Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 7 আসামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিদেশী সমস্যা Question Answer Bengali Medium As Per The New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 7 আসামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিদেশী সমস্যা Notes and select need one. AHSEC Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 7 আসামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিদেশী সমস্যা Solutions Download PDF. HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Solutions Bengali Medium.
Class 12 Swadesh Adhyayan Chapter 7 আসামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিদেশী সমস্যা
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. ASSEB Class 12 Swadesh Adhyayan Textual Question Answer Bengali Medium are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Swadesh Adhyayan Textbook Solutions Bengali Medium for All Chapters, You can practice these here.
আসামে জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও বিদেশী সমস্যা
Chapter: 7
| অনুশীলনী |
| দ্বিতীয় ভাগঃ ইতিহাস |
১। নিম্নলিখিত প্রশ্নসমূহের উত্তর দাও:
(ক) আভ্যন্তরীণ প্রব্রজন ও আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রব্রজনের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ কর।
উত্তরঃ
| পার্থক্যের ভিত্তি | আভ্যন্তরীণ প্রব্রজন | আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রব্রজন |
| সংজ্ঞা | একই দেশের এক অঞ্চল থেকে অন্য অঞ্চলে জনসাধারনের গমন করাকে আভ্যন্তরীণ প্রব্রজন বলা হয়। | এক দেশ থেকে অন্য দেশে বা রাষ্ট্রসীমা অতিক্রম করে গমন করাকে আন্তঃরাষ্ট্রীয় প্রব্রজন বলা হয়। |
| সীমানা | এক্ষেত্রে কোনো দেশের ভৌগোলিক বা রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রম করতে হয় না। | এক্ষেত্রে এক দেশের রাষ্ট্রীয় সীমানা অতিক্রম করে অন্য দেশে প্রবেশ করতে হয়। |
| বিকল্প নাম | একে আন্তঃদেশীয় অভিবাসন হিসেবেও অভিহিত করা হয়। | একে আন্তর্জাতিক অভিবাসন হিসেবেও অভিহিত করা হয়। |
(খ) শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী কাকে বলে?
উত্তরঃ শরণার্থী ও অনুপ্রবেশকারী: যারা যুদ্ধের বিভীষিকা, ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা বা রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে বৈধ নথিপত্র সহ বা ভারত সরকারের আশ্রয় গ্রহণের নীতি অনুযায়ী অন্য দেশ থেকে ভারতে আসেন, তাদের শরণার্থী হিসেবে গণ্য করা হয়। অন্যদিকে, যারা কোনো বৈধ নথিপত্র ব্যতীত বা আইন অমান্য করে এক দেশ থেকে অন্য দেশে প্রবেশ করেন, তাদের অবৈধ অনুপ্রবেশকারী বলা হয়।
(গ) কোন আইনের বলে কোন বিদেশী ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করতে সমর্থ হয়?
উত্তরঃ নাগরিকত্ব লাভের আইন: ১৯৫৫ খ্রিষ্টাব্দের ভারতীয় নাগরিক আইন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তপূরণ সাপেক্ষে একজন বিদেশী ভারতীয় নাগরিকত্ব লাভ করতে পারেন।
(ঘ) আসামের কোন রাজা উড়িষ্যার মন্দিরে পুকুর খনন করেন?
উত্তরঃ উড়িষ্যায় পুকুর খননকারী রাজা: আহোম রাজা স্বর্গদেউ চুখাম্ফা (১৫৫২-১৬০৩) উড়িষ্যার জগন্নাথ ধামে একটি পুকুর খনন করার জন্য একদল তীর্থযাত্রীকে প্রেরণ করেছিলেন।
(ঙ) কে, কখন আসামে চা-গাছের আবিষ্কার করেন?
উত্তরঃ চা-গাছের আবিষ্কার: ১৮২৩ খ্রিষ্টাব্দে রবার্ট ব্রুস আসামের জঙ্গলে চা-গাছ আবিষ্কার করেন।
২। চা গাছের আবিষ্কার ও চা-বাগিচা স্থাপনের সঙ্গে সম্পর্কিত আসামের প্রব্রজনের বিষয়ে আলোচনা কর।
উত্তরঃ চা চাষ ও প্রব্রজন: আসামে চা-গাছের আবিষ্কারের পর ব্রিটিশ শাসকরা এই শিল্প প্রসারে সচেষ্ট হন। স্থানীয় জনগণ প্রতিকূল পরিবেশে চা-বাগানে কাজ করতে অনিচ্ছুক হওয়ায় ব্রিটিশরা দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে শ্রমিক আনা শুরু করে। বিশেষ করে বিহার, উড়িষ্যা, উত্তরপ্রদেশ, মধ্যপ্রদেশ এবং দক্ষিণ ভারতের সাঁওতাল, কোল, মুণ্ডা, কুর্মী ও ভূমিজ সম্প্রদায়ের দরিদ্র মানুষদের উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে আসামের চা-বাগানগুলোতে আনা হয়েছিল। এই বিশাল শ্রমিক গোষ্ঠীর আগমন আসামের জনবিন্যাসে বড় পরিবর্তন আনে।
৩। আসামের উদ্দেশ্যে পূর্ববঙ্গীয় কৃষকের প্রব্রজনের ঐতিহাসিক পটভূমি আলোচনা কর।
উত্তরঃ পূর্ববঙ্গীয় কৃষকের প্রব্রজনের পটভূমি: ব্রিটিশ শাসকরা আসামের রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে অনাবাদী জমি বা ‘পতিত জমি’ আবাদ করতে চেয়েছিল।পূর্ববঙ্গের কৃষকরা অত্যন্ত পরিশ্রমী ছিল এবং সেখানে চিরস্থায়ী বন্দোবস্তের কারণে কৃষকদের ওপর জমিদারদের শোষণ ছিল প্রবল। এর বিপরীতে আসামে রায়তওয়ারী প্রথা থাকায় এবং প্রচুর অনাবাদী জমি সহজ শর্তে পাওয়ায় তারা আসামের দিকে আকৃষ্ট হয়। ডেভিড স্কটের মতো ব্রিটিশ কর্মকর্তারা এবং পরবর্তীতে মুসলিম লীগের রাজনৈতিক উদ্দেশ্য এই প্রব্রজনকে আরও উৎসাহিত করে।
৪। আসামে সংঘটিত গণ প্রব্রজনের বিরুদ্ধে কে, কখন কিভাবে আপত্তি প্রকাশ করেন?
উত্তরঃ গণ প্রব্রজনের বিরুদ্ধে আপত্তি: ১৯৩১ খ্রিষ্টাব্দের জনগণনায় আসামের সেনসাস সুপারিনটেনডেন্ট সি. এস. মুলান প্রথম জোরালোভাবে এই প্রব্রজনের বিরুদ্ধে আপত্তি ও সতর্কতা প্রকাশ করেন। তিনি আশঙ্কা করেছিলেন যে, প্রব্রজনের এই ধারা অব্যাহত থাকলে অসমীয়ারা তাদের নিজ ভূখণ্ডেই সংখ্যালঘু হয়ে পড়বে। এছাড়া অম্বিকাগিরি রায়চৌধুরী ১৯২৪ সালে ‘সংরক্ষিণী সভা’ গঠন করে প্রব্রজনের বিরুদ্ধে জনমত গড়ে তোলেন।
৫। টীকা লিখ।
(ক) অধিক শষ্য উৎপাদন নীতি।
উত্তরঃ অধিক শষ্য উৎপাদন নীতি: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ (১৯৩৯ খ্রিঃ) শুরু হওয়ার পর মিত্রশক্তির সৈন্যদের জন্য খাদ্য ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ করা ব্রিটিশ সরকারের কাছে এক বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়। এই পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে এবং সৈন্যদের খাদ্যের জোগান নিশ্চিত করতে তৎকালীন ভাইসরয় লর্ড ওয়াভেল ১৯৪৩ সালে ‘অধিক খাদ্য উৎপাদন নীতি’ গ্রহণ করেন। আপাতদৃষ্টিতে এটি একটি কৃষি উন্নয়ন কর্মসূচি মনে হলেও,এর নেপথ্যে একটি গভীর রাজনৈতিক ও কৌশলগত উদ্দেশ্য ছিল। এই নীতির আড়ালে প্রচুর সংখ্যক পূর্ববঙ্গীয় কৃষককে আসামের সংরক্ষিত বনাঞ্চল ও পতিত জমিতে পুনর্বাসন দেওয়া হয়। ১৯৪৩ সালে আসামে মুসলিম লীগ নেতা সৈয়দ মহম্মদ সাদুল্লা পুনরায় মন্ত্রিসভা গঠন করলে এই নীতি কার্যকর করার মাধ্যমে প্রব্রজনকারীদের অবাধে জমি বরাদ্দ দেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়,যা পরবর্তীতে আসামের জনবিন্যাসে বড় প্রভাব ফেলে।
(খ) লাইন প্রথা।
উত্তরঃ লাইন প্রথা: ১৯২০ সালে ব্রিটিশ সরকার আসামে প্রব্রজনকারীদের অবাধ বসতি স্থাপন নিয়ন্ত্রণ এবং স্থানীয়দের সঙ্গে সংঘাত এড়ানোর উদ্দেশ্যে ‘লাইন প্রথা’ চালু করে।
এই ব্যবস্থার অধীনে গ্রাম বা এলাকাগুলোকে তিনটি প্রধান ভাগে মানচিত্রের ওপর দাগ বা লাইনের মাধ্যমে চিহ্নিত করা হয়েছিল:
১। প্রব্রজনকারীদের জন্য নির্দিষ্ট এলাকা: যেখানে তারা ঘরবাড়ি তৈরি ও চাষবাস করতে পারবে।
২। নিষিদ্ধ এলাকা: যেখানে প্রব্রজনকারীদের প্রবেশ বা বসতি স্থাপন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল এবং এটি কেবল স্থানীয়দের জন্য সংরক্ষিত ছিল।
৩। মিশ্র এলাকা: যেখানে স্থানীয় এবং প্রব্রজনকারী উভয় গোষ্ঠীই বসবাস করতে পারত। তবে বাস্তবে এই প্রথা কার্যকর হতে চরমভাবে ব্যর্থ হয়। স্থানীয় কিছু লোক অধিক অর্থের লোভে প্রব্রজনকারীদের কাছে জমি বিক্রি করতে শুরু করে।
(গ) জনজাতিয় বেল্ট এবং ব্লক।
উত্তরঃ জনজাতীয় বেল্ট এবং ব্লক: আসামের ভূমিপুত্র বা স্থানীয় জনজাতীয় গোষ্ঠীগুলোর জমি এবং তাদের নিজস্ব সত্তা রক্ষার উদ্দেশ্যে ১৯৪৬ সালে গোপীনাথ বরদলৈ-এর নেতৃত্বে গঠিত সরকার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ নেয়। ১৮৮৬ সালের ‘আসাম ভূমি ও রাজস্ব নিয়মাবলী আইন’ সংশোধন করে আসামের বিভিন্ন স্থানে মোট ৩৩টি ‘জনজাতীয় বেল্ট ও ব্লক’ গঠন করা হয়। প্রায় ৬৫০০ বর্গকিলোমিটার এলাকা জুড়ে বিস্তৃত এই সংরক্ষিত অঞ্চলগুলোতে বহিরাগতদের জন্য জমি কেনা, দখল করা বা বসতি স্থাপন করা আইনত নিষিদ্ধ করা হয়। এর মূল লক্ষ্য ছিল ভূমিহীন প্রব্রজনকারীদের হাত থেকে স্থানীয় জনজাতীয়দের পৈতৃক জমি রক্ষা করা এবং তাঁদের অর্থনৈতিক ও সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
(ঘ) আসামের সমাজ, সংস্কৃতি ও অর্থনীতিতে প্রব্রজনের প্রভাব।
উত্তরঃ ১। অর্থনৈতিক প্রভাব: প্রব্রজনকারীরা আসামে কৃষির আধুনিক পদ্ধতি এবং পাটের মতো অর্থকরী ফসলের চাষ শুরু করে, যা রাজ্যের কৃষি অর্থনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করে। তবে এর বিপরীতে জনসংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় খাদ্য,বস্ত্র ও বাসস্থানের সংকট প্রকট হয়ে ওঠে।
২। প্রাকৃতিক ভারসাম্য: ক্রমবর্ধমান জনসংখ্যার চাপে বনাঞ্চল, সংরক্ষিত চরাঞ্চল এবং জলাশয় দখল হতে শুরু করে, যার ফলে আসামের প্রাকৃতিক ভারসাম্য বিঘ্নিত হয় এবং প্রতিবছর ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হয়। এর ফলে কাজিরাঙা বা মাজুলির মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোও অস্তিত্বের সংকটে পড়ে।
৩। সামাজিক ও সাংস্কৃতিক প্রভাব: প্রব্রজনের ফলে স্থানীয় অসমীয়া ভাষা ও সংস্কৃতির ওপর বড় ধরনের আঘাত আসে। ১৯৬১ সালের জনগণনায় প্রব্রজনকারীদের একটি অংশ অসমীয়া ভাষাকে তাদের মাতৃভাষা হিসেবে গ্রহণ না করায় ভাষাগত অস্থিরতা ও সন্দেহের সৃষ্টি হয়। এর ফলে রাভা, তিয়া, বড়ো, মিসিং-এর মতো স্থানীয় জনজাতিগুলোর মধ্যে নিজেদের অধিকার রক্ষার জন্য পৃথক দাবি উঠতে শুরু করে, যা অনেক সময় সাম্প্রদায়িক সংঘাতের রূপ নেয়।
(ঙ) আসামের উদ্দেশ্যে গণ প্রব্রজনের সঙ্গে পাটকলের সম্পর্ক।
উত্তরঃ আসামের উদ্দেশ্যে গণ প্রব্রজনের সঙ্গে পাটকলের সম্পর্ক: আসামের উর্বর পলিমাটি এবং নিচু জলাভূমি পাটের চাষের জন্য অত্যন্ত উপযোগী ছিল। পূর্ববঙ্গ থেকে আসা কৃষকরা আসামের নিচু জমিতে উন্নতমানের পাটের চাষ শুরু করে। সেই সময়ে পশ্চিমবঙ্গের (তৎকালীন অবিভক্ত বাংলা) পাটকলগুলোর জন্য বিপুল পরিমাণ কাঁচামাল বা পাটের প্রয়োজন ছিল। এই পাটকলগুলোর মালিকরা এবং ব্রিটিশ সরকার তাদের ব্যবসায়িক লাভের কথা মাথায় রেখে আসামে পাটের উৎপাদন বাড়াতে আগ্রহী ছিল। ঐতিহাসিক ডঃ রমেশ চন্দ্র কলিতার মতে, আসামে উৎপাদিত পাট বিদেশের বাজারে রপ্তানি করে মোটা অঙ্কের মুনাফা লাভের আশায় ব্রিটিশরা এবং পাটকল মালিকরা পরোক্ষভাবে এই কৃষক প্রব্রজনকে সমর্থন ও উৎসাহ দিয়েছিল। তথ্য অনুযায়ী, ১৯০১-০২ খ্রিষ্টাব্দে আসামে যেখানে মাত্র ৫০০০ একর জমিতে পাটের চাষ হতো,১৯৪১-৪২ খ্রিষ্টাব্দে তা বেড়ে প্রায় ২.৭৭ লক্ষ একরে পৌঁছায়। বিশেষ করে নগাঁও জেলায় এই উৎপাদনের হার ছিল সর্বাধিক।
প্রকল্পের উদাহরণ:
১। তোমার গ্রামের জনবিন্যাসের পরিবর্তনের কারণ সমুহ ঐতিহাসিক তথ্যের ভিত্তিতে বিচার কর।
উত্তরঃ গ্রামের জনবিন্যাসের পরিবর্তনের ঐতিহাসিক কারণ: আসামের গ্রামগুলোর জনবিন্যাস পরিবর্তনের মূল কারণগুলো হলো বিভিন্ন সময়ে ঘটা প্রব্রজন।
এর ঐতিহাসিক ভিত্তিগুলো হলো:
(i) চা-বাগানের শ্রমিক: উনবিংশ শতাব্দীতে চা-শিল্পের প্রসারের জন্য ব্রিটিশরা ভারতের ঝাড়খণ্ড, উড়িষ্যা ও দক্ষিণ ভারত থেকে বিপুল সংখ্যক শ্রমিক নিয়ে আসে।
(ii) পূর্ববঙ্গীয় কৃষক: বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে ব্রিটিশরা অনাবাদী জমি আবাদের জন্য এবং রাজস্ব বৃদ্ধির লক্ষ্যে তৎকালীন পূর্ববঙ্গ থেকে পরিশ্রমী মুসলিম কৃষকদের আসামে প্রব্রজনে উৎসাহিত করে।
(iii) নেপালী পশুপালক: আসামের চারণভূমিগুলোতে পশুপালনের উদ্দেশ্যে নেপালী জনজাতীয়রা বিভিন্ন সময়ে বসতি স্থাপন করে।
(iv) দেশবিভাগ ও শরণার্থী: ১৯৪৭ সালে ভারত বিভাজন এবং ১৯৭১ সালে বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের সময় ধর্মীয় ও রাজনৈতিক কারণে প্রচুর শরণার্থী আসামে আশ্রয় গ্রহণ করে।
(v) অবৈধ অনুপ্রবেশ: ভারত স্বাধীন হওয়ার পর বিভিন্ন সময়ে অর্থনৈতিক ও অন্যান্য কারণে সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ জনবিন্যাসে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন এনেছে।
২। আসামের বর্তমান জনবিস্ফোরণের কারণ সমূহ সনাক্ত কর এবং এর ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্যের কি ধরণের অবনতি হয়েছে তার একটি ক্ষেত্রভিত্তিক প্রতিবেদন প্রস্তুত কর।
উত্তরঃ জনবিস্ফোরণ ও প্রাকৃতিক ভারসাম্য কারণ: মূলত চা-শ্রমিকদের স্থায়ী বসবাস, পূর্ববঙ্গীয় কৃষকদের ‘উপনিবেশিকরণ প্রকল্প’,দেশবিভাগোত্তর শরণার্থী সমস্যা এবং চলমান অবৈধ অনুপ্রবেশ আসামের বর্তমান জনবিস্ফোরণের প্রধান কারণ।
প্রাকৃতিক ভারসাম্যের অবনতি: জনসংখ্যার অত্যাধিক চাপে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, পাহাড় এবং জলাভূমি জবরদখল করা হচ্ছে । এর ফলে বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল সংকুচিত হচ্ছে, জলজ উদ্ভিদ ও প্রাণীর বিলুপ্তি ঘটছে এবং জলাভূমি ভরাট হওয়ায় বর্ষাকালে ভয়াবহ বন্যার সৃষ্টি হচ্ছে। এছাড়া মাজুলী ও কাজিরাঙার মতো স্থানে ভূমিক্ষয় ও পরিবেশগত বিপর্যয় দেখা দিচ্ছে।
৩। গণ প্রব্রজনের ফলে আসামের স্থানীয় জনগোষ্ঠী সমূহের খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় যে প্রভাব লক্ষিত হয় তার একটি ক্ষেত্রভিত্তিক প্রতিবেদন প্রস্তুত কর।
উত্তরঃ খাদ্যাভ্যাস ও জীবনযাত্রায় প্রভাব:
খাদ্যাভ্যাস: পূর্ববঙ্গীয় কৃষকদের আগমনের ফলে আসামে বিভিন্ন ধরণের শীতকালীন শাকসবজি, উন্নত জাতের ধান এবং পাটের মতো অর্থকরী ফসলের চাষ ব্যাপকতর হয়। এটি স্থানীয় খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য এনেছে।
জীবনযাত্রা: বিশাল সংখ্যক প্রব্রজনকারীর আগমনে স্থানীয় আদিবাসী ও জনজাতীয় জনগোষ্ঠীর ভাষা, সংস্কৃতি এবং জমির অধিকার সংকটের মুখে পড়েছে। এর ফলে বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জাতিগত ও সামাজিক সংঘাতের সৃষ্টি হয়েছে, যা জীবনযাত্রার স্বাভাবিক ছন্দকে প্রভাবিত করছে।
৪। আসামের অর্থনৈতিক সমস্যা ও সম্ভাবনার সঙ্গে জনবিস্ফোরণের সম্বন্ধ ও সম্পর্ক সম্বন্ধে ক্ষেত্র সমীক্ষার ভিত্তিতে প্রতিবেদন প্রস্তুত কর।
উত্তরঃ আসামের অর্থনৈতিক সমস্যা ও সম্ভাবনার সঙ্গে জনবিস্ফোরণের সম্পর্ক: একটি সংক্ষিপ্ত প্রতিবেদন আসামের সাম্প্রতিক ইতিহাসের একটি অন্যতম প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধি বা জনবিস্ফোরণ। এই জনবিস্ফোরণের সঙ্গে রাজ্যের অর্থনৈতিক সমস্যা ও সম্ভাবনা অঙ্গাঙ্গীভাবে জড়িত।
নিচে এর মূল দিকগুলো তুলে ধরা হলো:
(ক) সম্পদ ও বাসযোগ্য ভূমির ওপর চাপ: অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির ফলে আসামে মাথাপিছু বাসযোগ্য জমির পরিমাণ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। অধিক জনসংখ্যার প্রয়োজনে সংরক্ষিত বনাঞ্চল, অভয়ারণ্য এবং জলাভূমি দখল করে জনবসতি ও কৃষিকার্য চালানো হচ্ছে, যা রাজ্যের প্রাকৃতিক ভারসাম্য নষ্ট করছে।
(খ) অর্থনৈতিক অনগ্রসরতা: ভারতের অন্যান্য উন্নত রাজ্যের তুলনায় আসাম শিক্ষা, দীক্ষা এবং কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে বর্তমানে পিছিয়ে পড়েছে। বিপুল জনসংখ্যার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে না পারায় বেকারত্ব বাড়ছে এবং খাদ্য, বস্ত্র ও বাসস্থানের সংকট তীব্রতর হচ্ছে।
(গ) প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও কৃষি ব্যবস্থার ক্ষতি: বনাঞ্চল ও জলাভূমি ধ্বংসের ফলে প্রতি বছর ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধস দেখা দিচ্ছে। এটি রাজ্যের কৃষিনির্ভর অর্থনীতিকে বারবার পঙ্গু করে দিচ্ছে এবং মাজুলির মতো ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলো অস্তিত্বের সংকটে পড়েছে।
(ঘ) দারিদ্র্য ও সামাজিক সমস্যা: জনবিস্ফোরণের ফলে সৃষ্ট জনসংখ্যার একটি বড় অংশ দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাস করছে। এদের মধ্যে শিক্ষার অভাব এবং বাল্যবিবাহের মতো কুপ্রথা থাকায় তারা উন্নত জীবনযাত্রার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, যা রাজ্যের সামগ্রিক মানব উন্নয়ন সূচকে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে।
(ঙ) বিকাশের অন্তরায়: আসামের উজ্জ্বল অর্থনৈতিক সম্ভাবনা থাকলেও অনিয়ন্ত্রিত জনসংখ্যা বৃদ্ধি রাজ্যের বিকাশের প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে যে, জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হলে তবেই আসাম প্রকৃত অর্থে একটি ‘সুজলা-সুফলা’ ও সমৃদ্ধ রাজ্যে পরিণত হতে পারবে।
৫। জনবিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণের উপায় নির্দেশ করে এ সমস্ত কার্য্যকরী করবার ক্ষেত্রে কি ধরণের পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত সে বিষয়ে ক্ষেত্রভিত্তিক সমীক্ষার পটভূমিকায় তোমার মতামত ব্যক্ত কর।
উত্তরঃ আসামের জনবিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণ এবং এর সুষ্ঠু সমাধানের জন্য উৎসের তথ্যের ভিত্তিতে কিছু কার্যকর পদক্ষেপ ও মতামত সংক্ষেপে তুলে ধরা হলো:
(ক) এবং অনুপ্রবেশ রোধ ও সীমান্ত সুরক্ষা: উৎসের তথ্য অনুযায়ী, আসামের অস্বাভাবিক জনসংখ্যা বৃদ্ধির মূল কারণ প্রাকৃতিক জন্মহার নয়, বরং প্রতিবেশী দেশ থেকে হওয়া অবৈধ অনুপ্রবেশ। তাই রাজ্যের বিকাশের স্বার্থে এই ধরণের প্রব্রজন বা অনুপ্রবেশ অবিলম্বে বন্ধ করতে সরকারকে কঠোর ও কার্যকর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
(খ) শিক্ষার প্রসার ও সচেতনতা বৃদ্ধি: জনবিস্ফোরণ নিয়ন্ত্রণে শিক্ষার গুরুত্ব অপরিসীম। বিশেষ করে দারিদ্র্যসীমার নিচে বসবাসকারী জনগণের মধ্যে শিক্ষার হার বৃদ্ধি করতে হবে এবং তাদের আধুনিক জীবন ও সভ্যতার আলোয় আলোকিত করতে হবে।
(গ) সামাজিক কুপ্রথা দূরীকরণ: সমাজে প্রচলিত বাল্যবিবাহ এবং অন্ধবিশ্বাসের মতো নেতিবাচক প্রথাগুলো জনসংখ্যা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ। ক্ষেত্রভিত্তিক সমীক্ষার আলোকে এই সব কুপ্রথা রোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপের পাশাপাশি ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানো প্রয়োজন।
(ঘ) পরিবার পরিকল্পনা ও জনসংখ্যা নীতি: জনসংখ্যা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে জনসাধারণের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা অত্যন্ত জরুরি। সরকারি স্তরে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের ক্ষেত্রে ছোট পরিবারের নীতি কার্যকর করার বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে বিবেচনা করা যেতে পারে।
(ঙ) প্রাকৃতিক সম্পদের সুরক্ষা: জনসংখ্যা বৃদ্ধির চাপে বনাঞ্চল, অভয়ারণ্য ও জলাভূমি দখল রোধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে যাতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা পায় এবং দুর্যোগ কমানো সম্ভব হয়।

