SEBA Class 9 Social Science Important Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ Question Answer Bengali Medium As Per New Syllabus to each chapter is provided in the list so that you can easily browse through different chapters SEBA Class 9 Social Science Important Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ Solutions and select need one. SEBA Class 9 Social Science Additional Notes Bengali Medium Download PDF. SEBA Class 9 Social Science Important Question Answer.
SEBA Class 9 Social Science Important Chapter 3 মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ
Also, you can read the NCERT book online in these sections Solutions by Expert Teachers as per Central Board of Secondary Education (CBSE) Book guidelines. Class 9 Social Science Additional Notes in Bengali are part of All Subject Solutions. Here we have given Class 9 Social Science Additional Solutions for All Chapters, You can practice these here.
মোয়ামরীয়া গণবিদ্রোহ
Chapter: 3
| অতিরিক্ত প্রশ্নোত্তর |
অতিসংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন ১। প্রথম মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ কখন ও কোন্ আহোম রাজার আমলে হয়েছিল ?
উত্তরঃ ১৭৬১ সালে আহোম রাজা লক্ষ্মীসিংহের আমলে হয়েছিল।
প্রশ্ন ২। “বররাজা” কাকে বলা হত ?
উত্তরঃ রাণী ফুলেশ্বরীকে ‘বররাজা’ বলা হত।
প্রশ্ন ৩। মোয়ামরীয়ারা প্রথমে কাকে সেনাপতি করেছিল ?
উত্তরঃ মোয়ামরীয়া গোঁসাই-এর পুত্র বাংগানকে।
প্রশ্ন ৪। মোয়ামরীয়াদের মধ্যে কে রাজা ও বরবরুয়া হয়েছিলেন ?
উত্তরঃ নাহরের পুত্র রমাকান্ত ও রাঘ।
প্রশ্ন ৫। গৌরীনাথ সিংহ কেন ইংরেজ সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন ?
উত্তরঃ মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ দমনের জন্য গৌরী সিংহ ইংরেজ সাহায্য প্রার্থনা করেছিলেন।
প্রশ্ন ৬। ওয়েলস কত মাস অসমে অবস্থান করেছিলেন ?
উত্তরঃ ওয়েলস প্রায় ১৭ মাস অসমে অবস্থান করেছিলেন।
প্রশ্ন ৭। ওয়েলস কখন গৌরীনাথ সিংহকে বাণিজ্যিক চুক্তি আরোপ করেন ?
উত্তরঃ ১৭৯৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারী।
প্রশ্ন ৮। বাণিজ্যিক চুক্তির কয়টি শর্ত ছিল ?
উত্তরঃ ১৪টি শর্ত।
প্রশ্ন ৯। অসামরিক বিভাগে কতজন ফুকন থাকত ?
উত্তরঃ ১২ জন।
প্রশ্ন ১০। অসামরিক বিভাগে কতজন বরুয়া থাকত ?
উত্তরঃ ২০ জন।
প্রশ্ন ১১। কতজন লোকে একজন শইকীয়া থাকত ?
উত্তরঃ প্রতি ১০০ জনে।
প্রশ্ন ১২। ওয়েলস কখন বঙ্গ সরকারকে গোপন রাজনৈতিক প্রতিবেদন প্রেরণ করেন ?
উত্তরঃ ১৭৯৪ সালের ৬ ফ্রেব্রুয়ারী।
প্রশ্ন ১৩। ওয়েলেসের গোপন রাজনৈতিক প্রতিবেদন কয়টি প্রশ্ন ছিল ?
উত্তরঃ ১৩টি প্রশ্ন ছিল।
প্রশ্ন ১৪। ওয়েলসের প্রতিবেদন অনুযায়ী অসমে তখন কি প্রকার সরকার ছিল ?
উত্তরঃ রাজতান্ত্রিক।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন ১। ওয়েলসের গোপন রাজনৈতিক প্রতিবেদন মতে অসমের প্রশাসন কেমন ছিল ?
উত্তরঃ ওয়েলসের রাজনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী তাঁর অভিযানের সময় অসমে প্রশাসন বলে কিছুই ছিল না। বিদ্রোহের পরিণতি স্বরূপ দেশে সরবরাহের অস্তিত্ব প্রায় ছিলই না।
প্রশ্ন ২। ওয়েলসের রাজনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অসমে সরকারের স্বরূপ কি ছিল ?
উত্তরঃ প্রতিবেদন অনুযায়ী অসমে রাজতান্ত্রিক সরকার ছিল। সেই সময়ের সরকার ছিল আংশিকভাবে বংশানুক্রমিক ও আংশিকভাবে নির্বাচনভিত্তিক। ওয়েলসের মতে উত্তরাধিকারের নীতি পিতৃতান্ত্রিক নয়, ভ্রাতৃতান্ত্রিক ছিল। কোনো কোনো ক্ষেত্রে বাবার মৃত্যুর পর ভাই রাজা হত।
প্রশ্ন ৩। ওয়েলসের গোপন রাজনৈতিক প্রতিবেদনে কি কি প্রধান প্রধান বিষয়ের উল্লেখ ছিল ?
উত্তরঃ ওয়েলসের গোপন রাজনৈতিক প্রতিবেদনে অসমের রাজনৈতিক, প্রশাসনিক, অর্থনৈতিক, খনিজ ও প্রাকৃতিক সম্পদ, কৃষিজাত, নৌপরিবহনের সচ্ছলতা, আভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক বাণিজ্য, সামরিক অভিযান প্রভৃতি বিষয়ের উল্লেখ ছিল।
প্রশ্ন ৪। কেপ্টেন ওয়েলসের অসম অভিযানের পরিণাম কি ছিল ?
উত্তরঃ কেপ্টেন ওয়েলস মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ দমন করে অসমে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করেন। এটি অসমের জনগণের পক্ষে নিঃসন্দেহে আশীর্বাদ স্বরূপ। ওয়েলস এইরূপ কাজ করলেও অভিযানকালে তিনি ও তাঁর সহকর্মীগণ অসম থেকে প্রচুর ধনসম্পত্তি লুণ্ঠন করে নিয়েছিলেন। এর মধ্যে রংপুরে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহীগণের হস্তগত করা বিষয় সম্পত্তি বিক্রি করে প্রায় ১,১৭,৩৩৪ টাকা তারা আত্মসাৎ করেছিল। অসমীয়া ইতিহাস গ্ৰন্থে উল্লেখ রয়েছে যে তারা অসম থেকে প্রচুর ধনদৌলত লুণ্ঠন করে নিয়ে যায়। এ ছাড়াও ওয়েলস শিবদও বরফুকনের সঙ্গে ১৭৯৪ সালের ফেব্রুয়ারী স্বাক্ষরিত চুক্তির শর্তানুসারে সামরিক অভিযানের খরচ বাবদ আহোম রাজার কাছ থেকে বার্ষিক ১,৫০,০০০ টাকা আদায়ের ব্যবস্থা করেছিলেন। এর ফলে, আভ্যন্তরীণ বিদ্রোহে ক্ষত-বিক্ষত রাজ্যের অর্থনৈতিক অবস্থায় দ্রুত অবনতি ঘটে।
প্রশ্ন ৫। ওয়েলসের প্রতিবেদন অনুযায়ী অসমের উৎপাদিত সামগ্ৰী সমূহের নাম লিখ।
উত্তরঃ তৎকালীন অসমের উৎপাদিত পণ্যের মধ্যে প্রধান ছিল—-উত্তরের পাহাড়ীয়া মিরিদের আম ও মনজিৎ, গোমধান, দফলাদের মনজিৎ, পিপলী আদা, মাইথোন, লবণ, কাপড়, ভুটান হতে মুথী, মিনা করা রূপার সামগ্ৰী।
রত্নাদি দ্রব্যের মধ্যে ছিল কার্পাস, মনজিৎ, আদা, সোনা, নীল প্রভৃতি।
প্রশ্ন ৬। ১৭৯২ সনে কি জন্য কেপ্টেন ওয়েলস অহম আক্রমণ/করেছিলেন ?
উত্তরঃ ১৭৯২ সনে এক বৈরাগীর নেতৃত্বে ডোমেরা গৌহাটী দখল করেছিলেন। এদিকে দরংরাজা কৃষ্ণনারায়ণও বিদ্রোহ শুরু করেন। এমতাবস্থায় রাজা গৌরীনাথ সিংহ ইংরেজ গভর্নর জেনারেল লর্ড কর্ণওয়ালিশের সাহায্য প্রার্থনা করেন। ফলে কর্ণওয়ালিশ গৌরীনাথ সিংহের সাহায্যার্থে কেপ্টেন ওয়েলসের নেতৃত্বে অসমে এক সামরিক অভিযান প্রেরণ করেন।
প্রশ্ন ৭। ওয়েলসের রাজনৈতিক প্রতিবেদন অনুযায়ী অসমে সেনাবাহিনী কিরূপ ছিল ?
উত্তরঃ আহোমদের সময় দেশে স্থায়ী সেনাবাহিনী ছিল না। প্রতিটি পরিবারে প্রতি চারজন লোকের মধ্য হতে একজন লোক রাজার প্রতি সেবা দান করত। তাদের নিয়েই সেনাবাহিনী গঠিত হয়েছিল। বিশজন লোককে নিয়ে একজন বরাই, ১০০ জনে এক জন শইকীয়া, ১,০০০ জনে একজন হাজারিকা, ৩০০০ জনে একজন রাজখোয়া, ৬০০০ জনে একজন ফুকন নেতৃত্বে প্রদান করত।
প্রশ্ন ৮। আহোম সামরিক বাহিনীতে থাকা কয়েকটি আমলার নাম উল্লেখ কর।
উত্তরঃ আমলাগণ হলেন—শদিয়া খোয়া গোহাই, মরঙ্গী খোয়া গোহাই, গোহাই সলাল এবং কলিয়াবরের বরফুকন।
প্রশ্ন ৯। বৈষ্ণব সত্র বলতে কী বোঝায় ?
উত্তরঃ বৈষ্ণব সত্র হলো শংকর ও মাধবদেব প্রচারিত নামধর্ম তথা নববৈষ্ণব ধর্মের প্রচার ও প্রসারের লক্ষ্যে গড়ে ওঠা কয়েকটি ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক অধিষ্ঠান।
প্রশ্ন ১০। ১৭৯২ সালে কার নেতৃত্বে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর একটি সেনাবাহিনী অসমে প্রবেশ করে।
উত্তরঃ ১৭৯২ সালে ক্যাপ্টেন থমাস ওয়েলসের নেতৃত্বে ইস্ট ইণ্ডিয়া কোম্পানীর একটি সেনাবাহিনী প্রথম অসমে প্রবেশ করে।
রচনাধর্মী প্রশ্নোত্তরঃ
প্রশ্ন ১। কি কি কারণে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ হয়েছিল ?
উত্তরঃ মোয়ামরীয়াগণ মহাপুরুষীয়া বৈষ্ণব ধর্মের কালসংহতির অন্তর্গত “মায়ামরা” ছত্রের শিষ্য ছিল। তাদের মধ্যে চুতীয়া, কাছাড়ী, আহোম, কৈবর্ত প্রভৃতির লোক ও কিছু বর্ণহিন্দুর লোক ছিল। বেশিরভাগ অংশেই মরাণ জনজাতির লোক। ১৭শতকের দ্বিতীয় ভাগে মোয়ামরীয়াগণের বিদ্রোহের মনোভাব প্রকট হয়ে উঠে।
মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের কারণসমূহ নিম্নরূপ :
(১) ১৬০১খ্রিস্টাব্দে মোয়ামরীয়া সূত্রটি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর অন্যান্য সূত্র হতে সবদিক দিয়ে এর খুব উন্নতি হয়েছিল এবং সত্রের শিষ্যরা তাদের গুরুকে ভগবানের মতন ভক্তি করত। তারা গুরু ছাড়া অপর কারও পায়ে মাথা নত করত না। মোয়ামরীয়া মোহান্তের এই প্রতিপত্তিতে অন্যান্য সত্রের গোঁসাই এবং মোহান্তরা তাদের উপর বিরূপ হয়েছিল।
(২) শাক্তরা মোয়ামরীয়া মোহান্তদের উন্নতিতে ঈর্ষান্বিত হয়েছিল।
(৩) মোয়ামরীয়াদের বিরুদ্ধাচারণকারীরা রাজার কাছে অভিযোগ করত যে একদিন মোয়ামরিয়া মোহান্ত রাজার আধিপত্য অস্বীকার করবেন। যেহেতু রাজা ছিলেন শাক্তধর্মের অনুরাগী, সেইজন্য তিনি তাদের কথা শুনে মোয়ামরিয়া বৈষ্ণবদের সুনজরে দেখতেন না। ফলে মোহান্ত ও অনুরাগীদের উপর নানাভাবে অত্যাচার চলত।
(৪) বররাজা ফুলেশ্বরী দেবী দুর্গাপূজায় মোয়ামরিয়া মোহান্তকে বলপূর্বক এনে দেবীকে প্রণাম করান ও তাঁর কপালে রক্ততিলক পরিয়ে দেন এবং দেবীর নির্মাল্য ও প্রসাদ গ্ৰহণে বাধ্য করেন।
(৫) মোয়ামরিয়া মোহান্ত একদিন রাজদর্শনে এসে কীর্তিচন্দ্র বরবরুয়াকে সম্মান প্রদর্শন না করায় কীর্তিচন্দ্র মোহান্তকে ভৎর্সনা করেন। মরাণদের নেতা নাহার একদিন হস্তী প্রদান করে রাজাকে অভিবাদন করেন, কিন্তু কীর্তিচন্দ্রকে অভিবাদন না করায় রাগ করে কীর্তিচন্দ্র নাহারকে প্রহার করেন এবং তার নাক ও কান কেটে ফেললে নাহার তার গুরু মোয়ামরিয়া মোহান্তকে সব জানান এবং রাজদ্রোহের অনুমতি প্রার্থনা করেন।
নাহারের প্রতি অত্যাচারের সুযোগ নিয়ে মোয়ামরিয়া মোহান্ত ১৭৬৯ খ্রিস্টাব্দে তাঁর শিষ্য ও অনুরাগীগণকে প্রকাশ্য বিদ্রোহের আহ্বান জানালেন। মরাণ কাছাড়ীরা তার শিষ্য নিয়ে দলে দলে বিদ্রোহে যোগদান করে। এমনকি রাজভ্রাতা মোহনমালাও বিদ্রোহীপক্ষ অবলম্বন করেন।
প্রশ্ন ২। বৈষ্ণব সত্রাধিকার মহন্ত ভক্ত নির্যাতনে বররাজা ফুলেশ্বরীর ভূমিকা নির্ণয় কর।
উত্তরঃ মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের সূত্রপাত গদাধর সিংহের আমলে হয়েছিল। তার বৈষ্ণব তাড়ন নীতি মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের সূত্রপাত করেছিল। কিন্তু তার পুত্র রুদ্রসিংহের বদান্যতায় বিদ্রোহ সম্ভব হয় নাই। ফলে মোয়ামরীয়া সম্প্রদায় কিছুদিনের জন্য চুপচাপ ছিল কিন্তু রুদ্রসিংহের পুত্র শিবসিংহের রাজত্বকালে আবার তারা মাথাচাড়া দিয়ে উঠে। শিব সিংহ ঘোর শাক্ত পন্থাবলম্বী ছিলেন। তার পত্নীও ঘোর শাক্ত ছিলেন। কারণ ফুলেশ্বরীর অত্যাচার অতিষ্ঠ হয়ে বৈষ্ণবেরা বিদ্রোহের অপেক্ষায় ছিল। তা লক্ষ্মীসিংহের রাজত্বকালে বিদ্রোহে পরিণত হয়েছিল।
শিব সিংহ যদিও ছিলেন তথাপি রাজকার্য কিন্তু তার পত্নী ফুলেশ্বরীর পরামর্শে চলত। ১৭২২ সালে এক দৈবজ্ঞ তাকে বলেছিলেন, যে তার রাজত্বে বিপদ উপস্থিত। তিনি যদি কারোও নামে রাজ্যশাসন করেন তবে তার বিপদ কেটে যাবে। রাজা শিবসিংহ তাতে খুব ভয় পেয়েছিলেন। তিনি নিজেকে বিপদ হতে রক্ষা করার নিমিও দৈবজ্ঞের আদেশে তার গুরুদেব কৃষ্ণরাম ভট্টাচার্যের উপস্থিতিতে বড়রানী ফুলেশ্বরীকে রাজা উপাধিতে ভূষিত করলেন ও নিজে তার অধীনে রাজ্যশাসন করতে লাগলেন। রাজা হওয়ার পর ফুলেশ্বরীর নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় প্রমথেশ্বরী।
ফুলেশ্বরী ঘোর শাক্ত ছিলেন। রাজা হওয়ার পর তার উৎপাত বেড়ে গেল। রাজা তার পরামর্শমত চলতেন। তিনি বৈষ্ণবদিগকে ভাল চোখা দেখতেন না। একবার বৈষ্ণবদেরকে আমন্ত্রণ করে তিনি তাদের সম্মুখে দেবী দুর্গার নিকট ছাগ বলি দিয়ে রক্তের তিলক জোর করে বৈষ্ণবদের কপালে পরিয়ে দিয়েছিলেন। তদুপরি তিনি জোর করে বৈষ্ণবদের মুখে মদ ঢেলে দিয়েছিলেন ও মাংস স্পর্শ করেছিলেন। যে সকল বৈষ্ণব মহন্ত তাতে আপত্তি করেছিল তাদের ভাগ্যে চরম দুর্দশা ঘটেছিল। রাজা শিব সিংহ বররাণীর প্রতিনিধি হওয়ার এর কোন প্রতিকার করতে পারলেন না। বৈষ্ণবদের মনে প্রতিহিংসার আগুন জ্বলে উঠল। মোয়ামরীয়া সম্প্রদায় বৈষ্ণবদের শিষ্য ছিল। সুযোগ পেয়েই মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ হওয়ার সূচনা হল। এই সব কারণে বর-রাজা ফুলেশ্বরীকে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের জন্য দায়ী করা হয়।
প্রশ্ন ৩। প্রথম মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের কারণ আলোচনা কর।
উত্তরঃ রাজেশ্বর সিংহের মৃত্যুর পর তাঁর কনিষ্ঠ ভ্রাতা লক্ষ্মীসিংহ ১৭৬১ খ্রিস্টাব্দে আহোম সিংহাসনে আরোহণ করলেন। প্রথম মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ তাঁর রাজত্বের সবচেয়ে বড় ঘটনা। রুদ্রসিংহ যদিও বৈষ্ণবদের উপর নরম মনোভাব পোষণ করেছিলেন তথাপিও তার পুত্রগণ কিন্তু ঘোর শাক্ত মতাবলম্বী হওয়ায় আবার বৈষ্ণবদের উপর উৎপীড়ন আরম্ভ করেছিলেন। বিশেষভাবে বররাজা ফুলেশ্বরীর উৎপাতে মোয়ামরীয়া বৈষ্ণব সম্প্রদায় অতিষ্ঠ হয়েছিল। রাজা লক্ষ্মীসিংহের রাজত্বকালে তাদের অসন্তোষ চরমে পৌঁছেছিল। রাজেশ্বর সিংহের নরম মনোভাবের জন্য তাদের অসন্তোষ চাপা পড়েছিল কিন্তু লক্ষ্মীসিংহের অত্যাচারে মোয়ামরীয়াদের ধৈর্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। তারা প্রকাশ্যে বিদ্রোহ ঘোষণা করল।
মোয়ামরীয়ারা ছিলেন মোয়ামরীয়া সত্রের শিষ্য। কথিত আছে অনিরুদ্ধ নামে শ্রীমন্ত শংকরদেবের এক শিষ্য শদীয়াতে মোয়ামরীয়া সত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। মোয়ামরীয়া সম্প্রদায়ের মধ্যে মরাণেরা সর্বাধিক। মরাণ ছাড়া চুটিয়া, কাছাড়ী, কৈবর্ত এবং অনেক উচ্চবংশীয় হিন্দু ও মোয়ামরীয়া সম্প্রদায় ভুক্ত ছিলেন। কথিত আছে অনিরুদ্ধ মায়াশক্তিতে একটি জীবন্ত সিংহকে নিহত করেছিলেন। তার শিষ্যরা তখন তাকে ভগবৎ শক্তিধারী বলে মনে করল। তখন হতে তার শিষ্যগণ মায়ামরা বা মোয়ামরীয়া।
প্রশ্ন ৪। দ্বিতীয় মোয়ামরীয়া বিদ্রোহের কারণ বিবৃত কর।
উত্তরঃ লক্ষ্মীসিংহের মৃত্যুর পর তার পুত্র যুবরাজ গৌরীনাথ সিংহ ১৭৮০ সালে সিংহাসনে আরোহণ করেন। গৌরীনাথ সিংহ মোয়ামরীয়াগণের ঘোর শুক্র ছিলেন। রাজা হয়েই তিনি মোয়ামরীয়াদের উপর অত্যাচার শুরু করেন। মোয়ামরীয়াগণ সুযোগের অপেক্ষায় থাকলো! ১৭৮২ খ্রিস্টাব্দে এপ্রিল মাসে এক রাত্রে রাজা মৎস্য শিকার হতে ফিরে আসার সময় সুযোগ পেয়ে মোয়ামরীয়াগণ গড়গাঁওয়ে কোনও মতে প্রবেশ করল। কিন্তু বড়গোঁহাই-এর নিকট বাধাপ্রাপ্ত হয়ে রংপুর অভিমুখে রওনা হল। সেখানে তারা অনেক নিরীহ লোকের ঘরবাড়ী আগুনে ভস্মীভূত করল ও অনেককে হত্যা করল। বরগোঁহাই তাদের অনুসরণ করে মোয়ামরীয়া বিদ্রোহ ব্যর্থ দিলেন।
Subject Ka Complete Video Solution Dekhein
Step-by-step easy concept explanation aur full questions Answer ke liye watch karein ya app download karein:

