Class 9 Social Science Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ Notes to each chapter is provided in the list so that you can easily browse throughout different chapter Class 9 Social Science Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ and select needs one.
Class 9 Social Science Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ
Also, you can read SCERT book online in these sections Class 9 Social Science Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ Solutions by Expert Teachers as per SCERT (CBSE) Book guidelines. Class 9 Social Science Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ These solutions are part of SCERT All Subject Solutions. Here we have given Class 9 Social Science Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ for All Subject, You can practice these here…
মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter – 3
প্রথম খন্ড : ইতিহাস
পাঠ্যপুস্তকের প্রশ্নোত্তরঃ
● অতি সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ
১। মায়ামরা কি ?
উত্তরঃ মায়ামরা একটি বৈষ্ণব সত্রের নাম। মরাণ গোষ্ঠীর লোকজন এই সত্রের শিষ্য ছিল।
২। সত্র বলিতে কি বুঝ ?
উত্তরঃ সত্র বলিতে শ্রীমন্ত শংকরদেব দ্বারা প্রচারিত নামধর্ম বা নববৈষ্ণব ধর্মের প্রচার ও প্রসারের জন্য গড়ে উঠা ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলিকে বুঝি।
৩। সংহতি কি ?
উত্তরঃ সংহতি হলো সত্রসমূহের ভাগ। যেমন– ব্রক্ষ সংহতি, পুরুষ সংহতি কাল সংহতি ও নিকা সংহতি। মায়ামরা সত্র কাল সংহতি অন্তর্ভুক্ত।
৪। মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ কোন আহোম রাজার সময় শুরু হয়েছিল ?
উত্তরঃ আহোম রাজা স্বর্গদেও লক্ষ্মীসিংহের মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ হয়েছিল।
৫। মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ কোন রাজার সময়ে সমাপ্ত হয়েছিল ?
উত্তরঃ রাজা স্বর্গদেও কমলেশ্বর সিংহের রাজত্বকালে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ সমাপ্ত হয়েছিল।
৬। কোন আহোম রাজা প্রথমে স্বর্গদেও/ স্বর্গনারায়ণ উপাধি গ্ৰহণ করেছিলেন বলে অনুমান করা যায়।
উত্তরঃ আহোম রাজা চুহংমুং প্রথম স্বর্গদেউ/স্বর্গনারায়ণ উপাধি গ্ৰহণ করেছিলেন বলে অনুমান করা যায়।
৭। চুরুমফা ভগারাজার সময়ে কোন মোয়ামরীয়া সত্রাধিকারকে হত্যা করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ চুরুমফা ভগারাজার সময়ে মোয়ামরিয়া সত্রাধিকার গুরু নিত্যানন্দদেবেকে হত্যা করা হয়েছিল।
৮। রুদ্রসিংহের রাজসভায় কোন মোয়ামরীয়া সত্রাধিকারকে হত্যা করা হয়েছিল ?
উত্তরঃ রুদ্রসিংহের রাজসভায় মোয়ামরীয়া সত্রাধিকার চতুর্ভূজদেব মোহন্তকে হত্যা করা হয়েছিল।
৯। আহোমদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম কি ?
উত্তরঃ আহোমদের প্রধান উপাস্য দেবতার নাম হলো ছেমিদেও।
১০। জয়ধ্বজ সিংহ কোন সত্রাধিকারের শরণাগত হয়েছিলেন ?
উত্তরঃ জয়ধ্বজ সিংহ আউনিআটী সত্রের সত্রাধিকার নিরঞ্জনাদেবের শরণাগত হয়েছিলেন।
১১। রুদ্রসিংহ কার শরণ নিয়েছিলেন ?
উত্তরঃ রুদ্রসিংহ আউনীআটী সত্রের সত্রাধিকার কেশবদেবের শরণ নিয়েছিলেন।
১২। কৃষ্ণরাম ভট্টাচার্য কে ছিলেন ?
উত্তরঃ কৃষ্ণরাম ভট্টাচার্য ছিলেন বঙ্গদেশের নদিয়া জেলার একজন শাক্ত ব্রাক্ষণ। তাঁকে আসামে এনেছিলেন রাণী “বররাজা” বা ‘ফুলেশ্বরী’।
১৩। কোন আহোম রাজার সময়ে শাক্তধর্ম পল্লবিত হয়েছিল ?
উত্তরঃ আহোম রাজা স্বর্গদেও শিব সিংহের সময়ে শাক্তধর্ম পল্লবিত হয়েছিল।
১৪। গাগিনি কে ?
উত্তরঃ গাগিনি হলো মোয়ামরীয়া মোহন্ত অষ্টভূজের পুত্র।
১৫। মোয়ামরীয়ারা সর্বপ্রথম কাকে রাজা ঘোষণা করেছিলেন ?
উত্তরঃ মোয়ামরীয়ারা সর্বপ্রথম নাহরখোয়ার পুত্র রমাকান্তকে রাজা করেছিলেন।
১৬। ক্যাপ্টেন ওয়েল্স কবে থেকে কবে পযর্ন্ত অসমে ছিলেন।
উত্তরঃ ক্যাপ্টেন ওয়েল্স ১৭৭২ সালের ৮নভেম্বর থেকে ১৭৭৪ সাল পযর্ন্ত অসমে ছিলেন।
১৭। অসমে কত লবণ উৎপাদন হয়েছিল ?
উত্তরঃ অসমে শদিয়া ও নাগা পাহাড়ে কিছু লবণ-উৎপাদন হয়েছিল।
১৮। অসমের সাধারণ-মানুষ কোন কোন লবণ ব্যবহার করতে পারত না ?
উত্তরঃ অসমে লবণ ছিল খুবই দামি সামগ্ৰি, তাই সাধারণ মানুষ লবণ ব্যবহার করতে পারত না।
দীর্ঘ প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন ১। মোয়ামরীয়ারা কারা ? এই বিদ্রোহকে গণ অভ্যুথান বলা যায় কি ?
উত্তরঃ মোয়ামরীয়ারা ছিল মরাণ জনগোষ্ঠীর লোক। ময়ামরা ছিল সত্রের মোহন্ত বা সত্রাধিকারগণ শূদ্র সম্প্রদায়ভুক্ত। গুরুর প্রতি মোয়ামরীয়াগণের গভীর ভক্তি ছিল। এমন কি গুরুর কারণে তারা প্রাণ বিসর্জন দিতেও কুণ্ঠাবোধ করত না। শিষ্যগণ একান্ত অনুগত ও ভক্তি আদায় করে মোয়ামরীয়া মোহন্তগণ অত্যন্ত শক্তিশালী হয়ে পড়ে। এর ফলে মোয়ামরীয়া মোহন্ত ও আহোম রাজাগণের মধ্যে ধর্ম নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়।
মোয়ামরীয়া বিদ্রোহকে একটি গণঅভ্যুথান বলা যায়। কেননা মোয়ামরীয়া গুরু নীত্যানন্দদেব হত্যার ক্ষোভ আহোম রাজা গদাধর সিংহ মোয়ামরীয়াগণের বিরুদ্ধে চালানো অত্যাচারী কার্য আগুনে ঘৃত ঢালার মতই হয়েছিল। গদাধর সিংহ পলাতক অবস্থায় আউনি আটি ও দক্ষিণ পাট সত্রে আশ্রয় গ্ৰহণে গেলে ভক্তগণ তাঁকে আশ্রয় দেয়নি। এমনকি দক্ষিণ পাট সত্রের সত্রাধিকারেরা তাঁকে কটুবাক্য শুনিয়েছিল। কছারী, চুতীয়া, মরাণ ইত্যাদি অনেকেই এই বিদ্রোহে অংশগ্রহণ করেছিল।
প্রশ্ন ২। মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের রাজনৈতিক কারণ বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ অসমের মধ্যযুগের ইতিহাসে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ একটি বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। এই বিদ্রোহ ১৭৬৯ সাল থেকে ১৮০৫ সাল পর্যন্ত প্রায় ৩৫/৩৬ বছর ধরে চলেছিল। কিন্তু এই বিদ্রোহের পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছিল প্রায় ১০০বছর আগে থেকেই। আহোম স্বর্গদেও লক্ষ্মীসিংহের রাজত্বকালে শুরু হওয়া এই বিদ্রোহ স্বর্গদেও কমলেশ্বর সিংহের রাজত্বকালে সমাপ্ত হয়। অবশ্য এই বিদ্রোহের কারণ সমূহ একশত বৎসর আগে থেকেই দানা বাঁধছিল। বিদ্রোহের মূল কারণ, অর্থনৈতিক ও ধর্মীয়। জনগণের মধ্যে বছর বছর ধরে পুঞ্জীভূত ক্ষোভ অবশেষে স্বর্গদেও লক্ষ্মীসিংহের সিংহাসনে আরোহণের বছরেই বিদ্রোহে পরিণত হয়।
ময়ামরা সত্রের সত্রাধিকার গুরু নিত্যানন্দদেবের হত্যাকাণ্ডের মধ্যে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের প্রধান উৎস নিহিত। আহোম স্বর্গদেও চুরাম্ফা ভগা রাজার রাজত্বকালে বেজদলৈ ভাণ্ডারী বরুয়া গুরুজনকে হত্যা করার ষড়যন্ত্র করে রাজার অনুমোদন সাপেক্ষে এটি কার্যকরী করেছিল। গুরুজনকে হত্যার প্রতিশোধ নিতে শিষ্যরা প্রতিজ্ঞা করেছিল। সত্রাধিকার নিত্যানন্দদেবকে হত্যার পর মোয়ামরীয়া সত্রের শিষ্যদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ দানা বাঁধছিল।
দ্বিতীয়ত, গুরুজনকে হত্যার ক্ষোভ শেষ না হতেই আহোম স্বর্গদেও গদাধর সিংহের বৈষ্ণব নির্যাতন কার্যত আগুনে ঘৃতাহুতি দেয়। গদাধর সিংহ সত্রানুষ্ঠানে ধনদৌলতের গন্ধ পান। ধনে সম্পদে পরিপূর্ণ প্রতিটি সত্রানুষ্ঠান রাষ্ট্রসদৃশ ছিল। অপরদিকে দক্ষিণপাট সত্রের সত্রাধিকার গদাধর সিংহের সিংহাসনে আরোহণ সুনজরে দেখতেন না।
আগে প্রচলিত নিয়মমতে ব্রাক্ষণ,পরোহিত, সংসারী, বৈরাগী, সন্ন্যাসী, সত্রাধিকার ও ভক্তগণ পাইক সেবাদান থেকে অব্যাহিত পেত। এই সুবিধা গ্ৰহণের জন্য বহুলোক সত্রের ভক্ত হয়ে পাইকসেবা থেকে নিষ্কৃতি লাভ করেছিল। ফলে দেশের রাষ্ট্র নির্মাণ, খাল খনন, মঠ নির্মাণ করতে শ্রমিকের অভাব দেখা যায়।
আহোম রাজ্যে সত্রানুষ্ঠানের সংখ্যা বাড়ার ফলে পাইক সেবাদান করা লোকের সংখ্যা ক্রমাগতভাবে কমেছিল। সুতরাং গদাধর সিংহ সত্রানুষ্ঠান ধ্বংস করে এদের বিষয় সম্পত্তি রাজকোষে জমা এবং বৈষ্ণব মোহন্তগণকে শারীরিক শ্রমদানে নিযুক্ত করেন। প্রতিবাদ করলে শত শত মোহন্ত ও ভক্তকে শারীরিক নির্যাতন দেওয়া হয়। অনেককে নিজ বাসস্থান থেকে তাড়ানো হয়।
প্রজা বা বৈষ্ণব নির্যাতনের ঘটনা এভাবে শেষ হয়নি। রাজা শিব সিংহের প্রধানা মহিষী ছিলেন ফুলেশ্বরী। তিনি অতিসাধারণ অবস্থা থেকে রাণী বলে পরিচিত হন। ১৭২২ সালে রাজা ‘বররাজ’ উপাধি দিয়ে শাসনভার তার উপর অর্পণ করেন। ফুলেশ্বরী শাক্ত ব্রাক্ষণের দীক্ষাগ্ৰহণ করেন, তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। একবার দূর্গাপূজার সময় তিনি মোয়ামরীয়া মোহন্তগণকে মূর্তিপূজা করতে বাধ্য করেন এবং তাদের কপালে রক্ততিলক পরিয়ে দেন। এর ফলে মোয়ামরীয়াগণের আহোম রাজার উপর বিদ্বেষ জন্মে।
প্রশ্ন ৩। আহোমের ধর্মীয় নীতির পরিবর্তন মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের কারণ এ সম্পর্কে তোমার মত কী আলোচনা করো।
উত্তরঃ আহোম রাজার বিরুদ্ধে গড়ে ওঠা মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ প্রধানত দুটি কারণে সংঘটিত হয়েছিল—-অর্থনৈতিক এবং ধর্মীয় কারণে।
প্রথমত, পূর্ব প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী ব্রাক্ষণ, পুরোহিত, সন্ন্যাসী, বৈরাগী, সত্রাধিকার ও ভক্তগণ পাইক সেবাদান থেকে অব্যাহিত পেতেন। এই সুবিধালাভের জন্য বহুসংখ্যক লোক ভক্ত হয়ে পাইকসেবা হতে নিষ্কৃতি লাভ করেছিল। ফলে দেশের রাস্তাঘাট নির্মাণ, মঠ নির্মাণ অন্যান্য কল্যাণমুখী কাজের জন্য মানুষের অভাব পরিলক্ষিত হয়। সুতরাং গদাধর সিংহ উক্ত পত্রানুষ্ঠানসমূহ ধ্বংস করে এতে নিয়োজিত লোকদের কাজে লাগাতে শুরু করেন।
দ্বিতীয়ত, রাজা গদাধর সিংহ ছিলেন শাক্তপন্থী। তিনি বৈষ্ণব ধর্মের ঘোর বিরোধী ছিলেন। বৈষ্ণবধর্ম উৎখাত করে শাক্তধর্ম প্রতিষ্ঠা করার লক্ষ্যে তিনি বৈষ্ণব সত্রানুষ্ঠা ধ্বংস করতে শুরু করেন।
আহাম স্বর্গদেও গদাধর সিংহ সত্রানুষ্ঠান ধ্বংস করতে শুরু করলে আহোম জনগণের মনে তীব্র অসন্তোষ দানা বাঁধতে থাকে। তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে গদাধর সিংহের এই অপকাজের বিরোধীতা করে। কালক্রমে এটি বিদ্রোহের রূপ ধারণ করে এবং মোয়ামরিয়া বিদ্রোহে পরিণত হয়।
প্রশ্ন ৪। পাইকপ্রথা মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের নেপথ্যে কতটুকু ভূমিকা নিয়েছিল এ প্রসঙ্গে তোমার মতামত বর্ণনা কর ?
উত্তরঃ আহোম রাজা স্বর্গদেও রাজেশ্বর সিংহের পাইক বা প্রজা শোষণ নীতি মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ শুরু হওয়ার ক্ষেত্রে বিশেষ প্রভাব বিস্তার করেছিল, আগে চারজন পাইক নিয়ে একটি জোট করার ব্যবস্থা থাকত। এদের মধ্যে প্রতিজন বছরে ১২ মাসের মধ্যে তিন মাস বাধ্যচামূলক পাইকসেবা করত কিন্তু পাইকদের সংখ্যা হ্রাস পেলে ৩জন পাইক নিয়ে একটি জোট গঠন করা হত এবং প্রতি পাইকে বছরে চারমাস পাইকসেবা দিতে হত। সুতরাং প্রত্যেক পাইকের উপর শ্রমের বোঝা বেড়ে যায়। এভাবে প্রতিটি পাইক বছরের চারমাস রাষ্ট্রীয় পাইকরূপে সেবাদানের ফলে কৃষি ও অর্থনীতির প্রভূত ক্ষতিসাধন হয়। শারীরিক শ্রমের বোঝা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে প্রজাশোষণের নীতি দেশের সাধারণ প্রজা সহ্য করতে পারত না। তারা আহোম রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা রাজার বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেবার সুযোগ খোঁজে।
ব্রক্ষপুত্রের উত্তর পারে তীরে ডফলা বহুতীয়া আহোম প্রজাগণকে সদাই দুই প্রকার করের বোঝা বহন করতে হত। এই ধরনের কর ব্রক্ষপুত্রের উত্তর তীরের আহোম প্রজাসাধারণকেও অসন্তষ্ট ও অতিষ্ঠ করে তোলে। স্বর্গদেও লক্ষ্মীসিংহের রাজত্বকালে মোয়ামরীয়াগণ বিদ্রোহ করার সঙ্গে সঙ্গে তারাও বিদ্রোহের সঙ্গে সংহতি স্থাপন করে প্রজাবিদ্রোহে যোগ দেয়।
এই প্রকার প্রজাশোষণে আহোম রাজতন্ত্রের রাজশক্তিকে ধাক্কা দিয়েছিল। সাধারণ প্রজারা এমনিতেই দুঃখী তার উপর তারা সমাজের কন্টক বলে পরিগণিত হয়েছিল। সমাজে তাদের মান মর্যাদা বলে কিছু ছিল না। তারা শুধুমাত্র শ্রম করার যন্ত্ররূপেই পরিচিত ছিল। ফলে দেশের সামাজিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত বেড়েছিল। সুতরাং সমাজের নিম্নশ্রেণির প্রজাগণও আহোম রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে বহুবছর ধরে তীব্র ক্ষোভ ও অসন্তুষ্টি পোষণ করে রেখেছিল ফলে এই বিদ্রোহ শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বিদ্রোহীদের সাথে সংযোগ স্থাপন করে অংশগ্রহণ করে প্রজাবিদ্রোহে অংশগ্রহণ করে।
প্রশ্ন ৫। মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের ফলাফল বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ আহোম রাজতন্ত্রের ইতিহাসে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ এক যুগান্তকারী ঘটনা। এই বিদ্রোহের পরিণতি একদিকে আহোম রাজতন্ত্র অপরদিকে আহোম রাজতন্ত্র ও সমগ্ৰ অসমের ক্ষেত্রে অত্যন্ত ভয়ানক ছিল। নিচে এই বিষয়ে আলোচনা করা হল।
দীর্ঘকাল বিদ্রোহ চলায় অসমের রাজনৈতিক সংহতি নষ্ট হয়েছিল। বিদ্রোহ রাজপদের মান-মর্যাদা কম করেছিল। রাজার অজ্ঞতা প্রমাণ হয়েছিল। ফলে আহোমদের পতন আসন্ন হয়েছিল।
বিদ্রোহের ফলে অনেক জনপদ জনশূন্য হয় এবং অনেক কৃষক কৃষিকাজ ত্যাগ করে স্থানান্তরে চলে যায়।
দীর্ঘস্থায়ী বিদ্রোহের ফলে আহোম অভিজাত শ্রেণির নৈতিক অধঃপতন ঘটে। রাজশক্তি দুর্বল হয়ে অভিজাত শ্রেণি ক্ষুদ্র স্বার্থরক্ষায় তৎপর হয়।
বিদ্রোহ আহোমদের সামরিক ব্যবস্থাকে দুর্বল করেছিল। মরাণগণ আহোম সোলার স্তম্ভস্বরূপ ছিল। কিন্তু বিদ্রোহে আহোম সোলাবাহিনীতে মরাণদের প্রভাব কমে যায়। এই বিদ্রোহের ফলে অসমে ইংরেজ প্রভাবের পথ উন্মুক্ত হয়।
মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ দমনের জন্য আহোম রাজার অনুরোধে ক্যাপ্টেন ওয়েলস কলিবর থেকে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর বঙ্গ সরকারের কাছে এক গোপন প্রতিবেদনে অসমের সম্ভাবনায় সম্পদ বিষয়ে জানিয়ে ছিলেন। তখন থেকেই কোম্পানি অসম দখলের স্বপ্ন দেখছিল। এই বিদ্রোহে অধিক গুরুত্বপূর্ণ এবং ক্ষতিকারক পরিণতি ছিল এটি।
প্রশ্ন ৬। মোয়ামরিয়া বিদ্রোহ সফল না ব্যর্থ যুক্তি দিয়ে বিশ্লেষণ কর।
উত্তরঃ মোয়ামরীয়া বিদ্রোহীগণ আহোম রাজা গৌরীনাথ সিংহকে পরাজিত করে রংপুর দখল করে ভরত সিং নামে একজনকে রাজা এবং শুকুবা নামে অপর একজনকে বরবরা ঘোষণা করে দেশ শাসনের জন্য নিয়েছিল। ভরত সিং ছিলেন মায়ামরা সত্রের সত্রাধিকার। এদিকে বছা দয়াঙের লোকেরা জপ বা গোহাই নামে একজনের অধীনে নিজেকে স্বতন্ত্র বলে ঘোষণা করেছিল। ব্রক্ষপুত্রের উত্তর তীরে জাপারিভিঠা নামক স্থানে ডফলা বহতীয়াগণ এক তাঁতীকে রাজা বলে ঘোষণা করে। মাজুলীতে মোয়ামরীয়াগণ হাউহি নামে একজনকে রাজা ঘোষণা করে। বেংমা অর্থাৎ তিনসুকীয়ায় হাতীচুঙ্গি মরাণগণ সর্বানন্দ নামে একজনকে রাজা ও গোধাক নামে একজনকে বরবরুয়া ঘোষণা করে রাজ্যশাসন করেছিল। শদিয়ায় খামতীগণ বুঢ়া রাজা ও ডেকা রাজা নামে দুজনকে রাজা ঘোষণা করে রাজ্যশাসন করতে মনস্থির করেন।
উজান অসমে এইরূপ রাজনৈতিক পরিবর্তন চলাকালে নিম্ন অসমেও সমান রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের চেষ্টা চলেছিল। নিম্ন অসমের দরং ও নগাঁওতে বিদ্রোহীরা স্বাধীনতা ঘোষণা করে। দরং-এর রাজা হংসনারায়ণকে গৌহাটী নিয়ে যাওয়ার ছল করে গৌরীনাথ সিংহকে হত্যা করার পর তার পুত্র কৃষ্ণনারায়ণ বাঙালী সেনাবাহিনীর সাহায্যে কামরূপ দখল করে বিদ্রোহ শুরু করে। সুতরাং এটা স্পষ্ট যে মোয়ামরীয়া প্রজাবিদ্রোহে আহোম রাজতন্ত্রের ভিত্তিক সম্পূর্ণরূপে কাঁপিয়ে দিয়েছিল।
প্রশ্ন ৭। কোন পরিস্থিতিতে ক্যাপ্টেন ওয়েলস অসমে এসেছিলেন ? কাজ অর্ধসমাপ্ত রেখে তিনি ফিরে গেলেন কেন ?
উত্তরঃ কৃষ্ণনারায়ণকে দমন করার পর গৌরীনাথ সিংহ মোয়ামরীয়াগণকে সাহায্য করতে ক্যাপ্টেন ওয়েলস-এর প্রার্থনা করলেন ও বার্ষিক তিন লক্ষ টাকা দিতে রাজী হলেন। গভর্নর জেনারেলের এর অনুমতি পাওয়ার পর ওয়েলস্ গৌরীনাথ সিংহকে সঙ্গে নিয়ে একদল ইংরাজ সেন্যবাহিনী নিয়ে রংপুরের উদ্দেশ্যে রওনা হন। মোয়ামরীয়াগণ ইংরেজ সৈন্যবাহিনীর শক্তি সম্পর্কে অবহিত ছিল না। তারা ইংরেজদের হাতে ভীষণভাবে পরাজিত হল। ইংরাজেরা গৌরীনাথ সিংহকে আবার সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করলেন। গৌরীনাথ সিংহ ছিলেন অতি স্বেচ্ছাচারী রাজা। নিজের অকর্মণ্যতা ও স্বেচ্ছাচারীতার জন্যই মোয়ামরীয়াদের দ্বারা তিনি গৌহাটীতে বিতাড়িত হয়েছিলেন। রাজধানী গড়গাঁও ত্যাগ করবার পর গৌহাটীতে আশ্রয় গ্ৰহণ সত্ত্বেও তিনি শান্তিতে কালযাপান করতে পারেন নি। তিনি দরঙ্গের রাজা হংসনারায়ণকে হত্যা করে তাঁর জায়গায় বিষ্ণুনারায়ণকে দরঙ্গের সিংহাসনে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। হংসনারায়ণের পুত্র কৃষ্ণনারায়ণ বাঙালী ও হিন্দুস্থানী বরকন্দাজদের সাহায্যে বিষ্ণুনারায়ণকে সরিয়ে নিজে সিংহাসন দখল করলেন। তিনি কামরূপের উত্তরাংশ দখল করে উত্তর গৌহাটী দখল করবার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন। এই অবস্থায় গৌরীনাথ সিংহের ইংরেজের সাহায্য চাওয়া ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না। তিনি তখন তাঁকে সাহায্য করতে কলিকাতাস্থ ইংরাজ গভর্নর জেনারেলের কাছে আবেদন করলেন।
১৭৯২সালে গভর্নর জেনারেল ক্যাপ্টেন ওয়েলস্কে একদল ইংরেজ সৈন্যবাহিনীসহ গৌরীনাথ সিংহকে সাহায্য করতে অসম অভিমুখে পাঠালেন। গৌরীনাথ সিংহ তখন গৌহাটী হতে পালিয়েছিলেন কারণ তাঁর পাশ্ববর্তী গৃহটি এক বৈরাগীর নেতৃত্বে কয়েকজন মৎস্যজীবি অধিকার করেছিল। ক্যাপ্টেন ওয়েলস্ গৌহাটী অধিকার করে কৃষ্ণনারায়ণও হিন্দুস্থানী বরকন্দাজদিগের সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন করলেন কিন্তু তারা আত্মসমর্পণ করতে রাজী না হওয়ায় ওয়েলস্ তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করলেন। কৃষ্ণনারায়ণ যুদ্ধে পরাজিত হয়ে আত্মসমর্পণ করলেন ও আহোম রাজাকে বার্ষিক ৫৮,০০০ টাকা কর দিতে রাজী হলেন। তাঁকে বরফুকনের অধীনে জমিদাররূপে থাকতে হল।
প্রশ্ন ৮। মোয়ামরিয়া বিদ্রোহ দমনে ওয়েলসের ভূমিকা বর্ণনা করো। তিনি কতটুকু সফল হয়েছিলেন ?
উত্তরঃ লক্ষ্মীসিংহের মৃত্যুর পর ১৭৮০সালে তার পুত্র গৌরীনাথ সিংহ সিংহাসনে আরোহণ করেন এবং পিতৃশক্র মোয়ামরীয়াদের উপর অকথ্য অত্যাচার শুরু করলেন। ফলে ১৭৮২। সালে তারা বিদ্রোহী হয়ে রাজধানী গড়গাঁও আক্রমণ করে এবং বহুলোককে হত্যা করে। তারা সিঙ্গরি ঘর জ্বালিয়ে দেয়। এই সংবাদ পেয়ে বুড়াগোঁহাই ঘনশ্যাম একদল সৈন্য নিয়ে এলে বিদ্রোহীগণ রাজধানী গড়গাঁও ত্যাগ করে। এর পর ঘনশ্যামের মৃত্যু হলে তাঁর পুত্র পূর্ণানন্দ বুড়াগোঁহাই পদে নিযুক্ত হন।
বিদ্রোহীরা গড়গাঁও হতে বিতাড়িত হয়ে রংপুর আক্রমণ করে এবং হত্যালীলা চালায়। পূর্ণানন্দ এসে তা দমন করেন। পূর্ণানন্দ ছিলেন দূরদর্শী। তিনি রাজা গৌরীসিংহকে মোয়ামরীয়াদের উপর অত্যাচার না করে তাদের সঙ্গে একটি বোঝাপড়া করতে পরামর্শ দিয়েছিলেন। ১৭৮৫ সালে মোয়ামরীয়াগণ ব্রক্ষপুত্রের উত্তর পারে বিদ্রোহী হয়ে রংপুরের দিকে অগ্ৰসর হতে থাকে। রাজা গৌরীনাথ সিংহ ভীত হয়ে গৌহাটী পলায়ন করলে। বিদ্রোহীগণ গড়গাঁও ও রংপুর দখল করে ভরত সিংহ নামক একজনকে রাজপদে প্রতিষ্ঠিত করে।
১৭৯১ সালে দরং-এর পূর্ববর্তী রাজার পুত্র কৃষ্ণনারায়ণ গৌরীসিংহ মনোনীত দরং রাজা বিষ্ণুনারায়ণকে বঙ্গদেশ থেকে এসে হিন্দুস্থানী বিষ্ণুনারায়ণকে তাদের দ্বারা বিতাড়িত করেন। এর পর ব্রক্ষপুত্রের উত্তর তির ধরে অগ্ৰসর হয়ে উত্তর গৌহাটী অধিকার করলে গৌরীনাথ ইংরেজের সাহায্য প্রার্থনা করেন। লর্ড কর্ণওয়ালিস তখন ক্যাপ্টেন ওয়েলসের নেতৃত্বে একদল ইংরেজ সৈন্য আসামে প্রেরণ করেন। ওয়েলস কৃষ্ণনারায়ণকে পরাজিত করেন।
প্রশ্ন ৯। ক্যাপ্টেন ওয়েলসের অসম সম্পর্কিত বিবরণ নিয়ে আলোচনা কর।
উত্তরঃ ক্যাপ্টেন ওয়েলস অসম থেকে প্রত্যাবর্তন করে ইংরাজ সরকারের কাছে যে রিপোর্ট দিয়েছিলেন তা হল :
ওয়েলস তার রিপোর্টে লিখেছিলেন জনবহুল অসমের রাজধানী রংপুরের কাছাকাছি অঞ্চল কৃষিকার্যের উপযোগী ছিল। তবে বাজারে কোনো উৎপন্ন দ্রব্য ক্রয়-বিক্রয় হত না। অভিজাতদের ক্রীতদাসেরা জমি চাষ করত এবং অভিজাতদের জমিদারীও ছিল। অসমে দ্রব্যমূল্য খুব সস্তা ছিল। একটি মহিষও একটি গরুর দাম ছিল যথাক্রমে পাঁচ টাকা ও দুই টাকা। অসম মুদ্রার অভাব ছিল। আফিং এবং লবণের পরিবর্তে জিনিসপত্র পাওয়া যেত।বঙ্গদেশের সঙ্গে আসামের ব্যবসা-বাণিজ্য চলত। গৌহাটীতে বরফুকন প্রায় ৯০ হাজার টাকা বাণিজ্য শুল্ক আদায় করতেন। ঐ ৯০ হাজার টাকা বাণিজ্য শুল্কের মধ্যে রাজতহবিলে ২৬ হাজার টাকা জমা পড়ত। অসমে লবণের অভাব ছিল। উচ্চদরে লবণ বিক্রয় হত। বাংলাদেশ থেকে প্রচুর লবণ অসমে আমদানী করা হত।
১০। সংক্ষিপ্ত টীকা লিখ :
(১) কীর্তিচন্দ্র বরবরুয়া।
(২) মায়ামরা সত্র।
(৩) পূর্ণানন্দ বুঢ়াগোঁহাই।
(৪) কাড়ী পাইক এবং চমুয়া পাইক।
(৫) ওয়েল্স এবং গৌরীনাথ সিংহের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি।
(৬) বররাজা ফুলেশ্বরী।
(৭) পার্বতীয়া গোঁসাই।
(৮) সর্বানন্দ।
(৯) ভরত সিংহ।
(১০) রংপুর নগর।
(১) কীতিচন্দ্র বরবরুয়া : আহোমরাজ শিব সিং এবং বররাজা ফুলেশ্বরীর রাজত্বকালে রাজা-রানী উভয়েই বৈষ্ণব মহন্তদের উপর চালানো নির্যাতন কার্যে কীতিচন্দ্র বরবরুয়া ইন্ধন যুগিয়েছিলেন। কীতিচন্দ্র বরবরুয়া গেন্ধেলা বরবরুয়া নামেও পরিচিত। রাজেশ্বর সিংহের রাজত্বকালে তাঁর ক্ষমতা বাড়ে। রাজার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে তিনি নিজের ক্ষমতা অসম্ভব রকম বাড়ান। কীর্তিচন্দ্রের এই ধরনের অভাবনীয় প্রতিপত্তি দেখে অনেক কর্মচারী মনে মনে তাঁর প্রতি অসন্তুষ্ট হন। নুমলী বড়গোঁহাই এই ধরনের একজন অসন্তুষ্ট রাজকর্মচারী। তিনি একটি বুরঞ্জী বা ইতিহাস বের করে কীর্তিচন্দ্রের বংশগৌরব সম্বন্ধে সন্দেহ প্রকাশ করেন। তাঁর চেষ্টায় রাজেশ্বর সিংহের পর রাজা হন লক্ষ্মীসিংহ। তাঁর অদূরদর্শীতার জন্য মোয়ামরীয়ারা রাজাকে বন্দী করে এবং তাঁকে সপরিবারে হত্যা করে।
(২) মায়ামরা সত্র : মোয়ামরিয়ারা মূলত মরাণ সম্প্রদায়ের লোক। শংকর-মাধবের পরবর্তীকালে ‘মায়ামরা’ নামের বৈষ্ণব সত্রটি স্থাপিত হয়েছিল। এই ‘মায়ামরা’ শব্দ থেকে মোয়ামরিয়া শব্দটির উৎপত্তি হয়েছে বলে অনুমেয়। মায়ামরা সত্রের সত্রাধিকাররা শূদ্র ছিলেন। বিভিন্ন জাতি, জনজাতি যেমন কাছাড়ী, আহোম, কৈবর্ত, চুতিয়া ইত্যাদি জনসাধারণের কাছেও এই সত্র ছিল জনপ্রিয়। মায়ামরা সত্রের জনপ্রিয়তা ক্রমান্বয়ে বেড়ে যাওয়ার ফলে গুরুদের শক্তি বেড়ে গিয়েছিল।
(৩) পূর্ণানন্দ বুঢ়াগোঁহাই : ঘনশ্যাম বুঢ়াগোঁহাইর পুত্র পূর্ণানন্দ বুঢ়াগোঁহাই। ১৭৮৪ সালে তিনি বুঢ়াগোঁহাই পদে নিযুক্ত হয়ে ১৮৯৭ সাল পযর্ন্ত এই পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। গৌরীনাথ সিংহের রাজত্বকালে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ শুরু হলে দূরদর্শী পূর্ণানন্দ বিদ্রোহের গুরুত্ব উপলব্ধি করে রাজাকে বিদ্রোহীদের সঙ্গে আপোস করতে পরামর্শ দেন। তাঁর পরামর্শমত কাজ হলে আহোমগণ চরম দুর্গতির হাত থেকে রক্ষা পায়। তারপর তিনি বিধ্বস্ত রাজ্যে শান্তি ফিরে আনতে চেষ্টা করলেন। কিন্তু বদনচন্দ্রের সঙ্গে তাঁর মতের মিল হওয়ায় বদনচন্দ্র বর্মীসৈন্যকে অসম আক্রমণ করতে আহান জানায়। ১৮১৭ সালে বর্মীসৈন্যের কাছে আহোম সৈন্য পরাজিত হয়। এরপর পূর্ণানন্দ মৃত্যু হয়।
(৪) কাড়ী পাইক এবং চমুয়া পাইক : আহোম রাজ্যের সব পুরুষ নাগরিকমাত্রেই ছিল একেকজন পাইক। শুরুতে চারজন পাইককে একত্র করে একটি দল তৈরি করা হয়েছিল, যারা রাজার কাজ করত। পরে অর্থাৎ রাজেশ্বর সিংহের সময়ে এই পাইক সদস্য সংখ্যা তিন কমে যায়। যার ফলে একজন পাইকের রাজার কাজের ক্ষেত্রে সময়সীমা বেড়ে চারমাস হয়ে যায়। মোয়ামরিয়াদের অধিকাংশই খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষ বলে এই অতিরিক্ত বোঝা বহন করতে অনিচ্ছুক হয়ে পড়েছিল। পাইক শোষণের অপর একটি প্রক্রিয়া ছিল পাইকদের শ্রেণি বিভাজন। পাইকদের মধ্যে যে দুটি ভাগ ছিল তার মধ্যে প্রথম শ্রেণিটি ছিল কাড়ী পাইক, এদের সংখ্যাই ছিল বেশি। দ্বিতীয় শ্রেণি চমুয়া পাইক। সংখ্যায় কম হলেও মানের দিক থেকে এই দ্বিতীয় শ্রেণির পাইকরা ছিল অনেকটা উঁচু। অর্থের বিনিময়ে তারা শারীরিক শ্রম থেকে অব্যাহিত পেয়েছিল। অপরদিকে চমুয়া পাইকের সংখ্যা বেড়ে যেতে শুরু করলে এদের উপর কাজের বোঝা আরও বেড়ে যায়। এর ফলে সামাজিক ন্যায়ের ক্ষেত্রটি সঙ্কুচিত হয়ে যায় এবং বৈষম্য বেড়ে যায়। পরিস্থিতি হয়ে উঠে সংঘাতময়।
(৫) ওয়েলস এবং গৌরীনাথ সিংহের মধ্যে বাণিজ্য চুক্তি : ওয়েলস এবং গৌরীনাথ সিংহের মধ্যে ১৯৯৩ সালের ৮ই ফেব্রুয়ারি বাণিজ্য চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছিল। এই চুক্তি অনুযায়ী—
(১) ইংরেজ অধীনস্থ যে কোনো জায়গা থেকে অসমে আমদানী সামগ্ৰীর উপর ১০শতাংশ কর ধার্য করা হয়।
(২) অসম থেকে ইংরেজ অধীনস্থ যে কোনো স্থানে জিনিস রপ্তানী করা হলে সমপরিমাণ অর্থাৎ ১০শতাংশ কর ধার্য করা হয়।
(৩) ধান এবং চালের উপর কোনো কর থাকবে না।
(৪) গুয়াহাটি এবং কান্দাহারে দুটি শুল্ক চৌকি স্থাপন করে আমদানী ও রপ্তানী কর আরোপ করার ব্যবস্থা করা হয়।
(৫) ইংরেজ ছাড়া অপর কোনো ইউরোপীয় ব্যবসায়ীরা ইংরেজ এবং আহোম সরকারের অনুমতি ব্যতিরেকে ব্যবসা করতে পারবেন না।
(৬) বররাজা ফুলেশ্বরী : রাজা শিবসিংহের প্রধানা মহিষী ছিলেন বররাজা ফুলেশ্বরী। অতি সাধারণ অবস্থা থেকে রাণী বলে পরিচিত হন। ১৭২২ সালে রাজা শাসনভার তাঁর উপর অর্পণ করেন। ফুলেশ্বরী শাক্ত ব্রাক্ষণের কাছে দিক্ষা গ্ৰহণ করেন। তিনি বৈষ্ণব ধর্মের প্রতি বিরূপ মনোভাব পোষণ করতেন। কীর্তিচন্দ্র বরবরুয়ার সাহায্যে মায়ামরা সত্রের সন্ত-মহন্তদের উপর নির্যাতন চালিয়েছিলেন। একবার দুর্গাপূজার সময় তিনি মোয়ামরীয়া মহন্তগণকে মূর্তিপূজা করতে বাধ্য করেন এবং তাদের কপালে রক্ততিলক পরিয়ে দেন। রানীর অত্যাচারে মোয়ামরীয়াগণের আহোম রাজার উপর বিদ্বেষ জন্মায়। ফুলেশ্বরী ছিলেন বিদ্যোৎসাহিনী। তিনি কয়েকটি টোল ও রংপুরে একটি বিদ্যালয় স্থাপন করেন। তিনিই আহোম সিংহাসনে প্রথম মহিলা। ফুলেশ্বরী মৃত্যু হয় ১৭৩১ সালে।
(৭) পার্বতীয়া গোঁসাই : স্বর্গদেও রুদ্রসিংহ বাংলাদেশের নদীয়া থেকে কৃষ্ণরাম ভট্টাচার্য নামে একজন শাক্ত ব্রাক্ষণ পণ্ডিতকে রাজ্যে ডেকে এনেছিলেন।পরবর্তীকালে পুত্র শিবসিংহ তাঁর শিষ্যত্ব গ্ৰহণ করে ব্রাক্ষণকে নীলাচল পাহাড়ে থাকতে দিয়েছিলেন। সেই সময় থেকেই কৃষ্ণরাম ভট্টাচার্য এবং তাঁর উত্তর পুরুষরা ‘পার্বতীয়া গোঁসাই’ নামে পরিচিত হন।
(৮) সর্বানন্দ : সর্বানন্দ হলেন মোয়ামরিয়াদের নেতা। মোয়ামরিয়াদের মধ্যে মরাণরা সবচেয়ে শক্তিশালী এবং সংখ্যাগুরু একথা পূর্ণানন্দ বুঝতে পেরে তাদেরকে সন্তুষ্ট রাখতে ১৮০৫ সাল মোয়ামরিয়াদের নেতা সর্বানন্দের সঙ্গে একটি চুক্তি করে বেংমরাকে কেন্দ্র করে ব্রক্ষপুএ ও দিহিংয়ের মাঝখানের ভূখণ্ড ‘মটক রাজ্য’ নাম দিয়ে একটি নতুন স্বতন্ত্র রাজ্য গঠন করেছিলেন। সর্বানন্দ বার্ষিক করদানের শর্তে রাজি হয়েছিলেন।
(৯) ভরত সিংহ : ভরত সিংহ ছিলে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের নেতা ভরত সিংহ মায়ামরা সত্রের সত্রাধিকার সম্পর্কীয় লোক ছিলেন। মোয়ামরিয়া মরীয়া বিদ্রোহ শুরু হলে বিদ্রোহীগণ রংপুর দখল করে। তারা ভরত সিংহকে রাজা ঘোষণা করে তাঁকে দেশ শাসনের দায়িত্ব অর্পণ করে।
(১০) রংপুর নগর : রংপুর নগর ছিল আহোমদের রাজধানী। মোয়ামরিয়ারা বারংবার আহোমদের রাজধানী রংপুর নগর আক্রমণ করেছিল।
অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তরঃ

Hi! my Name is Parimal Roy. I have completed my Bachelor’s degree in Philosophy (B.A.) from Silapathar General College. Currently, I am working as an HR Manager at Dev Library. It is a website that provides study materials for students from Class 3 to 12, including SCERT and NCERT notes. It also offers resources for BA, B.Com, B.Sc, and Computer Science, along with postgraduate notes. Besides study materials, the website has novels, eBooks, health and finance articles, biographies, quotes, and more.

