপ গল্পটিকে এক গভীর বিষাদময় পরিণতির দিকে নিয়ে যায়। লজ্জাবতীর এই অকাল মৃত্যু এবং তার সারাজীবনের নীরব হাহাকার গল্পটিকে একটি স্বার্থক করুণ রসের গল্পে পরিণত করেছে।

