Class 12 Political Science Important Chapter 5 সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া

Class 12 Political Science Important Chapter 5 সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 5 সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.

Class 12 Political Science Important Chapter 5 সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়া

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 5

Part – 1: সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর

১। দক্ষিণ এশিয়া বলতে ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক অর্থে কোন প্রধান দেশগুলিকে বোঝানো হয়?

উত্তরঃ দক্ষিণ এশিয়া বলতে মূলত ভারত, পাকিস্তান, বাংলাদেশ, নেপাল, শ্রীলঙ্কা, ভুটান এবং মালদ্বীপ—এই সাতটি দেশকে বোঝানো হয়।

২। ‘সার্ক’ কত সালে এবং কোথায় আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৮৫ সালের ডিসেম্বর মাসে বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকায় প্রথম শীর্ষ সম্মেলনের মাধ্যমে সার্ক আনুষ্ঠানিকভাবে গঠিত হয়।

৩। ‘সাফটা’ কত সালে স্বাক্ষরিত হয় এবং এটি কখন থেকে কার্যকর হয়?

উত্তরঃ ২০০৪ সালের জানুয়ারি মাসে ইসলামাবাদে দ্বাদশ সার্ক শীর্ষ সম্মেলনে ‘সাফটা’ স্বাক্ষরিত হয় এবং ২০০৬ সালের ১লা জানুয়ারি থেকে এটি কার্যকর হয়।

৪। শ্রীলঙ্কা (সিলোন) কত সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে?

উত্তরঃ শ্রীলঙ্কা ১৯৪৮ সালে ব্রিটিশ শাসন থেকে স্বাধীনতা অর্জন করে।

৫। শ্রীলঙ্কার ‘এলটিটিই’ সংগঠনের পূর্ণরূপ কী এবং তাদের প্রধান দাবি কী ছিল?

উত্তরঃ LTTE-র পূর্ণরূপ হলো ‘লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম’। তাদের প্রধান দাবি ছিল শ্রীলঙ্কার উত্তর-পূর্বাঞ্চলে তামিলদের জন্য একটি পৃথক স্বাধীন রাষ্ট্র ‘তামিল ইলম’ গঠন করা।

৬। ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘সিন্ধু জল চুক্তি’ কত সালে এবং কার মধ্যস্থতায় স্বাক্ষরিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৬০ সালে বিশ্বব্যাংকের মধ্যস্থতায় ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে সিন্ধু জল চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৭। বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি কত সালে স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৯৬ সালের ডিসেম্বরে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে গঙ্গার জলবণ্টন চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।

৮। ১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারত ও পাকিস্তান কোথায় তাদের পরমাণু পরীক্ষা সম্পন্ন করেছিল?

উত্তরঃ ১৯৯৮ সালের মে মাসে ভারত রাজস্থানের ‘পোখরানে’ এবং প্রতিক্রিয়া হিসেবে পাকিস্তান কয়েকদিনের মধ্যে ‘চাগাই পাহাড়ে’ পরমাণু পরীক্ষা সম্পন্ন করে।

৯। ভারত কত সালে শ্রীলঙ্কায় ‘ভারতীয় শান্তিরক্ষা বাহিনী’ পাঠিয়েছিল এবং কত সালে তা ফিরিয়ে নেয়?

উত্তরঃ ১৯৮৭ সালের ভারত-শ্রীলঙ্কা চুক্তির অধীনে ১৯৮৭ সালে শান্তিরক্ষা বাহিনী পাঠানো হয় এবং উদ্দেশ্য পূরণ না হওয়ায় ১৯৮৯ সালে তা শ্রীলঙ্কা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

১০। নেপালে ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক গণআন্দোলনে নেতৃত্ব প্রদানকারী রাজনৈতিক জোটটিকে কী বলা হয়?

উত্তরঃ প্রধান সাতটি রাজনৈতিক দলের এই জোটকে ‘সেভেন পার্টি অ্যালায়েন্স’ বলা হয়।

১১। দ্বীপরাষ্ট্র মালদ্বীপ কত সালে সুলতানি শাসন থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত গণরাজ্যে রূপান্তরিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৬৮ সালে মালদ্বীপ সুলতানি শাসন থেকে রাষ্ট্রপতিশাসিত গণরাজ্যে রূপান্তরিত হয়।

১২। পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে কত সালে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়?

উত্তরঃ ১৯৭৬ সালে পাকিস্তান ও বাংলাদেশের মধ্যে আনুষ্ঠানিকভাবে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

১৩। ১৯৬৫ সালের ভারত-পাকিস্তান যুদ্ধের পর ১৯৬৬ সালে দুই দেশের মধ্যে কোন বিখ্যাত চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল?

উত্তরঃ ১৯৬৬ সালে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক ‘তাসখন্দ চুক্তি’ স্বাক্ষরিত হয়েছিল।

১৪। ১৯৭০ সালের পাকিস্তানের সাধারণ নির্বাচনে পূর্ব পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে কোন রাজনৈতিক দল জয়ী হয়েছিল?

উত্তরঃ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের নেতৃত্বাধীন ‘আওয়ামী লীগ’ পূর্ব পাকিস্তানের সবকটি আসনে এবং সমগ্র পাকিস্তানে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে জয়ী হয়।

১৫। কচ্ছ উপকূলীয় অঞ্চলে ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বিতর্কিত সীমারেখাটি কী নামে পরিচিত?

উত্তরঃ কচ্ছ উপকূলে ভারত ও পাকিস্তানের বিতর্কিত সীমারেখাটি ‘স্যার ক্রিক’ নামে পরিচিত।

দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।

১। বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার তুলনা করো। উভয় দেশের রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সামরিক শক্তির ভূমিকা এবং গণতন্ত্র বিকাশে মূল বাধাগুলি আলোচনা করো। 

উত্তরঃ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতার বিবরণ:

(i) পাকিস্তানের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা: ১৯৪৭ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে আত্মপ্রকাশের পর থেকেই পাকিস্তানে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার অভাব দেখা দেয়। ১৯৫৮ সালে জেনারেল আইয়ুব খান প্রথম সামরিক শাসন জারি করেন। পরবর্তীতে জেনারেল ইয়াহিয়া খান, ১৯৭৭ সালে জেনারেল জিয়া-উল-হক এবং ১৯৯৯ সালে জেনারেল পারভেজ মুশাররফ গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করে ক্ষমতা দখল করেন।

(ii) বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক অভিজ্ঞতা: ১৯৭১ সালে রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে স্বাধীন বাংলাদেশে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়। তবে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিবুর রহমানের নির্মম হত্যাকাণ্ডের পর জেনারেল জিয়াউর রহমান এবং পরবর্তীতে লে. জেনারেল এইচ. এম. এরশাদের সামরিক শাসন জারি হয়। 

সামরিক বাহিনীর ভূমিকা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠায় প্রধান বাধাসমূহ:

(i) সামরিক-আমলাতান্ত্রিক জোটের আধিপত্য: পাকিস্তানে সামরিক বাহিনী, ধর্মান্ধ গোষ্ঠী ও সামন্তপ্রভু বা জমিদার শ্রেণীর কায়েমী স্বার্থ যৌথভাবে বারবার গণতান্ত্রিকভাবে নির্বাচিত সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করেছে। বাংলাদেশেও একাধিক সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে নির্বাচিত প্রধানদের অপসারণ করা হয়েছিল।

(ii) আন্তর্জাতিক শক্তির অনভিপ্রেত ভূমিকা: শীতল যুদ্ধের সময় এবং পরবর্তীতে বৈশ্বিক সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলি নিজ স্বার্থে পাকিস্তানের সামরিক শাসকগণকে উৎসাহিত ও সহায়তা প্রদান করেছিল, যা সেখানে বেসামরিক শাসন প্রতিষ্ঠায় বাধা সৃষ্টি করে।

(iii) রাজনীতিবিদদের পারস্পরিক দ্বন্দ্ব: দুটি দেশেই রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে তীব্র অনৈক্য, দুর্নীতি এবং পরমতসহিষ্ণুতার অভাব সামরিক বাহিনীকে রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার অজুহাত এনে দিয়েছে।

২। শ্রীলঙ্কার জাতিগত সংঘাতের মূল কারণ ও বিবর্তন আলোচনা করো।

উত্তরঃ শ্রীলঙ্কার জাতিগত সংঘাতের মূল কারণ ও বিবর্তন:

১৯৪৮ সালে স্বাধীনতা লাভের পর থেকে শ্রীলঙ্কায় একটি গণতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থা বিদ্যমান থাকলেও দেশটি এক দীর্ঘস্থায়ী ও ভয়াবহ জাতিগত সংঘাতের সম্মুখীন হয়:

(i) সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি আধিপত্য: শ্রীলঙ্কায় সংখ্যাগরিষ্ঠ সিংহলি সম্প্রদায় সরকার ও প্রশাসনে নিজেদের একচ্ছত্র প্রাধান্য প্রতিষ্ঠা করে। স্বাধীনতাত্তোর সরকারগুলি তামিলদের ভাষার অধিকার, সরকারি চাকরি এবং শিক্ষায় সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত করতে থাকে।

(ii) তামিল অসন্তোষ ও স্বতন্ত্র রাজ্যের দাবি: ভারতের তামিলনাড়ু থেকে অতীতে আগত এবং স্থানীয় তামিল জনগণ দীর্ঘদিন ধরে বৈষম্যের শিকার হয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। তামিলদের জাতীয়তাবাদী অধিকার রক্ষার আন্দোলন একসময় স্বায়ত্তশাসন ছাড়িয়ে ‘স্বতন্ত্র তামিল রাজ্য’ গঠনের দাবিতে রূপ নেয়।

(iii) এলটিটিই ও সশস্ত্র সংগ্রাম: ১৯৮৩ সাল থেকে ভেলোপিল্লাই প্রভাকরনের নেতৃত্বে ‘লিবারেশন টাইগার্স অব তামিল ইলম’ নামক চরমপন্থী সশস্ত্র গোষ্ঠী শ্রীলঙ্কার সেনা বাহিনীর বিরুদ্ধে গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। শ্রীলঙ্কার উত্তর ও পূর্বাঞ্চলে এলটিটিই নিজস্ব নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে এবং এক রক্তক্ষয়ী গৃহযুদ্ধের সূচনা হয়।

৩। নেপালে রাজতন্ত্র থেকে পূর্ণাঙ্গ গণতন্ত্রে উত্তরণের ঐতিহাসিক আন্দোলন আলোচনা করো। 

উত্তরঃ নেপালে রাজতন্ত্র থেকে গণতন্ত্রে উত্তরণের ইতিহাস: অতীতের ঐতিহ্যবাহী হিন্দু রাজ্য নেপাল দীর্ঘকাল একটি সাংবিধানিক রাজতন্ত্র হিসেবে শাসিত হতো। তবে সাধারণ মানুষের মুক্ত ও গণতান্ত্রিক শাসনের আকুলতা নেপালকে এক ঐতিহাসিক পরিবর্তনের দিকে নিয়ে যায়।

(i) ১৯৯০ সালের প্রথম গণআন্দোলন: ১৯৯০ সালে নেপালে একটি শক্তিশালী গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলন গড়ে ওঠে, যার চাপে তৎকালীন রাজা একটি নতুন গণতান্ত্রিক সংবিধানের দাবি মেনে নিতে বাধ্য হন। তবে নির্বাচিত সরকারগুলির স্থায়িত্ব ছিল অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত।

(ii) মাওবাদী সশস্ত্র বিদ্রোহ: নব্বইয়ের দশকে নেপালের বিশাল সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্যের বিরুদ্ধে মাওবাদী কমিউনিস্ট পার্টি রাজপরিবার ও শাসকগোষ্ঠীর বিরুদ্ধে সশস্ত্র গেরিলা যুদ্ধ শুরু করে। এর ফলে রাজকীয় সেনাবাহিনী, মাওবাদী এবং রাজনৈতিক দলগুলির মধ্যে ত্রিমুখী রক্তক্ষয়ী সংঘাত সৃষ্টি হয়।

(iii) রাজার সর্বময় ক্ষমতা দখল: ২০০২ সালে রাজা জ্ঞানেন্দ্র সংসদ ভেঙে দেন এবং সরকার বরখাস্ত করে শাসনক্ষমতা নিজের হাতে কুক্ষিগত করেন। এর ফলে সীমিত গণতন্ত্রও স্তব্ধ হয়ে যায়।

(iv) ২০০৬ সালের ঐতিহাসিক দ্বিতীয় গণআন্দোলন: ২০০৬ সালের এপ্রিলে রাজা জ্ঞানেন্দ্রের স্বৈরাচারী শাসনের বিরুদ্ধে নেপালজুড়ে এক অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান ঘটে। প্রধান ৭টি রাজনৈতিক দলের জোট  মাওবাদী বিদ্রোহী এবং নাগরিক সমাজ যৌথভাবে অহিংস আন্দোলন গড়ে তোলে। বাধ্য হয়ে রাজা অবলুপ্ত সংসদ পুনর্বহাল করেন।

৪। দক্ষিণ এশীয় আঞ্চলিক সহযোগিতা সংস্থা ‘সার্ক’-এর সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা আলোচনা করো। ‘সাফটা’ এই অঞ্চলে মুক্ত বাণিজ্য প্রসারে কী ভূমিকা রাখছে? 

উত্তরঃ সার্কের ভূমিকা, সাফল্য ও সীমাবদ্ধতা: দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের মধ্যে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক বিবাদ সত্ত্বেও ভূ-রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে ১৯৮৫ সালে ‘সার্ক’ গঠিত হয়েছিল।

সার্কের সাফল্যসমূহ:

(i) বহুপাক্ষিক আলোচনার মঞ্চ: চরম বৈরিতা সত্ত্বেও ভারত, পাকিস্তান ও অন্যান্য প্রতিবেশী দেশগুলির রাষ্ট্রপ্রধানদের এক ছাদের তলায় এনে সংলাপ ও শান্তি আলোচনার একটি নিয়মিত মঞ্চ তৈরি করেছে সার্ক।

(ii) কৃষি, পরিবেশ ও বিজ্ঞান সহযোগিতা: সদস্য রাষ্ট্রগুলি আবহাওয়া পূর্বাভাস, কৃষি প্রযুক্তি আদান-প্রদান, সন্ত্রাসবাদ দমন এবং দারিদ্র্য দূরীকরণে সম্মিলিত চুক্তি সম্পাদন করতে পেরেছে।

সার্কের প্রধান সীমাবদ্ধতাসমূহ:

(i) ভারত-পাকিস্তান দ্বন্দ্ব: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যকার কাশ্মীর ইস্যু এবং অনবরত সীমান্ত সংঘাত সার্কের সমস্ত উন্নয়নমূলক উদ্যোগকে স্থবির করে দিয়েছে।

(ii) ক্ষুদ্র প্রতিবেশীদের সংশয়: ভৌগোলিক আয়তন ও অর্থনৈতিক শক্তিতে ভারত কেন্দ্রবিন্দুতে অবস্থান করায় ক্ষুদ্র প্রতিবেশী দেশগুলি প্রায়শই ভারতের আধিপত্যবাদী আচরণের আশঙ্কা প্রকাশ করে।

(iii) দ্বিপাক্ষিক বিরোধ এড়ানোর নীতি: সার্ক সনদে দ্বিপাক্ষিক সংঘাতমূলক বিষয়গুলিকে আলোচনার বাইরে রাখার নিয়ম থাকায় মূল রাজনৈতিক সমস্যাগুলির সমাধান এই মঞ্চে সম্ভব হয় না।

‘সাফটা’ এবং মুক্ত বাণিজ্যের সম্ভাবনা: দক্ষিণ এশিয়াকে একটি মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চলে পরিণত করার উদ্দেশ্যে ২০০৪ সালে সার্ক সম্মেলনে ‘দক্ষিণ এশীয় মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল চুক্তি’ বা ‘সাফটা’ (SAFTA) স্বাক্ষরিত হয়, যা ২০০৬ সাল থেকে কার্যকর হয়।

(i) শুল্ক হ্রাস ও মুক্ত বাণিজ্য: সাফটার মূল উদ্দেশ্য ছিল ২০০৭ সালের মধ্যে সদস্য দেশগুলির অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য শুল্ক ২০ শতাংশে নামিয়ে আনা এবং আঞ্চলিক সীমান্ত অতিক্রম করে পণ্য চলাচলের পথ সহজ করা।

(ii) বাণিজ্যিক লাভ ও ভয়: অর্থনৈতিকভাবে উন্নত দেশ হিসেবে ভারত মনে করে সাফটা বাস্তবায়িত হলে পুরো অঞ্চলের বাজার সম্প্রসারিত হবে এবং সার্বিক অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি আসবে। তবে শ্রীলঙ্কা, নেপাল বা বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র প্রতিবেশীরা ভয় পায় যে এর মাধ্যমে ভারতীয় পণ্য তাদের অভ্যন্তরীণ বাজার দখল করে ফেলবে।

৫। “দক্ষিণ এশীয় অঞ্চলে বৈশ্বিক শক্তি হিসেবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের প্রভাব ও ভূমিকা অত্যন্ত গভীর।” — উক্তিটি ব্যাখ্যা করো। 

উত্তরঃ দক্ষিণ এশিয়া কেবল এখানকার আটটি রাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এর ভৌগোলিক অবস্থান, পারমাণবিক ক্ষমতা এবং অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কারণে এটি বৈশ্বিক পরাশক্তিগুলির ভূ-রাজনৈতিক প্রতিযোগিতার প্রধান কেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে শীতল যুদ্ধের সময় থেকে বর্তমান বিশ্বায়নের যুগ পর্যন্ত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং চীন—এই দুই বহিঃশক্তির উপস্থিতি দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতি ও নিরাপত্তার সমীকরণকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে আসছে।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব:

(i) শীতল যুদ্ধকালীন সামরিক জোট: শীতল যুদ্ধের সময় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র সাম্যবাদ রূধতে পাকিস্তানকে সিয়াটো এবং সেন্টো সামরিক জোটে যুক্ত করে বিপুল অর্থনৈতিক ও সামরিক সাহায্য প্রদান করে।

(ii) ভারত-মার্কিন কৌশলগত সখ্য: শীতল যুদ্ধের অবসানের পর বিশেষ করে একবিংশ শতাব্দীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ভারতের সাথে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বেসামরিক পারমাণবিক চুক্তি সম্পাদন করেছে। এশিয়ায় চীনের রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব ভারসাম্যপূর্ণ রাখতেই আমেরিকা ভারতের সাথে কৌশলগত অংশীদারিত্ব বৃদ্ধি করেছে।

(iii) মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা: ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ১৯৯৯ সালের কারগিল যুদ্ধ বা পরবর্তী সামরিক উত্তেজনার সময়ে আমেরিকা দুই দেশের উত্তেজনা প্রশমনে আন্তর্জাতিক মধ্যস্থতাকারীর দায়িত্ব পালন করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ার রাজনীতিতে চীনের প্রভাব:

(i) ভারত-চীন সীমান্ত সংঘাত: ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধের পর থেকে ভারতের প্রধান সীমান্ত নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ হিসেবে চীন বিরাজমান। অরুণাচল প্রদেশ ও আকসাই চীন নিয়ে বিতর্ক এবং ডোকলাম ও গালওয়ানের সাম্প্রতিক সংঘর্ষ দুটি দেশের সম্পর্ককে প্রভাবিত করে।

(ii) চীন-পাকিস্তান অক্ষ ও সামরিক সহায়তা: চীন দীর্ঘকাল ধরে পাকিস্তানের প্রধান সামরিক অস্ত্র সরবরাহকারী এবং কৌশলগত মিত্র। পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে সহায়তা এবং ‘চীন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর’ নির্মাণ দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের সামরিক আধিপত্যকে সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানায়।

(iii) ক্ষুদ্র প্রতিবেশী রাষ্ট্রগুলিতে অর্থনৈতিক বিনিয়োগ: বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও মালদ্বীপে খনিজ সম্পদ, বন্দর ও অবকাঠামো নির্মাণে বিশাল চীনা বিনিয়োগ (যেমন—বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ বা ভারতের প্রতিবেশী বলয়ে চীনের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক প্রভাব বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top