Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ

Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ Question Answer Bengali Medium As Per The New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ Notes and select need one. AHSEC Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ Solutions Download PDF. HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Solutions Bengali Medium.

Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 8 প্রাক ব্রিটিশ যুগে আসামের শিল্প-উদ্যোগ

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Textual Question Answer Bengali Medium are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Textbook Solutions Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 8

অনুশীলনী
দ্বিতীয় ভাগঃ ইতিহাস

১। (ক) কোন মহাকাব্যে আসামকে ‘রেশম কীট পালনের দেশ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

উত্তরঃ মহাকাব্য রামায়ণে আসামকে ‘রেশম কীট পালনের দেশ’ বা ‘গুটিপোকার দেশ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে।

(খ) থুপরী কাকে বলা হয়?

উত্তরঃ প্রাক-ব্রিটিশ আসামে যে সকল মহিলারা বয়ন শিল্প বা সুতো কাটা ও কাপড় বোনার কাজে অজ্ঞ ছিলেন, তাদের অসমীয়া সমাজে ‘থুপরী’ বলা হত।

(গ) আহোম যুগে জোলা সম্প্রদায় কোন কাজে নিযুক্ত ছিল?

উত্তরঃ আহোম যুগে জোলা সম্প্রদায় মূলত বয়ন শিল্প বা কাপড় বোনার কাজে নিযুক্ত একটি বৃত্তিজীবী গোষ্ঠী ছিল।

(ঘ) ‘হুনখোপা’ ও ‘গুণাকায়া’ কাদের বলা হত।

উত্তরঃ নদীর বালি থেকে সোনা সংগ্রহের উদ্দেশ্যে সোনাওয়ালরা নদীর তীরে যে অস্থায়ী শিবির স্থাপন করে বসবাস করত, তাকে ‘হুনখোপা’ বা ‘সোগ খোপা’ বলা হত। অন্যদিকে, আহোম রাজাদের সময় স্বর্ণজরির কাজে দক্ষ শিল্পীদের গোষ্ঠী ‘গুণাকটিয়া’ বা গুণাকায়া নামে পরিচিত ছিল।

(ঙ) ‘লোয়া মাটি’, ‘ঢেকর’ ও ‘খাটাং’ কি?

উত্তরঃ লোয়া মাটি: বর্ষাকালে নদীর স্রোতে পাহাড় থেকে ধুয়ে আসা লৌহ আকরিক মিশ্রিত মাটিকে ‘লোয়া মাটি’ বলা হত।

ঢেকর: লৌহ শিল্পের সঙ্গে জড়িত যে বিশেষ দক্ষ কামার গোষ্ঠী লোহার দণ্ড বা অস্ত্র তৈরি করত, তাদের ‘ঢেকর গড়া কামার’ বলা হত।

খাটাং:পশুপালনের ক্ষেত্রে গরু বা মহিষ বাঁধার জন্য বাঁশ দিয়ে তৈরি বিশেষ সরঞ্জামকে ‘খাটাং’ বলা হত।

২। সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ:

(ক) আসামের কাসা শিল্প, আসামের তামা শিল্প, আসামের পিতল শিল্প, আসামের লাক্ষা শিল্প, রহ শিল্প। 

উত্তরঃ আসামের কাসা শিল্প: মধ্যযুগে আসামের কাসা শিল্প অত্যন্ত উন্নত ছিল। সারথেবাড়ী ও যোরহাট ছিল এই শিল্পের প্রধান কেন্দ্র।তামা ও টিনের মিশ্রণে কাসা তৈরি করা হত। এর দ্বারা থালা, বাটি, কলসী ইত্যাদি তৈরি করা হত।

আসামের তামা শিল্প: প্রাচীন সাহিত্য ও তাম্রশাসনে আসামের তামা শিল্পের উল্লেখ পাওয়া যায়। কামরূপের তাম্রেশ্বরী মন্দিরের ছাদ তামা দিয়ে তৈরি ছিল। মূলত প্রতিবেশী পাহাড়ী অঞ্চল ও চীন থেকে তামা সংগ্রহ করা হত।

আসামের পিতল শিল্প: তামা ও দস্তার মিশ্রণে পিতল তৈরি করা হত। আহোম যুগে ‘মোরিয়া’ সম্প্রদায়ের প্রচেষ্টায় এই শিল্প প্রসার লাভ করে। নামঘর ও মন্দিরের বাদ্যযন্ত্র এবং বাসনপত্র তৈরিতে পিতল ব্যবহৃত হত।

আসামের লাক্ষা শিল্প: আসামে প্রাচীনকাল থেকেই লাক্ষা গাছের গুটি থেকে লাক্ষা সংগ্রহের প্রচলন ছিল। রাজকীয় নথিপত্রে সীলমোহর লাগাতে এবং বাসনপত্রের ছাঁচ তৈরিতে লাক্ষা ব্যবহৃত হত। এই কাজে নিযুক্তদের ‘লা-সুঙ্গী’ বলা হত ।

রহ শিল্প: ‘রহ’ হল বেল গাছের আঠা থেকে প্রস্তুত একটি বিশেষ পদার্থ যা অন্যান্য পদার্থ শোধনের কাজে ব্যবহৃত হত। আহোম আমল ‘রসেন্দ্র বরুয়া’ নামক আধিকারিক এই শিল্প তদারকি করতেন।

৩। মধ্যযুগের আসামের বয়ন শিল্পের বিবরণ দাও।

উত্তরঃ মধ্যযুগের আসামের (প্রাক-ব্রিটিশ যুগ) বয়ন শিল্প অত্যন্ত সমৃদ্ধ এবং ঐতিহ্যবাহী ছিল। 

এখানকার বয়ন শিল্পের প্রধান বৈশিষ্ট্য ও বিবরণ নিচে আলোচনা করা হলো:

(i) ঐতিহাসিক খ্যাতি ও রাজকীয় পৃষ্ঠপোষকতা: প্রাচীনকাল থেকেই আসাম গুটিপোকা পালন এবং তাঁত শিল্পের জন্য বিখ্যাত ছিল। মহাকাব্য রামায়ণে আসামকে ‘রেশম কীট পালনের দেশ’ বা ‘গুটিপোকার দেশ’ বলে বর্ণনা করা হয়েছে। আহোম রাজাদের বিশেষ পৃষ্ঠপোষকতায় আসামের রেশম, মুগা, এণ্ডি ইত্যাদি বয়নের কাজ ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে।

(ii) কাঁচামাল ও গুটিপোকা পালন: বস্ত্র প্রস্তুত করার জন্য আসামে কার্পাসের বা তুলোর চাষ করা হত। এছাড়া মূলত তিন প্রকার গুটিপোকা লালন করা হত— পাট, মুগা এবং এণ্ডি। বিভিন্ন প্রজাতির গাছের পাতা (যেমন- নুনী, সোম, সরলু, এরা, কেচেনু) খাইয়ে এদের পালন করা হত। এর মধ্যে বিশেষ পাতার সাহায্যে পালিত পোকা থেকে ‘মেজাংকরী’ নামক এক অত্যন্ত সূক্ষ্ম ও দীর্ঘস্থায়ী সুতো প্রস্তুত করা হত। এই শিল্পের সাথে পুরুষ ও মহিলা উভয়ই জড়িত থাকলেও, গুটিপোকা পালন থেকে শুরু করে বস্ত্র উৎপাদনের সিংহভাগ দায়িত্ব মহিলারাই পালন করতেন।

(iii) তাঁতশাল ও বয়ন কর্ম: বস্ত্র বুননের জন্য হস্তচালিত তাঁত ব্যবহার করা হত। তাঁতশালের বিভিন্ন যন্ত্রাংশ যেমন— খুঁটা, টোলোঠা, রাচ, দোপতি, চালিমারি, মাকো, মহুরা ইত্যাদি বয়ন প্রক্রিয়ায় ব্যবহৃত হত। সাধারণ মানুষ কার্পাস ছাড়াও এণ্ডি, মুগা ও পাট দিয়ে বস্ত্র প্রস্তুত করতেন এবং অনেক ক্ষেত্রে সোনালী-রূপালী জরির সুতোও ব্যবহার করা হত।

(iv) নারীদের ভূমিকা ও সামাজিক নিয়ম: আসামের বয়ন শিল্পের সবচেয়ে বড় দিক ছিল এতে মহিলাদের একচেটিয়া দক্ষতা। অসমীয়া সমাজের প্রত্যেক নারীই এই কাজে পারদর্শী ছিলেন এবং শৈশব থেকেই তাঁদের এই শিক্ষা দেওয়া হত।আহোম যুগে মোমাই তামুলী বরবরুয়া প্রত্যেক অসমীয়া মহিলার জন্য দৈনিক বোয়া-কাটার কাজ বাধ্যতামূলক করেছিলেন, যার ফলে আসাম বস্ত্র উৎপাদনে সম্পূর্ণ স্বাবলম্বী হয়ে ওঠে।রাণী ফুলেশ্বরী কুয়রী ও সর্বেশ্বরী কুয়রী রাজধানী রংপুরে মহিলাদের তাঁত বোনার প্রশিক্ষণ দিতেন।যে সকল মহিলারা এই কাজে অজ্ঞ ছিলেন, তাদের সমাজে হাস্যাস্পদ হতে হত এবং তাঁদের ‘থুপরী’ বলা হত।তবে সাধারণ মহিলাদের পাশাপাশি সমাজে ‘তাঁতী’ বা ‘জোলা’ নামক দুইটি বৃত্তিজীবী সম্প্রদায় ছিল, যারা তাঁত বোনাকে জীবিকা হিসেবে গ্রহণ করেছিল।

(v) উৎপাদিত বস্ত্র ও ব্যবহার: উচ্চ শ্রেণীর মানুষেরা পাট ও মেজাংকরী সুতোর তৈরি চোলা, চুরিয়া, মেখেলা, রিহা, চাদর ইত্যাদি পরিধান করতেন। বোহাগ মাসের বিহু উৎসবের সময় পরিবারের সদস্যদের স্বহস্তে বোনা ‘গামছা’ উপহার দেওয়ার রেওয়াজ প্রচলিত ছিল।

(vi) ‘কবচ কাপড়’ নির্মাণ: মধ্যযুগের আসামের বয়ন শিল্পের একটি বিস্ময়কর দিক হলো ‘কবচ কাপড়’। অসমীয়া মহিলারা তাঁদের স্বামীরা যুদ্ধে যাওয়ার পূর্বে এক রাতের মধ্যে সুতো কেটে ও তাঁত বুনে এই বিশেষ কাপড় প্রস্তুত করতেন। বিশ্বাস করা হত যে এই কাপড় পরিধান করলে যুদ্ধে মৃত্যু হয় না। ইতিহাস অনুযায়ী, মূলা গাভরু তাঁর স্বামী ফ্রাচেংমুঙ বরগোহাঁইকে এক রাতের মধ্যে এই কাপড় তৈরি করে দিতে ব্যর্থ হওয়ায় তিনি যুদ্ধে প্রাণ হারান, এবং পরবর্তীতে স্বামীর মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে মূলা গাভরু নিজেই যুদ্ধে গিয়ে প্রাণ আহুতি দেন।

৪। মধ্যযুগের আসামে সোণা সংগ্রহের প্রক্রিয়া বিবৃত কর।

উত্তরঃ মধ্যযুগের আসামে সোণা সংগ্রহের প্রক্রিয়া: সোণা সংগ্রহের কাজ করত মূলত ‘সোণোওয়াল’ সম্প্রদায়। তারা নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে আসা বালি পরীক্ষা করে সোনার সন্ধান পেত। চারজন পাইকের একটি ‘গোট’ বা দল গঠন করে বাঁশের চালুনির সাহায্যে বালি ধুয়ে সোনার রেণু সংগ্রহ করা হত। পরবর্তী ধাপে পারদ ব্যবহার করে এবং শামুকের খোলের মধ্যে রেখে কাঠের আগুনে তাপ দিয়ে বিশুদ্ধ সোনা নিষ্কাশন করা হত।

৫। প্রাচীন আসামের রৌপ্য শিল্প সম্বন্ধে লিখ।

উত্তরঃ প্রাচীন আসামের রৌপ্য শিল্প: প্রাচীন আসামের ধনশিরি, দিখৌ প্রভৃতি নদীর বালি থেকে ‘রুপোয়াল’ বা ‘বেন্ডাল’ গোষ্ঠী রুপো সংগ্রহ করত। রুপো সংগ্রহের পদ্ধতি সোনার মতোই ছিল। এই রুপো দিয়ে আহোম রাজকীয় টাঁকশালে মুদ্রা (যেমন কোচ রাজ্যের নারায়ণী মোহর) এবং বিভিন্ন অলঙ্কার ও বাসনপত্র তৈরি করা হত।

৬। প্রাচীন আসামের লৌহ শিল্পের বিবরণ দাও।

উত্তরঃ প্রাচীন আসামের লৌহ শিল্প: আসামের ‘তিরোয়াল’ ও ‘লোশালিয়া’ খেলের সদস্যরা লোহা উৎপাদনের সাথে জড়িত ছিল। তারা নদী বা পাহাড়ের ‘লোয়া মাটি’ সংগ্রহ করে বড় চুল্লিতে উচ্চ তাপে গলিয়ে লোহা নিষ্কাশন করত। এই লোহা দিয়ে দা, তলোয়ার, বড়ছি এবং এমনকি বন্দুকের মতো মারণাস্ত্র তৈরি করা হত।

৭। প্রাচীন আসামের মৃৎশিল্প সম্বন্ধে যা জান লিখ।

উত্তরঃ প্রাচীন আসামের মৃৎশিল্প: আসামের মৃৎশিল্পে ‘কুমার’ ও ‘হীরা’ এই দুই সম্প্রদায় নিযুক্ত ছিল। কুমাররা চাকা ব্যবহার করে মাটির পাত্র গড়তেন, কিন্তু হীরা সম্প্রদায়ের মহিলারা চাকা ছাড়াই হাতের সাহায্যে সুন্দর পাত্র তৈরি করতেন। এছাড়া মন্দিরের গাত্রে পোড়ামাটির অলঙ্করণ বা টেরাকোটা শিল্পের নিদর্শনও পাওয়া যায়। ইঁট তৈরির জন্য ‘ইটাসজীয়া’ নামক একটি বিশেষ গোষ্ঠী ছিল।

৮। তোমার পাঠ্যবই অনুসরণ করে প্রাচীন আসামের শিল্প ও কল-কারখানার বিবরণ দাও।

উত্তরঃ মধ্যযুগের আসামের অর্থনীতিতে বয়ন শিল্প ছিল অন্যতম প্রধান স্তম্ভ। আসামে মূলত তিন প্রকার রেশম— পাট, মুগা ও এড়ি উৎপাদিত হত। মহিলারা ঘরে ঘরে তাঁত (Tant) ব্যবহার করে কাপড় বুনতেন। আহোম রাজা মোমাই তামুলী বরবরুয়া প্রত্যেক মহিলার জন্য কাপড় বোনা বাধ্যতামূলক করেছিলেন। যুদ্ধের সময় স্বামী বা পরিজনের জন্য এক রাতে তৈরি করা ‘কবচ কাপড়’ ছিল এই শিল্পের এক অনন্য উদাহরণ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top