Class 11 Logic and Philosophy Chapter 3 অনুমান

Class 11 Logic and Philosophy Chapter 3 অনুমান Question Answer to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Assam Board Bengali Medium Class 11 Logic and Philosophy Chapter 3 অনুমান and select needs one.

Class 11 Logic and Philosophy Chapter 3 অনুমান

Join Telegram channel
Follow us:
facebook sharing button
whatsappp sharing button
instagram sharing button

Table of Contents

Also, you can read the AHSEC book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per AHSEC (CBSE) Book guidelines. These solutions are part of AHSEC All Subject Solutions. Here we have given Assam Board Class 11 Logic and Philosophy Chapter 3 অনুমান Bengali Medium Solutions for All Subject, You can practice these here.

ভাগ – ১ অনুমান

পাঠ:

প্রথম খণ্ড

 অতি- সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। অনুমান কী?

উত্তরঃ পূর্বলব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে অপর বা নতুন জ্ঞানে উপনীত হওয়ার যে প্রক্রিয়া, তাকে অনুমান বলে।

প্রশ্ন ২। অনুমান প্রধানত কয় প্রকার?

WhatsApp Group Join Now
Telegram Group Join Now
Instagram Join Now

উত্তরঃ দুই প্রকার।

প্রশ্ন ৩। অনুমানের প্রকারভেদগুলি কী কী?

উত্তরঃ আরোহ অনুমান এবং অবরোহ অনুমান।

প্রশ্ন ৪। অবরোহ অনুমান মূলত কয় প্রকার?

উত্তরঃ দুই প্রকার।

প্রশ্ন ৫। অবরোহ অনুমানের প্রকারভেদগুলি কী কী?

উত্তরঃ অমাধ্যম ও মাধ্যম অনুমান।

প্রশ্ন ৬। অমাধ্যম অনুমান কি প্রকৃত অনুমান?

উত্তরঃ হ্যাঁ, প্রকৃত অনুমান।

প্রশ্ন ৭। অমাধ্যম অনুমানে দুটি আধারবাক্য (আশ্রয়বাক্য) থাকে—কথাটি কি সত্য?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ৮। মাধ্যম অনুমানে দুটি আধারবাক্য বা হেতুবাক্য থাকে—কথাটি কি সত্য?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ৯। সমবর্তন এবং প্রতিবর্তন কোন্ ধরনের অনুমান?

উত্তরঃ অমাধ্যম অনুমান।

প্রশ্ন ১০। সমবর্তনের অপর নাম কী?

উত্তরঃ আবর্তন।

প্রশ্ন ১১। সমবর্তন বা আবর্তনের সিদ্ধান্তের নাম কী?

উত্তরঃ সমবর্তিত বা আবর্তিত।

প্রশ্ন ১২। সমবর্তিত বা আবর্তনের আশ্রয়বাক্যের নাম কী?

উত্তরঃ সমবর্তনীয় বা আবর্তনীয়।

প্রশ্ন ১৩। বস্তুগত প্রতিবর্তন যথার্থ প্রতিবর্তন কি?

উত্তরঃ না, বস্তুগত প্রতিবর্তন যথার্থ প্রতিবর্তন নয়। 

প্রশ্ন ১৪। কোন্ বচনের বৈধ সমবর্তন সম্ভব হয় না?

উত্তরঃ ‘O’ বচনের।

প্রশ্ন ১৫। প্রতিবর্তনের অপর নাম কী?

উত্তরঃ বিবর্তন।

প্রশ্ন ১৬। প্রতিবর্তন বা বিবর্তনের আশ্রয়বাক্যের নাম কী?

উত্তরঃ প্রতিবর্তনীয় বা বিবর্তনীয়।

প্রশ্ন ১৭। প্রতিবর্তন বা বিবর্তনের সিদ্ধান্তের নাম কী?

উত্তরঃ প্রতিবর্তিত বা বিবর্তিত।

প্রশ্ন ১৮। কোন্ তর্কবিজ্ঞানী বিপরীত সম্বন্ধের সাহায্যে সমবর্তনের প্রক্রিয়া উল্লেখ করেছেন?

উত্তরঃ তর্কবিজ্ঞানী ডাঃ কিনস।

প্রশ্ন ১৯। অমাধ্যম অনুমানে কয়টি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়?

উত্তরঃ একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে।

প্রশ্ন ২০। কোন্ বচনে সরল সমবর্তন সম্ভব নয়?

উত্তরঃ ‘A’ বচনে।

শুদ্ধ উত্তর দাওঃ

১। প্রতিবর্তন মাধ্যম/অমাধ্যম অনুমান।

উত্তরঃ অমাধ্যম অনুমান।

২। সমবর্তন মাধ্যম/অমাধ্যম অনুমান। 

উত্তরঃ অমাধ্যম।

৩। সমবর্তনে গুণ/পরিমাণ এক থাকে।

উত্তরঃ গুণ।

৪। অমাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্ত একটি/দুটি /তিনটি আশ্রয়বাক্য থেকে নিঃসৃত হয়।

উত্তরঃ একটি।

৫। প্রতিবর্তনের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ/পরিমাণ এক থাকে। 

উত্তরঃ পরিমাণ।

৬। প্রতিবর্তনের ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ/পরিমাণ ভিন্ন হয়।

উত্তরঃ গুণ।

প্রশ্ন ৭। ‘বস্তুগত প্রতিবর্তন যথার্থ প্রতিবর্তন’—হ্যাঁ/না।

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ৮। অমাধ্যম অনুমানের প্রধান চারটি/দুটি/তিনটি প্রকারভেদ আছে।

উত্তরঃ দুটি।

প্রশ্ন ৯। A বচনের সমবর্তনে I বচন সমবর্তিত হয়/হয় না।

উত্তরঃ সমবর্তিত হয়।

প্রশ্ন ১০। সাধারণভাবে O বচন সমবর্তিত হয়/হয় না।

উত্তরঃ হয় না।

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। অনুমান কী?

উত্তরঃ পূর্বলব্ধ জ্ঞানের ভিত্তিতে অপর বা নতুন এক জ্ঞানে উপনীত হবার যে প্রক্রিয়া, তাকে অনুমান বলে।

দূরে পর্বতে ধোঁয়া দেখে আমরা যখন ভাবি ‘পর্বতে আগুন রয়েছে’, তখন আমরা পর্বতে আগুনের অস্তিত্ব সম্পর্কে জ্ঞানলাভ করি। কারণ, অতীত থেকে আমরা জানি যে, যেখানে ধোঁয়া থাকে, সেখানে আগুন থাকে। 

প্রশ্ন ২। অনুমান কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ অনুমান প্রধানত দুই প্রকারের হয়। যেমন—

(ক) অবরোহ অনুমান।

(খ) আরোহ অনুমান।

অবরোহ অনুমান আবার দুই ভাগে ভাগ করা যায়। সেগুলো হল – (অ) অমাধ্যম অনুমান, (আ) মাধ্যম অনুমান।

প্রশ্ন ৩। অবরোহ অনুমান কাকে বলে?

উত্তরঃ অবরোহ অনুমান হল সেই অনুমান যেখানে সিদ্ধান্ত এক বা একাধিক আশ্রয়বাক্য থেকে নিঃসৃত হয় এবং সিদ্ধান্ত কখনোই আশ্রয়বাক্য থেকে ব্যাপকতর হতে পারে না।

প্রশ্ন ৪। অমাধ্যম অনুমান কাকে বলে?

অথবা,

অমাধ্যম অনুমানের সংজ্ঞা দাও।

অথবা,

অনন্তর অনুমান বা অনন্তরানুমান কাকে বলে?

উত্তরঃ যে অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য বা হেতুবাক্য থেকে কোনো সিদ্ধান্তে উপনীত হওয়া যায়, তাকে ‘অমাধ্যম অনুমান’ বলে। যেমন— 

(১) কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ জীব। (হেতুবাক্য)

∴ কোনো চতুষ্পদ জীব নয় মানুষ। (সিদ্ধান্ত)

(২) সকল রাজা হয় মানুষ। (হেতুবাক্য)

∴ কোনো রাজা নয় অমানুষ। (সিদ্ধান্ত)

এই দুটি উদাহরণেই একটিমাত্র হেতু বা আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে ‘মাধ্যম অনুমান’ বলে।

প্রশ্ন ৫। মাধ্যম অনুমান কাকে বলে?

অথবা,

মাধ্যম অনুমানের সংজ্ঞা দাও।

অথবা,

অন্তর অনুমান বা অন্তরানুমান কাকে বলে?

উত্তরঃ যে অনুমানে দুই বা ততোধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়, তাকে ‘মাধ্যম অনুমান’ বলে। যথা—

এই অনুমানে দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে।

প্রশ্ন ৬। মাধ্যম এবং অমাধ্যম অনুমানের মধ্যে সাদৃশ্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ মাধ্যম এবং অমাধ্যম অনুমানের মধ্যে সাদৃশ্য নিম্নরূপ: 

(ক) মাধ্যম এবং অমাধ্যম উভয় অনুমানই অবরোহমূলক।

(খ) উভয় প্রকার অনুমানেই সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়।

(গ) মাধ্যম এবং অমাধ্যম উভয়প্রকার অনুমানেই সিদ্ধান্ত কখনও আশ্রয়বাক্য থেকে অধিক ব্যাপক হতে পারে না।

(ঘ) উভয় অনুমানই আকারগত সত্যতার সঙ্গে জড়িত। 

প্রশ্ন ৭। অমাধ্যম অনুমান কয় প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ অমাধ্যম অনুমান বিভিন্ন প্রকারের হয়ে থাকে। তাদের মধ্যে মুখ্য অমাধ্যম অনুমান চার প্রকার। যেমন—

(ক) আবর্তন বা সমবর্তন। 

(খ) বিবর্তন বা প্রতিবর্তন। 

(গ) সমবিবর্তন। 

(ঘ) বিরোধানুমান ইত্যাদি।

প্রশ্ন ৮। মাধ্যম এবং অমাধ্যম অনুমানের বৈসাদৃশ্য বা পার্থক্য উল্লেখ করো।

উত্তরঃ মাধ্যম এবং অমাধ্যম অনুমানের পার্থক্য বা বৈসাদৃশ্য নিম্নরূপ:

(ক) অমাধ্যম অনুমানে একটিমাত্র আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। কিন্তু মাধ্যম অনুমানে দুই বা ততোধিক আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। 

(খ) অমাধ্যম অনুমানে শুধুমাত্র দুটি পদ থাকে। কিন্তু মাধ্যম অনুমানে তিন বা ততোধিক পদ উপস্থিত থাকে।

(গ) অমাধ্যম অনুমানের আশ্রয়বাক্যে যে সমস্ত পদ থাকে, সিদ্ধান্তে সেইসব পদ অথবা তাদের বিরুদ্ধপদ উপস্থিত থাকে। অন্যদিকে মাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের সব পদ সিদ্ধান্তে উপস্থিত থাকে না। আশ্রয়বাক্যের অন্তত একটি পদ সিদ্ধান্তে উপস্থিত থাকে না।

(ঘ) “কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ জীব।

∴ কোনো চতুষ্পদ জীব নয় মানুষ।”—এটি অমাধ্যম অনুমানের উদাহরণ। 

“সকল মানুষ হয় দ্বিপদ প্রাণী। 

রাম হয় একজন মানুষ।

∴ রাম হয় দ্বিপদ প্রাণী।”—এটি মাধ্যম অনুমানের উদাহরণ। 

প্রশ্ন ৯। অমাধ্যম অনুমান কি প্রকৃত অনুমান?

উত্তরঃ বিখ্যাত যুক্তিশাস্ত্রবিদ জন স্টুয়ার্ড মিল ও বেইন অমাধ্যম অনুমানকে প্রকৃত অনুমান বলে স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, প্রকৃত অনুমানে নতুন জ্ঞান অর্জিত হয়৷ কিন্তু অমাধ্যম অনুমানে সিদ্ধান্ত কোনো নতুন জ্ঞান বহন করে না; সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্যের অর্থই বহন করে, তবে পরিবর্তিত রূপে। আশ্রয় বাক্যে সেকথা বলা হয়। সিদ্ধান্তেও সেই কথাই বলা হয়, তবে অন্য ভাষায়।

কিন্তু জে. এস. মিল ও বেইনের এই মত অন্য যুক্তিবিজ্ঞানীরা স্বীকার করেন না। তাঁদের মতে, অমাধ্যম অনুমানের সিদ্ধান্তটি আশ্রয়বাক্যের পুনরুক্তিমাত্র, কথাটি সত্য নয়। আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের মধ্যে যে পার্থক্য লক্ষ করা যায়, তা শুধু ভাষাগত নয়, অর্থগত ও জ্ঞানগতও বটে। আশ্রয়বাক্যে যে সত্য সুপ্তভাবে থাকে, সিদ্ধান্তে তা স্পষ্টভাবে প্রকাশ পায়।

উপসংহারে এ কথাই বলা যায় যে অমাধ্যম অনুমান প্রকৃত অর্থেই অনুমান ৷ 

প্রশ্ন ১০। আবর্তন বা সমবর্তন অনুমান কাকে বলে?

উত্তরঃ আবর্তন বা সমবর্তন অনুমান হচ্ছে একটি অবরোহমূলক অমাধ্যম অনুমান। যাতে নিয়মসম্মতভাবে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় সিদ্ধান্তে যথাক্রমে বিধেয় ও উদ্দেশ্য হয়। অর্থাৎ, আশ্রয় বাক্যের উদ্দেশ্য ও বিধেয় সিদ্ধান্তে নিয়মানুসারে পরস্পর স্থান পরিবর্তন করে।

সমবর্তনের আশ্রয়বাক্যের নাম ‘সমবর্তনীয়’ এবং সিদ্ধান্তের নাম ‘সমবর্তিত’। (বা আবর্তনের আশ্রয়বাক্যের নাম আবর্তনীয় এবং সিদ্ধান্তের নাম আবর্তিত)।

প্রশ্ন ১১। সমবর্তনের নিয়মাবলি উল্লেখ করো। 

উত্তরঃ লক্ষণ বা সংজ্ঞা অনুযায়ী সমবর্তনের নিয়মগুলো নিম্নরূপ :

(ক) আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য সিদ্ধান্তে বিধেয় হবে।

(খ) আশ্রয়বাক্যের বিধেয় সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য হবে।

(গ) আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তের গুণ একই হবে। অর্থাৎ, আশ্রয়বাক্য সদর্থক হলে সিদ্ধান্তও সদর্থক হবে আর আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে সিদ্ধান্তও নঞর্থক হবে।

(ঘ) যদি আশ্রয়বাক্যে কোনো পদ অব্যাপ্ত থাকে, তাহলে সিদ্ধান্তে সেই পদ ব্যাপ্ত হতে পারবে না।

প্রশ্ন ১২। A, E, I এবং O বচনের সমবর্তন দৃষ্টান্তের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও। 

উত্তরঃ A, E, I এবং O — এই চার প্রকার শর্তহীন বচনের সমবর্তনের উদাহরণ নিম্নরূপ:

(ক) ‘A’ বচনের সমবর্তন— 

সমবর্তনীয় A → সকল মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী।

∴ সমবর্তিত I → কোনো কোনো মরণশীল প্রাণী হয় মানুষ। 

(খ) ‘E’ বচনের সমবর্তন—

সমবর্তনীয় E → কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী৷

∴ সমবর্তিত E → কোনো চতুষ্পদ প্রাণী নয় মানুষ। 

(গ) ‘I’ বচনের সমবর্তন— 

সমবর্তনীয় I → কোনো কোনো মানুষ হয় দার্শনিক। 

∴ সমবর্তিত I → কোনো কোনো দার্শনিক হয় মানুষ।

(ঘ) ‘O’ বচনের সমবর্তন— ‘O’ বচনের সমবর্তন সম্ভব নয়। সমবর্তনীয় ‘O’ বচন হলে সমবর্তিত নঞর্থক হতে হবে। সেক্ষেত্রে ‘O’ বচন সমবর্তনীয় হলে সিদ্ধান্ত ‘O’ বা ‘E’ হতে হবে। সমবর্তনীয় নঞর্থক এবং নঞর্থক বচনে বিধেয় পদ ব্যাপ্ত, সমবর্তনীয়ের বিধেয় পদ সমবর্তিতে উদ্দেশ্য পদ হওয়ায় সবসময় অব্যাপ্ত থাকে। অতএব ‘O’ বচনের সমবর্তন হয় না।

A, E, I এবং O বচনের সমবর্তনের ফলাফল: 

সমবর্তনীয় ‘A’ হলে, সমবর্তিত ‘I’ বচন হয়। 

সমবর্তনীয় ‘E’ হলে, সমবর্তিত ‘E’ বচন হয়। 

সমবর্তনীয় ‘I’ হলে, সমবর্তিত ‘I’ বচন হয়।

‘O’ বচনের বৈধ সমবর্তন হয় না।

প্রশ্ন ১৩। সমবর্তন কয়প্রকার ও কী কী?

উত্তরঃ সমবর্তন দুই প্রকারের হয়—

(ক) সরল সমবর্তন। ও 

(খ) অসরল সমবর্তন।

প্রশ্ন ১৪। সরল সমবর্তন কাকে বলে? 

উত্তরঃ যে সমবর্তনে আশ্রয়বাক্যের এবং সিদ্ধান্তের মধ্যে পরিমাণগত কোনো পার্থক্য থাকে না, তাকে সরল সমবর্তন বলা হয়। অর্থাৎ, সরল সমবর্তনে আশ্রয়বাক্য সামান্য হলে, সিদ্ধান্তও সামান্য হবে এবং আশ্রয়বাক্য বিশেষ হলে, সিদ্ধান্তও বিশেষ হবে। যথা— ‘E’ এবং ‘I’ বচনের সমবর্তন হল সরল সমবর্তন বা সরল আবর্তন।

উদাহরণ—

(ক) সমবর্তনীয় E → কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী।

∴ সমবর্তিত E → কোনো চতুষ্পদ প্রাণী নয় মানুষ।

প্রশ্ন ১৫। অসরল সমবর্তন বা অসরল আবর্তন কাকে বলে? 

উত্তরঃ যে সমবর্তনে আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তের পরিমাণ ভিন্ন হয় এবং আশ্রয়বাক্যের পরিমাণ সিদ্ধান্তে হ্রাস পায়, তাকে অসরল সমবর্তন বলে। ‘A’ বচনের সমবর্তন হল অসরল সমবর্তন।

উদাহরণ—

(ক) সমবর্তনীয় A → সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।

∴ সমবর্তিত I → কোনো কোনো মরণশীল জীব হয় মানুষ। 

প্রশ্ন ১৬। ‘A’ বচনের সরল সমবর্তন কি সম্ভব?

উত্তরঃ সাধারণভাবে বলা যেতে পারে, ‘A’ বচনের সরল সমবর্তন সম্ভব নয়। কারণ ‘A’ বচনকে সরল সমবর্তন করতে গেলে সমবর্তনের ৪র্থ নিয়মটি লঙ্ঘন করা হয়। 

কিন্তু কতকগুলো ব্যতিক্রমী ক্ষেত্রে সরল সমবর্তন বৈধ হয়। যেমন— 

(i) সংজ্ঞামূলক বচনের ক্ষেত্রে।

(ii) যে ‘A’ বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় নির্দিষ্ট বিশিষ্ট পদ।

(iii) যেসব ‘A’ বচনে বিধেয় পদ উদ্দেশ্য পদের সমর্থক বা পুনরাবৃত্তি।

উদাহরণ-

(ক) সমবর্তনীয় A → ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী হন নরেন্দ্র মোদী।

∴ সমবর্তিত A → নরেন্দ্র মোদী হন ভারতবর্ষের বর্তমান প্রধানমন্ত্রী।

(খ) সমবর্তনীয় A → সকল মানুষ হয় বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব। 

∴ সমবর্তিত A → সকল বুদ্ধিবৃত্তিসম্পন্ন জীব হয় মানুষ।

প্রশ্ন ১৭। নিষেধমূলক সমবর্তন বা আবর্তন কাকে বলে?

উত্তরঃ সাধারণভাবে, ‘O’ বচনের সমবর্তন সম্ভব নয়। ‘A’ বচনকে সমবর্তিত করতে গেলে সমবর্তনের নিয়ম লঙ্ঘন করতে হয়, কেননা যে পদ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য নয়, সেই পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয়ে যায়। কিন্তু ‘O’ বচনের সমবর্তনের জন্য কোনো কোনো তর্কবিদ্‌ একটি বিশেষ পদ্ধতির কথা উল্লেখ করেছেন। সেই পদ্ধতিকে ‘নিষেধমূলক সমবর্তন’ বলা হয়।

এই পদ্ধতিতে প্রথমে সমবর্তনীয় ‘O’ বচনের নঞর্থক চিহ্নকে বিধেয়ের সঙ্গে যুক্ত করে ‘I’ বচনে রূপান্তরিত করা হয় এবং এই ‘I’ বচনটিকে সমবর্তনীয় ধরে সমবর্তনের নিয়মানুযায়ী সমবর্তিত করা হয়। যেমন—

সমবর্তনীয় O → কোনো কোনো মানুষ নয় সাধু।

সমবর্তনীয় I → কোনো কোনো মানুষ হয় অসাধু।

∴ সমবর্তিত I → কোনো কোনো অসাধু হয় মানুষ।

প্রশ্ন ১৮। ‘নিষেধমূলক সমবর্তনকে’ প্রকৃত সমবর্তন বলা যায় কি? 

উত্তরঃ ‘নিষেধমূলক সমবর্তনকে’ প্রকৃত সমবর্তন বলা যায় না। কারণ, সমবর্তনের দ্বিতীয় নিয়ম অনুযায়ী আশ্রয়বাক্যের বিধেয় পদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য পদ হবে। কিন্তু এই ধরনের সমবর্তনে আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধপদ সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্যপদ হয়ে থাকে। দ্বিতীয়ত, সমবর্তনের তৃতীয় নিয়মানুসারে, আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তের গুণ একই হবে। কিন্তু নিষেধমূলক সমবর্তনে, সমবর্তনীয় নঞর্থক, কিন্তু সিদ্ধান্ত সদর্থক হয়ে থাকে। 

উদাহরণ—

সমবর্তনীয় (O) → কোনো কোনো মানুষ নয় সাধু।

সমবর্তনীয় (I) → কোনো কোনো মানুষ হয় অসাধু। 

∴ সমবর্তিত (I) → কোনো কোনো অসাধু হয় মানুষ।

প্রশ্ন ১৯। বিপরীত সম্বন্ধের সাহায্যে সমবর্তন বলতে কী বোঝো? 

উত্তরঃ তর্কবিজ্ঞানী ডাঃ কিনস (Keynes) বিপরীত সম্বন্ধের সাহায্যে সমবর্তনের একটি প্রক্রিয়া উল্লেখ করেছেন। এক্ষেত্রে সমবর্তনীয় বচনের উদ্দেশ্য ও বিধেয় দুটি সাপেক্ষ পদ হতে হবে, আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ এক হবে, আশ্রয়বাক্যে যে সাপেক্ষ পদটি থাকবে, তার জায়গায় অন্য সাপেক্ষ পদ সিদ্ধান্তে ব্যবহৃত হবে এবং তার সঙ্গে সংগতি রেখে সিদ্ধান্তে উদ্দেশ্য ও বিধেয়ের স্থান পরিবর্তন করতে হবে। যেমন—

সীতা হলেন রামের স্ত্রী।

 ∴ রাম হলেন সীতার স্বামী।

প্রশ্ন ২০। বিপরীত সম্বন্ধের সাহায্যে সমবর্তন কি প্রকৃত সমবর্তন?

উত্তরঃ বিপরীত সম্বন্ধের সাহায্যে সমবর্তন প্রকৃত সমবর্তন নয়। কারণ, সমবর্তনের সকল নিয়ম এখানে অনুসরণ করা হয়নি। যেমন— আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য সিদ্ধান্তে বিধেয় হবে। কিন্তু এ ধরনের সমবর্তনে এই নিয়ম মানা হয় না। 

তাছাড়া, এ জাতীয় সমবর্তনে বাস্তব জ্ঞান দরকার, কিন্তু অবরোহমূলক অনুমানে যুক্তির আকারগত সত্যতাই বিবেচ্য। 

যেমন— সক্রেটিস হলেন প্লেটোর শিক্ষক।

∴ প্লেটো হলেন সক্রেটিসের ছাত্র।

প্রশ্ন ২১। দোষদুষ্ট সমবর্তন বলতে কী বোঝো? 

উত্তরঃ সমবর্তনের নিম্নোক্ত দুটি দোষ লক্ষ করা যায়:

(ক) A বচনের সরল সমবর্তন-জনিত দোষ।

উদাহরণ—

সমবর্তনীয় A → সকল মানুষ হয় প্রাণী। 

∴ সমবর্তিত A → সকল প্রাণী হয় মানুষ।

এই সমবর্তন প্রক্রিয়াটি অবৈধ। কারণ, এখানে A বচনের সরল সমবর্তন হয়েছে। কয়েকটি ব্যতিক্রমী ক্ষেত্র ছাড়া এই পদ্ধতিতে বৈধ সমবর্তন সম্ভব নয়। 

(খ) O বচনের সমবর্তন-জনিত দোষ।

উদাহরণ—

সমবর্তনীয় (O) কোনো কোনো মানুষ নয় দার্শনিক।         

∴ সমবর্তিত (O) কোনো কোনো দার্শনিক নয় মানুষ।

এখানে আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্ত উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তে বিধেয়পদ হওয়াতে ব্যাপ্ত হয়ে যায়, যা সমবর্তনের নিয়মবিরুদ্ধ। 

প্রশ্ন ২২। প্রতিবর্তন বা বিবর্তন কাকে বলে?

উত্তরঃ যে অবরোহমূলক অমাধ্যম অনুমানে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যরূপে এবং আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তের বিধেয়রূপে ব্যবহার করা হয়, তাকে প্রতিবর্তন বা বিবর্তন বলে। এক্ষেত্রে, আশ্রয়বাক্যে ও সিদ্ধান্তের অর্থ একই থাকে।

প্রতিবর্তনের হেতুবাক্য বা আশ্রয়বাক্যের নাম ‘প্রতিবর্তনীয়’ এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় ‘প্রতিবর্তিত’। (বা বিবর্তনের হেতুবাক্য বা আশ্রয়বাক্যের নাম ‘বিবর্তনীয়’ এবং সিদ্ধান্তকে বলা হয় বিবর্তিত।)

প্রশ্ন ২৩। প্রতিবর্তনের নিয়মগুলো কী কী?

উত্তরঃ প্রতিবর্তনের লক্ষণ বা সংজ্ঞা অনুসারে নিয়মগুলো নিম্নরূপঃ 

(ক) আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য ও সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য এক হবে।

(খ) আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধপদ সিদ্ধান্তে বিধেয় হবে।

(গ) আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হবে। আশ্রয়বাক্যটি সদর্থক হলে, সিদ্ধান্ত নঞর্থক হবে এবং আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে, সিদ্ধান্ত সদর্থক হবে।

(ঘ) আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের পরিমাণ এক হবে। অর্থাৎ, আশ্রয়বাক্যটি সামান্য হলে সিদ্ধান্তও সামান্য হবে এবং আশ্রয়বাক্যটি বিশেষ হলে, সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হবে।

প্রশ্ন ২৪। A, E, I এবং O বচনের প্রতিবর্তন দৃষ্টান্তের সাহায্যে বুঝিয়ে দাও।

উত্তরঃ প্রতিবর্তন বা বিবর্তনের নিয়মানুসারে A, E, I এবং O বচনের প্রতিবর্তন নিম্নরূপ:

(ক) ‘A’ বচনের প্রতিবর্তন—

প্রতিবর্তনীয় (A) → সকল মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী।

∴ প্রতিবর্তিত (E) → কোনো মানুষ নয় অ-মরণশীল জীব।

(খ) ‘E’ বচনের প্রতিবর্তন— 

প্রতিবর্তনীয় (E) → কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ জীব। 

∴ প্রতিবর্তিত (A) → সকল মানুষ হয় অ-চতুষ্পদ জীব।

(গ) ‘I’ বচনের প্রতিবর্তন—

প্রতিবর্তনীয় (I) → কোনো কোনো মানুষ হয় দার্শনিক। 

∴ প্রতিবর্তিত (O) → কোনো কোনো মানুষ নয় অ-দার্শনিক। 

(ঘ) ‘O’ বচনের প্রতিবর্তন—

প্রতিবর্তনীয় (O) → কোনো কোনো মানুষ নয় জ্ঞানী।

∴ প্রতিবর্তিত (I) → কোনো কোনো মানুষ হয় অজ্ঞানী। 

অতএব A, E, I এবং O এই চারটি বচনের প্রতিবর্তনের ফলাফল এই যে—

‘A’ বচনের প্রতিবর্তিত ‘E’ বচন।

‘O’ বচনের প্রতিবর্তিত ‘A’ বচন। 

‘I’ বচনের প্রতিবর্তিত ‘O’ বচন।

‘O’ বচনের প্রতিবর্তিত ‘I’ বচন।

প্রশ্ন ২৫। বস্তুগত প্রতিবর্তন বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ যুক্তিবিদ বেইন (Bain) ‘বস্তুগত প্রতিবর্তন’ নামে একপ্রকার প্রতিবর্তনের কথা উল্লেখ করেছেন। আকারগত প্রতিবর্তনে বচনের আকারের, অর্থাৎ A, E, I এবং O-এর উপর ভিত্তি করে প্রতিবর্তন করতে হয়। কিন্তু বেইনের উল্লেখিত বস্তুগত প্রতিবর্তনের ক্ষেত্রে অভিজ্ঞতা বা বস্তুজ্ঞানের ওপরে ভিত্তি করে প্রতিবর্তন করতে হয়। এই ধরনের প্রতিবর্তনে আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ও বিধেয় পদের বিপরীত বা বিরুদ্ধ পদ সিদ্ধান্তে যথাক্রমে উদ্দেশ্য ও বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

উদাহরণ:

(১) প্রতিবর্তনীয় → শীত হয় কষ্টদায়ক। 

∴ প্রতিবর্তিত → উষ্ণতা হয় আরামদায়ক।

এখানে প্রতিবর্তনীয়ের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় পদের বিপরীত পদ প্রতিবর্তিত বাক্যে যথাক্রমে উদ্দেশ্য এবং বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে।

উদাহরণ:

(২) প্রতিবর্তনীয় → শান্তি হয় মঙ্গলজনক।

∴ প্রতিবর্তিত → অশান্তি হয় অমঙ্গলজনক। 

এখানে প্রতিবর্তনীয়ের উদ্দেশ্য এবং বিধেয় পদের বিরুদ্ধ পদ প্রতিবর্তিত বচনে যথাক্রমে উদ্দেশ্য এবং বিধেয় হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

প্রশ্ন ২৬। বস্তুগত প্রতিবর্তন কি যথার্থ প্রতিবর্তন?

উত্তরঃ বস্তুগত প্রতিবর্তন যথার্থ প্রতিবর্তন নয়। যুক্তিবিদ বেইন (Bain) নিজেই স্বীকার করেছেন যে বস্তুগত প্রতিবর্তনকে আকারগত তর্কবিদ্যার ‘প্রতিবর্তন’ বলা উচিত নয়। কারণ, প্রতিবর্তনের সকল নিয়ম এখানে অনুসরণ করা হয়নি।

(১) প্রতিবর্তনের নিয়মানুযায়ী আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য অভিন্ন হতে হবে, কিন্তু বস্তুগত প্রতিবর্তনে সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদ আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদের বিপরীত বা বিরুদ্ধ পদ।

(২) প্রতিবর্তনের নিয়মে সিদ্ধান্তের বিধেয় পদ আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিরুদ্ধ পদ হতে হবে। কিন্তু আলোচ্য প্রতিবর্তনে কোনো কোনো ক্ষেত্রে আশ্রয়বাক্যের বিধেয়ের বিপরীত পদ সিদ্ধান্তে বিধেয় পদ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

(৩) প্রতিবর্তনের আরেকটি নিয়মমতে, আশ্রয়বাক্যের ও সিদ্ধান্তের গুণ ভিন্ন হবে। কিন্তু বস্তুগত প্রতিবর্তনে আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্তের গুণ একই থাকে।

(৪) প্রতিবর্তন একটি অবরোহমূলক আকারগত প্রক্রিয়া। এখানে যুক্তির আকারই মুখ্য, বস্তুগত সত্যতা নয়। কিন্তু বস্তুগত প্রতিবর্তনে বাস্তব অভিজ্ঞতার উপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠিত হয়।

এইসব কারণে, বস্তুগত প্রতিবর্তন অবৈধ। এটি একটি দোষযুক্ত অনুমান যার নাম ‘বস্তুগত প্ৰতিবর্তন দোষ’। অতএব, বস্তুগত প্রতিবর্তন যথার্থ অনুমান নয়। 

২৭। নিম্নলিখিত বাক্যগুলোকে সমবর্তন বা আবর্তন করো :

(ক) সকল দার্শনিক পাগল নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো দার্শনিক নয় পাগল। (সমবর্তনীয়/আবর্তনীয়)

∴ (O) বচনের বৈধ সমবর্তন বা আবর্তন হয় না। 

(খ) প্রত্যেক মানুষের ভুল হয়।

তঃবঃ— (A) সকল মানুষ হয় এমন ব্যক্তি যাদের ভুল হয়। (সমবর্তনীয়/ আবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো এমন ব্যক্তি যাদের ভুল হয় মানুষ। (সমবর্তিত/আবর্তিত)। 

(গ) সিংহ কখনো কফি খায় না।

তঃবঃ— (E) কোনো সিংহ নয় এমন জীব যারা কফি খায়। (সমবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো এমন জীব যারা কফি খায় নয় সিংহ। (সমবর্তিত)।

(ঘ) কোনো কোনো অসৎ ব্যক্তিরা জীবনে সফলতা লাভ করে। 

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো অসৎ ব্যক্তিরা হয় ব্যক্তি যারা জীবনে সফলতা করে। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো ব্যক্তি যারা জীবনে সফলতা করে হয় অসৎ ব্যক্তি। (সমবর্তিত)

(ঙ) খুব কম লোকই স্বার্থপর নয়।

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো লোক হয় স্বার্থপর। (সমবর্তনীয়/ আবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো স্বার্থপর ব্যক্তি হয় লোক। (সমবর্তিত/আবর্তিত)।

(চ) কেবল ধার্মিকেরাই সুখী।

তঃবঃ— (A) সকল সুখী ব্যক্তি হয় ধার্মিক। (সমবর্তনীয়/আবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো ধার্মিক হয় সুখী ব্যক্তি। (সমবর্তিত/আবর্তিত)। 

(ছ) বেশিরভাগ সুনাগরিকেরাই দেশপ্রেমিক।

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো সুনাগরিকরা হয় দেশপ্রেমিক। (সমবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো দেশপ্রেমিক হয় সুনাগরিক। (সমবর্তিত)। 

(জ) ছাত্ররা প্রায়ই ভুল করে। 

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো ছাত্র হয় এমন ব্যক্তি যারা ভুল করে। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো এমন ব্যক্তি যারা ভুল করে হয় ছাত্র। (সমবর্তিত)

(ঝ) সকল রাজহাঁস সাদা নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো রাজহাঁস নয় সাদা। (সমবর্তনীয়) 

∴ (O) বচনের বৈধ সমবর্তন হয় না।

(ঞ) কোনো কোনো মানুষ সৎ। 

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো মানুষ হয় সৎ। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো সৎ হয় মানুষ। (সমবর্তিত)

(ট) মানুষ বুদ্ধিমান প্রাণী।

তঃবঃ— (A) সকল মানুষ হয় বুদ্ধিমান প্রাণী। (সমবর্তনীয়) 

∴ (A) সকল বুদ্ধিমান প্রাণী হয় মানুষ। (সমবর্তিত) (সরল সমবর্তন)

(ঠ) কেবলমাত্র সৎ ব্যক্তিরাই সুখী। 

তঃবঃ— (A) সকল সুখী ব্যক্তি হয় সৎ। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো সৎ ব্যক্তি হয় সুখী। (সমবর্তিত)।

(ড) কোনো অসৎ লোক বিশ্বাসযোগ্য নয়।

তঃবঃ— (E) কোনো অসৎ লোক নয় বিশ্বাসযোগ্য। (সমবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো বিশ্বাসযোগ্য ব্যক্তি নয় অসৎ লোক। (সমবর্তিত)। 

(ঢ) কোনো কোনো গণিতজ্ঞ দার্শনিক নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো গণিতজ্ঞ নয় দার্শনিক। (সমবর্তনীয়) 

∴ (O) বচনের বৈধ সমবর্তন হয় না।

(ণ) কোনো কোনো ছাত্র পরীক্ষায় পাস করে না। 

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো ছাত্র নয় এমন ব্যক্তি যারা পরীক্ষায় পাস করে। (সমবর্তনীয়)

∴ (O) বচনের বৈধ সমবর্তন হয় না।

(ত) প্রত্যেক মা স্নেহশীলা।

তঃবঃ— (A) সকল মা হন স্নেহশীলা। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো স্নেহশীলা মহিলা হন মা। (সমবর্তিত) 

(থ) সকল মানুষ জ্ঞানী নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো মানুষ নয় জ্ঞানী। (সমবর্তনীয়)

∴ (O) বচনের বৈধ সমবর্তন হয় না। 

(দ) কেবল জড়বস্তুই আকৰ্ষিত হয়।

তঃবঃ— (A) সকল আকর্ষিত বস্তু হয় জড়বস্তু। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো জড়বস্তু হয় আকর্ষিত। (সমবর্তিত)

(ধ) কোনো ত্রিভুজ নয় চতুৰ্ভুজ। 

তঃবঃ— (E) কোনো ত্রিভুজ নয় চতুর্ভুজ। (সমবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো চতুৰ্ভুজ নয় ত্রিভুজ। (সমবর্তিত)।

(ন) কোনো কোনো ক্রিকেট খেলোয়াড় হন পেশাদার খেলোয়াড়। 

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো ক্রিকেট খেলোয়াড় হল পেশাদার খেলোয়াড়। (সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো পেশাদার খেলোয়াড় হল ক্রিকেট খেলোয়াড়। (সমবর্তিত)। 

(প) সব ঈশ্বর বিশ্বাসী ব্যক্তি হয় আশাবাদী।

তঃবঃ— (A) সকল ঈশ্বর বিশ্বাসী ব্যক্তি হয় আশাবাদী।(সমবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো আশাবাদী ব্যক্তি হয় ঈশ্বরবিশ্বাসী। 

(ফ) কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী।

তঃবঃ— (E) কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী। (সমবর্তনীয়)

∴(E) কোনো চতুষ্পদ প্রাণী নয় মানুষ। (সমবর্তিত)। 

(ব) হিমালয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত।

তঃবঃ— (A) হিমালয় হয় পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত। (সমবর্তনীয়)

∴ (A) পৃথিবীর সর্বোচ্চ পর্বত হয় হিমালয়। (সমবর্তিত) (সরল সমবর্তন) 

(ভ) সব কুকুর চারিপদ বিশিষ্ট জীব।

তঃবঃ— (A) সকল কুকুর হয় চারিপদ বিশিষ্ট জীব। (সমবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো চারিপদবিশিষ্ট জীব হয় কুকুর। (সমবর্তিত)। 

(ম) সকল অকৃতদার পুরুষ অবিবাহিত।

তঃবঃ— (A) সকল অকৃতদার পুরুষ হয় অবিবাহিত। (সমবর্তনীয়) 

∴ (A) সকল অবিবাহিত পুরুষ হয় অকৃতদার। (সমবর্তিত)।

প্রশ্ন ২৮। নিম্নলিখিত বাক্যগুলোকে প্রতিবর্তন বা বিবর্তন করো:

(ক) কেবলমাত্র অজ্ঞরাই জ্ঞানকে অবজ্ঞা করে।

তঃবঃ— (A) সকল ব্যক্তি যারা জ্ঞানকে অবজ্ঞা করে হয় অজ্ঞ। (প্রতিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো ব্যক্তি যারা জ্ঞানকে অবজ্ঞা করে নয় না- অজ্ঞ। (প্রতিবর্তিত) 

(খ) কিছু সংখ্যক মানুষ নয় কবি।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো মানুষ নয় কবি। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো মানুষ হয় অ-কবি। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(গ) সকল মানুষ হয় মরজীব।

তঃবঃ— (A) সকল মানুষ হয় মরজীব। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো মানুষ নয় অমরজীব। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত) 

(ঘ) চোর কখনও সৎ হয় না।

তঃবঃ— (E) কোনো চোর নয় সৎ। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়)

∴ (A) সকল চোর হয় অসৎ। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ঙ) একমাত্র ধার্মিক ব্যক্তিরাই সৎ।

তঃবঃ— (A) সকল সৎ ব্যক্তিরা হয় ধার্মিক। (প্রতিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো সৎ ব্যক্তিরা নয় অ-ধার্মিক। (প্রতিবর্তিত) 

(চ) সকল দার্শনিক পাগল নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো দার্শনিক নয় পাগল। (প্রতিবর্তনীয়) 

∴(I) কোনো কোনো দার্শনিক হয় অ-পাগল। (প্রতিবর্তিত)

(ছ) সব ভালো লেখক ভালো বক্তা নয়।

 তঃবঃ— (O) কোনো কোনো ভালো লেখক নন ভালো বক্তা। (প্রতিবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো ভালো লেখক হন না-ভালো বক্তা। (প্রতিবর্তিত) 

(জ) অধিকাংশ সুনাগরিকেরা দেশপ্রেমিক।

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো সুনাগরিকরা হয় দেশপ্রেমিক। (প্রতিবর্তনীয়) 

∴ (O) কোনো কোনো সুনাগরিকেরা নয় অ-দেশপ্রেমিক।(প্রতিবর্তিত)

(ঝ) কেবল শীতপ্রধান দেশ মদ তৈরি করে।

তঃবঃ– (A) সকল দেশ যারা মদ তৈরি করে হয় শীতপ্রধান দেশ। (প্রতিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো দেশ যারা মদ তৈরি করে নয় অ-শীতপ্রধান। (প্রতিবর্তিত) 

(ঞ) বিদ্বান সর্বত্র পূজিত।

তঃবঃ— (A) সকল বিদ্বান হয় পূজিত। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয় 

∴ (E) কোনো বিদ্বান নয় অ-পূজিত। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ট) ঝড়ের সময় প্রত্যেক গৃহই বন্দর সদৃশ। 

তঃবঃ— (A) সকল গৃহই ঝড়ের সময় হয় বন্দর সদৃশ। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) | 

∴ (E) কোনো গৃহই ঝড়ের সময় নয় অ-বন্দর সদৃশ। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)।

(ঠ) ত্রিভুজ কখনও বর্গক্ষেত্র হয় না।

তঃবঃ— (E) কোনো ত্রিভুজ নয় বর্গক্ষেত্র। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (A) সকল ত্রিভুজ হয় অ-বর্গক্ষেত্র। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ড) দয়া মহৎ গুণ।

তঃবঃ— (A) দয়া হয় মহৎ গুণ। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়)

∴ (E) দয়া নয় অমহৎ গুণ। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ঢ) প্রশংসা করা সকল ব্যক্তি বন্ধু নয়। 

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো প্রশংসা করা ব্যক্তি নয় বন্ধু। (প্রতিবর্তনীয়/ বিবর্তনীয়)

∴(I) কোনো কোনো প্রশংসা করা ব্যক্তি হয় অ-বন্ধু। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত) 

(ণ) প্রত্যেক ব্যাধি অনারোগ্য হয় না।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো ব্যাধি নয় অনারোগ্য। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো ব্যাধি হয় আরোগ্য। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত) 

(ত) সমস্ত চকচকে বস্তু সোনা নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো চকচকে বস্তু নয় সোনা। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো চকচকে বস্তু হয় অ-সোনা। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(থ) পারদ ছাড়া সমস্ত ধাতুই কঠিন।

তঃবঃ— (A) সকল ধাতু পারদ ছাড়া হয় কঠিন। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো ধাতু পারদ ছাড়া নয় অকঠিন। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(দ) প্রত্যেক মানুষ মরণশীল।

তঃবঃ— (A) সকল মানুষ হয় মরণশীল। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো মানুষ নয় অমরণশীল। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ধ) কেবল স্নাতকরাই এই পদের জন্য যোগ্য। 

তঃবঃ— (A) সকল ব্যক্তি যারা এই পদের যোগ্য হয় স্নাতক। (প্রতিবর্তনীয়/ বিবর্তনীয়)

∴ (E) কোনো ব্যক্তি যারা এই পদের যোগ্য নয় অ-স্নাতক। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ন) সকল দুর্ঘটনাই মারাত্মক নয়।

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো দুর্ঘটনা নয় মারাত্মক। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (I) কোনো কোনো দুর্ঘটনা হয় অ-মারাত্মক। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(প) কেবলমাত্র দেশপ্রেমিকরাই সৈনিক।

তঃবঃ— (A) সকল সৈনিকরা হয় দেশপ্রেমিক। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়) 

∴ (E) কোনো সৈনিক নয় অ-দেশপ্রেমিক। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ফ) এক-তৃতীয়াংশ সদস্য অনুপস্থিত। 

তঃবঃ— (I) কোনো কোনো সদস্য হন অনুপস্থিত। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়)

∴ (O) কোনো কোনো সদস্য নন উপস্থিত। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ব) দার্শনিকরা প্রায়ই মনোযোগী হয় না। 

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো দার্শনিক নয় মনোযোগী। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো দার্শনিক হয় অমনোযোগী। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

(ভ) ধার্মিক ব্যক্তিরা কদাচ অসুখী হয়। 

তঃবঃ— (O) কোনো কোনো ধার্মিক ব্যক্তি নয় অসুখী। (প্রতিবর্তনীয়/বিবর্তনীয়)

∴ (I) কোনো কোনো ধার্মিক ব্যক্তি হয় সুখী। (প্রতিবর্তিত/বিবর্তিত)

ভাগ – ২ নিরপেক্ষ ন্যায়

অতি- সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। ন্যায় অনুমানের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য পদকে কী বলে?

উত্তরঃ পক্ষ পদ বলে।

প্রশ্ন ২। যে,পদ ন্যায় অনুমানে দুটি আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে, তাকে কী বলা হয়?

উত্তরঃ হেতুপদ।

প্রশ্ন ৩। ‘CESARE’ কি দ্বিতীয় সংস্থানের বৈধ মূর্তি?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ৪। প্রথম সংস্থানে সাধ্য আশ্রয়বাক্যটি বিশেষ বচন হতে হবে। —এটা কি সত্যি?

উত্তরঃ না।

প্রশ্ন ৫। ন্যায়ে বৈধ মূর্তি কয়টি?

উত্তরঃ উনিশটি।

প্রশ্ন ৬। ন্যায় অনুমানে কয়টি বচন থাকে?

উত্তরঃ তিনটি।

প্রশ্ন ৭। ন্যায় অনুমানে কয়টি আশ্রয়বাক্য বা হেতুবাক্য থাকে?

উত্তরঃ দুটি।

প্রশ্ন ৮। ন্যায় অনুমানে দুটি সম্বন্ধহীন পদের মধ্যে কে সম্পর্ক স্থাপন করে?

উত্তরঃ হেতুপদ।

প্রশ্ন ৯। ‘দুজন অপরিচিত ব্যক্তির মধ্যে মধ্যস্থ তৃতীয় ব্যক্তির ভূমিকার সঙ্গে হেতু পদের ভূমিকার তুলনা করা যায়।’—উক্তিটি কি সত্য?

উত্তরঃ হ্যাঁ।

প্রশ্ন ১০। কোন্ তর্কবিজ্ঞানী নকশা বা ছকের সহায়তায় চারপ্রকার সংস্থানকে ব্যক্ত করেছেন?

উত্তরঃ তর্কবিদ কারভেথ রীড।

প্রশ্ন ১১। সাধ্যপদের সাংকেতিক নাম কী?

উত্তরঃ ‘P’

প্রশ্ন ১২। পক্ষপদের সাংকেতিক নাম কী?

উত্তরঃ ‘S’

প্রশ্ন ১৩। হেতুপদ বা মধ্যপদের সাংকেতিক নাম কী?

উত্তরঃ ‘M’

প্রশ্ন ১৪। ন্যায়ের সংস্থান কীভাবে নির্ধারণ করা হয়? 

উত্তরঃ হেতুপদের অবস্থান দেখে।

প্রশ্ন ১৫। FERIO কোন্ সংস্থানের বৈধ মূর্তি?

উত্তরঃ প্রথম সংস্থানের।

প্রশ্ন ১৬। একটি ন্যায় অনুমানের দুটি আধার বচনে থাকা কিন্তু সিদ্ধান্তে না থাক পদটির নাম কী?

উত্তরঃ হেতুপদ।

প্রশ্ন ১৭। লুপ্তাবয়ব ন্যায়ে কয়টি পর্যায় (Order) হয়?

উত্তরঃ চারটি।

প্রশ্ন ১৮। ন্যায়ের নিয়ম মতে, একটি যুক্তিতে কয়টি পদ থাকবে?

উত্তরঃ তিনটি।

প্রশ্ন ১৯। ন্যায়ের বৈধতা বিচার করতে হলে প্রথমেই কী করতে হয়?

উত্তরঃ প্রথমেই যুক্তিটিকে নিয়মসম্মতভাবে বিন্যস্ত করতে হয়। 

প্রশ্ন ২০। যথার্থ তর্কবাক্য হিসেবে কোন্ চিহ্নের ব্যবহার করতে হয়?

উত্তরঃ ∴

প্রশ্ন ২১। অমিশ্র প্রাকল্পিক ন্যায় কাকে বলে? 

উত্তরঃ যে ন্যায়ে তিনটি বাক্যই প্রাকল্পিক, তাকে অমিশ্র প্রাকল্পিক ন্যায় বলে।

প্রশ্ন ২২। অমিশ্র বৈকল্পিক ন্যায় কাকে বলে?

উত্তরঃ যে ন্যায়ে তিনটি বাক্যই বৈকল্পিক, তাকে অমিশ্র বৈকল্পিক ন্যায় বলে।

প্রশ্ন ২৩। প্রাকল্পিক নিরপেক্ষ ন্যায় কী?

উত্তরঃ যে ন্যায়ে সাধ্য আশ্রয়বাক্য হল ‘প্রাকল্পিক’, কিন্তু পক্ষ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত ‘নিরপেক্ষ বচন’ তাকে ‘প্রাকল্পিক-নিরপেক্ষ’ ন্যায় বলে।

প্রশ্ন ২৪। বৈকল্পিক-নিরপেক্ষ ন্যায় কাকে বলে?

উত্তরঃ যে ন্যায়ে সাধ্য আশ্রয়বাক্য ‘বিকল্পক’ কিন্তু পক্ষ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত ‘নিরপেক্ষ বচন’, তাকে ‘বৈকল্পিক নিরপেক্ষ’ ন্যায় বলা হয়।

প্রশ্ন ২৫। সাধ্যপদ কাকে বলে?

উত্তরঃ ন্যায় অনুমানের সিদ্ধান্তের বিধেয়পদকে সাধ্যপদ বলে।

প্রশ্ন ২৬। পক্ষপদ কাকে বলে?

উত্তরঃ ন্যায় অনুমানের সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যপদকে পক্ষপদ বলে।

প্রশ্ন ২৭। হেতুপদ কাকে বলে?

উত্তরঃ ন্যায় অনুমানে যে পদটি দুটি আশ্রয়বাক্যেই উপস্থিত থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে, তাকে হেতুপদ বা মধ্যপদ বলে। 

প্রশ্ন ২৮। সাধ্য আশ্রয়বাক্য বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ ন্যায় অনুমানে সাধ্যপদটি যে আশ্রয়বাক্যে থাকে, তাকে সাধ্য আশ্রয়বাক্য বা প্রধান যুক্তিবাক্য বলে।

প্রশ্ন ২৯। পক্ষ আশ্রয়বাক্য বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ ন্যায় অনুমানে পক্ষপদটি যে আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে, সেই আশ্রয়বাক্যকে পক্ষ আশ্রয়বাক্য বা অপ্রধান আশ্রয়বাক্য বলে।

প্রশ্ন ৩০। ন্যায়ের সিদ্ধান্ত কী?

উত্তরঃ ন্যায়ের সিদ্ধান্ত হল সেই বচন, যাতে সাধ্যপদ ও পক্ষপদ উপস্থিত থাকে, কিন্তু হেতুপদ অনুপস্থিত থাকে।

সঠিক উত্তর নির্বাচন করো:

প্রশ্ন ১। একটি অমিশ্র নিরপেক্ষ ন্যায়ে একটি আধার বাক্য/দুটি আধার বাক্য থাকে। 

উত্তরঃ দুটি আধার বাক্য থাকে।

প্রশ্ন ২। নিরপেক্ষ ন্যায়ে হেতুপদ/পক্ষপদ / সাধ্যপদ অন্তত একবার ব্যাপ্ত হতে হবে।

উত্তরঃ হেতুপদ।

প্রশ্ন ৩। ন্যায় অনুমান নিগমাত্মক/আগমনাত্মক অনুমান।

উত্তরঃ নিগমনাত্মক অনুমান।

প্রশ্ন ৪। নিগমনাত্মক বা অবরোহ অনুমান শুধুমাত্র আকারগত/ শুধুমাত্র বস্তুগত/আকারগত ও বস্তুগত উভয় সত্যতাই বিচার করে।

উত্তরঃ শুধুমাত্র আকারগত সত্যতাই বিচার করে।

প্রশ্ন ৫। প্রথম সংস্থানে তিনটি/চারটি/পাঁচটি/ছয়টি বৈধ মূর্তি পাওয়া যায়।

উত্তরঃ চারটি।

প্রশ্ন ৬। BAROCO একটি বৈধ ন্যায়/অপরোক্ষ ন্যায়/ব্যাপ্য পদ। 

উত্তরঃ বৈধ ন্যায়।

প্রশ্ন ৭। দ্বিতীয় সংস্থানে দুইটি/তিনটি/চারটি বৈধ মূর্তি আছে। 

উত্তরঃ চারটি।

প্রশ্ন ৮। তৃতীয় সংস্থানে চারটি/পাঁচটি/ছয়টি বৈধ মূর্তি আছে। 

উত্তরঃ ছয়টি।

প্রশ্ন ৯। চতুর্থ সংস্থানে চারটি/পাঁচটি/ছয়টি বৈধ মূর্তি আছে।

উত্তরঃ পাঁচটি।

প্রশ্ন ১০। দ্বিতীয় সংস্থানে হেতুপদের স্থান উদ্দেশ্য/বিধেয়।

উত্তরঃ বিধেয়।

প্রশ্ন ১১। প্রথম সংস্থানের বৈধ মূর্তিসমূহের পক্ষ বাক্যটি সার্বিক/সদর্থক/বিশেষ হয়। 

উত্তরঃ সদর্থক হয়।

প্রশ্ন ১২। দ্বিতীয় সংস্থানে সিদ্ধান্ত সদর্থক/নঞর্থক বচন।

উত্তরঃ নঞর্থক।

প্রশ্ন ১৩। একটি ন্যায়ে মাত্র দুটি /তিনটি/চারটি পদ থাকে। 

উত্তরঃ তিনটি।

প্রশ্ন ১৪। সাধ্য/পক্ষ/হেতুর অবস্থিতির ওপরেই ন্যায়ের সংস্থান নির্ভর করে। 

উত্তরঃ হেতুর অবস্থিতির ওপরেই ন্যায়ের সংস্থান নির্ভর করে।

প্রশ্ন ১৫। নিরপেক্ষ ন্যায়ে দুটি বিশেষ বচন/সামান্য বচন থেকে সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না।

উত্তরঃ দুটি বিশেষ বচন।

প্রশ্ন ১৬। ন্যায় অনুমানের সিদ্ধান্তের বিধেয়পদকে সাধ্যপদ/ পক্ষপদ/হেতুপদ বলে।

উত্তরঃ সাধ্যপদ।

প্রশ্ন ১৭। প্রথম সংস্থানের বৈধমূর্তিগুলোর সাধ্য বাক্যটি সার্বিক/ সদর্থক/নঞর্থক হয়।

উত্তরঃ সার্বিক বা সামান্য বচন। 

প্রশ্ন ১৮। ন্যায়ের তৃতীয় সংস্থানে হেতুপদ দুটি  আশ্রয়বাক্যেই উদ্দেশ্য/বিধেয় হয়।

উত্তরঃ উদ্দেশ্য হয়।

প্রশ্ন ১৯। ‘BOCARDO’ দ্বিতীয়/তৃতীয়/চতুর্থ সংস্থানের বৈধ মূর্তি। 

উত্তরঃ তৃতীয় সংস্থানের বৈধ মূর্তি।

প্রশ্ন ২০। মিশ্র ন্যায়ে একটি/দুটি /তিনটি বচনই একই আকারের হয় না ।

উত্তরঃ তিনটি।

শূন্যস্থান পূর্ণ করো: 

১। একটি ______ গঠন করতে দুটি আশ্রয়বাক্যের প্রয়োজন হয়।

উত্তরঃ ন্যায়। 

২। ন্যায়ে বিশেষ বচন সিদ্ধান্ত হলে হেতু বচনের একটিকে ______ হতে হবে।

উত্তরঃ বিশেষ।

৩। তৃতীয় সংস্থানে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই ______ হয়।

উত্তরঃ উদ্দেশ্য। 

৪। DATISI হচ্ছে ______ সংস্থানের বৈধ মূর্তি।

উত্তরঃ তৃতীয়।

৫। সাধ্য বচন বিশেষ আর পক্ষ বচন ______ হলে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় না।

উত্তরঃ নঞর্থক।

৬। ন্যায়ের চতুর্থ সংস্থানে হেতুপদ সাধ্য বচনে ______ এবং পক্ষ বচনে ______ হিসাবে ব্যবহৃত হয়। 

উত্তরঃ বিধেয়, উদ্দেশ্য।

৭। ন্যায়ের তৃতীয় সংস্থানে সিদ্ধান্ত ______ বচন হতে হবে।

উত্তরঃ বিশেষ।

৮। দ্বিতীয় সংস্থানে কোনো একটি আশ্রয়বাক্য ______ হতে হবে।

উত্তরঃ নঞর্থক।

প্রশ্ন ৯। ন্যায়ের অবয়ব বা বচনগুলো ______ বা ______ বচন।

উত্তরঃ শর্তহীন; নিরপেক্ষ।

প্রশ্ন ১০। ন্যায়ের সিদ্ধান্ত দুটি ______ বাক্যের মিলিত দল।

উত্তরঃ আশ্রয়। 

সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। নিরপেক্ষ ন্যায় বা ন্যায় বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ যে অবরোহমূলক মাধ্যম অনুমানে পরস্পর সংযুক্ত দুটি নিরপেক্ষ আশ্রয়বাক্য থেকে একটি নিরপেক্ষ বচন সিদ্ধান্ত হিসেবে অনিবার্যভাবে নিঃসৃত হয়, তাকে ‘নিরপেক্ষ ন্যায়’ বা ‘ন্যায়’ বলে।

তর্কবিজ্ঞানী ডঃ কিন্‌সে (Keynes) বলেন, যে অনুমানে তিনটি শর্তহীন বচন এবং তিনটি পদ থাকে, তাকে ‘ন্যায়’ বলে। কিন্তু ‘ন্যায়’ বলতে সাধারণত আমরা প্রথম সংজ্ঞাটিকেই গ্রহণ করি।

প্রশ্ন ২। নিরপেক্ষ ন্যায়-এর একটি উদাহরণ দাও। 

উত্তরঃ সকল মানুষ হয় মরণশীল।

সকল রাজা হয় মানুষ।

∴ সকল রাজা হয় মরণশীল।

প্রশ্ন ৩। নিরপেক্ষ ন্যায়ের বৈশিষ্ট্যগুলি উল্লেখ করো।

উত্তরঃ ন্যায়ের বৈশিষ্ট্যগুলি নিম্নরূপ:

(ক) ন্যায়ে তিনটি মাত্র অবয়ব বা বচন থাকে। এই তিনটি বচনের মধ্যে প্রথম দুটি আশ্রয়বাক্য এবং তৃতীয়টি সিদ্ধান্ত। ন্যায়ের অবয়বগুলো শর্তহীন ও নিরপেক্ষ বচন হয়ে থাকে।

(খ) ন্যায় যেহেতু অবরোহমূলক অমাধ্যম অনুমান, সেইহেতু, বৈধ ন্যায়ের সিদ্ধান্ত আশ্রয়বাক্য থেকে বেশি ব্যাপক হতে পারে না।

(গ) ন্যায়ে তিনটি মাত্র পদ থাকে, যদিও প্রতিটি পদ দু’বার করে ব্যবহৃত হয়ে থাকে। 

(ঘ) ন্যায়ের সিদ্ধান্ত, দুটি আশ্রয়বাক্যের মিলিত ফল।

(ঙ) ন্যায় অনুমান আকারগত সত্যতার সঙ্গে জড়িত। বস্তুগত সত্যতার সঙ্গে নয়।

প্রশ্ন ৪। নিরপেক্ষ ন্যায়ের গঠন সম্বন্ধে আলোচনা করো। 

উত্তরঃ ন্যায়ের গঠনগুলি নিম্নরূপ:

(ক) ন্যায় অনুমানে তিনটি বচন থাকে—দুটি আশ্রয়বাক্য এবং একটি সিদ্ধান্ত। পরস্পর সংযুক্ত দুটি আশ্রয়বাক্য থেকে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। ন্যায়ের তিনটি বচনের প্রথম দুটি আশ্রয়বাক্য, তৃতীয়টি সিদ্ধান্ত।

(খ) ন্যায় অনুমানে তিনটি পদ থাকে। পদ তিনটির নাম সাধ্যপদ, পক্ষপদ এবং হেতুপদ। প্রতিটি পদ দু’বার করে থাকে। সিদ্ধান্তের বিধেয় পদটির নাম সাধ্যপদ, সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্যপদটির নাম পক্ষপদ এবং যে পদ দুটি আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে অনুপস্থিত থাকে, তাকে হেতুপদ বলে।

(গ) পদের উপস্থিতি অনুসারে আশ্রয়বাক্যের নামকরণ করা হয়। সাধ্যপদটি যে আশ্রয়বাক্যে থাকে, তাকে সাধ্য আশ্রয়বাক্য বলে। পক্ষপদটি যে আশ্রয়বাক্যে থাকে, তাকে পক্ষ আশ্রয়বাক্য বলে। সিদ্ধান্ত হল সেই বচন, যাতে সাধ্যপদ ও পক্ষপদ উপস্থিত থাকে, কিন্তু হেতুপদ অনুপস্থিত থাকে। 

(ঘ) ন্যায়ের যুক্তিসম্মত গঠন হবে এরকম—প্রথমে থাকবে সাধ্য আশ্রয়বাক্য, তারপর পক্ষ আশ্রয়বাক্য এবং সর্বশেষে সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন ৫। উদাহরণ সহযোগে ন্যায়ের গঠন বিশ্লেষণ করো। 

উত্তরঃ নিম্নোক্ত উদাহরণের মাধ্যমে ন্যায়ের গঠন বিশ্লেষণ করা হল:

সকল মানুষ হয় মরণশীল। 

সকল দার্শনিক হয় মানুষ।

∴ সকল দার্শনিক হয় মরণশীল।

এখানে প্রথম বচনটি ‘সকল মানুষ হয় মরণশীল’ হল ‘সাধ্য আশ্রয়বাক্য’, দ্বিতীয় বচনটি ‘সকল দার্শনিক হয় মানুষ’ হল ‘পক্ষ আশ্রয়বাক্য’ এবং তৃতীয় বচনটি ‘সকল দার্শনিক হয় মরণশীল’ হল ‘সিদ্ধান্ত।

এই ন্যায় অনুমানে তিনটি পদ আছে—’মানুষ’, ‘দার্শনিক’ এবং ‘মরণশীল’। সিদ্ধান্তের বিধেয় ‘মরণশীল’ হল ‘সাধ্যপদ’, সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য ‘দার্শনিক’ হল ‘পক্ষপদ’ এবং দুইটি আশ্রয়বাক্যে উপস্থিত কিন্তু অনুপস্থিত ‘মানুষ’ পদটি ‘।

প্রথম বচনটিতে ন্যায়ের সাধ্যপদটি উপস্থিত থাকে। তাই এই বচনটিকে ‘সাধ্য আশ্রয়বাক্য বা সাধ্যযুক্তিবাক্য বা ‘প্রধান যুক্তিবাক্য’ বলে। দ্বিতীয় বচনটিতে পক্ষপদটি উপস্থিত থাকার দরুন সেই বচনটিকে ‘পক্ষ আশ্রয়বাক্য বা পক্ষ যুক্তিবাক্য বা অপ্রধানযুক্তিবাক্য’ বলা হয়। প্রধান ও অপ্রধান যুক্তিবাক্যের ভিত্তিতে তৃতীয় বচনটিকে পাওয়া যায় এবং তৃতীয় বচনটিতে সাধ্যপদ এবং পক্ষপদ উপস্থিত থাকে কিন্তু হেতুপদ অনুপস্থিত থাকে বলে এই বচনটিকে সিদ্ধান্ত বলা হয়।

সাধ্যপদ, পক্ষপদ এবং হেতুপদকে যথাক্রমে ‘P’, ‘S’ এবং ‘M’ এই তিনটি বর্ণের দ্বারা চিহ্নিত করা হয়। এই তিনটি বর্ণ প্রতীক বা সংকেতের কাজ করে।

এখানে ন্যায়ের যুক্তিবিজ্ঞানসম্মত রূপ বা আকারটি যথাযথ। প্রথমে সাধ্য আশ্রয়বাক্য, তারপর পক্ষ আশ্রয়বাক্য এবং সর্বশেষে সিদ্ধান্ত।

প্রশ্ন ৬। ন্যায় অনুমানে হেতুপদের ভূমিকা কী?

উত্তরঃ ন্যায় অনুমানের উদ্দেশ্য যুক্তিসম্মতভাবে সিদ্ধান্তের প্রতিষ্ঠা। সিদ্ধান্তে পক্ষপদের সঙ্গে সাধ্যপদের সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়। এজন্য সিদ্ধান্তে পক্ষপদ এবং সাধ্যপদ থাকে। 

প্রকৃতপক্ষে ‘সাধ্য’ ও ‘পক্ষ’ পদের মধ্যে কোনো যোগাযোগ বা পরিচয় থাকে না, হেতুপদ মধ্যস্থ হয়ে এই দুটি অপরিচিত পদের মধ্যে সম্বন্ধ স্থাপন করে। পক্ষপদের সঙ্গে সাধ্যপদের সম্বন্ধ নির্ণয় করা সম্ভব হয় হেতুপদের মাধ্যমে। ‘হেতুপদ’ সেই পদ যা দুটি আশ্রয়বাক্যের মধ্যে থাকে, কিন্তু সিদ্ধান্তে থাকে না। হেতুপদের উপস্থিতির জন্যই দুটি আশ্রয়বাক্য পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত হতে পারে। প্রথম আশ্রয়বাক্যটিতে সাধ্যপদের সঙ্গে হেতুপদের সম্পর্ক থাকে। দ্বিতীয় আশ্রয়বাক্যে পক্ষপদের সঙ্গে হেতুপদের সম্পর্ক থাকে। এই সম্পর্কের ফলেই হেতুপদের মাধ্যমে সাধ্যপদ ও পক্ষপদের মধ্যে সিদ্ধান্তে সম্পর্ক-স্থাপন করা সম্ভব হয়। পরস্পর সংযুক্ত নয়, এমন দুটো আশ্রয়বাক্য থেকে কখনও সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হতে পারে না। কাজেই, ন্যায়ে হেতুপদের গুরুত্ব অপরিসীম। 

প্রশ্ন ৭। ন্যায়ের শ্রেণিবিভাগ সম্বন্ধে আলোচনা করো।

অথবা,

ন্যায়ের প্রকারভেদ সম্বন্ধে আলোচনা করো।

উত্তরঃ নিম্নোক্ত তালিকা থেকে ‘ন্যায়’-এর প্রকারভেদ বোঝা যাবে:

প্রথমত, ন্যায়কে দু’ভাগে ভাগ করা হয়, সেগুলো হল— ‘অমিশ্র’ এবং ‘মিশ্র’। 

অমিশ্র ন্যায়—এই জাতীয় ন্যায়ে তিনটি বচনের আকার একই হয়। যে ন্যায়ের তিনটি বাক্যই এক জাতীয়, তাকে ‘অমিশ্র ন্যায়’ বলে। যেমন—তিনটি বচনই শর্তহীন বা নিরপেক্ষ বচন হতে পারে। আর তিনটি বচনই শর্তযুক্ত বা সাপেক্ষ বচন হতে পারে। সুতরাং অমিশ্র ন্যায় দু’ প্রকারের হয়— 

(ক) অমিশ্র নিরপেক্ষ ন্যায়। 

(খ) অমিশ্র সাপেক্ষ ন্যায়।

অমিশ্র সাপেক্ষ ন্যায় দু’ প্রকারের হয়। যেমন—(অ) প্রাকল্পিক ন্যায়, (আ) বৈকল্পিক ন্যায়। 

মিশ্র ন্যায়: মিশ্র ন্যায়ে তিনটি বচনই একই আকারের হয় না। কোনো কোনো বচন নিরপেক্ষ বচন, আর কোনো কোনো বচন সাপেক্ষ বচন হয়। অর্থাৎ, যে ন্যায়ে বিভিন্ন জাতীয় বাক্যের মিশ্রণ থাকে, তাকে মিশ্র ন্যায় বলে। 

মিশ্র ন্যায় তিন প্রকারের হয়। যথা—

(ক) প্রাকল্পিক-নিরপেক্ষ। 

(খ) বৈকল্পিক-নিরপেক্ষ। 

(গ) দ্বিকল্প ন্যায়। 

প্রশ্ন ৮। দ্বিকল্পক ন্যায় কাকে বলে?

উত্তরঃ যে ন্যায় অনুমানে সাধ্য আশ্রয়বাক্য দুটি প্রকল্পক বচন ‘এবং’ দ্বারা যুক্ত হয়, পক্ষ আশ্রয়বাক্যটি বিকল্পক বচন হয় এবং সিদ্ধান্ত প্রকল্পক অথবা বিকল্পক বচন হয়, তাকে দ্বিকল্পক বচন বলে।

প্রশ্ন ৯। ‘ন্যায়ের বৈধতার সাধারণ নিয়মাবলি’ বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ পরম্পরাগত যুক্তিবিজ্ঞানীরা ন্যায়ের বৈধতার দশটি নিয়ম বা বিধির কথা বলেছেন। এই নিয়মগুলো যে-কোনো প্রকারের ন্যায়ের বৈধতার নিয়ম। এজন্য এগুলোকে ন্যায়ের বৈধতার সাধারণ নিয়মাবলি বলা হয়। 

প্রশ্ন ১০। ন্যায়ের সংস্থান বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ নিরপেক্ষ ন্যায়ের যুক্তিবাক্য (আশ্রয়বাক্য) দুটিতে হেতুপদের (মধ্যপদ) অবস্থান অনুযায়ী ন্যায়ের যে আকার হয়, তাকে ন্যায়ের সংস্থান বলে।

ন্যায়ের দুটি আশ্রয়বাক্যেই হেতুপদ উপস্থিত থাকে। প্রতিটি আশ্রয়বাক্যে হেতুপদ উদ্দেশ্য হতে পারে কিংবা বিধেয় হতে পারে। এভাবে আশ্রয়বাক্য দুটিতে হেতুপদের অবস্থান চার রকমের হতে পারে। ফলে ন্যায়ের সংস্থানও চার রকমের হয়।

প্রশ্ন ১১। ন্যায়ের সংস্থান কয়প্রকার ও কী কী? 

উত্তরঃ হেতুপদের অবস্থান অনুযায়ী আমরা চার রকমের সংস্থান পাই:

(ক) প্রথম সংস্থান। 

(খ) দ্বিতীয় সংস্থান। 

(গ) তৃতীয় সংস্থান। 

(ঘ) চতুর্থ সংস্থান।

প্রশ্ন ১২। প্রথম সংস্থান বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ প্রথম সংস্থানে হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য ও পক্ষ আশ্রয়বাক্যে বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়। যথা—

সকল মানুষ হয় মরণশীল। (A)

সকল রাজা হয় মানুষ। (A)

∴ সকল রাজা হয় মরণশীল। (A)

সকল M হয় P। (A)

সকল S হয় M। (A)

∴ সকল S হয় P। (A)

প্রশ্ন ১৩। দ্বিতীয় সংস্থান বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ দ্বিতীয় সংস্থানে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়। যথা—

কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী। (E)

সকল গোরু হয় চতুষ্পদ প্রাণী। (A) 

∴ কোনো গোরু নয় মানুষ। (E) 

কোনো P নয় M (E)

সকল S হয় M। (A)

∴ কোনো S নয় P। (E)

প্রশ্ন ১৪। ন্যায়ের তৃতীয় সংস্থান বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ ন্যায়ের তৃতীয় সংস্থানে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যথা— 

কোনো কোনো মানুষ হয় জ্ঞানী (I) 

সকল মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী। (A)

∴ কোনো কোনো মরণশীল প্রাণী হয় জ্ঞানী। (I)

কোনো কোনো M হয় P। (I)

সকল M হয় S। (A)

∴ কোনো কোনো S হয় P। (I) 

প্রশ্ন ১৫। ন্যায়ের চতুর্থ সংস্থান বলতে কী বোঝো?

উত্তরঃ ন্যায়ের চতুর্থ সংস্থানে হেতুপদ দুটি সাধ্য আশ্রয় বাক্যে বিধেয় ও পক্ষ আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যথা— 

সকল দার্শনিক হয় মানুষ। (A)

কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী। (E) 

∴ কোনো চতুষ্পদ প্রাণী নয় দার্শনিক। (E)

সকল P হয় M। (A)

কোনো M নয় SI (E)

∴ কোনো S নয় PI (E)

প্রশ্ন ১৬। কীভাবে ছকের মাধ্যমে হেতুপদের বিভিন্ন অবস্থানকে ব্যক্ত করা যায়, দেখাও।

উত্তরঃ তর্কবিজ্ঞানী কারভেথ রীড (Carveth Read) ছকের মাধ্যমে হেতুপদের বিভিন্ন অবস্থানকে, অর্থাৎ ন্যায়ের চারটি সংস্থানকে নিম্নোক্তভাবে ব্যক্ত করেছেন—

রচনাভিত্তিক প্রশ্নোত্তরঃ

প্রশ্ন ১। অমিশ্র নিরপেক্ষ ন্যায়ের সাধারণ নিয়মাবলি উল্লেখ করো।

উত্তরঃ অমিশ্র নিরপেক্ষ ন্যায়ের সাধারণ নিয়মগুলো নিম্নরূপ:

প্রথম নিয়ম: প্রত্যেক ন্যায় অনুমানে তিনটি এবং শুধুমাত্র তিনটি পদ থাকবে, তার বেশিও নয়, কমও নয়। 

দ্বিতীয় নিয়ম: প্রত্যেক ন্যায় অনুমানে তিনটি বচন থাকতে হবে, তার বেশিও নয়, কমও নয়। 

তৃতীয় নিয়ম: প্রত্যেক ন্যায় অনুমানে আশ্রয়বাক্য দুটির মধ্যে ‘হেতুপদ’ অন্ততপক্ষে একবার ব্যাপ্ত হতে হবে।

চতুর্থ নিয়ম: কোনো পদ যদি আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত না হয়, তাহলে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হতে পারবে না।

পঞ্চম নিয়ম: দুটি নঞর্থক আশ্রয়বাক্য থেকে বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হবে না।

ষষ্ঠ নিয়ম: যদি একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হয়, তাহলে সিদ্ধান্তও নঞর্থক হবে এবং বিপরীতভাবে যদি সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়, তবে একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হতে বাধ্য। 

সপ্তম নিয়ম: দুটি আশ্রয়বাক্যই যদি সদর্থক হয়, তাহলে সিদ্ধান্তও সদর্থক হবে; বিপরীতভাবে, সিদ্ধান্ত যদি সদর্থক হয়, তবে দুটি আশ্রয়বাক্যই সদর্থক হতে বাধ্য।

অষ্টম নিয়ম: দুটি আশ্রয়বাক্যই যদি বিশেষ বচন হয়, তাহলে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে না। 

নবম নিয়ম: একটি আশ্রয়বাক্য যদি বিশেষ বচন হয়, তাহলে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হবে।

দশম নিয়ম: সাধ্য আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হলে এবং পক্ষ আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত পাওয়া সম্ভব নয়।

প্রশ্ন ২। ন্যায়ের বৈধতার সাধারণ নিয়মাবলির শ্রেণি বিভাজন সম্বন্ধে আলোচনা করো। 

উত্তরঃ নিরপেক্ষ ন্যায়ের নিয়মাবলির মধ্যে কয়েকটি মুখ্য নিয়ম, কতকগুলি গৌণ নিয়ম আছে। তাই ন্যায়ের দশটি নিয়মকে তিনটি প্রধান শ্রেণিতে ভাগ করে আলোচনা করা হয়। যেমন—

(অ) গঠন-সংক্রান্ত নিয়ম।

(আ) বৈধতা-সম্পর্কিত নিয়ম। 

(ই) অনুসিদ্ধান্ত বা গৌণ নিয়ম।

(অ) গঠন-সংক্রান্ত নিয়ম:

(ক) ন্যায় অনুমানে মাত্র তিনটি পদ থাকবে— তার বেশিও নয়, কমও নয়।

(খ) ন্যায় অনুমানে তিনটি শর্তহীন বা নিরপেক্ষ বচন থাকবে— তার বেশিও নয়, কমও নয়।

(আ) বৈধতা সম্পর্কিত নিয়ম:

(ক) হেতুপদটি অন্তত একবার আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হবে। 

(খ) কোনো পদ যদি আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত না হয়, সেটি সিদ্ধান্তেও ব্যাপ্ত হতে পারবে না।

(গ) দুটি নঞর্থক বচন থেকে বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হবে না।

(ঘ) একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে, সিদ্ধান্তও নঞর্থক হবে। 

(ঙ) দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হলে, সিদ্ধান্তও সদর্থক হবে। এই নিয়মটি মুখ্য নয়, গৌণ নিয়ম। কারণ ৭নং নিয়মটি ৬নং নিয়ম থেকেই পাওয়া যায়। 

(ই) অনুসিদ্ধান্ত বা গৌণ নিয়ম:

উল্লেখিত মুখ্য নিয়মগুলি থেকে অনেক অনুসিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। এগুলি গৌণ নিয়ম। নীচে তিনটি গৌণ নিয়ম উল্লেখ করা হল—

(ক) দুটি আশ্রয়বাক্যই যদি বিশেষ বচন হয়, তাহলে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত পাওয়া যাবে না।

(খ) যে-কোনো একটি আশ্রয়বাক্য যদি বিশেষ বচন হয়, তাহলে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হবে।

(গ) সাধ্য আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হলে এবং পক্ষ আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত পাওয়া যায় না। 

প্রশ্ন ৩। নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমানের নিয়মভঙ্গজনিত দোষগুলি ব্যাখ্যা করো।

উত্তরঃ নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমানের নিয়মভঙ্গজনিত দোষগুলি নিম্নরূপ: 

(ক) নিরপেক্ষ ন্যায় অনুমানের নিয়মানুযায়ী প্রত্যেক ন্যায় অনুমানে তিনটি পদ থাকবে, তার বেশিও নয়, কমও নয়।

যদি কোনো নিরপেক্ষ ন্যায়ে তিনটির পরিবর্তে চারটি পদ থাকে, তাহলে ‘চারিপদ ঘটিত দোষ’ বা ‘চতুষ্পদী দোষ’ ঘটে। 

তাছাড়া, যদি ন্যায়ের কোনো পদকে একাধিক অর্থে ব্যবহার করা হয়, তাহলে যে দোষ দেখা দেয়, তাকে ‘অনেকার্থক দোষ’ বলা হয়।

(খ) বৈধ আদর্শ আকারের নিরপেক্ষ ন্যায়ের হেতুপদকে যুক্তিবাক্য বা আশ্ৰয়বাক্য দুটির যে-কোনো একটিতে অন্তত পক্ষে একবার ব্যাপ্য বা ব্যাপ্ত হতে হবে।

কোনো ন্যায় অনুমানে এই নিয়মটি লঙ্ঘিত হলে, ‘অব্যাপ্য হেতুপদ দোষ’ ঘটে।

(গ) বৈধ আদর্শ আকারের নিরপেক্ষ ন্যায়ে আশ্রয়বাক্যে কোনো পদ অব্যাপ্ত থাকলে সিদ্ধান্তে সেইপদ ব্যাপ্ত হতে পারবে না ।

এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে দু’ধরনের দোষের উদ্ভব হয়। যদি সিদ্ধান্তে সাধ্যপদটি ব্যাপ্য হয় এবং সেটি যদি যুক্তিবাক্যে অব্যাপ্য হয়, তাহলে যে দোষের উদ্ভব ঘটে, তার নাম ‘অবৈধ সাধ্যপদ দোষ’। 

যখন কোনো ন্যায়ের সিদ্ধান্তে পক্ষপদ ব্যাপ্য হয়, কিন্তু সেই পদটি পক্ষ আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্য থাকে, তখন যুক্তিটি ‘অবৈধ পক্ষপদ দোষে’ দুষ্ট হয়। 

(ঘ) দুটি নঞর্থক আশ্রয়বাক্য থেকে কোনো বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় না।

এই নিয়মটি লঙ্ঘন করলে যে দোষের উদ্ভব হয়, তার নাম নিষেধেক যুক্তিবাক্য’ বা ‘নঞর্থক যুক্তিবাক্যজনিত দোষ’।

প্রশ্ন ৪। ন্যায়ের সংস্থান সম্বন্ধে আলোচনা করো। 

উত্তরঃ নিরপেক্ষ ন্যায়ের যুক্তিবাক্য বা আশ্রয়বাক্য দুটিতে হেতুপদের অবস্থান অনুযায়ী ন্যায়ের যে আকার হয়, তাকে ন্যায়ের সংস্থান বলে। 

ন্যায়ের সংস্থান চার প্রকারের: 

(ক) প্রথম সংস্থান। 

(খ) দ্বিতীয় সংস্থান।

(গ) তৃতীয় সংস্থান। 

(ঘ) চতুর্থ সংস্থান। 

(ক) প্রথম সংস্থানে হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য ও পক্ষ আশ্রয়বাক্যে বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়। যথা—

সকল মানুষ হয় মরণশীল। (A)

সকল রাজা হয় মানুষ। ( A ) 

∴ সকল রাজা হয় মরণশীল। (A)

সকল M হয় P। (A)

সকল S হয় M। (A) 

∴ সকল S হয় P। (A)

(খ) দ্বিতীয় সংস্থানে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই বিধেয়রূপে ব্যবহৃত হয়। যথা—

কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী। (E) 

সকল গরু হয় চতুষ্পদ প্রাণী। (A) 

∴ কোনো গরু নয় মানুষ। (E)

কোনো P নয় M। (E)

সকল S হয় M। (A)

∴ কোনো S নয় P | (E) 

(গ) ন্যায়ের তৃতীয় সংস্থানে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যথা—

কোনো কোনো মানুষ হয় জ্ঞানী (I) 

সকল মানুষ হয় মরণশীল প্রাণী। (A) 

∴ কোনো কোনো মরণশীল প্রাণী হয় জ্ঞানী। (I) 

কোনো কোনো M হয় P। (I)

সকল M হয় S। (A)

∴ কোনো কোনো S হয় P। (I)

(ঘ) চতুর্থ সংস্থানে হেতুপদ দুটি সাধ্য আশ্রয়বাক্যে বিধেয় ও পক্ষ আশ্রয়বাক্যে উদ্দেশ্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়। যথা—

সকল দার্শনিক হয় মানুষ। (A) 

কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদ প্রাণী। (E)

∴ কোনো চতুষ্পদ প্রাণী নয় দার্শনিক। (E) 

সকল P হয় M। (A)

কোনো M নয় S। (E)

∴ কোনো S নয় PI (E)

প্রশ্ন ৫। ন্যায়ের মূর্তি কী?

উত্তরঃ ন্যায়ের অন্তর্গত বচনগুলির গুণ ও পরিমাণের ভিত্তিতে ন্যায়ের যেসব বিশেষ বিশেষ আকার হয়, এদের ন্যায়ের ‘মূর্তি’ বলে। 

ন্যায়ের মূর্তি সম্পর্কে যুক্তিবিজ্ঞানীরা সকলে একমত নন। তাঁদের ব্যাখ্যায় আমরা ন্যায়ের মূর্তির নিম্নোক্ত তিনটি অর্থ পাই:

(ক) প্রথম অর্থে, ‘মূর্তি’ হল দুটি আশ্রয়বাক্যের গুণগত এবং পরিমাণগত বিন্যাস বা আকার। গুণ ও পরিমাণ অনুসারে বচন A, E, I, O—এই চার প্রকারের। কাজেই দুটি আশ্রয়বাক্যের গুণ ও পরিমাণ অনুযায়ী ষোলোটি বিন্যাস সম্ভব। যেহেতু, ন্যায়ের চারটি সংস্থান এবং প্রতিটি সংস্থানে এই ষোলোটি বিন্যাস সম্ভব, অতএব, মূর্তির সংখ্যা সর্বমোট ১৬x৪=৬৪টি।

(খ) দ্বিতীয় অর্থে, ‘মূর্তি’ হল দুটি আশ্রয় বাক্য এবং সিদ্ধান্তের গুণ ও পরিমাণ অনুসারে বিন্যাস বা আকার। দুটি আশ্রয়বাক্যের সঙ্গে সিদ্ধান্তের গুণ ও পরিমাণ যুক্ত করলে ষোলোটি বিন্যাসের প্রতিটির আবার চারটি করে মূর্তি পাওয়া যায়।

এভাবে ৬৪টি মূর্তির প্রতিটিতে চারটি করে মূর্তি পাওয়া যাবে, যার ফলে মোট মূর্তি সংখ্যা হবে ২৫৬টি (৬৪×৪=২৫৬)।

(গ) তৃতীয় অর্থে, ‘মূর্তি’ বলতে ন্যায়ের বৈধ আকার বোঝায়। এই অর্থে মূর্তি হচ্ছে দুটি আশ্রয়বাক্যের গুণ ও পরিমাণ অনুযায়ী এমন বিন্যাস যার থেকে বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। এভাবে, ৬৪টি মূর্তি থেকে মাত্র ১৯টি বৈধ মূর্তি পাওয়া যায়।

প্রশ্ন ৬। অ্যারিস্টটলের সূত্র ‘Dictum de Omni et nullo’ সম্বন্ধে আলোচনা করো।

উত্তরঃ ন্যায়ের সংস্থানের নির্ভুল (Perfect) আকার নির্ধারণ করবার জন্য মৌলিক নীতি হিসেবে অ্যারিস্টটল একটি সূত্র উদ্ভাবন করেছিলেন। এই সূত্রটি ‘Dictum de Omni et nullo’ অর্থাৎ ‘সকল হয় এবং কোনো নয়-এর সূত্র’ (সংস্কৃতে, যজ্জাতি বিধেয়ম্ তদ্‌ব্যক্তি বিধেয়ম্) বলা হয়।

এই সূত্রটির অর্থ হল, “কোনো ব্যাপ্ত পদ সম্পর্কে যে বিধেয়কে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়, সেই পদের অন্তর্গত সকলের ক্ষেত্রেও সেই বিধেয়কে একইভাবে স্বীকার বা অস্বীকার করা হয়।” যেমন—

(ক) সকল মানুষ হয় মরণশীল। (A)

সকল দার্শনিক হয় মানুষ। (A)

∴ সকল দার্শনিক হয় মরণশীল। (A)

(খ) কোনো মানুষ নয় অমর। (E)

সকল দার্শনিক হয় মানুষ। (A)

∴ কোনো দার্শনিক নয় অমর। (E)

এই দুটি উদাহরণের প্রথমটিতে (ক) ‘মরণশীল’ বিধেয়পদটি সাধ্য আশ্রয়বাক্যের উদ্দেশ্য পদ ‘মানুষের’ ক্ষেত্রে স্বীকৃত হওয়ায় এবং ‘মানুষ’ পদটি ব্যাপ্ত হওয়াতে ‘সকল দার্শনিক’ যারা মানুষের অন্তর্গত, তাদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্ত প্রযোজ্য হয়েছে।

দ্বিতীয় উদাহরণটিতে (খ) ‘অমর’ বিধেয়পদটি সাধ্য আশ্রয় বাক্যের উদ্দেশ্যপদ ‘মানুষের’ ক্ষেত্রে অস্বীকৃত হওয়ায় এবং ‘মানুষ’ পদটি ব্যাপ্ত হওয়াতে ‘সকল দার্শনিক’ যারা ‘মানুষ’ শ্রেণির অন্তর্গত, তাদের ক্ষেত্রেও সিদ্ধান্তে অস্বীকৃত হয়েছে।

অ্যারিস্টটলের সূত্রটি প্রত্যক্ষভাবে ন্যায়ের প্রথম সংস্থানের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। যদিও সকল প্রকার নিরপেক্ষ ন্যায়ের ক্ষেত্রেও সূত্রটিকে মৌলিক ভিত্তি বলা হয়।

প্রশ্ন ৭। ন্যায়ের সম্ভাব্য বিভিন্ন মূর্তিগুলো সম্পর্কে আলোচনা করো।

উত্তরঃ গুণ ও পরিমাণে সংযুক্ত ভিত্তিতে নিরপেক্ষ বচন চার প্রকারের হয়—A, E, I এবং O।

ন্যায়ের মূর্তি বলতে যদি দুটি আশ্রয়বাক্যের গুণগত এবং পরিমাণগত বিন্যাস বা আকার বোঝায়, তাহলে প্রত্যেক সংস্থানে মোট ষোলোটি পাওয়া যায়। যেমন—

 প্রথম বচনটি সাধ্য আশ্রয়বাক্য এবং দ্বিতীয় বচনটি পক্ষ আশ্রয়বাক্য। যেহেতু ন্যায়ের চারটি সংস্থান এবং প্রতিটি সংস্থানে ষোলোটি বিন্যাস সম্ভব, অতএব মূর্তির সংখ্যা সর্বমোট ১৬x৪=৬৪টি।

আবার মূর্তি বলতে যদি দুটি আশ্রয়বাক্যে এবং সিদ্ধান্তের গুণ ও পরিমাণের দ্বারা নির্ধারিত ন্যায়ের আকার বোঝায়, তাহলে উপরোক্ত ষোলোটি মূর্তির প্রত্যেকটি থেকে আবার চারটি করে মূর্তি হতে পারে। যেমন—

সুতরাং চারটি সংস্থানে ৬৪x৪=২৫৬ টি মূর্তি পাওয়া সম্ভব।

অন্যদিকে, মূর্তি বলতে যদি ন্যায়ের বৈধ আকারবোঝায়; এই অর্থে মূর্তি হচ্ছে দুটি আশ্রয়বাক্যের গুণ ও পরিমাণ অনুযায়ী এমন বিন্যাস যার থেকে বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়। 

বৈধ ন্যায়ের নিয়মগুলো প্রয়োগ করলে দেখা যায়, প্রথম অর্থে ন্যায়ের যে ষোলোটি আকারের কথা বলা হয়েছে, তার মধ্যে EE, EO, OE, OO অবৈধ, কারণ এখানে দুটি আশ্রয়বাক্যই নঞর্থক। আবার, II, IO, OI এই তিনটি আকারও অবৈধ। কারণ দুটি আশ্রয়বাক্যই বিশেষ বচন, যা বৈধ ন্যায়ের নিয়ম বহির্ভূত। আবার IE আকারও অবৈধ, কেননা সাধ্য আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হলে এবং পক্ষ আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হলে বৈধ সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয় না।

এভাবে ষোলোটি মূর্তি থেকে আটটি মূর্তি বাদ গেল। বাকি আটটি মূর্তি হল: AA, AE, AI, AO, EA, EI, IA, OA। এগুলোর মধ্যে প্রথম সংস্থানে মাত্র চারটি, দ্বিতীয় সংস্থানে চারটি, তৃতীয় সংস্থানে ছয়টি এবং চতুর্থ সংস্থানে পাঁচটি (৪ + ৪ + ৬ + ৫), সর্বমোট উনিশটি বৈধ মূর্তি পাওয়া যায়। 

প্রশ্ন ৮। প্রথম সংস্থানের বৈধমূর্তিগুলোর নাম লেখো।

উত্তরঃ (১) BARBARA (AAA) 

(২) CELARENT (EAE)

(৩) DARII (AII)

(৪) FERIO (EIO)

প্রশ্ন ৯। দ্বিতীয় সংস্থানের বৈধমূর্তিগুলোর নাম লেখো।

উত্তরঃ (১) CESARE (EAE)

(২) CAMESTRES (AEE)

(৩) FESTINO (EIO)

(৪) BAROCO (AOO)

প্রশ্ন ১০। তৃতীয় সংস্থানের বৈধমূর্তিগুলোর নাম লেখো।

উত্তরঃ (১) DARAPTI (AAI)

(২) DATISI (AII)

(৩) DISAMIS (IAI)

(৪) FELAPTON (EAO)

(৫) BOCARDO (OAO)

(৬) FERISON (EIO)

প্রশ্ন ১১। চতুর্থ সংস্থানের বৈধমূর্তিগুলোর নাম লেখো।

উত্তরঃ (১) BRAMANTIP (AAI)

(২) CAMENES (AEE) 

(৩) DIMARIS (IAI)

(৪) FESAPO (EAO)

(৫) FRESISON (EIO)

প্রশ্ন ১২। ন্যায়ের মূর্তির বিশেষ নামকরণের অর্থ কী? প্রতিটি সংস্থানের বৈধমূর্তি নির্ধারণ করো:

উত্তরঃ ন্যায়ের মূর্তির বিশেষ নামগুলোর প্রথম স্বরবর্ণ (vowel) সাধ্য আশ্রয়বাক্য, দ্বিতীয় স্বরবর্ণ পক্ষ আশ্রয়বাক্য এবং তৃতীয় স্বরবর্ণ সিদ্ধান্ত বোঝায়। 

মূর্তির তৃতীয় অর্থটি সর্বাপেক্ষা গ্রহণযোগ্য।

প্রথম সংস্থানের বৈধমূর্তি নির্ধারণ:

বৈধতা নির্ণয়ের উদ্দেশ্য নিম্নোক্ত আটটি বিন্যাস বিচার করা যাক: AA, AE, AI, AO, EA, EI, IA, OA

(ক) AA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

সকল মানুষ হয় মরণশীল।

সকল কবি হয় মানুষ। 

∴ সকল কবি হয় মরণশীল।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(A) সকল S হয় M।

(A) সকল S হয় P।

উপরোক্ত ন্যায় অনুমানে ন্যায়ের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্তও সদর্থক। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্য বচনের উদ্দেশ্য হওয়াতে ব্যাপ্ত এবং আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্ত কোনো পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। অতএব, এটি বৈধ ন্যায় এবং এটি বৈধমূর্তির নাম BARBARA।

(খ) AE সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।

(E) কোনো কুকুর নয় মানুষ। 

∴ (E) কোনো কুকুর নয় মরণশীল জীব।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(E) কোনো S নয় M।

∴ (E) কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ সাধ্যপদ দোষে দুষ্ট। এখানে সাধ্যপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে A বচনের বিধেয় হিসেবে অব্যাপ্ত, কিন্তু সিদ্ধান্ত E বচনের বিধেয়রূপে ব্যবহার হওয়াতে ব্যাপ্ত। অতএব, ন্যায়টি অবৈধ।

(গ) AI সংযোগের উদাহরণ—

মূর্ত উদাহরণ

(A) সকল ধনী ব্যক্তি হয় অহংকারী।

(I) কোনো কোনো ব্যবসায়ী হয় ধনী।

∴(I) কোনো কোনো ব্যবসায়ী হয় অহংকারী।

বিমূর্ত উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(I) কোনো কোনো S হয় M।

∴(I) কোনো কোনো S হয় P।

এটি একটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের কোনো নিয়ম লঙ্ঘিত হয়নি। দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্ত ও সদর্থক হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়ায় সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে এবং আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। এই ন্যায়ের বৈধ মূর্তির নাম হল— DARII।

(ঘ) AO সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল রাজা হয় ধনী।

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় রাজা।

∴ (O) কোনো কোনো মানুষ নয় ধনী।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(O) কোনো কোনো S নয় M।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ সাধ্যপদ দোষে দুষ্ট। সাধ্যপদ সিদ্ধান্তে O বচনের বিধেয়রূপে ব্যাপ্ত হয়েছে, কিন্তু আশ্রয়বাক্যে ‘A’ বচনে বিধেয়রূপে অব্যাপ্ত। সুতরাং ন্যায়টি অবৈধ।

(ঙ) EA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ 

(E) কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদী প্রাণী।

(A) সকল রাজা হয় মানুষ। 

∴ (E) কোনো রাজা নয় চতুষ্পদী প্রাণী।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(E) কোনো M নয় P।

(A) সকল S হয় P।

∴ (E) কোনো S নয় PI

এই ন্যায়টি বৈধ। কারণ, এখানে ন্যায়ের সকল নিয়মই অনুসৃত হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্তও নঞর্থক হয়েছে। আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। এই ন্যায়টির বৈধমূর্তির নাম CELARENTI

(চ) EI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো মানুষ নয় ভগবান।

(I) কোনো কোনো জীব হয় মানুষ।

∴ (O) কোনো কোনো জীব নয় ভগবান।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(E) কোনো M নয় P।

(I) কোনো কোনো S হয় M।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P

এই ন্যায়টি বৈধ। এখানে ন্যায়ের কোনো নিয়মই ভঙ্গ করা হয়নি। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়াতে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞথর্ক হওয়াতে সিদ্ধান্তও নঞর্থক হয়েছে। আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত। এটির বৈধমূর্তির নাম FIERO।

(ছ) IA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় সৎ। 

(A) সকল সাধু হয় মানুষ।

∴ (I) কোনো কোনো সাধু হয় সৎ।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(I) কোনো কোনো M হয় P।

(A) সকল S হয় M।

∴(I) কোনো কোনো S হয় P।

এই ন্যায়টি অব্যাপ্য হেতুপদ দোষে দুষ্ট। ন্যায়ের নিয়মে হেতুপদকে অন্ততপক্ষে একবার আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হতে হয়। কিন্তু এই ন্যায়ে, হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্ত। ফলে ন্যায়টি অবৈধ।

(জ) OA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় সৎ।

(A) সকল কবি হয় মানুষ।

∴ (O) কোনো কোনো কবি নয় সৎ।

প্রতীকাত্মক উদাহরণ

(O) কোনো কোনো M নয় P।

(A) সকল S হয় M।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এখানে অব্যাপ্য হেতুপদ দোষ ঘটেছে। ন্যায়ের নিয়মানুসারে, হেতুপদকে অন্ততপক্ষে একবার আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হতে হবে। এই ন্যায়ে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্য। অতএব, ন্যায়টি অবৈধ।

অতএব, প্রথম সংস্থানে মাত্র চাররকম ‘যথার্থ বা বৈধমূর্তি’ পাওয়া যায়। যথা— 

BARBARA (AAA), CELARENT (EAE), DARII (AII), FERIO (EIO)

দ্বিতীয় সংস্থানের বৈধমূর্তি নির্ধারণ:

(ক) AA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল গোরু হয় চতুষ্পদ প্রাণী।

(A) সকল ঘোড়া হয় চতুষ্পদ প্রাণী।

∴ (A) সকল ঘোড়া হয় গোরু।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(A) সকল S হয় M।

∴ (A) সকল S হয় P।

এটি অব্যাপ্য হেতুপদ দোষে দূষিত। ন্যায়ের নিয়মানুযায়ী, হেতুপদকে আশ্রয়বাক্যে অন্ততপক্ষে একবার ব্যাপ্ত হতে হবে। কিন্তু এখানে, হেতু উভয় আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্ত। অতএব, এই ন্যায়টি অবৈধ।

(খ) AE সংযোগের উদাহরণ— 

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় স্বার্থপর।

(E) কোনো গোরু নয় স্বার্থপর।

∴ (E) কোনো গোরু নয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(E) কোনো S নয় M।

∴ (E) কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি বৈধ, কারণ এখানে ন্যায়ের সকল নিয়মই অনুসৃত হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক, তাই সিদ্ধান্তও নঞর্থক হয়েছে। আশ্রয় বাক্যের কোনো অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। এই ন্যায়টির বৈধমূর্তির নাম CAMESTRES I

(গ) AI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল ঘোড়া হয় চতুষ্পদ।

(I) কোনো কোনো জীব হয় চতুষ্পদ।

∴(I) কোনো কোনো জীব হয় ঘোড়া।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(I) কোনো কোনো S হয় M।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এই ন্যায়টি অব্যাপ্য হেতুপদ দোষে দূষিত। দুটি আশ্রয়বাক্যেই সদর্থক বচন ( A এবং I) হওয়ায় হেতুপদ তাদের বিধেয়রূপে একবারও ব্যাপ্ত হয়নি। কারণ, সদর্থক বচনে বিধেয়পদ ব্যাপ্ত হয় না। অতএব, এই ন্যায়টিতে ‘হেতুপদকে আশ্রয়বাক্যে একবার অন্তত ব্যাপ্ত হতে হবে’ নিয়মটি লঙ্ঘিত হয়েছে। অতএব, এটি অবৈধ ন্যায়।

(ঘ) AO সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল ঘোড়া হয় চতুষ্পদ।

(O) কোনো কোনো জীব নয় চতুষ্পদ।

∴ (O) কোনো কোনো জীব নয় ঘোড়া।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P নয় M।

(O) কোনো কোনো S নয় M।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের সব নিয়ম অনুসৃত করা হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়ায় সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে এবং একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্তও নঞর্থক হয়েছে। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হয়েছে। আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। ন্যায়টির বৈধমূর্তির নাম BAROCO।

(ঙ) EA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো দেবতা নয় মরণশীল।

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল। 

∴ (E) কোনো মানুষ নয় দেবতা।

সাংকেতিক উদাহরণ

(E) কোনো P নয় M।

(A) সকল S হয় M।

∴ (E) কোনো S নয় P।

এখানে ন্যায় অনুমানের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্তও নঞর্থক হয়েছে। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্ত পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। অতএব, এই ন্যায়টি বৈধ। ন্যায়টির বৈধমূর্তির নাম CESARE।

(চ) EI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো মানুষ নয় পূর্ণ।

(I) কোনো কোনো দেবতা নয় পূর্ণ।

∴ (O) কোনো কোনো দেবতা নয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(E) কোনো P নয় M।

(I) কোনো কোনো S হয় M।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি বৈধ। এখানে ন্যায়ের সকল নিয়মই অনুসৃত হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়াতে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্য হয়েছে। আশ্রয়বাক্যের কোনো অব্যাপ্য পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্য হয়নি। এই ন্যায়টির বৈধমূর্তির নাম FESTINO। 

(ছ) IA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় মরণশীল।

(A) সকল জীব হয় মরণশীল।

∴ (I) কোনো কোনো জীব হয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

 (I) কোনো কোনো P হয় M।

(A) সকল S হয় M।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ। কারণ, এখানে ‘হেতুপদ’ উভয় আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্ত। ন্যায়ের নিয়মানুসারে, হেতুপদ অন্ততপক্ষে একটি আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হতে হবে। অতএব, এটি অব্যাপ্য হেতুপদ দোষ ঘটেছে।

(জ) OA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় জ্ঞানী।

(A) সকল সাধু হয় জ্ঞানী।

∴ (O) কোনো কোনো সাধু নয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(O) কোনো কোনো P নয় M।

(A) সকল S হয় M।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ। এখানে সাধ্যপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্য ব্যাপ্ত হয়েছে, কিন্তু সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। ন্যায়ের নিয়মমতে, আশ্রয়বাক্যে কোনো পদ অব্যাপ্ত হয়, সিদ্ধান্তে সেই পদ ব্যাপ্ত হতে পারে না। অতএব, এটি অবৈধ সাধ্যপদ দোষে দুষ্ট।

অতএব, দ্বিতীয় সংস্থানে চারটি বৈধমূর্তি পাওয়া যায়। সেগুলো হল : CESARE (EAE), CAMESTRES (AEE), FESTINO (EIO), BAROCO (AOO)

তৃতীয় সংস্থানের বৈধমূর্তি নির্ধারণ:

(ক) AA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল গোরু হয় চতুষ্পদী প্রাণী।

(A) সকল গোরু হয় গৃহপালিত প্রাণী।

∴ (I) কোনো কোনো গৃহপালিত প্রাণী হয় চতুষ্পদী।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(A) সকল M হয় S।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের সকল নিয়মই অনুসৃত হয়েছে। আশ্রয়বাক্য দুটি সদর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্ত সদর্থক হয়েছে। হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই ব্যাপ্ত। দুটি আশ্রয়বাক্য সামান্য হওয়ায় সিদ্ধান্ত সামান্য হতে পারত। কিন্তু সেক্ষেত্রে পক্ষপদ পক্ষ আশ্রয় বাক্য A বচনের বিধেয় রূপে অব্যাপ্ত থাকা সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত A বচনের উদ্দেশ্যরূপে ব্যাপ্ত হত এবং সেক্ষেত্রে অবৈধ পক্ষপদ দোষ ঘটত। সুতরাং সিদ্ধান্ত বিশেষ বচন হওয়ায় কোনো পদই ব্যাপ্ত হয়নি এবং অবৈধ সাধ্য বা পক্ষপদ দোষ ঘটারও সম্ভাবনা দেখা দেয়নি। অতএব, এটি বৈধ এবং এটির বৈধ মূর্তির নাম DARAPTI।

(খ) AE সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

(E) কোনো মানুষ নয় চতুষ্পদী।

∴ (E) কোনো চতুষ্পদী নয় মরণশীল।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(E) কোনো M নয় S।

∴ (E) কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ সাধ্যপদ দোষে দুষ্ট। এখানে, সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। সেহেতু পক্ষ আশ্রয়বাক্য নঞর্থক। সিদ্ধান্ত নঞর্থক হওয়ায় সাধ্যপদ ব্যাপ্ত হয়েছে। কিন্তু সেই পদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্ত। অতএব, ন্যায়টি অবৈধ।

(গ) AI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় জ্ঞানী।

∴ (I) কোনো কোনো জ্ঞানী (ব্যক্তি) হয় মরণশীল।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(I) কোনো কোনো M হয় S।

∴(I) কোনো কোনো S হয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের সকল নিয়মই অনুসৃত হয়েছে। দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্ত সদর্থক। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়ায় সিদ্ধান্ত বিশেষ। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত। আশ্রয়বাক্যের অব্যাপ্ত কোনো পদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হয়নি। কারণ সিদ্ধান্ত I বচন হওয়ায় কোনো পদই ব্যাপ্ত নয়। অতএব, এই বৈধমূর্তির নাম DATISI।

(ঘ) AO সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় জ্ঞানী।

∴ (O) কোনো কোনো জ্ঞানী (ব্যক্তি) নয় মরণশীল।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল M হয় P।

(O) কোনো কোনো M নয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ সাধ্যপদ দোষে দুষ্ট। এখানে, সাধ্যপদ ই বচনের বিধেয় হিসেবে ব্যাপ্ত, কিন্তু সাধ্যপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্য A বচনের বিধেয়রূপে অব্যাপ্ত—যাহা ন্যায়ের নিয়ম বিরুদ্ধ। অতএব অবৈধ।

(ঙ) EA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো মানুষ নয় পূর্ণ।

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল জীব।

∴ (O) কোনো কোনো মরণশীল জীব নয় পূর্ণ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(E) কোনো M হয় P।

(A) সকল M হয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি বৈধ। এখানে সাধ্য আশ্রয়বাক্যে নঞর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। দুটি আশ্রয়বাক্য সামান্য বচন হওয়াতে সিদ্ধান্ত সামান্য বচন হতে পারত। কিন্তু সেক্ষেত্রে অবৈধ পক্ষপদ দোষ ঘটত। তাই সিদ্ধান্ত বিশেষ নঞর্থক বচন, সেখানে উদ্দেশ্য পদ ব্যাপ্ত হয় না। হেতুপদ উভয় আশ্রয়বাক্যেই ব্যাপ্ত। অতএব, ন্যায়টি বৈধ এবং এটির নাম FELAPTON।

(চ) EI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো মানুষ নয় অমর।

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় সৎ।

∴ (O) কোনো কোনো সৎ (ব্যক্তি) নয় অমর।

সাংকেতিক উদাহরণ

(E) কোনো M নয় P।

(I) কোনো কোনো M হয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে এবং একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ হওয়াতে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্য ব্যাপ্ত। পক্ষপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত দুটি বচনেই অব্যাপ্ত। সাধ্যপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্য এবং সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত। অতএব, এটি বৈধমূর্তি এবং এটির নাম FERISON।

(ছ) IA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় জ্ঞানী।

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

∴ (I) কোনো কোনো মরণশীল হয় জ্ঞানী।

সাংকেতিক উদাহরণ

(I) কোনো কোনো M হয় P।

(A) সকল M হয় S।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এই ন্যায়টি বৈধ। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়াতে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্তও সদর্থক হয়েছে। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত বিশেষ সদর্থক বচন হওয়ার জন্য কোনো পদই ব্যাপ্ত হয়নি। অতএব, ন্যায়টি বৈধমূর্তি এবং এটির নাম DISAMIS।

(জ) OA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় জ্ঞানী।

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

∴ (O) কোনো কোনো মরণশীল নয় জ্ঞানী।

সাংকেতিক উদাহরণ

(O) কোনো কোনো M নয় P।

(A) সকল M হয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের সকল নিয়ম অনুসৃত হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়াতে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। পক্ষপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ক্ষেত্রেই অব্যাপ্ত, সাধ্যপদ সাধ্য, আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ক্ষেত্রেই ব্যাপ্য। অতএব, ন্যায়টির বৈধ মূর্তির নাম হল BOCARDO। 

অতএব, তৃতীয় সংস্থানে ছয়রকমের বৈধমূর্তি পাওয়া যায়। সেগুলো হল : DARAPTI (AAI), DATISI (AII), DISAMIS (IAI), FELAPTON (EAO), BOCARDO (OAO), FERISON (EIO)

চতুর্থ সংস্থানের বৈধমূর্তি নির্ধারণ:

(ক) AA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় জীব।

(A) সকল জীব হয় মরণশীল।

∴ (I) কোনো কোনো মরণশীল হয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(A) সকল M হয় S।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের সকল নিয়মই অনুসৃত হয়েছে। দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্তও সদর্থক হয়েছে। দুটি আশ্রয়বাক্য সামান্য বলে সিদ্ধান্ত সামান্য বচন হতে পারত। কিন্তু সেক্ষেত্রে অবৈধ পক্ষপদ দোষ ঘটত। অতএব, সিদ্ধান্ত বিশেষ বচন হয়েছে। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত বিশেষ সদর্থক বচন হওয়াতে কোনো পদ ব্যাপ্ত হয়নি, সুতরাং কোনো অবৈধ দোষ ঘটেনি। ন্যায়টির বৈধমূর্তির নাম BRAMANTIP।

(খ) AE সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

(E) কোনো মরণশীল নয় নির্দোষ।

∴ (E) কোনো নির্দোষ নয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(E) কোনো M নয় S।

∴ (E) কোনো S নয় P।

এখানে ন্যায়ের সকল নিয়ম অনুসৃত হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। সিদ্ধান্তের ব্যাপ্ত পদ আশ্রয় বাক্যেও ব্যাপ্ত হয়েছে। অতএব, এটি বৈধ ন্যায় এবং এই বৈধমূর্তির নাম CAMENES।

(গ) AI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল বুদ্ধিমান জীব হয় মানুষ।

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় জ্ঞানী।

∴ (I) কোনো কোনো জ্ঞানী হয় বুদ্ধিমান জীব।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(I) কোনো কোনো M হয় S।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এই ন্যায়টি অব্যাপ্য হেতুপদ দোষে দুষ্ট। ন্যায়ের নিয়মানুসারে, হেতুপদকে আশ্রয়বাক্যে একবার অন্তত ব্যাপ্ত হতে হয়। কিন্তু এই ন্যায়ে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্য। অতএব, ন্যায়টি অবৈধ।

(ঘ) AO সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(A) সকল বুদ্ধিমান জীব হয় মানুষ।

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় জ্ঞানী।

∴ (O) কোনো কোনো জ্ঞানী নয় বুদ্ধিমান।

সাংকেতিক উদাহরণ

(A) সকল P হয় M।

(O) কোনো কোনো M নয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি অবৈধ হেতুপদ দোষে দুষ্ট। ন্যায়ের নিয়মে, হেতুপদকে আশ্রয়বাক্যে অন্ততপক্ষে একবার ব্যাপ্ত হতে হয়। কিন্তু এই ন্যায়ে হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই অব্যাপ্য। সুতরাং অবৈধ।

(ঙ) EA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো মানুষ নয় অমর।

(A) সকল অমর হয় দেবতা।

∴ (O) কোনো কোনো দেবতা নয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(E) কোনো P নয় M।

(A) সকল M হয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এখানে ন্যায়ের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। এখানে দুটি আশ্রয়বাক্যই সামান্য হওয়াতে সিদ্ধান্তও সামান্য হতে পারত, কিন্তু সিদ্ধান্ত সামান্য বচন হলে অবৈধ পক্ষপদ দোষ ঘটত। হেতুপদ দুটি আশ্রয়বাক্যেই ব্যাপ্ত। সাধ্যপদ সাধ্যআশ্রয় ও সিদ্ধান্ত উভয়ক্ষেত্রেই ব্যাপ্ত। অতএব, এই ন্যায়টি বৈধ এবং এটি বৈধমূর্তির নাম FESAPO।

(চ) EI সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(E) কোনো অমর নয় মানুষ।

(I) কোনো কোনো মানুষ হয় সৎ।

∴ (O) কোনো কোনো সৎ (ব্যক্তি) নয় অমর।

সাংকেতিক উদাহরণ

(E) কোনো P নয় M।

(I) কোনো কোনো M হয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টি বৈধ। এখানে ন্যায়ের নিয়ম অনুসারে সিদ্ধান্ত নিঃসৃত হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়ায় সিদ্ধান্ত বিশেষ বচন হয়েছে। একটি আশ্রয়বাক্য নঞর্থক হওয়ায় সিদ্ধান্ত নঞর্থক হয়েছে। হেতুপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। পক্ষপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ক্ষেত্রেই অব্যাপ্ত, আবার সাধ্যপদ সাধ্য আশ্রয়বাক্য ও সিদ্ধান্ত উভয়ক্ষেত্রেই ব্যাপ্ত। অতএব, এটি বৈধ এবং এর বৈধমূর্তির নাম FRESISON।

(ছ) IA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(I) কোনো কোনো জীব হয় মানুষ।

(A) সকল মানুষ হয় মরণশীল।

∴ (I) কোনো কোনো মরণশীল হয় জীব।

সাংকেতিক উদাহরণ

(I) কোনো কোনো P হয় M।

(A) সকল M হয় S।

∴ (I) কোনো কোনো S হয় P।

এটি বৈধ ন্যায়। এখানে ন্যায়ের কোনো নিয়ম লঙ্ঘন করা হয়নি। একটি আশ্রয়বাক্য বিশেষ বচন হওয়াতে সিদ্ধান্তও বিশেষ বচন হয়েছে। দুটি আশ্রয়বাক্য সদর্থক হওয়াতে সিদ্ধান্তও সদর্থক হয়েছে। হেতুপদ পক্ষ আশ্রয়বাক্যে ব্যাপ্ত হয়েছে। সিদ্ধান্ত বিশেষ সদর্থক বচনে কোনো পদই ব্যাপ্ত না হওয়ায় অবৈধ সাধ্যপদ দোষ কিংবা অবৈধ পক্ষপদ দোষ কোনোটাই ঘটেনি। এটির বৈধমূর্তির নাম DIMARIS।

(জ) OA সংযোগের উদাহরণ—

বাস্তব উদাহরণ

(O) কোনো কোনো মানুষ নয় সুখী।

(A) সকল সুখী (ব্যক্তি) হয় ধার্মিক।

∴ (O) কোনো কোনো ধার্মিক নয় মানুষ।

সাংকেতিক উদাহরণ

(O) কোনো কোনো P নয় M।

(A) সকল M হয় S।

∴ (O) কোনো কোনো S নয় P।

এই ন্যায়টিতে অবৈধ সাধ্যপদ দোষ ঘটেছে। ন্যায়ের নিয়মানুসারে, আশ্রয়বাক্যে কোনো পদ অব্যাপ্ত থাকলে সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত হতে পারে না। কিন্তু এখানে সাধ্যপদ সিদ্ধান্তে ব্যাপ্ত, কিন্তু এখানে সাধ্য আশ্রয়বাক্যে অব্যাপ্ত। ফলে ন্যায়টি অবৈধ ।

অতএব, চতুর্থ সংস্থানে পাঁচ রকমের বৈধমূর্তি পাওয়া যায়। সেগুলো হল: BRAMANTIP (AAI), CAMENES (AEE), DIMARIS (IAI), FESAPO (EAO), FRESISON (EIO)

Leave a Comment

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.

This will close in 0 seconds

Scroll to Top