SEBA Class 10 Geography Chapter 6 ভারতবর্ষের আঞ্চলিক ভূগোল

SEBA Class 10 Geography Chapter 6 ভারতবর্ষের আঞ্চলিক ভূগোল Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 10 Geography Chapter 6 ভারতবর্ষের আঞ্চলিক ভূগোল Solutions and select need one. Class 10 Elective Geography Notes in Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 10 Geography Question Answer.

SEBA Class 10 Geography Chapter 6 ভারতবর্ষের আঞ্চলিক ভূগোল

Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines.SEBA Class 10 Geography Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 10 Geography in Bengali for All Chapters, You can practice these here.

Chapter: 6

Textual Question Answer

১। ভারতবর্ষের একটি সংক্ষিপ্ত পরিচয় তুলে ধরো।

উত্তরঃ ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক পরিচয়: ভারতবর্ষ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে এবং এশিয়া মহাদেশের দক্ষিণাংশে অবস্থিত একটি বিশাল দেশ। এটি পৃথিবীর অন্যতম একটি বৃহৎ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।

(i) প্রাকৃতিক ও জলবায়ুগত বৈচিত্র্য: ভারতবর্ষ প্রাকৃতিক বৈচিত্র্যে ভরপুর। দেশের একদিকে যেমন বরফাবৃত হিমালয় অঞ্চলের অতি শীতল জলবায়ু অনুভূত হয়,তেমনি রাজস্থানের শুকনো বালিময় মরু অঞ্চলে অতিশয় গরম জলবায়ু দেখা যায়। দেশের কোনো কোনো অঞ্চলে অতিবৃষ্টির ফলে বন্যা হয়,আবার কোনো কোনো অঞ্চলে অনাবৃষ্টির জন্য জলের চরম অভাব দেখা যায়। 

(ii) ভূ-প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য: পর্বত, পাহাড়, মালভূমি, সমভূমি ও প্লাবনভূমি ইত্যাদি বিভিন্ন প্রকার ভূ-অবয়বের সমন্বয়ে ভারতের বৈচিত্র্যপূর্ণ ভূখণ্ডটি গঠিত হয়েছে।

(iii) সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্য: এই প্রাকৃতিক বৈচিত্র্য দেশে সামাজিক ও অর্থনৈতিক ভিন্নতা সৃষ্টি করেছে। এখানে অতিমাত্রায় পিছিয়ে থাকা জনজাতীয় সমাজের বিপরীতে উন্নত আধুনিক নাগরিক সমাজ গড়ে উঠেছে। 

(iv) ঐক্যের ঐতিহ্য: এত বিভিন্নতা ও বৈচিত্র্য থাকা সত্ত্বেও ভারতবর্ষ একটি অখণ্ড রাষ্ট্র। ঐক্য এবং সংহতি এই দেশের মূল ঐতিহ্য। প্রাচীনকাল থেকে চলে আসা সরল সাংস্কৃতিক ভিত্তি, মৌসুমি জলবায়ু দ্বারা সৃষ্ট প্রাকৃতিক পরিবেশ, আধুনিক যোগাযোগ ব্যবস্থা এবং একক রাষ্ট্রনীতি ভারতীয়দের মধ্যে গভীর ঐক্যের মনোভাব গড়ে তুলেছে।

২। ভারতের অবস্থিতি এবং আকার সম্পর্কীয় বৈশিষ্ট্য আলোচনা করো।

উত্তরঃ ভারতের অবস্থিতি এবং আকার সম্পর্কীয় বৈশিষ্ট্য:

(ক) অবস্থিতি সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য:

(i) মহাজাগতিক ও মহাদেশীয় অবস্থান: ভারতবর্ষ পৃথিবীর উত্তর গোলার্ধে এবং এশিয়ার দক্ষিণাংশে অবস্থিত।

(ii) অক্ষাংশ ও দ্রাঘিমাংশগত বিস্তার: ভারতবর্ষ মূলত ৮°৪’২৮” উত্তর অক্ষরেখা থেকে ৩৭°১৭’৫৩” উত্তর অক্ষরেখা এবং ৬৮°৭’৩৩” পূর্ব দ্রাঘিমারেখা থেকে ৯৭°২৪’৪৭” পূর্ব দ্রাঘিমারেখার মধ্যে অবস্থিত।

(iii) কর্কটক্রান্তি রেখা: ২৩ ১/২° উত্তর অক্ষরেখা বা কর্কটক্রান্তি রেখা ভারতের ঠিক মধ্যভাগ দিয়ে গেছে। এই রেখাটি দেশকে উত্তর এবং দক্ষিণ—এই দুটি সমান ভাগে বিভক্ত করেছে।

(iv) চতুঃসীমা বা সীমানা: ভারতের উত্তরে সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা এবং চীন দেশ, দক্ষিণে ভারত মহাসাগর এবং শ্রীলঙ্কা; পূর্বে বঙ্গোপসাগর এবং মিয়ানমার এবং পশ্চিমে আরব সাগর ও পাকিস্তান অবস্থিত।

(খ) আকার সংক্রান্ত বৈশিষ্ট্য:

(i) আয়তন ও বৈশ্বিক স্থান: আকারে পৃথিবীর দেশসমূহের মধ্যে ভারতের স্থান সপ্তম। এর মোট আয়তন (মাটিকালি) ৩২,৮৭,২৬৩ বর্গ কিলোমিটার, যা পৃথিবীর মোট মাটিকালির ২.২ শতাংশ স্থান জুড়ে রয়েছে।

(ii) অন্যান্য দেশের সাথে তুলনা: ভারতের বিশাল ভূখণ্ডটি ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য থেকে প্রায় ১৩ গুণ এবং জাপান থেকে প্রায় ৯ গুণ বড়।

(iii) দৈর্ঘ্য ও প্রস্থ: উত্তর-দক্ষিণে ভারতের মূল ভূখণ্ডের দৈর্ঘ্য প্রায় ৩,২১৪ কিলোমিটার এবং পূর্ব-পশ্চিমে এর প্রস্থ প্রায় ২,৯৩৩ কিলোমিটার।

(iv) উপকূল রেখা: পূর্বে বঙ্গোপসাগর, পশ্চিমে আরব সাগর এবং দক্ষিণে ভারত মহাসাগর দ্বারা পরিবেষ্টিত হওয়ায় ভারতীয় মূল ভূ-ভাগে প্রায় ৬,১০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সুদীর্ঘ উপকূল রেখা সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বন্দর গড়ে উঠেছে।

৩। ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে ভারতকে কয়টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়? চিত্রসহ বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ ভূ-প্রকৃতির ভিত্তিতে ভারতকে ৪টি অঞ্চলে ভাগ করা যায়। 

এই প্রধান ৪টি ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চল সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:

(i) উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল:

অবস্থান ও বিস্তার: এই অঞ্চলটি ভারতের উত্তর সীমায় কাশ্মীরের নগ্ন পর্বত থেকে শুরু করে পূর্ব সীমান্তে অরুণাচল প্রদেশ পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চওড়ায় ২৪০ কিমি থেকে ৫০০ কিমি পর্যন্ত হয়ে থাকে। এই সুউচ্চ পার্বত্য অঞ্চলটি প্রায় ৫,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে রয়েছে এবং এর উচ্চতা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮,০০০ মিটারেরও বেশি। 

উৎপত্তি: ভূ-বিজ্ঞানীদের মতে, টারসিয়ারি যুগে টেথিস নামক সাগরের নিচে জমা হওয়া পলিরাশিতে উত্তর ও দক্ষিণের প্রাচীন ভূখণ্ডের (আঙ্গারা ল্যান্ড ও গন্ডোয়ানা ল্যান্ড) চাপের ফলে এই ভঙ্গিল পর্বতশ্রেণির সৃষ্টি হয়েছে। 

শ্রেণিবিভাগ: সমান্তরালভাবে হিমালয় পর্বতমালাকে তিনটি প্রধান সারিতে ভাগ করা যায়— 

১। উচ্চ হিমালয়: উত্তরের সর্বোচ্চ অংশ, যা সর্বদা বরফে ঢাকা থাকে এবং গড় উচ্চতা প্রায় ৬,০০০ মিটার। 

২। নিম্ন হিমালয়: উচ্চ হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত, গড় উচ্চতা ৪,০০০ মিটার এবং চওড়ায় ৬০-৮০ কিমি। 

৩। বহিঃহিমালয় বা শিবালিক: সবচেয়ে দক্ষিণে অবস্থিত অপেক্ষাকৃত ছোটো পর্বতশ্রেণি, যার গড় উচ্চতা প্রায় ১,০০০ মিটার।

(ii) উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল:

অবস্থান ও বিস্তার: উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণের দাক্ষিণাত্য মালভূমির মধ্যবর্তী বিশাল অঞ্চলটিই হলো উত্তর ভারতের সমভূমি। এটি পূর্বে অসম থেকে পশ্চিমে পাকিস্তানের সীমা পর্যন্ত প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং চওড়ায় ২৪০ কিমি থেকে ৩২০ কিমি। এর মোট ক্ষেত্রফল প্রায় ৭,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার। 

(iii) দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চল:

গঠন ও আকৃতি: উত্তর ভারতের সমভূমির দক্ষিণে অবস্থিত এই মালভূমিটি দেখতে অনেকটা ত্রিভুজের মতো। এটি অত্যন্ত প্রাচীন এবং কঠিন রূপান্তরিত শিলা দ্বারা গঠিত।

সীমানা: এর উত্তরে বিন্ধ্যা, সাতপুরা, মহাদেব ও মহাকাল পর্বত, পশ্চিমে পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণি এবং পূর্বে পূর্বঘাট পর্বতশ্রেণি অবস্থিত। 

নদী ও ঢাল: এই মালভূমিটি মূলত পশ্চিম থেকে পূর্ব দিকে ঢালু। তাই দাক্ষিণাত্যের অধিকাংশ নদী (যেমন— মহানদী, গোদাবরী, কৃষ্ণা, পেন্নার ও কাবেরী) পূর্ব দিকে প্রবাহিত হয়ে বঙ্গোপসাগরে পতিত হয়েছে। 

(iv) উপকূল অঞ্চল: দাক্ষিণাত্য মালভূমির পূর্ব ও পশ্চিম সীমানায় সমুদ্র ঘেঁষে দীর্ঘ ও সংকীর্ণ উপকূলীয় সমতল ভূমি অবস্থিত, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৩০ থেকে ৫০ মিটার উঁচু। 

৪। ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলসমূহের সংক্ষিপ্ত বর্ণনা দাও।

উত্তরঃ ভারতের ভূ-প্রাকৃতিক অঞ্চলের সংক্ষিপ্ত বিবরণ দেওয়া হলো:

(ক) উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল:

অবস্থান ও বিস্তার: ভারতের উত্তর সীমান্তে অবস্থিত এই পার্বত্য অঞ্চলটি পশ্চিমে কাশ্মীরের নঙ্গ পর্বত থেকে শুরু করে পূর্বে অরুণাচল প্রদেশের পূর্ব সীমা পর্যন্ত বিস্তৃত। এটি প্রায় ২,৫০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৪০ থেকে ৫০০ কিলোমিটার পর্যন্ত চওড়া। এই বিশাল পার্বত্য অঞ্চলটি প্রায় ৫,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অবস্থান করছে।

উশ্রেণিবিভাগ:

(i) উচ্চ হিমালয়: এটি উত্তরতম পর্বতশ্রেণী, যার গড় উচ্চতা প্রায় ৬,০০০ মিটার। এটি অত্যন্ত খাড়া এবং সারা বছর বরফাবৃত থাকে।

(ii) নিম্ন হিমালয়: উচ্চ হিমালয়ের দক্ষিণে অবস্থিত এই শ্রেণীর গড় উচ্চতা প্রায় ৪,০০০ মিটার এবং এটি চওড়ায় ৬০–৮০ কিলোমিটার।

(খ) উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চল:

অবস্থান ও বিস্তার: উত্তরের হিমালয় পার্বত্য অঞ্চল এবং দক্ষিণের মালভূমি অঞ্চলের মধ্যবর্তী স্থানে এই বিস্তীর্ণ সমভূমিটি অবস্থিত। এটি পূর্বে আসাম থেকে পশ্চিমে পাকিস্তান সীমান্ত পর্যন্ত প্রায় ২,৪০০ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ২৪০ থেকে ৩২০ কিলোমিটার চওড়া। এর মোট আয়তন প্রায় ৭,০০,০০০ বর্গ কিলোমিটার।

উপবিভাগসমূহ: 

(i) পশ্চিম সমভূমি ও থর মরুভূমি: ভারতের পশ্চিমাংশে রাজস্থান সমভূমি অবস্থিত, যা মূলত শুকনো ও বালিময় থর মরুভূমির অংশ।

(ii) পাঞ্জাব-হরিয়ানা সমভূমি: শতদ্রু, বিপাশা ও রাবি নদীর পলি দ্বারা গঠিত অত্যন্ত উর্বর সমভূমি।

(গ) দাক্ষিণাত্য মালভূমি অঞ্চল:

অবস্থান ও গঠন: উত্তর ভারতের সমভূমি অঞ্চলের দক্ষিণ থেকে শুরু করে কন্যাকুমারী পর্যন্ত বিস্তৃত এই অঞ্চলটি আকৃতিতে অনেকটা ত্রিভুজের মতো। এটি মূলত অত্যন্ত প্রাচীন ও কঠিন রূপান্তরিত ও আগ্নেয় শিলা দ্বারা গঠিত।

প্রধান পর্বত ও সীমান্তসমূহ:

(i) এর উত্তরে মালব মালভূমি: বিন্ধ্য পর্বত এবং ছোটনাগপুর মালভূমি অবস্থিত। বিন্ধ্য, সাতপুরা, মহাদেব এবং মহাকাল পর্বতশ্রেণী এই মালভূমি অঞ্চলটিকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি অংশে বিভক্ত করেছে।

(ii) পশ্চিম সীমান্ত: এখানে রয়েছে পশ্চিমঘাট পর্বতশ্রেণী, যা তুলনামূলকভাবে খাড়া ও উঁচূ।

৫। ভারতের জলবায়ুর বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে লেখো।

উত্তরঃ ভারতের জলবায়ুর প্রধান বৈশিষ্ট্যগুলো সংক্ষেপে দেওয়া হলো:

(i) মৌসুমী বায়ুর আধিপত্য: ভারতের জলবায়ু মূলত মৌসুমী বায়ু দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। বছরের ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে এই বায়ুর প্রবাহ এবং দিক পরিবর্তনের ওপরই দেশের সামগ্রিক জলবায়ু ও আবহাওয়া নির্ভর করে। 

(ii) অক্ষাংশগত ও উত্তাপের বৈচিত্র্য: কর্কটক্রান্তি রেখা (২৩ ১/২° উত্তর অক্ষরেখা) ভারতের প্রায় মধ্যভাগ দিয়ে অতিক্রম করায় দেশটিকে উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুটি ভাগে ভাগ করেছে। এর উত্তর অংশটি সমমণ্ডলে এবং দক্ষিণ অংশটি গ্রীষ্মমণ্ডলে অবস্থিত হওয়ায় সাধারণত উত্তর ভারতের তুলনায় দক্ষিণ ভারতে গরম বেশি থাকে। 

(iii) উচ্চতার প্রভাব: একই অক্ষাংশে অবস্থিত হওয়া সত্ত্বেও শুধুমাত্র উচ্চতার পার্থক্যের জন্য স্থানসমূহের জলবায়ুর মধ্যে যথেষ্ট প্রভেদ দেখা যায়। যেমন—অক্ষাংশ এক হলেও উচ্চতার কারণে আগ্রা এবং দার্জিলিংয়ের জলবায়ুর মধ্যে বিশাল পার্থক্য লক্ষ্য করা যায়। 

(iv) হিমালয় পর্বতের প্রতিবন্ধকতা: উত্তরের সুউচ্চ হিমালয় পর্বতমালা উত্তর দিক থেকে আসা অতি শীতল বাতাসকে বাধা প্রদান করে। এর ফলে উত্তর ভারতের জলবায়ু যতটা শীতল হওয়ার কথা ছিল, ততটা শীতল হতে পারে না। 

(v) সমভাবাপন্ন জলবায়ু: সাগরের সন্নিকটে অবস্থিত হওয়ায় উপকূলবর্তী অঞ্চলগুলির জলবায়ু সমভাবাপন্ন প্রকৃতির হয়। উদাহরণস্বরূপ, সমুদ্রের পাড়ে অবস্থিত হওয়ায় মুম্বইয়ের জলবায়ু অত্যন্ত সমভাবাপন্ন এবং এখানে উত্তাপের তারতম্য খুব কম। 

৬। মৌসুমী বায়ু ভারতের জলবায়ুর ওপর কী ভাবে প্রভাব ফেলে লিখো।

উত্তরঃ ভারতের জলবায়ুর ওপর মৌসুমী বায়ুর প্রভাব অত্যন্ত গভীর ও সুদূরপ্রসারী। বছরের বিভিন্ন সময়ে ভারতে মূলত দুটি বিপরীতমুখী মৌসুমী বায়ু প্রবাহিত হয়, যা দেশের আবহাওয়াকে সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ করে। 

(i) দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাব:

আর্দ্রতা ও আগমন: গ্রীষ্মকালে দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ু আরব সাগরের ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়ে প্রচুর পরিমাণে জলীয় বাষ্প বহন করে ভারতে প্রবেশ করে।

পশ্চিম উপকূলে প্রবল বৃষ্টিপাত: এই জলীয় বাষ্পযুক্ত বায়ু ভারতে প্রবেশ করে প্রথমে পশ্চিমঘাট পর্বতে বাধা পায় এবং ওপরে উঠে শীতল হয়ে কঙ্কণ ও মালাবার উপকূলে বছরে ৩০০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত ঘটায়।

উত্তর ও উত্তর-পূর্ব ভারতে বৃষ্টিপাত: এই বায়ুর একটি শাখা বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় আরও জলীয় বাষ্প সংগ্রহ করে ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে প্রবেশ করে এবং মেঘালয় মালভূমিতে বাধাপ্রাপ্ত হয়। এর ফলে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে পৃথিবীর অন্যতম সর্বাধিক প্রায় ১,২৫০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত হয়। এছাড়া আসাম এবং হিমালয়ের নিম্নভাগেও এই বায়ুর প্রভাবে প্রচুর বৃষ্টি হয়।

(ii) উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর প্রভাব:

শুষ্কতা ও শীতলতা: শীতকালে মধ্য এশিয়া থেকে শীতল ও শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ু ভারতের দিকে প্রবাহিত হয়। হিমালয় পর্বতমালা এই শীতল বাতাসকে বাধা দেওয়ার কারণে ভারতে তীব্র শীত অনুভূত হয় না। স্থলভাগ থেকে আসায় এই বায়ু সাধারণত শুকনো থাকে এবং এর ফলে কোনো বৃষ্টিপাত হয় না।

করমণ্ডল উপকূলে বৃষ্টিপাত: তবে এই শুকনো বাতাসের একটি অংশ বঙ্গোপসাগরের ওপর দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু জলীয় বাষ্প আহরণ করে। এই আর্দ্র বায়ু যখন পূর্বঘাট পর্বতে ধাক্কা খায়, তখন ভারতের পূর্ব উপকূলের বিশেষ করে করমণ্ডল উপকূলে শীতকালেও বৃষ্টিপাত ঘটায়।

(iii) ভারতীয় কৃষির ওপর প্রভাব: ভারতবর্ষ একটি কৃষিপ্রধান দেশ এবং এদেশের কৃষির উন্নতি মৌসুমী বায়ুর ওপর সরাসরি নির্ভরশীল। মৌসুমী বায়ুর সময়মতো আগমন ও বৃষ্টিপাতের ফলেই দেশে শস্যের উৎপাদন বৃদ্ধি পায় এবং কৃষিকাজ ভালো হয়। এক্ষেত্রে শুষ্ক উত্তর-পূর্ব মৌসুমী বায়ুর চেয়ে প্রচুর বৃষ্টিপাত সৃষ্টিকারী দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমী বায়ুর প্রভাব ভারতের অর্থনীতি ও কৃষিতে অনেক বেশি।

৭। কি কি প্রকারের উদ্ভিদ ভারতবর্ষে পাওয়া যায়? চিত্র এঁকে উল্লেখ করো?

উত্তরঃ ভূ-প্রকৃতি, জলবায়ু এবং মাটির গুনাগুণের তারতম্যের ওপর ভিত্তি করে সমগ্র ভারতবর্ষের উদ্ভিদ বা অরণ্যসমূহকে প্রধানত ছয়টি ভাগে ভাগ করা যায়:

(i) চির সবুজ উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: যেসকল অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ ২০০ সেন্টিমিটারের বেশি এবং বার্ষিক গড় তাপমাত্রা ২৫° সে. থেকে ২৭° সে. থাকে, সেখানে এই উদ্ভিদ দেখা যায়। 

প্রধান বৈশিষ্ট্য: এখানকার বনভূমি অত্যন্ত গভীর ও ঘন অরণ্যে ঘেরা থাকে। গাছগুলো সাধারণত লম্বা হয়ে থাকে এবং প্রায় ৪৫ মিটার পর্যন্ত উঁচুতে বৃদ্ধি পায়। বছরের কোনো ঋতুতেই এগুলোর পাতা একসাথে ঝরে যায় না বলে এদের চির সবুজ উদ্ভিদ বলে। 

(ii) মৌসুমী উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: বার্ষিক ১০০ সেন্টিমিটার থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং প্রায় ২৭° সে. গড় তাপমাত্রা যুক্ত অঞ্চলে এই অরণ্য গড়ে ওঠে। 

প্রধান বৈশিষ্ট্য: এই উদ্ভিদ পুরোপুরি মৌসুমী ঋতুর বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। শীতকালে জলীয় বাষ্পের অভাবে মাটি শুকিয়ে যাওয়ার কারণে সাধারণত শীতকালে এই গাছগুলোর পাতা সম্পূর্ণ ঝরে পড়ে। তাই এদের পর্ণপাতী অরণ্যও বলা হয়।

(iii) কাঁটাযুক্ত মরু উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: যেসকল অঞ্চলে বার্ষিক বৃষ্টিপাতের পরিমাণ অত্যন্ত কম— অর্থাৎ ৫০ সেন্টিমিটারের কম, সেখানে এই ধরনের কাঁটাযুক্ত মরু উদ্ভিদ জন্মায়। 

প্রধান বৈশিষ্ট্য: এই শুষ্ক অঞ্চলে তাপমাত্রা খুব বেশি থাকে এবং জলের তীব্র অভাব দেখা যায়। বেঁচে থাকার সুবিধার্থে এই উদ্ভিদের পাতাগুলো চওড়া না হয়ে ছোটো ও শক্ত কাঁটায় রূপান্তরিত হয়, যাতে বাষ্পীভবন কম হয়। 

বিস্তার বা অবস্থান: রাজস্থানের পশ্চিমাংশের থর মরুভূমি এবং পাঞ্জাবের দক্ষিণ-পশ্চিমের শুষ্ক অঞ্চলে এই উদ্ভিদ পাওয়া যায়। 

(iv) তৃণজাতীয় উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: বার্ষিক ৫০ সেন্টিমিটার থেকে ১০০ সেন্টিমিটার মাঝারি বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে এই শ্রেণির ঘাস ও ছোটো ঝোপঝাড়ের সৃষ্টি হয়। 

প্রধান বৈশিষ্ট্য: এই অঞ্চলে বড়ো অরণ্য গড়ে ওঠে না। ছোটো ছোটো ঝোপযুক্ত গাছপালা এবং ঘাসই এখানকার প্রধান বৈশিষ্ট্য। তবে হিমালয়ের পাদদেশে তরাই অঞ্চলের স্যাঁতসেঁতে পরিবেশে নল, খাগড়া ও ইকরার মতো ঘাস জাতীয় উদ্ভিদ জন্মায়,যা প্রায় ২ থেকে ৩ মিটার পর্যন্ত উঁচু হয়। 

(v) ব-দ্বীপীয় উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত জল ও জোয়ার-ভাটার পলিযুক্ত উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলে এই উদ্ভিদ গড়ে ওঠে। এটি মূলত ম্যানগ্রোভ অরণ্য নামে পরিচিত।

অবস্থান: কচ্ছ উপসাগরের উপকূল অঞ্চল এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের ব-দ্বীপ অঞ্চলে এই উদ্ভিদ প্রধানত দেখা যায়।

(vi) পার্বত্য উদ্ভিদ:

জলবায়ু ও বৈশিষ্ট্য: পাহাড়-পর্বতের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃষ্টি, উত্তাপ ও মাটির পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন উচ্চতায় ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ দেখা যায়।

উচ্চতাভিত্তিক বিন্যাস:

১,০০০ মিটার পর্যন্ত শিওয়ালিকা অঞ্চলে মৌসুমি অরণ্য (শাল, বাঁশ)। 

১,০০০–২,০০০ মিটার উচ্চতায় চওড়া পাতার ওক ও সরলবর্গীয় চিরসবুজ উদ্ভিদ।

১,০০০–৩,০০০ মিটার উচ্চতায় কাশ্মীর, হিমাচল ও দার্জিলিং হিমালয়ে দেবদারু ও সরলবর্গীয় বৃক্ষ।

৮। ভারতে প্রাপ্ত উদ্ভিদের প্রকারগুলো আলোচনা করো?

উত্তরঃ ভারতে প্রাপ্ত উদ্ভিদের প্রকারগুলো আলোচনা হলো:

(i) চিরসবুজ উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: বার্ষিক ২০০ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত এবং ২৫° সেলসিয়াস থেকে ২৭° সেলসিয়াস গড় উত্তাপযুক্ত অঞ্চলে এই উদ্ভিদ জন্মে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য: এগুলি সাধারণত অত্যন্ত উচু এবং ঘন অরণ্যের সৃষ্টি করে। বছরের কোনো ঋতুতেই এই অরণ্যের সমস্ত গাছের পাতা একসঙ্গে ঝরে যায় না বলে একে চিরসবুজ উদ্ভিদ বলা হয়। বনের নিচের স্তরে বেত, বাঁশ,টেঁকী ও লতাজাতীয় ছোট উদ্ভিদ দেখা যায়।

(ii) মৌসুমী উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: বার্ষিক ১০০ থেকে ২০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাত এবং গড় ২৭° সেলসিয়াস উত্তাপযুক্ত অঞ্চলে এই অরণ্য গড়ে ওঠে।

প্রধান বৈশিষ্ট্য: এই উদ্ভিদ সম্পূর্ণভাবে মৌসুমী বৃষ্টির ওপর নির্ভরশীল। শীতকালে বৃষ্টিপাত ও উত্তাপ কম থাকায় মাটি শুষ্ক হয়ে পড়ে এবং বাষ্পীভবন রোধ করতে এই গাছগুলির পাতা শীতকালে ঝরে যায়।

(iii) কাঁটাযুক্ত মরু উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: বার্ষিক ৫০ সেন্টিমিটারের কম বৃষ্টিপাতযুক্ত মরু বা মরুপ্রায় অঞ্চলে, যেখানে উত্তাপ বেশি এবং মাটি বালুকাময়, সেখানে এই উদ্ভিদ জন্মায়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য: জলের অভাবের সাথে মানিয়ে নিতে এই গাছগুলির পাতা চওড়া না হয়ে ছোট, গোটানো এবং কাঁটাযুক্ত হয়।

(iv) তৃণজাতীয় উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: বার্ষিক ৫০ থেকে ১০০ সেন্টিমিটার বৃষ্টিপাতযুক্ত অঞ্চলে এই উদ্ভিদ দেখা যায়।

প্রধান বৈশিষ্ট্য: ছোট ছোট ঝোপঝাড়, ঘাস এবং কাঁটাযুক্ত গাছপালা এই শ্রেণীর অন্তর্গত। হিমালয়ের পাদদেশের তরাই অঞ্চলের সেঁতসেঁতে পরিবেশে ২-৩ মিটার উঁচু নল, খাগড়া, ইকরা ইত্যাদি ঘাসজাতীয় উদ্ভিদ প্রচুর পরিমাণে জন্মায়।

(v) ব-দ্বীপীয় উদ্ভিদ:

অনুকূল পরিবেশ: সমুদ্র উপকূলের লবণাক্ত জল ও জোয়ার-ভাটার পলিযুক্ত উর্বর ব-দ্বীপ অঞ্চলে এই উদ্ভিদ গড়ে ওঠে। এটি মূলত ম্যানগ্রোভ অরণ্য নামে পরিচিত।

প্রধান গাছ: সুন্দরী, তাল ও নারকেল এখানকার প্রধান উদ্ভিদ।

অবস্থান: কচ্ছ উপসাগরের উপকূল অঞ্চল এবং গঙ্গা-ব্রহ্মপুত্রের ব-দ্বীপ অঞ্চলে এই উদ্ভিদ প্রধানত দেখা যায়।

(vi) পার্বত্য উদ্ভিদ:

জলবায়ু ও বৈশিষ্ট্য: পাহাড়-পর্বতের উচ্চতা বৃদ্ধির সাথে সাথে বৃষ্টি, উত্তাপ ও মাটির পরিবর্তনের কারণে বিভিন্ন উচ্চতায় ভিন্ন ভিন্ন উদ্ভিদ দেখা যায়।

উচ্চতাভিত্তিক বিন্যাস:

১,০০০ মিটার পর্যন্ত শিওয়ালিকা অঞ্চলে মৌসুমি অরণ্য (শাল, বাঁশ)। 

১,০০০–২,০০০ মিটার উচ্চতায় চওড়া পাতার ওক ও সরলবর্গীয় চিরসবুজ উদ্ভিদ।

১,০০০–৩,০০০ মিটার উচ্চতায় কাশ্মীর, হিমাচল ও দার্জিলিং হিমালয়ে দেবদারু ও সরলবর্গীয় বৃক্ষ।

Leave a Reply

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top