Class 11 Political Science Important Chapter 20 উন্নয়ন Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Political Science Important Chapter 20 উন্নয়ন Solutions and select need one. Class 11 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Political Science Important Notes Bengali Medium.
Class 11 Political Science Important Chapter 20 উন্নয়ন
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Political Science Important Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Political Science Additional Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
উন্নয়ন
Chapter: 20
| Part – 2: রাজনৈতিক তত্ত্ব |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১।’উন্নয়ন’ বা ‘উন্নতি’ বলতে মানুষের মনের কোন ধরনের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পায়?
উত্তরঃ উন্নয়ন বা উন্নতির ধারণা বলতে মানুষের সুজীবন যাপনের এক শক্তিশালী স্পৃহা বা আকাঙ্ক্ষাকে বোঝায়।
২। উন্নয়নের এই স্পৃহা মানুষের ক্ষেত্রে কীসের চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করে?
উত্তরঃ মানুষের উন্নতির আকাঙ্ক্ষা বা স্পৃহা হলো মানব ইতিহাসের এবং মানুষের সকল কার্যকারিতার একটি প্রধান চালিকাশক্তি।
৩। প্রচলিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় সমাজের সব শ্রেণির মানুষের ভূমিকা কীভাবে দেখা হতো?
উত্তরঃ প্রচলিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় বা পদ্ধতিতে সাধারণ জনগণকে বা নীচতলার জনগণকে উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার না করে কেবল উন্নয়নের বিষয়বস্তু বা নিছক উপভোক্তা হিসেবে দেখা হতো।
৪। বৃহৎ বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতাকারীরা বিকল্প হিসেবে কীসের প্রস্তাব করেন?
উত্তরঃ বৃহৎ বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতাকারীরা উন্নয়ন প্রচেষ্টার বিকল্প হিসেবে একগুচ্ছ ক্ষুদ্র বাঁধ নির্মাণ করার প্রস্তাব করেন।
৫। বিকল্প ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পগুলোর সুবিধা কী কী?
উত্তরঃ বিকল্প ক্ষুদ্র সেচ প্রকল্পগুলো সাধারণত অল্প ব্যয়ে তৈরি করা সম্ভব হয়,এগুলো স্থানীয় পর্যায়ে কাজ করে এবং এর ফলে অল্প পরিমাণে বা খুব কম বাস্তুচ্যুতি ঘটে।
৬। পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় কোন ধরনের শক্তির উৎসের ব্যবহার বাড়ানো উচিত?
উত্তরঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা ও সংরক্ষণের জন্য নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসসমূহ যথা সম্ভব বেশি ব্যবহার করা উচিত।
৭। উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নবীকরণযোগ্য শক্তির বিকল্প কিছু উদাহরণ কী কী?
উত্তরঃ বৃষ্টির জল সংগ্রহ, সৌরশক্তি, বায়ো-গ্যাস প্রকল্প এবং ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্প ইত্যাদি হলো নবীকরণযোগ্য শক্তির কিছু উদাহরণ।
৮। বিকল্প উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের জন্য কীসের প্রয়োজন?
উত্তরঃ বিকল্প উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সফল বাস্তবায়নের জন্য দেশের সর্বত্র সর্বস্তরের জনগণ এবং সরকারের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় সহযোগিতার প্রয়োজন।
৯। বিকল্প উন্নয়ন পরিকল্পনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে কোন পদ্ধতি গ্রহণ করা উচিত?
উত্তরঃ এই পরিকল্পনায় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি বা সকলের সম্মিলিত মতামত গ্রহণ করা আবশ্যক।
১০। উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সামাজিক ও পরিবেশগত পরিণামের দিকে রাষ্ট্রকে মনোযোগ দিতে বাধ্য করার প্রধান মাধ্যম কী?
উত্তরঃ উন্নয়ন প্রক্রিয়ার সামাজিক ও পরিবেশগত বিভিন্ন কুফল বা পরিণামের দিকে রাষ্ট্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করার প্রধান মাধ্যম হলো বিভিন্ন গণআন্দোলন বা আন্দোলনসমূহ।
১১। উন্নয়ন বিতর্ক আমাদের কোন কোন রাজনৈতিক মূল ধারণাকে প্রসারিত করতে সাহায্য করে?
উত্তরঃ এই উন্নয়ন বিতর্ক অধিকার, স্বাতন্ত্র্য এবং ন্যায় সম্পর্কে আমাদের সনাতন ধারণাকে আরও প্রসারিত করতে সাহায্য করে।
১২। উন্নয়ন বিতর্ক রাজনৈতিক তত্ত্বের কোন কোন ধারণাকে পুনঃ ব্যাখ্যা করেছে?
উত্তরঃ উন্নয়ন বিতর্ক ও প্রক্রিয়া রাজনৈতিক তত্ত্বের সমতা, গণতন্ত্র এবং অধিকারের মতো ধারণাগুলোকে পুনঃ ব্যাখ্যা করেছে।
১৩। মানুষের ক্রিয়াকলাপের প্রভাব পরিবেশের কোন কোন স্তরে পড়ে?
উত্তরঃ মানুষের বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের প্রভাব এই বিশ্বের সমগ্র মনুষ্যজাতি এবং অন্যান্য সকল প্রাণীজাতির ওপর পড়ে।
১৪। পরিবেশ ও মহাবিশ্বের অংশ হিসেবে মানুষের নিজেকে কীভাবে দেখা উচিত?
উত্তরঃ মানুষকে নিজেকে এই বিশাল মহাবিশ্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে, কারণ মানুষের ভাগ্য মহাবিশ্বের সামগ্রিক ভাগ্যের সঙ্গে জড়িত।
১৫। ভবিষ্যতের উন্নয়নের জন্য মানুষের কীভাবে অগ্রসর হওয়া উচিত?
উত্তরঃ মানুষের কেবল বর্তমানের তাৎক্ষণিক চাহিদা মেটানো নয়,বরং দীর্ঘমেয়াদি পরিবেশগত ও সামাজিক স্বার্থের কথা মনে রেখে অত্যন্ত সাবধানে অগ্রসর হওয়া উচিত।
দীর্ঘ প্রশ্ন ও উত্তর।
১। উন্নয়নের বিকল্প মডেল বা পদ্ধতিতে নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং ক্ষুদ্র প্রকল্পের ভূমিকা আলোচনা করো।
উত্তরঃ বিকল্প উন্নয়ন মডেলে নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলোর কার্যকারিতা ও ভূমিকা নিচে বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
(i) বিকল্প উন্নয়ন দৃষ্টিভঙ্গির পটভূমি ও প্রয়োজনীয়তাঃ সাধারণত প্রচলিত উন্নয়ন প্রকল্পগুলো ছিল উপর থেকে চাপিয়ে দেওয়া, অত্যন্ত ব্যয়বহুল এবং পরিবেশের অপচয়কারী প্রযুক্তি-চালিত প্রক্রিয়া। এই ধরনের শাসন বা উন্নয়ন মডেল সাধারণ মানুষকে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ না দিয়ে কেবল তাদের নিছক উপভোক্তা হিসেবে গণ্য করত। এর বিপরীতে বিকল্প উন্নয়ন মডেলটি পরিবেশগত ক্ষতি সর্বনিম্ন পর্যায়ে নামিয়ে আনার চেষ্টা করে।
(ii) বৃহৎ প্রকল্পের বিকল্প হিসেবে ক্ষুদ্র প্রকল্পের অপরিহার্যতাঃ অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা গেছে যে বৃহৎ বাঁধ বা বড় শিল্প প্রকল্পের মতো বড় বড় উন্নয়ন প্রচেষ্টা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি সাধন করার পাশাপাশি লক্ষ লক্ষ মানুষকে উচ্ছেদ ও বাস্তুচ্যুত করেছে। এই কারণে বৃহৎ বাঁধ প্রকল্পের বিরোধিতাকারীরা বিকল্প হিসেবে একগুচ্ছ ক্ষুদ্র বাঁধ এবং ছোট ছোট সেচ প্রকল্পের সপক্ষে জোরালো যুক্তি উপস্থাপন করেন। এই বিকল্প ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলোর বেশ কিছু অনন্য সুবিধা রয়েছে,যেমনঃ
অল্প ব্যয়ঃ বৃহৎ প্রকল্পের তুলনায় এই ক্ষুদ্র প্রকল্পগুলো বাস্তবায়নে অত্যন্ত কম আর্থিক ব্যয় হয়।
সামান্য বাস্তুচ্যুতিঃ এগুলোর মাধ্যমে অতি সামান্য পরিমাণে বা প্রায় কোনো বাস্তুচ্যুতি ছাড়াই উন্নয়ন সম্পন্ন করা সম্ভব হয়, ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ব্যাহত হয় না।
(iii) নবীকরণযোগ্য শক্তি এবং পরিবেশ সংরক্ষণঃ বিকল্প উন্নয়ন মডেলের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হলো প্রকৃতির ভারসাম্য বজায় রাখা এবং প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষতিসাধন না করা। এর জন্য অনবীকরণযোগ্য বা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে নবীকরণযোগ্য শক্তির উৎসগুলো যথাসম্ভব বেশি মাত্রায় ব্যবহার করার ওপর জোর দেওয়া হয়।
সোর্সে বর্ণিত এ ধরনের কিছু নবীকরণযোগ্য ও পরিবেশবান্ধব প্রকল্পের চমৎকার উদাহরণ নিচে দেওয়া হলোঃ
বৃষ্টির জল সংগ্রহ এবং সৌরশক্তি: জলের অপচয় রোধ করতে বৃষ্টির জল সংরক্ষণ এবং দূষণহীন শক্তির জন্য সৌরশক্তির ব্যবহার বাড়ানো প্রয়োজন।
বায়ো-গ্যাস প্রকল্প ও ক্ষুদ্র জলবিদ্যুৎ প্রকল্পঃ স্থানীয় পর্যায়ে কোনো দূষণ না ছড়িয়ে জ্বালানি ও বিদ্যুতের চাহিদা মেটানোর ক্ষেত্রে এগুলো অত্যন্ত বড় ভূমিকা পালন করে।
২। বিকল্প জীবনযাত্রা এবং সুজীবনযাপনের ধারণাটির ওপর রাজনৈতিক তত্ত্বের দৃষ্টিভঙ্গি ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ সোর্সের তথ্যের ভিত্তিতে এই বিষয়ে রাজনৈতিক তত্ত্বের বহুমাত্রিক দৃষ্টিভঙ্গি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলোঃ
(i) অনবীকরণযোগ্য সম্পদ ও জীবনযাত্রা প্রণালীর পরিবর্তনঃ আধুনিক বিশ্বে প্রচলিত উন্নয়ন প্রক্রিয়াটি মূলত বস্তুগত ভোগ বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অতি ব্যবহারের ওপর প্রতিষ্ঠিত, যা ব্যাপকভাবে অনবীকরণযোগ্য সম্পদের ব্যবহারের সঙ্গে জড়িত। কিন্তু পরিবেশের ক্রমাগত অবনতি রোধ ও ভারসাম্য রক্ষার জন্য এই অনবীকরণযোগ্য সম্পদের চাহিদা হ্রাস করা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।
(ii) পছন্দের স্বাধীনতা বনাম নিম্নমানের জীবনযাত্রার দ্বন্দ্বঃ জীবনযাত্রার পরিবর্তনের এই বিষয়টি রাজনৈতিক তত্ত্বে এক অত্যন্ত জটিল ও কৌতুকপূর্ণ পরিস্থিতি বা বিতর্কের সৃষ্টি করে। পরিবেশ সংরক্ষণের স্বার্থে যখন জনগণকে তাদের অনবীকরণযোগ্য সম্পদের ভোগ বা আধুনিক সুযোগ-সুবিধা কিছুটা হ্রাস করতে বলা হয়, তখন সাধারণ জনগণের মনে হতে পারে যে তাদের একটি ‘নিম্নমানের জীবনযাত্রা প্রণালী’ বা অনুন্নত জীবনযাপন অবলম্বন করতে বলা হচ্ছে।
(iii) বিকল্প জীবনযাত্রার প্রকৃত অর্থ এবং সুজীবনযাপনের বিকল্প দৃষ্টিভঙ্গিঃ রাজনৈতিক তত্ত্বে এই আপাত দ্বন্দ্বের একটি অত্যন্ত সুন্দর ও গঠনমূলক সমাধান দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক তাত্ত্বিকদের মতে, বিকল্প জীবনযাত্রার সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনার অর্থ মানুষকে কোনো নিম্নমানের জীবনযাপনে বাধ্য করা বা তাদের স্বাধীনতা কেড়ে নেওয়া নয়।
(iv) সমতা, অধিকার ও গণতন্ত্রের পুন ব্যাখ্যাঃ উন্নয়ন ও জীবনযাত্রার এই গভীর বিতর্কটি রাজনৈতিক তত্ত্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও মৌলিক ধারণাগুলোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত বা পুনঃ ব্যাখ্যা করতে বাধ্য করেছে। এই প্রক্রিয়ায় সমতা, গণতন্ত্র এবং অধিকারের মতো বিষয়গুলোকে চিরাচরিত আইনি কাঠামোর বাইরে এনে পরিবেশগত ও সামাজিক প্রেক্ষাপটে পুনঃ ব্যাখ্যা করা হয়েছে।
৩। উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব আলোচনা করো।
উত্তরঃ উন্নয়নের লক্ষ্য অর্জনে সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় গণতান্ত্রিক পদ্ধতি এবং জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণের গুরুত্ব আলোচনা করা হলোঃ
(i) ওপর থেকে চাপানো নীতির সীমাবদ্ধতা দূরীকরণঃ চিরাচরিত বা প্রচলিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় নীতি বা পরিকল্পনাগুলো সাধারণত ওপর তলার শাসক বা বিশেষজ্ঞদের দ্বারা তৈরি করে সাধারণ মানুষের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হতো। এই পদ্ধতিতে সাধারণ মানুষ বা সমাজের নীচতলার জনগণকে উন্নয়নের সক্রিয় অংশীদার হিসেবে না দেখে, তাদের কেবল উন্নয়নের বিষয়বস্তু বা নিছক নিষ্ক্রিয় উপভোক্তা হিসেবে গণ্য করা হতো।
(ii) সরকার ও জনগণের মধ্যে উচ্চ মাত্রার সহযোগিতা প্রতিষ্ঠাঃ উন্নয়নের বিকল্প ও আধুনিক মডেলের সফল বাস্তবায়নের জন্য দেশের সর্বত্র সর্বস্তরের জনগণ এবং সরকারের মধ্যে উচ্চ মাত্রায় সহযোগিতার প্রয়োজন রয়েছে। যখন রাষ্ট্রের প্রতিটি স্তরের সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় সাধারণ জনগণের মতামতকে গুরুত্ব দেওয়া হয়,তখন সরকার ও জনগণের মধ্যে একটি আস্থার সম্পর্ক তৈরি হয়।
(iii) সক্রিয় অংশগ্রহণ ও সামাজিক সহমত গঠনঃ উন্নয়ন প্রক্রিয়ায় মানুষকে কেবল নিষ্ক্রিয় উপভোক্তা মনে না করে যদি নীতি নির্ধারণের ক্ষেত্রে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণকারী হিসেবে দেখা হয়, তবে দেশের মানুষের মধ্যে সহজে সামাজিক সহমতে পৌঁছানো সম্ভব হয়। স্থানীয় মানুষ যখন বুঝতে পারে যে কোনো প্রকল্পে তাদের নিজস্ব মতামত ও অভিজ্ঞতার মূল্যায়ন করা হচ্ছে, তখন তারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেই প্রকল্পের উন্নয়নকে নিজেদের দায়িত্ব বলে মনে করে।
(iv) রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাসমূহের সম্প্রসারণঃ উন্নয়নমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক পদ্ধতি ব্যবহারের মাধ্যমে রাজনৈতিক তত্ত্বের অধিকার, স্বাতন্ত্র্য এবং সামাজিক ন্যায় সম্পর্কে আমাদের প্রচলিত সনাতন ধারণাগুলো আরও বেশি প্রসারিত হয়।
৪। উন্নয়ন প্রক্রিয়া কীভাবে সমতা,গণতন্ত্র ও অধিকারের মতো রাজনৈতিক তত্ত্বের মূল ধারণাগুলোকে নতুনভাবে সংজ্ঞায়িত করেছে?
উত্তরঃ প্রচলিত উন্নয়ন ব্যবস্থার নানা সামাজিক ও পরিবেশগত বিরূপ অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক তত্ত্বের মৌলিক ধারণাগুলো এক নতুন মাত্রা লাভ করেছে। পূর্বে উন্নয়ন বলতে কেবল অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও আধুনিকীকরণকে বোঝানো হলেও, বর্তমানকালের উন্নয়ন বিতর্ক সমতা, গণতন্ত্র এবং অধিকারের মতো বিষয়গুলোকে নতুন আঙ্গিকে ও গভীরভাবে সংজ্ঞায়িত করতে বাধ্য করেছে।
এই রূপান্তর প্রক্রিয়াটি বিস্তারিত আলোচনা করা হলোঃ
(i) অধিকারের ধারণার সম্প্রসারণ ও জীবন-জীবিকার অধিকারঃ সনাতন রাজনৈতিক তত্ত্বে অধিকার বলতে মূলত ব্যক্তিগত স্বাধীনতা, বাকস্বাধীনতা বা ভোটের অধিকারের মতো নাগরিক অধিকারগুলোকে বোঝানো হতো। কিন্তু উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ফলে যখন লক্ষ লক্ষ মানুষ বাস্তুচ্যুত হতে শুরু করে, তখন অধিকারের ধারণাটি আরও প্রসারিত হয়ে ওঠে।
(ii) সমতার ধারণার নতুন মাত্রা ও পরিবেশগত সমতাঃ পূর্বে সমতা বলতে কেবল আইনের চোখে সমান সুযোগ বা সমান রাজনৈতিক মর্যাদাকে বোঝানো হতো। কিন্তু আধুনিক উন্নয়ন বিতর্ক দেখিয়েছে যে, প্রচলিত উন্নয়ন প্রক্রিয়ার ফলে সমাজে অসমতা আরও বৃদ্ধি পেয়েছে।
(iii) গণতন্ত্রের পুনঃ সংজ্ঞা ও তৃণমূলের সক্রিয় অংশগ্রহণঃ গণতন্ত্রের চিরাচরিত অর্থ ছিল নির্দিষ্ট সময় অন্তর ভোট প্রদান এবং প্রতিনিধি নির্বাচন করা। কিন্তু উন্নয়ন প্রক্রিয়ার অভিজ্ঞতা শাসন ব্যবস্থার এই ধারণাকে বদলে দিয়েছে। এখন বলা হচ্ছে যে, কেবল প্রতিনিধি নির্বাচন করলেই প্রকৃত গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাহয় না। সফল ও প্রকৃত উন্নয়নের জন্য সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় জনগণের সরাসরি ও সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে।
(iv) সামাজিক ও পরিবেশগত ন্যায়বিচারঃ উন্নয়ন বিতর্কের ফলে রাজনৈতিক তত্ত্বে ন্যায়বিচারের ধারণার সাথে পরিবেশগত ন্যায়বিচারের ধারণাটি যুক্ত হয়েছে। মানুষের অপরিকল্পিত ক্রিয়াকলাপের ফলে প্রাকৃতিক ভারসাম্য যেভাবে নষ্ট হচ্ছে, তাতে দরিদ্র দেশ ও মানুষেরা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
৫। পরিবেশগত সচেতনতা এবং দীর্ঘমেয়াদি টেকসই স্বার্থের ক্ষেত্রে মানুষের করণীয় কী হওয়া উচিত?
উত্তরঃ উন্নয়ন বা উন্নতির উদ্দেশ্যে মানুষ যে সব প্রযুক্তি ও পরিবেশগত পরিবর্তন সৃষ্টি করেছে,তার মারাত্মক নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিশ্বজুড়ে অন্যান্য মনুষ্যজাতি এবং সমগ্র প্রাণীজগতের ওপর। এই কারণে মানুষকে নিজেকে এই বিশাল মহাবিশ্বের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে দেখতে হবে, কারণ আমাদের ভাগ্য সমগ্র মহাবিশ্বের সামগ্রিক ভারসাম্যের সঙ্গেই জড়িত। আমাদের প্রতিটি ক্রিয়াকলাপ কেবল অন্যদেরই প্রভাবিত করে না,বরং তা আমাদের নিজেদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সম্ভাবনার ওপরও গভীর প্রভাব ফেলে। অতএব, আমাদের কেবল তাৎক্ষণিক বা বর্তমানের চাহিদা পূরণের পেছনে না ছুটে,পরিবেশ ও সমাজের দীর্ঘমেয়াদি স্বার্থের কথা মাথায় রেখে অত্যন্ত সতর্কভাবে এবং চিন্তাভাবনা করে অগ্রসর হতে হবে।


