SEBA Class 10 Geography Chapter 3 অঞ্চল বা আঞ্চলিক ভূগোলের ধারণা

SEBA Class 10 Geography Chapter 3 অঞ্চল বা আঞ্চলিক ভূগোলের ধারণা Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Chapter 3 অঞ্চল বা আঞ্চলিক ভূগোলের ধারণা Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Geography Question Answer.

SEBA Class 10 Geography Chapter 3 অঞ্চল বা আঞ্চলিক ভূগোলের ধারণা

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 3

Textual Question Answer

১। অঞ্চল বলতে কী বোঝ? ভূগোল অধ্যয়নে অঞ্চলের গুরুত্ব সম্পর্কে ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ সাধারণ অর্থে আমরা সকলেই ‘অঞ্চল’ শব্দটি ব্যবহার করে থাকি, কিন্তু ভূগোলে এর অর্থ কিছু স্বতন্ত্র আধুনিক ভূগোলের বিকাশের সূত্রপাত থেকেই অঞ্চল সম্বন্ধীয় ধারণা এবং এর সাথে জড়িত বিতর্ক ভূগোল বিষয়ক চিন্তা-চর্চাকে জাগ্রত করে রেখেছে পৃথিবীর বহু ভূগোলবিদ আঞ্চলিক ভূগোল বা আঞ্চলিক পরিকল্পনার সঙ্গে নিজেকে যুক্ত করে অঞ্চল সম্পর্কে বিশদ আলোচনা করেছেন। 

সহজ কথায়, ভূ-পৃষ্ঠের কোনো অংশ যখন সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক উপাদানের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে অথবা উপাদানসমূহের পারস্পরিক ক্রিয়াত্মক সম্পর্কের ভিত্তিতে তার চারপাশের এলাকা থেকে আলাদা বা স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যে চিহ্নিত হয়, তখন তাকে ‘অঞ্চল’ বলা হয়।

ভূগোল অধ্যয়নে অঞ্চলের গুরুত্ব: 

(i) পৃথিবীর বৈচিত্র্য অনুধাবন: আমাদের পৃথিবী অত্যন্ত বৈচিত্র্যময় এবং স্থানভেদে এর প্রাকৃতিক ও মানবীয় পরিবেশের ব্যাপক পার্থক্য দেখা যায়। এই বিশাল পৃথিবীর প্রকৃত স্বরূপ সহজে জানার জন্য একে ছোট ছোট ভাগে বিভক্ত বা অঞ্চল হিসেবে অধ্যয়ন করা প্রয়োজন।

(ii)আঞ্চলিক তুলনা ও বৈষম্য দূরীকরণ: একেকটি অঞ্চলের ওপর ভিত্তি করে তৈরি আঞ্চলিক ভূগোল আমাদের বিভিন্ন অঞ্চলের তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরে।কয়েকটি অঞ্চল একসাথে অধ্যয়ন করলে কোন অঞ্চলটি উন্নত বা অগ্রসর এবং কোনটি অনগ্রসর তা সহজে বোঝা যায়।

(iii) অনগ্রসরতার কারণ নির্ণয়: কোনো একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল কেন অনগ্রসর, তা আঞ্চলিক ভৌগোলিক অধ্যয়নের মাধ্যমেই নিরূপণ করা সম্ভব হয়।

(iv) আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা: অঞ্চল কীভাবে সনাক্ত ও নিরূপণ করা যায়, তা জানা থাকলে অনগ্রসর অঞ্চলের সঠিক সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সহজ হয়।

২। ভূ-পৃষ্ঠে অঞ্চল কীভাবে সনাক্ত করা যায় ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ভূ-পৃষ্ঠে অঞ্চল সনাক্তকরণ বা চিহ্নিত করার প্রক্রিয়াটি মূলত দুটি সুনির্দিষ্ট নিয়মের ওপর ভিত্তি করে করা হয়:

পদ্ধতি দুটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(i) ভৌগোলিক উপাদানের সাদৃশ্যের ভিত্তিতে সমধর্মী অঞ্চল সনাক্তকরণ: এই পদ্ধতিতে ভূ-পৃষ্ঠের সেই অংশগুলোকে চিহ্নিত করা হয় যেখানে নির্বাচিত সুনির্দিষ্ট কিছু ভৌগোলিক উপাদানের মধ্যে মিল বা সাদৃশ্য দেখা যায়।

এই উপাদানগুলো প্রাকৃতিক বা সামাজিক হতে পারে:

প্রাকৃতিক উপাদানের ভিত্তিতে: মাটি, জলবায়ু, স্বাভাবিক উদ্ভিদ ইত্যাদি উপাদানের সাদৃশ্যের ওপর নির্ভর করে প্রাকৃতিক অঞ্চল সনাক্ত করা হয় যেমন—মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল।

এই অঞ্চলের জলবায়ু, মাটি ও উদ্ভিদের ক্ষেত্রে যথেষ্ট মিল বা সাদৃশ্য রয়েছে: এই সাদৃশ্যের ভিত্তিতে আসামের ব্রহ্মপুত্র উপত্যকাকে একটি ছোট প্রাকৃতিক অঞ্চল হিসেবে গণ্য করা যায়।

(ii) উপাদানসমূহের ক্রিয়াত্মক সম্পর্কের ভিত্তিতে ক্রিয়াত্মক অঞ্চল সনাক্তকরণ: এই পদ্ধতিতে অঞ্চলের ভেতরের উপাদানগুলোর বাহ্যিক মিল না দেখে, তাদের মধ্যকার পারস্পরিক গভীর সম্পর্ক ও নির্ভরশীলতার ওপর ভিত্তি করে অঞ্চল চিহ্নিত করা হয়।

কেন্দ্রীয় স্থানকে কেন্দ্র করে: সাধারণত কোনো একটি নগর বা বাজারকেন্দ্রকে কেন্দ্র করে ক্রিয়াত্মক অঞ্চল সনাক্ত করা হয়।

পারস্পরিক সংযুক্ততা: একটি প্রধান শহরকে কেন্দ্র করে তার চারপাশের অঞ্চলগুলো এমনভাবে যুক্ত থাকে যে মূল শহরকে বাদ দিয়ে ওই এলাকাগুলো সচল থাকতে পারে না

নগরটির সাথে চারদিকের অঞ্চলটি রাস্তাঘাট, যাতায়াত ও পরিবহনের পারস্পরিক কাজের দ্বারা সংযুক্ত থাকে

৩। সমধর্মী অঞ্চল এবং ক্রিয়াত্মক অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরো।

উত্তরঃ সমধর্মী অঞ্চল এবং ক্রিয়াত্মক অঞ্চলের মধ্যে পার্থক্য:

                      সমধর্মী অঞ্চল                     ক্রিয়াত্মক অঞ্চল
ভৌগোলিক উপাদানসমূহের সাদৃশ্য বা সমধর্মিতার ওপর ভিত্তি করে এই অঞ্চল সনাক্ত করা হয়।উপাদানসমূহের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং ক্রিয়াকলাপের ওপর ভিত্তি করে এই অঞ্চল গড়ে ওঠে।
এই অঞ্চলের কোনো নির্দিষ্ট কেন্দ্রবিন্দু বা নিউক্লিয়াস থাকে না।এই অঞ্চলটি মূলত একটি কেন্দ্রীয় স্থানকে (যেমন—কোনো নগর বা বাজারকেন্দ্র) কেন্দ্র করে গড়ে ওঠে।
অঞ্চলের অভ্যন্তরে ভৌত বা সাংস্কৃতিক উপাদানগুলোর মধ্যে সমতা বা যথেষ্ট সাদৃশ্য থাকে।ভেতরের উপাদানগুলো দেখতে একরকম বা সদৃশ না হলেও পারস্পরিক সম্পর্কের দিক থেকে গভীরভাবে সংযুক্ত থাকে।
নির্বাচিত উপাদানের সাদৃশ্য বা বিস্তৃতি যেখানে শেষ হয়, সেখানেই এই অঞ্চলের সীমানা নির্ধারিত হয়।কেন্দ্রীয় নগরের সাথে চারপাশের এলাকার যাতায়াত, যোগাযোগ এবং পণ্য ও পরিষেবার আদান-প্রদানের সীমার ওপর ভিত্তি করে এর সীমানা নিরূপণ করা যায়।
প্রাকৃতিক অঞ্চল (যেমন—মৌসুমী জলবায়ু অঞ্চল) ভাষিক অঞ্চল (যেমন—বাংলাভাষী বা অসমীয়াভাষী অঞ্চল)।গুয়াহাটি মহানগরের চারপাশের ক্রিয়াত্মক অঞ্চল কোনো বড় শহর বা বাণিজ্যিক বাজারকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা অর্থনৈতিক এলাকা।

৪। পৃথিবীর আঞ্চলিক ভূগোল বলতে কী বোঝ? এই বিষয়ে অধ্যয়নের গুরুত্ব কী?

উত্তরঃ পৃথিবীর আঞ্চলিক ভূগোলের ধারণা: ভূগোল শাস্ত্রের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও ঐতিহ্যবাহী একটি শাখা হলো আঞ্চলিক ভূগোল পৃথিবীর আঞ্চলিক ভূগোল বলতে ভূ-পৃষ্ঠের কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল, দেশ বা সমগ্র মহাদেশের সামগ্রিক ভৌগোলিক বিষয়ের সুবিন্যস্ত ও পূর্ণাঙ্গ আলোচনাকে বোঝায়।

আঞ্চলিক ভূগোল অধ্যয়নের গুরুত্ব: 

(i) পৃথিবীর বৈচিত্র্যময় ভৌগোলিক চিত্র অনুধাবন: আমাদের পৃথিবী বৈচিত্র্যপূর্ণ এবং স্থানভেদে এর প্রাকৃতিক পরিবেশ যেমন আলাদা, তেমনই মানুষের অর্থনৈতিক ও সামাজিক বিকাশও আলাদা আঞ্চলিক ভূগোলের মাধ্যমেই কেবল পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তের এই সামগ্রিক চিত্র স্পষ্টভাবে জানা সম্ভব হয়।

(ii) আঞ্চলিক বৈষম্য ও অনগ্রসরতা চিহ্নিতকরণ: পৃথিবীর সব অঞ্চল সমভাবে উন্নত নয়অনুকূল প্রাকৃতিক পরিবেশ সম্পন্ন অঞ্চল সমৃদ্ধ এবং প্রতিকূল পরিবেশের অঞ্চলগুলো অর্থনৈতিকভাবে অনগ্রসর হয়।

(iii) আঞ্চলিক উন্নয়ন পরিকল্পনা প্রণয়ন: নীতি নির্ধারক ও পরিকল্পনাবিদদের জন্য আঞ্চলিক ভূগোলের জ্ঞান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এর মাধ্যমে বিভিন্ন অঞ্চলের শক্তি ও দুর্বলতা চিহ্নিত করে অনগ্রসর অঞ্চলের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নের জন্য কার্যকর ও বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা তৈরি করা সম্ভব হয়।

৫। ‘প্রাকৃতিক অঞ্চল বলতে কী বোঝ? সমগ্র পৃথিবীকে কয়টি প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়? প্রতিটির নাম লেখো এবং মানচিত্রে দেখাও।

উত্তরঃ পৃথিবীর উপরিভাগের যে অংশগুলোর ভূ-অবয়ব জলবায়ু, প্রাকৃতিক বা স্বাভাবিক উদ্ভিদ এবং মাটির গুণাগুণ প্রায় একই ধরনের হয়, সেগুলোকে ভৌগোলিক পরিভাষায় প্রাকৃতিক অঞ্চল বলা হয়।

পৃথিবীর প্রধান প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহ: জলবায়ু ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে সমগ্র পৃথিবীকে ১১টি প্রধান প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিভক্ত করা যায়। এগুলো পৃথিবীর মানচিত্র দেওয়া আছে।

৬। প্রাকৃতিক অঞ্চল অধ্যয়নের মাধ্যমে কীভাবে পৃথিবীর আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় জ্ঞান লাভ করা যায়? সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ প্রাকৃতিক অঞ্চল অধ্যয়নের মাধ্যমে যেভাবে পৃথিবীর আঞ্চলিক ভূগোল সম্পর্কীয় গভীর জ্ঞান লাভ করা যায়, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:

(i) প্রাকৃতিক পরিবেশের উপাদানসমূহের সুশৃঙ্খল বিশ্লেষণ: আঞ্চলিক ভূগোলের একটি প্রধান কাজ হলো কোনো অঞ্চলের ভূমি রূপ, জলবায়ু, নদ-নদী, মাটি ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের মতো উপাদানগুলোর পুঙ্খানুপুঙ্খ বিবরণ দেওয়া।

(ii) প্রতিটি সুনির্দিষ্ট প্রাকৃতিক: অঞ্চলের অভ্যন্তরে এই উপাদানগুলোর মধ্যে এক অপরূপ সমতা বা সাদৃশ্য বজায় থাকে। ফলে, একেকটি প্রাকৃতিক অঞ্চল (যেমন—মৌসুমী অঞ্চল বা ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চল) ধরে অধ্যয়ন করলে সেই অঞ্চলের জলবায়ুগত অবস্থান, মাটির চরিত্র ও স্বাভাবিক উদ্ভিদের বণ্টন খুব সহজেই এবং স্পষ্টভাবে অনুধাবন করা যায়।

(iii) প্রাকৃতিক পরিবেশ ও মানুষের জীবনযাত্রার নিবিড় সম্পর্ক উপলব্ধি: আঞ্চলিক ভূগোল কেবল প্রকৃতির বিবরণ দেয় না, বরং মানুষের সামাজিক জীবন ও পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক তুলে ধরে মানুষের পোশাক-পরিচ্ছদ, খাদ্যাভ্যাস, ঘরবাড়ির ধরন ও জীবন-প্রণালী বহুলাংশে জলবায়ু ও প্রাকৃতিক পরিবেশের দ্বারা প্রভাবিত হয়।

(iv) প্রাকৃতিক অঞ্চল অধ্যয়নের মাধ্যমে আমরা সহজেই বুঝতে পারি: যে কেন নিরক্ষীয় অঞ্চলের আদিবাসীরা প্রতিকূল পরিবেশের জন্য এখনো যাযাবর বা শিকারী জীবনযাপন করছে, আর অন্যদিকে অনুকূল জলবায়ুর মৌসুমী অঞ্চলের মানুষ নিবিড় কৃষিকার্যের মাধ্যমে ঘন জনবসতি ও উন্নত সভ্যতার বিকাশ ঘটিয়েছে।

(v) স্থানিক বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক বৈষম্যের কারণ অনুসন্ধান: আঞ্চলিক ভূগোলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো স্থানিক বৈচিত্র্য এবং বিভিন্ন অঞ্চলের মধ্যকার উন্নয়নগত পার্থক্যের আভাস দেওয়া পৃথিবীর সব স্থানে প্রাকৃতিক পরিবেশ ও সম্পদের স্থিতি এক নয়, যার ফলে আর্থিক বিকাশও স্থানভেদে আলাদা হয়।

৭। পৃথিবীর প্রতিটি প্রাকৃতিক অঞ্চলের ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশসম্পর্কে লেখো।

উত্তরঃ মধ্য অক্ষাংশীয় নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চল: 

ভৌগোলিক অবস্থান: উভয় গোলার্ধেই কর্কটক্রান্তি ও মকরক্রান্তি রেখা থেকে ৫০° অক্ষাংশ পর্যন্ত এই মনোরম অঞ্চল বিস্তৃত। চীন ও জাপানের অংশবিশেষ, দক্ষিণ কানাডা,ইংল্যান্ডসহ উত্তর-পশ্চিম ইউরোপ, ব্রাজিলের দক্ষিণ-পূর্ব অংশ, উরুগুয়ে, চিলির দক্ষিণ অংশ, দক্ষিণ আফ্রিকার পূর্ব উপকূল এবং নিউজিল্যান্ড এর অন্তর্গত। 

জলবায়ু ও ভূ-প্রকৃতি: সমুদ্রের নিকটবর্তী অবস্থানের কারণে এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত মৃদু ভাবাপন্ন ও আরামদায়ক। গ্রীষ্মকালের গড় তাপমাত্রা প্রায় ১৫° সেলসিয়াস এবং শীতকালে তাপমাত্রা ৫° থেকে ১০° সেলসিয়াস থাকে। বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ৭৫-১৫০ সেন্টিমিটার।

ভূমি ও মৃত্তিকা: বৃষ্টিপাতের তারতম্য অনুযায়ী এখানে উর্বর পলিমাটি ও ধূসর নাতিশীতোষ্ণ মাটিতে বিস্তীর্ণ চিরসবুজ অরণ্য,পাহাড়ের গায়ে সরলবর্গীয় গাছ এবং সমতলে চওড়া পাতার পর্ণমোচী অরণ্য গড়ে উঠেছে।

৮। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহে বিরাজ করা জলবায়ু ও উদ্ভিদ সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তরঃ পৃথিবীর প্রধান প্রাকৃতিক অঞ্চলে বিরাজমান জলবায়ু ও উদ্ভিদের বিবরণ আলোচনা করা হলো:

(i) নিরক্ষীয় অঞ্চল:

জলবায়ু: এই অঞ্চলটি বিষুবরেখার বা নিরক্ষরেখার কাছাকাছি অবস্থিত হওয়ায় সারা বছর সূর্য রশ্মি প্রায় লম্বভাবে পড়ে। ফলে দিন ও রাতের দৈর্ঘ্য এবং গ্রীষ্ম ও শীতকালের তাপমাত্রার তেমন কোনো তারতম্য দেখা যায় না। এখানে বার্ষিক গড় তাপমাত্রা প্রায় ২৭° সেলসিয়াস। 

উদ্ভিদ: চিরস্থায়ী উত্তাপ ও অতিরিক্ত বৃষ্টিপাতের কারণে এই অঞ্চলে অত্যন্ত ঘন, দুর্গম এবং চিরসবুজ বা চিরহরিৎ অরণ্য গড়ে উঠেছে। 

(ii) মৌসুমী অঞ্চল:

জলবায়ু: মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে এই অঞ্চলে ঋতু পরিবর্তন অত্যন্ত স্পষ্ট ও বৈশিষ্ট্যপূর্ণ। এখানকার জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—উষ্ণ ও আর্দ্র গ্রীষ্মকাল এবং ঠান্ডা ও শুষ্ক শীতকাল।

উদ্ভিদ: ঋতু পরিবর্তনের সাথে সাথে বৃষ্টির তারতম্য ঘটে বলে এই অঞ্চলে সাধারণত পাতাঝরা বা পর্ণমোচী উদ্ভিদের প্রাধান্য দেখা যায়। শীতকালে বৃষ্টিপাতের চরম অভাবের কারণে এখানকার গাছপালার পাতা ঝরে যায়। 

(iii) ক্রান্তীয় তৃণভূমি অঞ্চল:

জলবায়ু: এটি নিরক্ষীয় অতিবৃষ্টির অরণ্য বলয় এবং ক্রান্তীয় শুষ্ক মরু অঞ্চলের মধ্যবর্তী একটি অন্তর্বর্তী এলাকায় অবস্থিত। এখানকার জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো—উষ্ণ ও স্বল্পস্থায়ী গ্রীষ্মকাল এবং শুষ্ক ও দীর্ঘ শীতকাল। 

উদ্ভিদ: বৃষ্টিপাত কম হওয়ার কারণে এখানে বড় বড় অরণ্য গড়ে উঠতে পারে না। তার পরিবর্তে উর্বর মাটিতে প্রায় ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু ও শক্ত ঘাসজাতীয় উদ্ভিদের বিস্তীর্ণ তৃণভূমি গড়ে উঠেছে, যা বিশ্বজুড়ে ‘সাভানা’ নামে পরিচিত। 

(iv) ক্রান্তীয় উষ্ণ মরু অঞ্চল:

জলবায়ু: এই অঞ্চলের জলবায়ু সারা বছরই চরম শুষ্ক এবং অত্যন্ত উষ্ণ থাকে। এখানে দিন ও রাতের তাপমাত্রার পার্থক্য অত্যন্ত বেশি। গ্রীষ্মকালে দিনের ভাগে তাপমাত্রা ৪৫° সেলসিয়াস পর্যন্ত বৃদ্ধি পায়। বাৎসরিক গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত নগণ্য, মাত্র ২০-২৫ সেন্টিমিটার।

উদ্ভিদ: বৃষ্টিপাতের তীব্র অভাব ও প্রচণ্ড উত্তাপের জন্য এই অঞ্চলে গাছপালা প্রায় জন্মায় না বললেই চলে। মরুভূমির শুষ্ক পরিবেশে টিকে থাকার জন্য এখানে প্রধানত কাঁটাযুক্ত ক্যাকটাস, ফণীমনসা, বাবলা ও ছোট ঝোপঝাড় জাতীয় উদ্ভিদ জন্মে। 

৯। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রাকৃতিক অঞ্চলে বসবাসকারী মানুষের জীবন-প্রণালীর একটি বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ প্রাকৃতিক অঞ্চলভেদে মানুষের জীবনযাত্রার বিস্তারিত বিবরণ দেওয়া হলো:

(i) নিরক্ষীয় অঞ্চল: প্রতিকূল জীবনযাত্রা ও যাযাবর সমাজ: সারা বছর অতিরিক্ত গরম, অস্বাস্থ্যকর আর্দ্র আবহাওয়া, অতিবৃষ্টি এবং গভীর ও দুর্গম বনভূমির (আমাজন অববাহিকায় যা ‘সেলভা’ নামে পরিচিত) কারণে এই অঞ্চলটি মানুষের বসবাসের জন্য খুবই অনুপযোগী।

প্রধান জীবিকা: আফ্রিকার কঙ্গো অববাহিকার আদিম অধিবাসী ‘পিগমি’ সম্প্রদায়ের মানুষেরা এখনো যাযাবর জীবন কাটায়। এরা মূলত বন্যপশু শিকার করে,নদী থেকে মাছ ধরে এবং জঙ্গল থেকে ফলমূল ও খাদ্য সংগ্রহ করে জীবিকা নির্বাহ করে।

(ii) মৌসুমী অঞ্চল: কৃষিভিত্তিক ও উন্নত সমাজ: অনুকূল ঋতু পরিবর্তন এবং উর্বর পলিমৃত্তিকার নদী উপত্যকার উপস্থিতি এই অঞ্চলটিকে কৃষি কাজের জন্য অত্যন্ত উপযুক্ত করে তুলেছে। এখানকার মানুষের প্রধান ভিত্তি হলো কৃষি। 

ঘন জনবসতি: বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রসারের ফলে এই অঞ্চলে উন্নত জীবনযাত্রার বিকাশ ঘটেছে এবং অত্যন্ত ঘন বসতি গড়ে উঠেছে। 

(iii) ক্রান্তীয় তৃণভূমি অঞ্চল:

পশুপালন ও শিকার নির্ভর জীবন: এই অঞ্চলে মাঝারি ও স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টিপাতের জন্য বিস্তীর্ণ সমভূমি জুড়ে বড় বড় ঘাসের সাভানা তৃণভূমি গড়ে উঠেছে। কৃষিকাজের জন্য মাটি খুব একটা উপযুক্ত না হওয়ায় এখানকার মানুষের প্রধান জীবিকা হলো বাণিজ্যিক পশুপালন এবং শিকার।

অর্থনৈতিক অবস্থা: এখানে বাণিজ্যিকভাবে উন্নত জাতের গরু, ভেড়া, ঘোড়া ও ছাগল পালন করা হয়। যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার অনগ্রসরতার কারণে এখানকার জীবনযাত্রা এখনও সামাজিক ও অর্থনৈতিক দিক থেকে অনগ্রসর এবং জনবসতি অত্যন্ত পাতলা।

১০। পৃথিবীতে মহাদেশ কয়টি এবং কী কী? প্রতিটি মহাদেশের একটি সংক্ষিপ্ত ভৌগোলিক পরিচয় তুলে ধরো।

উত্তরঃ দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে চিরকাল বরফ পরিবেষ্টিত থাকায় অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশে কোনো স্থায়ী জনবসতি নেই। 

প্রতিটি মহাদেশের সংক্ষিপ্ত কিন্তু সুনির্দিষ্ট ভৌগোলিক পরিচয় তুলে ধরা হলো:

(i) এশিয়া মহাদেশ: ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন: এশিয়া পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ, যা মোট স্থলভাগের প্রায় ৩০ শতাংশ স্থান জুড়ে মূলত উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এর উত্তরে উত্তর মহাসাগর, পূর্বে প্রশান্ত মহাসাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর অবস্থিত।

ভূ-প্রকৃতি ও নদ-নদী: মহাদেশটি পর্বতশ্রেণি, মালভূমি ও উর্বর সমভূমি দ্বারা গঠিত। বিশ্বের সর্বোচ্চ পর্বতমালা হিমালয় দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শৃঙ্গ গডউইন অস্টিন বা কে-টু এবং বিশ্বের ছাদ খ্যাত পামির মালভূমি এশিয়া মহাদেশেই অবস্থিত। 

(ii) আফ্রিকা মহাদেশ: ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন: আফ্রিকা আয়তনে পৃথিবীর দ্বিতীয় বৃহত্তম মহাদেশ, যা মোট স্থলভাগের প্রায় ২০ শতাংশ বেষ্টন করে আছে। এই মহাদেশের মাঝখান দিয়ে বিষুবরেখা অতিক্রম করার ফলে মহাদেশটি দুই ভাগে বিভক্ত হয়েছে।

ভূ-প্রকৃতি ও নদ-নদী: মহাদেশটির বেশিরভাগ অংশই একটি মালভূমি। আফ্রিকার সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো পূর্ব প্রান্তে অবস্থিত মাউন্ট কিলিমাঞ্জারো (৫,৮৯৫ মিটার)। পৃথিবীর দীর্ঘতম নদী নীলনদ এবং কঙ্গো (জাইরে), নাইজার, জাম্বেজি ও লিম্পোপো এখানকার প্রধান প্রধান নদী। 

(iii) ইউরোপ মহাদেশ:

ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন: ইউরোপ মহাদেশটি এশিয়ার উত্তর-পশ্চিম সীমায় সম্পূর্ণ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। উরাল পর্বতমালা ও উরাল নদী দ্বারা এটি এশিয়া থেকে পৃথক হয়েছে। মহাদেশটির মোট মাটির পরিমাণ ১০.৯ নিযুত বর্গ কিলোমিটার (স্থলভাগের ৭.৩%)।

ভূ-প্রকৃতি ও নদ-নদী: এখানকার ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত জটিল ও বৈচিত্র্যময়। দক্ষিণ ইউরোপে আল্পস, ককেসাসের মতো পর্বত রয়েছে; ককেসাসের ‘মাউন্ট এলব্রাস’ (৫,৬৩৩ মিটার) হলো ইউরোপের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ।

(iv) উত্তর আমেরিকা মহাদেশ:

ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন: এটি আয়তনে পৃথিবীর তৃতীয় বৃহত্তম মহাদেশ এবং মোট স্থলভাগের ১৬.৩ শতাংশ এলাকা জুড়ে সম্পূর্ণ উত্তর গোলার্ধে অবস্থিত। এর উত্তরে উত্তর মহাসাগর, দক্ষিণে মেক্সিকো উপসাগর এবং পূর্বে আটলান্টিক ও পশ্চিমে প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত।

ভূ-প্রকৃতি ও নদ-নদী: মহাদেশটির ভূ-প্রকৃতি মূলত ৪ ভাগে বিভক্ত—রকি পার্বত্য অঞ্চল, বিশাল উচ্চ সমভূমি, আপেলেসিয়ান উচ্চভূমি এবং উপকূলীয় সমতল ভূমি। এর সর্বোচ্চ শৃঙ্গ মাউন্ট ম্যাককিনলে (৬,১৯৪ মিটার) এবং সর্বনিম্ন স্থান ডেথভ্যালি।

(v) ওসেনিয়া মহাদেশ:

ভৌগোলিক অবস্থান ও আয়তন: এটি পৃথিবীর ক্ষুদ্রতম মহাদেশ, যা সম্পূর্ণ দক্ষিণ গোলার্ধে অবস্থিত। এটি মূলত অস্ট্রেলিয়া মূল ভূখণ্ড এবং নিউজিল্যান্ড, তাসমানিয়া, নিউগিনিসহ প্রশান্ত মহাসাগরের অসংখ্য ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে গঠিত।

ভূ-প্রকৃতি ও নদী: ওসেনিয়ার মূল অংশ অস্ট্রেলিয়া একটি প্রাচীন মালভূমি এবং এর পূর্ব দিকে গ্রেট ডিভাইডিং রেঞ্জ পর্বতমালা অবস্থিত। মুরে ও ডার্লিং এখানকার প্রধান নদী ব্যবস্থা। 

(vi) অ্যান্টার্কটিকা মহাদেশ:

ভৌগোলিক অবস্থান ও বৈশিষ্ট্য: পৃথিবীর দক্ষিণ মেরুকে কেন্দ্র করে বরফাবৃত কুমেরু অঞ্চলে এই মহাদেশটি অবস্থিত। এটি আয়তনে বেশ বড় এবং প্রায় সম্পূর্ণ অংশই (৯৮%) সারা বছর গড়ে ২ কিলোমিটার পুরু বরফের স্থায়ী চাদরে ঢাকা থাকে।

১১। পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ কোনটি? সেই মহাদেশটির ভূ-প্রাকৃতিক বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ পৃথিবীর বৃহত্তম মহাদেশ উচ্চ পার্বত্য অঞ্চল।

সেই মহাদেশটির ভূ-প্রাকৃতিক অবস্থান: পৃথিবীর অত্যন্ত উঁচু এবং নবীন ভঙ্গিল পর্বতমালা জুড়ে এই অঞ্চল অবস্থিত, যেমন—এশিয়ার হিমালয়, ইউরোপের আল্পস, উত্তর আমেরিকার রকি এবং দক্ষিণ আমেরিকার এন্ডিজ পর্বতশ্রেণি।

ভূ-প্রাকৃতিক পরিবেশ: উচ্চতা বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রতি ১০০০ মিটারে প্রায় ৬.৪° সেলসিয়াস তাপমাত্রা হ্রাস পায়, যার ফলে খুব কম দূরত্বের ব্যবধানে জলবায়ুর দ্রুত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। পর্বতের পাদদেশে ঘন অরণ্য থাকলেও চূড়ার অংশগুলো চিরকাল তুষারাবৃত থাকে এবং মাটির স্তর অত্যন্ত পাতলা হয়।

১২। পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনসংখ্যার মহাদেশ কোনটি? সেই মহাদেশের জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনসংখ্যার মহাদেশ: পৃথিবীর মহাদেশগুলোর মধ্যে আয়তন এবং জনসংখ্যা উভয় ক্ষেত্রেই এশিয়া মহাদেশ সর্ববৃহৎ এবং পৃথিবীর সর্বোচ্চ জনসংখ্যা বিশিষ্ট মহাদেশ।

এশিয়া মহাদেশের জনসংখ্যা ও অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্যের বিবরণ দেওয়া হলো:

জনসংখ্যাগত বৈশিষ্ট্য:

(i) বিশাল জনসংখ্যা: ২০০৭ সালের আনুমানিক তথ্য অনুযায়ী, সমগ্র পৃথিবীর মোট জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৬৬২ কোটি। এর মধ্যে কেবল এশিয়া মহাদেশেরই জনসংখ্যা ছিল প্রায় ৪০১ কোটি, যা সমগ্র বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় তিন-পঞ্চমাংশ (৬০.৫০ শতাংশ)।

(ii) অসম জনসংখ্যা বণ্টন: মহাদেশটির ভূ-প্রকৃতির বিভিন্নতার জন্য এখানে জনসংখ্যা বণ্টন অত্যন্ত অসম। এর প্রায় তিন-চতুর্থাংশ মানুষই দক্ষিণ, দক্ষিণ-পূর্ব এবং পূর্বের ক্রান্তীয় ও উপক্রান্তীয় মৌসুমী জলবায় অঞ্চলে বসবাস করে।

(iii) দুটি প্রধান দেশের আধিক্য: এশিয়া মহাদেশের ৪৯টি দেশের মধ্যে কেবলমাত্র দুটি দেশেই—চীন এবং ভারত—সমগ্র মহাদেশের জনসংখ্যার প্রায় ৬১ শতাংশ মানুষ একত্রিত হয়ে আছে।

(iv) বৃহৎ মহানগরীসমূহ: জাপানের রাজধানী টোকিও (৩৪ নিযুত জনসংখ্যাসহ) কেবল এশিয়া মহাদেশেরই নয়, সমগ্র বিশ্বের মধ্যে বৃহত্তম মহানগরী। এছাড়া এশিয়ার অন্যান্য বৃহৎ মহানগরীর মধ্যে বেইজিং, মুম্বাই, দিল্লি, কলকাতা, সিঙ্গাপুর, সিউল, সাংহাই, হংকং, ব্যাংকক, কুয়ালালামপুর, তাইপেই ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

অর্থনৈতিক বৈশিষ্ট্য:

(i) কৃষিনির্ভর অর্থনীতি: এশিয়া মহাদেশ প্রাকৃতিক সম্পদে ভরপুর হলেও এখানকার অর্থনীতি মূলত এখনো কৃষির ওপর নির্ভরশীল। এখানকার প্রধান উৎপাদিত শস্যসমূহ হলো ধান, গম, আখ, তামাক, কার্পাস, চা, রবার, কফি ইত্যাদি।

(ii) খনিজ তেলের সমৃদ্ধি: এশিয়ায় প্রচুর পরিমাণে পেট্রোলিয়াম বা খনিজ তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পাওয়া যায়। সৌদি আরবসহ দক্ষিণ-পশ্চিম এশিয়া, ভারত, মায়ানমার, ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং সাইবেরিয়া খনিজ তেল উৎপাদনে অত্যন্ত উন্নত।

(iii) কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাসের ভাণ্ডার: ভারত, ইন্দোনেশিয়া, চীন এবং সাইবেরিয়া অঞ্চলে প্রচুর পরিমাণে কয়লা ও প্রাকৃতিক গ্যাস মজুত রয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top