Class 11 Political Science Important Chapter 10 সংবিধানের দর্শন Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Political Science Important Chapter 10 সংবিধানের দর্শন Solutions and select need one. Class 11 Political Science Additional Notes in Bengali Medium Download PDF. AHSEC Class 11 Political Science Important Notes Bengali Medium.
Class 11 Political Science Important Chapter 10 সংবিধানের দর্শন
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 11 Political Science Important Solutions in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given HS 1st Year Political Science Additional Notes in Bengali for All Chapters, You can practice these here.
সংবিধানের দর্শন
Chapter: 10
| Part – 1: কাৰ্য্যক্ষেত্ৰে ভারতীয় সংবিধান |
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
প্রথম ভাগ
১। ভারতীয় সংবিধানের দর্শনের মূল ভিত্তি বা কাঠামো কোনটি?
উত্তরঃ জওহরলাল নেহরু ১৯৪৬ সালে গণপ।রিষদে যে ‘আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন, সেটিই এই সংবিধানের দর্শনের মূল ভিত্তি।
২। সংবিধানের দর্শনে ‘সার্বভৌম’ কথাটির তাৎপর্য কী?
উত্তরঃ সার্বভৌম কথাটির অর্থ হলো ভারত একটি সম্পূর্ণ স্বাধীন রাষ্ট্র এবং দেশের অভ্যন্তরে বা বাইরে কোনো উচ্চতর শক্তি নেই; সব ক্ষমতার চূড়ান্ত উৎস হলো ভারতের জনগণ।
৩। সংবিধানের প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভারত কী ধরনের রাষ্ট্র?
উত্তরঃ প্রস্তাবনা অনুযায়ী ভারত হলো একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক সাধারণতন্ত্র।
৪। সংবিধানের দর্শনে ‘সাধারণতন্ত্র’ বা প্রজাতন্ত্র বলতে কী বোঝায়?
উত্তরঃ এর অর্থ হলো ভারতের রাষ্ট্রপ্রধান কোনো বংশানুক্রমিক রাজা বা রানী নন,বরং তিনি জনগণের দ্বারা পরোক্ষভাবে নির্বাচিত একজন প্রতিনিধি।
৫। সংবিধানে কত ধরনের ন্যায়বিচারের অঙ্গীকার করা হয়েছে?
উত্তরঃ সংবিধানের দর্শনে নাগরিকদের জন্য তিন ধরনের ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে— সামাজিক,অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ন্যায়বিচার।
৬। দর্শনের দিক থেকে ‘সাম্য’বলতে কী বোঝানো হয়েছে?
উত্তরঃ সাম্য বলতে আইনের চোখে সবার সমান অধিকার এবং মর্যাদা ও সুযোগ-সুবিধার ক্ষেত্রে সব ধরনের বৈষম্য দূর করাকে বোঝায়।
৭। ভারতীয় সংবিধানকে কেন একটি ‘নৈতিক দলিল’ বলা হয়?
উত্তরঃ কারণ এই সংবিধান কেবল কতগুলো শাসনতান্ত্রিক নিয়ম নয়, বরং এটি ভারতের স্বাধীনতা আন্দোলনের দীর্ঘদিনের নৈতিক আদর্শ ও মূল্যবোধের প্রতিফলন।
৮। সংবিধানের দর্শনে স্বাধীনতার পরিধি কতটুকু?
উত্তরঃ নাগরিকদের চিন্তা,মত প্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার পূর্ণ স্বাধীনতা সংবিধানে নিশ্চিত করা হয়েছে।
৯। সংবিধানে অনুন্নত ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য কী দর্শনের প্রতিফলন ঘটেছে?
উত্তরঃ দর্শনের একটি অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে অনুন্নত, উপজাতি ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের স্বার্থ রক্ষায় বিশেষ সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে।
১০। ভারতীয় সংবিধানের দর্শনে বিশ্ব শান্তির স্থান কোথায়?
উত্তরঃ সংবিধানে স্পষ্টভাবে ঘোষণা করা হয়েছে যে ভারত বিশ্ব শান্তি রক্ষা ও সমগ্র মানবজাতির কল্যাণে সক্রিয় অবদান রাখবে।
১১। ‘ভ্রাতৃত্ববোধ’ বলতে দর্শনের দিক থেকে কী বোঝায়?
উত্তরঃ ভ্রাতৃত্ববোধ হলো নাগরিকদের মধ্যে পারস্পরিক সৌহার্দ্য বৃদ্ধি করা যা ব্যক্তির মর্যাদা এবং জাতীয় ঐক্য ও সংহতি নিশ্চিত করে।
১২। সংবিধানের দর্শনে ক্ষমতার উৎস কে?
উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানের দর্শনের মূল কথা হলো সার্বভৌম ও স্বাধীন ভারতের যাবতীয় ক্ষমতার উৎস হলো ভারতের সাধারণ জনগণ।
১৩। জাতীয় আন্দোলনের কোন আদর্শগুলো সংবিধানে স্থান পেয়েছে?
উত্তরঃ স্বাধীনতা আন্দোলনের মূল নির্যাস যেমন— সমতা, স্বাধীনতা, গণতন্ত্র এবং সার্বভৌমত্বের আদর্শগুলোই সংবিধানে স্থায়ী রূপ পেয়েছে।
১৪। সংবিধানের প্রস্তাবনাটি কবে গণপরিষদ কর্তৃক গৃহীত হয়েছিল?
উত্তরঃ ১৯৪৯ সালের ২৬শে নভেম্বর গণপরিষদে ভারতীয় সংবিধান ও এর প্রস্তাবনা গৃহীত ও বিধিবদ্ধ হয়।
১৫।ব্রিটিশ রাজতন্ত্রের অবসান দর্শনের দিক থেকে কী বার্তা দেয়?
উত্তরঃ এটি বার্তা দেয় যে ভারতে কোনো বংশানুক্রমিক শাসন থাকবে না এবং কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা এখন থেকে ভারতীয় জনগণের সম্মতিতে গঠিত হবে।
দীর্ঘ প্রশ্ন ও উত্তর।
১। জওহরলাল নেহরুর ‘আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রস্তাব’-এ প্রতিফলিত সংবিধানের দর্শনটি আলোচনা করো।
উত্তরঃ ১৯৪৬ সালে জওহরলাল নেহরু গণপরিষদে যে ‘আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রস্তাব’ পেশ করেন, তা-ই ছিল ভারতীয় সংবিধানের দর্শনের মূল স্তম্ভ। এই প্রস্তাবের মাধ্যমে ঘোষণা করা হয় যে ভারত হবে একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র। এর দর্শনে স্পষ্ট করে দেওয়া হয় যে শাসনক্ষমতার মূল উৎস হবে ভারতের জনগণ। নেহরুর এই প্রস্তাবে নাগরিকদের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ন্যায়বিচারের পাশাপাশি চিন্তা ও ধর্মের স্বাধীনতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছিল। এছাড়া পিছিয়ে পড়া ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং বিশ্ব শান্তি প্রতিষ্ঠায় ভারতের অঙ্গীকার ব্যক্ত করা হয়েছিল। এই আদর্শগুলোই পরবর্তীকালে সংবিধানের মূল চরিত্রে পরিণত হয়েছে।
২। ভারতীয় সংবিধান কেন স্বাধীনতা আন্দোলনের এক উত্তরাধিকার বা ঐতিহাসিক দলিল?
উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধান কেবল একটি আইনি নথি নয়,বরং এটি কয়েক দশক ধরে চলা জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের ফসল। স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় আমাদের জাতীয় নেতৃবৃন্দ যে আদর্শ ও স্বপ্নের কথা বলেছিলেন, যেমন— সমতা, নাগরিক মর্যাদা ও সার্বভৌমত্ব, সেগুলোরই চূড়ান্ত বাস্তবায়ন ঘটেছে সংবিধানে। নেহরুর প্রস্তাবিত ‘আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রস্তাব’ ছিল মূলত জাতীয় আন্দোলনের মূল দাবিগুলোর একটি সুশৃঙ্খল প্রকাশ। সংগ্রামের মাধ্যমে ভারতবাসী যে গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ অর্জন করেছিল, সংবিধান প্রণেতারা সেই নৈতিক ভিত্তিকেই রাষ্ট্রের দর্শনে রূপান্তর করেছেন। তাই বলা যায়, এটি স্বাধীনতা সংগ্রামের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণের একটি শক্তিশালী দলিল।
৩। সংবিধানের প্রস্তাবনায় বর্ণিত ‘ন্যায়বিচার, স্বাধীনতা ও সাম্য’— এই আদর্শগুলোর গুরুত্ব ব্যাখ্যা করো।
উত্তরঃ এই আদর্শগুলোর গুরুত্ব বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
(i) ন্যায়বিচার: সংবিধানের দর্শনে ন্যায়বিচার কেবল আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এটি মূলত তিনটি দিক নিয়ে গঠিত— সামাজিক,অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ন্যায়বিচার।
সামাজিক ন্যায়বিচার: এর অর্থ হলো সমাজে কোনো বিশেষ সম্প্রদায় বা গোষ্ঠী যেন জাতি,ধর্ম বা বর্ণের ভিত্তিতে বৈষম্যের শিকার না হয়।
অর্থনৈতিক ন্যায়বিচার: এটি নিশ্চিত করে যে প্রতিটি নাগরিক যেন বঞ্চনা থেকে মুক্তি পায় এবং জীবনধারণের জন্য প্রয়োজনীয় সম্পদ ও সুযোগের সমবণ্টন ঘটে।
(ii) স্বাধীনতা: স্বাধীনতার অর্থ হলো প্রতিটি নাগরিকের ব্যক্তিত্ব বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় পরিবেশ নিশ্চিত করা। প্রস্তাবনায় চিন্তা, মতপ্রকাশ, বিশ্বাস, ধর্ম এবং উপাসনার স্বাধীনতার কথা বলা হয়েছে।
মৌলিক অধিকারের সুরক্ষা: এই স্বাধীনতার মাধ্যমে নাগরিকরা ভয়হীনভাবে নিজেদের মতামত জানাতে পারে এবং পছন্দমতো ধর্ম পালন করতে পারে।
সীমাবদ্ধতা: তবে মনে রাখা প্রয়োজন যে, স্বাধীনতা মানেই স্বেচ্ছাচারিতা নয়; অন্য নাগরিকদের অধিকার ও সামাজিক শৃঙ্খলার ক্ষতি না করে নিজের স্বাধীনতা উপভোগ করাই হলো এর মূল দর্শন।
(iii) সাম্য: সাম্যের আদর্শটি ভারতীয় সমাজের দীর্ঘদিনের ভেদাভেদ ও অসাম্য দূর করতে সাহায্য করে। প্রস্তাবনায় সাম্যকে মূলত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে— পদমর্যাদার সমতা এবং সুযোগের সমতা।
আইনের চোখে সমতা: এর মাধ্যমে নিশ্চিত করা হয় যে ভারতের সীমানার মধ্যে প্রতিটি নাগরিক আইনের চোখে সমান সুরক্ষা পাবে এবং সেখানে কোনো জাতি-ধর্ম বা লিঙ্গের বৈষম্য থাকবে না।
৪। সংবিধানের দর্শনে অনগ্রসর ও সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের অধিকার সুরক্ষায় কী কী ব্যবস্থা রাখা হয়েছে?
উত্তরঃ এই সুরক্ষামূলক ব্যবস্থাগুলি বিস্তারিতভাবে আলোচনা করা হলো:
(i) ঐতিহাসিক ও নৈতিক ভিত্তি: ভারতের সংবিধান প্রণেতারা জানতেন যে প্রকৃত গণতন্ত্র কেবল সংখ্যাগরিষ্ঠের শাসন নয়। ১৯৪৬ সালে জওহরলাল নেহরুর উত্থাপিত ‘আদর্শ ও লক্ষ্যের প্রস্তাব’-এ স্পষ্টভাবে অঙ্গীকার করা হয়েছিল যে ভারতের অনগ্রসর, উপজাতি, তফসিলি জাতি এবং সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের জন্য উপযুক্ত রক্ষণাবেক্ষণ ও সুরক্ষার ব্যবস্থা রাষ্ট্র নিশ্চিত করবে।
(ii) সামাজিক ন্যায়বিচার ও সমতার আদর্শ: সংবিধানের দর্শনে ‘সাম্য’ কেবল পুঁথিগত অধিকার নয়। সংবিধানের ১৬ (৪) নম্বর অনুচ্ছেদে উল্লেখ করা হয়েছে যে, রাষ্ট্রের অধীনে থাকা চাকরিতে যদি কোনো অনুন্নত শ্রেণীর নাগরিকদের পর্যাপ্ত প্রতিনিধিত্ব না থাকে, তবে তাঁদের জন্য বিশেষ সংরক্ষণের ব্যবস্থা করলে সমতার অধিকার ক্ষুণ্ন হয়েছে বলে ধরা হবে না।
(iii) সাংস্কৃতিক ও শিক্ষার অধিকার: সংবিধানের দর্শনে বৈচিত্র্যই হলো ভারতের শক্তি। ভাষাগত ও ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিজস্ব সংস্কৃতি ও ভাষা রক্ষা করার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হয়েছে। সংখ্যালঘুরা যাতে নিরাপত্তার অভাব বোধ না করে, সেজন্য তাঁদের নিজস্ব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থাপন ও পরিচালনার অধিকার দেওয়া হয়েছে।
(iv) রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব সুনিশ্চিত করা: সংবিধান কেবল অধিকারের ঘোষণা দেয়নি, বরং ক্ষমতার অংশীদারিত্ব নিশ্চিত করেছে। লোকসভা এবং রাজ্য বিধানসভাগুলোতে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতিদের জন্য আসন সংরক্ষণের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।
৫। ভারতীয় সংবিধানের দর্শনে আন্তর্জাতিকতাবোধ এবং বিশ্বশান্তি সম্পর্কে কী বলা হয়েছে?
উত্তরঃ ভারতীয় সংবিধানের দর্শনের একটি অনন্য বৈশিষ্ট্য হলো এটি কেবল দেশের সীমানার মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। এর দর্শনে বিশ্ব ভ্রাতৃত্ব এবং আন্তর্জাতিক শান্তির আদর্শকে বিশেষ স্থান দেওয়া হয়েছে। সংবিধানের প্রণেতারা অঙ্গীকার করেছিলেন যে ভারত বিশ্ব দরবারে তার পূর্ণ ও সম্মানিত স্থান গ্রহণ করবে এবং বিশ্ব শান্তি ও মানবজাতির সাধারণ কল্যাণে সক্রিয় অবদান রাখবে। প্রস্তাবনায় যে ভ্রাতৃত্বের কথা বলা হয়েছে, তা কেবল নাগরিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি সারা বিশ্বের মানুষের প্রতি মৈত্রীর বার্তাও দেয়। এই উদার ও মহৎ দর্শনের কারণেই ভারতীয় সংবিধান সারা বিশ্বের কাছে এক অনুকরণীয় আদর্শ হয়ে উঠেছে।


