SEBA Class 10 Geography Important Chapter 5 জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Important Chapter 5 জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Elective Geography Additional Question Answer.
SEBA Class 10 Geography Important Chapter 5 জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল
Chapter: 5
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। জাপানের পুরনো নাম কী এবং এর অর্থ কী?
উত্তরঃ জাপানের পুরনো নাম হলো ‘নিপ্পন’ যার অর্থ হলো সূর্যোদয়ের ভূমি।
২। জাপান প্রধানত কয়টি দ্বীপ নিয়ে গঠিত এবং সেগুলোর নাম কী কী?
উত্তরঃ জাপান প্রধানত হ’কাইডো, হনসু, সিক’কু এবং কিউসু— এই চারটি প্রধান দ্বীপ এবং রিউকিউ দ্বীপকে ধরে অন্যান্য অনেক ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।
৩। জাপানের দ্বীপসমূহের ভেতর বৃহত্তম দ্বীপ কোনটি?
উত্তরঃ জাপানের দ্বীপসমূহের ভেতর হনসু হলো বৃহত্তম দ্বীপ।
৪। কত খ্রীষ্টাব্দে সমগ্র জাপান দ্বীপপুঞ্জকে সম্রাট মেইজি নিজের অধীনে এনেছিলেন?
উত্তরঃ ১৮৬৮ খ্রীষ্টাব্দে সমগ্র জাপান দ্বীপপুঞ্জকে সম্রাট মেইজি নিজের অধীনে এনে শাসন করতে আরম্ভ করেছিলেন।
৫। জাপানের রাজধানীর নাম কী?
উত্তরঃ জাপানের রাজধানীর নাম হলো টোকিও।
৬। ২০০৭ সালের আনুমানিক তথ্য অনুসারে জাপানের মোট জনসংখ্যা কত ছিল?
উত্তরঃ ২০০৭ সালের আনুমানিক তথ্য অনুসারে জাপানের মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ১২৮ নিযুত।
৭। জাপানের মোট ভূমির কত শতাংশ অঞ্চল জুড়ে পর্বতমালা বিস্তৃত রয়েছে?
উত্তরঃ জাপানের মোট ভূমির প্রায় ৭৫ শতাংশ জুড়েই পর্বতমালা বিস্তৃত রয়েছে।
৮। হ’কাইডো পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গটির নাম কী এবং এর উচ্চতা কত?
উত্তরঃ হ’কাইডো পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গটির নাম হলো আসাহি ডাকে এবং এর উচ্চতা ২,২৯০ মিটার।
৯। জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট ফুজি কোন প্রকার শিলা দ্বারা গঠিত?
উত্তরঃ জাপানের সর্বোচ্চ পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট ফুজি মূলত লাভা দিয়ে গঠিত।
১০। বর্তমানে জাপানের জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার কত শতাংশ?
উত্তরঃ বর্তমানে জাপানের জনসংখ্যার বার্ষিক গড় বৃদ্ধির হার হলো প্রায় ০.৪ শতাংশ।
১১। জাপানের নাগরিকদের গড় আয়ু কত বছর?
উত্তরঃ জাপানের নাগরিকদের গড় আয়ু হলো প্রায় ৮২ বছর।
১২। জাপানের মোট জমির কত শতাংশ কৃষিকার্যের অন্তর্গত?
উত্তরঃ জাপানের মোট জমির মাত্র ১৭ শতাংশ কৃষিকার্যের অন্তর্গত।
১৩। জাপানের প্রধান কৃষি শস্য কোনটি?
উত্তরঃ জাপানের প্রধান কৃষি শস্য হলো ধান।
১৪। জাপানের প্রধান চারটি শিল্পাঞ্চলের নাম কী কী?
উত্তরঃ জাপানের প্রধান চারটি শিল্পাঞ্চল হলো টোকিও-ইয়োকোহামা অঞ্চল, ওসাকা-কোবে-কিয়োটো অঞ্চল, নাগোয়া অঞ্চল এবং উত্তর কিউসু অঞ্চল।
১৫। জাপানের কোন শিল্পাঞ্চলকে জাপানের ‘ডেট্রয়েট’ বলে জানা যায়?
উত্তরঃ জাপানের নাগোয়া শিল্পাঞ্চলকে জাপানের ‘ডেট্রয়েট’ বলে জানা যায়।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। জাপানের ভৌগোলিক অবস্থান, সীমানা এবং জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তরঃ জাপানের ভৌগোলিক অবস্থান: জাপান এশিয়া মহাদেশের পূর্ব প্রান্তে প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি উন্নত দ্বীপরাষ্ট্র। অক্ষাংশগতভাবে জাপান দক্ষিণে ২৪° উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ৪৬° উত্তর অক্ষাংশ পর্যন্ত এবং দ্রাঘিমাংশগতভাবে পশ্চিমে ১২৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে পূর্বে ১৪৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত। উত্তর-দক্ষিণে জাপানের দৈর্ঘ্য প্রায় ২৪০০ কিলোমিটার এবং এর মোট আয়তন প্রায় ৩,৭৭,৭৬৫ বর্গকিলোমিটার।
জাপানের চতুর্সীমা: জাপান চারিদিকে সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত। এর উত্তরে সাখালিন দ্বীপ, কুড়িল দ্বীপ এবং ওখটস্ক সাগর অবস্থিত। দক্ষিণে রয়েছে তাইওয়ান এবং পূর্ব-চীন সাগর। পূর্ব দিকে রয়েছে বিশাল প্রশান্ত মহাসাগর এবং পশ্চিম দিকে জাপান সাগর, কোরিয়া ও রাশিয়া অবস্থিত।
জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য:
(i) ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জাপানের জলবায়ু প্রধানত নাতিশীতোষ্ণ প্রকৃতির। তবে জাপানের জলবায়ু সব জায়গায় সমান নয়।
(ii) উত্তর থেকে দক্ষিণে জাপানের জলবায়ুর মধ্যে স্পষ্ট তারতম্য লক্ষ্য করা যায়। উত্তর দিকে অবস্থিত হ’কাইডো অঞ্চলে শীতকালে প্রচণ্ড ঠান্ডা এবং তুষারপাত হয়, অন্যদিকে দক্ষিণ অংশে জলবায়ু তুলনামূলকভাবে মৃদু ও উষ্ণ থাকে।
(iii) জাপানের ভেতর উত্তাপ এবং বৃষ্টির পরিমাণ দক্ষিণ থেকে উত্তর দিকে ক্রমশ হ্রাস পায়।
২। ভূ-প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য অনুযায়ী জাপানকে প্রধানত কয়টি ভাগে ভাগ করা যায়? প্রতিটি বিভাগ সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূ-প্রকৃতির বৈশিষ্ট্য ওপর নির্ভর করে জাপানকে প্রধানত চারটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে।
এই বিভাগগুলো সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
(i) হ’কাইডো অঞ্চল: জাপানের একেবারে উত্তর অংশে অবস্থিত হ’কাইডো দ্বীপকে নিয়ে এই অঞ্চলটি গঠিত। এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি মূলত পর্বতময়। হ’কাইডো পর্বতমালার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো আসাহি ডাকে (২,২৯০ মিটার)। এই অঞ্চলে নদী দ্বারা গঠিত কিছু পলিময় নিম্নভূমি রয়েছে, যার মধ্যে ইসিকারি এবং ইউফুটস্ সমভূমি প্রধান। এছাড়া এখানকার তকাসি সমভূমিটি বেশ চওড়া ও বেদিকায়ুক্ত।
(ii) উত্তর-পূর্ব জাপান অঞ্চল: হনসু দ্বীপের উত্তর অংশ নিয়ে এই অঞ্চলটি গঠিত হয়েছে। এখানে অনেক ভাঁজ এবং চ্যুতি রয়েছে। এখানে আও এবং উটসু নামের দুটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী রয়েছে, যার উচ্চতা ১৫০০ থেকে ২০০০ মিটারের মধ্যে। এছাড়া প্রাচীন শিলা দ্বারা গঠিত কিটাকামি এবং আবুকুমা মালভূমিও এই অঞ্চলেই অবস্থিত।
(iii) মধ্য জাপান অঞ্চল: হনসু দ্বীপের মধ্য অংশকে নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত হয়েছে। এখানে হনসু পর্বত শ্রেণী এবং সিসিতো মেরিয়ানা পর্বতমালা একত্রিত হয়ে জাপানের সর্বোচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের সৃষ্টি করেছে, যার পূর্ব অংশ হিদা পর্বত নামে পরিচিত। এই অঞ্চলের দক্ষিণ দিকে জাপানের বিখ্যাত পবিত্র পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট ফুজি (৩,৭৭৬ মিটার) অবস্থিত। কান্টো এবং নবি হলো এই অঞ্চলের দুটি বিখ্যাত সমভূমি।
(iv) দক্ষিণ-পশ্চিম জাপান অঞ্চল: হনসুর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ, সিক’কু এবং কিউসু দ্বীপকে নিয়ে এই অঞ্চলটি গঠিত হয়েছে। এই অঞ্চলের পর্বতশ্রেণীগুলো দেশের মধ্যে সবচেয়ে দীর্ঘ। এই অঞ্চলের কিয়োটো, নারা ও বিওয়া সমভূমিগ্রস্ত উপত্যকা বেশ বিখ্যাত। কিউসু দ্বীপের দক্ষিণ অংশে প্রায়শই আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ ঘটে।
৩। জাপানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং এর অসম বণ্টনের প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক কারণসমূহ বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তরঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধি: ঐতিহাসিক তথ্য অনুযায়ী, ৬১০ খ্রীষ্টাব্দে জাপানের জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৫ নিযুত (৫০ লক্ষ)। পরবর্তীতে সামাজিক ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের সাথে সাথে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়। ১৮৮০ সনে জাপানের জনসংখ্যা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৮ নিযুত এবং ২০০৭ সালের তথ্য অনুযায়ী তা বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ১২৮ নিযুত। তবে বর্তমানে উন্নত জীবনযাত্রা ও সমাজ ব্যবস্থার কারণে এখানে জন্ম ও মৃত্যুর হার হ্রাস পেয়েছে এবং বার্ষিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির গড় হার মাত্র ০.৪ শতাংশে নেমে এসেছে।
জনসংখ্যার অসম বণ্টন এবং এর কারণ: জাপানের জনসংখ্যা সব অঞ্চলে সমানভাবে বণ্টিত নয়। ভূ-প্রকৃতি ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের কারণে জনসংখ্যার বণ্টনে অনেক আঞ্চলিক পার্থক্য রয়েছে।
(i) পার্বত্য অঞ্চলে পাতলা বসতি: জাপানের মোট আয়তনের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে রয়েছে পার্বত্য অঞ্চল। পাহাড়ি অঞ্চলের বিষম ভূ-প্রকৃতি বসবাসের উপযোগী না হওয়ায় দেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ এই বিস্তীর্ণ পার্বত্য এলাকায় বাস করে। যেমন, ২৫ শতাংশ আয়তন বিশিষ্ট হ’কাইডো অঞ্চলে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ লোক বসবাস করে। এখানে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০ জনেরও কম।
(ii) সমভূমি ও শিল্পাঞ্চলে ঘন বসতি: এর বিপরীতে, নদী উপত্যকা, কৃষিনির্ভর সমভূমি এবং শিল্পাঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যা অত্যন্ত ঘন। কৃষিনির্ভর সমভূমি অঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০ থেকে ৮০০ জন। এছাড়া ওসাকা, কোবে, কিয়োটো এবং রাজধানী টোকিওর মতো উন্নত নগর ও শিল্পাঞ্চলগুলোতে জনসংখ্যার ঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৮০০ জনেরও বেশি (কোনো কোনো বড় শহরে ১০,০০০ জনেরও বেশি)। বর্তমানে জাপানের প্রায় ৭৭ শতাংশ মানুষ শহরে বাস করে এবং কেবল টোকিও মহানগরের জনসংখ্যাই ৩ কোটিরও বেশি।
৪। জাপানের কৃষিকার্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ আলোচনা করো এবং এর প্রধান কৃষি অঞ্চলগুলির পরিচয় দাও।
উত্তরঃ জাপানের কৃষিকার্যের প্রধান বৈশিষ্ট্য এবং কৃষি অঞ্চলসমূহ আলোচনা করা হলো:
কৃষিকার্যের প্রধান বৈশিষ্ট্যসমূহ:
(i) কৃষিভূমির সীমাবদ্ধতা: পর্বত-পাহাড়ে ঘেরা হওয়ার কারণে জাপানের মোট জমির মাত্র ১৭ শতাংশ কৃষিকার্যের উপযোগী।
(ii) ক্ষুদ্রাকার কৃষিক্ষেত্র: ঘন জনবসতি এবং পার্বত্য ভূ-ভাগের কারণে এখানকার কৃষিক্ষেত্রগুলোর আকার অত্যন্ত ক্ষুদ্র এবং তা ছড়িয়ে-ছিটিয়ে রয়েছে।
(iii) উন্নত প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহার: সীমিত জমিতে অধিক উৎপাদনের জন্য জাপানে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নিবিড় কৃষিকাজ করা হয়। জাপানে প্রতি হেক্টর জমিতে গড়ে প্রায় ২৯০ কিলোগ্রাম সার প্রয়োগ করা হয়, যা সমগ্র প্রাচ্যের দেশগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ।
(iv) কৃষিপদ্ধতির বৈচিত্র্য: জমি অসম হওয়ার কারণে এখানে বেদিকা বা ধাপ চাষ মিশ্র কৃষিপদ্ধতি অন্তঃপ্রবেশী কৃষি এবং জুম চাষের মতো বিভিন্ন পদ্ধতিতে চাষবাস করা হয়ে থাকে। ধান এখানকার প্রধান উৎপাদিত ফসল।
প্রধান কৃষি অঞ্চলসমূহ জাপানকে প্রধানত দুটি প্রধান কৃষি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
(i) পুরোনো জাপান অঞ্চল, এই অঞ্চলটিকে আবার তিনটি ভাগে ভাগ করা যায়—
(ক) অন্তরবর্তী অঞ্চল।
(খ) পরিধীয় অঞ্চল এবং।
(গ) সীমাসংলগ্ন অঞ্চল।
পুরোনো জাপান অঞ্চলের অন্তরবর্তী ভাগে বছরে দুই-তিনবার চাষ করা হয় এবং এখানে বাণিজ্যিকভাবে ফলমূল ও শাকসবজি চাষের পাশাপাশি পশুপালন করা হয়। সীমাসংলগ্ন অঞ্চলের অন্তর্গত কিউসু দ্বীপে গরম জলবায়ুর জন্য প্রচুর পরিমাণে শাকসবজি উৎপন্ন হলেও হ’কাইডো দ্বীপের নিকটবর্তী অঞ্চলে ঠান্ডা জলবায়ুর জন্য চাষবাস তেমন ভালো হয় না।
(ii) হ’কাইডো অঞ্চল: এই অঞ্চলের অন্তর্গত ইসিকারি উপত্যকা হলো প্রধান কৃষি ক্ষেত্র। তবে অত্যন্ত ঠান্ডা জলবায়ু, পার্বত্য ভূমি এবং উর্বরতাহীন মাটির কারণে এই অঞ্চলটি কৃষির জন্য খুব একটা উন্নত নয়। এখানে বছরে মাত্র একবার চাষ করা হয়ে থাকে এবং প্রধান ফসল হলো ধান ও আলু।
৫। জাপানের প্রধান শিল্পাঞ্চল কয়টি ও কী কী? যেকোনো দুটি শিল্পাঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করো।
উত্তরঃ জাপানকে প্রধানত চারটি প্রধান শিল্পাঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে:
(১) টোকিও-ইয়োকোহামা অঞ্চল।
(২) ওসাকা-কোবে-কিয়োটো অঞ্চল।
(৩) নাগোয়া অঞ্চল এবং।
(৪) উত্তর কিউসু অঞ্চল।
দুটি প্রধান শিল্পাঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
(i) টোকিও-ইয়োকোহামা শিল্পাঞ্চল: এটি হনসু দ্বীপের কান্টো সমভূমিতে টোকিও উপসাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চলকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছে। এটি জাপানের অন্যতম বৃহৎ ও বিখ্যাত শিল্পাঞ্চল। এই অঞ্চলের প্রধান শিল্পগুলোর মধ্যে লোহা-ইস্পাত শিল্প, জাহাজ নির্মাণ শিল্প, উড়োজাহাজ নির্মাণ শিল্প, রাসায়নিক শিল্প, কার্পাস বয়ন শিল্প এবং উন্নতমানের বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম তৈরির শিল্প অন্যতম। এই শিল্পাঞ্চলে টোকিও এবং ইয়োকোহামা ছাড়াও প্রায় ২৫টিরও বেশি ছোট-বড় শিল্প শহর রয়েছে। জাপানের মোট শিল্পোৎপাদনের প্রায় ৩০ শতাংশ কেবল এই অঞ্চল থেকেই আসে।
(ii) ওসাকা-কোবে-কিয়োটো শিল্পাঞ্চল: ওসাকা উপসাগরের উপকূলভাগে কিনকি সমভূমি অঞ্চল জুড়ে এই ঐতিহ্যবাহী শিল্পাঞ্চলটি গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলটি ঐতিহাসিকভাবে বস্ত্রবয়ন এবং হস্তশিল্পের জন্য পৃথিবী বিখ্যাত। বিশেষ করে ওসাকাতে থাকা কার্পাস বয়ন শিল্প, পাট শিল্প এবং রেশম শিল্পের বিশেষ নাম রয়েছে। তবে বর্তমানে এই অঞ্চলে বস্ত্রশিল্পের পাশাপাশি ভারী লোহা-ইস্পাত শিল্প, খনিজ তেল শোধনাগার, জাহাজ ও উড়োজাহাজ নির্মাণ এবং রাসায়নিক শিল্পের ব্যাপক প্রসার ঘটেছে।

