Class 12 Political Science Important Chapter 7 সমসাময়িক পৃথিবীতে নিরাপত্তা Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 7 সমসাময়িক পৃথিবীতে নিরাপত্তা Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 7 সমসাময়িক পৃথিবীতে নিরাপত্তা
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
সমসাময়িক পৃথিবীতে নিরাপত্তা
Chapter: 7
| Part – 1: সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। প্রথাগত বা ঐতিহ্যগত নিরাপত্তা বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ প্রথাগত নিরাপত্তা বলতে মূলত বাইরের কোনো দেশের সামরিক হুমকি থেকে রাষ্ট্রের সার্বভৌমত্ব, স্বাধীনতা এবং আঞ্চলিক অখণ্ডতাকে রক্ষা করাকে বোঝায়।
২। যুদ্ধের মুখোমুখি হলে প্রথাগত নিরাপত্তার নীতি অনুযায়ী কোনো সরকারের সামনে প্রধানত কয়টি বিকল্প থাকে?
উত্তরঃ তিনটি বিকল্প থাকে—আত্মসমর্পণ করা, আক্রমণকারীকে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ভয় দেখিয়ে বিরত রাখা (বাধা বা ডিটারেন্স), এবং আক্রমণ শুরু হলে আত্মরক্ষা করা।
৩। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘ক্ষমতার ভারসাম্য’ বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ কোনো প্রতিবেশী বা প্রতিপক্ষ রাষ্ট্র যাতে ভবিষ্যতে হঠাৎ আক্রমণাত্মক হয়ে উঠতে না পারে, সেজন্য নিজের সামরিক ও অর্থনৈতিক শক্তি বৃদ্ধি করে তার সমকক্ষ প্রভাব বজায় রাখার কৌশলকে ক্ষমতার ভারসাম্য বলে।
৪। ‘জৈব অস্ত্র সম্মেলন’ এবং ‘রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলন’ কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?
উত্তরঃ জৈব অস্ত্র সম্মেলন ১৯৭২ সালে এবং রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলন ১৯৯২ সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল।
৫। ‘পরমাণু অ-প্রসার চুক্তি’ কত সালে সম্পাদিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৬৮ সালে পরমাণু অ-প্রসার চুক্তি সম্পাদিত হয়েছিল।
৬। ‘বিশ্বাস গঠনের পদক্ষেপ’ কী?
উত্তরঃ প্রতিপক্ষ বা শত্রুভাবাপন্ন রাষ্ট্রগুলির মধ্যে আকস্মিক যুদ্ধ এড়ানোর জন্য নিজেদের সামরিক পরিকল্পনা, সেনাবিন্যাস ও উদ্দেশ্য সম্পর্কে নিয়মিত তথ্য আদান-প্রদান করার প্রক্রিয়াকে বিশ্বাস গঠনের পদক্ষেপ বলে।
৭। নিরাপত্তার ‘অপ্রথাগত ধারণার’ মূল লক্ষ্য কী?
উত্তরঃ নিরাপত্তার অপ্রথাগত ধারণার মূল লক্ষ্য কেবল রাষ্ট্রকে রক্ষা করা নয়, বরং রাষ্ট্রের অভ্যন্তরে বসবাসকারী সাধারণ মানুষ, সম্প্রদায় ও সমগ্র মানবজাতির জীবন ও অস্তিত্ব রক্ষা করা।
৮। ‘মানব নিরাপত্তা’- এর দুটি প্রধান দিক বা ধারা কী কী?
উত্তরঃ দুটি প্রধান দিক হলো—‘অভাব হতে মুক্তি’,যেমন, ক্ষুধা ও দারিদ্র্য থেকে সুরক্ষা এবং ‘ভয় হতে মুক্তি’ যেমন, সহিংসতা ও আক্রমণ থেকে সুরক্ষা।
৯। আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত কী?
উত্তরঃ যারা দেশের সীমানা না পেরিয়ে নিজ দেশের ভেতরেই গৃহ হীন হয় তাদের ‘আভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত’ বলা হয়।
১০। বিশ্বব্যাপী মানবাধিকারকে প্রধানত কয়টি শ্রেণীতে ভাগ করা হয়?
উত্তরঃ তিনটি শ্রেণীতে—রাজনৈতিক অধিকার, অর্থনৈতিক ও সামাজিক অধিকার, এবং ঔপনিবেশিক বা সংখ্যালঘু জনগোষ্ঠীর অধিকার।
১১। ২০০১ সালের ১১ই সেপ্টেম্বর মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে সন্ত্রাসী হামলার (৯/১১) পর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ধারণায় কী পরিবর্তন ঘটে?
উত্তরঃ ৯/১১ হামলার পর বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদকে প্রথাগত আঞ্চলিক সমস্যার বাইরে এনে সমগ্র মানবজাতি ও রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তার জন্য অন্যতম প্রধান আন্তর্জাতিক হুমকি হিসেবে গণ্য করা শুরু হয়।
১২। ‘বিশ্ব নিরাপত্তা’-র ওপর বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব কী?
উত্তরঃ বিশ্ব উষ্ণায়নের প্রভাব: সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১.৫ থেকে ২ মিটার বৃদ্ধি পেলে মালদ্বীপের মতো দ্বীপরাষ্ট্রসমূহ সম্পূর্ণ তলিয়ে যাওয়া এবং বাংলাদেশের প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
১৩। ভারত প্রথম কত সালে এবং কোথায় পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল?
উত্তরঃ ভারত ১৯৭৪ সালে রাজস্থানের পোখরানে প্রথম পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল।
১৪। ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা কৌশলের প্রধান চারটি উপাদানের মধ্যে প্রথম উপাদানটি কী?
উত্তরঃ নিজের সামরিক ক্ষমতা ও কৌশলগত শক্তি বৃদ্ধি করা।
১৫। কিয়োটো প্রোটোকল চুক্তির মূল উদ্দেশ্য কী?
উত্তরঃ গ্রিনহাউস গ্যাসের নির্গমন হ্রাস করে বিশ্ব উষ্ণায়ন নিয়ন্ত্রণ করা।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। প্রথাগত নিরাপত্তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিকগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ প্রথাগত নিরাপত্তার বাহ্যিক ও অভ্যন্তরীণ দিকগুলি:
(i) বাহ্যিক বা বহিঃস্থ দিক:
তিনটি বিকল্প পথ: যুদ্ধের বা সামরিক হুমকির মুখোমুখি হলে প্রথাগত নিরাপত্তা অনুযায়ী কোনো সরকারের সামনে ৩টি পথ থাকে—আত্মসমর্পণ করা, আক্রমণকারীকে মারাত্মক ক্ষয়ক্ষতির ভয় দেখিয়ে যুদ্ধ থেকে বিরত রাখা যাকে ‘বাধা’ বলা হয়, এবং আক্রমণ শুরু হলে আত্মরক্ষা করে আক্রমণকারীকে পরাজিত করা।
ক্ষমতার ভারসাম্য: প্রতিটি রাষ্ট্রকে তার প্রতিবেশী বা অন্যান্য দেশের সামরিক শক্তির বিষয়ে সচেতন থাকতে হয়। ভবিষ্যৎ আক্রমণের ঝুঁকি এড়াতে রাষ্ট্রগুলি নিজেদের সামরিক শক্তি ও অর্থনৈতিক ভিত্তি মজবুত করে প্রতিপক্ষ রাষ্ট্রের সাথে অনুকূল ক্ষমতার ভারসাম্য বজায় রাখার চেষ্টা করে।
(ii) অভ্যন্তরীণ দিক:
অভ্যন্তরীণ শান্তি ও শৃঙ্খলা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শক্তিশালী পশ্চিমা দেশগুলির অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা নিশ্চিত থাকলেও, এশিয়া ও আফ্রিকার সদ্য স্বাধীন প্রাপ্ত তৃতীয় বিশ্বের দেশগুলির কাছে অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা রক্ষা ছিল এক বিরাট চ্যালেঞ্জ।
বিচ্ছিন্নতাবাদ ও গৃহযুদ্ধ: নবগঠিত রাষ্ট্রগুলি কেবল প্রতিবেশী দেশের সামরিক আক্রমণের পথেই নয়, বরং দেশের ভেতরের বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন ও অভ্যন্তরীণ সশস্ত্র সংঘাতের (যেমন—গৃহযুদ্ধ) মুখোমুখি হয়। ১৯৪৬ থেকে ১৯৯১ সালের মধ্যে বিশ্বে গৃহযুদ্ধের সংখ্যা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছিল।
(iii) সামরিক জোট গঠনের ভূমিকা: প্রথাগত নিরাপত্তা নীতির অন্যতম চতুর্থ প্রধান উপাদান হলো চুক্তি বা সমঝোতার মাধ্যমে সামরিক জোট গড়ে তোলা। বিভিন্ন রাষ্ট্র যৌথভাবে সামরিক আক্রমণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে বা প্রতিরক্ষা শক্তি বাড়াতে এই জোট গঠন করে।
২। নিরাপত্তার অপ্রথাগত ধারণায় ‘হুমকির নতুন উৎসসমূহ’ আলোচনা করো।
উত্তরঃ শীতল যুদ্ধোত্তর পর্বে বিশ্বরাজনীতিতে নিরাপত্তার সংজ্ঞায় ব্যাপক পরিবর্তন এসেছে। কেবল যুদ্ধ বা সামরিক সংঘাতই একমাত্র বিপদ নয়, বর্তমান মানবসমাজ এমন কিছু অ-সামরিক ও বৈশ্বিক সংকটের মুখোমুখি, যা সমগ্র মানবজাতির অস্তিত্বকে বিপন্ন করে তুলছে। এগুলিকেই অপ্রথাগত নিরাপত্তার ভাষায় ‘হুমকির নতুন উৎস’ বলা হয়।
হুমকির প্রধান নতুন উৎসসমূহ:
(i) আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ: সন্ত্রাসবাদ হলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত রাজনৈতিক হিংসাত্মক ক্রিয়াকলাপ, যা সাধারণ নাগরিকদের ওপর ভীতি সৃষ্টির জন্য পরিচালিত হয়। ২০০১ সালের ৯/১১ হামলা, ক্যাফে বা বাজারে বিমান ছিনতাই ও বোমা বিস্ফোরণের মাধ্যমে সন্ত্রাসবাদ আজ বিশ্ব নিরাপত্তার প্রধান হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।
(ii) মানবাধিকার লঙ্ঘন: বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে বাক-স্বাধীনতা হরণ, রাজনৈতিক নিপীড়ন, এবং রুয়ান্ডা বা মায়ানমারের মতো দেশগুলিতে জাতিগত গণহত্যা ও সংখ্যালঘু নির্যাতন মানবাধিকারকে চরম হুমকির মুখে ফেলেছে।
(iii) বিশ্বব্যাপী দারিদ্র্য ও অর্থনৈতিক বৈষম্য: বিশ্বের জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেলেও দক্ষিণের উন্নয়নশীল দেশগুলিতে দারিদ্র্য, অপুষ্টি ও বেকারত্ব তীব্র রূপ ধারণ করছে। উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধের দেশগুলির মধ্যে এই অর্থনৈতিক বৈষম্য সামাজিক অসন্তোষ ও সংঘাতের জন্ম দিচ্ছে।
৩। প্রথাগত নিরাপত্তার ক্ষেত্রে ‘সহযোগিতা’ র রূপগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ প্রথাগত নিরাপত্তায় সহযোগিতার গুরুত্ব: প্রথাগত নিরাপত্তা নীতি কেবল যুদ্ধ করা বা সামরিক বলপ্রয়োগের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি স্বীকার করে যে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা ও পারস্পরিক সমঝোতার মাধ্যমে যুদ্ধের হিংস্রতা কমানো এবং সংঘাত এড়ানো সম্ভব।
সহযোগিতার প্রধান রূপসমূহ:
(i) নিরস্ত্রীকরণ: নিরস্ত্রীকরণ হলো নির্দিষ্ট কিছু বিপজ্জনক ও বিধ্বংসী মারণাস্ত্র তৈরি, মজুত ও ব্যবহার সম্পূর্ণ বর্জন বা ধ্বংস করা।
জৈব ও রাসায়নিক অস্ত্র বর্জন: ১৯৭২ সালের ‘জৈব অস্ত্র সম্মেলন’ এবং ১৯৯২ সালের ‘রাসায়নিক অস্ত্র সম্মেলন’-র মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী এই মারাত্মক অস্ত্রগুলির উৎপাদন নিষিদ্ধ করা হয়। এটি রাষ্ট্রগুলির মধ্যে গণসংহারকারী অস্ত্রের ভয় হ্রাস করে শান্তি সুসংহত করে।
(ii) অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ: অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির মূল উদ্দেশ্য হলো অস্ত্র প্রতিযোগিতা সীমিত রাখা এবং নতুন কোনো মারাত্মক মারণাস্ত্র তৈরি নিয়ন্ত্রণ করা।
গুরুত্বপূর্ণ শক্তিসমূহ ও চুক্তি: শীতল যুদ্ধকালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও সোভিয়েত ইউনিয়ন ‘অ্যান্টি-ব্যালিস্টিক মিসাইল’ চুক্তি (১৯৭২), ‘স্টার্ট-২’ এবং ১৯৬৮ সালের ‘পরমাণু অ-প্রসার চুক্তি’ স্বাক্ষর করে। এর মাধ্যমে পারমাণবিক অস্ত্রের অনিয়ন্ত্রিত বিস্তার রোধ করা সম্ভব হয়।
(iii) বিশ্বাস গঠনের পদক্ষেপ: প্রতিপক্ষ দুটি দেশের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি বা আকস্মিক যুদ্ধ প্রতিরোধ করতে ‘বিশ্বাস গঠন’ একটি কার্যকর প্রক্রিয়া।
তথ্য আদান-প্রদান: এই প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্রগুলি নিজেদের সামরিক পরিকল্পনা, সেনাবাহিনীর অবস্থান এবং সামরিক মহড়ার তথ্য আগাম প্রতিপক্ষকে জানিয়ে দেয়। এর ফলে কোনো দেশই প্রতিপক্ষকে না জানিয়ে হঠাৎ আক্রমণ চালাতে পারে না, যা আঞ্চলিক স্থায়িত্ব রক্ষা করে।
৪। ‘সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা’ বলতে কী বোঝায়? বিশ্বব্যাপী অপ্রথাগত হুমকি মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিভিন্ন সামাজিক গোষ্ঠীর ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তরঃ বিশ্ব উষ্ণায়ন, আন্তর্জাতিক সন্ত্রাসবাদ, দারিদ্র্য বা মহামারীর মতো অপ্রথাগত হুমকিগুলি কোনো একক রাষ্ট্রের পক্ষে একা মেটানো অসম্ভব। তাই দ্বিপাক্ষিক, আঞ্চলিক বা বৈশ্বিক স্তরে বিভিন্ন রাষ্ট্র, আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং নাগরিক সমাজের যৌথ প্রচেষ্টায় যে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা গড়ে ওঠে, তাকে ‘সহযোগিতামূলক নিরাপত্তা’ বলা হয়।
আন্তর্জাতিক সংস্থা ও সামাজিক গোষ্ঠীর ভূমিকা:
(i) আন্তর্জাতিক রাষ্ট্রীয় সংস্থাসমূহ: জাতিসংঘ বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা বিশ্ব ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক অর্থভাণ্ডার বিশ্বজুড়ে শান্তি প্রতিষ্ঠা, মহামারী নিয়ন্ত্রণ, ভ্যাকসিন বণ্টন এবং দরিদ্র দেশগুলিতে পরিকাঠামো উন্নয়নে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত সহায়তা প্রদান করে।
(ii) আন্তর্জাতিক বেসরকারি সংস্থা: ‘অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল’ এবং ‘হিউম্যান রাইটস ওয়াচ’-এর মতো স্বাধীন সংস্থাগুলি সারা বিশ্বে মানবাধিকার লঙ্ঘন ও নিপীড়নের চিত্র বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরে রাষ্ট্রগুলিকে সতর্ক করে।
(iii) সমাজসেবামূলক প্রতিষ্ঠান ও রেডক্রস: ‘রেডক্রস’ বা ‘মাদার তেরেসা মিশনারিজ অব চ্যারিটি’-র মতো সংস্থাগুলি যুদ্ধাঞ্চল ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের জরুরি খাদ্য, ওষুধ ও আশ্রয় প্রদান করে জীবন রক্ষা করে।
(iv) পরিবেশবাদী ও সামাজিক আন্দোলন: আন্তর্জাতিক পরিবেশবাদী আন্দোলনগুলি পরিবেশের অবনমন ও বিশ্ব উষ্ণায়ন রোধে বিভিন্ন দেশের সরকারের ওপর বৈশ্বিক নীতি গ্রহণের চাপ সৃষ্টি করে।
৫। ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের প্রধান প্রধান উপাদানসমূহ আলোচনা করো।
উত্তরঃ স্বাধীনতার পর থেকেই ভারত একদিকে যেমন প্রতিবেশীদের সাথে সামরিক সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে, অন্যদিকে অভ্যন্তরীণ বিচ্ছিন্নতাবাদ ও দারিদ্র্যের মতো সংকটের শিকার হয়েছে। ফলে ভারত নিজের জাতীয় নিরাপত্তা সুসংহত করতে একটি সমন্বিত নিরাপত্তা কৌশল গ্রহণ করেছে।
ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের ৪টি প্রধান উপাদান:
(i) সামরিক ক্ষমতার ধারাবাহিক বৃদ্ধি: ভারতের সীমানা সংলগ্ন অঞ্চলে চীন ও পাকিস্তানের মতো দুই পারমাণবিক পরাশক্তি বিদ্যমান। ১৯৪৭-৪৮, ১৯৬৫, ১৯৭১ এবং ১৯৯৯ সালে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে এবং ১৯৬২ সালে চীনের সাথে সামরিক সংঘাতের কারণে ভারত নিজের সামরিক বাহিনীকে অত্যাধুনিক করে গড়ে তুলেছে। নিজের নিরাপত্তা অক্ষুণ্ন রাখতে ভারত ১৯৭৪ এবং ১৯৯৮ সালে সফল পারমাণবিক পরীক্ষা সম্পন্ন করে।
(ii) আন্তর্জাতিক নিয়ম ও সংস্থাকে শক্তিশালীকরণ: ভারত তার নিজস্ব নিরাপত্তার স্বার্থে আন্তর্জাতিক আইন ও সংস্থাকে জোরদার করার নীতি নিয়েছে। ভারতের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহরু জোট নিরপেক্ষ আন্দোলন, এশীয় সংহতি এবং জাতিসংঘের শান্তিরক্ষা মিশনকে পূর্ণ সমর্থন জানান। এছাড়া ভারত বিশ্বজুড়ে পারমাণবিক অস্ত্র বর্জন, নতুন আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ব্যবস্থা এবং কিয়োটো প্রোটোকলে স্বাক্ষর করে বৈশ্বিক নীতিকে শক্তিশালী করেছে।
(iii) অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা ও গণতান্ত্রিক ভারসাম্য রক্ষা: ভারতের অভ্যন্তরীণ সুরক্ষায় নাগাল্যান্ড, মিজোরাম, পাঞ্জাব ও কাশ্মীরের মতো অঞ্চলগুলিতে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের তীব্র চ্যালেন্জ দেখা দিয়েছিল। ভারত সামরিক বলপ্রয়োগের পাশাপাশি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মাধ্যমে প্রতিটি জনগোষ্ঠীর মতামত প্রকাশের সুযোগ ও ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ ঘটিয়ে জাতীয় সংহতি রক্ষা করেছে।
(iv) অর্থনৈতিক বিকাশ ও দারিদ্র্য দূরীকরণ: ভারতের নিরাপত্তা কৌশলের চতুর্থ প্রধান দিক হলো দেশের বিশাল জনগণকে দারিদ্র্য, অনাহার ও বৈষম্য থেকে মুক্ত করা। একটি শক্তিশালী ও আত্মনির্ভরশীল অর্থনৈতিক ভিত্তি গড়ে তুলে নাগরিকদের জীবনের গুণগত মান বৃদ্ধি করাই হলো ভারতের নিরাপত্তার মূল ভিত্তি।

