Class 12 Political Science Important Chapter 4 বিকল্প শক্তির উৎস Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 12 Political Science Important Chapter 4 বিকল্প শক্তির উৎস Solutions and select need one. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 12 Political Science Important Solutions Bengali Medium.
Class 12 Political Science Important Chapter 4 বিকল্প শক্তির উৎস
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 12 Political Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 2nd Year Political Science Important Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
বিকল্প শক্তির উৎস
Chapter: 4
| Part – 1: সমসাময়িক বিশ্ব রাজনীতি |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ইউরোপীয় ইউনিয়ন (EU) আনুষ্ঠানিকভাবে কত সালে এবং কোন চুক্তির মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৯২ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি মাসট্রিচট চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠিত হয়েছিল।
২। ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকায় কয়টি সোনালী তারকা রয়েছে এবং এটি কিসের প্রতীক?
উত্তরঃ ইউরোপীয় ইউনিয়নের পতাকায় ১২টি সোনালী তারকা রয়েছে, যা ইউরোপের জনগণের মধ্যে ঐক্য, পূর্ণতা ও সংহতির প্রতীক।
৩। আসিয়ান কত সালে এবং কোন ঘোষণার মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ আসিয়ান ১৯৬৭ সালে ব্যাঙ্কক ঘোষণার মাধ্যমে গঠিত হয়েছিল।
৪। আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচটি দেশ কী কী?
উত্তরঃ আসিয়ানের প্রতিষ্ঠাতা পাঁচটি দেশ হলো—ইন্দোনেশিয়া, মালয়েশিয়া, ফিলিপাইন, থাইল্যান্ড এবং সিঙ্গাপুর।
৫। আসিয়ান আঞ্চলিক মঞ্চ কত সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ আসিয়ান আঞ্চলিক মঞ্চ (ARF) ১৯৯৪ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল।
৬। ১৯৭৩ সালে চীনের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী চৌ এনলাই কোন চারটি ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ চৌ এনলাই চারটি ক্ষেত্রে আধুনিকীকরণের প্রস্তাব দিয়েছিলেন—কৃষি, শিল্প, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, এবং প্রতিরক্ষা।
৭। ১৯৭৮ সালে চীনের কোন নেতা ‘উন্মুক্ত দরজা’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন?
উত্তরঃ ১৯৭৮ সালে তৎকালীন চীনা নেতা দেং শিয়াওপিং ‘উন্মুক্ত দরজা’ নীতি ঘোষণা করেছিলেন।
৮। চীন কত সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে?
উত্তরঃ ২০০১ সালে চীন বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করে।
৯। চীন কর্তৃক বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের জন্য গঠিত বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলকে সংক্ষেপে কী বলা হয়?
উত্তরঃ সংক্ষেপে ‘সেজ’ বলা হয়।
১০। ‘মার্শাল পরিকল্পনার অধীনে কত সালে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা গঠিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯ ৪৮ সালে ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা গঠিত হয়েছিল।
১১। ‘ইউরো’ মুদ্রা আনুষ্ঠানিকভাবে কত সালে এবং কয়টি সদস্য রাষ্ট্রে চালু হয়েছিল?
উত্তরঃ ২০০২ সালের জানুয়ারি মাসে ১২টি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্য রাষ্ট্রে চালু হয়েছিল।
১২। ১৯৬২ সালে ভারত ও চীনের মধ্যে সীমান্ত সংঘর্ষ মূলত কোন দুটি অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৬২ সালে ভারত চীন সংঘর্ষ মূলত অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের আকসাই চীন অঞ্চলে সংঘটিত হয়েছিল।
১৩। ১৯৮৮ সালে ভারতের কোন প্রধানমন্ত্রী চীন সফর করে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সুসংহত সূচনা করেছিলেন?
উত্তরঃ ১৯৮৮ সালে তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধী চীন সফর করেছিলেন।
১৪। জি-৮ এর একমাত্র এশীয় সদস্য রাষ্ট্র কোনটি?
উত্তরঃ জি-৮ এর একমাত্র এশীয় সদস্য রাষ্ট্র হলো জাপান।
১৫। জাপানি সংবিধানের কত নম্বর অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে যে জাপান যুদ্ধ ও আন্তর্জাতিক সমস্যা সমাধানে বলপ্রয়োগের নীতি চিরতরে বর্জন করেছে?
উত্তরঃ জাপানি সংবিধানের ৯ নম্বর অনুচ্ছেদে এই কথা বলা হয়েছে।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং বিশ্ব রাজনীতিতে একটি প্রভাবশালী আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে এর অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক ও সামরিক প্রভাব আলোচনা করো।
উত্তরঃ ইউরোপীয় ইউনিয়ন প্রতিষ্ঠার ইতিহাস: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের শেষে (১৯৪৫) ইউরোপের অর্থনৈতিক পরিকাঠামো ও প্রথাগত কাঠামো সম্পূর্ণরূপে ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বিধ্বস্ত ইউরোপীয় অর্থনীতিকে পুনরুজ্জীবিত করতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ‘মার্শাল পরিকল্পনা’-র অধীনে বিপুল আর্থিক সাহায্য প্রদান করে। এর ওপর ভিত্তি করে ১৯৪৮ সালে ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা’গঠিত হয়, যা পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলির বাণিজ্য ও আর্থিক সহযোগিতার পথ উন্মুক্ত করে।
পরবর্তীকালে ১৯৪৯ সালে রাজনৈতিক সহযোগিতার উদ্দেশ্যে ‘কাউন্সিল অফ ইউরোপ’ এবং ১৯৫৭ সালে রোম চুক্তির মাধ্যমে ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সমাজ’ প্রতিষ্ঠিত হয়। অবশেষে, ১৯৯২ সালের ৭ই ফেব্রুয়ারি ঐতিহাসিক মাসট্রিচট চুক্তি স্বাক্ষরের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ আত্মপ্রকাশ করে।
প্রভাবশালী আঞ্চলিক সংগঠন হিসেবে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভূমিকা:
(i) অর্থনৈতিক প্রভাব:
বিশাল জিডিপি: ২০০৫ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের মোট অভ্যন্তরীণ উৎপাদন ছিল ১২ ট্রিলিয়ন ডলারের বেশি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে কিছুটা বেশি ছিল।
ইউরো মুদ্রার প্রভাব: ইউরোপীয় ইউনিয়নের একক মুদ্রা ‘ইউরো’ বিশ্ব অর্থনীতিতে মার্কিন ডলারের একচ্ছত্র আধিপত্যের প্রতি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
বিশ্ব বাণিজ্যে ভাগ: বিশ্ব বাণিজ্যে ইইউ-এর অংশীদারিত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেয়ে তিনগুণ বেশি, যার ফলে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় এটি অত্যন্ত প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করে।
(ii) রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক প্রভাব:
জাতিসংঘে প্রভাব: ইউরোপীয় ইউনিয়নের দুটি সদস্য রাষ্ট্র (ফ্রান্স ও ব্রিটেন) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য এবং বেশ কয়েকটি রাষ্ট্র অস্থায়ী সদস্য হিসেবে দায়িত্ব পালন করে।
কূটনৈতিক মধ্যস্থতা: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতো কেবল সামরিক বলপ্রয়োগ না করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন কূটনীতি, অর্থনৈতিক বিনিয়োগ ও আলোচনার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক বিতর্ক নিরসনে সফল ভূমিকা পালন করেছে।
(iii) সামরিক ক্ষমতা:
দ্বিতীয় বৃহত্তম সশস্ত্র বাহিনী: সমন্বিত সামরিক শক্তির দিক থেকে ইউরোপীয় ইউনিয়নের যৌথ বাহিনী বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম।
সামরিক ব্যয় ও পারমাণবিক অস্ত্র: মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পর ইইউ প্রতিরক্ষা খাতে বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ অর্থ ব্যয় করে। এর সদস্য রাষ্ট্র ব্রিটেন ও ফ্রান্সের কাছে আনুমানিক ৫৫০টি পারমাণবিক যুদ্ধাস্ত্রের ভাণ্ডার রয়েছে।
২। ‘আসিয়ান’ গঠনের মূল উদ্দেশ্যসমূহ কী কী? ‘আসিয়ান ওয়ে’ এবং আসিয়ান সম্প্রদায়ের তিনটি স্তম্ভের কার্যকারিতা আলোচনা করো।
উত্তরঃ আসিয়ান’ গঠনের মূল উদ্দেশ্যসমূহ:
(i) প্রাথমিক উদ্দেশ্য: সামাজিক অগ্রগতি ও সাংস্কৃতিক উন্নয়নের মাধ্যমে এই অঞ্চলের আর্থিক বিকাশ ত্বরান্বিত করা।
(ii) গৌণ উদ্দেশ্য: আইনের শাসন এবং জাতিসংঘ সনদের নীতিগুলির ওপর ভিত্তি করে আঞ্চলিক শান্তি ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বৃদ্ধি করা।
‘আসিয়ান ওয়ে’: ইউরোপীয় ইউনিয়নের মতো অতি-জাতীয় বা রাষ্ট্রোর্ধ্ব আনুষ্ঠানিক পরিকাঠামো গঠনের পরিবর্তে আসিয়ান সদস্য দেশগুলি একটি অনানুষ্ঠানিক, সংঘাতহীন, বন্ধুত্বপূর্ণ এবং আলোচনার মাধ্যমে পারস্পরিক সহযোগিতার পথ বেছে নিয়েছে। সদস্য রাষ্ট্রগুলির জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি শ্রদ্ধা জানানো এবং অভ্যন্তরীণ বিষয়ে অনহস্তক্ষেপের নীতি অনুসরণের এই বিশেষ কৌশল আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে ‘আসিয়ান ওয়ে’ নামে পরিচিত।
আসিয়ান সম্প্রদায়ের তিনটি স্তম্ভ ২০০৩ সালে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ধাঁচে আসিয়ান তিনটি প্রধান স্তম্ভ নিয়ে ‘আসিয়ান সমাজ’ গঠনের সিদ্ধান্ত নেয়:
(i) আসিয়ান নিরাপত্তা সমাজ: সীমান্ত সংক্রান্ত যেকোনো বকেয়া বিরোধ যাতে সশস্ত্র সংঘাত বা যুদ্ধে রূপ না নেয়, তা নিশ্চিত করা। ১৯৯৪ সালে গঠিত ‘আসিয়ান আঞ্চলিক মঞ্চ’এই নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতির সমন্বয়ে কাজ করে।
(ii) আসিয়ান অর্থনৈতিক সমাজ: আসিয়ান রাষ্ট্রগুলির মধ্যে একটি সার্বজনীন বাজার ও উৎপাদন কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করা এবং সামাজিক-অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করা। এর লক্ষ্য হলো বিনিয়োগ, শ্রম ও সেবার জন্য মুক্ত বাণিজ্য অঞ্চল গঠন করা।
(iii) আসিয়ান সামাজিক-সাংস্কৃতিক সমাজ: সদস্য রাষ্ট্রগুলির মধ্যে শিক্ষা, সাংস্কৃতিক আদান-প্রদান এবং মানবসম্পদ উন্নয়নে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণ করা।
৩। চীনের ‘উন্মুক্ত দরজা’ নীতি কী? এই নীতি চীনকে কীভাবে অর্থনৈতিক সাফল্য এনে দিয়েছিল?
উত্তরঃ ‘চীনের ‘উন্মুক্ত দরজা’ নীতির ধারণা: ১৯৭৮ সালে চীনের তৎকালীন কমিউনিস্ট নেতা দেং শিয়াওপিং দীর্ঘদিনের অর্থনৈতিক একাকীত্ব ও রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণের অবসান ঘটিয়ে যে বাজারমুখী সংস্কার নীতি ঘোষণা করেন, তা ‘উন্মুক্ত দরজা’ নীতি নামে পরিচিত। এর মূল উদ্দেশ্য ছিল বৈদেশিক মূলধন, উন্নত প্রযুক্তি এবং বেসরকারি বিনিয়োগ আকর্ষণের মাধ্যমে দেশের উৎপাদনশীলতা বহুগুণ বৃদ্ধি করা।
এই নীতির প্রয়োগ ও অর্থনৈতিক সাফল্য:
(i) ধাপে ধাপে বাজার উন্মুক্তকরণ: সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের মতো একলফে ‘শক্ থেরাপি’ প্রয়োগ না করে চীন ধাপে ধাপে তার অর্থনীতি উন্মুক্ত করে। ১৯৮২ সালে কৃষি এবং ১৯৯৮ সালে শিল্প খাতকে ব্যক্তিমালিকানায় হস্তান্তর করা হয়।
(ii) বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন: বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে শুল্ক ও বাণিজ্য বাধামুক্ত ‘বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চল’ তৈরি করা হয়।
(ii) বৈদেশিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগে রেকর্ড: বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ আকর্ষণে চীন বিশ্বে অন্যতম প্রধান গন্তব্যে পরিণত হয় এবং ২০০১ সালে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় যোগদানের মাধ্যমে বিশ্ব অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তিতে রূপান্তরিত হয়।
৪। ভারত ও চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ঐতিহাসিক বিবর্তন, প্রধান বিবাদাত্মক বিষয়সমূহ এবং সাম্প্রতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভারত-চীন সম্পর্কের ঐতিহাসিক বিবর্তন: পশ্চিমা সাম্রাজ্যবাদের আগমনের পূর্বে এশিয়ার রাজনীতিতে ভারত ও চীন ছিল দুটি প্রধান কেন্দ্রবিন্দু, যাদের নিজস্ব সাংস্কৃতিক ও রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার লাভ করেছিল। ১৯৪৭ সালে ভারতের স্বাধীনতা এবং ১৯৪৯ সালে চীনের সমাজতান্ত্রিক বিপ্লবের পর উভয় দেশ যৌথভাবে এশিয়ার ভবিষ্যৎ পুনর্নির্মাণে আশাবাদী হয় এবং “হিন্দি-চীনি ভাই ভাই” পপুলার বুলিটি জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু সীমান্ত সংঘাত এই সুসম্পর্ককে বিনষ্ট করে দেয়।
সম্পর্কের প্রধান প্রধান বিবাদাত্মক বিষয়সমূহ:
(i) তিব্বত সংকট: ১৯৫০ সালে চীন তিব্বত দখল করে নিলে এবং পরবর্তীতে ১৯৫৯ সালে তিব্বতী ধর্মগুরু দলাই লামা ভারতে রাজনৈতিক আশ্রয় লাভ করলে ভারত-চীন দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে গভীর ফাটল ধরে।
(ii) ১৯৬২ সালের সীমান্ত যুদ্ধ: সীমানা নির্ধারণ নিয়ে বিরোধের জেরে ১৯৬২ সালে চীন ভারতের বিরুদ্ধে সামরিক আক্রমণ জানায়। অরুণাচল প্রদেশ এবং লাদাখের আকসাই চীন অঞ্চলে সংঘটিত এই যুদ্ধে ভারত চরম সামরিক বিপর্যয়ের সম্মুখীন হয়, যা কূটনৈতিক সম্পর্ককে ১৯৭৬ সাল পর্যন্ত স্তব্ধ করে রাখে।
(iii) প্রতিবেশী অঞ্চলে চীনের সামরিক উপস্থিতি: পাকিস্তান, মায়ানমার ও বাংলাদেশের সাথে চীনের সামরিক সহায়তা চুক্তি এবং পাকিস্তানের পারমাণবিক কর্মসূচিতে চীনের সাহায্য ভারতের নিরাপত্তা উদ্বেগের অন্যতম কারণ হিসেবে বিবেচিত হয়।
সম্পর্কের উন্নতি ও সহযোগিতার সাম্প্রতিক ক্ষেত্রসমূহ:
(i) রাজীব গান্ধীর চীন সফর: ১৯৮৮ সালের ডিসেম্বরে ভারতের তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী রাজীব গান্ধীর ঐতিহাসিক চীন সফর সীমান্ত বিরোধ একপাশে রেখে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে সুদূরপ্রসারী ভূমিকা রাখে।
(ii) সীমান্ত শান্তি ও কূটনৈতিক সমঝোতা: ১৯৮১ সাল থেকে শুরু হওয়া ধারাবাহিক আলোচনার ফলশ্রুতিতে উভয় দেশ সীমান্ত বরাবর শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে চুক্তি সম্পাদন করে।
(iii) বাণিজ্যিক বৃদ্ধি: ১৯৯২ সালে দুই দেশের বাণিজ্য ছিল মাত্র ৩৩৮ মিলিয়ন ডলার, যা ২০০৬ সালে বেড়ে ১৮ বিলিয়ন ডলার অতিক্রম করে এবং বার্ষিক বৃদ্ধি দাঁড়িয়েছে প্রায় ৩০ শতাংশ।
(iv) বৈশ্বিক ও পরিবেশগত ইস্যুতে একাত্মতা: বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থায় উন্নত দেশগুলির অর্থনৈতিক প্রভাব মোকাবিলায় এবং বিশ্ব জলবায়ু পরিবর্তনের মতো আন্তর্জাতিক ইস্যুতে ভারত ও চীন আন্তর্জাতিক মঞ্চে একই ধরনের যৌথ নীতি গ্রহণ করেছে।
৫। ১৯৪৮ সালের ‘মার্শাল পরিকল্পনা’ কী? এটি কীভাবে ইউরোপীয় সংহতি ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন গঠনে সাহায্য করেছিল?
উত্তরঃ ‘১৯৪৮ সালের ‘মার্শাল পরিকল্পনা: দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর (১৯৪৫) পশ্চিম ইউরোপীয় দেশগুলির অর্থনীতি ও পরিকাঠামো সম্পূর্ণ ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়। বিধ্বস্ত ইউরোপকে কমিউনিস্ট বা সাম্যবাদী প্রভাব থেকে রক্ষা করা এবং ইউরোপীয় অর্থনীতিকে দ্রুত পুনরুজ্জীবিত করার উদ্দেশ্যে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী জর্জ মার্শাল যে বিপুল আর্থিক সহায়তা প্রকল্প ঘোষণা করেন, তা ‘মার্শাল পরিকল্পনা’ নামে পরিচিত।
ইউরোপীয় সংহতি ও ইইউ গঠনে এর ভূমিকা:
(i) ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা গঠন ১৯৪৮: মার্শাল পরিকল্পনার অধীনে প্রাপ্ত মার্কিন সাহায্য সুসংগঠিতভাবে বণ্টন ও ব্যবহারের জন্য ১৯৪৮ সালে ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থা’ প্রতিষ্ঠিত হয়।
(ii) অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিকাশ: এই সংস্থার মাধ্যমে পশ্চিম ইউরোপের দেশগুলি বাণিজ্য শিথিলকরণ এবং পারস্পরিক আর্থিক সহযোগিতার একটি যৌথ মঞ্চ লাভ করে।
(iii) রাজনৈতিক সংহতির পথ সুগম: এর ধারাবাহিকতায় ১৯৪৯ সালে ‘কাউন্সিল অব ইউরোপ’ গঠিত হয়, যা ইউরোপীয় রাষ্ট্রগুলির মধ্যে রাজনৈতিক সহযোগিতার ভিত্তি স্থাপন করে।
(iv) ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভিত্তিপ্রস্তর: পরবর্তীতে ১৯৫৭ সালের রোম চুক্তির মাধ্যমে ‘ইউরোপীয় অর্থনৈতিক সমাজ’ এবং অবশেষে ১৯৯২ সালের মাসট্রিচট চুক্তির মাধ্যমে ‘ইউরোপীয় ইউনিয়ন’ গঠিত হয়।

