Class 12 Logic and Philosophy Chapter 2 আগমনের ভিত্তি

Class 12 Logic and Philosophy Chapter 2 আগমনের ভিত্তি Question Answer to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Assam Board Bengali Medium Class 12 Logic and Philosophy Chapter 1 আগমন এবং এর প্রকার and select needs one.

Class 12 Logic and Philosophy Chapter 2 আগমনের ভিত্তি

Join Telegram channel
Follow us:
facebook sharing button
whatsappp sharing button
instagram sharing button

Also, you can read the AHSEC book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per AHSEC (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of AHSEC All Subject Solutions. Here we have given Assam Board Class 12 Logic and Philosophy Chapter 2 আগমনের ভিত্তি Bengali Medium Solutions for All Subject, You can practice these here.

আগমনের ভিত্তি

পাঠ:

অতি সংক্ষিপ্ত  উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তরঃ 

অতি সংক্ষিপ্ত  উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। আগমনের ভিত্তি কত প্রকারের ?

উত্তরঃ আগমনের ভিত্তি দুই প্রকারের।

প্রশ্ন ২। ‘ প্রকৃতির একরূপতা বৈচিত্র্য নেই ‘—- কথাটি তুমি মানো কি ?

উত্তরঃ না।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Join Now

প্রশ্ন ৩। কার্যকারণ নীতি হল আগমনের এক বস্তুগত ভিত্তি ‘—– তুমি একমত কি ?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ৪। —– পরিস্থিতির অধীনে প্রকৃতি একইভাবে আচরণ করে।

উত্তরঃ একই।

প্রশ্ন ৫। ‘ কারণ হল সদর্থক এবং নঞর্থক উপকারণের সমষ্টি—–কে বলেছিলেন ?

উত্তরঃ জে.এস.মিল।

প্রশ্ন ৬। কার মতে ‘ কারণ হল কার্যের নিয়ত পূর্ববর্তী ঘটনা ‘ ?

উত্তরঃ ডেভিড হিউম।

প্রশ্ন ৭। যদি একটি ঘটনাকে যে কোন পূর্ববর্তী ঘটনার কারণ বলা হয়, তবে ——- সৃষ্টি হয়।

উত্তরঃ কাকতালীয় দোষের।

প্রশ্ন ৮। কার মতে ‘ নিরীক্ষণ হল ঘটনার আবিষ্কার এবং পরীক্ষণ হল ঘটনার সৃষ্টি’ ?

উত্তরঃ বেইন।

প্রশ্ন ৯। কে বলেছিলেন—  ‘ নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের পার্থক্য প্রকারে নয়, কেবল মাত্রায় ভিন্ন’ ?

উত্তরঃ জেভনস্।

প্রশ্ন ১০। নিরীক্ষণের বিভিন্ন দোষগুলি কী কী ?

উত্তরঃ অনবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ।

প্রশ্ন ১১। যে কোন ঘটনার কারণ গুণগতভাবে কার্যের সমান কি ?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ১২। কার্যকারণের নীতি এবং প্রকৃতির একরূপতা বিধি- কোনটি আগমনের ভিত্তি ?

উত্তরঃ আগমনের আকারগত ভিত্তি।

প্রশ্ন ১৩। ‘ আগমনের বিরোধাভাস প্রকৃতির একরূপতা নীতির সাথে সংযোজিত’— শুদ্ধ কি ?

উত্তরঃ শুদ্ধ।

প্রশ্ন ১৪। ‘ আগমনের ভিত্তিই আগমনের সিদ্ধান্ত’— কোন তর্কশাস্ত্রবিদ এমন বলেছিলেন ?

উত্তরঃ জে. এস. মিল।

প্রশ্ন ১৫। ‘গুণগত দিক থেকে কারণ কার্যের শর্তহীন, অপরিবর্তনীয়, অব্যবহিত পূর্ববর্তী ঘটনা এবং পরিমাণগতভাবে কারণ এবং কার্য সমান ‘ —- এই উক্তির সাথে জড়িত তর্কশাস্ত্রবিদের নাম লেখো।

উত্তরঃ কারভেথ রীড।

প্রশ্ন ১৬। ‘ নিরীক্ষণ হল নিষ্ক্রিয় অভিজ্ঞতা অন্যদিকে পরীক্ষণ হল সক্রিয় অভিজ্ঞতা ‘— কার উক্তি ?

উত্তরঃ ষ্টকের উক্তি।

প্রশ্ন ১৭। ‘ কার্যকারণের নীতি হল আগমনের বস্তুগত ভিত্তি ‘– শুদ্ধ কি ?

উত্তরঃ না।

সংক্ষিপ্ত উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। আগমনের ভিত্তি বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ যে সমস্ত প্রক্রিয়া এবং বিধি – নিয়মের উপর ভিত্তি করে আগমন অনুমানের সিদ্ধান্তে একটি যথার্থ সামান্য বচন প্রতিষ্ঠা করা হয়, তাদেরকে আগমনের ভিত্তি বলা হয়। আগমনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হল—আগমনে যুক্তির আকারগত এবং বস্তুগত সত্যতা দুইই বিচার্য। তাই, আগমন অনুমান দুই প্রকার ভিত্তির উপর নির্ভর করে। যথা — আকারগত ভিত্তি এবং বস্তুগত ভিত্তি। আকারগত ভিত্তি হল — প্রকৃতির একরূপতা বিধি এবং কার্যকারণ বিধি। বস্তুগত ভিত্তি হল নিরীক্ষণ এবং পর্যবেক্ষণ।

প্রশ্ন ২। প্রকৃতির একরূপতা নীতি বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ প্রকৃতির একরূপতা নীতির অর্থ হল একই পরিস্থিতিতে প্রকৃতি একই রূপ আচরণ করে। প্রকৃতি নিয়মের রাজত্ব। প্রকৃতিতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। কোন আকস্মিক পরিস্থিতির বা কারণের উদ্ভব না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃতি কখনও নিজের নিয়মকে লংঘন করে না।

প্রশ্ন ৩। কারণ কী ?

উত্তরঃ বিভিন্ন তর্কবিজ্ঞানী কারণের বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। মিল কারণের দুটি সংজ্ঞা দিয়েছেন। প্রথমত :—- কারণ হল কার্যের অপরিবর্তনীয়, শর্তহীন, পূর্ববর্তী ঘটনা। দ্বিতীয়ত :— কারণ হল সদর্থক এবং নঞর্থক উপকারণসমূহের সমষ্টি। বেইনের মতে, কারণ হল কার্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকারণ বা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ সমষ্টি।

প্রশ্ন ৪। উপাদানগত কারণের সংজ্ঞা দাও।

উত্তরঃ যে উপাদান বা বস্তুর দ্বারা কোন কার্য উৎপাদন করা হয়, তাকে উপাদানগত বা বস্তুগত কারণ বলে। যেমন —- মাটি দিয়ে একটি পাত্র বানানো হল, এখানে মাটি হল পাত্রের বস্তুগত বা উপাদানগত কারণ।

প্রশ্ন ৫। কারণের নানাকারণবাদ মত বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ কারণের নানাকারণবাদ মতটির অর্থ হল এই যে বিভিন্ন কারণ থেকে বিভিন্ন সময়ে একই উৎপন্ন হতে পারে। যেমন, সূর্য,বাতি, মোমবাতি, বিজলী বাতি, টর্চলাইট ইত্যাদি থেকে আলো সৃষ্টি হয়। এখানে আলোটা যদি কার্য হয় তবে বিভিন্ন কারণগুলি হল সূর্য, বাতি, মোমবাতি, বিজলী বাতি , টর্চলাইট ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৬। এরিষ্টটলের মতে কারণ কত প্রকারের ? সেগুলি কী কী ?

উত্তরঃ এরিষ্টটলের মতে কারণ চার প্রকার। যথা — 

(১) বস্তুগত কারণ।

(২) আকারগত কারণ। 

(৩) নিমিত্ত কারণ। এবং 

(৪) চূড়ান্ত বা পরিণাম কারণ।

প্রশ্ন ৭। উপকারণের সংজ্ঞা দাও। বিভিন্ন প্রকারের উপকারণগুলি কী কী ?

উত্তরঃ কার্য উৎপাদনে কারণের মধ্যে যে গুলি ঘটনা অন্তর্ভুক্ত হয়ে থাকে সেগুলির প্রত্যেকটি এক একটি উপকারণ। কারভেথ রীডের মতে , উপকারণ হচ্ছে, কারণের অপরিহার্য অংশ।

উপকারণ দুই প্রকারের–

(১) অনুকূল বা সদর্থক উপকারণ

(২) প্রতিকূল বা নঞর্থক উপকারণ।

প্রশ্ন ৮। কারণের সংযোজন বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ যখন কয়েকটি কারণ সংযুক্তভাবে একটি জটিল কার্য সম্পাদন করে তখন সেই কারণগুলিকে কারণ সংযোজন বা কারণ সমন্বয় বলে। উদাহরণস্বরূপ— একটি ফুটবল ম্যাচ জিততে গেলে অনেকজন (১১ জন) খেলোয়াড়ের প্রয়োজন।

প্রশ্ন ৯। নিমিত্ত কারণের উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।

উত্তরঃ একটি কার্য সৃষ্টির জন্য পরিশ্রম, নৈপুণ্য ও শক্তির প্রয়োজন হয়। সেই পরিশ্রম ও শক্তিই হল কার্যের নিমিত্ত কারণ। যেমন একটি কাপড় তৈরি করতে তাঁতী যে শক্তি বা নিপুণতা প্রয়োগ করে তা হল কাপড়ের নিমিত্ত কারণ।

প্রশ্ন ১০। সরল পর্যবেক্ষণের দুটি সুবিধা উল্লেখ করো।

উত্তরঃ সরল পর্যবেক্ষণের বা নিরীক্ষণের দুটি সুবিধা হল—

(ক) নিরীক্ষণে আমরা কারণ থেকে কার্যে এবং কার্য থেকে কারণে যেতে পারি। অর্থাৎ নিরীক্ষণে ,কার্য জানা থাকলে কারণ অনুসন্ধান করতে পারি এবং কারণ জানা থাকলে কার্যও নির্ণয় করতে পারি।

(খ) নিরীক্ষণের স্থান পরীক্ষণের আগে। কোন ঘটনার পরীক্ষণের জন্য নিরীক্ষণের সাহায্যে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

প্রশ্ন ১১। প্রকৃতির একরূপতার অর্থ কত প্রকারের আছে ? সেগুলি কী কী ?

উত্তরঃ প্রকৃতির একরূপতা দুই প্রকারের—-

(১) সহ- অবস্থানগত একরূপতা। এবং

(২) পরম্পরাগত বা অনুক্রমিতার একরূপতা।

প্রশ্ন ১২। কার্য সংমিশ্রণের প্রকার কতটি এবং সেগুলি কী কী ?

উত্তরঃ কার্য সংমিশ্রণ দুই প্রকারের — 

(ক) সমগুণসম্পন্ন কার্য সংমিশ্রণ।

(খ) ভিন্নগুণসম্পন্ন কার্য সংমিশ্রণ।

প্রশ্ন ১৩। নানাকারণবাদ এবং কারণ সংযোজনের দুটি পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ নানাকারণবাদ এবং কারণ সংযোজনের দুটি পার্থক্য হল——

(১) নানাকারণবাদ মতে, কতগুলি কারণ স্বাধীনভাবে কাজ করে বিভিন্ন সময়ে একই কার্য উৎপাদন করে। অপরদিকে কারণ সমন্বয়ের মতে কতগুলি কারণ স্বাধীনভাবে কাজ করে একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন করতে পারে না।

(২) কার্যকারণ সম্বন্ধের ক্ষেত্রে নানা কারণবাদ একটি ভ্রান্ত ধারণা। কিন্তু কারণ সমন্বয় ভ্রান্ত ধারণা নয়।

প্রশ্ন ১৪। আগমনের বিরোধাভাস বলতে কী বোঝ ?

উত্তরঃ মিলের মতে, প্রকৃতির একরূপতা নীতি, আগমনের একটি পূর্বস্বীকৃত সত্য, একটি স্বতঃসিদ্ধ, মৌলিক নিয়ম, আগমনের ভিত্তি। মিল আবার বলেছেন,এই একরূপতা নীতি অবৈজ্ঞানিক আগমনের ফল। অর্থাৎ আগমনের ভিত্তি আগমনের সিদ্ধান্ত। মিলের এই  পরস্পর বিরোধী মতবাদকে আগমনের বিরোধাভাস বলে।

প্রশ্ন ১৫। প্রযোজক এবং সংস্থার মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করো।

উত্তরঃ প্রযোজক এবং সংস্থার মধ্যে পার্থক্য হল —–

যে শক্তি কোন ক্রিয়া বা কার্যকে সৃষ্টি করে তাকে প্রযোজক বলে। অপরদিকে প্রযোজকের কার্য উৎপাদন করার জন্য যে পারিপার্শ্বিক ঘটনার সমাবেশ হয় তাকে সংস্থা বলে।

উদাহরণস্বরূপ — একটি খড়ের গাদায় যদি একটি জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ছুঁড়ে ফেলা হয়, তাহলে আগুন জ্বলবে। এখানে ‘জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি ‘ হল প্রযোজক এবং খড়ের গাদায় হল সংস্থা।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। নিরীক্ষণের সাধারণ শর্তগুলি কী কী ?

উত্তরঃ নিরীক্ষণের সাধারণ শর্তগুলি হল——

(ক) বৌদ্ধিক শর্ত—– নির্ভুল পর্যবেক্ষককে বৌদ্ধিকভাবে সক্ষম হতে হবে।

(খ) দৈহিক শর্ত—– পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি অন্যতম দৈহিক শর্ত।

(গ) নৈতিক শর্ত—– পর্যবেক্ষণের নৈতিক শর্ত‌ হল নিরপেক্ষতা।

প্রশ্ন ২। নানাকারণবাদ হল কারণের প্রকৃতি সম্পর্কীয় একটি ভুল ধারণা। কেন ? 

উত্তরঃ নানাকারণবাদ কার্যকারণ সম্পর্কীয় একটি ভ্রান্ত ধারণা। নানাকারণবাদ মতে, বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণ একই কার্য উৎপাদন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ —- মৃত্যুর নানাবিধ কারণ থাকে। কিন্তু বিভিন্ন সময়ে মৃত্যুর বিভিন্ন কারণ থাকলেও প্রকৃতিগতভাবে এগুলি এক নয়। বিষক্রিয়া জনিত মৃত্যু,বার্ধক্যজনিত মৃত্যু থেকে প্রকৃতিগত ভাবে আলাদা। ব্যাধিজনিত কারণে মৃত্যু, আঘাতজনিত মৃত্যু থেকে পৃথক। প্রতিটি মৃত্যুর কতগুলি বৈশিষ্ট্য থাকে,যেগুলি অন্যান্য মৃত্যুর ক্ষেত্রে থাকে না। যদি প্রতিটি ক্ষেত্রে, মৃত্যুর প্রকৃতি এক‌‌‌ হত তাহলে ময়নাতদন্ত দ্বারা মৃত্যুর কারণ নির্ধারণ করা সম্ভব হত না। অতএব কারণের প্রকৃতি বিচার করলে দেখা যায় নানাকারণবাদ একটি ভ্রান্ত ধারণা।

প্রশ্ন ৩। প্রযোজক শক্তি এবং সংস্থার উদাহরণসহ সংজ্ঞা দাও।

উত্তরঃ শক্তির অবিনাশিতার সূত্র অনুযায়ী কোন একটি ঘটনার কারণের মধ্যে দুটি উপাদান থাকে —— 

(ক) প্রযোজক। এবং 

(খ) সংস্থা। 

যে শক্তি কোন ক্রিয়া বা কার্যকে সৃষ্টি করে, তাকে প্রযোজক বলে। অন্যদিকে কার্য উৎপাদন করার জন্য প্রযোজকের যে পারিপার্শ্বিক ঘটনার সমাবেশ হয় তাকে সংস্থা বলে। উদাহরণস্বরূপ — একটি জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি যদি একটি খড়ের গাদায় ছুঁড়ে ফেলা হয় তবে আগুন জ্বলবে। এখানে জ্বলন্ত দেশলাই কাঠি হল প্রযোজক এবং খড়ের গাদা হল সংস্থা।

প্রশ্ন ৪। কারণ সংযোজন বলতে কী বোঝ ? উদাহরণসহ ব্যাখ্যা করো।

অথবা

একটি উদাহরণসহ কারণ সমন্বয়ের সংজ্ঞা দাও।

উত্তরঃ যখন একাধিক কারণ সংযোজিত হয়ে একসাথে ক্রিয়া করে কোনো একটি জটিল কার্য সম্পাদন করে তখন সেই কারণগুলিকে কারণ সংযোজন বা কারণ সমন্বয় বলে। উদাহরণস্বরূপ — জল ,চাপাতা,চিনি ,দুধ, আগুন, কেটলি ইত্যাদি উপাদান মিলিয়ে একসাথে চা প্রস্তুত করা হয়। এদের কোন একটি এককভাবে চা তৈরি করতে পারে না।

প্রশ্ন ৫। পরীক্ষণের তুলনায় নিরীক্ষণের তিনটি সুবিধা উল্লেখ করো।

উত্তরঃ পরীক্ষণের তুলনায় নিরীক্ষণের সুবিধাগুলো হল—

(১) পরীক্ষণের তুলনায় নিরীক্ষণের পরিসর অধিক ব্যাপক । সকল বিষয়ে সকল ক্ষেত্রেই নিরীক্ষণ সম্ভব।

(২) নিরীক্ষণে আমরা কারণ থেকে কার্যে এবং কার্য থেকে কারণে যেতে পারি।

(৩) নিরীক্ষণের স্থান পরীক্ষণের আগে। কোন ঘটনার পরীক্ষণের জন্য নিরীক্ষণের সাহায্যে প্রাথমিক জ্ঞান অর্জন করতে হয়।

প্রশ্ন ৬। নিরীক্ষণের তুলনায় পরীক্ষণের চারটি সুবিধা উল্লেখ করো।

উত্তরঃ নিরীক্ষণের তুলনায় পরীক্ষণের চারটি সুবিধা হল—–

(১) পরীক্ষণের পুনরাবৃত্তি সম্ভব এবং এজন্য যতবার প্রয়োজন, ততবার একই বিষয়ে পরীক্ষণ করা যায়।

(২) পরীক্ষক পরীক্ষণীয় বিষয়কে পৃথকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(৩) পরীক্ষণে স্থিরভাবে ও শান্ত মনে পরীক্ষণ সম্ভব।

(৪) পরীক্ষণে যতবার প্রয়োজন পরিবেশের পরিবর্তন সম্ভব।

প্রশ্ন ৭। অনবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষের মধ্যে দুটি পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ অনবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণের মধ্যে পার্থক্য হল—–

(ক) অনবেক্ষণ বা অ- পর্যবেক্ষণ দোষে প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত বা পরিস্থিতির পর্যবেক্ষণ করা হয় না, কিন্তু ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণে ভুল পর্যবেক্ষণ অর্থাৎ একটি বস্তুর জায়গায় অন্য একটি বস্তু পর্যবেক্ষণ করা হয়।

(খ) অনবেক্ষণে প্রয়োজনীয় তথ্যসমূহ অজ্ঞাতসারেই থেকে যায় কিন্তু ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণে একটি তথ্যের জায়গায় অন্য তথ্য পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৮। সরল পর্যবেক্ষণ সম্পূর্ণরূপে নিষ্ক্রিয় অভিজ্ঞতা ‘— ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ ষ্টক এবং অন্যান্য তর্কবিদেরা এমন মন্তব্য করেন যে সরল পর্যবেক্ষণ একটি নিষ্ক্রিয় অভিজ্ঞতা আর পরীক্ষণ হল সক্রিয় অভিজ্ঞতা। তবে এ কথাটি সত্য নয় যে সরল পর্যবেক্ষণে পর্যবেক্ষক সম্পূর্ণ নিষ্ক্রিয় থাকেন। সরল পর্যবেক্ষণ হল বিশেষ উদ্দেশ্যমূলক প্রত্যক্ষ। নিরীক্ষণ নিয়ন্ত্রণাত্মক এবং সেজন্য নিরীক্ষক সেই সমস্ত ঘটনা প্রত্যক্ষ করেন, যেগুলির সঙ্গে জ্ঞাতব্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা আছে এবং তিনি অপ্রয়োজনীয় এবং অপ্রাসঙ্গিক বিষয় বর্জন করেন। কাজেই নিরীক্ষককে মানসিকভাবে সক্রিয় হতে হয়। অতএব নিরীক্ষণেও সক্রিয়তা থাকে যদিও এই সক্রিয়তার মাত্রা পরীক্ষণের ক্ষেত্রে আরো বেশি।

প্রশ্ন ৯। নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণকে কেন আগমনের বস্তুগত ভিত্তি বলা হয় ?

উত্তরঃ আগমন অনুমানে আমরা কেবল আকারগত সত্যতা নয়, বস্তুগত সত্যতাও বিচার করি। তাই আগমনের বস্তুগত সত্যতা নিশ্চিত করার জন্য আমরা পর্যবেক্ষণের উপর নির্ভর করি।‌পর্যবেক্ষণ দুই রকমের হয় —- সরল পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ। সরল পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ এমন দুটি প্রক্রিয়া যার সাহায্যে আগমনের সামান্যীকরণের বিষয় এবং আশ্রয় বাক্যগুলি পাওয়া যায়। তাই সরল পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণকে আগমনের বস্তুগত ভিত্তি বলা হয়।

প্রশ্ন ১০। অনবেক্ষণ দোষের বিভিন্ন প্রকারগুলি কী কী ? উদাহরণসহ প্রত্যেকটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ অনবেক্ষণ দোষ বা অপর্যবেক্ষণ দোষ দুই প্রকারের হয় —–

(১) প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ এবং

(২) প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ।

(১) প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ —- দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ তখনই ঘটে,যখন আমাদের জ্ঞাতব্য বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রাসঙ্গিক দৃষ্টান্তগুলিকে আমরা অবহেলা করি। উদাহরণস্বরূপ, একটি ছেলে দেখল, পরীক্ষা দিতে যাবার ঠিক আগে সে যদি ডিম খেয়ে যায় , তাহলে সে পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারে না। ছেলেটি তখন সেই সিদ্ধান্তে পৌছুঁলো যে ‘ পরীক্ষার আগে ডিম খাওয়াটা ‘ তার পরীক্ষায় অসফল হবার কারণ। এখানে সেইসব নঞর্থক দৃষ্টান্তগুলি যেমন, যারা ডিম খেয়ে গিয়েছিল তারা পরীক্ষায় পাশ করেছে আর যারা ডিম না খেয়ে গিয়েছিল তারা ফেল করেছে, সম্পূর্ণভাবে অবহেলিত হয়েছে।

(২) প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ — আগমন সম্পর্কিত অনুসন্ধান বিষয়ে আমরা যখন প্রাসঙ্গিক অবস্থাগুলিকে অবহেলা করি, তখনই প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণ দোষ ঘটে। উদাহরণ —- যেমন, একজন লোকের জণ্ডিস হয়েছে। চিকিৎসক তাকে ঔষধ দিলেন। সেই ঔষধ খেয়ে সে ভালো হয়ে গেল। সেই লোকটির মতে তার জণ্ডিস রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার কারণ কেবল ঐ ঔষধ। এখানে লোকটি অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ অবস্থাগুলি অবহেলা করেছে। যেমন, সেদ্ধ খাবার, রোগীর সেবা , বিছানায় শুয়ে বিশ্রাম করা ইত্যাদি। এখানে প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটেছে।

প্রশ্ন ১১। কাকতালীয় দোষ বলতে কী বোঝ ? একটি উদাহরণ দাও।

উত্তরঃ কারণ কার্যের পূর্বে ঘটে বলে, কারণ কার্যের পূর্ববর্তী ঘটনা। কিন্তু কেবলমাত্র অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনাই একটি কার্যের কারণ হতে পারে। যে কোন পূর্ববর্তী ঘটনাকে কারণ বলে মনে করলে যে দোষটি ঘটে, তাকে কাকতালীয় দোষ বলে। উদাহরণস্বরূপ —- একটি কাক একটি তালগাছের উপর বসল, সঙ্গে সঙ্গে একটি তাল মাটিতে পড়ে গেল। অতএব, গাছের ডালে কাকের বাসটা তাল মাটিতে পড়ার কারণ।

প্রশ্ন ১২। আকারগত ভিত্তি এবং বস্তুগত ভিত্তির মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

উত্তরঃ আগমনের আকারগত ভিত্তি এবং বস্তুগত ভিত্তির মধ্যে পার্থক্য হল—-

(ক) যে নিয়ম আগমনের আকারগত সত্যতা নিশ্চিত করে, তাদের আগমনের আকারগত ভিত্তি বলে। অন্যদিকে যে সমস্ত প্রক্রিয়া আগমনের বস্তুগত সত্যতা নিশ্চিত করে, তাদের আগমনের বস্তুগত ভিত্তি বলে।

(খ) আগমনের আকারগত ভিত্তি দুটি হল—- প্রকৃতির একরূপতা বিধি এবং কার্যকারণ বিধি। অন্যদিকে আগমনের বস্তুগত ভিত্তি দুটি হল—- নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণ।

প্রশ্ন ১৩। কার্যকারণের বিধিকে কেন আগমনের আকারগত ভিত্তি বলা হয় ?

উত্তরঃ কার্যকারণ বিধি অনুসারে, প্রতিটি ঘটনার একটি কারণ থাকে। কোন ঘটনাই আকস্মিকভাবে ঘটে না। শূন্যতা থেকে কিছুই ঘটে না। প্রাথমিক বিচারে যদি কোন ঘটনার কারণ প্রকাশিত হয় না, তবুও একথা মানতে হবে যে সেই ঘটনার একটি নির্দিষ্ট কারণ আছে। আবার কোন ঘটনার একাধিক কারণও থাকতে পারে, কিন্তু কারণ থাকবেই। কাজেই ‘ কার্যকারণ বিধি ‘ মতে যা ঘটে তার কারণ থাকে এবং কারণটি নিয়ম উপস্থিত থাকে। আকারগত ভাবে সত্য হবার জন্য আগমনে এই নিয়ম অনুসারণ করেই সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করা হয়। অর্থাৎ কার্যকারণ বিধি আগমনের সামান্যীকরণের আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে। তাই কার্যকারণ বিধিকে আগমনের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।

প্রশ্ন ১৪। কারণের পরিমাণগত লক্ষণগুলি উল্লেখ করো এবং ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ কারণের পরিমাণগত লক্ষণ হল—-

পরিমাণগত ভাবে কারণ কার্যের সমান। এর অর্থ, পরিমাণের দিক থেকে কারণের অন্তর্গত উপাদান এবং শক্তি,কার্যের অন্তর্গত উপাদান এবং শক্তির সমান। কার্য – কারণের এই লক্ষণটি জড়বস্তুর অবিনাশিতা এবং শক্তির অবিনাশিতা নিয়ম দুটি থেকে পাওয়া যায়।

এই নিয়ম দুটি অনুসারে পৃথিবীতে জড়বস্তুর পরিমাণ স্থির‌‌‌। তা বাড়েও না কমেও না যদিও তার আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, যখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হাইড্রজেনের সঙ্গে কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন মেশানো হয়, তখন আমরা একটি নতুন বস্তু পাই — জল। এখানে অক্সিজেন এবং হাইড্রজেন দুটিই গ্যাস কিন্তু তাদের মিশ্রণের ফল জল, যা একটি তরল পদার্থ। সুতরাং এখানে দুটি গ্যাসেরই রূপ নিশ্চিত পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু জলের ওজন এই দুটি সংমিশ্রিত বস্তুর ওজনের সমান। কাজেই জড় বস্তুর ক্ষেত্রে রূপ ভিন্ন হলেও ওজন একই।

আবার, শক্তির অবিনাশিতা নিয়ম অনুসারে কার্যে যে পরিমাণ শক্তি থাকে, কারণে সম্পূর্ণভাবে একই পরিমাণ শক্তি থাকে। পৃথিবীতে শক্তির পরিমাণ একই থাকে। সেটা স্থির,কমেও না,বাড়েও না। যদিও একরূপ শক্তি অন্যরূপে রূপান্তরিত হতে পারে। কিন্তু কার্যের মধ্যে যে পরিমাণ শক্তি থাকে, কারণের সমপরিমাণ শক্তি থাকে।

অতএব কারণের পরিমাণগত লক্ষণ কার্যের পরিমাণের সমান।

প্রশ্ন ১৫। উপকরণ কী ? বিভিন্ন প্রকারের উপকারণগুলি কী কী ?

উত্তরঃ কারণ হল উপকারণসমূহের সমষ্টি । অতএব, উপকরণ কারণের অংশমাত্র নয়, আবশ্যিক অংশ। কারভেথ রীডের মতে, উপকারণ হচ্ছে , কারণের অপরিহার্য অংশ।

উপকারণ দুই প্রকারের হয়,যথা ——

(১) অনুকূল বা সদর্থক উপকারণ। এবং

(২) প্রতিকূল বা নঞর্থক উপকারণ।

(১) অনুকূল বা সদর্থক উপকারণ —- যে উপকারণের সহায়তার কার্যটি ঘটে, তাকে সদর্থক অনুকূল উপকারণ বলে।

(২) প্রতিকূল বা নঞর্থক উপকারণ —- যে উপকারণের সাহায্য না নিয়েই কার্যটি ঘটে, তাকে নঞর্থক বা প্রতিকূল উপকারণ বলে।

প্রশ্ন ১৬। কারণ এবং  উপকারণের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

উত্তরঃ কারণ এবং উপকারণের মধ্যে পার্থক্য হল —-

কারণ হল কার্যের অব্যবহিত , অপরিবর্তনীয়, শর্তহীন, নিয়ম পূর্ববর্তী ঘটনা। কার্য উৎপাদনের জন্য কারণ কখনও অন্য কোন শর্তের উপর নির্ভর করে না। কারণ কোন বিশেষ ঘটনা নয়। কারণ উপকারণসমূহের সমষ্টি।

উপকারণ হল কারণের অংশ। কারভেথ রীডের মতে উপকারণ হচ্ছে কারণের অপরিহার্য অংশ। কারণ, অন্য শর্তের উপর নির্ভর করে না বলে কার্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় সব উপকারণ কারণের মধ্যে উপস্থিত থাকতে হয়।

কারণ এবং উপকারণের সম্পর্ক হল, সমগ্ৰ এবং তার অংশের সম্পর্ক। সমগ্ৰের মধ্যেই তার অংশ থাকে। সেভাবেই, কারণের মধ্যে উপকারণ থাকে। কারণের সঙ্গে সম্পর্ক না থাকলে উপকারণকে উপকারণই বলা যায় না।

প্রশ্ন ১৭। নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের মধ্যে পার্থক্য হল—

(ক) নিরীক্ষণে প্রাকৃতিক ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করা হয় কিন্তু পরীক্ষণ হল কৃত্রিম ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করা।

(খ) নিরীক্ষণ প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ঘটনার প্রত্যক্ষ। অন্যদিকে পরীক্ষণ হচ্ছে কৃত্রিম পরিবেশে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা ঘটনার প্রত্যক্ষ।

(গ) নিরীক্ষণের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। কিন্তু পরীক্ষণে ঘটনা সর্বদাই পরীক্ষকের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে।

প্রশ্ন ১৮। কারণ সংযোজন এবং নানাকারণবাদের মধ্যে পার্থক্য লেখো।

উত্তরঃ কারণ সংযোজন এবং নানাকারণবাদের মধ্যে পার্থক্য হল—-

(ক) নানাকারণবাদ মতে, কতগুলি কারণ স্বাধীনভাবে কাজ করে বিভিন্ন সময়ে একই কার্য উৎপাদন করে। অন্যদিকে কারণ সংযোজন মতে কতগুলি কারণ স্বাধীনভাবে নয় যৌথভাবে কাজ করে একটি মিশ্র কার্য উৎপন্ন করে।

(খ) কার্যকারণ সম্বন্ধের ক্ষেত্রে নানাকারণবাদ একটি ভ্রান্ত ধারণা কিন্তু কারণসমন্বয় ব্যাপারটি কোন ভ্রান্ত ধারণা নয়।

প্রশ্ন ১৯। আগমনের বিরোধাভাসের বিষয়ে এটি সংক্ষিপ্ত টীকা লেখো।

উত্তরঃ প্রকৃতির একরূপতা বিধি সম্পর্কে মিলের দুটি পরস্পর বিরোধী মতবাদকে আগমনের বিরোধাভাস বলে। এর অর্থ এই যে আগমনের ভিত্তিটি নিজেই আগমনের ফল/ সিদ্ধান্ত। মিল বলেছেন, প্রকৃতির একরূপতা বিধি একটি মৌলিক নীতি বা আগমনের ক্ষেত্রে পূর্বস্বীকৃত একটি সাধারণ সত্য প্রতিটি আগমনের ক্ষেত্রে নিহিত থাকে। মিল আবার বলেছেন, প্রকৃতির একরূপতা বিধিটি অবৈজ্ঞানিক আগমন বা অপূর্ণগণনাভিত্তিক আগমনের সিদ্ধান্ত অবৈজ্ঞানিক আগমনের ভিত্তি হচ্ছে অবাধিত অভিজ্ঞতা। কোন কার্যকারণ সম্পর্ক ছাড়াই অবৈজ্ঞানিক আগমন সিদ্ধান্ত প্রতিষ্ঠা করে। অতএব অভিজ্ঞতা থেকে আমরা ‘ বিশেষ একরূপ তার দৃষ্টান্ত পাই আর বিশেষ একরূপতা গুলি থেকে আমরা সামান্য একরূপতা প্রতিষ্ঠা করি। যখন প্রকৃতির একরূপতা সামান্য নীতিটি প্রতিষ্ঠিত হয় তখন সেটা হয় সকল আগমনের ভিত্তি। অতএব আগমনের ভিত্তি হল আগমনের ফল।

প্রশ্ন ২০। কারণ সংযোজন এবং কার্যসংমিশ্রণের মধ্যে পার্থক্য দেখাও।

উত্তরঃ কারণ সংযোজন এবং কার্যসংমিশ্রণের মধ্যে পার্থক্য হল—-

যখন কয়েকটি কারণ সংযুক্তভাবে একটি জটিল বা মিশ্র কার্য উৎপাদন করে তখন তাকে ‘কারণ সমন্বয়’ বলে। অপরদিকে সংযোজিত কারণ দ্বারা উৎপাদিত বিভিন্ন কার্যের মিশ্রণকে কার্যসংমিশ্রণ বলে। উদাহরণস্বরূপ, একটি ফুটবল ম্যাচ জিততে গেলে কয়েকজন (১১ জন) খেলোয়াড়ের প্রয়োজন হয়। একজন মাত্র খেলোয়াড় কখনও একটি ফুটবল ম্যাচ জিততে পারে না। এখানে কয়েকজন খেলোয়াড়ের ‘যৌথ প্রচেষ্টা’ হল কারণ সমন্বয় এবং ম্যাচ জেতার কাজটি হল কার্যসংমিশ্রণ।

সুতরাং কারণ সমন্বয় হল, কতগুলি কারণের যৌথ ক্রিয়া যার ফলে একটি মিশ্র কার্য উৎপাদিত হয়েছে। অন্যদিকে তাদের ভিন্ন ভিন্ন কার্যের মিশ্রণ হল, কার্য সংমিশ্রণ।

দীর্ঘ উত্তরধর্মী প্রশ্নোত্তর

প্রশ্ন ১। প্রকৃতির একরূপতা নীতি বলতে কী বোঝ ? এটাকে কেন আগমনের আকারগত ভিত্তি বলা হয় ?

উত্তরঃ প্রকৃতির একরূপতা নীতির অর্থ হল একই পরিস্থিতিতে প্রকৃতি একই রূপ আচরণ করে। প্রকৃতি নিয়মের রাজত্ব। প্রকৃতিতে একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি ঘটলে একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে। কোন আকস্মিক পরিস্থিতির বা কারণের উদ্ভব না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃতি কখনও নিজের নিয়মকে লংঘন করে না।

প্রকৃতির একরূপতা বিধি হল আগমনের আকারগত ভিত্তি। মিলের মতে, প্রকৃতির একরূপতা বিধি প্রত্যেক আগমনের ক্ষেত্রে পূর্বস্বীকার্য সত্য। এই নীতির সাহায্য না নিয়ে কোন সামান্য বচন প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। আগমনের সকল সামান্যীকরণের ভিত্তি হল এই একরূপতা নীতি। এই নীতিকে সত্য বলে না ধরলে আমরা জানা থেকে অজানায়, দৃষ্ট থেকে অ-দৃষ্টে বিশেষ থেকে সামান্যে যেতে পারবো না। এই নিয়মের ভিত্তিতেই কিছু সংখ্যক মানুষের মৃত্যুর ঘটনা দেখে অনুমান করি ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল ‘। মিলের মতে, প্রকৃতির একরূপতা নীতি, একটি স্বতঃসিদ্ধ, মৌলিক নিয়ম যা আগমনের একটি পূর্বস্বীকৃত সত্য , অর্থাৎ আগমন অনুমানে সামান্যীকরণ প্রক্রিয়ার শুরুতেই এই নীতিটি কে স্বীকার করা হয়। প্রকৃতির একরূপতা নীতি আগমনের আকারগত সত্যতা প্রতিষ্ঠা করে বলে এই নীতিকে আগমনের আকারগত ভিত্তি বলা হয়।

প্রশ্ন ২। কারণ কী ? কারণের পরিমাণগত লক্ষণগুলি কী কী ?

উত্তরঃ বিভিন্ন তর্কবিজ্ঞানী কারণের বিভিন্ন সংজ্ঞা দিয়েছেন। মিল কারণের দুটি সংজ্ঞা দিয়েছেন। প্রথমত :—- কারণ হল কার্যের অপরিবর্তনীয়, শর্তহীন, পূর্ববর্তী ঘটনা। দ্বিতীয়ত :— কারণ হল সদর্থক এবং নঞর্থক উপকারণসমূহের সমষ্টি। বেইনের মতে, কারণ হল কার্য উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় যাবতীয় উপকারণ বা পরিস্থিতির সম্পূর্ণ সমষ্টি।

কারণের পরিমাণগত লক্ষণগুলি হল—-

পরিমাণগত ভাবে কারণ কার্যের সমান। এর অর্থ, পরিমাণের দিক থেকে কারণের অন্তর্গত উপাদান এবং শক্তি,কার্যের অন্তর্গত উপাদান এবং শক্তির সমান। কার্য – কারণের এই লক্ষণটি জড়বস্তুর অবিনাশিতা এবং শক্তির অবিনাশিতা নিয়ম দুটি থেকে পাওয়া যায়।

এই নিয়ম দুটি অনুসারে পৃথিবীতে জড়বস্তুর পরিমাণ স্থির‌‌‌। তা বাড়েও না কমেও না যদিও তার আকৃতির পরিবর্তন ঘটে। উদাহরণস্বরূপ, যখন একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ হাইড্রজেনের সঙ্গে কোন নির্দিষ্ট পরিমাণ অক্সিজেন মেশানো হয়, তখন আমরা একটি নতুন বস্তু পাই — জল। এখানে অক্সিজেন এবং হাইড্রজেন দুটিই গ্যাস কিন্তু তাদের মিশ্রণের ফল জল, যা একটি তরল পদার্থ। সুতরাং এখানে দুটি গ্যাসেরই রূপ নিশ্চিত পরিবর্তিত হয়েছে, কিন্তু জলের ওজন এই দুটি সংমিশ্রিত বস্তুর ওজনের সমান। কাজেই জড় বস্তুর ক্ষেত্রে রূপ ভিন্ন হলেও ওজন একই।

আবার, শক্তির অবিনাশিতা নিয়ম অনুসারে কার্যে যে পরিমাণ শক্তি থাকে, কারণে সম্পূর্ণভাবে একই পরিমাণ শক্তি থাকে। পৃথিবীতে শক্তির পরিমাণ একই থাকে। সেটা স্থির,কমেও না,বাড়েও না। যদিও একরূপ শক্তি অন্যরূপে রূপান্তরিত হতে পারে। কিন্তু কার্যের মধ্যে যে পরিমাণ শক্তি থাকে, কারণের সমপরিমাণ শক্তি থাকে।

অতএব কারণের পরিমাণগত লক্ষণ কার্যের পরিমাণের সমান।

প্রশ্ন ৩। নানাকারণবাদ মতবাদ বলতে কী বোঝ ? এটি বিজ্ঞানসম্মতভাবে গ্ৰহণযোগ্য কি ?

উত্তরঃ  নানাকারণবাদ কার্যকারণ সম্পর্কে একটি ভ্রান্ত ধারণা। নানাকারণবাদ মতে বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভিন্ন কারণ একই কার্য উৎপাদন করতে পারে। উদাহরণস্বরূপ — ব্যাধি, আঘাত, বিষ, বার্ধক্য ইত্যাদি নানা কারণে মৃত্যু হতে পারে।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিতে কারণ এবং কার্য দুইই জটিল ঘটনা। ঘটনার সংগে জড়িত সকল কারণ বা কার্যকে সমান গুরুত্ব দেওয়া হয় না। এর ফলে, আমাদের মনে কতগুলি ভ্রান্ত ধারণার সৃষ্টি হয় এবং নানাকারণবাদের জন্ম হয়।

বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানাকারণবাদ গ্ৰহণযোগ্য নয়। এর দুটি কারণ হল —–

(১) প্রথমতঃ যদি আমরা কোন কার্যের বিভিন্ন কারণকে বিশ্লেষণ করি তাহলে দেখতে পাবো যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কার্যের একটি সাধারণ লক্ষণ থাকে। কারণের এই সাধারণ বৈশিষ্ট্য বিচার করলে দেখা যায় নানাকারণবাদের ধারণা ভ্রান্ত।

(২) দ্বিতীয়তঃ বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে নানাকারণবাদ গ্ৰহণযোগ্য নয়। কারণের সংজ্ঞানুসারে, কারণ হল কার্যের অপরিবর্তনীয় পূর্ববর্তী ঘটনা,যার সঙ্গে নানাকারণবাদ অসঙ্গতিপূর্ণ।

প্রশ্ন ৪। এরিষ্টটলের মতে কারণ কত প্রকার ? উদাহরণসহ প্রত্যেকটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ এরিষ্টটলের মতে কারণ চার প্রকার। যথা —-

(ক) বস্তুগত কারণ —- যে পদার্থ বা বস্তু দ্বারা কোন কার্য  উৎপাদন করা হয়, তাকে ‘ বস্তুগত কারণ’ বলে। যখনই কোন কার্য সৃষ্টি হয়, সেটা কোন দ্রব্য বা পদার্থ দিয়েই সৃষ্টি হয়। উদাহরণস্বরূপ —- মাটির তৈরি একটি পাত্রের বস্তুগত কারণ হল মাটি।

(খ) আকারগত কারণ —– কার্যসৃষ্টির পর কার্যের মধ্যে যে নতুন রূপ দেখতে পাওয়া যায় তাকে ঐ কার্যের আকারগত কারণ বলে। অর্থাৎ একটি কার্য উৎপন্ন করতে দ্রব্য বা উপাদানের উপর যে নতুন রূপ দেওয়া হয় তাকে আকারগত কারণ বলে। উদাহরণস্বরূপ —- তাঁতী সুতা দিয়ে একটি কাপড় বোনলো। সেই কাপড়ের বিশেষ রূপ বা আকারটি হল কাপড়ের আকারগত কারণ।

(গ) নিমিত্ত কারণ —- একটি কার্য উৎপন্ন করতে যে শ্রম বা শক্তির প্রয়োজন হয় তাকে সেই কার্যের নিমিত্ত কারণ বলে। উদাহরণস্বরূপ —- একটি কাপড় তৈরি করতে তাঁতী যে শক্তি বা নিপুণতা প্রয়োগ করে, তাকে কাপড়টির নিমিত্ত কারণ বলে।

(ঘ) চূড়ান্ত বা পরিণাম কারণ —– যে উদ্দেশ্যে নিয়ে একটি কার্য সৃষ্টি করা হয় সেই উদ্দেশ্যকে কার্যটির পরিণাম কারণ বলা হয়। উদাহরণস্বরূপ —- কাপড়টি ব্যবহার করাই হল কাপড় তৈরির পরিণাম কারণ।

প্রশ্ন ৫। নিরীক্ষণ কী ? এর বৈশিষ্ট্যগুলি কী কী ?

উত্তরঃ প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক ঘটনার উদ্দেশ্যমূলক সুনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণকে নিরীক্ষণ বলে।

নিরীক্ষণের বৈশিষ্ট্যগুলি হল—–

(ক) নিরীক্ষণে সব সময় কোন একটি নির্দিষ্ট উদ্দেশ্য থাকে। উদ্দেশ্যবিহীন প্রত্যক্ষকে নিরীক্ষণ বলা চলে না।

(খ) নিরীক্ষণে প্রাকৃতিক ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করা হয়। নিরীক্ষণে ঘটনা পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের প্রকৃতির উপর নির্ভর করতে হয়।

(গ) নিরীক্ষণ প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ঘটনার প্রত্যক্ষ। নিরীক্ষণ সবসময় প্রাকৃতিক পরিস্থিতির উপর নির্ভর করে।

(ঘ) নিরীক্ষণে ঘটনাবলি পর্যবেক্ষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। কারণ নিরীক্ষণযোগ্য ঘটনা প্রকৃতিই সৃষ্টি করে। পর্যবেক্ষক এগুলি সৃষ্টি করেন না,পরিবর্তনও করেন না।

প্রশ্ন ৬। পরীক্ষণ কী ? নিরীক্ষণের তুলনায় পরীক্ষণের সুবিধাগুলি কী কী ?

উত্তরঃ কৃত্রিম পরিবেশে, কৃত্রিমভাবে কোন ঘটনাকে গবেষণাগারে প্রস্তুত করে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রত্যক্ষ করার নাম পরীক্ষণ।

নিরীক্ষণের তুলনায় পরীক্ষণের সুবিধাগুলি হল—–

(১) পরীক্ষণের পুনরাবৃত্তি সম্ভব এবং এজন্য যতবার প্রয়োজন, ততবার একই বিষয়ে পরীক্ষণ করা যায়।

(২) পরীক্ষক পরীক্ষণীয় বিষয়কে পৃথকভাবে পরীক্ষা করতে পারেন।

(৩) পরীক্ষণে স্থিরভাবে ও শান্ত মনে পরীক্ষণ সম্ভব।

(৪) পরীক্ষণে যতবার প্রয়োজন পরিবেশের পরিবর্তন সম্ভব।

প্রশ্ন ৭। নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের মধ্যে পার্থক্য মাত্র পরিমাণগত, মূলগত নয় ‘—- উক্তিটি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের মধ্যে পার্থক্য মাত্র পরিমাণগত, মূলগত নয়। এদের মধ্যে গুণগত কোন পার্থক্য নেই। নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের মধ্যে সত্যকারের কোন বিরোধিতা নেই। এদের মধ্যে তীক্ষ্ণ কোন শ্রেণি বিভাজন করা যায় না। কারণ দুটি ক্ষেত্রেই আমরা আগমনের বিষয়বস্তু সংগ্ৰহ করতে চেষ্টা করি এবং বস্তুগত ভাবে সত্য একটি সামান্য বচন প্রতিষ্ঠা করতে চেষ্টা করি। এই উদ্দেশ্যে আমরা উভয়ক্ষেত্রেই আমাদের ইন্দ্রিয়গুলির স্বাভাবিক ক্ষমতার উপর বিশ্বাস রাখি এবং প্রাকৃতিক ঘটনাবলিকে প্রত্যক্ষ করি। উভয়ক্ষেত্রেই শারীরিক এবং মানসিক শক্তির ব্যবহার হয়।

জেভনসের মতে, সরল পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণের পার্থক্য শুধু মাত্রাগত। সরল পর্যবেক্ষণ পরীক্ষণ অপেক্ষা অধিক স্বাভাবিক। তার পরীক্ষণ নিরীক্ষণের অপেক্ষা অধিক কৃত্রিম। যেহেতু নিরীক্ষণ স্বাভাবিক একটি প্রক্রিয়া, নিরীক্ষণে আমরা পরীক্ষণের অপেক্ষা কম সক্রিয়। পরীক্ষণে আমরা নিরীক্ষণের অপেক্ষা অধিক সক্রিয়।

পাঠ্যপুস্তকের সম্ভাব্য প্রশ্নাবলির উত্তর

প্রশ্ন ১। শূন্যস্থান পূর্ণ করোঃ

(ক) নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের ওপরে আগমনের ———- সত্যতা নির্ভর করে।

উত্তরঃ বস্তুগত।

(খ) ‘ নিরীক্ষণে ঘটনাকে আবিষ্কার করা হয় এবং পরীক্ষণে ঘটনাকে ————- হয়।

উত্তরঃ সৃষ্টি করা।

(গ) নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের পার্থক্য ————।

উত্তরঃ মাত্রাগত, মূলগত নয়।

(ঘ) নিরীক্ষণের স্থান পরীক্ষণের ————-।

উত্তরঃ আগে।

(ঙ) সরল পর্যবেক্ষণের পরিসর পরীক্ষণের তুলনায় ———–।

উত্তরঃ অধিক ব্যাপক।

প্রশ্ন ২। সংক্ষিপ্ত টীকা লেখোঃ

(ক) সুনিরীক্ষণের শর্ত।

উত্তরঃ নির্ভুল পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষককে কতগুলি সাধারণ নিয়ম বা শর্ত মানতে হয়। শর্তগুলি তিন রকমের হয় —-

(ক) বৌদ্ধিক শর্ত—– নির্ভুল পর্যবেক্ষণের জন্য পর্যবেক্ষককে বৌদ্ধিকভাবে সক্ষম হতে হবে। জ্ঞান পিপাসা হচ্ছে পর্যবেক্ষণের একটি অতি আবশ্যকীয় শর্ত।

(খ) দৈহিক শর্ত—– পর্যবেক্ষণের জন্য আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি অন্যতম দৈহিক শর্ত সাধারণতঃ পঞ্চেন্দ্রিয়ের সাহায্যে আমরা পর্যবেক্ষণ করি। অতএব, সুস্থ ইন্দ্রিয়গুলি পর্যবেক্ষণের দৈহিক শর্ত।

(গ) নৈতিক শর্ত‌ —– পর্যবেক্ষণের নৈতিক শর্ত‌ হল নিরপেক্ষতা।

(খ) ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ।

উত্তরঃ পর্যবেক্ষণ দোষ দু-রকমের হয় —– অপর্যবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ । যে পর্যবেক্ষণে আমরা একটা জিনিস যা তাকে সে ভাবে না দেখে, অন্যকিছু বলে ভুল করি তাকে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ বলে। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণে আমরা এই দোষটি করি, কারণ আমাদের ইন্দ্রিয়গ্ৰাহ্য প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভুল ব্যাখ্যা আমরা করি। যেমন, অন্ধকারে দড়িকে সাপ বলে ভুল করি। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দুই প্রকারের হয়। 

(ক) ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —- ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে যে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ হয়, তাকে ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ বলে। উদাহরণস্বরূপ —– দড়িকে সাপ বলে ভুল করা, একটি ল্যাম্পপোষ্টকে মানুষ বলে ভুল করা ইত্যাদি।

(খ) সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —– সকল মানুষের ক্ষেত্রে হওয়া ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণকে সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ বলে। উদাহরণস্বরূপ —– ছুটন্ত রেলগাড়ি থেকে বাইরে তাকালে আমরা কখনও কখনও কল্পনা করি, রেলগাড়িটি স্থির অবস্থায় রয়েছে আর দূরের গাছপালা, পাহাড়গুলি উল্টোদিকে ছুটছে।

(গ) অপর্যবেক্ষণ দোষ।

উত্তরঃ অপর্যবেক্ষণ দোষ —- যখন আমরা যা পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল,তা পর্যবেক্ষণ করি না, বা তাকে অবহেলা করি, তখন অপর্যবেক্ষণ দোষ ঘটে। সকল পর্যবেক্ষণই নির্বাচনাত্ম এবং নির্বাচন করার সময় কখনও কখনও আমরা হয় ঘটনাকে অবহেলা করি কিংবা আবশ্যিক পরিস্থিতি বা অবস্থাকে অবহেলা করি। অতএব অপর্যবেক্ষণের দুই ধরণের দোষ ঘটে, যথা—–

(ক) দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ —- পর্যবেক্ষণের সময় যখন আমরা আমাদের জ্ঞাতব্য বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রাসঙ্গিক কোন দৃষ্টান্তকে অবহেলা করি, তখনই দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটে। উদাহরণস্বরূপ —- পরীক্ষায় যাবার আগে ডিম খাওয়া পরীক্ষায় অসফলতার কারণ, যাত্রার পূর্বে হাঁচি দুর্ঘটনার কারণ ইত্যাদি।

(খ) প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ —- পর্যবেক্ষণের সময় সবগুলি প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু, আমরা যখন প্রাসঙ্গিক অবস্থাগুলিকে অবহেলা করি, তখনই প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটে। উদাহরণস্বরূপ —- জণ্ডিস আক্রান্ত একজন লোক ঔষধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার পর ভাবল জণ্ডিস রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার কারণ কেবল ঐ ঔষধ। এখানে অন্যান্য কিছু প্রাসঙ্গিক অবস্থা যেমন —- সেদ্ধ খাবার খাওয়া, রোগীর সেবা, বিছানায় বিশ্রাম করা ইত্যাদি অবহেলা করা হয়েছে। তাই প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটেছে।

প্রশ্ন ৩। সংজ্ঞা দাওঃ

(ক) নিরীক্ষণ।

উত্তরঃ নিরীক্ষণ —- প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে প্রাকৃতিক ঘটনার উদ্দেশ্যমূলক সুনিয়ন্ত্রিত পর্যবেক্ষণকে নিরীক্ষণ বলে।

(খ) পরীক্ষণ।

উত্তরঃ পরীক্ষণ —– কৃত্রিম পরিবেশে, কৃত্রিমভাবে কোন ঘটনাকে গবেষণাগারে প্রস্তুত করে তাকে উদ্দেশ্যমূলকভাবে প্রত্যক্ষ করার নাম পরীক্ষণ।

(গ) অপর্যবেক্ষণ দোষ।

উত্তরঃ সকল পর্যবেক্ষণই নির্বাচনাত্মক এবং নির্বাচন করার সময় কখনও কখনও আমরা হয় ঘটনাকে অবহেলা করি কিংবা আবশ্যিক পরিস্থিতি বা অবস্থাকে অবহেলা করি, তখনই অপর্যবেক্ষণ দোষ ঘটে। অপর্যবেক্ষণে আমরা যা অবহেলা করা উচিত ছিল না, তাকে অবহেলা করি।

(ঘ) ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ।

উত্তরঃ ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —- ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে যে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ হয়, তাকে ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ বলে।

প্রশ্ন ৪। পার্থক্য নির্ণয় করোঃ

(ক) সরল পর্যবেক্ষণ এবং পরীক্ষণ।

উত্তরঃ নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণের মধ্যে পার্থক্য হল—

(ক) নিরীক্ষণে প্রাকৃতিক ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করা হয় কিন্তু পরীক্ষণ হল কৃত্রিম ঘটনাকে প্রত্যক্ষ করা।

(খ) নিরীক্ষণ প্রাকৃতিক পরিস্থিতিতে উদ্ভুত ঘটনার প্রত্যক্ষ। অন্যদিকে পরীক্ষণ হচ্ছে কৃত্রিম পরিবেশে কৃত্রিমভাবে সৃষ্টি করা ঘটনার প্রত্যক্ষ।

(গ) নিরীক্ষণের ঘটনাবলি পর্যবেক্ষকের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকে। কিন্তু পরীক্ষণে ঘটনা সর্বদাই পরীক্ষকের নিয়ন্ত্রণাধীন থাকে।

(খ) অপর্যবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ।

উত্তরঃ অপর্যবেক্ষণ দোষ —- যখন আমরা যা পর্যবেক্ষণ করা উচিত ছিল,তা পর্যবেক্ষণ করি না, বা তাকে অবহেলা করি, তখন অপর্যবেক্ষণ দোষ ঘটে। সকল পর্যবেক্ষণই নির্বাচনাত্ম এবং নির্বাচন করার সময় কখনও কখনও আমরা হয় ঘটনাকে অবহেলা করি কিংবা আবশ্যিক পরিস্থিতি বা অবস্থাকে অবহেলা করি। অতএব অপর্যবেক্ষণের দুই ধরণের দোষ ঘটে, যথা—–

(ক) দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ —- পর্যবেক্ষণের সময় যখন আমরা আমাদের জ্ঞাতব্য বিষয়ের সঙ্গে যুক্ত প্রাসঙ্গিক কোন দৃষ্টান্তকে অবহেলা করি, তখনই দৃষ্টান্ত অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটে। উদাহরণস্বরূপ —- পরীক্ষায় যাবার আগে ডিম খাওয়া পরীক্ষায় অসফলতার কারণ, যাত্রার পূর্বে হাঁচি দুর্ঘটনার কারণ ইত্যাদি।

(খ) প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ —- পর্যবেক্ষণের সময় সবগুলি প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন। কিন্তু, আমরা যখন প্রাসঙ্গিক অবস্থাগুলিকে অবহেলা করি, তখনই প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটে। উদাহরণস্বরূপ —- জণ্ডিস আক্রান্ত একজন লোক ঔষধ খেয়ে সুস্থ হওয়ার পর ভাবল জণ্ডিস রোগ থেকে মুক্ত হওয়ার কারণ কেবল ঐ ঔষধ। এখানে অন্যান্য কিছু প্রাসঙ্গিক অবস্থা যেমন —- সেদ্ধ খাবার খাওয়া, রোগীর সেবা, বিছানায় বিশ্রাম করা ইত্যাদি অবহেলা করা হয়েছে। তাই প্রাসঙ্গিক পরিস্থিতি অপর্যবেক্ষণের দোষ ঘটেছে।

পর্যবেক্ষণ দোষ দু-রকমের হয় —– অপর্যবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ । যে পর্যবেক্ষণে আমরা একটা জিনিস যা তাকে সে ভাবে না দেখে, অন্যকিছু বলে ভুল করি তাকে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ বলে। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণে আমরা এই দোষটি করি, কারণ আমাদের ইন্দ্রিয়গ্ৰাহ্য প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভুল ব্যাখ্যা আমরা করি। যেমন, অন্ধকারে দড়িকে সাপ বলে ভুল করি। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দুই প্রকারের হয়। 

(ক) ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —- ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে যে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ হয়, তাকে ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ বলে। উদাহরণস্বরূপ —– দড়িকে সাপ বলে ভুল করা, একটি ল্যাম্পপোষ্টকে মানুষ বলে ভুল করা ইত্যাদি।

(খ) সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —– সকল মানুষের ক্ষেত্রে হওয়া ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণকে সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ বলে। উদাহরণস্বরূপ —– ছুটন্ত রেলগাড়ি থেকে বাইরে তাকালে আমরা কখনও কখনও কল্পনা করি, রেলগাড়িটি স্থির অবস্থায় রয়েছে আর দূরের গাছপালা, পাহাড়গুলি উল্টোদিকে ছুটছে।

(গ) ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ এবং সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ।

উত্তরঃ পর্যবেক্ষণ দোষ দু-রকমের হয় —– অপর্যবেক্ষণ দোষ এবং ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ । যে পর্যবেক্ষণে আমরা একটা জিনিস যা তাকে সে ভাবে না দেখে, অন্যকিছু বলে ভুল করি তাকে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ বলে। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণে আমরা এই দোষটি করি, কারণ আমাদের ইন্দ্রিয়গ্ৰাহ্য প্রত্যক্ষ অভিজ্ঞতার ভুল ব্যাখ্যা আমরা করি। যেমন, অন্ধকারে দড়িকে সাপ বলে ভুল করি। ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দুই প্রকারের হয়। 

(ক) ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —- ব্যক্তি বিশেষের ক্ষেত্রে যে ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ হয়, তাকে ব্যক্তিগত ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ দোষ বলে। উদাহরণস্বরূপ —– দড়িকে সাপ বলে ভুল করা, একটি ল্যাম্পপোষ্টকে মানুষ বলে ভুল করা ইত্যাদি।

(খ) সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ —– সকল মানুষের ক্ষেত্রে হওয়া ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণকে সার্বজনীন ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ বলে। উদাহরণস্বরূপ —– ছুটন্ত রেলগাড়ি থেকে বাইরে তাকালে আমরা কখনও কখনও কল্পনা করি, রেলগাড়িটি স্থির অবস্থায় রয়েছে আর দূরের গাছপালা, পাহাড়গুলি উল্টোদিকে ছুটছে।

প্রশ্ন ৫। সংক্ষিপ্ত উত্তর দাওঃ

(ক) আগমনের বস্তুগত ভিত্তি কয়টি এবং সেগুলি কী কী ?

উত্তরঃ আগমনের বস্তুগত ভিত্তি দুটি যথা—-

(ক) সরল পর্যবেক্ষণ বা নিরীক্ষণ। এবং

(খ) পরীক্ষণ।

(খ) নিরীক্ষণ এবং পরীক্ষণকে কেন আগমনের বস্তুগত ভিত্ত।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

This will close in 0 seconds

Scroll to Top