SEBA Class 10 Geography Chapter 2 পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Chapter 2 পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Geography Question Answer.
SEBA Class 10 Geography Chapter 2 পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা
Chapter: 2
| Textual Question Answer |
১। পরিবেশ বললে কী বোঝো? পরিবেশকে কেন একটি তন্ত্র হিসাবে বিবেচনা করা হয়?
উত্তরঃ পরিবেশ বলতে যে কোনো জীব বা জীব-সম্প্রদায়ের চারপাশের অবস্থাকে বোঝায়, যার ওপর জীবের স্থিতি এবং বিকাশ নির্ভর করে। এই অবস্থাগুলো জৈব এবং অজৈব উভয় প্রকারের হতে পারে, যা পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে জীবের বেঁচে থাকার উপযোগী পরিবেশ গড়ে তোলে।
তন্ত্র হিসেবে বিবেচনার কারণ: ‘তন্ত্র’ বা ‘System’ হলো পারস্পরিক সম্পর্কযুক্ত কিছু উপাদানের সৃষ্টি করা একটি বিশেষ পরিস্থিতি। পৃথিবীর পরিবেশ অসংখ্য জৈবিক এবং অজৈবিক উপাদানের জটিল আন্তঃক্রিয়া এবং পারস্পরিক সম্পর্কের মাধ্যমে গড়ে উঠেছে। পৃথিবীর প্রতিটি অঞ্চলের নিজস্ব পরিবেশ এই বিশাল বৈশ্বিক পরিবেশ তন্ত্রের এক-একটি অংশমাত্র, যা প্রতিনিয়ত পরিবর্তনশীল এবং একটি জটিল ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করে।
২। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল, স্থলমণ্ডল, জলমণ্ডল এবং জীবমণ্ডলের মধ্যের সম্পর্ক উদাহরণ দিয়ে বুঝিয়ে দাও।
উত্তরঃ পারস্পরিক সম্পর্ক: পৃথিবীর পরিবেশের উপাদানগুলো প্রধানত চারটি মণ্ডলে বিভক্ত—স্থলমণ্ডল, জলমণ্ডল, জীবমণ্ডল এবং বায়ুমণ্ডল। এই চারটি মণ্ডল সম্পূর্ণ স্বাধীন নয়, বরং এরা একে অপরের ওপর গভীরভাবে নির্ভরশীল।
উদাহরণ: এদের পারস্পরিক সম্পর্কের অন্যতম শ্রেষ্ঠ উদাহরণ হলো জলচক্র এবং কার্বন চক্র। জলচক্রে জলমণ্ডল (সাগর-নদী) থেকে জল বাষ্পীভূত হয়ে বায়ুমণ্ডলে যায়, সেখানে ঘনীভূত হয়ে বৃষ্টিরূপে স্থলমণ্ডলে (মাটিতে) ঝরে পড়ে এবং জীবমণ্ডলের বেঁচে থাকার জোগান দেয়। একইভাবে কার্বন চক্রের মাধ্যমে জীবমণ্ডলের শ্বাস-প্রশ্বাস এবং স্থলমণ্ডলের শিলা ও খনিজের রূপান্তর বায়ুমণ্ডলের সাথে গ্যাসীয় আদান-প্রদান বজায় রাখে।
৩। পৃথিবীর সব অঞ্চলের পরিবেশ কেন এক নয় সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ পৃথিবীর সব অঞ্চলের পরিবেশ এক না হওয়ার প্রধান কারণগুলো হলো:
(i) প্রাকৃতিক উপাদানের তারতম্য: মাটি, জল, উত্তাপ, বৃষ্টিপাত এবং জলবায়ু অঞ্চলভেদে ভিন্ন হয়। উদাহরণস্বরূপ, বিষুবরেখার পার্শ্ববর্তী অঞ্চল মেরু বা মরুভূমি অঞ্চল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা।
(ii) অবস্থানগত ভিন্নতা: ভূপৃষ্ঠের অবস্থান, ভূ-আকৃতি, সমুদ্র থেকে দূরত্ব এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে উচ্চতা জলবায়ু ও পরিবেশকে প্রভাবিত করে।
(iii) জীবজগতের বণ্টন: বিষুবীয় অঞ্চলে ঘন চিরসবুজ অরণ্য দেখা যায়, অথচ মরুভূমিতে কেবল কাঁটাযুক্ত উদ্ভিদ এবং মেরু অঞ্চলে ছোট শ্যাওলাজাতীয় তুন্দ্রা উদ্ভিদ জন্মায়। একই তারতম্য প্রাণীদের ক্ষেত্রেও দেখা যায় (যেমন—মরুর উট ও মেরুর বল্গা হরিণ)।
(iv) মাটির গুণাগুণ: নদী উপত্যকার পলিমাটি, মধ্য অক্ষাংশের শর্নোজেম মাটি এবং শীতল অক্ষাংশের অম্লীয় পড়জল মাটির গঠন ও ধর্ম সম্পূর্ণ আলাদা।
৪। পরিবেশ-ভূগোলের সংজ্ঞা দাও।
উত্তরঃ পরিবেশ-ভূগোলের সংজ্ঞা: ভূগোল বিষয়ের যে শাখা পৃথিবীর পরিবেশের স্বরূপ পরিবর্তন এবং পরিবেশজনিত সমস্যাগুলোর বৈজ্ঞানিক অধ্যয়নের পাশাপাশি তার সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের প্রয়াস করে,তাকে পরিবেশ-ভূগোল বলা হয়। সহজ কথায়, পৃথিবীর পরিবেশের ভৌগোলিক অধ্যয়নই হলো পরিবেশ-ভূগোল।
৫। ভূগোল বিষয়টির একটি শাখা হিসাবে পরিবেশ ভূগোলের গুরুত্ব আলোচনা কর।
উত্তরঃ ভূগোল বিষয়ে মানুষ এবং পরিবেশের পারস্পরিক সম্পর্ক এবং আঞ্চলিক নির্ভরশীলতার বিষয়টি সূচনাকাল থেকেই একটি প্রধান বিষয়বস্তু হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে সাম্প্রতিককালে মানব সভ্যতার বিকাশ ও নানা ধরনের ক্রিয়াকলাপের ফলে পারিবেশিক জটিলতা ক্রমশ বৃদ্ধি পাওয়ায় ভূগোলের একটি বিশেষ শাখা হিসেবে পরিবেশ ভূগোলের গুরুত্ব অপরিসীম।
এর মূল গুরুত্বসমূহ আলোচনা করা হলো:
পারিবেশিক সমস্যার বৈজ্ঞানিক বিশ্লেষণ: দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি, নগরীকরণ, শিল্পায়ন, পরিবহনের প্রসার ও খনিজ জ্বালানির ব্যাপক ব্যবহারের ফলে বনানি ধ্বংস, জৈব-বৈচিত্র্যের সংকোচন, গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি, মরুভূমির প্রসার এবং মাটি-জল-বায়ু দূষণের মতো বহু জটিল পারিবেশিক সমস্যা দেখা দিয়েছে।
পরিবেশের রূপ পরিবর্তন ও সমাধানের প্রয়াস: ভূগোল বিষয়ের যে শাখা পৃথিবীর পরিবেশের স্বরূপ পরিবর্তন এবং পরিবেশগত সমস্যার অধ্যয়নের পাশাপাশি তা সমাধানের উপায় উদ্ভাবনের চেষ্টা করে, তাই হলো পরিবেশ ভূগোল।
অঞ্চলভিত্তিক পরিবেশগত দুর্যোগের বিচার: মানুষ ও মানুষের কর্মপদ্ধতিকে কেন্দ্র করে অঞ্চলভেদে পরিবেশের স্থিতি ও পরিবর্তন অধ্যয়ন করা পরিবেশ ভূগোলের প্রধান কাজ। যেমন—কোনো অঞ্চলে বনাঞ্চল ধ্বংসের পরিমাণ ও কারণ, বন্যা বা ভূমিস্খলনের মতো দুর্যোগ কোথায় কীভাবে ঘটছে এবং দূষণ কীভাবে পরিবেশ বিনষ্ট করছে তা এতে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে আলোচনা করা হয়।
সম্পদের অনুকূল ব্যবহার ও পরিবেশ পরিচালনা: প্রাকৃতিক সম্পদের পরিবেশ-অনুকূল ব্যবহার সুনিশ্চিত করা এবং পরিবেশ পরিচালনার রূপরেখা তৈরিতে এই শাখা বিশেষ গুরুত্ব দেয়।
৬। পরিবেশ ভূগোলের উদ্দেশ্য এবং অধ্যয়নের পরিসরে একটি আভাস দাও।
উত্তরঃ পরিবেশ ভূগোলের প্রধান উদ্দেশ্যসমূহ:
(i) পরিবেশের ঐতিহাসিক বিকাশ বা বিবর্তন অধ্যয়ন করা।
(ii) দ্রুত জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং পরিবেশের সাথে জনসংখ্যার পারস্পরিক সম্বন্ধ বিচার করা।
(iii) বন্যা, ভূমিস্খলন ইত্যাদির মতো প্রাকৃতিক দুর্যোগ এবং সেগুলোর উপযুক্ত ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা।
(iv) অর্থনীতি ও সংস্কৃতির সাথে পরিবেশের সম্পর্ক পর্যালোচনা করা।
(v) এই উদ্দেশ্যসমূহ সফল করতে পরিবেশ ভূগোলবিদরা সুদূর সংবেদন এবং কম্পিউটার-নির্ভর কৌশলের সাহায্য গ্রহণ করে থাকেন।
পরিবেশ ভূগোলের অধ্যয়নের পরিসর:
মানুষ ও পরিবেশের আন্তঃসম্পর্ক: অঞ্চলভেদে মানুষ এবং পরিবেশের পারস্পরিক নির্ভরতা ও সম্পর্কের পরিবর্তন বিশ্লেষণ।
পরিবেশের উপাদান ও মণ্ডলসমূহ: পৃথিবীর মূল চারটি মণ্ডল (স্থলমণ্ডল, জলমণ্ডল, বায়ুমণ্ডল ও জীবমণ্ডল) এবং এদের জৈব ও অজৈব উপাদানসমূহের পারস্পরিক ভারসাম্য রক্ষা করা।
পারিবেশিক সমস্যা ও দূষণ নিয়ন্ত্রণ: নির্বনীকরণ, বৈশ্বিক উষ্ণায়ন, বায়ুদূষণ, জলদূষণ এবং জীববৈচিত্র্য হ্রাসের মতো সমস্যাগুলোর স্থানিক কারণ ও প্রভাব মূল্যায়ন করা।
৭। পরিবেশের উপাদান বললে কী বোঝো? জৈব এবং অজৈব উপাদানের অর্থ কী লেখো।
উত্তরঃ পরিবেশের উপাদান: পৃথিবীর চারটি প্রধান মণ্ডলের (স্থল, জল, বায়ু, জীব) অন্তর্গত সমস্ত উপাদানই পরিবেশের উপাদান।
জৈব উপাদান: জীবমণ্ডলের অন্তর্গত উদ্ভিদ, অণুজীব থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষুদ্র ও বৃহৎ সজীব প্রাণীকে জৈব উপাদান বলে।
অজৈব উপাদান: পরিবেশের প্রাণহীন বা জড় উপাদানগুলোকে অজৈব উপাদান বলে, যেমন—মাটি, বালি, জল, বায়ু, শিলা এবং সৌরশক্তি।
৮। নিচের উল্লিখিত উপাদানগুলো জৈব এবং অজৈব দুভাগে বিভক্ত করে তালিকাটি পূর্ণ করো।
উপাদান: বালি, মানিক, ব্যাক্টেরিয়া, উদ্ভিদপ্লবক, ঘাস, বৃষ্টি, আর্দ্রতা , মাটি, জল, অরণ্য, কীট-পতংগ, ভাইরাস, কয়লা, খনিজ তেল, মেনগ্রভ, সৌরশক্তি।
| উপাদান | |
| জৈব | অজৈব |
উত্তরঃ উপাদানগুলো জৈব এবং অজৈব দুভাগে বিভক্ত করা হলো:
| জৈব উপাদান | অজৈব উপাদান |
| ব্যাক্টেরিয়া | বালি |
| উদ্ভিদপ্লবক | মানিক |
| ঘাস | বৃষ্টি |
| অরণ্য | আর্দ্রতা |
| কীট-পতংগ | কীট-পতংগ |
| ভাইরাস | ভাইরাস |
| মেনগ্রভ | কয়লা (জড় খনিজ) |
| খনিজ তেল (জড় খনিজ) | |
| সৌরশক্তি |
কয়লা ও খনিজ তেল জৈব উৎস থেকে সৃষ্টি হলেও বর্তমানে এগুলোকে জড় বা প্রাণহীন অজৈব খনিজ সম্পদ হিসেবে গণ্য করা হয়।
৯। পারিবেশিক সমস্যা মানে কি?
উত্তরঃ মানুষ ও প্রকৃতির পারস্পরিক ক্রিয়ার ফলে পরিবেশের যে অবাঞ্ছিত পরিবর্তন ঘটে এবং যার দরুন জীবজগতের স্বাভাবিক স্থিতি ও অস্তিত্ব বিপন্ন হয়ে পড়ে, তাকে পারিবেশিক সমস্যা বলা হয়। যেমন—বায়ু দূষণ, বিশ্ব উষ্ণায়ন ইত্যাদি।
১০। পৃথিবীতে পারিবেশিক সমস্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো উল্লেখ করো।
উত্তরঃ পৃথিবীতে পারিবেশিক সমস্যা ক্রমে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণগুলো:
(i) জনসংখ্যা বৃদ্ধি: গত দুই শত বছরে (১৮০০-২০০০ সাল) পৃথিবীর জনসংখ্যা ১০০ কোটি থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৬০০ কোটিতে উন্নীত হয়েছে, যা পরিবেশের ওপর চরম চাপ সৃষ্টি করেছে।
(ii) নগরায়নের প্রসার: ১৮০০ সালে মাত্র ২% লোক নগরে বাস করত, যা বর্তমানে প্রায় ৫০%-এ পৌঁছেছে, ফলে বর্জ্য ও দূষণের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে।
(iii) ব্যাপক সম্পদ আহরণ ও নির্বনীকরণ: অতিরিক্ত চাহিদার কারণে অরণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে।
(iv) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার: কলকারখানা ও যানবাহনে কয়লা এবং খনিজ তেলের দহনের ফলে ক্ষতিকর গ্যাস বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(v) আধুনিক প্রযুক্তির অনিয়ন্ত্রিত প্রয়োগ: কৃষি ও শিল্পক্ষেত্রে ক্ষতিকর রাসায়নিকের যথেচ্ছ ব্যবহার।
১১। পারিবেশিক ভারসাম্য অবস্থা বললে কী বোঝো?
উত্তরঃ পরিবেশের বিভিন্ন জৈব ও অজৈব উপাদানগুলোর মধ্যে যখন একটি স্থিতিশীল ও সুসামঞ্জস্যপূর্ণ অবস্থা বজায় থাকে, যেখানে কোনো উপাদানের আকস্মিক ক্ষতিকর পরিবর্তন ঘটে না এবং জীবজগতের বিকাশ বাধাগ্রস্ত হয় না, তাকে পারিবেশিক ভারসাম্য অবস্থা বলে। যেমন—কোনো অঞ্চলের পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার মূল ভিত্তি হলো তার মোট জমির অন্তত ৩৩% বনভূমি থাকা।
১২। ‘নির্বনীকরণ বহু সমস্যার কারণ এবং বহু উন্নয়নের ফল’- উক্তিটি যুক্তিদ্বারা বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ নির্বনীকরণ বহু সমস্যার কারণ এবং বহু উন্নয়নের ফল:
বহু সমস্যার কারণ:
(i) গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি: গাছপালা কমে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে নির্গত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাসের প্রাকৃতিক শোষণ হ্রাস পাচ্ছে। ফলে বায়ুমণ্ডলে গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে তাপমাত্রা ক্রমাগত বাড়ছে।
(ii) ভূমি ক্ষয় ও ভূমিধস: গাছের শিকড় মাটিকে শক্ত করে ধরে রাখে। বনাঞ্চল ধ্বংসের ফলে মাটির বাঁধন আলগা হয়ে যাচ্ছে, যার ফলে অবক্ষয়িত অঞ্চলে ব্যাপক ভূমি ক্ষয় এবং পার্বত্য অঞ্চলে মারাত্মক ভূমিধসের মতো বিপর্যয় ঘটছে।
(iii) জলের অভাব ও খরা: বনভূমি ধ্বংস হওয়ার কারণে বৃষ্টিপাতের স্বাভাবিক চক্র ব্যাহত হচ্ছে, যার ফলে বিভিন্ন অঞ্চলে জলের চরম সংকট দেখা দিচ্ছে।
(iv) মরুভূমির প্রসার: বনাঞ্চল উচ্ছেদের ফলে ক্রান্তীয় শুষ্ক অঞ্চলগুলোতে ক্রমশ মরুভূমির বিস্তার ঘটছে।
উন্নয়নের ফল: মানব সভ্যতার অগ্রগতির সাথে সাথে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির প্রভূত উন্নতি ঘটেছে। এই অগ্রগতির ফলে একদিকে মানুষের মৃত্যুহার হ্রাস পাওয়ায় জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেয়েছে এবং অন্যদিকে শিল্পোদ্যোগ, নগরায়ণ ও যাতায়াত পরিবহনের অভূতপূর্ব প্রসার ঘটেছে। এই সামগ্রিক উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করার জন্য বনজ সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। রেলপথ নির্মাণ, কাগজ তৈরির কারখানা, ঘরবাড়ি ও আসবাবপত্র নির্মাণ এবং অন্যান্য কাষ্ঠভিত্তিক শিল্পের কাঁচামাল জোগাতে বনের গাছপালা কাটা শুরু হয়। তাছাড়া ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার আবাসন ও কৃষিজমির সংস্থানের জন্য প্রতিনিয়ত বনাঞ্চল পরিষ্কার করা হচ্ছে।
১৩। গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি মানে কি? এর প্রধান কারণগুলো উল্লেখ করো।
উত্তরঃ মানুষের বিভিন্ন পরিবেশ-বিরোধী ও অনিয়ন্ত্রিত ক্রিয়াকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে নির্দিষ্ট কিছু গ্যাসের অনুপাত বৃদ্ধি পেয়ে বিশ্বজুড়ে ভূপৃষ্ঠ এবং বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বৃদ্ধি পাওয়ার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি বলে।
প্রধান কারণসমূহ:
(i) সবুজগৃহ গ্যাসের মাত্রাতিরিক্ত নির্গমন: বায়ুমণ্ডলে জলীয় বাষ্প,কার্বন ডাই-অক্সাইড মিথেন নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন ইত্যাদি গ্যাস মাত্র ০.১ শতাংশ থাকলেও এগুলো ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রতিফলিত সৌরশক্তি শোষণ করে বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বৃদ্ধি করে।
(ii) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যাপক দহন: ইউরোপে শিল্প বিপ্লবের পর থেকে কলকারখানা, বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং যানবাহনে কয়লা ও খনিজ তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার অভূতপূর্ব হারে বৃদ্ধি পেয়েছে।
(iii) ব্যাপক অরণ্য ধ্বংস: গাছপালা সালোকসংশ্লেষ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বায়ুমণ্ডল থেকে অতিরিক্ত কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস শোষণ করে বাতাসে তার ভারসাম্য বজায় রাখে।
(iv) আধুনিক প্রযুক্তি ও রাসায়নিকের ব্যবহার: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং প্লাস্টিক শিল্প থেকে নির্গত ক্ষতিকর ক্লোরোফ্লোরোকার্বন, কৃষিক্ষেত্রে রাসায়নিক সারের ব্যবহার এবং আবর্জনা পচনের ফলে নির্গত মিথেন ও নাইট্রাস অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলের উত্তাপ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখছে।
১৪। গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধির ফলে উদ্ভব হওয়া সমস্যাগুলোর একটি আভাস দাও।
উত্তরঃ গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধির ফলে উদ্ভব হওয়া প্রধান সমস্যাগুলো আলোচনা করা হলো:
(i) মেরু অঞ্চলের বরফ গলন: বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা যদি মাত্র ২ থেকে ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বৃদ্ধি পায়, তবে দুই মেরু অঞ্চল এবং হিমালয় বা সুউচ্চ পর্বতের ওপর জমা হয়ে থাকা অতি শক্ত প্রাচীন বরফের স্তর ও হিমবাহগুলো অতি দ্রুত গলতে শুরু করবে।
(ii) সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি: মেরু অঞ্চলের জমাট বরফ গলে জল সমুদ্রে মিশলে সমুদ্রের জলের মোট আয়তন বৃদ্ধি পাবে এবং আপেক্ষিকভাবে উষ্ণতার জন্য জল প্রসারিত হবে। এর ফলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাবে।
(iii) উপকূলীয় নিচু অঞ্চল প্লাবিত হওয়া: সমুদ্রের জলস্তর যদি মাত্র ১ মিটার উপরে উঠে আসে, তবে পৃথিবীর উপকূলীয় অঞ্চলের প্রায় ৫ নিযুত বর্গ কিলোমিটার জমি জলের নিচে তলিয়ে যাবে। এর ফলে সমুদ্রের বহু জনবসতিপূর্ণ দ্বীপ, উর্বর ব-দ্বীপ এবং প্রবাল দ্বীপ সম্পূর্ণ জলমগ্ন হবে।
১৫। গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে মানুসের কর্তব্য সম্বন্ধে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি বা বিশ্ব উষ্ণায়ন বর্তমান যুগের সবচেয়ে বড় পরিবেশগত চ্যালেঞ্জ।
এই বিপর্যয় থেকে পৃথিবীকে রক্ষা করতে মানুষের প্রধান কর্তব্যগুলো উল্লেখ করা হলো:
(i) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার হ্রাস করা: কলকারখানা, যানবাহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লা, পেট্রোল ও খনিজ তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির দহন কমাতে হবে। এর পরিবর্তে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি, জলবিদ্যুৎ এবং অন্যান্য পরিবেশ-বান্ধব ও নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বৃদ্ধি করতে হবে।
(ii) ব্যাপক বৃক্ষরোপণ ও অরণ্য সংরক্ষণ: অরণ্য হলো বায়ুমণ্ডলের কার্বন ডাই-অক্সাইড শোষণের প্রাকৃতিক মাধ্যম। তাই নির্বনীকরণ অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে এবং প্রতিটি দেশের মোট স্থলভাগের অন্তত ৩৩ শতাংশ বনভূমি বজায় রাখতে হবে।।
(iii) সবুজগৃহ গ্যাসের নির্গমন হ্রাস: রেফ্রিজারেটর, এয়ার কন্ডিশনার এবং আধুনিক ফোম বা প্লাস্টিক শিল্পে ক্লোরোফ্লোরোকার্বন গ্যাসের ব্যবহার বন্ধ করে পরিবেশ-অনুকূল বিকল্প প্রযুক্তির প্রয়োগ বাড়াতে হবে।
(iv) পরিবেশ রক্ষা আন্দোলনে অংশগ্রহণ ও সমর্থন: ভারতের ‘চিপকো’ আন্দোলন ও ‘সাইলেন্ট ভ্যালি’ আন্দোলনের মতো পরিবেশ রক্ষা ও বন সংরক্ষণের পক্ষে গড়ে ওঠা জনআন্দোলনগুলোকে সমর্থন করা এবং স্থানীয় ও বিশ্বজনীন স্তরে সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।
১৬। সবুজগৃহ গ্যাস কয়েকটির নাম লেখো।
উত্তরঃ প্রধান কয়েকটি সবুজগৃহ বা গ্রিনহাউস গ্যাস হলো: জলীয় বাষ্প, কার্বন ডাই-অক্সাইড, মিথেন,নাইট্রাস অক্সাইড, ক্লোরোফ্লোরোকার্বন।
১৭। বায়ু প্রদূষণ বললে কী বোঝো? কী কী কারণে বায়ু প্রদূষিত হয়?
উত্তরঃ বায়ু প্রদূষণ: বায়ুমণ্ডলের গ্যাসীয় উপাদানগুলোর নির্দিষ্ট অনুপাত কোনো কারণে বিঘ্নিত হয়ে যখন বাতাসে বিষাক্ত পদার্থ বা দূষক মিশে যায় এবং তা জীবজগতের জন্য ক্ষতিকর হয়ে ওঠে, তাকে বায়ু প্রদূষণ বলে।
বায়ু প্রদূষণের কারণসমূহ:
(i) প্রাকৃতিক কারণ: আগ্নেয়গিরির উদগিরণ (যেমন ১৯৯১ সালের মাউন্ট পিনাটুবো উদগিরণ যাতে বিপুল সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়) এবং বনের আগুন বা দাবানল।
(ii) মানবসৃষ্ট কারণ: কলকারখানা ও যানবাহনে জীবাশ্ম জ্বালানির দহন থেকে নির্গত ক্ষতিকর গ্যাস যেমন—কার্বন মনোক্সাইড (CO), নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হাইড্রোকার্বন
এছাড়া নগরায়ন, শিল্পায়ন এবং আণবিক শক্তির প্রয়োগ বায়ু দূষণের অন্যতম কারণ।
১৮। বায়ু প্রদূষনে কী ধরণের সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে লেখো।
উত্তরঃ বায়ু প্রদূষনে সমস্যার সৃষ্টি:
(i) অ্যাসিড বৃষ্টি: বায়ুমণ্ডলে অত্যধিক পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড ও নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড জমা হয়ে বৃষ্টির জলের সাথে মিশে অ্যাসিড বৃষ্টির সৃষ্টি করে। এটি গাছপালা, শস্য এবং জলাশয়ের জল সম্পূর্ণ দূষিত করে দেয়।
(ii) শ্বাসনালীর রোগ ও জনস্বাস্থ্য বিঘ্নিত হওয়া: মানুষের ফুসফুসের রোগ, হাঁপানি, অ্যালার্জি এবং অন্যান্য জটিল শারীরিক ব্যাধি দেখা দেয়।
(iii) ওজোন স্তরের ক্ষতি: বিষাক্ত গ্যাসের প্রভাবে বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তর ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা ক্ষতিকর অতিবেগুনী রশ্মিকে পৃথিবীতে আসতে বাধা দেয় না।
১৯। জল প্রদূষিত কীভাবে হয়? জল প্রদূষণের জন্য হওয়া ক্ষতির বিষয়ে সংক্ষেপে লেখো।
উত্তরঃ জল প্রদূষিত হওয়ার কারণসমূহ:
(i) শিল্পজাত আবর্জনা ও রাসায়নিক নিষ্কাশন: বিভিন্ন কলকারখানা ও শিল্প উদ্যোগ থেকে নির্গত বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ ও বর্জ্য সরাসরি নিকটস্থ নদ-নদী বা জলাশয়ে ফেলা হয়,যা জলকে মারাত্মকভাবে বিষাক্ত করে তোলে।
গঙ্গা নদীর উদাহরণ: উত্তর ভারতের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত পবিত্র গঙ্গা নদীর পাড়ে অবস্থিত বড় বড় শহর এবং শিল্পোদ্যোগগুলো দীর্ঘদিন ধরে তাদের নির্গত বর্জ্য ও অপদ্রব্য নদীতে ফেলে আসছে। এর ফলে গঙ্গার জল বিপজ্জনকভাবে প্রদূষিত হয়ে পড়েছে।
(ii) কৃষিজাত কারণ (রাসায়নিক সার ও কীটনাশক): আধুনিক কৃষিকাজে ব্যবহৃত রাসায়নিক সার ও ক্ষতিকর কীটনাশক বৃষ্টির জলের সাথে ধুয়ে জলাশয়ে গিয়ে পড়ে এবং জলকে বিষাক্ত করে।
(iii) সাগরে খনিজ তেলের মিশ্রণ: সমুদ্রে তেলবাহী জাহাজ দুর্ঘটনাগ্রস্ত হলে অথবা উপকূলবর্তী তেল শোধনাগার বা উদ্যোগে দুর্ঘটনা ঘটলে প্রচুর পরিমাণে খনিজ তেল সমুদ্রের জলে মিশে যায়।
জল প্রদূষণের ফলে হওয়া ক্ষতি:
জল প্রদূষণের ফলে পরিবেশ ও জীবজগতে নানা ধরনের মারাত্মক ক্ষতির সৃষ্টি হয়:
(i) জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিনাশ: জলে এসিডের পরিমাণ বৃদ্ধি এবং বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থের উপস্থিতির কারণে জলজ উদ্ভিদ ও মাছসহ নানা জলজ প্রাণীর অনেকাংশে বিলুপ্তি ঘটে।
(ii) মানুষের স্বাস্থ্যহানি ও রোগব্যাধি: দূষিত জল ব্যবহারের ফলে মানুষের মধ্যে নানা ধরনের রোগের সৃষ্টি হয়।
(ii) মাটির উৎপাদিকা শক্তি হ্রাস: প্রদূষিত জল জমিতে প্রবেশ করলে বা সেচের কাজে ব্যবহৃত হলে মাটির স্বাভাবিক উৎপাদিকা শক্তি বা উর্বরতা হ্রাস পায়।
২০। পারিবেশিক সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ কী ধরণের পদক্ষেপ নিতে পারে সে সম্পর্কে বিশদভাবে লেখো।
উত্তরঃ পারিবেশিক সমস্যা সমাধানের জন্য মানুষ পদক্ষেপ নিতে পারে সে সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
(i) বনাঞ্চলের অনুপাত বৃদ্ধি ও সংরক্ষণ: প্রতিটি দেশে মোট স্থলভাগের অন্তত ৩৩% বনাঞ্চল গড়ে তোলা প্রয়োজন। ‘চিপকো’ বা ‘সাইলেন্ট ভ্যালি’র মতো পরিবেশ আন্দোলন এবং বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিকে ব্যাপক হারে জোরদার করতে হবে।
(ii) বর্জ্য শোধন ব্যবস্থা: শিল্পক্ষেত্রের বিষাক্ত রাসায়নিক ও পৌর বর্জ্য সরাসরি নদীতে না ফেলে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে শোধন করে তবেই নিষ্কাশন করা উচিত, যেমন—’Ganga Action Plan’-এর মতো উদ্যোগ গ্রহণ করা।
(iii) বিকল্প ও পরিবেশ-বান্ধব শক্তির ব্যবহার: কয়লা ও খনিজ তেলের দহন কমিয়ে সৌরশক্তি, বায়ুশক্তি এবং অন্যান্য নবায়নযোগ্য শক্তির ব্যবহার বাড়ানো জরুরি।
(iv) জৈব কৃষিপদ্ধতি: জমিতে ক্ষতিকর রাসায়নিক সার ও কীটনাশকের প্রয়োগ কমিয়ে প্রাকৃতিক ও জৈব উপায়ে চাষাবাদ করা।
(v) কঠোর আইনি পদক্ষেপ ও জনসচেতনতা: ক্ষতিকারক গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন নিয়ন্ত্রণে কঠোর আইন প্রয়োগ করা এবং বিশ্ব পরিবেশ দিবসের মতো কর্মসূচির মাধ্যমে মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করা।

