Class 10 Bengali MIL Important Chapter 18 শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ Question Answer As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 10 Bengali MIL Important Chapter 18 শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ Solutions and select need one. Class 10 Bengali MIL Additional Notes Download PDF. SEBA Class 10 Bengali MIL Important Notes.
Class 10 Bengali MIL Important Chapter 18 শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 10 Bengali MIL Additional Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given SEBA Class 10 Bengali MIL Important Solutions for All Chapters, You can practice these here.
শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ
Chapter: 18
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ‘শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ’ পাঠটি কার রচনা?
উত্তরঃ ‘শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ’ পাঠটি কথাসাহিত্যিক শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের রচনা।
২। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় কত খ্রিস্টাব্দে এবং কোথায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন?
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায় ১৮৭৬ খ্রিস্টাব্দের ১৫ সেপ্টেম্বর পশ্চিমবঙ্গের হুগলি জেলার দেবানন্দপুর গ্রামে জন্মগ্রহণ করেছিলেন।
৩। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতামাতার নাম কী ছিল?
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের পিতার নাম মতিলাল চট্টোপাধ্যায় এবং মাতার নাম ভুবনেশ্বরী দেবী।
৪। ‘শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ’ গদ্যাংশটি লেখকের কোন উপন্যাসের অংশবিশেষ?
উত্তরঃ এই গদ্যাংশটি লেখকের বিখ্যাত ‘শ্রীকান্ত’ উপন্যাসের অংশবিশেষ।
৫। শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুটি বিখ্যাত উপন্যাসের নাম লেখো।
উত্তরঃ শরৎচন্দ্র চট্টোপাধ্যায়ের দুটি বিখ্যাত উপন্যাস হলো ‘চরিত্রহীন’ এবং ‘গৃহদাহ’।
৬। গভীর রাতে বনের মধ্য থেকে কোন সুরে বাঁশি বাজার শব্দ আসছিল?
উত্তরঃ গভীর রাতে বনের মধ্য থেকে সহজ ‘রামপ্রসাদী’ সুরে মিষ্টি বাঁশি বাজার শব্দ আসছিল।
৭। বনের মধ্যে সাপ ও বাঘের ভয় থাকা সত্ত্বেও কে একা একা নদীপথে চলাফেরা করত?
উত্তরঃ বনের মধ্যে ভয় ও সাপের কামড়ের আশঙ্কা থাকা সত্ত্বেও ইন্দ্রনাথ একা একা চলাফেরা করত।
৮। ইন্দ্রনাথ কেন স্কুল থেকে পালিয়েছিল এবং আর কখনো স্কুলে যায়নি?
উত্তরঃ হেডমাস্টার মহাশয় অন্যায়ভাবে ইন্দ্রনাথের মাথায় ‘গাঁধার টুপি’ দেওয়ার আয়োজন করায় সে ক্ষুব্ধ হয়ে স্কুল থেকে পালিয়েছিল।
৯। স্কুলে পন্ডিতজির ক্লাসে ইন্দ্রনাথ কী দুষ্টুমি করেছিল?
উত্তরঃ ক্লাসে পণ্ডিতজি ঘুমিয়ে পড়লে ইন্দ্রনাথ কাঁচি দিয়ে তাঁর গ্রন্থিবদ্ধ টিকিটি কেটে ছোট করে দিয়েছিল।
১০। মেজদার কঠোর শাসনে ছেলেদের পড়াশোনার সময় কতক্ষণ নির্ধারিত ছিল?
উত্তরঃ মেজদার কঠোর শাসনে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত ছেলেদের পড়াশোনার সময় নির্ধারিত ছিল।
১১। মেজদা পড়ার ঘরের শৃঙ্খলা বজায় রাখার জন্য কাগজের কী তৈরি করেছিলেন?
উত্তরঃ মেজদা পড়ার ঘরের জন্য বাইরে যাওয়ার, থুতু ফেলার, নাক ঝাড়ার এবং তেষ্টা পাওয়ার বিশ-ত্রিশখানা কাগজের টিকিট তৈরি করেছিলেন।
১২। ইন্দ্রনাথ ও শ্রীকান্তের বাড়িতে বাঘের সাজে কে আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল?
উত্তরঃ বারাসতের বাসিন্দা বহুরূপী শ্রীনাথ বাঘ সেজে এসে বাড়িতে বড় আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
১৩। বাঘের আসল রূপ দেখে পিসেমশাই ক্রুদ্ধ হয়ে কী আদেশ দিয়েছিলেন?
উত্তরঃ বাঘের আসল রূপ দেখে পিসেমশাই ক্রুদ্ধ হয়ে শ্রীনাথের রঙিন কাপড় জড়ানো খড়ের লেজ কেটে দেওয়ার আদেশ দিয়েছিলেন।
১৪। ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্তকে রাতে তাঁর ডিঙি নৌকায় করে কী করার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল?
উত্তরঃ ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্তকে রাতে তাঁর ডিঙি নৌকায় করে নদী থেকে মাছ ধরে আনার জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছিল।
১৫। ইন্দ্রনাথ ও শ্রীকান্ত কোন চরের কাছে জেলেদের জাল থেকে মাছ চুরি করতে গিয়েছিল?
উত্তরঃ ইন্দ্রনাথ ও শ্রীকান্ত সতুয়ার চড়ার কাছে জেলেদের জাল থেকে মাছ চুরি করতে গিয়েছিল।
দীর্ঘ প্রশ্ন উত্তর।
১। মেজদার পড়ার ঘরের শাসনব্যবস্থা এবং টিকিট পদ্ধতির বিবরণ নিজের ভাষায় লেখো।
উত্তরঃ শ্রীকান্ত ও তাঁর ভাইদের প্রতিদিন মেজদার কঠোর তত্ত্বাবধানে পড়ার ঘরে বসে পড়াশোনা করতে হতো। মেজদার পড়ার ঘরে পড়াশোনার সময় ছিল প্রতিদিন সন্ধ্যা সাড়ে সাতটা থেকে রাত নয়টা পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে ছেলেদের ঘরের বাইরে যাওয়ার বা কথা বলার কোনো অনুমতি ছিল না। মেজদা নিজে কাঁচি দিয়ে কাগজ কেটে বিশ-ত্রিশখানি টিকিট তৈরি করেছিলেন, যার উপর ‘বাইরে’, ‘থু থু ফেলা’, ‘নাকঝাড়া’ বা ‘তেষ্টা পাওয়া’ ইত্যাদি লেখা থাকত। কোনো ছেলের ঘরের বাইরে যাওয়ার বা জলের প্রয়োজন হলে তাকে সেই টিকিট মেজদার সামনে পেশ করতে হতো। মেজদা ঘড়ি দেখে টিকিটের উপর সময় লিখে সই করে দিতেন এবং সেই সময়টুকু রেজিস্টার খাতায় লিখে রাখতেন। এই অদ্ভুত ও কঠোর শৃঙ্খলার কারণে পড়ার ঘরে একটুও সময় নষ্ট করার উপায় ছিল না।
২। শ্রীনাথ বহুরূপীর বাঘ সেজে আসার ঘটনা এবং বাড়ির লোকদের বিভিন্ন প্রতিক্রিয়ার বর্ণনা দাও।
উত্তরঃ একদিন রাতে পড়ার ঘরে হঠাৎ এক ভয়ানক কাণ্ড ঘটে। শ্রীকান্তের পিঠের কাছে এক অদ্ভুত গর্জন এবং চিৎকার শোনা যায় যে বাঘ এসেছে। বাড়ির সবাই ভয়ে চিৎকার শুরু করে এবং মেজদা ভয়ে ফিট হয়ে প্রদীপ উল্টে দিয়ে ঘরের মেঝেতে পড়ে যান। বাড়ির দরোয়ানরা উঠোনে বাঘটিকে জাপটে ধরে বেদম মারধর করে আলোর সামনে নিয়ে আসে এবং দেখা যায় সে চোর নয়, বরং বৃদ্ধ রামকমল ভট্টাচার্য। রামকমল কাঁদতে কাঁদতে বলেন যে উঠোনে বাঘ নয়, একটি মস্ত ভালুক ছিল। অন্য ছেলেরা বলে সেটি নেকড়ে বাঘ এবং জ্ঞান ফেরার পর মেজদা বলেন সেটি ছিল রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার। অবশেষে যখন ইন্দ্রনাথ লণ্ঠন নিয়ে উঠোনের ডালিম গাছের ঝোপে গিয়ে দেখে, তখন জানা যায় যে সেটি কোনো বন্য পশু নয়, বরং বারাসতের বাসিন্দা শ্রীনাথ বহুরূপী বাঘ সেজে রোজগার করতে এসেছিল।
৩। ইন্দ্রনাথের চারিত্রিক বৈশিষ্ট্যের পরিচয় দাও এবং সে কেন অনন্য সাধারণ চরিত্র তা আলোচনা করো।
উত্তরঃ ‘শ্রীকান্ত ও ইন্দ্রনাথ’ পাঠে ইন্দ্রনাথ হলো এক নির্ভীক, স্বাধীনচেতা ও মুক্তপ্রাণের কিশোর। তার মনে কোনো প্রকার ভয় বা ডর বলতে কিছু ছিল না; সাপ, বাঘ, ঝড়-জল বা অন্ধকার বনকে সে বিন্দুমাত্র পরোয়া করত না। বিদ্যালয়ের হেডমাস্টার মহাশয় অন্যায়ভাবে তাকে ‘গাঁধার টুপি’ পরাতে চাইলে সে আত্মসম্মান রক্ষার্থে স্কুল প্রাচীর ডিঙিয়ে চলে যায় এবং আর কখনও স্কুলে ফেরেনি। সে যেমন সাহসী ও দুঃসাহসিক কাজে পটু, তেমনই তার হৃদয় ছিল মানুষের প্রতি গভীর ভালোবাসায় ও দয়া-মায়ায় পূর্ণ। যেকোনো বিপদের মুখে সে নিজের জীবন বাজি রেখে অপরকে রক্ষা করতে দ্বিধা করত না। তার এই অসাধারণ সাহস, পরোপকারিতা এবং নিঃস্বার্থ বন্ধুপীতির কারণেই সে বাংলা সাহিত্যে এক অনন্য সাধারণ চরিত্র হিসেবে স্মরণীয় হয়ে রয়েছে।
৪। ইন্দ্রনাথ ও শ্রীকান্তের রাতের বেলা গঙ্গার বুকে মাছ ধরতে যাওয়ার রোমাঞ্চকর অভিযানের বিবরণ দাও।
উত্তরঃ এক দুর্যোগপূর্ণ অন্ধকার রাতে ইন্দ্রনাথ শ্রীকান্তকে সাথে নিয়ে গঙ্গার বুকে ডিঙি নৌকা ভাসিয়ে মাছ ধরার অভিযানে বের হয়। প্রথমে তারা গা ছমছমে গোসাই-বাগানের অন্ধকার পথ অতিক্রম করে গঙ্গার তীরে পৌঁছায়। বর্ষার গঙ্গার তীব্র স্রোতে তাদের ছোট্ট ডিঙিটি খড়কুটোর মতো ভাসতে থাকে, কিন্তু ইন্দ্রনাথের দক্ষ চালনায় তারা এগিয়ে চলে। তারা সতুয়ার চড়ার কাছে জেলেদের পেতে রাখা ‘মায়াজাল’ থেকে চোখের নিমেষে কয়েকটি বড় বড় রুই ও কাতলা মাছ চুরি করে নিজেদের নৌকায় তুলে নেয়। কিন্তু জেলেরা টের পেয়ে তাদের চারটি নৌকা নিয়ে তাড়া করলে তারা চরম বিপদে পড়ে। এই চরম সংকটের মুহূর্তেও ইন্দ্রনাথ অদম্য সাহসের পরিচয় দেয় এবং দুজনে মিলে সেই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে রক্ষা পায়।
৫। জেলেদের তাড়া খাওয়ার পর ইন্দ্রনাথ কীভাবে বুদ্ধি ও শারীরিক শক্তির সাহায্যে শ্রীকান্তসহ নৌকাটিকে রক্ষা করেছিল তা বিস্তারিত লেখো।
উত্তরঃ সতুয়ার চড়ায় মাছ চুরি করার পর জেলেরা তাদের টের পেয়ে চারটি নৌকা নিয়ে তাড়া করে। পালানোর কোনো পথ না দেখে ইন্দ্রনাথ চতুরতার সাথে তাদের ছোট্ট ডিঙিটিকে রাস্তার পাশের একটি ঘন ভুট্টা-ক্ষেতের মধ্যে ঢুকিয়ে দেয়। কিন্তু ঘন জঙ্গলে কাদা ও পানির কারণে নৌকা আর এক হাতও সামনে এগোচ্ছিল না। তখন ইন্দ্রনাথ নিজের কোমরে রশি বেঁধে জলে নেমে পড়ে এবং বুকসমান কাদা ও জলের মধ্য দিয়ে টেনে টেনে নৌকাটিকে বড় গঙ্গার মুখে নিয়ে যেতে থাকে। সেই বনের জলময় ভুট্টা-ক্ষেতের ভেতর গাছের ডালপালা থেকে বিষধর সাপ জলে আছড়ে পড়ছিল, যা দেখে শ্রীকান্ত ভয়ে কাঠ হয়ে যায়। কিন্তু ইন্দ্রনাথ কোনো ভ্রূক্ষেপ না করে চরম সাহসের সাথে একা হাতে নৌকাটিকে টেনে বড় গঙ্গার তীব্র স্রোতে ভাসিয়ে দেয় এবং শ্রীকান্তকে নিশ্চিত মৃত্যুর হাত থেকে রক্ষা করে।

