Class 11 Logic and Philosophy Chapter 9 বাস্তববাদ ও ভাববাদ

Class 11 Logic and Philosophy Chapter 9 বাস্তববাদ ও ভাববাদ Question Answer to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Assam Board Bengali Medium Class 11 Logic and Philosophy Chapter 9 বাস্তববাদ ও ভাববাদ and select needs one.

Class 11 Logic and Philosophy Chapter 9 বাস্তববাদ ও ভাববাদ

Join Telegram channel
Follow us:
facebook sharing button
whatsappp sharing button
instagram sharing button

Also, you can read the AHSEC book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per AHSEC (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of AHSEC All Subject Solutions. Here we have given Assam Board Class 11 Logic and Philosophy Chapter 9 বাস্তববাদ ও ভাববাদ Bengali Medium Solutions for All Subject, You can practice these here.

বাস্তববাদ ও ভাববাদ

পাঠ:

দ্বিতীয় খণ্ড

 অতি- সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। কয়েকজন বাস্তববাদী দার্শনিকের নাম লেখো।

উত্তরঃ লক্, পেরি, আলেকজাণ্ডার।

প্রশ্ন ২। কয়েকজন ভাববাদী দার্শনিকের নাম লেখো। 

উত্তরঃ বার্কলে, কান্ট, হেগেল, প্লেটো প্রমুখ।

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Join Now

প্রশ্ন ৩। কীসের ফলশ্রুতিতে জ্ঞান উৎপন্ন হয়?

উত্তরঃ জ্ঞাতা এবং জ্ঞেয় বস্তুর মধ্যে সম্পর্কের ফলে জ্ঞান উৎপন্ন হয়।

প্রশ্ন ৪। জ্ঞানের বিষয়বস্তু সম্পর্কিত দুটি প্রধান মতবাদের নাম কী? 

উত্তরঃ বাস্তববাদ ও ভাববাদ।

প্রশ্ন ৫। বিজ্ঞানসম্মত বা বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদের প্রবর্তক কে?

উত্তরঃ জন লক্।

প্রশ্ন ৬। বাস্তববাদের মূল বক্তব্য কী?

উত্তরঃ জ্ঞানের বিষয়বস্তুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার মন-নিরপেক্ষ।

প্রশ্ন ৭। বাস্তববাদের সরলতম রূপ কী?

উত্তরঃ বাস্তববাদের সরলতম রূপ হল সরল বা লৌকিক বাস্তববাদ। 

প্রশ্ন ৮। ‘সরল বাস্তববাদ’ শব্দটি কে, কখন, কোথায় প্রথম ব্যবহার করেছিলেন?

উত্তরঃ ‘ডুর‍্যান্ট ড্রেক’ ১৯৩৩ সালে প্রকাশিত তাঁর বই Imitation to Philosophy- তে সর্বপ্রথম ‘সরল বাস্তববাদ’ শব্দটি ব্যবহার করেছিলেন।

প্রশ্ন ৯। কোন্ দার্শনিক সরল বাস্তববাদকে লৌকিক বাস্তববাদ এবং প্রাকৃতিক বাস্তববাদ বলেছেন?

উত্তরঃ সেলারস্ (R. W. Sellers) নামক দার্শনিক।

প্রশ্ন ১০। সরল বাস্তববাদ কাকে বলে?

উত্তরঃ যে মতবাদ জ্ঞেয়-বস্তু তার গুণাবলিসহ জ্ঞাতার মন- নিরপেক্ষভাবে অস্তিত্বশীল থাকে বলে বিশ্বাস করে তাকে সরল বাস্তববাদ বলে। 

প্রশ্ন ১১। সরল বাস্তববাদ কি ভ্রান্ত প্রত্যক্ষকে ব্যাখ্যা করতে পারে?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ১২। An Essay Concerning Human Understanding বইটি কার লেখা?

উত্তরঃ জন লক্।

প্রশ্ন ১৩। লক্ কয় প্রকার গুণের কথা উল্লেখ করেছেন?

উত্তরঃ দুই প্রকার—মৌলিক বা মুখ্য গুণ ও গৌণ গুণ।

প্রশ্ন ১৪। মৌলিক গুণ কোথায় থাকে?

উত্তরঃ বস্তুর মধ্যে।

প্রশ্ন ১৫। গৌণ গুণ কোথায় থাকে?

উত্তরঃ মানুষের মনে।

প্রশ্ন ১৬। সরল বাস্তববাদের অপর নামগুলি কী?

উত্তরঃ লৌকিক বাস্তববাদ এবং প্রত্যক্ষ বাস্তববাদ। 

প্রশ্ন ১৭। সরল বাস্তববাদ অনুযায়ী আমরা কি বস্তুকে প্রত্যক্ষভাবে জানতে পারি?

উত্তরঃ হ্যাঁ। 

প্রশ্ন ১৮। বাস্তববাদ অনুযায়ী বস্তুর অস্তিত্ব কি মনের উপরে নির্ভরশীল?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ১৯। বাস্তববাদীদের মতে, জ্ঞান এবং জ্ঞানের বিষয়বস্তুর মধ্যে অন্তর্নিহিত সম্পর্ক আছে কি?

উত্তরঃ না, নেই।

প্রশ্ন ২০। বাস্তববাদের প্রতিষ্ঠাতা কে? 

উত্তরঃ প্রাচীন গ্রিক পরমাণুবাদীগণ।

প্রশ্ন ২১। সরল বাস্তববাদ ভ্রান্ত পর্যবেক্ষণ, স্বপ্ন ইত্যাদিকে কি ব্যাখ্যা করতে পারে?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ২২। কে মৌলিক গুণ ও গৌণ গুণের মধ্যে পার্থক্য নির্দেশ করেছিলেন?

উত্তরঃ জন লক্।

প্রশ্ন ২৩। পাশ্চাত্য দর্শনে ভাববাদের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তরঃ গ্রিক দার্শনিক প্লেটো।

প্রশ্ন ২৪। আত্মগত বা আত্মনিষ্ঠ ভাববাদের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তরঃ জর্জ বার্কলে।

প্রশ্ন ২৫। বস্তুগত ভাববাদের প্রতিষ্ঠাতা কে?

উত্তরঃ হেগেল। 

প্রশ্ন ২৬। ভাববাদ কি জ্ঞান-বিজ্ঞানের একটি মতবাদ?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ২৭। বস্তুগত ভাববাদ মতে জগতের অস্তিত্ব কীসের উপরে নির্ভর করে?

উত্তরঃ ঈশ্বরের প্রত্যক্ষের উপর।

প্রশ্ন ২৮। ভাববাদ কি আধ্যাত্মিকতা সমর্থন করে?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ২৯। জর্জ বার্কলের ভাববাদের নাম কী?

উত্তরঃ আত্মগত ভাববাদ। 

প্রশ্ন ৩০। “অস্তিত্ব প্রত্যক্ষের উপরে নির্ভরশীল।” কোন্ দার্শনিক বলেছিলেন?

উত্তরঃ জর্জ বার্কলে।

প্রশ্ন ৩১। ভাববাদ অনুযায়ী সকল বস্তু কি মনের উপরে নির্ভর করে?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ৩২। ভাববাদ অনুযায়ী ঈশ্বর, আত্মা ইত্যাদির কি অস্তিত্ব আছে?

উত্তরঃ হ্যাঁ আছে। 

প্রশ্ন ৩৩। ভাববাদ অনুযায়ী আমরা বস্তুকে না বস্তুর গুণকে প্রত্যক্ষ করি?

উত্তরঃ বস্তুর গুণকে।

প্রশ্ন ৩৪। বার্কলে কি বস্তুর মৌলিক এবং গৌণ গুণের পার্থক্য স্বীকার করেন?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ৩৫। আত্মগত ভাববাদ কি বস্তুর অস্তিত্বের ধারাবাহিকতা, স্থিতি এবং ঐক্য ব্যাখ্যা করতে পারে?

উত্তরঃ না, পারে না।

প্রশ্ন ৩৬। “যা কিছু বুদ্ধিগ্রাহ্য তাই সত্য, এবং যা কিছু সত্য, তাই বুদ্ধিগ্রাহ্য”—উক্তিটি কার?

উত্তরঃ হেগেলের।

প্রশ্ন ৩৭। হেগেলের মতে দ্বান্দ্বিক গতির তিনটি মুহূর্ত কী কী?

উত্তরঃ বাদ, প্রতিবাদ এবং সমন্বয়। 

প্রশ্ন ৩৮। হেগেলের মতে পরমতত্ত্ব কী?

উত্তরঃ ‘পরম ধীশক্তি’ বা ‘পরম প্রজ্ঞা’।

প্রশ্ন ৩৯। ‘আত্মকেন্দ্রিকতাবাদ’ কী?

উত্তরঃ আত্মকেন্দ্রিকতাবাদে শুধু আমার মন এবং তার ধারণাসমূহকেই স্বীকার করা হয়।

প্রশ্ন ৪০। বার্কলে কি ‘আত্মকেন্দ্রিকতাবাদী’ দার্শনিক?

উত্তর। না।

প্রশ্ন ৪১। বার্কলের ভাববাদকে আত্মগত এবং মনস্তাত্ত্বিক বলা হয় কেন?

উত্তরঃ কারণ বার্কলের মতে ব্যক্তিচেতনাই বহির্জগতের অস্তিত্বের ভিত্তি। 

প্রশ্ন ৪২। “বার্কলে তার ভাববাদকে সসীম মন থেকে অসীম মনে উন্নীত করছেন।” উক্তিটি কি সত্য?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ৪৩। “সকল বস্তুর ধারণা স্থায়ীভাবে ঈশ্বরের মনে থাকে।” উক্তিটি কার?

উত্তরঃ জর্জ বার্কলে।

প্রশ্ন ৪৪। কার মতে, ‘চিন্তা এবং সত্তা অভিন্ন’?

উত্তরঃ হেগেলের মতে।

প্রশ্ন ৪৫। কোন্ ভাববাদকে ‘পরম ভাববাদ’ও বলা হয়?

উত্তরঃ হেগেলের বস্তুগত ভাববাদ। 

প্রশ্ন ৪৬। ‘পূর্ব প্রতিষ্ঠিত শৃঙ্খলাবাদ’ তত্ত্বটির প্রবর্তক কে?

উত্তরঃ লাইবনিজ।

প্রশ্ন ৪৭। বার্কলে কোন্ প্রকারের ভাববাদের প্রবর্তক?

উত্তরঃ আত্মগত ভাববাদ। 

প্রশ্ন ৪৮। হেগেল কোন্ প্রকারের ভাববাদের প্রবর্তক?

উত্তরঃ বস্তুগত ভাববাদ।

প্রশ্ন ৪৯। কান্ট কোন্ প্রকারের ভাববাদের প্রবর্তক? 

উত্তরঃ অতীন্দ্রিয় ভাববাদ বা অবভাসিক ভাববাদ।

প্রশ্ন ৫০। কার মতবাদকে ‘বহুত্ববাদী ভাববাদ’ বলা হয়? 

উত্তরঃ লাইনিজের মতবাদকে।

শুদ্ধ উত্তর দাওঃ

১। বাস্তববাদ অনুযায়ী জ্ঞাত বস্তুর স্বাধীন অস্তিত্ব আছে/নেই।

উত্তরঃ আছে।

২। বাস্তববাদের মতে, বস্তুর অস্তিত্ব মানুষের জ্ঞান-নির্ভর/ জ্ঞান-নির্ভর নয়। 

উত্তরঃ জ্ঞান-নির্ভর নয়।

৩। বাস্তববাদের মতে, মনের বাইরে বস্তুজগতের মন-নির্ভর/ জ্ঞান-নির্ভর অস্তিত্ব আছে।

উত্তরঃ জ্ঞান-নির্ভর অস্তিত্ব আছে।

৪। সরল বাস্তববাদ ভ্রান্ত প্রত্যক্ষ, স্বপ্ন ইত্যাদি ব্যাখ্যা করতে পারে/পারে না।

উত্তরঃ পারে না।

৫। বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদের প্রবর্তক লক্/হিউম/বার্কলে।

উত্তরঃ লক্।

৬। মৌলিক গুণ বা মুখ্য গুণ এবং গৌণ গুণের মধ্যে পার্থক্য নিরূপণ করেছিলেন লক/বার্কলে/হিউম।

উত্তরঃ লক্।

৭। সরল বাস্তববাদ মর্তে, বস্তুর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ-নির্ভর/ প্রত্যক্ষ-নির্ভর নয়।

উত্তরঃ প্রত্যক্ষ-নির্ভর।

৮। ভাববাদ অনুযায়ী জাত বস্তুর স্বাধীন অস্তিত্ব আছে/নেই।

উত্তরঃ নেই।

৯। ভাববাদের মতে বস্তুর অস্তিত্ব তাকে জানা বা না-জানার উপর নির্ভর করে/করে না।

উত্তরঃ নির্ভর করে।

১০। ভাববাদ অনুযায়ী মনের বাইরে বস্তু জগতের অস্তিত্ব মন-নির্ভর/মন-নির্ভর নয়।

উত্তরঃ মন-নির্ভর।

১১। ভাববাদের মতে জ্ঞানের ক্ষেত্রে বস্তুর/মনের গুরুত্ব বেশি।

উত্তরঃ মনের গুরুত্ব।

১২। “বস্তুর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর” কথাটি লক্/বার্কলে /হিউমের।

উত্তরঃ বার্কলের।

১৩। আত্মগত ভাববাদের প্রবর্তক লক্/বার্কলে/হিউম।

উত্তরঃ বার্কলে।

১৪। বস্তুগত ভাববাদের প্রবর্তক কান্ট/হেগেল।

উত্তরঃ হেগেল।

১৫। বার্কলে মৌলিক বা মুখ্য গুণ এবং গৌণ গুণের পার্থক্য স্বীকার করেন/করেন না।

উত্তরঃ করেন না।

১৬। কান্টের মতে অতীন্দ্রিয় জগতকে জানা যায়/যায় না।

উত্তরঃ যায় না।

১৭। হেগেল বুদ্ধি ও সত্তার অভিন্নতা স্বীকার করেন/করেন না।

উত্তরঃ স্বীকার করেন।

১৮। বার্কলে আত্মকেন্দ্রিক দার্শনিক ছিলেন/ছিলেন না।

উত্তরঃ ছিলেন না।

১৯। হেগেলের মতে চিৎ সত্তার প্রকাশ হয় মানুষের মনে/বিশ্ব প্রকৃতিতে। 

উত্তরঃ মানুষের মনে।

২০। বার্কলে লকের স্বীকৃত জড়বস্তুর অস্তিত্ব স্বীকার/অস্বীকার করেছেন। 

উত্তরঃ অস্বীকার করেছেন।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। বাস্তববাদ কাকে বলে?

উত্তরঃ যে মতবাদ জ্ঞেয় বস্তুর স্বাধীন, মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব আছে বলে স্বীকার করে, তাকে বাস্তববাদ বলে।

বাস্তববাদ মতে, বস্তুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার জ্ঞানের উপর নির্ভরশীল নয়। জ্ঞাতার মনের বাইরে বস্তুর নিজস্ব সত্তা আছে। বাস্তববাদ জ্ঞান- নিরপেক্ষ বা মন-নিরপেক্ষ বস্তুর স্বতন্ত্র বাহ্য সত্তা স্বীকার করে।

প্রশ্ন ২। সরল বাস্তববাদকে কেন ‘প্রত্যক্ষ বাস্তববাদ’ বলা হয়? 

উত্তরঃ সরল বাস্তববাদ মতে, আমাদের ইন্দ্রিয়ের সঙ্গে বস্তুর প্রত্যক্ষ সংযোগ হলে জ্ঞান সৃষ্টি হয়। আমাদের ইন্দ্রিয়গুলি বাহ্য বস্তু সম্পর্কে যে তথ্য দেয়, বাহ্য বস্তু হুবহু তাই। তাই সরল বাস্তববাদকে ‘প্রত্যক্ষ বাস্তববাদ’ বলে।

প্রশ্ন ৩। বাস্তববাদ কয় প্রকার ও কী কী? 

উত্তরঃ বাস্তববাদ নিম্নোক্ত চার প্রকারের হয়ঃ

(ক) সরল বাস্তববাদ।

(খ) বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদ বা প্রতীকবাদ।

(গ) নব্য বাস্তববাদ।

(ঘ) নব্য-সবিচার বাস্তববাদ।

প্রশ্ন ৪। সরল বাস্তববাদ কাকে বলে?

উত্তরঃ সরল বাস্তববাদ মতে, আমরা আমাদের ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে যে বাহ্য জগতকে দেখতে পাই, তার মন-নিরপেক্ষ, স্বাধীন, স্বতন্ত্র অস্তিত্ব আছে। এই বস্তুজগৎ আমাদের অর্থাৎ জ্ঞাতার মনের উপরে নির্ভরশীল নয়। বাহ্যজগতকে আমরা ইন্দ্রিয়ের মাধ্যমে সরাসরি প্রত্যক্ষ করি এবং বাহ্য বস্তুগুলো যেমন, তাদের সেভাবেই প্রত্যক্ষ করি। এই মতবাদ অনুসারে, আমরা বাহ্য বস্তুর অস্তিত্ব যেমন প্রত্যক্ষ করি, তেমনি তার গুণগুলিও অর্থাৎ রূপ, রস, গন্ধ, স্পর্শ, আকার, ওজন ইত্যাদিও প্রত্যক্ষ করি। আমাদের জ্ঞান বা চেতনা আলোকরশ্মির মতো বাহ্য বস্তুর সঙ্গে তার গুণগুলিকেও উদ্ভাসিত করে।

প্রশ্ন ৫। লকে্র বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদকে প্রতীকবাদ বা প্রতিনিধিমূলক বাস্তববাদ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ লকে্র মতে, মন বাইরের কোনো কিছুকে প্রত্যক্ষ করতে পারে না, কোন নিজের ধারণাগুলিকে প্রত্যক্ষ করতে পারে। এই ধারণাগুলি বস্তুর প্রতীক বা প্রতিবিম্ব বা প্রতিরূপ। আমরা প্রত্যক্ষভাবে আমাদের মনের ধারণাগুলিকে জানতে পারি। বস্তু সম্পর্কে আমাদের পরোক্ষ জ্ঞান হয় মাত্র। এই জ্ঞানের সত্যতা জানা যায় তখনই যখন ধারণার সঙ্গে বস্তুর মিল হয়। এই জন্যই লকে্র এই মতবাদকে ‘প্রতীকবাদ’ বা ‘প্রতিনিধিমূলক বাস্তববাদ বলে।

প্রশ্ন ৬। ভাববাদ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ যে মতবাদ জ্ঞানের বিষয়বস্তুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার মন-নির্ভর বলে বিশ্বাস করে, তাকে ভাববাদ বলে। ভাববাদ মতে, কোনো বস্তুরই জ্ঞান-নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র কোনো সত্তা নেই। জ্ঞাতার মনের বাইরে জ্ঞানের বিষয়বস্তুর স্বাধীন অস্তিত্ব থাকতে পারে না। মানুষের মন বা চেতনাই একমাত্র জ্ঞান-নিরপেক্ষ স্বতন্ত্র অস্তিত্বময়। আত্মা বা জ্ঞান, পরমতত্ত্ব ও বস্তুসত্তা মানুষের মনের উপরে নির্ভর করে।

প্রশ্ন ৭। ভাববাদ কয় প্রকার এবং কী কী?

উত্তরঃ ভাববাদ প্রধানত নিম্নলিখিত চার প্রকার।

(ক) প্লেটোর ভাববাদ।

(খ) বার্কলের আত্মগত ভাববাদ।

(গ) কান্টের অতীন্দ্রিয় ভাববাদ।

(ঘ) হেগেলের বস্তুগত ভাববাদ।

প্রশ্ন ৮। প্লেটোর ভাববাদ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ প্রাচীন গ্রিক দার্শনিক সক্রেটিস বলেছিলেন যে, প্রকৃত জ্ঞান সামান্য বা সাধারণ ধারণার মধ্য দিয়ে লাভ করা সম্ভব। প্লেটো এই কথাটি স্বীকার করেন। প্লেটো ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য বস্তুর সত্তা স্বীকার করেন না। তিনি বলেন, একমাত্র সামান্য ধারণার প্রকৃত সত্তা আছে। প্লেটো বিভিন্ন শ্রেণির ধারণা স্বীকার করেন যাদের মধ্যে সর্বোচ্চ ধারণা হল ‘মঙ্গল’ বা ‘শুভ’-র ধারণা। প্লেটো বলেন, দর্শনের প্রধান কাজ হল ধারণাসমূহের যথার্থ জ্ঞান অর্জন করা।

প্রশ্ন ৯। আত্মগত ভাববাদ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ আত্মগত ভাববাদ মতে, একমাত্র ধারণাকেই জানা যায় এবং ধারণার সত্তা আছে। প্রত্যক্ষকারীর মনের বাইরে বিশ্বপ্রকৃতির, যাকে সে প্রত্যক্ষ করে, কোনো বাস্তব সত্তা নেই। জর্জ বার্কলে আধুনিককালের সর্বপ্রথম যথার্থ ভাববাদী দার্শনিক বলে পরিচিত। বার্কলে লকের অভিজ্ঞতাবাদকে যুক্তিসম্মত পরিণতিতে পৌঁছে দিয়ে আত্মগত ভাববাদের প্রবর্তন করেন।

প্রশ্ন ১০। বার্কলের ‘প্রত্যক্ষতে বস্তু বিদ্যমান’ বা ‘অস্তিত্ব প্রতক্ষ্য নির্ভর’ কথাগুলোর অর্থ সংক্ষেপে ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ বার্কলের মতে, আমরা যা প্রত্যক্ষ করি, তা আমাদের মনের ধারণা, আমরা যা জ্ঞানলাভ করি তা সংবেদন এবং অন্তদর্শনের মাধ্যমে, অর্থাৎ প্রত্যক্ষের মাধ্যমে, প্রত্যক্ষে বস্তুর অস্তিত্ব বিদ্যমান। বার্কলের ঘোষণা ‘অস্তিত্ব প্রত্যক্ষিত হওয়ার ওপরে নির্ভর করে’, কোনো কিছুর অস্তিত্ব তাকে প্রত্যক্ষ করার ওপরে নির্ভর করে’ তাই বার্কলে বলেছেন একটি বস্তুর অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর (বস্তুটিকে দেখা, তাকে অনুভব করা ইত্যাদির ওপর তার অস্তিত্ব নির্ভরশীল), অর্থাৎ সত্তা হল জ্ঞাততা অথবা দৃশ্যতাই সত্তা।

প্রশ্ন ১১। বার্কলের আত্মগত ভাববাদ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ জর্জ বার্কলে আত্মগত ভাববাদের প্রবক্তা। বার্কলের মতে, জড়বস্তুর কোনো অস্তিত্ব নেই। বস্তু হল গুণের সমষ্টি। গুণ আমাদের মনের ধারণা ছাড়া কিছুই নয়। শুধু মন ও তার ধারণারই অস্তিত্ব আছে। বস্তুর অস্তিত্ব নির্ভর করে বস্তুর প্রত্যক্ষ হওয়ার উপরে, অর্থাৎ বস্তুকে প্রত্যক্ষ করলেই তার অস্তিত্ব স্বীকার করা সম্ভব, অন্যথায় নয়।

প্রশ্ন ১২। বার্কলেকে আত্মকেন্দ্ৰিকতাবাদী দার্শনিক বলা যায় না কেন? 

উত্তরঃ বার্কলের মতে, জড়বস্তুর ব্যক্তিমন নিরপেক্ষ অস্তিত্ব থাকলেও মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব নেই। কারণ, তারা ঈশ্বর কর্তৃক দৃশ্য হওয়াতে ঈশ্বরের মনের ধারণা হিসেবে বিরাজ করে। বার্কলে যদি তাঁর মতবাদে ঈশ্বরকে এভাবে না দেখাতেন, তাহলে তাঁর দর্শনকে আত্মকেন্দ্ৰিকতাবাদ বলা যেত।

আত্মকেন্দ্রিকতাবাদে শুধু আমার মন এবং তার ধারণাসমূহকে স্বীকার করা হয়। সেজন্য বার্কলে আত্মকেন্দ্রিকতাবাদী নন। 

প্রশ্ন ১৩। ‘অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর’ কথাটির অর্থ কী?

উত্তরঃ ‘অস্তিত্ব প্রত্যক্ষ নির্ভর’ কথাটির অর্থ হল বস্তুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার প্রত্যক্ষের উপরে নির্ভর করে, অর্থাৎ যে বস্তুকে প্রত্যক্ষ করা যায় না, তার কোনো অস্তিত্ব নেই। 

প্রশ্ন ১৪। দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি কাকে বলে?

উত্তরঃ দ্বান্দ্বিক পদ্ধতি পরমসত্তার আত্মপ্রকাশের পদ্ধতি। এই পদ্ধতির প্রথম স্তরে বিরোধ, দ্বিতীয় স্তরে দ্বন্দ্ব এবং তৃতীয় বা চূড়ান্ত স্তরে থাকে সমন্বয়। পরমসত্তা নিজের অভ্যন্তরীণ বিরুদ্ধ ভাবসমূহের সমন্বয় সাধন করে জগতের বিবর্তনের মধ্য দিয়ে নিজেকে প্রকাশ করেন।

প্রশ্ন ১৫। সরল বাস্তববাদকে কেন লৌকিক বাস্তববাদ বলা হয়? 

উত্তরঃ সাধারণ মানুষের বিশ্বাসের সঙ্গে এই মতবাদের সাদৃশ্য আছে বলে একে লৌকিক বাস্তববাদ বলা হয়।

প্রশ্ন ১৬। কোন্ মতবাদকে সাক্ষাৎ বাস্তববাদ বলে এবং কেন? 

উত্তরঃ সরল বাস্তববাদকে সাক্ষাৎ বাস্তববাদ বলে, কারণ এই মতানুসারে যেহেতু আমাদের মন সাক্ষাৎভাবে বস্তুর আসল স্বরূপ প্রত্যক্ষ করতে পারে।

১৭। সরল বাস্তববাদকে কেন ‘প্রাচীন বাস্তববাদ’ বলা হয়? 

উত্তরঃ সুপ্রাচীনকাল থেকে এই মতবাদ প্রচলিত আছে বলে সরল বাস্তববাদের অপর একটি নাম ‘প্রাচীন বাস্তববাদ’। 

প্রশ্ন ১৮। বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদকে ‘সবিচার বাস্তববাদ’ বলা হয় কেন?

উত্তরঃ লকের বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদটি বাহ্য বস্তুর গুণের বিশ্লেষণের ভিত্তিতে প্রতিষ্ঠিত বলে এই মতবাদকে ‘সবিচার বাস্তববাদ’ বলে। 

প্রশ্ন ১৯। কান্টের অতীন্দ্রিয় বা অভাসিক ভাববাদের মূল বিষয় কী? 

উত্তরঃ কান্টের মতে, বস্তুস্বরূপকে আমরা অভিজ্ঞতার মাধ্যমে জানতে পারি না। যা কিছুর সত্তা আছে বলে আমরা প্রত্যক্ষ করি, আসলে তা আমাদের মনেরই সৃষ্টি এবং বস্তুস্বরূপের অবভাসিক প্রকাশ। 

প্রশ্ন ২০। হেগলের ‘মূর্তসত্তা’ কী?

উত্তরঃ হেগলের ‘মূর্তসত্তা’ হল পরব্রহ্ম। সেই মূর্তসত্তা নিজেকে সসীম মন এবং সসীম জড়বস্তু হিসেবে প্রকাশ করেন এবং এদের বিরোধের অবসান ঘটান। বিশ্বজগৎ পরব্রহ্মের বাহ্যরূপ আর মন হল অসীম ব্রহ্মের সসীম প্রতিচ্ছায়া।

সংজ্ঞা দাওঃ

১। বাস্তববাদঃ যে মতবাদ জ্ঞেয় বস্তুর মন-নিরপেক্ষ, স্বাধীন এবং স্বতন্ত্র বাহ্য সত্তা আছে বলে বিশ্বাস করে, সেই মতবাদকে বাস্তববাদ বলে।

২। সরল বাস্তববাদঃ যে মতবাদ অনুসারে বাহ্যজগতের মন- নিরপেক্ষ অস্তিত্ব আছে এবং সকল গুণসহ বাহ্য জগৎ যেভাবে আছে ঠিক সেভাবেই তার সম্পর্কে আমরা প্রত্যক্ষ জ্ঞান লাভ করি, তাকে সরল বাস্তববাদ বলে।

৩। বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদঃ যে মতবাদ অনুযায়ী বস্তুর স্বতন্ত্র এবং মন-নিরপেক্ষ অস্তিত্ব আছে এবং আমরা বস্তুর প্রতিরূপ বা প্রতীকের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে, ধারণার মাধ্যমে বস্তুটি সম্পর্কে জ্ঞান লাভ করি, তাকে বৈজ্ঞানিক বাস্তববাদ বলে। 

৪। আত্মগত ভাববাদঃ যে মতবাদ বাহ্যবস্তুর অস্তিত্ব ব্যক্তির মন-নির্ভর বা প্রত্যক্ষ নির্ভর বলে স্বীকার করে, তাকে আত্মগত ভাববাদ বলে। 

 যে মতবাদ জগতের সকল সত্তারই মূল ভিত্তি, পরম মন বা প৫। বস্তুগত ভাববাদঃরম ধারণা বলে বিশ্বাস করে, তাকে বস্তুগত ভাববাদ বলে।

৬। ভাববাদঃ যে মতবাদ জ্ঞেয় বস্তুর অস্তিত্ব জ্ঞাতার মন-নির্ভর বলে বিশ্বাস করে, তাকে ভাববাদ বলে। এই দার্শনিক মতবাদ বলে যে, জ্ঞাতার মনের বাইরে জ্ঞানের বিষয়বস্তুর স্বাধীন অস্তিত্ব থাকতে পারে না।

৭। পূর্বস্থাপিত শৃঙ্খলাবাদঃ বহুত্ববাদী ভাববাদী দার্শনিক লাইবনিজের মতে, ঈশ্বর সর্বশ্রেষ্ঠ চিৎ পরমাণু বা মোনাড়। ঈশ্বর চিৎ পরমাণুগুলির মধ্যে বিশ্ব সৃষ্টির আগে থেকেই সংহতি স্থাপন করে রেখেছেন। লাইবনিজের এই মতবাদকে ‘পূর্বস্থাপিত শৃঙ্খলাবাদ’ বলা হয়।

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

Scroll to Top