SEBA Class 10 Geography Chapter 4 আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ভূগোল

SEBA Class 10 Geography Chapter 4 আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ভূগোল Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Chapter 4 আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ভূগোল Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Geography Question Answer.

SEBA Class 10 Geography Chapter 4 আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের আঞ্চলিক ভূগোল

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 4

Textual Question Answer

১। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য সংক্ষেপে লেখ।

উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং ভৌগোলিক বৈশিষ্ট্য:

(i) অবস্থান ও সীমানা:

১। অবস্থান ও বিস্তৃতি: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র উত্তর আমেরিকা মহাদেশে অবস্থিত। দেশটির মূল ভূখণ্ড ২৫° উত্তর থেকে ৪৯° উত্তর অক্ষাংশ এবং ৬৬° পশ্চিম থেকে ১২৫° পশ্চিম দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।

২। সীমানা: দেশটির উত্তরে কানাডা, পূর্বে আটলান্টিক মহাসাগর, দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর ও মেক্সিকো দেশ এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত।

৩। আয়তন ও প্রশাসনিক গঠন: আলাস্কা ও হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জ ধরে মোট ৫০ টি রাজ্য এবং কলম্বিয়া জেলা নিয়ে এই রাষ্ট্রটি গঠিত, যার রাজধানী ওয়াশিংটন ডি সি। এর মোট আয়তন ৯৬ লক্ষ বর্গ কিলোমিটার (পৃথিবীর মোট আয়তনের ৬.৩৭ শতাংশ) এবং আকারের দিক থেকে এটি পৃথিবীর চতুর্থ বৃহত্তম দেশ।

(ii) ভৌগোলিক ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য:

প্রাকৃতিক বিভাগ ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ওপর নির্ভর করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রধানত তিনটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা হয়:

১। আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল: দেশের পূর্ব অংশে আটলান্টিক উপকূলের সমান্তরালে অবস্থিত Ancient পর্বতমালা, পাহাড়, মালভূমি ও নদী উপত্যকা দ্বারা গঠিত একটি জটিল ভূ-প্রকৃতি। এখানে হাডসন, ওহিও, টেনেসি ইত্যাদি নদী প্রবাহিত হয়েছে।

২। মধ্য সমভূমি অঞ্চল: পূর্বে আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি এবং পশ্চিমে রকি পর্বতশ্রেণীর মাঝখানে বিস্তৃত বিশাল সমতলভূমি। মিসিসিপি-মিসৌরি নদী অববাহিকা এবং ‘বৃহৎ সরোবর’ অঞ্চল নিয়ে এটি উর্বর পলিমাটিযুক্ত সমভূমি হিসেবে গঠিত।

৩। রকি পর্বত বা কর্ডিলেরা অঞ্চল: পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল বরাবর অবস্থিত নবীন ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণী, মালভূমি (যেমন- কলম্বিয়া, কলোরাডো, গ্রেট বেসিন) ও উপত্যকা নিয়ে গঠিত। বিশ্বের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং মৃত উপত্যকা এই অঞ্চলেই অবস্থিত।

২। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ কর এবং প্রতিটি বিভাগের একটি সংক্ষিপ্ত আভাস দাও।

উত্তরঃ ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে প্রধানত তিনটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা হয়:

আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল: 

(i) অবস্থান ও বিস্তার: এটি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব অংশে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূলের প্রায় সমান্তরালে অবস্থিত। এটি উত্তর দিকে হাডসন উপত্যকা এবং ইরি ও অন্টারিও হ্রদ থেকে শুরু করে দক্ষিণে এলাবামা রাজ্য পর্যন্ত বিস্তৃত। 

(ii) নদ-নদী: পর্বত, পাহাড়, মালভূমি ও সমভূমি উপত্যকার সমন্বয়ে গঠিত হওয়ায় এখানকার ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত জটিল। এর গড় উচ্চতা বর্তমানে ২০০০ মিটারের বেশি নয়। এই অঞ্চলের পাহাড়-পর্বতগুলি রকি পর্বতমালা অপেক্ষা বয়সে অনেক প্রাচীন।

(iii) সম্পদ ও নগরসমূহ: খনিজ কয়লা, লোহা ও পেট্রোলিয়ামে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি. সি. সহ নিউইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া ও বল্টিমোর শহর গড়ে উঠেছে।

মধ্য সমভূমি অঞ্চল:

(i) অবস্থান ও বিস্তৃতি: পূর্বে আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি এবং পশ্চিমে রকি পর্বতশ্রেণীর মাঝখানে উত্তরে বৃহৎ সরোবর অঞ্চল থেকে দক্ষিণে মেক্সিকো উপকূল পর্যন্ত এটি বিস্তৃত।

(ii) উপ-বিভাগ: এই সমভূমি অঞ্চলটিকে চার ভাগে ভাগ করা যায়— উচ্চ সমভূমি, বৃহৎ সরোবর অঞ্চল, মিসিসিপি সমভূমি এবং মেক্সিকো উপকূলীয় সমভূমি।

(iii) প্রধান নগরসমূহ: শিকাগো, মিনিয়াপোলিস, সেন্ট লুইস, কেনসাস, বার্মিংহাম ও নিউ অরলিয়েন্স এখানকার অন্যতম প্রধান শহর।

রকি পর্বত বা কর্ডিলেরা অঞ্চল:

(i) অবস্থান ও পর্বতশ্রেণী: পূর্বে উচ্চ সমভূমি এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের মাঝখানে বিস্তৃত পাহাড়-পর্বত, মালভূমি ও উপত্যকা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এর পূর্বভাগের রকি পর্বতশ্রেণী হিমালয়ের মতো নবীন ভঙ্গিল পর্বত, যার উচ্চতা ৪,২০০ মিটারেরও বেশি।

(ii) মালভূমি ও হ্রদ: পশ্চিমের সিয়েরা নেভাডা, কাস্কেড ও কোস্টরেঞ্জ পর্বতমালার মাঝখানে কলম্বিয়া, কলোরাডো ও গ্রেট বেসিন মালভূমি অবস্থিত। গ্রেট বেসিন অঞ্চলটি বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় মরুপ্রায় এবং এখানে বিখ্যাত ‘গ্রেট সল্ট লেক’ রয়েছে।

(iii) নদ-নদী ও ভৌগোলিক বিস্ময়: কলাম্বিয়া, স্নেক ও কলোরাডো নদী প্রশান্ত মহাসাগরে এবং রিও গ্র্যান্ড নদী মেক্সিকো উপসাগরে পতিত হয়েছে। বিশ্বের বিখ্যাত গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং মৃত উপত্যকা এই অঞ্চলেই অবস্থিত।

৩। মানচিত্র একে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ দেখাও।

উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ: ভূ-প্রাকৃতিক গঠন ও বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে প্রধানত তিনটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা হয়।

(i) আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি অঞ্চল:

বিস্তার ও ভূ-প্রকৃতি: এটি আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব অংশে আটলান্টিক উপকূলের সমান্তরালে উত্তরে হাডসন উপত্যকা ও ইরি-অন্টারিও হ্রদ থেকে দক্ষিণে এলাবামা পর্যন্ত বিস্তৃত।

উচ্চতা ও নদ-নদী: প্রাচীন এই পর্বতমালার বর্তমান গড় উচ্চতা ২০০০ মিটারের বেশি নয়। এই অঞ্চলের প্রধান নদীগুলি হলো ওহিও, টেনেসি, হাডসন এবং এলাবামা।

বিশেষ আকর্ষণ ও নগরসমূহ: অঞ্চলটির উত্তর সীমান্তে ইরি হ্রদের কাছে বিশ্ববিখ্যাত নায়াগ্রা জলপ্রপাত অবস্থিত। কয়লা, লোহা ও পেট্রোলিয়ামে সমৃদ্ধ এই অঞ্চলে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানী ওয়াশিংটন ডি. সি. সহ নিউইয়র্ক, বোস্টন, ফিলাডেলফিয়া, বল্টিমোর ও আটলান্টা শহরগুলি গড়ে উঠেছে।

(ii) মধ্য সমভূমি অঞ্চল:

বিস্তার ও নদী অববাহিকা: পূর্বে আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি এবং পশ্চিমে রকি পর্বতশ্রেণীর মাঝখানে উত্তরে বৃহৎ সরোবর অঞ্চল থেকে দক্ষিণ মেক্সিকো উপকূল পর্যন্ত এটি বিস্তৃত। এটি মূলত মিসিসিপি-মিসৌরি নদী ও তার উপনদীগুলির পলি সঞ্চয়ের ফলে গঠিত হওয়ায় অত্যন্ত উর্বর ও কৃষিকার্যের উপযোগী।

উপ-বিভাগসমূহ: এই অঞ্চলটিকে চারটি ভাগে ভাগ করা হয়— উচ্চ সমভূমি, মিসিসিপি সমভূমি (গড় উচ্চতা ৩০০ মিটারের কম), বৃহৎ সরোবর অঞ্চল (সুপিরিয়র, মিশিগান, হুরন, ইরি হ্রদ সংলগ্ন এলাকা) এবং মেক্সিকো উপকূলীয় সমভূমি (উচ্চতা ২০০ মিটারের কম)।

প্রধান নগরী: শিকাগো, মিনিয়াপোলিস, সেন্ট লুইস, কেনসাস, বার্মিংহাম, নিউ অরলিয়েন্স ইত্যাদি এ অঞ্চলের প্রধান নগরী।

(iii) রকি পর্বত বা কর্ডিলেরা অঞ্চল:

বিস্তার ও পর্বতশ্রেণী: পূর্বে উচ্চ সমভূমি এবং পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের মাঝখানে উত্তর-দক্ষিণে বিস্তৃত পাহাড়-পর্বত, মালভূমি ও উপত্যকা নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এর পূর্বভাগের উঁচু অংশটি হলো নবীন ভঙ্গিল রকি পর্বতশ্রেণী (উচ্চতা ৪,২০০ মিটারের বেশি) এবং পশ্চিমভাগে সিয়েরা নেভাডা, কাস্কেড ও কোস্টরেঞ্জ পর্বতমালা রয়েছে।

মালভূমি ও হ্রদ: পর্বতমালাগুলির মাঝখানে কলম্বিয়া, গ্রেট বেসিন ও কলোরাডো মালভূমি অবস্থিত। বৃষ্টিচ্ছায় অঞ্চলে অবস্থানের কারণে গ্রেট বেসিন এলাকাটি প্রায় মরুভূমিতে পরিণত হয়েছে এবং এখানে বিখ্যাত লবণাক্ত জলের হ্রদ ‘গ্রেট সল্ট লেক’ রয়েছে।

নদ-নদী ও বিশেষ স্থান: কলাম্বিয়া, স্নেক ও কলোরাডো নদী প্রশান্ত মহাসাগরে এবং রিও গ্র্যান্ড নদী মেক্সিকো উপসাগরে পতিত হয়েছে। পৃথিবীর বিখ্যাত কলোরাডো নদীর গ্র্যান্ড ক্যানিয়ন এবং মৃত উপত্যকা এই অঞ্চলেই অবস্থিত। 

৪। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যাবৃদ্ধি এবং বিতরণ সম্পর্কে মানচিত্রের সহায়তায় আলোচনা কর।

উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যাবৃদ্ধি জনসংখ্যা বৃদ্ধি:

(i) প্রারম্ভিক অবস্থা ও বৃদ্ধি: ১৭৭৬ খ্রিস্টাব্দে ১৩ টি রাজ্য একত্রিত হয়ে স্বাধীনতা ঘোষণার সময় আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের জনসংখ্যা ছিল মাত্র ৩ নিযুত। কিন্তু স্বাধীনতার পর ইউরোপীয় দেশসমূহ থেকে মানুষের অভিবাসন এবং পরবর্তীতে আরও ৩৭ টি রাজ্য যুক্তরাষ্ট্রের অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ফলে জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পায়।

(ii) বর্তমান জনসংখ্যা: ২০০৭ সালের তথ্য অনুসারে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যা ৩০২ নিযুত, যা জনসংখ্যা বিচারে বিশ্বমঞ্চে একে তৃতীয় স্থানে নিয়ে এসেছে।

(iii) বৃদ্ধির বর্তমান ধারা: সাম্প্রতিক সময়ে স্থানান্তরিত মানুষের আগমন কমায় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার নিম্নগামী হয়েছে। ২০০৭ সালের তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র পৃথিবীর জনসংখ্যা বৃদ্ধির বার্ষিক গড় হার ১.২০ শতাংশের বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বৃদ্ধির হার ছিল মাত্র ০.৬০ শতাংশ।

জনসংখ্যা বিতরণ:

(i) ঘন বসতিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের পূর্ব দিকে অবস্থিত আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি এবং আটলান্টিক উপকূলীয় অঞ্চলে জনসংখ্যা অত্যন্ত ঘন।

মিশিগান রাজ্যের দক্ষিণ ও পূর্ব অংশের মাত্র এক-চতুর্থাংশ আয়তনের অঞ্চলে দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ মানুষ বাস করে। যেখানে দেশের গড় ঘনত্ব প্রতি বর্গ কিলোমিটারে ৩২ জন, সেখানে এই অঞ্চলে ঘনত্ব প্রায় ৮৫ জন।

মাসাসুসেটস, নিউ জার্সি এবং রোড আইল্যান্ড রাজ্যে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৩০০ জনেরও অধিক এবং রাজধানী ওয়াশিংটন ডি. সি.-তে এই ঘনত্ব প্রায় ৩৬০০ জন।

(ii) বিরল বসতিপূর্ণ অঞ্চল: দেশের পশ্চিমের মধ্য সমভূমি এবং কর্ডিলেরা অঞ্চলে জনসংখ্যার ঘনত্ব অত্যন্ত কম (গড়ে মাত্র ১৫ জন প্রতি বর্গ কিলোমিটারে)।

মন্টানা, নেভাডা, উত্তর ডাকোটা এবং ওয়াওমিং রাজ্যে জনসংখ্যার ঘনত্ব ৫ জনেরও কম।

বন্ধুর পাহাড়ি ভূপ্রকৃতি ও বৃষ্টিপাতের অভাবের কারণে এই অঞ্চলগুলি জনবসতি ও অর্থনৈতিক প্রগতির জন্য অনুযোগী। তবে কিছু স্থানে খনিজ সম্পদকে কেন্দ্র করে স্থানীয় জনবসতি গড়ে উঠেছে।

নগরায়ণ: শিল্পোন্নয়নের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের মোট জনসংখ্যার তিন-চতুর্থাংশের বেশি মানুষ শহরে বাস করে।

পূর্ব উপকূলের নিউইয়র্ক দেশের সর্ববৃহৎ মহানগরী (জনসংখ্যা ২২ নিযুত) এবং পশ্চিম প্রান্তের লস এঞ্জেলস দ্বিতীয় বৃহৎ মহানগরী (জনসংখ্যা ১৮ নিযুত)।

৫। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা সংক্ষেপে লেখ।

উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা:

(i) উৎপাদনে বিশ্বখ্যাত স্থান: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র সমগ্র পৃথিবীতে ভুট্টা, কার্পাস এবং তামাক উৎপাদনে প্রথম স্থান এবং গম ও বার্লি উৎপাদনে দ্বিতীয় স্থান অধিকার করে রয়েছে। 

(ii) বিপুল উৎপাদনের হার: বিশ্বের মোট খাদ্যশস্য চাহিদার একটি বিশাল অংশ এই দেশ থেকেই মেটানো হয়। উদাহরণস্বরূপ,পৃথিবীর মোট উৎপাদিত ভুট্টার প্রায় ৪৬ শতাংশ এবং মোট গমের প্রায় ১৮ শতাংশ একাই আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রে উৎপন্ন হয়। 

(iii) রপ্তানি বাণিজ্য ও আন্তর্জাতিক বাজার: কৃষিজাত পণ্যের বিপুল উদ্বৃত্ত উৎপাদনের কারণে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাজারে কৃষিজাত পণ্য রপ্তানিতে শীর্ষস্থানীয়। আন্তর্জাতিক বাজারে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের রপ্তানি মূল্যের পরিমাণ সমগ্র পৃথিবীর মোট রপ্তানি মূল্যের ১০ শতাংশেরও অধিক। 

(iv) ভূমি ব্যবহার ও কৃষি ক্ষেত্রের বিস্তার: দেশের সামগ্রিক ভূমি ব্যবহারের ক্ষেত্রে দেখা যায় যে, আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের মোট ভূখণ্ডের প্রায় এক-চতুর্থাংশ স্থায়ী কৃষিকার্যের অন্তর্গত। 

(v) যান্ত্রিক ও বাণিজ্যিক কৃষি: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের কৃষির একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো—এখানে কৃষিশ্রমিকের সংখ্যা অত্যন্ত কম হলেও উৎপাদন বিপুল। দেশের অর্থনৈতিক কাজের সঙ্গে জড়িত মোট কর্মক্ষম জনসংখ্যার মাত্র ৫ শতাংশ মানুষ কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানে জনবসতি কম হওয়ার কারণে সম্পূর্ণ বাণিজ্যভিত্তিক ও অত্যাধুনিক যান্ত্রিক পদ্ধতিতে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে কৃষিকাজ সম্পন্ন হয়। 

৬। কৃষি বলয় বলতে কি বোঝায়? আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রতে কটা এবং কি কি কৃষি বলয় চিহ্নিত করা হয়েছে, তা মানচিত্রে দেখাও এবং প্রতিটি বলয়ের বিষয়ে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু, মাটি ও জমির তারতম্যের ওপর নির্ভর করে আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ব থেকে পশ্চিমে কয়েকটি অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। সাধারণত প্রতিটি অঞ্চলে এক বা একাধিক বিশেষ শস্যের ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব প্রদান করে বাণিজ্যিকভাবে কৃষিকার্য সম্পাদন করা হয়। যখন কোনো বিস্তীর্ণ অঞ্চলে প্রাকৃতিক ও অর্থনৈতিক অনুকূলতার সুবিধা নিয়ে কোনো নির্দিষ্ট ফসলের চাষ প্রধান ও অত্যন্ত লাভজনক হয়ে ওঠে,তখন তাকে একটি নির্দিষ্ট কৃষি বলয় বলা হয়। 

কৃষি বলয়সমূহের সংখ্যা ও নাম প্রতিটি কৃষি বলয়ের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা:

১। ধান এবং আখের বলয়: 

অবস্থান ও জলবায়ু: এটি মেক্সিকো উপসাগরীয় উপকূলের ফ্লোরিডা, জর্জিয়া,এলাবামা, মিসিসিপি এবং লুইসিয়ানা রাজ্যের দক্ষিণ অংশ নিয়ে গঠিত। এখানে উপ-ক্রান্তীয় আর্দ্র জলবায়ু দেখা যায় এবং ক্রান্তীয় অঞ্চলের মতো তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাত উভয়ই বেশি থাকে।

২। কার্পাস বলয়: 

অবস্থান ও সীমা: ধান-আখ বলয়ের ঠিক উত্তরে মিসিসিপি অববাহিকার দক্ষিণ অংশে এটি অবস্থিত। ৩৬° উত্তর অক্ষাংশ এই কার্পাস বলয়ের উত্তর সীমা নির্ধারণ করে। 

৩। শীতকালীন গম এবং তামাক বলয়: 

অবস্থান: কার্পাস বলয়ের উত্তরে আটলান্টিক মহাসাগরের উপকূল থেকে শুরু করে পশ্চিমে কলোরাডো রাজ্য পর্যন্ত এই বিশাল বলয়টি বিস্তৃত।

কৃষিজাত ফসল: এই বলয়ের পূর্ব অংশে (উত্তর ক্যারোলিনা, কেন্টুকি, ভার্জিনিয়া এবং মেরিল্যান্ড) প্রচুর পরিমাণে তামাক চাষ করা হয়।

৪। ভুট্টা বলয় অবস্থান: শীতকালীন গম বলয়ের উত্তরে মধ্য ওহিও রাজ্য থেকে শুরু করে পশ্চিমে মধ্য নেব্রাস্কা পর্যন্ত এই সমৃদ্ধ বলয়টি বিস্তৃত।

৫। বসন্তকালীন গম বলয়: 

অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য: প্রেইরী অঞ্চলের উত্তর অংশে অবস্থিত মন্টানা, উত্তর ডাকোটা, দক্ষিণ ডাকোটা এবং পশ্চিম মিনেসোটা রাজ্য এই বলয়ের অন্তর্গত।

৬। উত্তর-পূর্ব প্রান্তীয় মিশ্রকৃষি বলয় বা দুগ্ধ খামার বলয়: 

অবস্থান: বৃহৎ হ্রদ বা গ্রেট লেকসের দক্ষিণ এবং পূর্ব দিকে অবস্থিত মিনেসোটা, উইসকনসিন, মিশিগান, পেনসিলভেনিয়া এবং নিউ ইংল্যান্ড রাজ্যসমূহ নিয়ে এটি গঠিত।

৭। শুষ্ক কৃষি এবং পশুপালন বলয় অবস্থান: মধ্য সমভূমির পশ্চিম শুষ্ক অংশ এবং রকি পার্বত্য অঞ্চলের পূর্ব ঢাল নিয়ে এই বলয়টি গঠিত। টেক্সাসের পশ্চিম অংশ, নিউ মেক্সিকো,উটাহ, কলোরাডো, নেভাদা, ওয়াইওমিং, ইডাহো এবং মন্টানা রাজ্য এই বলয়ের অন্তর্গত।

৮। ভূমধ্যসাগরীয় কৃষি বলয়: 

অবস্থান ও জলবায়ু: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলের ক্যালিফোর্নিয়া উপত্যকায় এই বলয় গড়ে উঠেছে, যেখানে ভূমধ্যসাগরীয় জলবায়ুর প্রভাবে মূলত শীতকালে বৃষ্টিপাত হয়।

৯। উত্তর-প্রান্তীয় মিশ্র কৃষি বলয়: অবস্থান: আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের একেবারে উত্তর-পশ্চিম কোণে ওয়াশিংটন, ওরিগন এবং ইডাহো রাজ্য জুড়ে এই বলয়টি অবস্থিত।

৭। আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান উদ্যোগ অঞ্চল কয়েকটির নাম লেখ এবং মানচিত্রে দেখাও। তার মধ্যে একটি অঞ্চলের বিস্তৃত বিবরণ দাও।

উত্তরঃ আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রধানত তিনটি বৃহৎ উদ্যোগ অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়: 

(i) উত্তর-পূর্ব উদ্যোগ অঞ্চল। 

(ii) দক্ষিণ শিল্পাঞ্চল। 

(iii) প্রশান্ত উপকূলীয় শিল্পাঞ্চল।

তার মধ্যে একটি অঞ্চলের বিস্তৃত বিবরণ:

(i) উত্তর-পূর্ব উদ্যোগ অঞ্চলের প্রধান ৫টি শিল্পকেন্দ্রের বিবরণ:

(ক) পিটসবার্গ-হুইলিং-ক্লিভল্যান্ড উদ্যোগ কেন্দ্রঅবস্থান: উত্তর আপেলেসিয়ান কয়লা খনি অঞ্চলকে কেন্দ্র করে পেনসিলভেনিয়া এবং ওহিও রাজ্য জুড়ে এটি বিস্তৃত। 

শিল্পের প্রকৃতি: স্থানীয় উন্নত মানের কয়লা এবং সুপিরিয়র হ্রদ অঞ্চলের লোহা আকরিককে কাজে লাগিয়ে এখানে বিশ্বের অন্যতম শ্রেষ্ঠ লোহা-ইস্পাত শিল্প বলয় গড়ে উঠেছে। পিটসবার্গ, ইয়ংস্টাউন, হুইলিং এবং ক্লিভল্যান্ড এখানকার প্রধান লোহা-ইস্পাত উৎপাদন কেন্দ্র।

অন্যান্য শিল্প: লোহা-ইস্পাত ছাড়াও পিটসবার্গে কাঁচ ও বস্ত্রশিল্প গড়ে উঠেছে। এই অঞ্চলের অন্তর্গত এক্রন শহরটি পৃথিবীর বৃহত্তম রাবার উদ্যোগ কেন্দ্র হিসেবে বিশ্ববিখ্যাত।

(খ) নিউইয়র্ক-ফিলাডেলফিয়া-বল্টিমোর উদ্যোগ কেন্দ্র অবস্থান: এটি বৃহৎ মহানগরী নিউ ইয়র্ক, ফিলাডেলফিয়া এবং বল্টিমোরের ওপর উত্তর নিউ জার্সির বেশিরভাগ অংশ এবং পূর্বপেনসিলভেনিয়ার কিছু অংশ নিয়ে গঠিত।

শিল্পের বৈচিত্র্য: বল্টিমোরে লোহা-ইস্পাত, বস্ত্রশিল্প, টিন, পেট্রোলিয়াম এবং তামা শোধনাগার গড়ে উঠেছে। ফিলাডেলফিয়াতে বস্ত্রবয়ন, রাসায়নিক, বৈদ্যুতিক সরঞ্জাম, চিনি পরিশোধন, পেট্রোলিয়াম এবং রাবার শিল্প রয়েছে।

(গ) দক্ষিণ নিউ ইংল্যান্ড শিল্পাঞ্চল অবস্থান: ম্যাসাচুসেটস, রোড আইল্যান্ড, অরচেস্টার এবং নিউ হ্যাম্পশায়ার রাজ্য নিয়ে এই প্রাচীন শিল্পাঞ্চলটি গঠিত।

বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলে কয়লা বা লোহার খনি না থাকায় স্থানীয় নদীগুলির জলবিদ্যুৎ শক্তির ওপর নির্ভর করে সম্পূর্ণ প্রযুক্তি ও বিদ্যুৎ-চালিত শিল্প গড়ে উঠেছে।

(ঘ) ডেট্রয়েট শিল্পাঞ্চল অবস্থান: মিশিগান হ্রদের পূর্ব দিকে অবস্থিত মিশিগান রাজ্যকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চল গড়ে উঠেছে।

শিল্পের ভিত্তি: স্থানীয় কয়লা, লোহা এবং অঞ্চলের কঠিন কাঠের প্রাচুর্যকে ভিত্তি করে এই অঞ্চলের শিল্প বিকশিত হয়েছে।

(ঙ) দক্ষিণ মিশিগান শিল্পাঞ্চল অবস্থান: মিশিগান হ্রদের দক্ষিণ প্রান্তে ইলিনয় ও ইন্ডিয়ানা রাজ্যের অন্তর্গত শিকাগো মহানগরীকে কেন্দ্র করে এই অঞ্চল গড়ে উঠেছে।

শিল্পের প্রকৃতি: স্থানীয় কয়লা ও লোহার সহজলভ্যতার কারণে এখানে লোহা-ইস্পাত, রেল ইঞ্জিন, রেলের বগি নির্মাণ, বিভিন্ন ভারী যন্ত্রপাতি প্রস্তুত এবং মোটরগাড়ি শিল্প ব্যাপকভাবে গড়ে উঠেছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top