SEBA Class 10 Geography Chapter 5 জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Chapter 5 জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Geography Question Answer.
SEBA Class 10 Geography Chapter 5 জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
জাপানের আঞ্চলিক ভূগোল
Chapter: 5
| Textual Question Answer |
১। জাপান দেশের ভৌগোলিক অবস্থান সম্পর্কে লেখ।
উত্তরঃ জাপান দেশের ভৌগোলিক অবস্থান:
(i) মহাদেশীয় অবস্থান: জাপান এশিয়া মহাদেশের মূল ভূখণ্ডের পূর্ব প্রান্তে এবং প্রশান্ত মহাসাগরের উত্তর অংশে অবস্থিত একটি দ্বীপময় দেশ। অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার: জাপান দক্ষিণে ২৪° উত্তর অক্ষাংশ থেকে উত্তরে ৪৬° উত্তর অক্ষাংশ এবং পশ্চিমে ১২৩° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ থেকে পূর্বে ১৪৬° পূর্ব দ্রাঘিমাংশ পর্যন্ত বিস্তৃত।
(ii) দৈর্ঘ্য: উত্তর-দক্ষিণে জাপানের মোট দৈর্ঘ্য প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার।
(iii) জলবায়ু বলয়: অক্ষাংশগত অবস্থানের কারণে এই দেশটি মূলত নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ুর অন্তর্গত।
সীমানা:
উত্তরে: সাখালিন দ্বীপ, কুরিল দ্বীপপুঞ্জ এবং ওখটস্ক সাগর অবস্থিত।
দক্ষিণে: তাইওয়ান এবং পূর্ব-চীন সাগর অবস্থিত।
পূর্বে: বিস্তীর্ণ প্রশান্ত মহাসাগর অবস্থিত।
পশ্চিমে: জাপান সাগর, কোরিয়া এবং রাশিয়া অবস্থিত।
২। জাপান দেশের একটি ভৌগোলিক পরিচয় তুলে ধরো।
উত্তরঃ জাপানের দেশের ভৌগোলিক পরিচয়:
(i) নামকরণ ও অর্থ: জাপানের পুরোনো নাম হলো ‘নিপ্পন’ যার অর্থ হলো “সূর্যোদয়ের ভূমি”।
দ্বীপপুঞ্জের গঠন: জাপান মূলত অসংখ্য ছোট-বড় দ্বীপের সমষ্টি। এর মধ্যে হ’কাইডো, হন্সু, সিক’কু এবং কিউসু হলো প্রধান চারটি দ্বীপ। এই দ্বীপগুলির মধ্যে ‘হন্সু’ হলো বৃহত্তম দ্বীপ। এছাড়া রিউকিউ দ্বীপসহ আরও অনেক ছোট ছোট দ্বীপপুঞ্জ নিয়ে জাপান গঠিত।
(ii) আয়তন ও আকৃতি: জাপানের মোট আয়তন প্রায় ৩,৭৭,৭৬৫ বর্গ কিলোমিটার। জাপানের ভৌগোলিক অবস্থান, আকার এবং অর্থনৈতিক অবস্থা ইউরোপের যুক্তরাজ্যের সাথে প্রায় সমতুল্য।
(iii) জনসংখ্যা ও রাজধানী: ২০০৭ সালের আনুমানিক তথ্য অনুসারে জাপানের মোট জনসংখ্যা প্রায় ১২৮ নিযুত। আয়তনে ক্ষুদ্র রাষ্ট্র হলেও জনসংখ্যার বিচারে জাপান পৃথিবীর দশম বৃহৎ দেশ। জাপানের রাজধানী হলো টোকিও।
(iv) ভূ-প্রকৃতি ও জলবায়ু: জাপানের ভূ-প্রকৃতি অত্যন্ত জটিল এবং এর প্রায় ৭৫ শতাংশ ভূমিই পর্বত ও পাহাড়ে ঘেরা। দেশটিতে অসংখ্য জাগ্রত ও সুপ্ত আগ্নেয়গিরি রয়েছে এবং ভূ-তাত্ত্বিক অস্থিরতার কারণে এখানে খুব ঘন ঘন ভূমিকম্প হয়।
(v) অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি: প্রয়োজনীয় খনিজ সম্পদ এবং অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের তীব্র অভাব থাকা সত্ত্বেও উন্নত বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, জাপানিদের কঠোর পরিশ্রম, কর্মনিপুণতা এবং মুক্ত উদ্যোগ নীতির ওপর ভিত্তি করে জাপান আজ পৃথিবীর বুকে অন্যতম প্রধান শিল্পোন্নত ও ধনী রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেছে।
৩। জাপানের প্রধান প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ কি কি? মানচিত্রসহ প্রতিটি বিভাগের ভূ-প্রকৃতি সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।
উত্তরঃ জাপানের ভূ-প্রকৃতিকে প্রধানত চারটি প্রাকৃতিক বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। প্রতিটি বিভাগের ভূ-প্রকৃতির সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:
(i) হ’কাইডো অঞ্চল গঠন ও পর্বতশ্রেণি: জাপানের একেবারে উত্তর অংশে অবস্থিত প্রধান দ্বীপ হ’কাইডোকে নিয়ে এই অঞ্চলটি গঠিত। এই অঞ্চলের ভূ-প্রকৃতি মূলত পর্বতময়। হ’কাইডো পর্বতমালার প্রায় মধ্যভাগে অবস্থিত আসাহি ডাকে এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ, যার উচ্চতা ২,২৯০ মিটার।
সমভূমি: সমান্তরালভাবে বিস্তৃত পর্বতশ্রেণীর মাঝে নদী গঠিত কয়েকটি বিস্তীর্ণ পলিযুক্ত নিম্নভূমি রয়েছে। এর মধ্যে প্রধান হলো ইসিকারি নদী দ্বারা সৃষ্ট ইসিকারি ইউফুটস্ সমভূমি। এছাড়া টকাসি এবং কনসেন এই অঞ্চলের অন্য দুটি উল্লেখযোগ্য সমভূমি।
(ii) উত্তর-পূর্ব জাপান অঞ্চল:
গঠন ও পর্বতশ্রেণি: হন্সু দ্বীপের উত্তর অংশ নিয়ে এই অঞ্চলটি গঠিত [১]। এর পশ্চিম অংশে অসংখ্য ভাঁজ ও চ্যুতি রয়েছে এবং এখানে আও ও উটুস্ নামে দুটি সমান্তরাল পর্বতশ্রেণী অবস্থান করছে (উচ্চতা ১,৫০০ – ২,০০০ মিটার)। এখানকার সরলবর্গীয় অরণ্য, আগ্নেয়গিরির শৃঙ্গ ও হ্রদ পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত আকর্ষণীয়।
মালভূমি ও উপত্যকা: একটি গভীর উপত্যকা এই অঞ্চলের প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশকে জাপান সাগরীয় অংশ থেকে আলাদা করেছে। এর পূর্বভাগে পুরোনো শিলা দ্বারা গঠিত কিটাকামি মালভূমি এবং আগ্নেয়শিলা দ্বারা গঠিত আবুকুমা মালভূমি অবস্থিত।
(iii) মধ্য জাপান অঞ্চল:
গঠন ও পর্বতশ্রেণি: হন্সু দ্বীপের মধ্য অংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত, যেখানে হন্সু পর্বতশ্রেণী এবং সিসিটো মেরিয়ানা পর্বতমালা একত্রিত হয়ে জাপানের সর্বোচ্চ পার্বত্য অঞ্চলের সৃষ্টি করেছে। এর পূর্বদিকের উচ্চ অংশটি হিদা পর্বত নামে পরিচিত। পর্বতশ্রেণীগুলিকে ফোসামেগ্না নামক একটি গভীর উপত্যকা পৃথক করে রেখেছে।
মাউন্ট ফুজি: এই ফোসামেগ্না উপত্যকার দক্ষিণ দিকে জাপানিদের পবিত্র পর্বত শৃঙ্গ মাউন্ট ফুজি অবস্থিত। এটি লাভা দ্বারা গঠিত একটি সুপ্ত আগ্নেয়গিরি এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে এর উচ্চতা ৩,৭৭৬ মিটার।
(iv) দক্ষিণ-পশ্চিম জাপান অঞ্চল:
গঠন ও পর্বতশ্রেণি: হন্সুর দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ সিক’কু এবং কিউসু দ্বীপ নিয়ে এই অঞ্চলটি গঠিত। এখানকার পর্বতশ্রেণীটি সমগ্র দেশের মধ্যে দীর্ঘতম এবং এটি একটি চ্যুতির দ্বারা জাপান সাগরীয় অংশ থেকে প্রশান্ত মহাসাগরীয় অংশকে আলাদা করেছে। এই অঞ্চলের অধিকাংশ ভূখণ্ড প্রাচীন শিলা দ্বারা গঠিত।
উপত্যকা ও সমভূমি: এখানকার কিয়োটো, নারা ও বিওয়া অঞ্চলগুলি মূলত সমভূমিগ্রস্ত উপত্যকা থেকে সৃষ্টি হয়েছে। এখানকার নিচু উপত্যকাগুলি পলিমৃত্তিকায় পূর্ণ উর্বর কৃষিভূমি এবং নদীগুলির ব-দ্বীপ (বিশেষ করে ওসাকা প্রদেশের রদো নদীর ব-দ্বীপ) অন্যতম বৈশিষ্ট্য।

৪। জাপানের ভূ-অবয়বের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ দাও।
উত্তরঃ জাপানের ভূ-অবয়বের একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ:
প্রধান প্রাকৃতিক বিভাগসমূহ: জাপানের প্রধান চারটি দ্বীপ (হ’কাইডো, হন্সু, সিক’কু এবং কিউসু) জুড়ে ধনুকের মতো পর্বতমালা বিস্তৃত রয়েছে।
(i) হ’কাইডো অঞ্চল: এটি উত্তরের প্রধান দ্বীপ হ’কাইডো নিয়ে গঠিত। এখানকার ভূ-প্রকৃতি মূলত পর্বতময় এবং এই অঞ্চলের সর্বোচ্চ শৃঙ্গ হলো আসাহি ডাকে (২,২৯০ মিটার)। সমান্তরাল পর্বতশ্রেণীর মাঝে নদী গঠিত পলিযুক্ত উর্বর নিম্নভূমি বা সমভূমি রয়েছে, যার মধ্যে ইসিকারি, টকাসি এবং কনসেন উল্লেখযোগ্য।
(ii) উত্তর-পূর্ব জাপান অঞ্চল: হন্সু দ্বীপের উত্তর অংশ নিয়ে এই অঞ্চল গঠিত। এর পশ্চিমে অসংখ্য ভাঁজ ও চ্যুতিযুক্ত আও ও উটুস্ পর্বতশ্রেণী (উচ্চতা ১,৫০০–২,০০০ মিটার) এবং পূর্বে প্রাচীন ও আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত কিটাকামি ও আবুকুমা মালভূমি অবস্থিত। এই অঞ্চলের দক্ষিণ কিটাকামি অংশটি ভূ-আন্দোলনের ফলে বসে গিয়ে গভীর ভগ্ন উপকূলের সৃষ্টি করেছে।
(iii) মধ্য জাপান অঞ্চল: হন্সু দ্বীপের মধ্য অংশ নিয়ে গঠিত এই অঞ্চলটি জাপানের সর্বোচ্চ পার্বত্য অঞ্চল। এখানকার পর্বতশ্রেণীগুলিকে ফসামেগ্না নামক একটি গভীর উপত্যকা পৃথক করে রেখেছে। এই ফোসামেগ্না উপত্যকার দক্ষিণ দিকে জাপানিদের পবিত্র সুপ্ত আগ্নেয়গিরি মাউন্ট ফুজি (৩,৭৭৬ মিটার) অবস্থিত।
৫। জাপানের জনসংখ্যা বৃদ্ধি এবং বিতরণ সম্পর্কে সংক্ষেপে লেখ।
উত্তরঃ জনসংখ্যা বৃদ্ধি: জনসংখ্যার বিচারে জাপান বিশ্বের দশম বৃহৎ দেশ এবং এখানকার জনবসতি অত্যন্ত ঘন। মোঙ্গলীয় গোষ্ঠীর মানুষের বসবাসের এই দেশে আনুমানিক ৬১০ খ্রিষ্টাব্দে জনসংখ্যা ছিল মাত্র প্রায় ৫ নিযুত (৫০ লক্ষ)। পরবর্তীতে এই জনসংখ্যা ক্রমশ বৃদ্ধি পেয়ে ১৮৮০ সালে ৩৮ নিযুত, ১৯৪৫ সালে ৭২ নিযুত, ১৯৯৯ সালে ১২৭ নিযুত এবং ২০০৭ সালে ১২৮ নিযুত হয়েছে। দ্রুত আর্থ-সামাজিক বিকাশের সঙ্গে সঙ্গে জন্ম ও মৃত্যুর হার হ্রাস পাওয়ায় বর্তমানে জাপানের বার্ষিক গড় জনসংখ্যা বৃদ্ধির হার মাত্র ০.৪ শতাংশ।
জনসংখ্যার বিতরণ:
(i) পার্বত্য অঞ্চলে বিরল বসতি: বসবাসের অযোগ্য ও অনুন্নত হওয়ায় জাপানের মোট আয়তনের প্রায় ৮০ শতাংশ জুড়ে থাকা পার্বত্য অঞ্চলে দেশের মাত্র ২০ শতাংশ মানুষ বাস করে এবং এখানে জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০ জনের কম। উদাহরণস্বরূপ, দেশের ২৫% আয়তন বিশিষ্ট হ’কাইডো অঞ্চলে দেশের মোট জনসংখ্যার মাত্র ৫% বাস করে।
(ii) সমভূমি ও শিল্পাঞ্চলে ঘন বসতি: নদী উপত্যকা ও কৃষিনির্ভর সমতল অঞ্চলগুলিতে জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০-৮০০ জন এবং উপকূলীয় উন্নত শিল্প ও সমভূমি অঞ্চলে তা ৮০০ জনেরও বেশি। মধ্য জাপানের টোকিও-ইয়োকোহামা এবং দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের কোবে-ওসাকা শিল্পাঞ্চলের বহু স্থানে জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০,০০০ জনেরও বেশি।
(iii) নগরীকরণের প্রভাব: দ্রুত শিল্পোন্নয়নের ফলে গ্রাম থেকে মানুষের শহরমুখী স্থানান্তর ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে সালে শহরের জনসংখ্যা ৪৪% থাকলেও ২০০৭ সালে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৭৯% হয়েছে। রাজধানী টোকিও বর্তমানে ৩ কোটিরও বেশি জনসংখ্যা নিয়ে পৃথিবীর বৃহত্তম মহানগরী।
৬। জাপানের জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্যের কারকসমূহ উল্লেখ কর।
উত্তরঃ জাপানের জনসংখ্যার ঘনত্বের তারতম্যের কারকসমূহ:
(i) ভূ-প্রাকৃতিক বাধা ও সুবিধা: জাপানের প্রায় ৭৫%-৮০% অংশ পর্বত ও পাহাড়ে ঘেরা হওয়ায় সেখানে জনবসতি স্থাপন ও চাষাবাদ অত্যন্ত কঠিন। ফলে পার্বত্য এলাকায় জনঘনত্ব প্রতি বর্গকিলোমিটারে ১০০ জনের কম থাকে। অন্যদিকে নদী উপত্যকা ও উপকূলীয় সমভূমি উর্বর ও সমতল হওয়ায় সেখানে মানুষ ঘনভাবে বসবাস করে।
(ii) জলবায়ুর তারতম্য: উত্তর জাপানের (যেমন হ’কাইডো অঞ্চল) জলবায়ু অত্যন্ত শীতল ও দীর্ঘ শীতকালযুক্ত হওয়ায় সেখানে প্রতিকূল পরিবেশের কারণে জনবসতি বিরল। বিপরীতে মধ্য ও দক্ষিণ-পশ্চিম জাপানের মৃদু নাতিশীতোষ্ণ জলবায়ু ঘন বসতি আকর্ষণে সাহায্য করে।
(iii) কৃষিকাজের উপযোগিতা: কান্টো এবং নবি সমভূমির মতো পলিমাটি সমৃদ্ধ উর্বর প্লাবনভূমি অঞ্চলে কৃষিকাজের প্রভূত সুযোগ থাকায় মাঝারি থেকে নিবিড় জনঘনত্ব (১০০-৮০০ জন/বর্গকিমি) গড়ে উঠেছে।
(iv) শিল্পায়ন ও উদ্যোগের বিকাশ: প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূল বরাবর অবস্থিত টোকিও-ইয়োকোহামা, কোবে-ওসাকা এবং নাগোয়ার মতো উন্নত শিল্পাঞ্চল ও বন্দরগুলিতে কর্মসংস্থান এবং ব্যবসার বিপুল সুবিধার কারণে মানুষ সবচেয়ে বেশি আকর্ষিত হয়েছে, যার ফলে এখানে জনঘনত্ব সবচেয়ে বেশি (৮০০ থেকে ১০,০০০+ জন/বর্গকিমি)।
৭। জাপানের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা সম্পর্কে লেখ।
উত্তরঃ জাপানের অর্থনীতিতে কৃষির ভূমিকা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো:
(i) সীমাবদ্ধ কৃষিভূমি ও নিবিড় চাষ: পার্বত্য ভূ-প্রকৃতির কারণে জাপানের মোট জমির মাত্র ১৭ শতাংশ কৃষিকার্যের অন্তর্গত। কিন্তু এই সীমিত জমিতেই আধুনিক প্রযুক্তির সাহায্যে অত্যন্ত বৈজ্ঞানিক উপায়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে নিবিড় বা গহন পদ্ধতিতে কৃষিকাজ করা হয়। ফলে প্রতি হেক্টরে কৃষিভূমির উৎপাদন হার প্রাচ্যের দেশগুলির মধ্যে সর্বোচ্চ।
(ii) উন্নত কৃষি প্রযুক্তি ও সারের ব্যবহার: সীমিত জমি থেকে সর্বোচ্চ ফলন পাওয়ার জন্য জাপানের প্রতি হেক্টর মাটিতে প্রায় ২৯০ কিলোগ্রাম রাসায়নিক সার প্রয়োগ করা হয় এবং উন্নত মানের সেচ ও বীজ ব্যবহার করা হয়।
(iii) প্রধান শস্য হিসেবে ধান চাষ: জাপানের প্রধান কৃষি শস্য হলো ধান। দেশের মোট উৎপাদিত কৃষি ভূমির প্রায় দুই-তৃতীয়াংশ জমিতে ধানের চাষ করা হয়। এছাড়া গম, বার্লি, তামাক, বিভিন্ন শাকসবজি ও ফলমূল এবং রেশম শিল্পের জন্য তুঁত গাছের চাষ গুরুত্বপূর্ণ।
(iv) ভূমিরূপ ভিত্তিক বিবিধ কৃষিপদ্ধতি: অসম ভূমিরূপের কারণে জাপানে বিভিন্ন প্রকার কৃষিপদ্ধতি দেখা যায়, যেমন—পাহাড়ের ঢালে বেদিকা চাষ মিশ্র কৃষি অন্ত-প্রবেশী কৃষি এবং কিছু অনুন্নত পার্বত্য অঞ্চলে জুম চাষ।
৮। মানচিত্রের সাহায্যে জাপানের প্রধান কৃষি অঞ্চলসমূহ দেখাও এবং প্রত্যেকটি অঞ্চলের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি লেখ।
উত্তরঃ প্রতিটি কৃষি অঞ্চলের মূল বৈশিষ্ট্যগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
(i) অন্তর্বর্তী অঞ্চল: এটি জাপানের মধ্যভাগে অবস্থিত এবং কৃষির দিক থেকে অত্যন্ত উন্নত।
সাধারণ বৈশিষ্ট্য: এখানকার কৃষিক্ষেত্রগুলি আকারে বেশ ছোট। জলবায়ু কৃষির অনুকূল হওয়ায় এখানে বছরে দুই থেকে তিনবার চাষ করা হয়। এই অঞ্চলে জনবসতি অত্যন্ত ঘন হওয়ায় এখানে বাণিজ্যিকভাবে ফল-মূল, শাক-সবজি ও ফুলের চাষ হয় এবং মাংস ও দুধের যোগান দিতে পশুপালন করা হয়।
উত্তর কিউসিউ অঞ্চল: এখানকার কৃষি পদ্ধতি ‘সিট সি কিনকি’ অঞ্চল অপেক্ষা কিছুটা নীচুস্তরের হলেও এর সমতল অংশে প্রচুর পরিমাণে ধান চাষ করা হয়।
সুকিও অঞ্চল: এই অঞ্চলের মূল বৈশিষ্ট্য হলো—এখানকার উচ্চভূমিতে অবস্থিত ধানক্ষেতগুলিতে কৃত্রিম উপায়ে জল ভর্তি করে রাখা হয়।
(ii) সীমাসংলগ্ন অঞ্চল: এই অঞ্চলটি মূলত কিউসিউ দ্বীপের দক্ষিণ অংশ এবং হন্সুর উত্তর-পূর্বের ট’হোকু অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
দক্ষিণ কিউসিউ: এখানকার কৃষিজমির আকার অত্যন্ত ছোট এবং চাষের পদ্ধতিও অনগ্রসর। তবে এখানকার প্রায় ৪৫ শতাংশ মানুষই প্রত্যক্ষভাবে কৃষিজীবী। তুলনামূলক উষ্ণ বা গরম জলবায়ুর কারণে এখানে প্রচুর পরিমাণে ফল-মূল ও শাক-সবজি উৎপাদিত হয়।
ট’হোকু অঞ্চল: এটি হন্সু দ্বীপের উত্তর ভাগে অবস্থিত হওয়ায় এখানকার জলবায়ু অত্যন্ত শীতল। গ্রীষ্মকালেও তীব্র ঠান্ডার কারণে এখানে ধানক্ষেত ভালো হয় না।
(iii) পরিধীয় অঞ্চল: এটি মূলত দক্ষিণ চিকোকুর পার্বত্য এলাকা এবং সাগরের উপকূলবর্তী অঞ্চল নিয়ে গঠিত।
বৈশিষ্ট্য: এখানকার কৃষিক্ষেত্রগুলি আকারে যথেষ্ট বড় হলেও চাষের পদ্ধতি খুব একটা উন্নত নয়। জাপানের এই অঞ্চলেই সবচেয়ে বেশি জুম চাষের প্রাধান্য লক্ষ্য করা যায়।
(iv) হ’কাইডো অঞ্চল: জাপানের একেবারে উত্তর প্রান্তে অবস্থিত এই বৃহৎ অঞ্চলটির ভূ-প্রকৃতি মূলত পার্বত্য এবং এর জলবায়ু অত্যন্ত শীতল ও মাটি অনর্বর হওয়ায় সামগ্রিকভাবে এটি কৃষির পক্ষে খুব একটা উপযোগী নয়।
প্রধান কৃষিক্ষেত্র ও ফসল: এখানকার ইসিকারী নদী উপত্যকাই হলো প্রধান কৃষি উৎপাদন কেন্দ্র। অত্যন্ত শীতল জলবায়ুর কারণে এই অঞ্চলে বছরে মাত্র একবার চাষ করা সম্ভব হয়। এখানকার প্রধান কৃষিজাত ফসল হলো ধান, তবে এর পাশাপাশি কিছু পরিমাণে আলুর চাষও করা হয়।


