Class 9 Social Science Chapter 5 অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা Notes to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Class 9 Social Science Chapter 5 অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা and select needs one.
Class 9 Social Science Chapter 5 অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা
Also, you can read SCERT book online in these sections Class 9 Social Science Chapter 5 অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. Class 9 Social Science Chapter 5 অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা These solutions are part of SCERT All Subject Solutions. Here we have given Class 9 Social Science Chapter 5 অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা for All Subject, You can practice these here…
অসমে ব্রিটিশ প্রশাসনের সূচনা
Chapter – 5
প্রথম খন্ড : ইতিহাস
পাঠ্য পুস্তকের প্রশ্নোত্তরঃ
● শুদ্ধ উত্তর বেছে বের করো :
১। ব্রিটিশ জয়ন্তিয়া রাজ্যের রাজা রাজেন্দ্র সিংহ/ গোবিন্দচন্দ্র/ তিরৎ সিংহকে সিলেটে নির্বাসন দিয়েছিল।
উত্তরঃ রাজেন্দ্র সিংহ।
২। অসমের শেষ অহোম রাজা ছিলেন চন্দ্রকান্ত সিংহ/ কমলেশ্বর সিংহ/ পুরন্দর সিংহ/ যোগেশ্বর সিংহ।
উত্তরঃ চন্দ্রকান্ত সিংহ।
৩। তিরৎ সিং খাসি/মণিপুরি/ জয়ন্তীয়া দেশপ্রেমিক ছিলেন।
উত্তরঃ খাসি।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন ১। গোবিন্দচন্দ্র কোন রাজ্যের রাজা ছিলেন ?
উত্তরঃ গোবিন্দচন্দ্র কাছাড়ী রাজ্যের রাজা ছিলেন।
প্রশ্ন ২। ডেভিড স্কট কে ছিলেন ?
উত্তরঃ ডেভিড স্কট ছিলেন একজন সুদক্ষ ইংরেজ প্রশাসক।
প্রশ্ন ৩। ডেভিড স্কটের পরবর্তী কমিশনার কে ছিলেন ?
উত্তরঃ ডেভিড স্কটের পরবর্তী কমিশনার ছিলেন রবার্ট সন।
প্রশ্ন ৪। তিরৎ সিং কোন রাজ্যের সিয়েম ছিলেন ?
উত্তরঃ তিরৎ সিং খাসি রাজ্যের সিয়েম ছিলেন।
প্রশ্ন ৫। মটক রাজ্যের রাজার উপাধি কি ছিল ?
উত্তরঃ মটক রাজ্যের রাজার উপাধি ছিল বড় সেনাপতি।
প্রশ্ন ৬। জেনকিন্সের পরামর্শ অনুযায়ী কে সিংহাসন হারিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ জেনকিন্সের পরামর্শ অনুযায়ী পূর্ণানন্দ সিংহ সিংহাসন হারিয়েছিলেন।
প্রশ্ন ৭। জেনকিন্স নিম্ন অসমকে কি কি জেলায় ভাগ করেন ?
উত্তরঃ জেনকিন্স নিম্ন অসমকে গোয়ালপাড়া, দরং ও কামরূপ জেলায় ভাগ করেন।
প্রশ্ন ৮। ব্রিটিশ কাকে পঞ্চাশ টাকা বৃত্তি দিয়ে রাজ্য দখল করেছিল ?
উত্তরঃ ব্রিটিশ গোবিন্দচন্দ্রকে পঞ্চাশ টাকা বৃত্তি দিয়ে রাজ্য দখল করেছিল।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন ১। ডেভিড স্কটের রাজস্ব নীতি কেমন ছিল ?
উত্তরঃ পুঁজিবাদ বা ধনতন্ত্রে বিশ্বাসী ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানির শাসনকালে সামরিক ও অসামরিক শাসনের সঙ্গে রাজস্ব সংগ্ৰহে বেশি গুরুত্ব প্রদান করেছিল। ব্যবসা বাণিজ্য ও নূতন দেশ জয় করতে ইংরেজগণের প্রচুর অর্থের প্রয়োজন হয়। মূলধন সংগ্ৰহের উপর নূতন নূতন কর ও খাজনা আরোপ করেছিল।
ব্রক্ষপুত্র উপত্যকার ভবিষ্যৎ সম্বন্ধে কোনো সিদ্ধান্ত না নিয়ে ব্রিটিশ এই অঞ্চলের রাজস্ব প্রশাসনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তনের কথা ভাবেনি। উজান অসমে পাইক প্রথা বিশেষ করে এর পরিবর্তে মাথাপিছু প্রত্যেকের উপর তিন টাকা খাজনা আদায় করেছিল। প্রতিটি জিলাকে কয়েকটি মৌজায় ভাগ করে এক একজন বিষয়ার উপর কর সংগ্ৰহের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
স্কটের শাসনকালে নিম্ন ও উজান অসমের ক্ষেত্রে একই রাজস্ব ব্যবস্থা করা হয়েছিল। নিম্ন অসমে আগের মতই একজন চৌধুরীর পরিচালনায় একটি পরগণা রাখা হয়। সেরেস্তাদার, তহশীলদার, পাটোয়ারী, ঠাকুরীয়া প্রভৃতি খাজনা আদায়কারী কর্মচারী নিয়োগ করা হয়। নগাঁও ও রহা অঞ্চলে স্থানীয় কর আদায়ের জন্য একটি আলাদা জোট তৈরি করা হয়। এই জোটকে রাখা হয়েছিল গুয়াহাটীর অধীনে।
স্কটের শাসনকালে নিম্ন অসমে মাটির জরিফ প্রথা প্রচলিত হয়েছিল। প্রত্যেক পাইককে চাষের জমির জন্য তাদের কাছ থেকে দুই টাকা খাজনা আদায় করা হত। এই মাটি বা জমিকে বলা হত ‘গা-মাটি’ এবং খাজনাকে বলা হত ‘গা-ধন’। তাছাড়া প্রত্যেক লোককে মাথাপিছু কর দিতে হত। এ করকে কামরূপে বলা হত ‘পাইক কর’, ছরং-এ ‘জুলাহ কর’।
প্রশ্ন ২। ডেভিড স্কটের প্রশাসন কালে বিচারের ক্ষেত্রে কি ধরণের ব্যবস্থা গ্ৰহণ করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ ডেভিট স্কট ব্রক্ষপুত্র উপত্যকার এক বিরাট অঞ্চলের প্রশাসনিক দায়িত্বে ছিলেন। স্কটের শাসনকালে স্থানীয় সাধারণ দেওয়ানী ও ফৌজদারি মামলাগুলি নিষ্পত্তির জন্য স্থানীয় লোকদের নিয়ে কতিপয় পঞ্চায়েত গঠন করা হয়। গুরুতর অপরাধ সমূহ কমিশনার সহকারী বিষয়াগণে পঞ্চায়েতের সাহায্যে বিচার করত। পঞ্চায়েতের বিচারে সন্তুষ্ট না হলে বিষয়াগণে আপিল করার ব্যবস্থা ছিল। এতেও সন্তুষ্ট না হলে কমিশনারকে আপিল করতে হত।স্কট বিচার ব্যবস্থার ক্ষেত্রে উজান অসমে লম্বোদর বরফুকনকে দেওয়ানী বিচারের ভার দিয়েছিলেন। নিম্ন অসমে দেওয়ানী মামলার জন্য ছিল একটি আদালত। স্কটের প্রশাসনকালে মোয়ামরীয়া, সিংফৌ ও খামতিগণের সঙ্গে সদ্ভাব করা হয়েছিল।
প্রশ্ন ৩। রবার্টসনের আমলে রাজস্ব ব্যবস্থা কেমন ছিল ?
উত্তরঃ রবার্টসন অসমে রাজস্ব উন্নতির জন্য বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। তিনি অসমে রাজস্ব ব্যবস্থার সংস্কার করে মাটির গুণাগুণ নিদ্ধারর্ণ করে খাজনার নিরিখ ধার্য করেছিলেন। খাজনা সংগ্ৰহে শোষণ বন্ধ করতে মাটির প্রকার, পরিমাণ, কৃষকদের নাম-ঠিকানা প্রভৃতির তথ্য লিপিবদ্ধ করার প্রথা প্রচলন হয়েছিল। এই তথ্যের ভিত্তিতে মাটির নথি বা পাট্টা দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত হয়। এই সংস্কারের ফলে রাজকোষে জমা হওয়া অর্থের পরিমাণ বাড়ে রাজস্ব কর্মচারীগণের দুর্নীতি রোধ করতে রবার্টসন জমি, ঘরবাড়ি, বনাঞ্চল প্রভৃতির বিবরণী সংগ্ৰহ করে কর নিদ্বারণ করেছিলেন। তার উপর রায়তকে পাট্টা ও রাজস্বদানের রসিদ দেওয়া হয়েছিল।
প্রশ্ন ৪। মেজর জেনকিন্স অসমের জন্য কি কি কল্যাণমূলক কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন ?
উত্তরঃ অসমে উন্নতি বিধানের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য ভূমিকা পালন করা ইংরেজ কর্মচারী ছিলেন মেজর জেনকিন্স। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে রবার্টসনের পর মেজর জেনকিন্স অসমের কমিশনার নিযুক্ত হন। স্কট-এর ন্যায় জেনকিন্সও অসমের জন্য কয়েকটি প্রকল্প গ্ৰহণ করেছিলেন। অসমের চা, কয়লা এবং তেল উদ্যোগের বিকাশের সাথে জেনকিন্সের নাম ওতঃপ্রোতভাবে জড়িত। তাঁর উৎসাহে অসম চা শিল্প দ্রুত প্রসারলাভ করে। জেনকিন্সের প্রচেষ্টাতেই কেন্দ্রীয় সরকার ব্যক্তিগত মালিকানায় চা উৎপাদনের ব্যবস্থা করেন। বঙ্গদেশের সঙ্গে অসমের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটানোর জন্যও তিনি সদা সচেষ্ট ছিলেন। তাই তিনি বিভিন্ন সীমান্তচৌকী উঠিয়ে দিয়েছিলেন। জেনকিন্সের প্রচেষ্টায় ব্রক্ষপুত্র নদীতে ষ্টীমার চলাচল পুনরায় শুরু হয়। পরিবহন ও যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নেও তিনি বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলেন। শিক্ষার ব্যাপারে ভীষণ আগ্ৰহী জেনকিন্সের পরামর্শ অনুযায়ী ১৮৩৫ খ্রিস্টাব্দে গুয়াহাটিতে এবং ১৮৪১ খ্রিস্টাব্দে শিবসাগরে ইংরেজি মাধ্যমের বিদ্যালয় স্থাপিত হয়।
মেজর জেনকিন্স কয়েকটি প্রশাসনিক সংস্কারও করেছিলেন। তিনি নিম্ন অসমকে গোয়ালপাড়া, দরং, কামরূপ এবং নগাঁও এই চারটি জেলায় ভাগ করেছিলেন। জেনকিন্স উজান অসমের রাজা পুরন্দর সিংহকে অতি অকর্মণ্য বলে মত প্রকাশ করেন এবং গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যাণ্ডকে তাঁকে বরখাস্ত করবার পরামর্শ দেন। সেই মর্মে গভর্নর জেনারেল লর্ড অকল্যাণ্ড ব্যবস্থা নেওয়ায় ১৮৩৮ খ্রিস্টাব্দে পুরন্দর সিংহের পতন ঘটে। সেই দৃষ্টিকোণ থেকে জেনকিন্সকে বলা যায় সাম্রাজ্যবাদী। জেনকিন্স ব্রিটিশ সম্প্রসারণবাদী মনোভাবে পরিপুষ্ট হলেও অসমের উন্নতিসাধনের জন্য গ্ৰহণ করা বিভিন্ন প্রকল্পসমূহ তাঁকে যথেষ্ট জনপ্রিয় করে তুলেছিল। তাঁ শাসনকাল ইতিহাসে ‘জেনকিন্সের যুগ’ বলে খ্যাত হয়েছে।
প্রশ্ন ৫। জেনকিন্স কিভাবে অসমকে বিভিন্ন জেলায় বিভক্ত করেছিলেন ?
উত্তরঃ রবার্টসনের পর ১৯৩৪ সালে জেনারেল জেন্কিন্স কমিশনার নিযুক্ত হন। জেন্কিন্সের শাসনকাল ভিন্ন ভিন্ন কারণে বিশেষ উল্লেখযোগ্য। এই সময়ে ব্রিটিশ সরকারের সরাসরি শাসন অসমের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়। সমগ্ৰ প্রদেশের শাসনব্যবস্থা আরও সুষ্ঠু রূপে সংগঠিত করা হয় এবং কৃষি, শিল্প প্রভৃতির প্রভূত উন্নতিসাধন করা হয়। জেনারেল জেন্কিন্সের সময়ে ব্রিটিশ ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানী অসমে রাজ্যবিস্তার নীতি প্রকাশ্যেই গ্ৰহণ করেন। এই নীতির ফলে প্রথমেই জয়ন্তিয়া রাজ্য জেন্কিন্স অধিকার করেন। তারপর মটক, সদিয়া, উত্তর কাছাড় ও দুয়ার অঞ্চল অধিকার করা হয়। ১৮৩৮ সালে পুরন্দর সিংহকে ক্ষমতাচ্যুত করে উত্তর-পূর্ব অসমও ইংরেজ রাজ্যভুক্ত করা হয়। জেন্কিন্সের সময়ে ১৮৫৭ সালে সিপাহী বিদ্রোহ হয়। জেন্কিন্স কঠোর হস্তে তা দমন করেন। তাঁর সময়ে শাসনব্যবস্থার আরও উন্নতিসাধন করা হয়। তিনি নিম্ন অসমকে গোয়ালপাড়া, দরং কামরূপ ও নগাঁও এই চারি জেলায় ভাগ করেন। সমস্ত প্রদেশের শাসনভার একজন কমিশনার, একটি ডেপুটি কমিশনার, ছয়জন প্রিন্সিপাল অ্যাসিস্ট্যাণ্ট, তিনজন জুনিয়র অ্যাসিস্ট্যাণ্ট ও আটজন সাব- অ্যাসিস্ট্যাণ্ট উপর ন্যস্ত হয়। তার সুদক্ষ শাসনে ব্রিটিশ রাজত্ব এক সুদৃঢ় ভিত্তির উপর প্রতিষ্ঠিত হয়।
প্রশ্ন ৬। তিরৎ সিং কে ছিলেন ? তিনি কেন ব্রিটিশ বিরোধী হয়েছিলেন ?
উত্তরঃ তিরৎ সিং খাসি রাজ্যের সিয়েম। ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দে গোমধর কোঁওরের ব্রিটিশ বিদ্রোহের প্রায় সঙ্গে দেখা সঙ্গেই খাসিগণও বিদ্রোহী হয়ে ওঠে। এই বিদ্রোহে নেতৃত্ব দেন খাসি নেতা নংখলৌ রাজ্যের রাজা তিরৎ সিং। ব্রক্ষপুত্র উপত্যকায় ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ডেভিড স্কট এই উপত্যকার সঙ্গে সুরমা উপত্যকার যোগাযোগ রক্ষা করতে খাসি পাহাড়ের মধ্য দিয়ে একটি রাস্তা নির্মাণের পরিকল্পনা গ্রহণ করেছিলেন। নংখলৌ রাজ্যের রাজা তিরৎ সিং ডেভিড স্কটের এই প্রস্তাবে রাজি হন।রাস্তার কাজ এগোনোর সাথে সাথে ইংরেজ সৈন্য খাসি পাহাড়ে প্রবেশ করে। তখন স্বাধীনতাপ্রিয় খাসিদের মনে ইংরেজদের মনোভাবের উপর সন্দেহ হতে শুরু করে। খাসিরা সন্দেহ করে যে এই রাস্তা নির্মিত হলে ইংরেজরা খাসি পাহাড় দখল করে তাদের উপর কর বসিয়ে দেবে। এভাবে তিরৎ সিংহের নেতৃত্বে ১৮২৮ খ্রিস্টাব্দের ৪ঠা এপ্রিল খাসিগণ ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করে। এক অতর্কিত আক্রমণে তাঁরা নংখলৌতে দুজন ইংরেজ কর্মচারীকে হত্যা করে। এই বিদ্রোহ প্রায় চার বৎসর চলেছিল। খাসি বিদ্রোহ দমন করতে ইংরেজরা শ্রীহট্ট এবং কামরূপ থেকে বেশি সংখ্যক সৈন্যসামন্ত পাঠায়। খাসিগণ যুদ্ধে পরাজিত হয়। ১৮৩৩ খ্রিস্টাব্দে তিরৎ সিংহ ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হন। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দে রাজন সিংহ তিরৎ সিংহের স্থলাভিষিক্ত হন। এই নূতন খাসি রাজা চেরাপুঞ্জিতে ইংরেজ সরকারের একজন পলিটিক্যাল এজেন্ট রাখার অনুমতি দিতে বাধ্য হন। ক্যাপ্টেন লিস্টার ছিলেন চেরাপুঞ্জিতে প্রথম ইংরেজ পলিটিক্যাল এজেন্ট। ১৮৩৪ খ্রিস্টাব্দের মার্চ মাসে ঢাকা জেলে তিরৎ সিংহের মৃত্যু হয়। এভাবে খাসি পাহাড়ের ২৫টি ছোট ছোট রাজ্য ইংরেজের অধীনে আসে। ব্রিটিশ বিরোধী বিদ্রোহের অন্যতম শহীদ হিসাবে তিরৎ সিংহকে আজও শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করা হয়।
সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ :
তুলারাম সেনাপতি, পুরন্দর সিংহ, তিরৎ সিং, গোমধর কোঁয়র, ব্রিটিশের চিংফৌ রাজ্য দখল, ব্রিটিশের জয়ন্তিয়া রাজ্য দখল।
উত্তরঃ তুলারাম সেনাপতি : তুলারাম সেনাপতি ছিলেন কাছাড় রাজ্যের সেনাপতি। তাঁর স্বদেশপ্রেম ছিল অতুলনীয়। ইংরেজগণ গোবিন্দচন্দ্রকে আশ্রিত রাজা হিসাবে কাছাড় রাজ্যের সিংহাসনে অধিষ্ঠিত করে। ১৮৩০ সালে গোবিন্দচন্দ্রের মৃত্যু হয়। তিনি নিঃসন্তান হওয়ার জন্য তুলারাম সমগ্ৰ কাছাড় অঞ্চল ব্রিটিশের নিকট দাবি করেন। কিন্তু ইংরাজগণ তুলারামকে করদ রাজা রূপে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তুলারাম সেনাপতির মৃত্যুর পর তাঁর দুই পুত্র নকুল রাম বর্মন ও ব্রজনাথ বর্মন পিতৃরাজ্য শাসন শুরু করে। কিন্তু দুই ভ্রাতার মধ্যে সদ্ভাব না থাকার জন্য পাশ্ববর্তী নাগাদের সঙ্গে বিবাদ শুরু হয়। এই বিবাদের সুযোগে ব্রিটিশগণ কাছাড় রাজ্য ব্রিটিশ শাসনাধীন করে।
পুরন্দর সিংহ : পুরন্দর সিংহ শেষ স্বাধীন আহোম রাজা। তিনি ১৮১৮ সালের মার্চ মাসে সিংহাসনে আরোহণ করেন। ১৮৯৯ সালে তিনি বর্মী কর্তৃক সিংহাসনচ্যুত হন। ১৮২৬ সালে ইয়াণ্ডাবু সন্ধির মাধ্যমে বর্মী শাসনের অবসান ঘটে এবং সমগ্ৰ অসমে ব্রিটিশ শাসন প্রতিষ্ঠিত হয়। ব্রিটিশ শাসনের বিরুদ্ধে আহোম অভিজাতদের মধ্যে অসন্তোষ ও নানা বিশৃঙ্খলা লক্ষ্য করে ডেভিড স্কট সমগ্ৰ উত্তর- পূর্ব অসমকে কোনো আহোম রাজপুত্রকে প্রত্যার্পণ করবার সুপারিশ করেন। স্কটের পর রবার্টসন অসমের কমিশনার ও গভর্নর জেনারেলের এজেন্ট নিযুক্ত হন। তিনি স্কটের উক্ত প্রস্তাবে সহমত হন। ১৮৩৩ সালে রবার্টসন আনুষ্ঠানিক ভাবে উত্তর-পূর্ব অসম পুরন্দর সিংহকে প্রত্যার্পণ করেন। কিন্তু পুরন্দর সিংহের শাসনে রাজ্যের অধিবাসীদের চরম দুর্গতি শুরু হয়। অধিকন্তু তিনি প্রতিশ্রুত বার্ষিক কর পঞ্চাশ হাজার টাকা দিতেও অক্ষম হন। অবশেষে জেনারেল জেন্কিন্সের প্রস্তাব অনুসারে ১৮৩৮ সালে এক ঘোষণায় পুরন্দর সিংহকে সিংহাসনচ্যুত করা হয়।
তিরৎ সিং : ব্রক্ষপুত্র উপত্যকায় আধিপত্য স্থাপনের পর ইংরেজ খাসিয়া পাহাড়ের মধ্য দিয়ে সুরমা উপত্যকার সঙ্গে যোগসূত্র স্থাপনের উদ্যোগ গ্ৰহণ করে ১৮২৭ সালে রাণীর কাছ থেকে নংঘ্রৌর- এর মধ্য দিয়ে এক রাস্তা নির্মাণের উদ্যোগ গ্ৰহণ করে। প্রথমে খাসি সিয়েম তিরৎ সিংহ উহাতে অনুমতি দান করলেও ১৮২৯ সালের ৪ঠা এপ্রিল তিরৎ সিংহ তার খাসিয়া অনুচর নংঘ্রৌতে কোম্পানীর জনগণের উপর আক্রমণ চালিয়ে দুজন ইংরেজ এবং ৬০ জন ভারতীয় সিপাহীর মৃত্যু ঘটান এবং খাসিয়া পাহাড়ে ইংরেজদের প্রবেশে বাধাদানের জন্য প্রচুর সৈন্য মোতায়েন করেন। কিন্তু ১৮৩৩ সালের ১৩ই জানুয়ারী তিরৎ সিংহ পরাজিত হয়ে ইংরেজদের কাছে আত্মসমর্পণ করেন। এর ফলে খাসিয়া পাহাড় ব্রিটিশের হস্তগত হয়ে যায়।
গোমধর কোঁয়র : গোমধর কোঁয়র ছিলেন অসমের অভিজাত সম্প্রদায়ের অন্যতম নেতা। তিনি সর্বপ্রথম অসমে ব্রিটিশদের বিরুদ্ধে অস্ত্র হাতে নিয়েছিলেন। ১৮২৫ সালের ৭ই মার্চ ব্রিটিশ সরকার নিম্ন অসমকে ইংরেজদের চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বলে ঘোষণা করে এবং উজান অসম হতে ব্রিটিশ সৈন্য অপসারণ করে। এই অবস্থার সুযোগ গ্ৰহণ করে গোমধর নিজেকে স্বর্গদেও হিসাবে ঘোষণা করে স্থানীয় রাজকর্মচারীদিগকে তার সঙ্গে সহযোগিতার আহবান জানিয়ে মরিয়ানী অভিমুখে সসৈন্যে যাত্রা করেন। এই অভিযান ব্যর্থ করবার জন্য ব্রিটিশ লেপটেন্যান্ট বুথার ফোর্ড নাগাপাহাড়ে অবস্থিত গোমধর সহ অন্যান্য বিদ্রোহীদের বন্দী করলে ব্রিটিশ কমিশনার ডেভিড স্কট গোমধর সহ অন্যান্য বন্দীদের সাত বৎসরের কারাদণ্ডের আদেশ দেন। কিন্তু হরনাথের সাহায্যে শ্রীঘ্রই কারাগার হতে পালান। প্রথমে ইংরাজ সরকার গোমধরকে ফাঁসী দেওয়ার চিন্তা করলেও তার অল্প বয়স বিবেচনা করে কারাগারে রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল। রংপুর জেল থেকে গোমধর কোথায় গিয়েছিলেন তা জানা যায় নি।
ব্রিটিশের সিংফৌ রাজ্য দখল : মটক রাজ্যের পূর্বে নদিহিং ও টেঙ্গাপানী নদীর মধ্যের সমভূমি অঞ্চলে সিংফৌগণ অবস্থান করত। সিংফৌর সর্দারকে বলা হত ‘গাম’। গামগণ ইংরেজদের বশ্যতা স্বীকার করে চুক্তিপত্রে সই করলে সেই অঞ্চলটি ইংরেজদের করতলগত হয়। সিংফৌদের সঙ্গে ব্রিটিশদের এক সন্ধি হয়। সন্ধি অনুসারে সিংফৌদের ‘গাম’ বা সর্দার আশিজন সৈন্যের এক বাহিনী দিয়ে ইংরেজদের সাহায্য ও বর্মীদের সম্বন্ধে সব সময় সংবাদ সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুত হয়।
ব্রিটিশের জয়ন্তিয়া রাজ্য দখল : অতীতে জয়ন্তীয়ারা কোনো কর দিতেন না। কিন্তু ১৮৬০ খ্রিস্টাব্দে ব্রিটিশ সরকার জয়ন্তীয়া পাহাড়ে গৃহকর প্রবর্তন করে। এই ধরনের করের সঙ্গে তাদের কোনো পরিচিতি না থাকায় জয়ন্তীয়ারা ইংরেজ সরকারের শোষণনীতির বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। ইংরেজরা সহজেই এই বিদ্রোহ দমন করা করে। পরে ব্রিটিশ সরকার জয়ন্তীয়া পাহাড়ে উন্নয়নে কিছু ব্যবস্থা গ্ৰহণ করলে এবং গাঁওবুড়াদের বেশি ক্ষমতা ছিল তাদের মধ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। কিন্তু এই শান্তি বেশি দিন স্থায়ী হয়নি। জয়ন্তীয়াদের উপর আয়কর আরোপ করায় তারা পুনরায় ইংরেজদের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ শুরু করে। জোয়াই পুলিশচৌকীতে অগ্নি সংযোগ করা হয়। কিন্তু ইংরেজরা শক্ত হাতে এই বিদ্রোহ দমন করে জয়ন্তীয়া পাহাড়ে আইন-শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা করে।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তরঃ

Hi! my Name is Parimal Roy. I have completed my Bachelor’s degree in Philosophy (B.A.) from Silapathar General College. Currently, I am working as an HR Manager at Dev Library. It is a website that provides study materials for students from Class 3 to 12, including SCERT and NCERT notes. It also offers resources for BA, B.Com, B.Sc, and Computer Science, along with postgraduate notes. Besides study materials, the website has novels, eBooks, health and finance articles, biographies, quotes, and more.



Rahim