SEBA Class 10 Geography Important Chapter 2 পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Important Chapter 2 পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Elective Geography Additional Question Answer.
SEBA Class 10 Geography Important Chapter 2 পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Important Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography Additional Solutions in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
পরিবেশ এবং পারিবেশিক ভূগোলের ধারণা
Chapter: 2
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। পরিবেশের উপাদানসমূহ প্রধানত কয়টি মণ্ডলের অন্তর্গত?
উত্তরঃ পরিবেশের উপাদানসমূহ প্রধানত চারটি মণ্ডলের অন্তর্গত।
২। স্থলমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের কত শতাংশ ব্যাপ্ত করে আছে?
উত্তরঃ স্থলমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ শতাংশ ব্যাপ্ত করে আছে।
৩। জলমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের কত শতাংশ ব্যাপ্ত করে আছে?
উত্তরঃ জলমণ্ডল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭১ শতাংশ ব্যাপ্ত করে আছে।
৪। বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে কত উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে?
উত্তরঃ বায়ুমণ্ডল ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে আছে।
৫। হোমো সেপিয়েনস বলতে প্রধানত কাকে বোঝায়?
উত্তরঃ হোমো সেপিয়েনস বলতে জীবমণ্ডলের অন্তর্গত বিখ্যাত মানুষ প্রজাতিকে বোঝায়।
৬। নদী উপত্যকার মাটি সাধারণত কেমন প্রকৃতির হয়ে থাকে?
উত্তরঃ নদী উপত্যকার মাটি সাধারণত পলিযুক্ত হয়ে থাকে।
৭। মধ্য অক্ষাংশের ঘাস পরিপুর্ণ অঞ্চলে কোন ধরনের মাটি পাওয়া যায়?
উত্তরঃ মধ্য অক্ষাংশের ঘাস পরিপুর্ণ অঞ্চলে প্রধানত শর্নোজেম নামের মাটি পাওয়া যায়।
৮। উচ্চ অক্ষাংশের শীতল ও আর্দ্র পরিবেশে গড়ে ওঠা অম্লধর্মী মাটিকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ উচ্চ অক্ষাংশের শীতল ও আর্দ্র পরিবেশে গড়ে ওঠা অম্লধর্মী মাটিকে পডজল বলা হয়।
৯। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোনো অঞ্চলের মোট মাটিকালির কত শতাংশে উদ্ভিদের আবরণ থাকা প্রয়োজন?
উত্তরঃ পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার জন্য কোনো অঞ্চলের মোট মাটিকালির প্রায় ৩৩ শতাংশে উদ্ভিদের আবরণ থাকা প্রয়োজন।
১০। পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে কমপক্ষে কত শতাংশ বনাঞ্চলের আবরণ থাকা দরকার?
উত্তরঃ পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষার্থে কমপক্ষে ৬০ শতাংশ বনাঞ্চলের আবরণ থাকা দরকার।
১১। ১৯৯৯ সনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতের সর্বমোট মাটিকালির কত শতাংশে উদ্ভিদের আবরণ ছিল?
উত্তরঃ ১৯৯৯ সনের প্রতিবেদন অনুযায়ী ভারতের সর্বমোট মাটিকালির মাত্র ১৯.৩৯ শতাংশে উদ্ভিদের আবরণ ছিল।
১২। ভারতে অরণ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা দুটি প্রধান আন্দোলনের নাম কী কী?
উত্তরঃ ভারতে অরণ্য সংরক্ষণের উদ্দেশ্যে গড়ে ওঠা দুটি প্রধান আন্দোলন হলো চিপকো এবং সাইলেন্ট ভ্যালি আন্দোলন।
১৩। পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে চলে আসা বর্তমানের ভূতাত্ত্বিক যুগটিকে কী বলা হয়?
উত্তরঃ পৃথিবী সৃষ্টির পর থেকে চলে আসা বর্তমানের ভূতাত্ত্বিক যুগটিকে হল’সিন বলা হয়।
১৪। বাষ্পীভবনের জন্য প্রতি গ্রাম জল কত ক্যালোরি শক্তি শোষণ করে?
উত্তরঃ বাষ্পীভবনের জন্য প্রতি গ্রাম জল প্রায় ৫৮০ ক্যালোরি শক্তি শোষণ করে।
১৫। ১৯৯১ সনে ফিলিপিন্সের কোন আগ্নেয়গিরি থেকে প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৯১ সনে ফিলিপিন্সের মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরি থেকে প্রচুর পরিমাণে সালফার ডাই-অক্সাইড নির্গত হয়েছিল।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। পৃথিবীর পরিবেশের চারটি প্রধান মণ্ডল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করো।
উত্তরঃ পৃথিবীর পরিবেশের উপাদানসমূহ প্রধানত চারটি মণ্ডলের অন্তর্গত। এই চারটি মণ্ডল সম্পর্কে সংক্ষেপে আলোচনা করা হলো:
(i) স্থলমণ্ডল: শিলা, খনিজ, বালি, মাটি ইত্যাদির দ্বারা গঠিত পৃথিবীর স্থলভাগকে স্থলমণ্ডল বলে। এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২৯ শতাংশ স্থান জুড়ে ব্যাপ্ত রয়েছে।
(ii) জলমণ্ডল: পৃথিবীর সাগর ও মহাসাগরগুলোর দ্বারা জলমণ্ডল গঠিত। এছাড়া নদ-নদী, খাল-বিল, হ্রদ ইত্যাদি জলাশয়গুলোও জলমণ্ডলের অন্তর্গত। এটি ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৭১ শতাংশ স্থান জুড়ে ব্যাপ্ত রয়েছে।
(iii) জীবমণ্ডল: পৃথিবীর যেসকল অংশে জীব অর্থাৎ উদ্ভিদ এবং প্রাণীর অস্তিত্ব রয়েছে, সেগুলোকে নিয়ে জীবমণ্ডল গঠিত। সাগর-মহাসাগরের গভীরতা, স্থলপৃষ্ঠ ও তার কিছু মিটার নিচে এবং বায়ুমণ্ডলের নিম্ন অংশ জুড়ে জীবমণ্ডল বিস্তৃত।
(iv) বায়ুমণ্ডল: গ্যাসীয় পদার্থের যে গুরু স্তর পৃথিবীকে বেষ্টন করে আছে, তাকে বায়ুমণ্ডল বলে। এই স্তরটি ভূপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ৪৮০ কিলোমিটার উচ্চতা পর্যন্ত ছড়িয়ে রয়েছে।
২। নির্বনীকরণ বা বনানি ধ্বংস বলতে কী বোঝায়? এর প্রধান কারণ ও কুফলগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠের অরণ্য বা বনভূমি কেটে পরিষ্কার করার সামগ্রিক প্রক্রিয়াকে নির্বনীকরণ বা বনানি ধ্বংস বলা হয়। এটি বর্তমান পৃথিবীর অন্যতম প্রধান পারিবৈশিক সমস্যা এবং মানুষের আধুনিক অর্থনৈতিক উন্নয়ন প্রক্রিয়ার এক অত্যন্ত ক্ষতিকারক ফল।
এর ফলে সৃষ্ট নির্বনীকরণের প্রধান কারণগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
(i) জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও জনবসতির প্রসার: পৃথিবীর জনসংখ্যা অতি দ্রুত হারে বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে মানুষের বসতি স্থাপনের জন্য বাসস্থানের ব্যাপক অভাব দেখা দিয়েছে। এই বর্ধিত জনসংখ্যার পুনর্বাসন এবং তাদের কৃষিকাজের জন্য নতুন জমি তৈরির উদ্দেশ্যে প্রতিনিয়ত বিশাল বিশাল বনাঞ্চল কেটে পরিষ্কার করা হচ্ছে।
(ii) শিল্পোদ্যোগের বিকাশ ও নগরায়ন: আধুনিক যুগে ব্যাপক শিল্পায়ন ও নগরায়নের ফলে নতুন নতুন কলকারখানা ও শহর গড়ে উঠছে। এই নির্মাণ কাজের জন্য বনাঞ্চল ধ্বংস করে জমি অধিগ্রহণ করা হচ্ছে।
(iii) বনজ সম্পদের চাহিদা বৃদ্ধি: মানুষের উন্নত জীবনযাত্রার প্রয়োজনে কাঠ ও অন্যান্য বনজ সম্পদের ব্যবহার অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে রেলপথ নির্মাণ এবং কাগজ তৈরির কারখানায় কাঁচামাল সরবরাহের জন্য বনাঞ্চলের গাছপালা ব্যাপক হারে কেটে ফেলা হচ্ছে।
(iv) যাতায়াত ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন: পার্বত্য অঞ্চল ও সমতলে যাতায়াত এবং পরিবহনের দ্রুত উন্নয়নের জন্য রাস্তাঘাট ও রেলপথ তৈরি করা হচ্ছে, যার ফলে বনাঞ্চল ভেঙে ধ্বংস করা হচ্ছে।
এই কুফলগুলো বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
(i) গ্রিনহাউস গ্যাস বৃদ্ধি ও গোলকীয় উত্তাপ: বায়ুমণ্ডলে থাকা কার্বন ডাই-অক্সাইড গ্যাস উদ্ভিদের মাধ্যমে প্রাকৃতিক উপায়ে শোষিত হয়। কিন্তু বনভূমি ধ্বংসের ফলে উদ্ভিদের পরিমাণ কমে যাওয়ায় বায়ুমণ্ডলে কার্বন ডাই-অক্সাইড এবং অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(ii) বনভূমির পরিমাণ আশঙ্কাজনকভাবে হ্রাস: নির্বনীকরণের ফলে অতীতে থাকা পৃথিবীর বিস্তীর্ণ বনভূমি ক্রমান্বয়ে সংকুচিত হয়ে পড়েছে। বর্তমানে ভূপৃষ্ঠের বনাঞ্চলের পরিমাণ হ্রাস পেয়ে মাত্র ১৫ শতাংশে নেমে এসেছে।
(iii) পার্বত্য অঞ্চলের বিপর্যয় ও ভূমিস্খলন: পার্বত্য অঞ্চলগুলোতে পরিবেশের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখার জন্য কমপক্ষে ৬০ শতাংশ বনভূমির আবরণ থাকা প্রয়োজন। এর ফলে পাহাড়ি এলাকার মাটির ধারণ ক্ষমতা কমে গিয়ে জলের চরম অভাব দেখা দিচ্ছে।
৩। গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি বলতে কী বোঝায়? এর সম্ভাব্য প্রভাব বা ফলাফলগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ মানুষের বিভিন্ন পরিবেশ-বিরোধী কার্যকলাপের ফলে বায়ুমণ্ডলে বাসগৃহ বা গ্রিনহাউস গ্যাসের পরিমাণ বৃদ্ধি পেয়ে পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলের গড় তাপমাত্রা বৃদ্ধি পাওয়ার ঘটনাকে গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধি বলা হয়।
(i) গোলকীয় উত্তাপ বৃদ্ধির সম্ভাব্য ফলাফল: বায়ুমণ্ডলের ২ থেকে ৩ ডিগ্রি উষ্ণতা বৃদ্ধি পেলে উত্তর ও দক্ষিণ মেরুর বরফ গলতে শুরু করবে। এর ফলে সাগর-মহাসাগরের জলের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে। সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা ১ মিটার বৃদ্ধি পেলে উপকূল অঞ্চলের প্রায় ৫ নিযুত বর্গ কিলোমিটার ভূমি জলমগ্ন হয়ে পড়বে এবং সুন্দরবন, টুভালু, মালদ্বীপের মতো দ্বীপ ও ব-দ্বীপগুলি সাগরের জলে তলিয়ে যাবে।
(ii) কৃষি ও উদ্ভিদের ওপর প্রভাব: উত্তাপ বৃদ্ধির ফলে শস্যের উৎপাদন মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে, যা দুর্ভিক্ষের কারণ হতে পারে। বিজ্ঞানীদের মতে, বর্তমান হারে উত্তাপ বৃদ্ধি হতে থাকলে আগামী ২৫-৩০ বছরের ভেতর আমেরিকা যুক্তরাষ্ট্রের শস্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৭০ শতাংশ হ্রাস পেতে পারে।
৪। পরিবেশের জৈব ও অজৈব উপাদান বলতে কী বোঝায়? উদাহরণসহ আলোচনা করো।
উত্তরঃ জৈব ও অজৈব উপাদান সম্পর্কে উদাহরণসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১। জৈব উপাদান: জীবমণ্ডলের অন্তর্গত উদ্ভিদ, অণুজীব থেকে শুরু করে অতি ক্ষুদ্র কীট-পতঙ্গ এবং বৃহৎ আকারের প্রাণী পর্যন্ত সকল জীবন্ত বা সজীব উপাদানই জৈব উপাদানের অন্তর্ভুক্ত। পৃথিবীতে জলবায়ু এবং পরিবেশের ভিন্নতা অনুযায়ী এই জৈব উপাদানসমূহের বিস্তরণে ব্যাপক আঞ্চলিক বৈচিত্র্য দেখতে পাওয়া যায়।
(i) উদ্ভিদজগতের বৈচিত্র্য ও উদাহরণ: পৃথিবীর নিরক্ষীয় বা বিষুবীয় অঞ্চলে অধিক উত্তাপ এবং প্রচুর বৃষ্টিপাতের কারণে উদ্ভিদজগতের এক অনন্য বিকাশ ঘটেছে। এখানকার ঘন নিরক্ষীয় চিরসবুজ অরণ্যে প্রধানত তিনটি স্তরের গাছ-গাছলা দেখতে পাওয়া যায়। প্রথম স্তরের বা নিচের উদ্ভিদের উচ্চতা মাটি থেকে প্রায় ১০ মিটারের মধ্যে থাকে এবং মধ্য ও উপরের স্তরের উদ্ভিদের উচ্চতা অনেক বেশি হয়।
২। অজৈব উপাদান: স্থলমণ্ডল, জলমণ্ডল, জীবমণ্ডল এবং বায়ুমণ্ডলের অন্তর্গত সমস্ত প্রাণহীন বা জড় উপাদানকে অজৈব উপাদান বলা হয়। মাটি, জল, বায়ু এবং সৌরশক্তি হলো অজৈব উপাদানের প্রধান অংশ। পৃথিবীর ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চলে এই উপাদানগুলোর ধর্ম ও গুনাগুণ পরিবর্তিত হতে দেখা যায়।
(i) মাটি এবং এর উদাহরণ: ভূতাত্ত্বিক গঠন, ভূমির ঢাল, বৃষ্টিপাত এবং উদ্ভিদের আবরণের মতো নানা বিষয়ের ওপর ভিত্তি করে মাটির গুণাগুণ নির্ধারিত হয়। নদী উপত্যকা অঞ্চলে নদী দ্বারা বাহিত বালি, কাদা এবং উদ্ভিদের অবশিষ্টাংশের দ্বারা উর্বর পলিযুক্ত মাটি গঠিত হয়।
৫। বায়ু দূষণ বলতে কী বোঝায়? বায়ু দূষণের প্রাকৃতিক ও মানবসৃষ্ট কারণগুলি আলোচনা করো।
উত্তরঃ ভূপৃষ্ঠকে বেষ্টন করে থাকা বায়ুমণ্ডলে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান একটি নির্দিষ্ট অনুপাতে থাকে, যেমন— নাইট্রোজেন অক্সিজেন আর্গন এবং কার্বন ডাই-অক্সাইড। কোনো কারণে বায়ুমণ্ডলের এই স্বাভাবিক উপাদানগুলির ভারসাম্য নষ্ট হয়ে যখন কোনো দূষিত পদার্থ বায়ুর সাথে মিশে এর স্বাভাবিক ধর্মের পরিবর্তন ঘটায় এবং জীবজগতের ক্ষতিসাধন করে, তাকে বায়ু দূষণ বলা হয়।
বায়ু দূষণের কারণগুলিকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা যায়: প্রাকৃতিক কারণ এবং মানবসৃষ্ট কারণ।
এই কারণগুলি বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
(i) আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণ: বায়ু দূষণকারী প্রাকৃতিক কারকগুলির মধ্যে আগ্নেয়গিরির উদ্গীরণই প্রধান। আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাতের ফলে নির্গত ধোঁয়া, ছাই এবং বিভিন্ন বিষাক্ত গ্যাস বায়ুমণ্ডলে মিশে বায়ুকে দূষিত করে। উদাহরণস্বরূপ, ১৯৯১ সনে ফিলিপিন্সের মাউন্ট পিনাটুবো আগ্নেয়গিরি উদ্গীরণের ফলে প্রায় ১৫-২০ নিযুত টন সালফার ডাই-অক্সাইড গ্যাস বায়ুমণ্ডলে নির্গত হয়েছিল।
(ii) দাবানল বা বনের আগুন: বনের শুষ্কতার কারণে বা প্রাকৃতিক ঘর্ষণে বনাঞ্চলে যে আগুন লাগে, তা থেকে প্রচুর পরিমাণে ধোঁয়া ও ছাই উৎপন্ন হয়। এই ধোঁয়া বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ে বাতাসকে মারাত্মকভাবে দূষিত করে তোলে।
মানবসৃষ্ট কারণসমূহ:
(i) জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার: শিল্পোদ্যোগের প্রসার, কলকারখানা এবং যাতায়াতের জন্য যানবাহনে কয়লা ও খনিজ তেলের মতো জীবাশ্ম জ্বালানির অতিরিক্ত ব্যবহারই বায়ু দূষণের মূল কারণ। এই জ্বালানি দহনের ফলে বায়ুমণ্ডলে কার্বন মনোক্সাইড নাইট্রোজেন ডাই-অক্সাইড হাইড্রোকার্বন ওজোন এবং সালফার ডাই-অক্সাইড এর মতো বিষাক্ত গ্যাস ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে।
(ii) শিল্পায়ন ও নগরায়ন: ব্যাপক শিল্পোদ্যোগ ও অনিয়ন্ত্রিত নগরায়নের ফলে শহরগুলোতে কলকারখানা ও যানবাহনের সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে, যা বায়ুমণ্ডলে দূষিত পদার্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

