Class 11 Advance Bengali Important Chapter 14 খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন Question Answer As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters Class 11 Advance Bengali Important Chapter 14 খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন Solutions and select need one. Class 11 Advance Bengali Additional Notes Download PDF.
Class 11 Advance Bengali Important Chapter 14 খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. AHSEC Class 11 Advance Bengali Additional Solutions are part of All Subject Solutions. Here we have given AHSEC Class 11 Advance Bengali Important Solutions for All Chapters, You can practice these here.
খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন
Chapter: 14
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
১। ‘খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্পটির লেখক কে?
উত্তরঃ গল্পটির লেখক হলেন বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।
২। রাইচরণ যখন প্রথম কাজে আসে তখন তার বয়স কত ছিল?
উত্তরঃ রাইচরণ যখন প্রথম কাজে আসে তখন তার বয়স ছিল বারো বছর।
৩। রাইচরণের বাড়ি কোন জেলায় ছিল এবং তার জাতি কী ছিল?
উত্তরঃ রাইচরণের বাড়ি ছিল যশোহর জেলায় এবং জাতিতে সে ছিল কায়স্থ।
৪। রাইচরণের প্রধান কর্তব্য কী ছিল?
উত্তরঃ অনুকূলবাবুর এক বছর বয়সী শিশুপুত্রকে রক্ষা করা ও লালন-পালন করা ছিল রাইচরণের প্রধান কর্তব্য।
৫। অনুকূলবাবুর শিশুপুত্রটি রাইচরণকে কী বলে সম্বোধন করত?
উত্তরঃ শিশুপুত্রটি রাইচরণকে ‘চৈ’ বলে সম্বোধন করত।
৬। রাইচরণ কদমফুল ও কাঠি দিয়ে শিশুর জন্য কী বানিয়ে দিয়েছিল?
উত্তরঃ রাইচরণ কদমফুল ও কাঠি দিয়ে শিশুর খেলার জন্য একটি ছোট গাড়ি বানিয়ে দিয়েছিল।
৭। বৃষ্টির দিনে নদীর ধারে শিশুটি কিসের দিকে আঙুল নির্দেশ করেছিল?
উত্তরঃ নদীর ধারে একটি বৃহৎ কদমগাছের উঁচুতে থাকা কদমফুলের দিকে শিশুটি আঙুল নির্দেশ করেছিল।
৮। খোকাবাবু যখন নিখোঁজ হয়,তখন রাইচরণ কোথায় গিয়েছিল?
উত্তরঃ খোকাবাবুর আবদার মেটাতে রাইচরণ কদমফুল পাড়তে গাছের দিকে গিয়েছিল।
৯। খোকাবাবুকে খুঁজে না পেয়ে রাইচরণের কর্ত্রী বা মা-ঠাকরুন কী সন্দেহ করেছিলেন?
উত্তরঃ মা-ঠাকরুন সন্দেহ করেছিলেন যে রাইচরণ নিজেই হয়তো খোকাবাবুকে চুরি করেছে।
১০। রাইচরণের নিজের ছেলের নাম কী রাখা হয়েছিল?
উত্তরঃ রাইচরণের নিজের ছেলের নাম রাখা হয়েছিল ‘ফেলনা’।
১১। রাইচরণ কেন ফেলনাকে নিজের ছেলে বলে বিশ্বাস করতে পারছিল না?
উত্তরঃ ফেলনার অঙ্গভঙ্গি এবং কথা বলার ধরন দেখে রাইচরণের মনে হয়েছিল সে আসলে খোকাবাবুরই পুনর্জন্ম।
১২। ফেলনাকে শিক্ষিত করার জন্য রাইচরণ কোথায় নিয়ে গিয়েছিল?
উত্তরঃ ফেলনাকে সুশিক্ষিত করার জন্য রাইচরণ তাকে কলকাতায় নিয়ে গিয়েছিল।
১৩। অনুকূলবাবুর কাছে গিয়ে রাইচরণ কী অপরাধ স্বীকার করেছিল?
উত্তরঃ রাইচরণ স্বীকার করেছিল যে সেই খোকাবাবুকে চুরি করেছিল এবং এখন তাকে ফিরিয়ে দিতে এসেছে।
১৪। রাইচরণের স্বীকারোক্তির পর অনুকূলবাবুর প্রতিক্রিয়া কী ছিল?
উত্তরঃ অনুকূলবাবু রাইচরণের এই তথাকথিত ‘বিশ্বাসঘাতকতা’ মেনে নিতে পারেননি এবং তাকে আর বিশ্বাস করতে পারছিলেন না।
১৫। গল্পের শেষে ফেলনা রাইচরণের জন্য কী প্রস্তাব দিয়েছিল?
উত্তরঃ ফেলনা তার নতুন পিতার কাছে রাইচরণের জন্য মাসিক কিছু টাকা বৃত্তির বা ভাতার ব্যবস্থা করার প্রস্তাব দিয়েছিল।
দীর্ঘ প্রশ্ন ও উত্তর।
১। ‘খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্প অবলম্বনে রাইচরণের চরিত্রটি বিশ্লেষণ করো।
উত্তরঃ ‘খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্পে রাইচরণ এক অত্যন্ত ট্র্যাজিক এবং নিঃস্বার্থ চরিত্র। সে ছিল অনুকূলবাবুর পরিবারের একজন অত্যন্ত অনুগত ভৃত্য, যার সমস্ত পৃথিবী গড়ে উঠেছিল তার ছোট্ট খোকাবাবুকে কেন্দ্র করে। খোকাবাবুকে হারানোর পর তার মধ্যে যে অপরাধবোধ জন্মায়, তা তাকে মানসিকভাবে বদলে দেয়। নিজের সন্তান ফেলনার মাঝে খোকাবাবুর ছায়া দেখে সে নিজের সর্বস্ব দিয়ে ফেলনাকে রাজপুত্রের মতো বড় করে তোলে,এমনকি নিজের পিতৃত্বকেও বিসর্জন দেয়।গল্পের শেষে নিজের সম্মান হারিয়ে চোর সেজেও সে ফেলনাকে তার আসল পরিচয়ে ফিরিয়ে দেয়। রাইচরণের এই নিঃস্বার্থ ত্যাগ এবং ভালোবাসা তাকে সাহিত্যের এক অবিস্মরণীয় চরিত্রে পরিণত করেছে।
২। নদীর তীরের সেই ভয়াবহ ঘটনার বর্ণনা দাও যেখানে খোকাবাবু হারিয়ে গিয়েছিল।
উত্তরঃ বর্ষাকালের এক বিকেলে অনুকূলবাবুর শিশুপুত্রকে নিয়ে রাইচরণ নদীর তীরে বেড়াতে গিয়েছিল। সেখানে শিশুটি একটি কদমগাছে ফুল দেখে তা পাওয়ার জন্য বায়না ধরে। রাইচরণ তাকে নদীর ধার থেকে দূরে থাকতে বলে সাবধানে কদমফুল পাড়তে যায়। কিন্তু রাইচরণের অনুপস্থিতিতে শিশুটির মন কদমফুল থেকে সরে গিয়ে অশান্ত নদীর উত্তাল ঢেউয়ের দিকে আকৃষ্ট হয়। রাইচরণ যখন ফুল নিয়ে ফিরে আসে, সে দেখে খোকাবাবু কোথাও নেই; কেবল তার টুপিটি নদীর জলের ওপর ভাসছে। পদ্মার প্রবল স্রোতে শিশুটি নিমিষেই তলিয়ে গিয়েছিল,যা রাইচরণের জীবনকে চিরতরে শোকের সাগরে ভাসিয়ে দেয়।
৩। রাইচরণ কেন বিশ্বাস করতে শুরু করেছিল যে ফেলনাই তার হারানো খোকাবাবু?
উত্তরঃ রাইচরণের নিজের ছেলে ফেলনা যখন বড় হতে শুরু করে,তখন রাইচরণ তার মধ্যে কিছু আশ্চর্য মিল খুঁজে পায়। ফেলনাও খোকাবাবুর মতো রাইচরণকে ‘চৈ’ বলে ডাকত এবং তার চালচলন ও কথা বলার ভঙ্গিও ছিল হুবহু খোকাবাবুর মতো। এই মিলগুলি দেখে রাইচরণের মনে এই কুসংস্কারমূলক বিশ্বাস দৃঢ় হয় যে খোকাবাবু আসলে মরেনি,বরং রাইচরণের ঘরেই ফেলনা হয়ে আবার ফিরে এসেছে। এই বিশ্বাস থেকেই রাইচরণ তার নিজের দারিদ্র্য সত্ত্বেও ফেলনাকে সবরকম বিলাসিতার মধ্যে দিয়ে বড় করতে থাকে যাতে তার ‘ছোটো মনিবের’ কোনো কষ্ট না হয়। সে মনে করত,খোকাবাবু তার অপরাধের দণ্ড দিতেই আবার তার কোলে ফিরে এসেছে।
৪। গল্পের অন্তিম পর্যায়ে রাইচরণের স্বীকারোক্তি এবং তার ফলাফল বর্ণনা করো।
উত্তরঃ গল্পের শেষে রাইচরণ বৃদ্ধ বয়সে অনুকূলবাবুর কাছে গিয়ে স্বীকার করে যে সে-ই খোকাবাবুকে চুরি করেছিল এবং ফেলনাই সেই হারিয়ে যাওয়া সন্তান। এই কথা শুনে অনুকূলবাবুর স্ত্রী অত্যন্ত আবেগপ্রবণ হয়ে ফেলনাকে নিজের পুত্র হিসেবে গ্রহণ করেন। তবে অনুকূলবাবু রাইচরণের এই তথাকথিত অপরাধ কিছুতেই ক্ষমা করতে পারেননি। অন্যদিকে,ফেলনা যখন জানতে পারে সে একজন উচ্চবিত্ত পরিবারের সন্তান,তখন সে রাইচরণের দীর্ঘদিনের সেবাকে ভুলে গিয়ে তাকে একজন চোর হিসেবে অবজ্ঞা করে। রাইচরণ নিজের সম্মান এবং সম্পর্ক সব বিসর্জন দিয়ে সেখান থেকে নিঃশব্দে বিদায় নেয়, আর ফেলনা কেবল তার জন্য সামান্য মাসিক ভাতার দাবি জানায়।
৫। ‘খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্পটি কেন একটি করুণ রসের কাহিনী? আলোচনা করো।
উত্তরঃ ‘খোকাখাবুর প্রত্যাবর্তন’ গল্পটি আগাগোড়াই এক গভীর বেদনার সুরে গাঁথা। এখানে রাইচরণের নিঃস্বার্থ ভালোবাসা এবং করুণ পরিণতির চিত্র ফুটে উঠেছে। খোকাবাবুকে হারানোর পর রাইচরণ সারা জীবন এক কাল্পনিক অপরাধবোধের বোঝা বয়ে বেড়িয়েছে। নিজের সন্তানকে অন্যের সন্তান হিসেবে বড় করা এবং অবশেষে নিজের সম্মান জলাঞ্জলি দিয়ে সেই সন্তানকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়ার মধ্যে এক চরম ট্র্যাজেডি নিহিত আছে। গল্পের শেষে রাইচরণ যাকে সারা জীবন নিজের সর্বস্ব দিয়ে বড় করল, সেই ফেলনার কাছ থেকেই সে অবজ্ঞা ও অনাদর পায়। রাইচরণের এই নিঃশব্দ প্রস্থান এবং তার ত্যাগের কোনো যথাযোগ্য মূল্য না পাওয়া গল্পটিকে এক অত্যন্ত করুণ ও হৃদয়স্পর্শী কাহিনীতে পরিণত করেছে।

